Home সুখময় যন্ত্রণা তুমি সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩৮+১৩৯

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩৮+১৩৯

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩৮+১৩৯
neelarahman

ফোনে কথা বলা শেষ করে সাদাফ ফোন কা*টলো ।নূর আজ একটু অন্যমনস্ক ছিল ।হ্যাঁ হুম ছাড়া তেমন কোনো উত্তর দিচ্ছিল না ।সাদাফ ভাবলো হয়তো ক্লান্ত টায়ার্ড এ কয়দিন অনেক রাত জেগেছে হয়তো ঘুম ধরেছে মেয়েটার।
তাই এই ব্যাপারটা বেশি ঘাটালো না ।কিন্তু সাদাফ চিন্তাও করতে পারছে না নূরের ভিতরে কি চলছে বা নুর কি জানে না জানে।

সাদাফের জানামতে নূর মাত্রই বাসায় গিয়েছে আজকে ।কেউ যেহেতু নুর কে বলেনি তাই এ বিষয়ে জানার কথা না ।তাই সাদাফে এসব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালো না ।সাদাফ আগামীকাল সকাল হলেই ফাইলপত্র নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবে ।প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ডাক্তারের সাথে কথা বলবে নুরকে জানানোর আগে।
দেখবে অপারেশন ছাড়া কোথায় ভালো ট্রিটমেন্ট হয় ।প্রয়োজন পড়লে বাইরে দেশে ইন্ডিয়া অথবা অন্য কোথাও নিয়ে যাবে ।থাইল্যান্ড ও যাওয়া যায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

হয়তো ডক্টর যতটা জটিল ভাবে বুঝিয়েছে অতোটা জটিল নাও হতে পারে ।তাই আশা ছাড়া যাবেনা ।পৃথিবীর প্রত্যেকটা কোনায় কোনায় যাবে সাদাফ তবু নুরকে মা হওয়ার সুখ দিতে চায়।
এদিকে নুর শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছে সাদাফের কথা ।নুর না হয় মা হতে পারবে না এটা নূরের অক্ষমতা কিন্তু সাদাফের সক্ষমতা থাকার পরও কেন বাবা হতে পারবেনা ?নূরের যে খুব কষ্ট হচ্ছে মেনে নিতে।
সবাই যখন জানবে নুরের অক্ষমতা সবাই কিভাবে রিঅ্যাক্ট করবে ?কিভাবে কষ্ট পাবে ?আত্মীয় স্বজন নূরকে কিভাবে খোচা দিবে ?এগুলো ভাবতেই নূরের ছোট্ট কোমল মন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছে বারবার।
যদি নুর সত্যি মা হতে না পারে চিকিৎসা করার পরও যদি অপারেশন করে জরায়ু অপসারণ করতে হয় তখন নূর কি করবে?

নূর তো জানে সাদাফের বাবা ডাক শুনতে কত ইচ্ছা ।কিছুদিন আগেই তো বললো সাদাফ। নুর আর কোন কিছু ভাবতে পারছে না ।দুই হাত দিয়ে নিজের মাথাটা চে*পে ধরল ।ভীষণ য*ন্ত্রণা হচ্ছে কাতরাচ্ছে ব্যথায়। ভালো লাগছে না কিছু নূরের।

পরের দিন সকাল হতেই সাদাফ ভোর আটটার দিকে ফোন দিলো ফজলুর রহমানের মোবাইলে ।ফোন দিয়ে সাথে সাথে বললো,”আব্বু নূরের রিপোর্টগুলো ছবি থাকলে এই মুহূর্তে আমাকে ইমেইল করো ।আমি একটু ডক্টরের সাথে কথা বলবো ।আমার একজন পরিচিত ডাক্তার আছে আমার সাথে একসাথে আমেরিকা ছিল এখানে বাংলাদেশে এসে জয়েন করেছে।
ও হার্ট স্পেশালিস্ট কিন্তু ওর রেফারেন্সে এখানে আমি ভালো সব থেকে ভাল ডাক্তারকে দেখাতে চাচ্ছি।”
ফজলুর রহমানের মোবাইলে রিপোর্ট গুলো pdf করা ছিল তাই সাথে সাথে ইমেইল করে সেন্ড করে দিল সাদাফকে।

ফজলুর রহমান বললেন,” পেয়েছিস?আর বললো ,শোন বেশি চিন্তা করিস না ।ভিতরে ভিতরে এত কষ্ট পাস না যে নিজেই কলাপস হয়ে যাবি ।নুরকে কিন্তু তোকে সামলাতে হবে।”
সাদাফ বললো,” চিন্তা করো না আব্বু ।আমার কিছু হবে না ।নূরের জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমি সবকিছু করব ।তোমরা টেনশন করো না ।আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে ।নূরের দিকে খেয়াল রেখো ওকে সাবধানে রেখো ।যেন কিছু এই মুহূর্তে জানতে না পারে।”
বলেই ফোন রাখলো সাদাফ।রিপোর্টগুলো ইমেইল আসার সাথে সাথে সাদাফ দেখতে পারলো ।রিপোর্টগুলো নিজে কিছুক্ষণ গুগলে সার্চ করলো ।একটু জেনে নিলে নুরের কন্ডিশন সম্পর্কে।তারপর আবার সাথে সাথে উঠে রেডি হয়ে ডক্টরের উদ্দেশ্যে বের হল সাদাফ।

সাদাফ বসে আছে ডক্টর নয়নের চেম্বারে ।নয়ন রিপোর্ট গুলো বারবার দেখছে ।রিপোর্টগুলো দেখে বললো,” আমি এক কাজ করতে পারি বাংলাদেশে একজনকে রেফার করবো উনাকে দেখাবি ।তবে আমেরিকার একজন ডক্টর আছে এগুলোর জন্য স্পেশালিস্ট গাইনি বিভাগের ।আমি রিপোর্ট গুলো পাঠিয়ে দিব উনি কি বলে আমি তোকে জানাবো।”
সাদাফ বললো,” হ্যাঁ তাই কর তাহলে খুব ভালো হয় বুঝতেই পারছিস নুর আমার স্ত্রী বয়স অল্প ।আর তাছাড়া ও এখনো জানে না ওর কি সমস্যা হয়েছে?”
নয়ন সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললো,” বিয়ে হয়েছে কতদিন ?”
সাদা প্রথমে থতমতো খেয়ে গেল ।পরে বললো,” এই তো বেশিদিন হবে না আর দশ দিন হবে।”
নয়ন রিপোর্ট গুলো দেখতে দেখতে আবারো জিজ্ঞেস করল ,”একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি যদি কিছু মনে না করিস ?”
সাদাফ বললো হ্যাঁ কর।
নয়ন সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললো,” যেহেতু নূরের বয়স অল্প আর বিয়ে হয়েছে ।ফিজিক্যাল সম্পর্ক কি তোদের মধ্যে হয়েছে এখনো?”

সাদাফ বললো ,”এটার সাথে কি এটার কোন সম্পর্ক আছে ?”
নয়ন বললো,”না সবকিছু তো আমার জানতে হবে ।তোর সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন হয়েছে কিনা ?হওয়ার সময় নূরের কন্ডিশন কেমন ছিল ?ওর কি বেশি কষ্ট হচ্ছিল কিনা ?সবকিছুই একটার সাথে একটা জড়িত। অনেক সময় অল্পবয়সী কুমারী মেয়ে ফার্স্ট টাইম ফিজিকেল ইন্টারকোর্স এর সময় হালকা একটু ব্লিডিং হতে পারে ।কিন্তু নূরের যেহেতু এই অবস্থা ওর কি বেশি ব্লিডিং হয়েছিল কিনা তাই জানতে চাচ্ছি।”
সাদাফ কিছুই গোপন করলো না ।সাদাফ বললো ,”হ্যাঁ হালকা একটু ব্লিডিং হয়েছিল ।তবে যেহেতু পিরিয়ড থেকে সুস্থ হয়েছিল মাত্র দুই এক দিন তখনই ফিজিক্যাল ইনটিমেসি হয়েছে তাই অতটা ঘাটাইনি।আর অল্প বয়সী মেয়ে ইন্টারকোর্সের সময় ব্যাথা পাবে স্বাভাবিক।তাই বুঝিনি অতোটা।”
“দেখ ডাক্তারি ভাষায় বলি আর গ্রাম্য ভাষায় বলি যেহেতু কুমারী মেয়ে ফাস্ট টাইম ইন্টারকোর্সের সময় হালকা একটু ব্লিডিং হতেই পারে তবে সেটা কি তোর কাছে বেশি মনে হয়েছে নাকি কম মনে হয়েছে ?”জানতে চাইলো ডক্টর নয়ন।

সাদা বললো,” না একদমই অল্প ।যেটা একদম না হলেই নয়। মানে একদমই কম এতোটুকু লেখাপড়া বা জ্ঞান আমারও আছে ।জানি কোনটা বেশি কোনটা কম।”
“আচ্ছা ঠিক আছে দেখা যাক টেনশন করিস না ।আল্লাহ রোগ দিলে সেটার সমাধানও দিয়ে দিবে ।অবশ্যই এখানে না হোক অন্য কোথাও কারো না কারো মাধ্যমে অবশ্যই ভাবি কে সেফা দান করবেন আল্লাহ। আশা রাখা আশাহত হোস না ।মনের সাহস রাখ। তুই মনে যত সাহস রাখবি ভাবি শক্তি পাবে ভেঙে পড়বে না।
আর কোন রোগ আছে এটা জেনে আমি যদি দুর্বল হয়ে যাই চিকিৎসা আমাকে ততটা এফেক্ট করতে পারবেনা ।কিন্তু যদি মনে সাহস থাকে শক্তি থাকে তুই ভাবির পাশে থাকিস উনি যদি স্বইচ্ছায় সমস্ত চিকিৎসা নিতে পারে তাহলে আমি মনে করি চিকিৎসা অবশ্যই উনার ভালো ফল বয়ে আনবে।

তবে সব সময় বিশ্বাস রাখবি আমরা যতই উন্নত হয়ে যাই না কেন সন্তান দেওয়া না দেওয়া এটা আল্লাহর প্রদত্ত ।আল্লাহ যদি চায় দিবে আল্লাহ যদি না চায় তাহলে দিবেনা ।তাই তুই কখনোই ভাবির প্রতি কোন ভাবে অবিচার করিস না ।বয়স অল্প তুই যদি একটু অবহেলা বা সন্তানের প্রতি চাহিদা দেখিয়ে ফেলিস তাহলে হয়তো ওর ছোট্ট মনে আঁচড় কে*টে যাবে ।সব সময় এটা নিয়ে ভাবতে থাকবে ডিপ্রেশনে চলে যাবে।
আর একবার ডিপ্রেশনে চলে গেলে এই রোগ থেকে ভালো হলেও ডিপ্রেশন রোগ থেকে ভালো হবে না ।সে ক্ষেত্রেও কনসিভ করতে পারবেনা ।ওষুধে কোন প্রভাব পড়বে না।”
সাদাফ উঠে দাঁড়ালো ।নয়ন বললো,”তুই যা টেনশন করিস না ।আমি এখানে যে ডক্টর কে বলব ভাবিকে নিয়ে আসবি দেখানোর জন্য ।আর এই ইমেইল টা আমি অবশ্যই আমেরিকা পাঠিয়ে দিব দেখবো ও রিপোর্ট দেখে কি বলে ।অবশ্যই আশা রাখ ভাল কোন নিউজ আসবে।”

সাদাফ কথা শেষ করে চেম্বার থেকে বের হলো ।কেন যেন মনে হচ্ছে নুর অবশ্যই মা হতে পারবে ।ওর ভিতর থেকে ইনার ফিলিংস আসছে ।এখন নূরকে বোঝানোর পালা ।নূরকে যদি বোঝাতে পারে যদি সবকিছু সুন্দরভাবে মেনে নেয় তাহলে হয়তো চিকিৎসাটা করা সহজ হয়ে যাবে।
হসপিটাল থেকে বের হয়ে সাদাফ সাথে সাথে ফোন দিল নুরকে ।প্লান করেছে আজকে নুরকে ঘুরাবে ।নুরের মন সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করবে ।যেহেতু বাবারা মেনে নিয়েছে এখন আর কোন বাধা নেই ।নূর কয়েক রিং হওয়ার পর ফোন ধরল ।সাদাফ বললো,” নূর ?”

নূর বললো,” বলেন ।”
সাদা বললো,” চল রেডি হো তাড়াতাড়ি ।আজকে আমরা ঘুরতে যাবো।”
নুর কথা বলতে পারছে না ।কান্নাগুলো যেন দলা পাকিয়ে গলা চেপে ধরে রেখেছে ।নুরু কোনমতে বললো,” আমার ভালো লাগছে না আজকে ।ঘুরতে যাব না প্লিজ ।আমার অনেক ঘুম পেয়েছে আমি একটু ঘুমাই?”
সাদাফের বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো ।নূরের কন্ঠটা কান্না কান্না লাগলো কেন ?নাকি অসুস্থ ?নাকি এই দুই দিন রাত জাগার ফলে নুরের ঘুম পাচ্ছে ?সাদাফ কিছুই বুঝে উঠতে পারলো না ।কিন্তু বুকের ভিতর কেমন যেন আনচান আনচান করছে ।মনে হচ্ছে সামনে ভয়ঙ্কর কোন বিপদ আসছে।

সাদাফ হসপিটাল থেকে বের হয়ে নিচে গাড়িতে এসে সিটে বসলো ।দুই তিন মিনিটের জন্য মাথাটা এলিয়ে দিল সিটে ।চোখ বন্ধ করে রইল ।তারপর ধীরে ধীরে পকেট থেকে ফোন বের করে ফোন করলো ফজলুর রহমানকে।
ফজলুর রহমান ফোন ধরতেই সাথে সাথে সাদাফ এপাশ থেকে বললো ডক্টরের সাথে কথা বলেছি ।উনি দুয়েকের মধ্যেই ভাল একজন ডঃ রেফার করবে ।এই দুদিনের মধ্যে নূর কে বোঝাতে হবে ।নুরকে জানাতে হবে ।কারণ এটা যে ধরনের ট্রিটমেন্ট পেসেন্টকে না জানিয়ে করা যাবে না ।

তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত হও নূরকে জানানোর জন্য।”
ফজলুর রহমান দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেললেন ।বললেন ,”মানসিকভাবে প্রস্তুত হই প্রত্যেকবারই প্রস্তুত হই ।কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সে প্রস্তুতি আবার ধুলোয় মিশে যায় ।যখন আমি ভাবি আমার মেয়েটা তো শুনলে সাথে সাথে এটা নিতে পারবেনা ঠিক কতখানি কষ্ট হবে আমার মেয়েটার ভাবতেই আমার আর সেই প্রস্তুতি কাজ করে না সাদাফ।”
সাদাফ বললো,” ভে*ঙে পড়ো না আব্বু আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে হয়তো ।এর মধ্যে নূরের কোন ভাল কিছু আছে শুধু নুরকে একটু দেখে রেখো ।আমি এখন এক জায়গায় যাব এসে নুরের সাথে দেখা করব।”
বলেই ফোন রাখলো সাদাফ।তারপর আবার সাথে সাথে নাম্বার ডায়াল করলো হুমায়ুন রহমানের ।হুমায়ুন রহমান সাদাফের ফোন দেখে সাথে সাথে ফোন রিসিভ করে এদিক ওদিক তাকে একটু বেলকনিতে গেল।
সাদাফ কিছু বলার আগে হুমায়ূন রহমান বলে উঠলেন ,”কথা হয়েছে ডাক্তারের সাথে কি বলেছে আমার মেয়ে ঠিক হবে।”

সাদাফ কোন উত্তর দিল না ।চুপচাপ রইল। কিছুক্ষণ পর সাদাফের ঘন গাঢ় নিঃশ্বাস হুমায়ন রহমান টের পেলেন।বুঝতে পারলেন সাদাফ হয়তো কান্না করছে ।ভে*ঙে পড়েছে ছেলেটা ।উপরে উপরে যতই শক্ত থাকুক বাবার কাছে আসলে সেই ছোট্ট বি*ড়াল ছানার মত হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর সাদাফ ভেজা কন্ঠে কাপা কাঁপা স্বরে বললো,” আমার নূরের সাথে কেন এমন হলো বাবা ?এই সমস্যাটা তো আমাকেও দিতে পারতো।
অপূর্ণতার কষ্ট না হয় আমি সহ্য করতাম ।কিন্তু আমার ছোট্ট নূর তো সহ্য করতে পারবে না বাবা ! কেন আল্লাহ এরকম করলো ?কেন আল্লাহ নূরের সাথে এরকম করল ?কেন আল্লাহ আমাকে কোন অসুখ দিল না বাবা?
আমি সত্যি বলছি আমার সন্তানের কোন চাহিদা নেই ।আমার শুধু নূরকে চাই ।তোমরা বোকা নুরকে বুঝাতে পারবে না আমার শুধু নূরকে লাগবে?”

হুমায়ূন রহমান নিরব রইলেন ।বলতে দিলেন ছেলের মনের কথাগুলো ।আজ আর কোন কিছুতে আটকাতে ইচ্ছে হলো না ।বলুক কাঁদুক ছেলে যা ইচ্ছা হয় বলুক ।শুনবে হুমায়ুন রহমান।
সাদাফ ধীরে ধীরে একটু নরমাল হলে বলতে শুরু করলো ,”ডক্টর দেখিয়েছি বাবা দুদিনের মধ্যে একজন ভালো ডাক্তার কে রেফার করবে ।দুদিনের মধ্যেই নূরকে জানাতে হবে বোঝাতে হবে ।আর আমেরিকা একজন ডক্টরকেও ইমেইল করে নূরের ফাইল পাঠানো হয়েছে ।উনি দুদিন স্টাডি করে নূরের ব্যাপারে সম্পূর্ণ তথ্য দিবে।
বাবা তুমি কি একটু দেখবে নূরের কি হয়েছে ?শরীর ভালো নাকি খারাপ ?আমি যখন কিছুক্ষণ আগে ফোন দিয়েছিলাম বললাম একটু বাইরে নিয়ে যাব ঘুরতে ও বললো ওর নাকি ভালো লাগছে না ।একটু ঘুমাবে তুমি একটু যেয়ে দেখো না নুরের কি হয়েছে?”

হুমায়ুন রহমান বললেন ,”তুই চিন্তা করিস না ।আমি আমার মাকে যেয়ে দেখছি তুই নিজে শক্ত হো। তুই যদি ভে*ঙে পড়িস তাহলে নূর আমরা সামলাবো কি করে ?ওই পা*গলিটা যে একদমই পা*গলি কোন কিছুই বুঝতে চাইবে না । তোকেই তো ওকে বোঝাতে হবে।”
সাদাফ একটু ধাতস্থ হল ।হাতের আঙ্গুল দিয়ে চোখের পানি গুলো মুছতে মুছতে বললো,” ঠিক আছে বাবা কোন সমস্যা নেই ।আমি এখন ফোন রাখছি ।তুমি যেয়ে একটু নুরকে দেখো কেমন ?দেখে আমাকে জানিও ।”
বলে সাথে সাথে ফোন কে*টে দিল সাদাফ ।আর কথা বলতে পারছে না ।গলা ভারী হয়ে আসছে ।নিঃশ্বাস যেন দ্রুত উঠানামা করছে।

মা হওয়া বা বাবা হওয়া এটা সবারই স্বপ্ন থাকে সাদাফেরও আছে নূরের ও আছে ।কিন্তু নূরের থেকে বেশি সাদাফ এর কাছে কোন কিছুই নয় ।সাদাফ শুধু নুরকে চায় ।এরকম শত শত সন্তানের মুখ দেখার সাধ কুরবান করে দিতে পারবে সাদাফ শুধুমাত্র একটি নূরকে পাওয়ার জন্য।
সাদাফ সোহানের অফিসে এসে বসেছে ।ভালো লাগছিল না কোন কিছুই ।একাকীত্ব চেয়েছিল কিন্তু একা ও বড্ড খারাপ লাগছে তাই সোহানের অফিসে এসে বসল ।যদিও সাদাফ সোহানকে নূরের ব্যাপারে কিছু বলেনি কিন্তু সাদাফের মুখ দেখে সোহান জিজ্ঞেস করল ,”মুখ টা এমন শুকনা লাগছে কেন ?কি হয়েছে ?কোন কিছু নিয়ে টেনশন করছিস?”

সাদাফ বললো,” না এমনি ভালো লাগছে না শরীরটা ।তাই এখানে এলাম ।”
এই মুহূর্তে নুর যেখানে জানে না নূরের ব্যাপারে কারো সাথে কোন কিছু বলতে আগ্রহ বোধ করছে না সাদাফ। কারণ নূরের ব্যাপারে জানার অধিকার সবার আগে নূরের অন্য কারো নয়।
বিকাল বাজে পাঁচটা ।সাদাফ এসেছে নুরকে দেখার জন্য ।বাড়িতে ঢুকতেই দেখা হল নওরিন আফরোজ ও সামিহা বেগমের সাথে ।সাদাফ নওরিন আফরোজ কে বলল ,”আম্মু নূর কোথায়?”
নরিন আফরোজ বললো,” নূর তো উপরে ঘুমাচ্ছে ।দুপুরে তো খেতে এখনো ওঠেনি আর তোর ছোট আব্বু বলল ঘুম থেকে উঠানো দরকার নাই ।ঘুমিয়েছে তাহলে উঠে একবারে খাবে।”

সাদাফ চিন্তিত হল ।সেই সকাল বেলা বলেছে ভালো লাগছে না ঘুমাবে এখনো ঘুমাচ্ছে ।দৌড়ে উঠে গেল উপরে নুরের রুমে দরজা সামনে ।এসে হাঁপাতে হাঁপাতে নূরে রুমে দরজা নক করতে লাগলো সাদাফ।
নুর ভিতর থেকে শুনছে সাদাফ বারবার দরজা নক করছে ।নুর কোন কথা বলছে না ।চোখ দিয়ে শুধু গড়গড়িয়ে পানি পড়ছে নূরের।
সাদাফ বাইরে থেকে বলছে ,”দরজা খোল নুর কি হয়েছে তোর ?তুই ভিতরে ঘুমাসনি আমি জানি জেগে আছিস ।প্লিজ দরজা খোল।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৩৬+১৩৭

নুর বললো,” আমি শুয়ে আছি ভালো লাগছে না ।প্লিজ আমাকে একটু একা থাকতে দিন ।আমি এখন একটু ঘুমাবো আমার ভালো লাগছে না।”
সাদাফ বললো,” প্লিজ দরজা খোল নুর। তোর কেন ভালো লাগছে না তুই আমাকে বল ।এভাবে দরজা বন্ধ করে বসে থাকিস না ।আমার খারাপ লাগছে নুর প্লিজ দরজা খোল।”

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৪০+১৪১