Home সে আমার বন্দিনী সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫০

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫০
তানিয়া হুসাইন

ভীরের বাড়ি পেরিয়ে সোমব্রা ও লোবো নিচু হয়ে মাটি শুঁকছে। তাদের সাদা দাঁত বেরিয়ে আছে, জিভ ঝুলে পড়েছে ঘ্রাণের ধারায় ধীরে ধীরে পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। ইশায়ার শরীরের গন্ধ, তার পায়ের ধুলা, জামা, চুল কিছুই বাদ পড়েনি।
লোবো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ ঘ্রাণ নিচ্ছে, হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে ডানদিকে তাকায়, সামব্রো ও একই কাজ করে, তারা বুঝে গেছে এই দিকেই গিয়েছে।
তারপর শুরু হয় একেবারে নিঃশব্দ কিন্তু রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া।
এই কুকুরদুটোকে অনুসরণ করছে ভীরের গাড়ির বহর। অন্তত ১৭/১৮ টা এসইউভি, মাটির ধুলা উড়িয়ে পাহাড়ি রাস্তায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

ভীর সামনে বসে আছে, চোখে তীব্র এক দাহ,
কিন্তু ভিতরে ভিতরে পুড়ছে ভয়।
ভয়ের কারন এটাই ইশায়া কোন শত্রু পক্ষের হাতে পড়েনি তো।
কারন বেঁচে থাকলে ও কোনমতেই তার থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবেনা, যে করেই হোক সে ঠিক-ই খুঁজে বের করবে।
কিন্তু এই দুঃসাহসের ফল তোকে ঠিকই ভোগ করতে হবে।
ভীরের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, তার চোখে এখন রক্ত, রাগ আর ভয় একসাথে।
ড্রাইভার একটু ধীরে চালাতে গেলেই গর্জে ওঠে সে,
চালাও! যত জোরে পারো চালাও! লোবো কে ফলো করো,

অন্যদিকে, টিয়াগো ইশায়ার পাশে দাঁড়িয়ে তার চোখে চোখ রাখে।
তার কণ্ঠ নিচু, তাড়াহুড়ো নেই, কিন্তু গম্ভীর।
আপনি এখন যান,এই রাস্তা ধরে তিন কিলোমিটার গেলে একটা পুরাতন বাঁশবাগান পড়বে, ওখান পর্যন্তই আপনাকে যেতে হবে।
ইশায়া সবকিছু ভালোভাবে বুঝে নিচ্ছে।
সে কখনো একা কোথাও যায়নি।
আর এতদিন এত মাস ধরে তো এখানেই বন্দী জীবন পার করছে।
সে কিভাবে যাবে জানে না কিন্তু সে এটা জানে যে তাকে যে করেই হোক যেতে হবেই।
এখানের কাউকে সাহস করে বলতে পারতেছে না যে তাকে একটু নিয়ে যেতে,
কারন সে চায় না তার জন্য অন্য কারো জীবন বিপদের সম্মুখীন হোক।
আর কেউ তার জন্য প্রাণ হারাক সে চায়না।
টিয়াগো আবারো বলে,
সেখানে গার্ড খুব একটা থাকে না। আপনি সাহস রাখবেন ওইখান থেকেই সীমান্ত পার হতে পারবেন।
তারপর আমি যেভাবে যেভাবে বলে দিয়েছি সেভাবেই যাবেন।
ইশায়ার ঠোঁট কাঁপে, সে নিঃশব্দে মাথা নাড়ে।
তার চোখে জল, কিন্তু এখন আর কান্নার সময় নেই।
সাফার কথা মনে পড়ে যায় ইশায়ার,
তোর ভয় পাবার সময় নাই, মনে রাখিস, তুই বাঁচতে চলেছিস।
এটা তোর শেষ সুযোগ, ভুল করলে শেষ হয়ে যাবি।

____ডেলমা চুপ।
যখন থেকে ইশায়ার সব কথা শুনেছে, ওর সম্পর্কে সব কিছু জেনেছে তখন থেকে তিনি একেবারে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন।
এই মেয়েকে রাখলে যে তারা বিপদে পড়বেন সেটা সে ভালো করেই জানেন।
বিবেককে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের জীবন বাঁচানো টাকেই আগে রেখেছেন তিনি,তাই ছেলে যা কিছু বলছে সেই অনুযায়ী তিনি চুপ আছেন, তিনি কিছু বলছেন না।
___কিন্তু মেয়েটার শুকনো মুখ দেখে তার একটু মায়া হয়,মায়ের মতো তার হাতে একটা ছোট বাটিতে খাবার এগিয়ে দেয়।
কিছু মুখে দে মা, কতটা পথ সামনে।
সাহস রাখিস,
কথাটা শেষ করতে পারে না ডেলমা। চোখটা শুধু নরম হয়ে যায়।
ইশায়া হালকা হাসে।
তবে সেই হাসির মধ্যে ভয়, লজ্জা, কৃতজ্ঞতা সব মিলেমিশে এক গভীর অনুভব।
না আন্টি, খাবো না। আপনারা আমার জন্য যা করেছেন আমি কোনদিন ভুলবো না।
আমার জন্য শুধু একটু দোয়া করবেন।
আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন আমি যেন আমার মা-বাবার কাছে পৌঁছাতে পারি।
ডেলমার ঠোঁট কাঁপে, গলা ভিজে আসে।
টিয়াগো কিছু বলে না সে বারবার বাইরে উঁকি দিচ্ছে।
ইশায়াকে তারা দিয়ে বলে,

দ্রুত করুন।
ইশায়া একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেয়।
তার শরীর কাঁপছে, কিন্তু পা থামে না।
এক বুক সাহস আর একখণ্ড স্বপ্ন নিয়ে,
আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে সে হাঁটতে শুরু করে সেই অজানা পথের দিকে।
ডেলমা তাকে একটা কালো জামা দিয়েছে,এইটা তাদের এখানকার জামা,
রাস্তায় বা বাইরে কোন গার্ড দেখলে যাতে মনে করে এখানকারই কোন মেয়ে, ইশায়া নিজেকে আপাদমস্তক ঢেকে দ্রুত হাঁটছে।
তার পা পর্যন্ত কাঁপছে, এই ভয়ে যে কখন কে দেখে ফেলে।
বাইরে কোন মানুষ দেখলেই গাছের আড়ালে, ঝোপ ঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে পড়ছে।
টিয়াগো দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।
ইশায়া হাঁপাচ্ছে, কিন্তু থামছে না। তার সারা শরীর কাঁপছে, কিন্তু ভেতরের একটা অদ্ভুত সাহস ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সামনের দিকে।

টিয়াগো গভীর একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে। বুকের উপর জমে থাকা অদৃশ্য চাপটা একটু হালকা হয়েছে।তার উপর থেকে বিপদ নেমেছে এজন্যই সন্তুষ্ট সে।
তার চোখে এখন আতঙ্কের কোনো রেখা নেই। ইশায়া চলে গেছে,হ্যাঁ, কিন্তু সেটা এখন আর তার মাথাব্যথা নয়।
এখন সে ওদের হাতে পড়ুক আর না হয় মরে যাক তার কিছু যায় আসে না, তার দায় শেষ। আমি এখন মুক্ত বলেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয় টিয়াগো।
তার দৃষ্টিতে ইশায়া ছিল একটা বিপজ্জনক বোঝা, একটা বোমা যা কখন ফেটে পড়ে বলা যায় না।
এখন সেই বোমা তার কাঁধ থেকে নেমে গেছে, সে নিশ্চিন্ত।
তার চোখে চকচক করছে নতুন লোভের আগুন।
ঘরে থাকা দামী চুড়ি, গয়না, সব দেখে সে হাসে মনে মনে,
এই জিনিসগুলো দিয়েই আমি রাজত্ব গড়ব। নতুন জীবন শুরু করব। নতুন পরিচয়ে, নতুন শহরে।
তবে সবার মন তো পাথর না,
ডেলমার দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।
তার মুখে চিন্তার ছায়া, চোখে একটা নিরবে খচখচে যন্ত্রণা।
মেয়েটা ঠিকভাবে যেতে পারবে তো এই ভয়টাই হচ্ছে তার ।
ডেলমার তার জন্য মন থেকে দোয়া করে
সে যেন তার বাবা মায়ের কাছে পৌঁছাতে পারে। অন্তত এইটুকু শান্তি যেন সে পায়।
মেয়েটাকে দেখে তার বড্ড মায়া হয়েছে, ওইটুকুন একটা ফুলের মত সুন্দর মেয়েটার জীবন কিভাবে এলোমেলো হয়ে গেল।

এদিকে অন্যপাশে,
গভীর অরণ্য ঘেরা নিঃস্তব্ধ গ্রাম। গায়ে ধোঁয়া জড়ানো সেই নির্জনতার বুক চিরে হঠাৎ করেই কুকুরদের ডাকে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় শান্তি।
লোবো ও সামব্রো ভীরের প্রশিক্ষিত ও নিষ্ঠুর ট্র্যাকিং কুকুর, হঠাৎ করেই গন্ধ পায়।
গন্ধটা পরিচিত, অথচ সঠিক সূত্রে না আসা পর্যন্ত সে থামে না।
ওদের ফলো করে গাড়ির বহর গ্রামের গভীরে প্রবেশ করে।
নিকো আর ডিয়েগো একে অপরের দিকে তাকায় বিস্ময়ে।
এই গ্রামটা তো আজ সকালেই চেক করা হয়েছে।
তারা পুরো গ্রাম ছিন্ন ভিন্ন করে তল্লাশি চালিয়েছে।
ডিয়েগোর কণ্ঠে অবিশ্বাস।
ভীর তখনই মাথা বের করে গাড়ির ছাদের জানালা থেকে দাঁড়ায়।
চারদিক বিশ্লেষণ করে নেয়,
তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে নিকোকে বলে শীতল কণ্ঠে,
এই জায়গা চেক হয়নি।
নিকো গলা নিচু করে বলে,

চেক করা হয়েছিল, ব্রো।
ভীর তখন আর কথা বলে না,
শুধু দম বন্ধ করে, চোয়াল শক্ত করে সামনে তাকায়।
তার চোখে তখন অগ্নিকুণ্ডের মতো জ্বলছে ধৈর্যের শেষ সীমানায় সে।
ভেতরে দপ দপ করে আগুন জ্বলছে
আর তখনই,
লোবো টিয়াগোর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই কাঁপিয়ে তোলে নিস্তব্ধতা।
বাইরের নীরব বাতাস ছিঁড়ে তার ঘেউ ঘেউ শব্দ গ্রাম জুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
ভীর গাড়ি থেকে নেমে আসে।
তার পেছনে পেছনে নামতে থাকে গার্ডদের বিশাল বহর।
শীতল চোখে সে তাকায় সামনের ঘরের দিকে।
গাড়ির দরজা এক এক করে খুলছে। সশস্ত্র মানুষ নেমে আসছে, তাদের মুখে কোনো কথা নেই শুধু প্রস্তুতি, হত্যা আর আদেশ পালনের আগুন।

___লোবো জানে এখানে কিছু একটা আছে। এমন কিছু যার গন্ধ সে অস্বীকার করতে পারছে না।
সোমব্রা আর লোবো অনবরত ঘেউ ঘেউ করে যাচ্ছে।
ভীরের চোখে তখন আগুন। পাশে সশস্ত্র গার্ডদের দল। সবার হাতে রা*ইফেল, কোমরে পিস্তল একেকজন যেন নিজেই একেকটা যুদ্ধযন্ত্র।
নিকো দরজায় জোরে জোরে করাঘাত করতে শুরু করে।
ভীরের চোখ যেন ছলকে পড়া আগুন ইশায়াকে হারানোর আশঙ্কায় মুখ থমথমে, শরীরের রগ ফুলে উঠেছে।
টিয়াগোর বাড়ির দরজায় শুরু হয় প্রবল করাঘাত।
ধাক্কাধাক্কিতে দরজাটা কেঁপে ওঠে।
ভেতর থেকে টিয়াগো চমকে ওঠে।
কী হচ্ছে, এমন শব্দ! এতো মানুষের গলা।
ডেলমা দৌড়ে আসে।
তার শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে ভয়ে। চোখ বিস্ফোরিত। মুখে আতঙ্ক।
টিয়াগো ঠকঠক করে কাঁপছে, তার হাত পা অবশ, মুখ ফ্যাকাসে।
বাইরের গলা শোনা যাচ্ছে অস্পষ্টভাবে,
টিয়াগো দরজার কাছে আসে শুনতে, কিন্তু গলার আওয়াজ শুনে ছিটকে পিছিয়ে যায়।
সে ফিসফিসিয়ে ডেলমাকে বলে,

মা.. ওরা… ওরা মাফিয়া,
ওরা হয়তো সব জেনে গেছে। মা, আমরা মরবো। আমাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না।ওরা মেরে ফেলবে আমাদের।
ডেলমা কাঁপা গলায় বলে,
না না, এমন কিছু হবে না। দরজা খোলিস না।
কিন্তু তখনই গর্জে ওঠে ভীরের ভয়াল কণ্ঠ,
দরজা ভাঙো ! সময় নষ্ট করো না।
একদল গার্ড লোহার রড নিয়ে দরজায় সজোরে আঘাত করতে শুরু করে।
টিয়াগো জানে এভাবে সে বাঁচবে না। এখন পালিয়ে যাওয়ার ও অবকাশ নেই। ভিতরে ঢুকলে কী হবে সে জানে না, কিন্তু দরজা না খুললে ওরা হয়তো পুরো বাড়ি উড়িয়ে দেবে।
এখানে তো ওরা এই মেয়েকে পাবেনা,কিছু একটা বলে বুঝিয়ে দেবে এই ভেবে,
টিয়াগো কাঁপতে থাকা হাতে দরজা খুলে দেয়।
আর সাথে সাথেই নিকো ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সে টিয়াগোকে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে,
রিভলভার তাক করে ধরে টিয়াগোর কপালে।
ডেলমা দৌড়ে আসে।

নিকোর সামনে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে হাত জোড় করে বলে,
ওকে ছেড়ে দিন প্লিজ।ও কিছু জানে না, ও কিছু করেনি।আপনারা কারা।
ভীর ভিতরে ঢোকে।
রাগে জ্বলছে তার চোখ।
সারা ঘর জুড়ে বাজপাখির মতো চোখ ঘোরায় সে।
ইশায়া কোথায়? তার চোখের ভাষা বলে দিচ্ছে সে কাউকে ছাড়বে না।
তার থেকে যারা তার বউকে দূরে রেখেছে তাদের প্রত্যেকের অস্তিত্ব সে শেষ করবে। গত ৩২ ঘন্টা নির্ঘুম না খাওয়া প্রত্যেকটা মুহূর্তের সুদ তুলবে সে।
গার্ডরা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়ি জুড়ে।
একদল ছাদে যায়, একদল ঘর ঘর করে তল্লাশি চালায়।
লোবো সোজা এগিয়ে আসে ভেতরে। ঘ্রাণ নিতে নিতে সে চলে আসে একটা রুমে।
সেখানে পড়ে থাকা চাঁদরের কাছে গিয়ে সে ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে।
চাঁদর শুকতে থাকে, তার গলা থেকে বের হয় এক অদ্ভুত সুর ভীতিকর এক নিশ্চিত বার্তা।
ভীর এগিয়ে গিয়ে চাঁদরটা তুলে নেয়।
চোখ জুড়ে গা ছমছমে এক কুয়াশা জমে যায় তার।
সে চাঁদরটা শক্ত করে ধরে।
চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলে,

____where are you my little heart?
Is your game finally over?
You think you can escape me? No, darling.
Not in this life. Not even in death.
You are mine always were, always will be.
নিকো ক্ষুব্ধ হয়ে টিয়াগোকে এক ঘুষি মারে।
ইশায়া কোথায়? বল! কোথায় ও?
আরেকটা ঘুষি।
টিয়াগোর ঠোঁট কেটে রক্ত পড়ে ।
টিয়াগো বলে,
আমি,আমি জানি না,আমি সত্যি জানি না ও কোথায় গেছে আমি জানি না।
এদিকে সোমব্রা গিয়ে একটা ড্রয়ারের কাছে গিয়ে আবারো শব্দ করে ডাকে।
বাড়ির ভিতরে থমথমে নিস্তব্ধতার মাঝে হঠাৎ কুকুরটির গম্ভীর গলায় একটা দীর্ঘ ডাক ওঠে। সে একটা নির্দিষ্ট ড্রয়ারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় বারবার থাবা দিয়ে খুঁচাতে থাকে কাঠের গায়ে। যেন সে জানে, এই ড্রয়ারেই কিছু আছে।

একটা গার্ড গিয়ে ড্রয়ারটা খুলে, ড্রয়ার থেকে বেরিয়ে আসে ইশায়ার চুরি আর গলার পেন্ডেন্ট টা।
ভীর হাতে নেয় দুটো, এগুলো তার দেওয়া, তার পরিয়ে দেওয়া উপহার।
ভীর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে নেয় চুড়ি আর পেন্ডেন্টটা। তার চোখে এক অদ্ভুত ঝলক কঠিন চোখজোড়া কাঁপে। এগুলো সে নিজ হাতে দিয়েছিল। তার নিজের নামে, তার নিজের অস্তিত্বে ইশায়াকে বেঁধে রাখার প্রতীক ছিল এই উপহারগুলো। এখন ওগুলো পড়ে আছে এইভাবে একা, পরিত্যক্ত। তার চোখ জ্বলতে শুরু করে, রাগে।
এর মাঝে গার্ডরা পুরো বাড়ি চেক করে এসে বলে,
বস কোথাও নেই আমরা সব জায়গা চেক করেছি।
কুকুর গুলো ও এখন লেজ নাড়িয়ে বসে আছে।
আরেক দল গার্ড তড়িঘড়ি করে ছুটে এসে বলে,

বস, আমরা পুরো বাড়ি চেক করেছি। বেসমেন্ট, ছাদ, ঘড়, লকার রুম সব। কোথাও নেই।
এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে ভীরের চোখের পেশি কেঁপে ওঠে। চোয়াল শক্ত হয়। ঠোঁট দুটো একরকম কামড়ে ধরে যেন দম আটকানোর চেষ্টা করছে রাগ চেপে রাখতে।
ভীর বুঝে ইশায়া এখানে নেই।
ভীরের মনে এক মুহূর্তে বিদ্যুতের মতো ঝলসে ওঠে বাস্তবতা। তার বুকের ভিতরটা খালি হয়ে যায়।তার চোখ দুটো ফাঁকা হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য, তারপর আবার আগুনের মতো জ্বলতে থাকে।
ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে সে রাগে।
ভীর টিয়াগোর কাছে যায় বলে,
কোথায় সে?

যার কাছ থেকে এগুলো পেয়েছিস?
হাতের জিনিসগুলো দেখিয়ে,
তার কণ্ঠে এমন এক উন্মাদনা, যা সহ্য করার মতো না।
টিয়াগো আমতা আমতা করে বলে,
আমি জানিনা।
টিয়াগো পিছিয়ে যায়। তার মুখে আতঙ্ক ছাপিয়ে ওঠে। কাঁপা গলায় বলে,
আমি,আমি সত্যি জানি না। আমি এগুলো কুড়িয়ে পেয়েছি,আমি জানি না এগুলো কার।
ভীর রাগে হাতের মধ্যে থাকা রিভ*লবার টা দিয়ে টিয়াগোর মাথায় আঘাত করে।
টিয়াগোর মাথা থেকে রক্ত বেরিয়ে আসে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৯

সে মাটিতে পরে যায়।
ভীর রাগে এক দৃষ্টি ছুঁড়ে দেয় পাশে দাঁড়ানো গার্ডদের দিকে। আর কথা বলার প্রয়োজন হয় না শুধু চোখই যথেষ্ট।
গার্ডরা তেড়ে যায় টিয়াগোর দিকে। লাথি, ঘুষি, ব*ন্দুকের বাট সব দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে।
টিয়াগো ছটফট করতে থাকে নিচে পড়ে।
ডেলমা চিৎকার করে এগিয়ে আসে,হাত জোর করে বলে,
বুকফাটা চিৎকার,
___ আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও, ও কিছু করেনি, ও শুধু… ও শুধু…
তার কণ্ঠ গলায় কেঁপে ওঠে কান্নায় টান পড়ে।

সে আমার বন্দিনী পর্ব ৫১