Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১০+১১১

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১০+১১১

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১০+১১১
neelarahman

নুরকে দুপুরে খাইয়ে দিয়ে রেস্ট করার জন্য রুমে রেখে গেলেন নওরিন আফরোজ।নুর ঘুমাচ্ছে ।হুমায়ুন রহমান নিজরুমে বসে ভাবছে ফজলুর রহমান আসলে কি লুকাচ্ছে?হসপিটালে যখন কথা বলছিল কেন জানি মনে হচ্ছিল চোখ বলছে এক কথা মুখে বলছে আর এক কথা ।ভাইকে ছোটবেলা থেকে চিনে হুমায়ুন রহমান তাই বুঝতে পারছে কিছু একটা আছে যা ফজলুর রহমান কারো সাথে এখনো শেয়ার করছে না।
মনে মনে ঠিক করলেন আজকে কথা বলবেন ফজলুর রহমানের সাথে ।কি হয়েছে জানতে চাইবেন ?যেহেতু নিজে থেকে বলছেনা তাই বড় ভাই হিসেবে নিজেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

এদিকে ফজলুর রহমান দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে রুমে এসে একটু রেস্ট নিচ্ছে ।কিছুক্ষণ পর অফিসে যাবে এমন সময় সামিহা বেগম এসে সামনে দাঁড়ালেন ।জিজ্ঞেস করলেন ,”আপনি সাদাফের সাথে এমন করছেন কেন ?কি করেছে সাদাফ শুনি?”
ফজলুর রহমান হঠাৎ সামিহার করা প্রশ্নে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন ।বললেন ,”এমন করছি মানে কি ?কি করেছি সাদাফের সাথে?”

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“এই যে ছেলেটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন আপনার মেয়েকে বিয়ে করেছে বলে ।ছেলেটা কি একা একা বিয়ে করেছে আপনার মেয়েকে ?কবুল বলেনি আপনার মেয়ে? ও কি ভালোবাসে না ?তাহলে শাস্তি একা ছেলেটা কেন পাচ্ছে?”বললেন সামিহা বেগম।

ফজলুর রহমানের যেন আত্মাটা কেঁপে উঠল ।সামিহা বেগমের দিকে তাকিয়ে রইলেন ।উত্তর দিতে পারলেন না ।বলতে চাইছিলেন ,”বারবার শাস্তি তো আমার মেয়ে পাচ্ছে ।না জানি কোন পাপের শাস্তি পাচ্ছে ?সাদাফ তো শুধু বাড়ির বাইরে আমাদের মনের বাইরে না ।কিন্তু আমার মেয়ের কপালটা যে পুড়ে গেল সামিহা আমি কাউকে বলতে পারছি না।”কিন্ত বলতে পারলো না কথা গুলো।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন ,”বাড়ির বাইরে গেছে সমস্যা নেই এক সময় বাড়ির ভিতরে আসবে ।ওর নিজের বাড়ি।এগুলো নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না ।নূরের যত্ন নিও ।নূরের খেয়াল রেখো ।মেয়েটা অসুস্থ দেখো যেন আবার ব্যথা না উঠে ।হয়তো বলবে না চেপে যাবে তোমরা বারবার গিয়ে জিজ্ঞেস করবে।”
সামিহা বেগম অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন ফজলুর রহমানের দিকে ।কোন কথার কোন উত্তর ভাবতে লাগলেন।কিন্তু কেন যেন বিষন্ন মনে হল ফজলুর রহমানকে ।তাই আর ঘাটালেন না চুপচাপ উনি রুম থেকে বাহিরে বের হয়ে চলে গেলেন ।ফজলুর রহমান মনে মনে ভাবলেন ,”সবাই যখন জানবে নুরের এই সমস্যা সবাই সহানুভূতি জানাবে মেয়েটা যে আরো ভীষণ কষ্ট পাবে।

মানুষ যখন মানুষের দুর্বলতা নিয়ে সহানুভূতি জানায় কষ্টটা যে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় সেগুলো হয়তো মানুষ বুঝতে পারে না ।তারা ভাবে তারা সহানুভূতি জানাচ্ছে কিন্তু সহানুভূতি জানানোর বাহানায় যে তাকে আরো বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলছে সেটা মানুষ বুঝতে পারে না।
আল্লাহ না করুক যদি সত্যি সত্যি মেয়েটার সাথে এমন ঘটনা ঘটে যায় যদি অপারেশন করাতে হয় তাহলে হয়তো মেয়েটা কোনদিনও মা হতে পারবেনা ।সাদাফ কি মেনে নিবে?
যদি সাদাফের ভিতরে সন্তানের চাহিদা জন্ম নেয় ?তখন তো মেয়েটা অনেক কষ্ট পাবে !ধুকেধুকে মরবে আমার মেয়েটা !”
ফজলুর রহমান আর কিছুই ভাবতে পারছে না ।থেকে থেকে শুধু ওনার এই কথাটাই মনে পড়ে নূরের কি হবে ভবিষ্যতে।

যে মেয়ের সন্তান হয় না সে মেয়ের সংসার জীবন কেমন হয় এটা প্রত্যেকটা মেয়ের বাবা ভালো বলতে পারবে বা মা বলতে পারবে ।তারা তাদের মেয়েকে নিয়ে আসলে কি চিন্তা করে কতোটা দুর্বিষহ জীবন যাপন করে তার পৃথিবীর অন্য কেউ হয়তো বলতে পারবে না।
এদিকে সাদাফ ফোন দিল সামিহা বেগমের নাম্বারে ।নূর ঘুমাচ্ছে তাই সামিহা বেগম ফোন রিসিভ করে বললেন ,”হ্যাঁ বাবা নূর তো ঘুমাচ্ছে।”
সাদাফ সামিয়া বেগমকে বললো,”ঠিক আছে আম্মু নুর উঠলে আমাকে একটু ফোন দিতে বল ।আর এখন ঘুমিয়েছে তাহলে আর কোন সমস্যা নেই ঘুমাক। নুরের কি আর ব্যথা হয়েছিল ছোট আম্মু?”
সামিহা বেগম উত্তর দিলেন,” না ।সকালে তো ইনজেকশন দিয়ে গিয়েছিল সেই প্রভাবে এখনো ঘুমাচ্ছে ।আর বাড়িতে তো ওষুধ দিয়েছে ঘুম ভাঙলে বুঝতে পারবো।”
সাদাফ বললো ঠিক আছে।

সামিহা বেগম বললেন ,”তুই বাসায় আসবি কখন ?”
সাদাফ বললো,” দেরি হবে আম্মু ।অফিসে একটু ঝামেলায় আছি ।কখন আসতে পারবো বলতে পারিনা নূরের খেয়াল রেখো কেমন?”
নিজ ক্যাবিনে বসে সাদাফ চিন্তা ভাবনা ছিল সাজিদ কে কি করে ধরাশায়ী করা যায় ।এমন সিচুয়েশনে নেই যে ওকে মেরে বা মারামারি করে ওকে ধরাশায়ী করতে হবে ।ওকে ধরাশায়ী করতে হবে কৌশলে সেই কৌশল জানার জন্য হঠাৎ করে মনে পড়ল ফারদিনকে । সাথে সাথেই ডেকে পাঠালো ফারদিন কে রুমে।
ফারদিন আসতেই সাদাফ বললো ,”সাজিদের ব্যাপারে সাজিদের বাবার বিজনেস পার্সোনাল যত ইনফরমেশন আছে সবকিছু কালেক্ট করো ।কি কি ধরনের বিজনেস করে সেই বিজনেসে সাদা কি কালো কি যা আছে সবকিছু খুঁজে বের করে আমাকে দুই ঘন্টার মধ্যে জানাও।

তোমার স্পেশাল টিম কাজে লাগাও ।যেভাবে সম্ভব হয় সাজিদের যত দুর্বলতা আছে সবগুলো আমার কাছে খুঁজে নিয়ে আসো ।ব্যক্তিগত এবং প্রফেশনাল।”
ফারদিন মুচকি হেসে বলল ,”হয়ে যাবে স্যার ।টেনশন করবেন না ।দুই ঘন্টার মধ্যেই আপনাকে অবশ্যই সুখবর দিব।”
বলেই কেবিন থেকে বের হয়ে গেল ফারদিন ।সাদাফ চেয়ারে বসে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নূরের কথাই ভাবতে লাগলো আবার।

সন্ধ্যা সাতটা পার ।তড়িঘড়ি করে অফিসে সাদাফের সামনে ফারদিন জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।তারপর জানালো ,”স্যার সব ইনফরমেশন নেওয়া শেষ ।আপনি বললে একটি একটি করে শুনাই ।”
সাদাফ মুচকি হাসলো। হেসে বলল ,”ঠিক আছে বল।”
“মানি লন্ডারিং এর বিজনেস স্যার গার্মেন্টস ব্যবসার এক্সপোর্টের আড়ালে ভুয়া ইন ভয়েস ও ওভার ভয়েস চলে। বিদেশ থেকে হাওলার মাধ্যমে টাকা আনা হয়। ধরা পড়লে বড় ধরনের অর্থের কেলেঙ্কারি মামলা হবে।
বিলাসবহুল ক্লাবের আড়ালে অবৈধ জুয়ার বিজনেস চলে। ক্লাবের ভিতরে হাই-স্টেক গ্যাম্বলিং রুম ভিআইপি কাস্টমারদের উপস্থিতি গোপনে সিসিটিভি ধারণ করা হয়। একবার যদি প্রকাশ পেয়ে যায় শুধু উনি না বড় বড় লোকের নাম চলে আসবে ।রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী পর্যন্ত।
এই শেষ নয় স্যার গাড়ির শোরুমেও ভুয়া ব্যবসা চলে।”
সাদাফ জানতে চাইলো যেমন?

“কাগজে গাড়ি দেখানো হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০টি কিন্তু বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। ইন্সুরেন্সেও মানি ফ্রড।
শোরুম সিল করিয়ে লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে।
গার্মেন্টসে আন্ডারএজ লেবার রাখা হয়। বিদেশী বাইয়ারদের কানে পৌঁছে দিতে পারলে তারা কন্ট্রাক ক্যানসেল করবে তারা এ ধরনের কোম্পানির সাথে কাজ করে না। বার ও ক্লাবে অবৈধ আমদানি কর ফাকি। ভিআইপি লঞ্জে অবৈধ পার্টি চলে তাও ইলিগেল ড্রাগসহ।

এগুলো খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তবে প্রমাণ চাইলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ।সবকিছু সিস্টেম হ্যাক করতে হবে সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও কিছুদিন দেরি করতে হবে।”
জানালো ফারদিন সাদাফ মুচকি মুচকি হাসলো ফারদিনের দিকে তাকিয়ে ভাবল ছেলেটা কাজের এই ছেলেটাকে এই জন্যই নেওয়া হয়েছে কথা একটু বেশি বলে কিন্তু কাজগুলো খুব কঠিন ও নিখুঁত ভাবে করে।

নুর অনেকক্ষণ ধরে রুমে শুয়ে আছে ।মনে মনে ভাবছে কখনোই এরকম পেটে ব্যথা হয়নি হঠাৎ এমন কেনো হলো?
অবশ্য একবার অনেক আগে হয়েছিল যতদূর মনে পড়ে বাবা হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলো।অনেকদিন ঔষধ খাইয়েছে বাবা।কিন্তু এবার হসপিটাল পর্যন্ত যেতে হলো সবাই জানলো পিরিয়ড নিয়ে হসপিটালে গেছে ।মনে মনে খুব লজ্জা পাচ্ছে নূর।

সাদাফ ভাইকে খুব মনে পড়ছে ।নুর ফোন হাতে নিল ।ফোন নিয়ে সাদাফকে ফোন দিল ।সাদাফ কিছু একটা ভাবছিলো।রিং শুনে ফোন হাতে নিয়েই মুচকি হাসলো সাদাফ।দুই রিং হওয়ার সাথে সাথেই ফোন ধরলো সাদাফ।বুঝতে পেরেছে নুর ঘুম থেকে উঠেছে ।ফোন ধরে বললো,”পেটে ব্যথা এখনো আছে নুর ?ভালো লাগছে এখন? সমস্যা হচ্ছে না তো?”
নুর বললো,”এত প্রশ্ন এখন সাথে করছেন কেন ? কোনটার উত্তর দিবো।একটা একটা করে উত্তর দেই ?আগে বলুন কোথায় আপনি ?”
সাদাফ ভ্রু জোড়া সরু করে বললো,” বাহ বিয়ের পর তো খুব বউ বউ ভাব হয়েছে তোর ?কথায় কথায় এখন অধিকার খাটাস ।আমি কোথায় কি করছি না করছি সবকিছু জানতে চাস। বিয়ে হলে বুঝি সবাই এরকম পাল্টে যায়?”

নুর লজ্জা পেল ।মুচকি হেসে সাদাফের কথার উত্তরে বললো,” জানিনা আচ্ছা এখন বলুন আপনি কোথায় কখন আসবেন?”
সাদাফ মুচকি হেসে বললো,”উফ এমন একটা ফোন কলের আসায় বুঝি বিয়ে করে ছেলেরা ! আসতে একটু দেরি হবে ম্যাডাম ।অফিসে ভীষণ ঝামেলায় পড়ে গিয়েছি সমস্যা সমাধান করে তবে আসবো ।তবে হ্যাঁ রাতে থাকতে পারবো না রাতে আমি আমার বাসায় চলে যাব।”
নুর বলল ,”কেন বাসায় যাবেন?এ বাসায় কি সমস্যা?”
সাদাফ বললো,”কেন তুই কি চাচ্ছিস আমি তোর সাথে থাকি ?এখনো সময় হয়নি ।আর তুইও সুস্থ না ।যেদিন আসবো সেদিন আমার সাথেই থাকবি।আগে সুস্থ হয়ে নে।”

নুর লজ্জা পেয়ে গেল ।ছি আগ বাড়িয়ে কেনো বললো থাকার কথা? ছিঃ কি লজজার ব্যাপার। লজ্জা পেয়ে বললো,” জি না আমি কি তাই বলেছি ?আমি কখন বলেছি আমার সাথে থাকতে?আমি আপনার সাথে থাকবো না আপনি আপনার রুমে থাকবেন ।”
সাদাফ বললো,”যদি আমি আমার রুমে থাকি তাহলে আর কষ্ট করে এখানে থেকে কি লাভ ?এর চেয়ে ভালো আমি আমার বাসায় থাকবো ।আর তোর বাবা মানে আমার শ্বশুর আমাকে বের করে দিয়েছে। বলেছে তাদের ছাড়া নাকি আমার কোন যোগ্যতা নেই ! যোগ্যতা প্রমাণ করে তোকে তুলে নিব তারপর আসবো।”
নুর বললো,” কতদিন লাগবে ?”

সাদাফ বললো,” তুই এত পা*গল হয়ে গেছিস কেন? নিশ্চয়ই একদিনও আমাকে ছাড়া থাকতে ইচ্ছা করছে না ?নাকি একদিন স্বামীর বাড়িতে থেকে এখন স্বামীকে ছাড়া থাকতে ইচ্ছা করে না?
যেদিন তুই সাদাফ ভাই থেকে সাদাফ বলে ডাকবি তুমি করে ডাকবি সেদিন সময় হবে।সেদিন এসে থাকবো।”
” জি না আমি এভাবে ডাকতে পারবো না ।কখনো ডাকিনি আমার অভ্যাস নেই ।আমি তো সবসময় সাদাফ ভাই বলে এসেছি ।”

সাদাফ জোরে হাসলো ।বললো ,”তাই বলে বিয়ের পর স্বামীকে ভাই বলে ডাকবি ?তুই তো দেখছি তোর ছেলে মেয়ের মামা বানানো ধান্দা করেছিস আমাকে।”
নুর লজ্জা পেল । বললো,” ডাকলে ডাকবে ।মায়ের ভাই তো মামাই হয়।মামা ডাকবে যা খুশি তা ডাকবে ।আর আমার তো অনেকগুলো ছেলে মেয়ে হবে ।কেউ আপনাকে মামা ডাকবে কেউ চাচ্চু বলবে।”
সাদাফ ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,” একটা ও কি বাবা বলে ডাকবে না? বাবা ডাক শোনার ভিশন সখ আমার।”
নুর বললো,” বাবা বলবে তো যেটা সব থেকে কিউট হবে ভালো হবে সেটা আপনাকে বাবা বলে ডাকবে।”
সাদাফ বললো,” আমার সবগুলো বাবুই অনেক কিউট হবে ।কারণ বাবুর মা ও কিউট বাবুর বাবা ও কিউট ।তাই বেবি গুলো সব কিউট কিউট হবে।”
নুর লজ্জা পেলো। বললো,” আচ্ছা আপনি কি আপনার বাবুদের কে বেশি আদর করবেন নাকি আমাকে বেশি আদর করবেন ?”

সাদাফ নুর কে খেপানোর জন্য বললো,” অবশ্যই আমার বাবুদের কে বেশি আদর করবো ।বাবুরা তো ছোট ছোট গুড়া গুড়া বাচ্চা হবে ।ওদেরকে বেশি আদর করবো তুই তো পাকনি বুড়ি হয়ে যাবি তোকে আদর করে লাভ কি?”
“ইশ এই কথা ?তাহলে আমি একটা বাবু আপনাকে দিব না ।”বললো নুর অভিযোগের সুরে।
সাদাফ বললো,” অসম্ভব আমার তো মিনিমাম দশটা বাবু চাই ।কে যেন একবার বলেছিল বাড়ি ভর্তি বাবু থাকবে তাহলে ভালো লাগবে। তাই আমার দশটা বাবু চাই ।বুঝলি ?”
নুর এবার ভিষন লজ্জা পেয়ে গেল ।চুপ চাপ মাথা নত করে রইল।
সাদাফ বললো,” অফিসে আছি আমার সময় লাগবে অফিস থেকে বের হতে ।যাওয়ার সময় দেখা করে যাব ।খাওয়া-দাওয়া করিস ঠিকমত ওষুধ খেয়ে নিস ।একটু পরে আবার আমাকে ফোন দিস কেমন?”
নুর বললো,”আচ্ছা শুনুন শুনুন ?”

সাদাফ বললো,”জি বলুন বলুন ?”
“আপনি যে আমাকে তুই করে বলেন কে তার বউকে তুই করে বলে শুনি?”জানতে চাইলো নুর।
সাদাফ বললো,” যে শালা তার বউকে কোলে নিয়ে পেলেপূলে বড় করে বিয়ে করে সে বউকে তুই করে বলে ।আর বলেছি তো যেদিন তুই আপনি থেকে তুমিতে নামতে পারবি সাদাফ ভাই থেকে সাদাফে নামতে পারবি সেদিন আমিও তোকে তুই থেকে তুমি তে উঠবো।তুমি করে বলব।”
নুর বললো,” ঠিক আছে তাহলে তুই ঠিক আছে ।আমি তো আপনাকে আপনি ছাড়া তুমি করে বলতে পারব না ।কোনদিনও পারবো না।”

সাদাফ বললো,” ঠিক আছে দেখা যাবে ।যেদিন সময় হবে সেদিন তুই ঠিকই পারবি ।তুমি করেও বলবি ,সাদাফ করেও বলবি ।এখন রাখছি কেমন? শরীর খারাপ করলে সাথে সাথে আম্মুকে অথবা ছোট আম্মুকে বলবি ।খবরদার লুকিয়ে রাখবি না এটা লজ্জার কিছু নেই ।জানাতে হবে ।ওকে?”
বলেই সাদাফ ফোন রাখার সাথে সাথেই হঠাৎ করে দেখল ঘাড় ঘুরিয়ে ফারদিন দাড়িয়ে আছে ।সাদাফ ভয় পেয়ে গেল ।সাদাফ বললো,”কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছো ফারদিন ?”
ফারদিন মুচকি হেসে বললো,” যখন আপনি বললেন বউকে কোলে নিয়ে পেলে পুষে বড় করে বিয়ে করেছেন তখন থেকে।

কংগ্রাচুলেশন স্যার। আপনি বিয়ে করেছেন তা তো জানতাম না এখন জানতে পারলাম।”
সাদাফ লজ্জা পেয়ে গেল ।মুচকি হেসে বললো,”যাও কাজে যাও ।এখানে চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলে কেন ?বসের কথা চুপচাপ সোনা এটা গুরুতর অপরাধ। এক সপ্তাহের বেতন কাটা হবে।”
ফারদিন সাথে সাথে বললো,” নানা স্যার আপনি এটা করতে পারেন না আমার সাথে ।আপনাকে আপনার বউয়ের কসম।”

এদিকে সায়মন ঘরে বসে পড়ছিল আর মনে মনে চিন্তা করছিল নওরিন আফরোজ এর বলা কথাগুলো ।সায়মন শুনেছিল বড় আম্মুর কথাগুলো কিন্তু কাছে যায়নি।
বড় আম্মু মেনে তো নিয়েছে কিন্তু বলেছে বাড়িতে এখানে সেখানে কথা বলতে মানা ।দূরত্ব বজায় রাখতে ।কিন্তু ওর যে রিমা কে ভীষণ দেখতে ইচ্ছা করছে ।রিমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে ।কে বুঝাবে বড় আম্মু কে নতুন নতুন প্রেম এতদিন না হয় চাচাতো বোন ছিল দেখতে ইচ্ছা হতো না কিন্তু এখন তো প্রেমিকা একটু পর পর দেখতে ইচ্ছা হয়।

যেই ভাবা সেই কাজ ।সায়মন ফোন হাতে নিল ।নিয়ে এক মিনিট চিন্তা করলো ফোন দিবে কি দিবে না ।কোন কিছু না ভেবেই ফোন দিয়ে ফেলল।
রিমা শুয়ে ছিল ঘরে, এই দুদিন হসপিটালে দৌড়াদৌড়িতে একটু টায়ার্ড হয়ে গিয়েছে । হঠাৎ সায়মনের কল দেখলো তাই উঠে গিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিল তারপর ফোন রিসিভ করল।
লিমা ফোন ধরার সাথে সাথে সায়মন বললো,” তুই কি আমাকে ভুলে গিয়েছিস ?তুই কি চিন্তা করেছিস যে তোকে একটু না দেখলে আমার কেমন লাগে ?বাড়িতে আসার পর একটা মুহূর্তের জন্য তুই আমার সামনে আসিস নি ।এক কাপ চা নিয়েও তো আমাকে দেখা দিয়ে যেতে পারিস।”

রিমা বললো,”আমি কি করবো আম্মুই তো না করলো। বললো কয়েকদিন একটু দূরত্ব বজায় রাখতে এই মুহূর্তে যদি আমাদের কেউ এভাবে দেখে ফেলে বা কথা শুনে ফেলে তাহলে সমস্যা হবে।”
“স্বামী হিসেবে ভুলেই যা চাচাতো ভাই হিসেবে তো এক কাপ চা নিয়েও জিজ্ঞেস করতে পারিস আমাকে চা-কফি কিছু লাগবে কিনা ?

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১০৮+১০৯

তুই তো আমার রুমে আসাই ভুলে গিয়েছিস ।দুইটা দিন ধরে আমার রুমের ভিতর কাপড়চোপড়ে কি অবস্থা হয়ে গিয়েছে এগুলো পরিষ্কার করবে কে ?তাহলে তোকে আমি বিয়ে করেছিলাম কেন? তোকে যদি দেখতেই না পাবো বউয়ের যদি কোন সেবাই না পাব তাহলে আমার বিয়ের কি দরকার ছিল?”
রিমা রাগ উঠে গেলো। বললো,” তুই কি আমাকে সেবা পাওয়ার জন্য বিয়ে করেছিস ?”
সায়মন হাসতে হাসতে বললো,” না তাহলে তোকে পূজা করার জন্য বিয়ে করেছি ।মানুষ বিয়ে কেন ?বউয়ের সেবা পাওয়ার জন্য।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১২+১১৩