সে আমার সন্ধ্যাপ্রদীপ পর্ব ৩৭ (২)
নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
খোরশেদুলকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। কে বা কারা মেরেছে কিচ্ছু জানা না গেলেও কেস পুলিশের আওতাধীনে এখন। তারা নিজেদের মতো হাসপাতালে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে গেলেন। সরকারি অফিস ভবনের সামনে একজন লোককে দিন-দুপুরে মেরে মানুষ হাসপাতালে পাঠাল, এসব তো ভালো কথা নয়! জান-মালের নিরাপত্তার প্রশ্ন৷
খোরশেদুল মারাত্মক আহত হয়েছেন। বাম হাতের রেডিয়াস ভেঙে গলায় ঝুলেছে। সাড়তে কমসে কম মাস চারেক তো লাগবেই। হঠাৎ কোত্থেকে কী ঘটে গেল ভদ্রলোক নিজেও বুঝতে পারছেন না!
তাঁর তো কারো সাথে বিরোধও নেই। আর না আছে লড়াই। হ্যাঁ, মামুন শাহ ভেতর ভেতর ছাই চাপা আগুনের মতো ফুঁসছেন। আজ দু মাস যাবত বাসার ভাড়া তুলছেন না তিনি। কেন,কী জন্য কিচ্ছু বলছেও না। খোরশেদ দিতে গেলেও,জোর করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এতে তো ওনার কোনও হাত নেই।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তবে খোরশেদের ধারণা,সেই যে বিট্টু মাস্তান হুমকি দিয়ে গেল,সেজন্যেই এমন করছে! আচ্ছা,কী ভাবছেন মামুন শাহ? বিট্টুকে তিনিই ভাড়া করে এনেছেন? তারপর ভাড়া থেকে বাঁচতে নাটক সাজিয়েছেন এভাবে? সেই রাগ থেকেই লোক দিয়ে মার খাওয়াননি তো! যারা এসেছিল,ওদের তো ভাড়াটে গুণ্ডাই লেগেছে।
যেমন ফুলকি তোলা বহ্নির মতোন হঠাৎ চিন্তাটা এসেছিল মাথায়,অমন করেই নিভে গেল আবার।
না না,তা কী করে হয়! ভদ্রলোক যেমন তেমন হলেও, নিশ্চয়ই এতোটা নিচে নামবেন না। কিন্তু প্রশ্ন তো রয়েই যাচ্ছে, ছেলে গুলোকে খোরশেদ এর আগে কোনওদিন দেখেননি। তাহলে হুট করে কারো কথা ছাড়া,কোনও কারণ ছাড়া ওনাকে এভাবে প্রহার করবে কেন? সব থেকে বেশি রাগ ঝেড়েছে হাতের ওপর। খোরশেদ যেন এই হাত দিয়ে পাপের রাজত্ব বানিয়েছিল,এমন ভাবে মেরেছে।
ভাগ্যিস! সময় মতো ওখানে পুলিশের টইল এসেছিল,নাহলে তো!
প্রহৃত খোরশেদ এক টুকরো পোড়া শ্বাস ফেললেন। বিষণ্ণ চোখে চাইলেন গলায় ঝোলানো হাতের পানে। সালমা বেগমের এতো কষ্ট হলো তাতে! পুষ্পিতা যাওয়ার পর থেকে এতদিন অবধি স্বামীর সঙ্গে তার নিরব দুরুত্ব ছিল। প্রয়োজন ব্যাতীত একটা বাড়তি কথাও বলতেন না। কিন্তু স্বামী তো! ভালোবাসেন।
খোরশেদের এই ব্যথিত চাউনীই সালমার বুক মুচড়ে আনে। মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“ চা খাবে, করে দেব?”
খোরশেদের ধ্যান ছুটে গেল। মাথা নাড়লেন উত্তরে।
সালমা পাশে বসে বললেন,
“ এতো কী ভাবছো? হাত ভেঙেছে বলে কষ্ট হচ্ছে?”
“ হবে না? এই ভাঙা হাত নিয়ে এখন কাজ করব কীভাবে? ছ মাসের জন্য এক রকম পঙ্গু হয়ে গেলাম।”
খোরশেদের কথায় মনঃস্তাপ।
সালমা বললেন,
“ এসব উল্টোপাল্টা কথা ভেবো না তো। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন যে বিপদ হাতের ওপর থেকে গেল। যদি এর থেকেও ভয়ানক কিছু হোতো,তখন?”
খোরশেদের মুখের আঁধার কাটল না। বিড়বিড় করলেন দুঃখ নিয়ে,
“ কারা যে করল এরকম! আমি তো কারোর কোনও ক্ষতিই করিনি।”
সালমার মনে একটা নতুন সন্দেহের উদয় হয়েছিল। খোরশেদুল মন্ত্রনালয়ে চাকরিরত। ফাইল পাশের ছুঁতোয় ঘুষ নেয় প্রায়ই। ভদ্রমহিলার এসব ভালো লাগে না। আরেকজনের রক্ত পানি করা রোজগার এমন অনৈতিক ভাবে হাতাতে হবে কেন? তাছাড়া এসব ঘুষ-টুস তো ইসলামেও হারাম। এ নিয়ে চাকরির পর থেকেই সালমা হাজারবার বুঝিয়েছেন। আর প্রতিবার খোরশেদ সংসারের দায়িত্বের একটা বিশাল ফর্দো তার হাতে তুলে দিতেন। সালমার কেন যেন মনে হলো,
অমন কেউ কাজটা করেছে কী না! হয়ত খোরশেদের অন্যায় আবদারে রেগে গিয়েই…
কিন্তু প্রসঙ্গটা নিয়ে হাঁ করলেন না তিনি। মানুষটার এমনিতেই মন খারাপ। এসব বললে আরো কষ্ট পাবে।
নীরবতার সুতো কেটে বললেন,
“ তুমি বোসো! আমি কিছু খাবার নিয়ে আসছি।”
“ এখন খাব না। ভালো লাগছে না কিছু।”
“ তা বললে চলে? ওষুধের সময় হয়েছে৷ একটু বসো।”
সালমা রান্নাঘরের পথ ধরলেন। খোরশেদ তখন হতাশ চিত্তে শোবার ঘরের বিছানায় বসে। আচমকা কলিংবেল বাজল। খাটের এই কোণায় বসলে সদর দরজাটা দেখা যায়। ওইভাবেই চেয়ে রইলেন খোরশেদুল। ভর দুপুর বেলা কে এলো এখন! গ্রামে তো তিনি খবর দিতে মানা করেছিলেন। আব্বা-আম্মা বয়ষ্ক মানুষ। শুনলে কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে থাকবে। খোরশেদ অপেক্ষায় রইলেন দরজা খোলার। উঠে যে ওই অবধি যাবেন,এক ফোঁটা শক্তি নেই শরীরে। সমস্ত হাড়েমজ্জায় টনটনে ব্যথা!
ফের কলিংবেল বাজতেই রান্নাঘর থেকে হাঁক ছুড়লেন সালমা,
“ রাহাত,দরজাটা খোলো।”
ছেলেটা ওয়াশরুমে ছিল। বেরিয়ে এলো ত্রস্ত গতিতে। অমন করেই উড়ে গেল দরজায়।
ভাগ্য ভালো একদম ওপরের ছিটকিনি কেউ তোলেনি। নাহলে তো হাতেই পেতো না রাহাত। নিচের ছিটকিনিটাই টেনে সরাল সে।
দোর খুলে ওপাশের মুখটা দেখেই স্তব্ধ হলো পরপর। অবাক হয়ে বলল,
“ আপু!”
মিথিলা হাওয়ার বেগে এসেই জাপটে ধরল ওকে। হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে বলল,
“ আমার ভাই,কেমন আছিস তুই? কতদিন পর দেখলাম! আমার ভাই।”
মিথিলা কান্নাকাটি আর জড়িয়ে ধরায় থেমে ছিল না। রাহাতের ফোলা মুখটা দুহাতে নিয়ে অসং্খ্য চুমু খেল। কিশোর তখনও হতবাক চেয়ে। বোনের চটচটে অশ্রুতে চেহারা ভিজে গেছে।
ঘর থেকেই মেয়েকে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছেন খোরশেদ। স্তম্ভিত চ্যাঁচালেন,
“ মিথিলা,মিথিলা এসেছে?”
ঘড়িতে তখন বারোটা ছুঁইছুঁই ভাব। জীবনে প্রথমবার এত্ত বেলা করে ঘুমিয়েছে পুষ্পিতা। ঘুমোবে না? কাল সারা রাত তো তন্দ্রার ছিঁটেফোঁটাও চোখে ছিল না। ইদানীং ওর সাথে প্রায়ই এমন হচ্ছে। রাতে ঘুম হয় না। মাথার কোষগুলোও তীব্রর জন্যে ছটফটিয়ে বেড়ায়।
আজকের সকালও প্রতিদিনকার মতো। বাইরে কড়া রোদ। অন্যান্য দিনের সেই সহজ,সুন্দর নির্মল হাওয়া বইছে। তবে এসব সৌন্দর্যে পুষ্পিতার কিছু যায় এলো না। তার বুকের ভেতরটা সহ দুঃখে চৌচির। যবে থেকে স্যারের প্রেমে পড়েছে ,টের পেয়েছে এই অনুভূতি?
তবে থেকেই পুষ্পিতার জীবনের সমস্ত স্বস্তি শেষ।
অবশ্য স্বস্তিটাই বা কবে ছিল? নূহাদের সাথে থাকার পর থেকে যা একটু শান্তিতে দিন কাটত, প্রকৃতির হয়ত সেটাও সহ্য হয়নি। ঠিকই স্যারের প্রেমে পড়িয়ে সব কেড়ে নিয়েছে ওর থেকে। না,প্রেম নয়। পুষ্পিতা স্যারকে ভালোবাসে। অল্প কদিনে এই ভালোবাসা এতো প্রগাঢ় হয়েছে,দিন রাত দাউদাউ করা অনলে বুক পুড়ছে তার।
আর সেই আগুনে স্যারের একেকটি কাজ হলো ঘিয়ের মতো। কাল,স্যার অমন করে ফুল হাতে দিলেন যখন? পুষ্পিতার সাজানো পৃথিবীটা আবার আউলে গেল। তারপর স্যার অত কাছে এসে গালে হাত রাখলেন….
ভাবতেই পুষ্পিতার শ্বাস আটকে আসে। স্যার কাছে এসেছিলেন কেন? কী করতে চাইছিলেন?
মেয়েটা নেতিবাচক কিছু ভাবতে চেয়েও পারল না। সুদর্শন তীব্রর পাশে কু কথাবার্তা সে বসাতে পারে না। হয়ত পারবেও না কখনও। যাকে ভালোবাসে তাকে নিয়ে খারাপ কিছু মাথায় আনা যায়?
স্যার যে চিন্তা করেই ফুল দিক, পুষ্পিতা ওই ফুল আর ফুলের মালা যত্নে রেখে দিয়েছে। শুকিয়ে চিমসে গেলেও ফেলবে না। যখন স্যার আর তনুজার বাবু হবে? ওদের দেখিয়ে বলবে, দ্যাখো তোমার বাবার আমাকে দেয়া প্রথম উপহার!
আহ,স্যার আর তনুজার বাবু! ভাবতেই পুষ্পিতার বুক মোচড় দেয়। এই জীবনে দুঃখ কী তার কম ছিল? তীব্র নামক আরেকটা দীর্ঘ দুঃখ কপালে উড়ে এলো যে!
আচ্ছা, এই বিশ্ব-ব্রক্ষ্মাণ্ডে কি তীব্র স্যার ছাড়া দ্বিতীয় পুরুষ ছিলেন না? কেন তনুজার ওনাকেই ভালোবাসতে হলো? কেনই বা পুষ্পিতা স্যারকে ভালোবাসতে গেল?
পুষ্পিতার এই যে দুনিয়া ক্ষয়ে যাওয়া অনুভূতি,বুকের মাঝে কষ্টের লম্বা কালো দাগ। এসব দূর হবে কী করে!
এই যে আজ ও ইচ্ছে করে কলেজ গেল না। কেন যায়নি,সেসব কী কেউ জানবে কখনও? স্যারের সাথে তনুজার কাল সদ্য প্রেম শুরু হয়েছে। নিশ্চিত ক্লাসে আজ অনেক চোখাচোখি হবে! তনুজা স্যারের সাথে কথা বলার,দেখার করার পাঠ চোকাতে সেই তো ওকেই টেনে নেবে সাথে। আজকে এসব সহ্য করার শক্তি পুষ্পিতার নেই।
এমনিতেও তনুজা যখনই স্যারের কথা ভেবে লজ্জা লজ্জা ভাব করতো? ওর তো প্রতিবার হৃদয় ছিঁড়ে যায়।
আর সেখানে ওদের এই নব্য নব্য প্রেম কীভাবে দেখবে মেয়েটা?
ভাবুক পুষ্পিতা হাস্যজ্বল আকাশ দেখল বিষাদ নিয়ে।
কিন্তু কদিন পালিয়ে বাঁচবে এসব থেকে? এই পরিস্থিতির মুখোমুখি এক না একদিন তো হতেই হবে।
পুষ্পিতা দীর্ঘশ্বাস গিলে নিলো। ফিরে এলো ওয়াশরুমে। উদাস চিত্তে টুথব্রাশে পেস্ট ঘষছিল যখন,আচমকা কারো পায়ের আওয়াজ এলো কানে। দরজা আটকানোর শব্দটাও পরিষ্কার। সাথে চাবির গোছার টুংটুং ধ্বনি।
পুষ্পিতা ধরেই নিলো নূহা এসেছে। কিন্তু ওর তো এখন আসার কথা নয়। একটু আগে দেখল বারোটা বাজে। নূহার পরীক্ষাই তো বারোটায়। কে এলো তবে! ঔৎস্যুক্যে ত্রস্ত ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এলো সে
গায়ে ওড়না নেই। আলুথালু চুল। ফোলা মৃগনয়নে এক চোট নিদ্রা। পরনের কামিজের দশা গোডাউনে জমে থাকা কাপড়ের মতো।
এই অবস্থায় ঘরে পা রেখেই চমকে উঠল মেয়েটা। তীব্র দাঁড়িয়ে আছে। লম্বাচওড়া পুরুষের এতোটা মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি পুষ্পিতার ছিল না। অপ্রতিভের যাতাকলে তরুণি হকচকিয়ে ওঠে। ঠোঁট ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো,
“ স্যার!”
পুষ্পিতা মস্তিষ্ক তখনও সজাগ। স্নায়ুরা বার্তা দিলো রাতারাতি,
“ ওরে মেয়ে, তোর গায়ে ওড়না নেই।”
তুরন্ত পুষ্পিতার বুকখানা ধ্বক করে ওঠে। খরখরে কাঠের মতো শুকিয়ে যায় মুখ। মাটিতে পদযুগল গ্লুয়ের মতো আটকে গেছে বোধ হয়। নাহলে নড়তে পারছে না কেন পুষ্পিতা? কিন্তু এই বিস্ময়,এই কুণ্ঠার কোনও দ্বায় তীব্র নিলো না।
লম্বা পায়ে কাছে এসে বলল,
“ এ্যাই মেয়ে,কলেজ যাওনি কেন ?”
পুষ্পিতার সব প্যাঁচ বেঁধে গেল। স্যার ঘরে কীভাবে এলেন! চাবি পেলেন কোথায়? নূহা তো লক দিয়ে গেল। সব থেকে বড়ো কথা, ওড়না ছাড়া একটা পুরুষের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সে! হায় আল্লাহ! হায় হায়!
পুষ্পিতা জবাবের থেকে পালিয়ে যাওয়াকে সহজ ভেবে নিলো। পেছনে তো ওয়াশরুম। ওটার মধ্যে গিয়ে দোর আটকে দিলেই হবে। তড়িঘড়ি করে ছুটতে নিলো সহসা।
অমনি কনুই টেনে ধরল তীব্র। পুষ্পিতার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়! তীব্র গড়গড়িয়ে প্রশ্ন ছোড়ে,
“ কী ব্যাপার, একটা প্রশ্ন করেছি আমি শোনোনি? কলেজ কেন গেলে না?”
পুষ্পিতা লজ্জায় চোখ খিচে রেখেছে। হাঁসফাঁস করে বলল,
“ ইয়ে মানে,আমি আসলে.. স্যার মানে..”
কোনও কথাই তীব্র স্পষ্ট শুনতে পেলো না। পাবে কী করে! কুণ্ঠার বেড়িতে মেয়ের কণ্ঠনালীও প্যাঁচানো।
বরং পুষ্পিতার গাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকায় আরো সন্দিহান হলো। তর্জন দিলো পুরূ কণ্ঠে,
“ কী ব্যাপার, আমি কথা বলছি তো। এদিকে তাকাও। আচ্ছা অভদ্র তো তুমি। কী হলো? তাকাও এদিকে!”
পুষ্পিতা উপায়হীন,অসহায়। তীব্র হাতে টান বসাতেই অবলার মতোন ঘুরল সে। নেত্রপল্লব চোখের শ্বেতমণ্ডলে ঢুকে যেতে চাইছে। এক প্রস্থ গুটিয়ে এসেছে শরীরটা। ওইভাবেই যেন ঢাকতে চাইছে ওড়নাবিহীন বক্ষভাগ। চিবুক ঠেকেছে গলার খাঁজে। কপাল কুঁচকে থাকা তীব্রর এতক্ষণে খেয়াল পড়ল সবেতে।
কিন্ত যতটা নেতিয়ে আছে পুষ্পিতা,তীব্রর মাঝে প্রভাবই পড়ল না।
মুখায়বে তার একইরকম ঠাটবাটের রাজত্ব। কেমন ছুড়ে ছুড়ে বলল,
“ এতো লজ্জা পাচ্ছো কেন? এসব ওড়না-টোরনা হোয়াট-এভার! এগুলো নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। একটা সময় পর আমার সামনে তোমাকে এর থেকেও অনেক বাজে অবস্থায় থাকতে হবে। সো লিভ ইট। এখন যা জিজ্ঞেস করেছি তার উত্তর দাও।”
সে আমার সন্ধ্যাপ্রদীপ পর্ব ৩৭
পুষ্পিতা কিংকর্তব্যবিমুঢ়! হাঁ হলো পুরন্ত দুই ঠোঁট। স্যার এটা কী বললেন? আবছা ইঙ্গিত ঝাপসা রূপে বুঝতেই মেয়েটার প্রাণ টপকে গলায় চলে আসে। গোটা দুনিয়া চোখের সামনে চক্কর কাটে দুবার। নূহার যেমন অবস্থা হয়েছে বাইরে? পুষ্পিতারও অমন হলো। একইরকম আইঢাই করে বলল,
“ পানি,পানি খাব!”
