সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৭
তানিয়া হুসাইন
আবিরের অবস্থা এখন আগে থেকে ভালো।
বেডে দেওয়া হয়েছে তাকে।
কালকে সারাটা রাত তারা কিভাবে পার করেছে সেটা শুধুমাত্র তারাই জানে।
ছোট বাচ্চা টা রাত থেকে একা, জান্নাতকে জোর করে পাঠায় সায়মা বেগম।
সে আসতে চায় নি।
কিন্তু ছেলেটার কথা ভেবে পরে আর কিছু বলে না।
আদ্রিয়ানের সাথে রওনা দেয় বাড়ির উদ্দেশ্যে।
গিয়ে গোছল টা সেড়ে বাচ্চাকে খাইয়ে আবার চলে আসবে হসপিটালে।
হালকা বাতাস জানালার পর্দা নাড়িয়ে দিচ্ছে ধীরে ধীরে।
রাহি ধীরে ধীরে পায়চারি করছে।
তার কোলে জায়ান,আবিরের ছোট্ট ছেলেটা।
ক্লান্ত গলায় রাহি ওকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে, শিশুটার মুখে ঘুমের ছাপ স্পষ্ট, তবু একটু পরপর কেঁদে উঠছে।
ছোট্ট প্রাণটা তার দুচোখে ঘুম নামিয়ে আনতে চাইছে না কিছুতেই। রাহির কণ্ঠে একটা ক্লান্তি, আবার গভীর মায়া। এমন সময় হঠাৎ দরজার শব্দ হয়।
রাহি ভাবে হয়তো হাসপাতাল থেকে কেউ এসেছে।
কাজের লোককে তাগিদ দেয় দরজা খোলার জন্য।
___কাজের লোক ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দেয়। জান্নাতকে এ অবস্থায় দেখে কিছুটা অবাক হয় সে।
_রাহির চোখ মুহূর্তেই জান্নাতের মুখে গিয়ে আটকে যায়। চোখ-মুখে ক্লান্তি, কিন্তু ঠোঁটে একটা কঠিন ধরনের শুকনো হাসি। জান্নাত এগিয়ে আসে, রাহির হাত থেকে বাচ্চাটাকে নিঃশব্দে নিয়ে নেয়। শিশুটার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ বুকের কাছে টেনে ধরে। কারো সঙ্গে কোনো কথা না বলে ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে চলে যায়।
রাহি শুধু তাকিয়ে থাকে, কিছু জিজ্ঞেস করতে গিয়েও গলা শুকিয়ে আসে তার।
জান্নাত ভাবীকে এখন কিছু না বলাই ভালো মনে করে সে কিছু বলেনি।
___ঠিক তখনই বাইরের গেটের শব্দ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের দরজা ঠেলে আদ্রিয়ান ঢুকে পড়ে।
সে সোজা উপরে যাবে, ঠিক তখনই চোখ পড়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর দিকে।
মুহূর্তেই একটা ঝাটকা খায় সে।
সময় থেমে যায় তার জন্য। তার বুকের ভিতরটা ধক করে ওঠে।
দম বন্ধ হয়ে আসে এক মুহূর্তে। পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার মতো এক অনুভূতি এসে চেপে ধরে তাকে।
এক মুহূর্তের জন্য মনে হয় তার সামনে সাফা দাঁড়িয়ে আছে।
প্রায় চারটা মাস পরে এরকম কিছু, তার সত্তা টাকে নাড়িয়ে দেয় ভেতর থেকে।
পরনে সাফার মতোই ড্রেস, ঠিক একই রকম, সেই ডিজাইনের। চুলের স্টাইল রং সব এক, মাথার পাশ দিয়ে খোলা চুল গড়িয়ে পড়ছে, মুখের গড়নটাও যেন সাফার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আদ্রিয়ান স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। সে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে,
আদ্রিয়ানকে এরকম হাসফাস করতে দেখে রাহি বলে,
__আদ্রিয়ান ভাই, তোমার কি কিছু হয়েছে? তোমাকে এমন লাগছে কেনো?
___আদ্রিয়ান কোনো উত্তর না দিয়ে হঠাৎ করে ফিরে দাঁড়ায়। চোখ সরিয়ে নেয়। পাগলের মতো দ্রুত সিড়ি বেয়ে চলে যায় নিজের রুমে।
___রুমে ঢুকেই এসির রিমোট খুঁজে নিয়ে পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়। শরীরটা ঘামছে তার। হৃদস্পন্দন যেনো বের হয়ে আসবে এমন বেগে চলছে।
বিছানায় ধপ করে শুয়ে পড়ে।
চোখ বন্ধ করতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই চিরচায়িত আকাঙ্খিত মুখটা। সাফা।
লম্বা চুলে ভেসে থাকা হাসি হাসি চোখ। ঠোঁট বাঁকা করে হাসছে। গাল ফুলিয়ে বলে,
__এখন তুই সবার মাঝে আমাকে খুঁজিস? একটা মেয়েকে দেখেই ভাবলা আমি! এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি আমায়? তোর সাহস কি করে হলো, আদ্রিয়ান! আমাকে চিনিস না তুই, একদম মেরে ফেলবো।
___আদ্রিয়ানের কপাল ঘামে ভিজে উঠে।
সে সাফার উপস্থিতি অনুভব করছে,
চোখ বন্ধ করেও সে দেখতে পাচ্ছে সাফা তার দিকে দৃষ্টি বিদ্ধ করে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ করেই সাফার মুখ বদলে যায়।
কণ্ঠস্বর আর আগের মতো তেজি না,
বরং কাঁপা-কাঁপা, নরম গলায় বলে,
আমি মরে গেছি, তাই না? এখন তোমাকে আর কেউ থামায় না। এখন তুমি নতুন কারো দিকে তাকাতেও পারো, তাকিয়েও ফেলেছো। অথচ তুমি বলেছিলে জন্মান্তরেও তুমি আমারই হবে। আমাকে ভুলনে না কখনো। আমার জায়গায় আর কেউ আসবে না, বলেছিলে না আদ্রিয়ান?
আদ্রিয়ান উঠে বসে।
দম বন্ধ হয়ে আসছে তার।
ঘাম ভেজা কপাল মুছতে মুছতে সাইড টেবিল থেকে পানি তুলে এক ঢোকে পুরোটা খায়। শার্টের উপরের বোতাম দুটো খুলে ফেলে। বুকের ভেতরের এই হাহাকার যেন তাকে জ্যান্ত গিলে খাচ্ছে।
নিজের কপালে আঙুল ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলে,
__আমি তোকে ভালোবাসি সাফা,তুই আজও আমার মধ্যে আছিস। তুই ছিলি, তুই আছিস, তুই থাকবি। আমার জীবনে তুই ছাড়া আর কেউ আসতে পারবে না।
আমি তোকে ভুলিনি, আর ভুলবোও না কোনোদিন।
বাইরে বাতাস বইছে, জানালার কাচ কাঁপছে ধীরে ধীরে। কিন্তু আদ্রিয়ানের বুকের ভেতর, একটানা বেজে চলেছে সাফার কণ্ঠ,
তার ছোঁয়া, তাদের ভালোবাসার স্মৃতি,
ভীর তার অফিস রুমে বসে ছিলো।
অন্ধকার আর লাল আলো মিলেমিশে এক অদ্ভুত রঙ ছুঁয়ে দিচ্ছে পুরো পরিবেশকে।
___হঠাৎ দরজা খুলে ঢুকে আসে কার্লোস মেন্দোজা।
চোখেমুখে আতঙ্ক, কণ্ঠে ভয়ের সুর।
Boss.
it’s urgent.
ভীর চোখের ইশারায় বলতে বলে।
শরীরে তার কালো স্যাটিন শার্ট, তার উপর হালকা বুলেট প্রুফ ভেস্ট পড়ে আছে। চোখ দুটো শান্ত, কিন্তু অদ্ভুত ঠান্ডা।
__বলো।
___সিনালোয়ার নতুন এক গ্যাং আমাদের ৩৫ জন লোককে মেরে ফেলেছে।
ডিপো থেকে কোটি টাকার ড্রা*গ এর পার্সেল সরিয়ে নিয়েছে।
ওরা আমাদের এক সাবেক লোককে কাজে লাগিয়ে এটা করছে।
___ভীর থমকে যায়।
এতো বড় সাহস কার হলো।
কার এতো বড় বুকের পাটা তার রাজত্বে হাত দিয়েছে।
তার নিঃশ্বাস ভারী হয়, বুকের ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে।
তার চোখের পাতা নড়ে না, সে ঠান্ডা গলায় বলে,
__সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলো।
তারপর রুমের একপাশে রাখা লোহার সেল্ফ খুলে
নিজের রি*ভলভার, ব্যাকআপ গা*ন, ব্ল্যাক বুটস, ব্লুটুথ কমিউনিকেশন গিয়ার একে একে পরে নেয়।
___একটাই জিনিস ক্ষুরপাক খাচ্ছে তার মস্তিষ্কে,
শেষ করে দিতে হবে ওদের।
কিন্তু,
বেরিয়ে যাওয়ার আগে,
তার মন অদ্ভুত এক টান অনুভব করে।
____দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে কাঙ্খিত কিছু দেখার উদ্দেশ্যে,
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে সে জানালার পাশে।
রুমে সাদা জর্জেটের পর্দা হালকা বাতাসে দুলছে।
___পায়ের শব্দ পায় ইশায়া, কিন্তু ফিরেও তাকায় না।
তার দৃষ্টি যেন আকাশে আটকে আছে।
ভীর ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে,
মাটির সাথে তার বুটের ঘর্ষণ ইশায়ার শরীরে বিদ্যুৎ খেলে দেয়,
তবুও সে নড়ে না।
হঠাৎ,
হেচকা টানে ভীর তাকে ঘুরিয়ে নিজের বুকের সঙ্গে চেপে ধরে।
তার মুখ মাত্র ইঞ্চি দুয়েক দূরে।
গলা দিয়ে হিসহিসে গর্জন বেরিয়ে আসে,
___আমি যাচ্ছি,
দু’একদিনের মধ্যে ফিরে আসবো।
তার ঠান্ডা হাত ইশায়ার মুখ ছুঁয়ে যায়।
শরীর কেঁপে ওঠে মেয়েটার।
ভীর চোখে চোখ রেখে বলে,
খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করবি।
আমি যদি উল্টা পালটা কিছু দেখি,
আমি কি করতে পারি সেই সম্পর্কে ধারণাও নেই তোর।
ইশায়ার ঠোঁট কাঁপে, চোখে পানি জমে।
কিন্তু সে চুপ।
তার প্রতিবাদ করার শক্তি নেই।
ভীর আরেকটু কাছে গিয়ে বলে,
তুই জানিস না, আমি তোর প্রতিটা নিঃশ্বাস ও গুনে রাখি।
এমন কোন কিছু করিস না যাতে আমার ভিতরের জন্তু টা জেগে ওঠে।
বলে ছেড়ে দেয় ইশায়াকে।
তারপর ঘুরে দাঁড়ায়, দরজার দিকে পা বাড়ায়।
বেরিয়ে যাওয়ার আগেই মারিয়া এলেনার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখলে,
এক সেকেন্ডও দেরি না করে আমাকে জানাবে।
আর যদি কোনো প্রকার গাফিলতি পাই,
তোমাকে আর কেউ খুঁজে পাবে না, মারিয়া।
___মারিয়া মাথা ঝুঁকায়, মুখ শুকিয়ে যায় তার ভয়ে।
তারপর ভীর বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
পেছনে পড়ে থাকে নিঃশ্বাস আটকে আসা এক বন্দিনী।
চারদিক ঘন অন্ধকার, মাথার ওপর হেলিকপ্টারের শব্দ।
ভীর চড়ে বসে সামনে।
সাথে থাকে ম্যাটিয়াস, সান্তিয়াগো,ডিয়েগো,নিকো,এনরিকো এবং নতুন নিয়োগ পাওয়া চারজন শ্যুটার।
তার মাথায় এখন কেবল একটাই কথা খেলে,
___যে হাত আমার সাম্রাজ্য ছোঁয়ার সাহস করেছে,
সে হাত আর আস্ত থাকবে না,
তার শরীরের সহস্র টু*করো করা হবে।
আর সেটা করবে সে নিজেই।
সিনালোয়ার আকাশটা সেইদিন অদ্ভুত রকমের নীল ছিল। যেন অনেকদিন পর সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছেছে। কিন্তু সেই নীলের নিচে গড়ে উঠছিল এক ধ্বংস,
একটা নতুন মাফিয়া চক্র, যারা সিনালোয়ার আলভারেয সাম্রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। তারা ভুলে গিয়েছে এই দেশে রক্তে লেখা ক্ষমতার ইতিহাস কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হয় না।
ভীর আলভারেয নিজের হাতেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে এসেছে।
প্রাইভেট জেটে করে সিনালোয়া পৌঁছেই সে সরাসরি উঠেছিল তার নিযুক্ত সেফ হাউসে, যার অবস্থান ছিল পাহাড়ঘেরা এক বিচ্ছিন্ন এলাকায়। দশজন প্রটেকশন গার্ড আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল, তার নির্দেশে চলে তারা। কিন্তু ভীর জানত, এবার শত্রু চতুর। তারা বাইরে থেকে আঘাত করবে না,
___এজন্য-ই ভীরের এতো সময় লাগে।
১/২ দিনে সব শেষ হয়ে যাবে ভাবলেও, ১০ দিন গড়িয়ে যায়।
এই দশদিনে ভীরের প্ল্যান সোজাসাপ্টা ছিলো না।
সে সরাসরি যুদ্ধ চায় নি, সে প্রথমে ভিতরটা ভেঙেছে,
তারপর শত্রুর সাপ্লাই চেইন, অ*স্ত্রের উৎস, লোক নিয়োগকারী সিন্ডিকেট সব কিছুর শিকড় কেটে দিয়েছে একেবারে।
___প্রথম দু’দিন সে শুধুই নজরদারির কাজে সময় দিয়েছে। ড্রোন, লোকাল সোর্স, এমনকি সরকারি এজেন্সির কয়েকজন দু*র্নীতিগ্রস্ত সদস্যকেও কিনে ফেলে।
তারপর ওইদিন রাতে, সিনালোয়ার অন্ধকার গলিতে তিনটা ব্ল্যাক এসইউভি থামে। বেরিয়ে আসে মুখ ঢাকা কয়েকজন ডিয়েগো,নিকো এনরিকো, ম্যাটিয়াস, এবং সান্তিয়াগো।
তারা সোজা হানা দেয় কুখ্যাত দেয়ালারো বার এ, যেখানে শত্রুর লোকেরা প্রতিদিনের মতো নেশায় গা ভাসিয়ে দিয়েছিলো।
তিন মিনিটের মধ্যেই বারটা রক্তে ভিজে যায়।
ভীর একটা কথাও বলে না। তার হাতে সাইলেন্সার লাগানো গ্ল*ক, চোখে মৃত্যু।
যাকে খুঁজছিল, সেই চক্রের মাথা হাভিয়ের মোরিয়াকে সোজা গলা চেপে ধরে দেয়ালে ঠেসে ফেলে, ধাতব স্বরে বলে,
গুয়াদালাহারা,সিনালোয়ায় ত্রাস একটাই থাকবে, সেটা ভীর।
রাজভীর আলভারেয।
এম মেক্সিকো শহরের রাজা আমি।
এখানে শাসন শুধুমাত্র আমার চলবে।
তুই সেটা ভুলে গিয়েছিস। এখন তোর রক্ত মনে করিয়ে দেবে সেটা তোকে।
বলেই ধারালো ছু*ড়ি দিয়ে তার গ*লায় টান দেয়।
রক্ত ছিটকে আসে তার শরীরে।
___সেই রাতে হাভিয়েরের কাটা শরীর নদীতে ফেলা হয়, সেদিন রাতের স্রোত আরও ভারী হয়ে যায়।
ভীর দশদিনে একে একে ছিন্নভিন্ন করে দেয় সেই গ্যাংয়ের মেরুদণ্ড।
কেউ পালায়, কেউ মরে। কেউ কেবল চেয়ে থাকে, কিভাবে এক রক্তপিপাসু রাজা আবার ও তার সিংহাসন শক্ত করছে।
____তবে এই সবকিছুর মাঝেও,
যখন সে রাতের বেলা নিজের রুমে ফিরে আসে,
শরীর রক্তমাখা, ক্লান্ত
তবুও তার চোখ স্ক্রিন থেকে সরে না।
একটা বিশাল স্ক্রিন,
তাতে চলতে থাকে ইশায়ার লাইভ ফুটেজ।
তার রুমের প্রতিটি কোণ, প্রতিটি দিক থেকে থাকা ক্যামেরা,
যেখানে ইশায়ার হেঁটে যাওয়া,ঘুমানো, বসে থাকা, নামাজ পড়া,
সবকিছু-ই দেখে সে।
সারাদিনের পুরো ফুটেজ টেনে টেনে দেখে।
ইশায়ার চেঞ্জ করার দৃশ্যটা পর্যন্ত স্কিপ করে না।
ভীর আরামকেদারায় হেলান দিয়ে বসা,
চোখ স্ক্রিনে গেঁথে থাকে।
জানালা দিয়ে আসা অন্ধকার, ঘরের টিম টিম আলো,
সব মিলে একটা ধোঁয়াটে পরিবেশ তৈরি করে।
___তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।
একটি জামা খুলে অন্যটি পরে, তার শরীর তখনও কাঁপে শিহরনে।
ভীর টেনে টেনে সেই ফুটেজ দেখে বারংবার।
ওই মুহূর্তগুলোর প্রতিটা সেকেন্ড যেন সে মুঠোয় পুরে রাখতে চায়।
ঠোঁটের কোণে একচিলতে হাসি খেলে যায় তার।
তার চোখে তখন রাজত্বের লালসা নয় ছিল শুধুই এক নারীর প্রতিটি মুভমেন্টকে নিজের বলে ছাপিয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
এই নারী তার শান্তি কেড়ে নিচ্ছে দিন দিন।
ইশায়া তার কাছে এখন শুধু এক আবেগ নয়, এক আসক্তি।
যার প্রতিটা চোখের পলক, প্রতিটা শ্বাস, প্রতিটা স্পর্শ ভীর নিজের মনে গেঁথে নিচ্ছে।
এটা প্রেম নয়,এটা দখল।
ইশায়ার কান্না দেখেই দেখেই মেজাজ খারাপ হয় তার।
কেনো কাদবে সে,কি দেয়নি সে তাকে,এর পর ও কেনো এই চোখ থেকে পানি আসবে,সব কিছু দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছে সে তাকে,তাহলে কেনো এই চোখে বিষাদ।
ভীর তখন স্ক্রিনে চোখ রেখেই ফোন দেয়,
মারিয়া এলেনা ফোনটা ইশায়ার হাতে ধরিয়ে দেয়।
___ইশায়ার হাত কাঁপে। সে জানে, এই ফোনটা কার সে ভালো করেই জানে।
এক হাতে চোখের পানি মুছে,
ভীর হাসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে।
এই একটা লোকের ফোন আসলেই তাকে দেওয়া হয়।
সে আদেশ দেয়। প্রশ্ন করে না, বুঝতে চায় না,
___খেয়েছো?
ভীরের ঠান্ডা গলা আসে ফোনের ওপাশ থেকে।
__হ্যাঁ
কণ্ঠ ভেঙে আসে ইশায়ার, গলার ভিতরে যেন কান্না জমে থাকে।
___তুমি এত কম খাও কেন?
এরকম নানান ধরনের প্রশ্ন।
ইশায়া চুপ থাকে।
____আমি দেখছি।
চেষ্টা করো না আড়াল হওয়ার।
তুমি আড়াল মানেই আমি অধৈর্য হই।
আর আমি একবার অধৈর্য হয়ে গেলে আমাকে সামলাতে পারবে না।
ফোন কেটে যায়।
মারিয়া ফোন নিয়ে চলে যায়।
ইশায়া চুপচাপ বসে থাকে। কিছু বলার মতো তার শক্তি আর বাকি নেই।
সে নামাজ পড়ে। কোরআন পড়ে।
তার জীবনে এখন কেবল একটা স্বস্তির জায়গা।
সাতদিনের মাথায় আবির হাসপাতাল থেকে রিলিজ পায়।
ডাক্তার তাকে এক মাস সম্পূর্ণ বেড রেস্ট দিয়েছে।
এখন সব কিছু সামলাচ্ছে আদ্রিয়ান।
সে নিজেকে কাজের মধ্যে গুটিয়ে নিয়েছে।
রাহিকে এড়িয়ে চলে সে, তার চোখে আজও সেদিনের দৃশ্য ফুটে ওঠে।
সে এরকম কিছু নিয়ে ভাবতেও চায় না।
____সায়মা রহমান ব্যস্ত থাকেন আবিরকে নিয়ে।
রাহিকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করে দিয়েছেন,
কিন্তু আবিরের দেখাশোনার জন্য তিনি এখন একটু ব্যস্ত থাকেন।
___এজন্য আদ্রিয়ান যখন বলেন,
রাহিকে আনতে যেতে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ২৬
___কিন্তু এই সামান্য কথা নিয়ে আদ্রিয়ান অনেক রাগারাগি করে,
সে বলে,
না, আমি পারবো না। আমাকে কখনো এসব বিষয়ের মধ্যে জড়াবে না।
ড্রাইভার আছে ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দাও।
বলে আদ্রিয়ান বেরিয়ে যায়।
___সায়মা রহমান ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়েন।
