Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৪

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৪

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৪
তানিয়া হুসাইন

নিঃশব্দ প্রাসাদের ভেতরে এক অদৃশ্য প্রস্তুতি চলছিল।
ইশায়া জানে না আজকের দিনটা কি সে তো ভেবেই নিয়েছে ভীর আসবে হয়তো তার জন্য-ই এই প্রস্তুতি।
কিন্তু মহিলা গার্ডদের চোখেমুখে ছিল এক অদ্ভুত গুরুত্ব।
তাদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ মারিয়া এলেনা নিজ হাতে ইশায়াকে সাজিয়ে দেন।
একটা গাঢ় কমলা রঙের শাড়ি।
যেটা সূর্যের আলো ও সন্ধ্যার আগুন দুটোর রঙকেই ধারণ করে।
বেছে নেয়া হয় ইশায়ার জন্য।
শাড়ির সাথে মানানসই একটি ফুলস্লিভ ব্লাউজ, পেছনে ফিতার মতো বাঁধা,
যেটা তার পিঠের সূক্ষ্ম সৌন্দর্যকে সূচনামাত্র প্রকাশ করে,
তবুও সম্ভ্রমের এক সীমারেখা বজায় রাখে।

___মারিয়া এলেনা সুন্দর করে ইশায়াকে শাড়িটা পড়িয়ে দেন,
আঁচলটা কোমল হাতে জড়িয়ে সামনে এনে গুছিয়ে দেন।
চোখে সম্মান, মুখে অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য।
এরপর তার চুল,
হাটু ছুঁই ছুঁই লম্বা, ঘন চুলগুলোকে সামনের সিঁথিতে ভাগ করে দুটি অংশ কপাল ছুঁয়ে নেমে আসে দুপাশে,
আর পেছনে নিখুঁতভাবে একে একে জড়িয়ে বাঁধা হয় গোলাপের মতো এক খোপায়।
মুখে হালকা মেকআপ,
গাল ছুঁয়ে যাওয়া হালকা ব্লাস, চোখে কাজল,
আর ঠোঁটে নুড কালারের লিপস্টিক।
কোনো অতিরিক্ত সাজ নেই,
তবুও তাকে দেখে মনে হয়,
এই পৃথিবী বুঝি তার রূপকে ধারণ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশে থাকা ইশায়া আর আজকের ইশায়ার মধ্যে যেন আলাদা একটা আভিজাত্য গড়ে উঠেছে,
সব একত্রে মিশে এক মায়াবতী সৃষ্টি করেছে।
একটা পরিণত সৌন্দর্য।
ইশায়া জানে সে আসছে।
এই সাজানো , এই আয়োজন
এমনটা আগে বহুবার ঘটেছে।
এইসব প্রস্তুতির অর্থ সে বুঝে গেছে।
আজ আবার নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে।
কোনো প্রতিরোধ নেই, কোনো প্রত্যাখ্যান নেই,
শুধু নিঃশব্দে নিজের অস্তিত্বকে জমা রাখতে হবে এক মাফিয়া বসের করুণায়।

অন্ধকার চিরে এক গাঢ় লাল কালার কার গর্জে উঠে প্রাসাদের সামনে থামে।
দরজা খুলে বেরিয়ে আসে মাফিয়া বস।
রাজভীর আলভারেয।
তীক্ষ্ণ মুখাবয়ব, গভীর চোখ, ক্লান্ত কিন্তু স্থির পায়ে হেঁটে আসে সে।
শার্টের উপরদিকের দুইটা বোতাম খোলা,
উন্মুক্ত বুকে ক্লান্তির রেখা,
চোখ ঘুমহীন।
সে দ্রুত পায়ে হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করে,
সবকিছু উপেক্ষা করে শুধু একটি রুমের দিকেই ছুটে চলে।
সময় নেই তার।
যেতে হবে তাকে।
সামনে বড় একটা উদ্দেশ্য হাসিল করতে হবে তাকে।
___ভীর এগিয়ে যায়,
যেখানে অপেক্ষা করছে এক মায়াবতী,
যাকে তার মনে কখন যেন অজান্তেই গাঁথা হয়ে গেছে।

রুমের ভেতরে বসে আছে ইশায়া।
রুমটা বড়, রাজকীয়, ঝাড়বাতির আলো পড়ে তার শাড়ির ওপর,
যেটা তাকে ঠিক যেন কারাগারের ভেতর বন্দি কোনও রাজকন্যার মতো দেখাচ্ছে।
ভীর দরজা ঠাস করে খুলে ভিতরে ঢুকে।
তার পায়ের শব্দে ইশায়ার বুক ধক করে ওঠে।
তবে সে মাথা তোলে না।
শুধু নিচু চোখে তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করে।
ভীর থেমে যায়।
তার চোখ স্থির হয়ে পড়ে ইশায়ার উপর।
কমলা রঙের শাড়ি, বাঁকানো শরীরের কোমল রেখা,
চুলের খোপা, হালকা লিপস্টিক,এই রুপে কখনো দেখেনি ভীর তাকে।
আজকে যেনো ভিন্ন লাগছে।
সব কিছু মিলিয়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্য তার সামনে দাঁড়িয়ে।
এক মুহূর্তের জন্য ভুলে যায় সে কে।
তার চোখে একজন নারীর অসীম সৌন্দর্য ধরা পড়েছে।
তার চোখে জ্বলে ওঠে রাগে নয়, বরং বয়ে যায় নদীর মতো এক শান্ত স্রোত।
রুমের নিঃস্তব্ধতা কেটে যায় ভীরের ভারী পায়ের শব্দে।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে।

তার চোখ যেন আটকে আছে একটাই জায়গায় ইশায়া।
সেই কমলা-গাঢ় রঙা শাড়ি, খোপা করা চুল,শান্ত মুখ।
ভীর এক ধাপ এগিয়ে এসে থেমে যায়।
তার চোখে ভেসে ওঠে একধরনের শিহরণ।
এই সৌন্দর্যটিকে না ছুঁয়ে থাকতে পারে না সে।
এই মেয়েটা দূরে থাকলে বড্ড পুড়ায় তাকে।
কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারে না সে।
ভীর হাতের ইশায়ার ইশায়াকে কাছে ডাকে।
ইশায়া উঠে দাঁড়ায়,
এগিয়ে আসে।
ভীর একটা নিঃশব্দ শ্বাস ছাড়ে। তারপর,
ধীরে ধীরে হাত বাড়ায়।
তার আঙুল এসে থামে ইশায়ার গালে,
ঠান্ডা, কোমল, স্পর্শ পেলে কেঁপে ওঠে ইশায়ার ভেতরের অস্তিত্ব।
ইশায়ার মুখটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয় সে।
চোখে চোখ রাখে,
তীব্র, গভীর, সংবেদনশীল এক দৃষ্টিতে।

তারপর এক বিন্দু সময় নষ্ট না করে ইশায়ার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ায়, এক নীরব, গভীর, শিহরণ জাগানো চুম্বন।
ইশায়ার খুব কাছ থেকে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
Happy Birthday, my little heart.
বলে আবারো শব্দ করে চুমু খায় ইশায়ার ঠোঁটের উপরের তিলটাতে।
এক মুহূর্তে সময় যেন স্থির হয়ে যায়।
ইশায়া অবাক হয়,
তার চোখে বিস্ময়।
মনে একটাই প্রশ্ন,
__আজ আমার জন্মদিন?
আজ কত তারিখ?
আমি এখানে এসেছি কতদিন হলো?এই লোকটা জানে কিভাবে।
তার চোখে এক মুহূর্তের বিভ্রান্তি, মুখে অবাক ভাব।
ভীর কিন্তু তাকিয়েই আছে,
চোখে প্রেমের ঘোর।
ভীরের তার ঠোঁট আবার ও নড়ে,
You look so pretty.
অনেক সুন্দর লাগছে তোমাকে।
শব্দ দুটো ছিল নিঃশ্বাসের মতো মৃদু, কিন্তু ইশায়ার শরীরের ভেতরে বজ্রের মতো নেমে আসে।
কথা বলতে পারে না সে, চুপচাপ তাকিয়ে থাকে ভীরের দিকে।

___ভীর ব্যাগ থেকে একটা কালো ভেলভেট কভার করা ছোট বক্স বের করে।
তারপর সেটা খুলে ইশায়ার হাতে দুটো মোটা, ভারী সোনার বালা পরিয়ে দেয়।
বালাগুলো ছিল উজ্জ্বল, সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত,
যেন ইশায়ার গায়ে ঠিকরে ওঠা সোনালি দীপ্তির মতোই মিলেমিশে যায়।
ভীর আরো একটা ছোট্ট বক্স বের করে।
তার ভেতর থেকে বের করে একটি হীরার রিং।
ভীর ধীরে ধীরে ইশায়ার হাত তুলে ধরে,
তার ছোট, কোমল, কাঁপতে থাকা আঙুলে রিংটা পরিয়ে দেয়।
তারপর ইশায়ার হাতের পৃষ্ঠে চুমু খায়।
একটা দীর্ঘ, স্থির চুমু,
যেটাতে কামনা নয়,
ছিল একধরনের প্রতিশ্রুতি।

চারপাশটা তখন একেবারে রূপকথার মতো সাজানো।
আলো নরম, চারদিক হালকা কমলা ও সোনালি বাতিতে ঝলমল করছে।
দেয়ালে ফ্লাওয়ার লাইট, নরম ইনস্ট্রুমেন্টাল গানের সুর বাজছে।
সুগন্ধি মোমবাতির গন্ধ ছড়িয়ে আছে বাতাসে।
সেই পরিবেশে ইশায়া ছিল এক রাজ্যহারা রানি,
আর ভীর ছিল রাজা।
একজন গার্ড এসে একটা কেক এনে রুমে রেখে তারপর আবার বেরিয়ে যায়।
কালো আর সোনালি রঙের ছোঁয়ায় সাজানো সেই কেক যেন কোনো রাজকীয় উদযাপনের প্রতীক। কেকের উপর লেখা,

For the Queen of My Darkness.
রুমে মোহময় আলো, নরম সংগীত, আর সুগন্ধি ফুলে ভরা এক স্নিগ্ধ পরিবেশ। ভীর নিজ হাতে কেকের পাশ থেকে একটি চকচকে ছুরি তুলে নেয়। তার চোখে যেন একধরনের উদ্দাম প্রশান্তি।
ভীর ইশায়ার হাত ধরে টেনে তাকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই নিজের উরুর ওপর বসিয়ে নেয়
জোরে না, তবে এমন এক দখলদারি আদরে, যাতে স্পষ্ট তার নিয়ন্ত্রণ।
কেকটা কাটো, ভীর গম্ভীর কণ্ঠে বলে।
___ইশায়া ভীতভাবে তাকিয়ে থাকে, তার কাঁপা কাঁপা হাত ধরে ভীর ছুরিটা তার হাতে দেয়।
ভীর নিজেই তার হাত দিয়ে ইশায়ার হাত ধরে কেক কাটে।
তারপর এক টুকরো কেক তুলে দেয় ইশায়ার মুখে, তারপর ইশায়ার হাত দিয়েই ধরে একটুকরো কেক নিজের মুখে নেয়।
তীব্র চোখে চেয়ে থাকে সে ইশায়ার দিকে, যেন কেকের মিষ্টতা থেকেও বেশি উপভোগ করছে ইশায়ার ভীত ও নিঃস্ব মুখ।
হঠাৎ ইশায়ার পিঠে ঠোঁট ছোঁয়ায় ভীর। নরম স্পর্শ, কিন্তু ভিতরে চাপা আগুন।
তার ঠোঁট নেমে আসে ইশায়ার ঘাড়ে।
একটু শুকনো আদর কিন্তু সেই আদরের মধ্যে যে ছায়া, তা ভয়, দখল আর একধরনের বিকৃত ভালবাসায় ভরা।

___আজ তোর দিন, গলার নিচু স্বরে ভীর বলে, তুই যা চাইবি, আমি দিবো। বল,
কি চাই?
ইশায়া চুপ। নিঃশব্দ। ঠোঁট কাঁপে, মনে পড়ে যায় সব।
পেছনে ফেলে আসা মানুষগুলো মা, বাবা, ভাইয়েরা।
গত বছরের জন্মদিন, যখন সে ছিল নিজের বাড়িতে, পরিবারের মাঝে।
সেই মুহূর্তের কথা ভাবতেই তার হৃদয় ফেটে যাচ্ছে।
___সাহস নিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলে,
আমার কিছু চাই না,
যদি পারেন শুধু একবার, একবার আমার বাবা, মাকে দেখান।একটাবার আমি ওদেরকে দেখব।
এক নিঃস্তব্ধতা নেমে আসে। ভীর চুপ।
ইশায়া জানে, এই অনুরোধ মানা হবে না। এই পাষান লোক কখনোই তার কথা মানবে না।
তবুও সে নিজের বুকের কথাটা ফিসফিস করে বলে ফেলে।
ভীর শক্ত গলায় বলে,
ভবিষ্যতে এমন কিছু আর কখনো চাইবি না। এটাই প্রথম, আর এটাই শেষ। আর যদি তোর চোখ থেকে একফোঁটা জল পড়ে খবর আছে।

তারপর রিমোট টিপে দেয় ভীর। মুহূর্তেই স্ক্রিনে ফুটে ওঠে এক লাইভ ফিড।
সেখানে তার মা-বাবা, ভাই, সাফার পরিবার সবাইকে দেখা যাচ্ছে।
আজকের ঘটা সব ঘটনা,বাবা মার কান্না ভাইদের দৌড়াদৌড়ি, সবকিছুই দেখে সে।
ইশায়া উঠে দাঁড়ায়, স্ক্রিনের সামনে এগিয়ে যায়।
মাকে দেখে, বাবাকে দেখে, ভাইকে দেখে কান্না ধরে রাখতে পারে না।
আলতো করে স্ক্রিন ছুঁয়ে দেয়, যেন তাদের স্পর্শ করছে। চোখ জলে ভিজে যায়।
বাবার বলা কথা শুনে।
ছোট্ট বাচ্চাটাকেও দেখে।
একসাথে সবকিছু মনের মধ্যে ধরে রাখছে আর যে দেখা হবে না।
কিছুক্ষণ পর ভীর রিমোট দিয়ে স্ক্রিন অফ করে দেয়।
তারপর চিড়বিড়িয়ে বলে,

___ কান্না থামা, তোর এই নাটক আমার পছন্দ না,
এসব মেলো ড্রামা ভালো লাগে না আমার,
খানিকটা চেচিয়েই বলে ভীর।
কারোর জন্য যদি তোর চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি পড়ে তাহলে তাকে আমি দুনিয়া থেকে পাঠিয়ে দিব,
কঠিন স্বরে বলে ভীর।
ইশায়া নিজের কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করে।
নিজেকে সামলায়।
সে কারোর ক্ষতি চায় না।
___অনেকক্ষণ পর ভীর বলে,
তোমার জন্য আরও একটা সারপ্রাইজ আছে।
___ইশায়া অবাক চোখে তাকায় তার দিকে। এই লোক একবার তুই, আবার একবার তুমি করে ডাকে। কখনো দখলদারি, কখনো কোমলতা এই দ্বৈত আচরণ ইশায়াকে আরও বেশি অস্থির করে তোলে।
___ভীর ফোন করে একজন গার্ডকে কিছু নির্দেশ দেয়।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে একজন গার্ড ঢুকে পড়ে, হাতে একটি বিশাল গোল রঙিন বাস্কেট।
গার্ড বাস্কেটটা নামিয়ে রেখে কভার খুলতেই,
একটা সাদা পারসিয়ান বিড়াল চোখ মেলে তাকায়।
তুষারের মতো সাদা লোম, হালকা গোলাপি নাক, আর একজোড়া সবুজাভ হালকা নীল চোখ যেন জ্যোৎস্নায় ঝলমল করে। চোখে একধরনের শান্ত দৃষ্টি।

___এটা… এটা আমার? ইশায়া হঠাৎ উচ্ছ্বসিত গলায় বলে ওঠে।
____ভীর তাকিয়ে দেখে, এই প্রথম ইশায়ার গলার সুর এতটা জীবন্ত।
সে বিড়ালটা দেখে এমনভাবে কথা বলছে যেন এতদিনের বন্দিত্ব, কষ্ট, কান্না ভুলে গেছে।
ভীর ঠান্ডা কণ্ঠে বলে,
__হুমম, তোমার।
___আমি ওকে নিজের কাছে রাখতে পারবো?
ইশায়ার গলায় একটা শিশুতোষ আকুতি।
___পারবে।
এই আনন্দে ইশায়া এক মুহূর্তে ভুলে যায় সে কার সঙ্গে কথা বলছে। সে বিড়ালের দিকে এগিয়ে যেতে নেয়। কিন্তু,
ভীর হঠাৎ তার বাহু ধরে হেচকা টানে তাকে নিজের দিকে টেনে আনে।
ইশায়া ভীরের বুকে ধাক্কা খায়,
ভীর ইশায়ার দিকে ঝুকে তার ঠোঁটে গভীরভাবে চুমু আঁকে, ঠোঁটের ভাজে তীব্র কামনা নিয়ে প্রবেশ করে।
এক হাত চলে যায় ইশায়ার শাড়ির নিচে, নগ্ন উন্মুক্ত ত্বকে।

ঠোঁটের চুমু আরও গভীর হয়,গাঢ় হয়।
ভীরের বেশামাল আচরণ সামলাতে ইশায়া দিশেহারা।
তারপরে আচমকাই ঠোঁটে কামড় বসায় ভীর।
ব্যথায় ইশায়া ভীরের গলায় খামচে ধরে।
শ্বাস আটকে আসছে তার।ভীর ইশায়ার হাত সরায় তার অপর হাতে।
মিনিট পাচেক পর ভীর ধীরে ধীরে দূরে সরে আসে, ঠোঁটে একপ্রকার পৈশাচিক তৃপ্তি।
তারপর তার দুই হাতে ইশায়ার মুখ মুঠোয় নিয়ে বলে,
তুই যা চাইবি, তার আগেই পাবি।
আমার রাজ্যে কখনো তোর কোন কিছুরই কমতি হবে না।
চাওয়ার আগে সবকিছু তোর পায়ের কাছে হাজির হবে।
কিন্তু আমার একটাই কথা, আমার বাধ্য হয়ে চলতে হবে আজীবন।
তাহলেই তুই হবি আমার রাজত্বের রানী। আর আমার কথা অমান্য করলে কী হয় জানিস-ই তো ভালো করে।

__আর একটা কথা মনে রাখিস,
চোখে আগুন নিয়ে বলে ভীর,
নিকোর সাথে বেয়াদবি করলে আমি সহ্য করবো না।
সেদিন যেটা হয়েছে এটা যদি ভবিষ্যতে আর কোনদিনও রিপিট হয় তাহলে এর পরিণতি খুব ভয়ঙ্কর হবে।
___তুই আমার, তোর চোখ তোর মুখ তোর হাসি সব কিছুর উপর আমার অধিকার।
স্বাধীনতা দিচ্ছি, ফ্রিডম পাচ্ছিস, কিন্তু আমাকে ঠকালে…।
আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করিস না।
একটু থেমে বলে,
আমাকে যেতে হবে, কখন ফিরব জানি না।
বায়। টেক কেয়ার।

এই বলে ভীর বেরিয়ে যায়, দরজা বন্ধ হয়।
ইশায়া স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তার কথাগুলো মাথায় গেঁথে গেছে।
সে কাঁপা কাঁপা হাতে সেই ছোট্ট বিড়ালটাকে কোলে তুলে নেয়।
তাকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে।
তবু যেন কিছুটা শান্তি মেলে এই প্রাণীটিকে ছুঁয়ে।
এভাবেই চলতে থাকে,
ভীর আবার ও ডুবে যায় নিজের চেনা জগতে অ*স্ত্র, র*ক্ত আর ষড়যন্ত্রে মোড়া সেই অন্ধকার দুনিয়ায়।
ইশায়াকে ঘিরে তার পাগলামি থেমে নেই, কিন্তু পাশাপাশি সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার পরবর্তী মিশনের প্রস্তুতিতে।
এই মিশন আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৩

তার পরবর্তী টার্গেট এক শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র, যাদের শিকড় ছড়িয়ে আছে আফ্রিকার এক অজানা দেশে।
ভীর জানে, এই যুদ্ধে ভুলের জায়গা নেই। তাই এখন তার প্রতিটি মুহূর্তই পরিকল্পনা, প্রস্তুতি আর নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে পূর্ণ।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৫