সে আমার সন্ধ্যাপ্রদীপ পর্ব ৫২
নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
খরখরে রোদ,সবুজের বিদায়, বসন্তের প্রৌঢ়কাল মিলিয়ে নৈসর্গে এক রোখা বাতাবরণ নেমেছে। ফ্যাকাশে ত্বকের ন্যায় সাদা আকাশ। তাতে মিশে গেছে মেঘের পাল। এক ফোঁটা বৃষ্টি হওয়ার জো নেই কোথাও। গলার ভেতর আস্ত মরু বয়ে
জনমানবের জীবন চালানোর যেন বাধ্যগত নিয়ম ।
প্রকৃতির এমন নিষ্ঠুরতম সময়ে এসির ঝিমঝিম শব্দটা বড্ড বেমানান। তার চেয়েও বেমানান জামশেদ তালুকদারের চোখের জল। এই মুহুর্তে
সিঙ্গাপুরের একটা নামি হাসপাতালে বসে আছেন তিনি। চোখ বুজে চ্যাপ্টা চেয়ারের হাতলে মাথা ঠেসে রাখা ।
বেশ কিছুক্ষণ কাটল তারপর ! অমন বসেই একবার চারপাশটা দেখলেন ভদ্রলোক। অদূরের এক কোণায় বসে নামাজ পড়ছেন লুৎফা!
জামশেদের আলোহীন মুখে আরো আমাবস্যা নামল। হাসপাতালে একটা উৎক গন্ধ থাকে। ফিনাইলের বোধ হয়! যত ভিআইপিই হোক,গন্ধটা থাকেই।
এজন্যে জামশেদ খুব একটা হাসপাতালের পাশ মাড়াতেননা। গন্ধটা নাকে এলেই তার পেট গুলিয়ে আসতো।
অথচ এখন, সাত সাতটা মাস কী অনায়াসে এখানেই ছুটে বেড়াচ্ছেন! একবার দেশ,একবার সিঙ্গাপুর করে করে দিন পার হচ্ছে।
গন্ধ পাবেন কী করে?
তার অনুভূতি ঠিকঠাক কাজ করে আজকাল?
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ছেলের এমন দশায় থাকলে সম্ভব তা? জামশেদের চোখ বেয়ে জল গড়াতে চাইল। কিন্তু কাঁদলেন না ভদ্রলোক। বরাবরের মতো একটা শক্তপোক্ত বেড়ির সাথে কষ্ট প্যাঁচিয়ে রাখলেন।
ধ্যান ভাঙল এক পুরুষালি কণ্ঠে।
চোখ তুলে চাইলেন তিনি। হাফিজ একটু ঝুঁকে এলো। রোগাপাতলা, কমবয়সী ছেলে। স্যুট-কোটের কারণে একটু ভারি লাগছে। কোমল স্বরে শুধাল,
“ স্যার,খাবার আনাব?”
মাথা নাড়লেন জামশেদ। ছোটো করে জানালেন,
“ খিদে নেই।”
হাফিজ চোখেমুখে দরদ নিয়ে বলল,
“ স্যার, আসা থেকে তো কিছু খেলেন না। প্রায়ই না খেয়ে থাকছেন। ম্যাডামও বোধ হয় খাননি। এরকম অনিয়ম করলে তো শরীর ঠিক থাকবে না স্যার। আপনারা সুস্থ না থাকলে ছোটো স্যারের খেয়াল রাখবেন কী করে!”
“ যার ছেলে সাত মাস ধরে মৃত্যূর সাথে পাঞ্জা লড়ছে হাফিজ,তার বাবা মায়ের কী খেতে ইচ্ছে করে? জোর কোরো না! ”
হাফিজ আর বলার মতো কিছু পায়নি। কালো মুখে কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল । ও জামশেদের এসিস্ট্যান্ট হিসেবে জয়েন করেছে প্রায় বেশ কয়েক মাস। তখন থেকেই দেখছে, দুই প্রৌঢ়ের প্রতীক্ষার দিন। কোমায় থাকা এক সন্তানের জেগে ওঠার আশায় নিভন্ত আঁখি গুলো দেখলে বড্ড মায়া হয় তার।
কী সাংঘাতিক ছোটাছুটি করেন জামশেদ! কখনো ফ্লাইট ধরে বাংলাদেশ। কখনো আবার হাসপাতাল। মন্ত্রীত্ব রক্ষার দায় না থাকলে এখান থেকে তাকে টলানো যেত? যেমন
লুৎফা সারাদিন হাসপাতালে পড়ে থাকেন,তিনিও থাকতেন। ভদ্রমহিলা
আইসিউএর সামনে হত্যে দিয়ে বসে রন।
কখনো উঁকি দিয়ে ছেলেকে দেখে গাল-গলা ভেজান। কখনো কাঁদতে কাঁদতে সিজদাহ্য় লুটিয়ে পড়েন।
হাফিজের ভাবনার মাঝেই লুৎফার ফোঁপনোর শব্দ পাওয়া গেল। ফের নামাজে বসে কাঁদছেন তিনি।
ফোঁপানোর মাত্রা আস্তে আস্তে দীর্ঘ হোলো। মায়ের হাহাকার ঠিকড়ে পড়ল চারদিকে। হাফিজের কষ্ট হয়! নিজের মাকে মনে পড়ে।
স্ত্রীর কান্নায় বুকখানা মোচড় দিলো মন্ত্রীর। একটু আগেই এখানে পৌঁছেছেন তিনি। উঠে গেলেন এবার। আস্তেধীরে গিয়ে
স্ত্রীর পাশে বসলেন হাঁটুভেঙে। ছলছল চোখ ভিজে গাঢ় হয়ে এলো।
তীব্রটা হওয়ার পর কোনোদিন এক ফোঁটা সময় দেননি জামশেদ। রাজনীতিতে নিজের একটা পাকাপোক্ত স্থান গড়তে হবে,সেই লোভে পুরোটা জীবন ছুটে বেড়িয়েছেন।
আর পাঁচটা বাবার মতো তো দূর,
একটা দিন তীব্রর হাত ধরে স্কুলে নিয়েছেন কী না মনে নেই। কখনো ছেলেকে কাঁধে চড়িয়ে পার্ক ঘোরাননি। বাড়ি ফিরে কোলে বসিয়ে চুমু খাননি। কখনও নিজের হাতে এক লোকমা খাইয়েও দেননি।
নীরব দুরুত্ব বাড়তে বাড়তে এমন পাহাড় ডিঙিয়ে ফেলল যে,
ছেলেটা হুট করেই কেমন উগ্র হয়ে যায়! কথা শোনে না,সম্মান করে না। এখানে ওখানে মারপিট,রোজকার শালিস,বিচার,নালিশ,
মদ সিগারেট,ক্লাব!
সব মিলিয়ে ছেলের প্রতি আড়ালে আবডালে ভীষণ বিদ্বিষ্ট ছিলেন তিনি। কিন্তু এসবের জন্যে আজ কোথাও না কোথাও নিজেকে দায়ী মনে হচ্ছে।
যদি বাবা হিসেবে সন্তানকে নিজের আদর দিয়ে,সময় দিয়ে মানুষ করতেন,তীব্র হয়ত অতটা বখে যেতো না।
দিন শেষে সন্তান তো! তার একমাত্র ছেলে।
মন থেকে বলুক না বলুক,একবার হলেও ড্যাড তো ডাকে!
জামশেদের শক্ত থাকা হোলো না। স্ত্রীর কান্নার প্রভাবে স্বীয় বনিয়াদের সীমাও ভেঙেচুরে গেল। ঝরঝর করে কেঁদে
হাত তুললেন আল্লাহর দরবারে। আজকেও চাইলেন,ছেলেটা একটু সুস্থ হোক। একবার চোখ খুলে তাকাক। একবার ঠোঁট নেড়ে ডাকুক ওনাদের। তিনি তো বুড়ো হয়েছেন। আর কদিনেরই বা জীবন! ওনাকে নিয়ে ওই যোয়ান ছেলেটাকে বাঁচিয়ে দিলে হোতো না?
দুজন বয়ষ্ক মানুষের ফ্যাচফ্যাচে কান্নায় হাসপাতালের আলো-বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠল। হাফিজের এত খারাপ লাগছে! তার যদি সাধ্য থাকতো কিছু করার,ঠিক তীব্রকে সুস্থ করে ফেলতো।
আচমকা
তীব্রর কক্ষ হতে একজন নার্স ছুটে বের হলেন। হন্তদন্ত গতিতে চললেন কোথাও। মিনিট কয়েকেই ফেরত এলেন চিকিৎসককে নিয়ে। গলায় স্টেথোস্কোপ ঝোলানো লোকটাও সমানতালে ছুটে ঢুকলেন ভেতরে।
হাফিজ একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল এবার। হঠাৎ করেই কেমন যেন গলা শুকিয়ে আসছে। ঢিপঢিপ করছে বুকের ভেতর। ডাক্তার এভাবে গেল কেন?
কিছু কি ভালো শুনবে? না খারাপ! ও করুণ চোখে অদূরের প্রৌঢ়দের দেখল৷ তীব্র নামের মানুষটাকে ও চেনে না। সুস্থ দশায় আগে কখনো দেখেওনি। কিন্তু মন থেকে চায়, অন্তত এদের জন্যে হলেও মানুষটা বেঁচে উঠুক। সন্তানের লাশ যে পিতার কাঁধে কত ভারি,তা কি সৃষ্টিকর্তা বুঝবেন না?
তক্ষুনি ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। প্রশ্ন করলেন
ইংরেজিতে,
“ তীব্র রেজা তালুকার,এই পেশেন্টের বাড়ির লোক কোথায়?”
নাম শুনে চটক কাটার ন্যায় ঘুরে চাইলেন জামশেদ।
লোকটিকে দেখেই এগিয়ে আসেন ত্রস্ত।
“ আমি,আমি ওর বাবা। ”
শুষ্ক মুখখানায় চেয়ে হাসলেন ভদ্রলোক। আনন্দ নিয়ে জানালেন,
“ আপনাদের পেশেন্ট রেসপন্স করছে।”
এই এক কথায় সব বদলে গেল। জামশেদের আর্ত চোখ হকচকাল খুব! হাফিজের ঠোঁট হাসিতে সরে যায় দুপাশে।
লুৎফার কানে যেতেই ছুটে এলেন তিনি। হড়বড় করে বললেন,
“ আমি, আমি দেখা করতে পারি? একটু দেখতে পারি আমার বিট্টুকে?”
ভদ্রলোক জামশেদের দিক চাইলেন। লুৎফার কথা তিনি বুঝতে পারেননি। কিন্তু বিস্ময়ে পাথর লোকটার শব্দ এলো না দেখে মুখ খুলল হাফিজ। বাংলা কথা ইংরেজিতে বদলে বলল,
“ ছেলের সাথে দেখা করতে চাইছেন।”
“ আচ্ছা, হ্যাঁ যেতে পারেন। তবে এতজন নয়। একজন! ”
জামশেদ কথা বললেন এতক্ষণে। কণ্ঠে উদ্বেগ,
“ আমরা ওকে কোনো বিরক্ত করব না। শুধু একটু কাছ থেকে চোখের দেখা দেখব। শুধু একবার,প্লিজ ডক্টর!”
“ আচ্ছা বেশ, তবে মনে রাখবেন পেশেন্ট সবে রেসপন্স করতে শুরু করেছে। আমরা এখনও জানিনা তার ব্রেইনের কন্ডিশান কী! যে মারাত্মক,গভীর চোট ছিল মাথায়,তাতে স্মৃতিশক্তি নাও থাকতে পারে। যদি আপনাদের চিনতে না পারে, প্লিজ উত্তেজিত হয়ে পড়বেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে সবটা হ্যান্ডেল করতে হবে। পারবেন তো?”
মাথায় বাঁজ পড়ল তাদের। এতকাল পর ছেলেটা চোখ মেলবে, অথচ বাবা-মাকে চিনতে পারবে না? এসব সহ্য করার মতো শক্তি পৃথিবীর কোনো মা-বাবার আদৌ আছে?
ভদ্রলোক বললেন,
“ আসুন।”
কাঁপা কাঁপা পা বাড়িয়ে কোনোমতে ঢুকলেন দুজন৷ পেছনে হাফিজও এসে দাঁড়াল।
তীব্রর মুখে বড়ো সড়ো অক্সিজেন মাস্ক বসানো। বা পাশটায় ইসিজির সংকেতের টিকটিক, টিকটিক শব্দ। ওপরের লম্বা টানেলে স্যালাইন ঝুলছে!
‘এবিসির’ মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা মানুষটার পুরো মাথা জুড়ে শুধুই বিশাল সাদা ব্যান্ডেজ। সোনালী চুলগুলো সানন্দে ঢেকে গেছে তাতে।
লুৎফার বুক কামড়ে ধরল কিছু একটা। টালমাটাল শরীরে ছেলের কাছে এসে বসলেন। কোটর থেকে ক ফোঁটা উষ্ণ তরল এসে লুটপাট হলো কপোলে।
কর্কশ সুরে কথা বলা,হম্বিতম্বি দেখানো, সেই ছেলেটা কোথায় তার?
ডাক্তার বললেন,
“ ওকে ডাকুন। ও শুনতে পাচ্ছে!”
লুৎফা কথা বলতে গেলেন, কিন্তু আওয়াজ ফুটল না। জামশেদরও একই দশা আজ। তবে থেমে রইলেন না। গলা ঝেড়ে ডাকলেন,
“ তীব্র! তীব্র বাবা শুনছো?”
এক মিনিট, দুই মিনিট… করে করে কিছু পল কাটল। খুব ধীরুজ বেগে
সাড়া দিলো মানুষটা। কালো পল্লব গুলোতে ভূমিকম্প নামিয়ে নিভু নিভু
করে আলাদা হলো তার বিলাতি,ঘোলা চোখ।
গুণে গুণে সাত মাস পর তাকাল তীব্র। ঝাপ্সা দৃষ্টি মাড়িয়ে একটু একটু করে পৃথিবীটা স্বচ্ছ হলো সামনে। যেখানে প্রথমেই ভাসল একটি সুকোমল, চটচটে মুখ।
কেমন উদগ্রীব হয়ে দেখছে তাকে!
লুৎফার বুক ধুকপুক করছে। ঢোক গিলছেন শুধু। ছেলেটার স্মৃতি আছে তো! চিনতে পারবে তো ওনাকে?
তার সব প্রতীক্ষার অন্ত দিতে ঠোঁট নাড়ল তীব্র,
“ মা!
ভদ্রমহিলা চোখ বুজে নিলেন। কান্না আটকাতে চেয়েও হলো না। মুখে আঁচল চেপে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন তিনি।
পাশ থেকে কেউ উদ্বীগ্ন হয়ে বলল,
“ আর আমাকে,আমাকে চিনতে পেরেছো?”
তীব্র মাথাটাকে অল্প একটু বাঁকাল। জামশেদ ওর হাতটা শক্ত করে ধরেছেন। চোখেমুখে আশঙ্কার ঝড়। তীব্র
ডাকল,
“ বাবা!”
ভদ্রলোক খুশিতে হাসবেন,না স্ত্রীর মতো কেঁদে ভাসাবেন বুঝতে পারলেন না। তীব্র তাকে বাবা ডাকে না। কিন্তু আজ ডাকল। এত মাস পর দেখল ওনাকে। এই আনন্দ কোথায় রাখবেন জামশেদ?
তীব্র আস্তে আস্তে পুরো কক্ষে চোখ বোলায়। বাবা মা ছাড়া বাকি সব মুখ তার অচেনা। ঝোলানো পর্দা,একেকটি যন্ত্রপাতি, এ্যাপ্রোন পরা লোকটা, নার্স এসব দেখে বুঝতে পারল সে কোথায়!
কিন্তু ও হাসপাতালে কেন? ওর কি কিছু হয়েছিল?
তীব্রর মাথার শিরাগুলো দপদপ করে উঠল। কষ্ট হলো,ব্যথা লাগল মনে করতে গিয়ে। কিন্তু হাল ছাড়েনি! চোখের পর্দায় ছবির ন্যায় হানা দিলো
সেই গা হিম করা অতীত।
ও ড্রাইভ করছিল। পাশে ভীতু মেয়ে! তারপর একটা ট্রাক,একটা ধাক্কা.. আর সব, সব শেষ।
তীব্রর হৃদপিণ্ড থমকে যায়। টনক নড়ে মাথার। ও হাসপাতালে, তাহলে ভীতু মেয়ে? ভীতু মেয়ে কোথায়?
তীব্র ছটফটিয়ে উঠল। কিন্তু অত দ্রুত মুখ থেকে কথা এলো না। শব্দগুলো কেমন এঁকেবেঁকে গেল,
“ পুষ,পুষ, পুষ্পিতা কো কোথায়?”
লুৎফা অবাক হলেন। একপল চাইলেন স্বামীর পানে। জামশেদ বললেন,
“ মেয়েটা তোমার সাথে ছিল?”
তীব্র মাথা নাড়ে।
উনি বললেন,
“ কিন্তু আমি তো তা জানি না। পুলিশ আমাকে ইনফর্ম করেছিল তোমার কথা। ব্রিজের ওপর তোমার ভাঙা জিপ দেখে ওরা জেনেছে জিপের মালিক আমার ছেলে। তারপর তোমাকে নদী থেকে উদ্ধার করা হলো। আমি তো সাথে সাথে তোমাকে ঢাকা নিয়ে এসেছিলাম। তোমার অবস্থা সময় যেতেই আরো খারাপ হচ্ছিল বলে সোজা সিঙ্গাপুরে আসি। জিপে আর কেউ ছিল কী না,সেসব তো কিছু জানি না।”
তীব্রর মুখায়বে ভয় ফুটে উঠল। ভীতু মেয়ে কি ঠিক আছে? সে তো জিপেই ছিল। পুলিশ এলে তো ওকেই আগে হাসপাতালে নেয়ার কথা।
ছেলেটা নড়তে চাইল। কিন্তু শরীর সঙ্গ দিলো না। এত মাস একভাবে পড়ে থাকায় এখনো
অবশ ভাব কাটেনি। তার হাবভাবের অস্থিরতা বুঝে নিলেন চিকিৎসক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বললেন,
“ মিস্টার তালুকদার, আপনারা এবার আসুন। পেশেন্ট বিশ্রাম নিক!”
লুৎফার উঠতে মন চাইল না। কিন্তু যেতে তো হবে।
ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে,কপালে চুমু খেলেন তিনি।
বেরিয়ে এলেন স্বামীর সাথে। কিন্তু তীব্র যে প্রশ্নের হেতুতে মরিয়া হয়ে রইল,সেসব কারো শোনাই হোলো না।
দু সপ্তাহ পর….
সন্ধ্যে নেমেছে সবে।
আযান শেষ হয়নি। মধুর বাতায়নে ঘুরে বেড়ানো মিষ্টি সুর এখনও পরিচ্ছন্ন শোনা যায়।
মিরাজ চায়ের কাপে চুমুক দিতে গেল,ধপ করে পাশে এসে বসল শাফিন।
ছেলেটা চমকায় কিছু। ওকে দেখে ভ্রু তুলে বলে,
“ আজ এত তাড়াতাড়ি?”
“ কাল সরকারি ছুটি না? তাই।”
মুশফিক বলল,
“ বাড়ি না গিয়ে এখানে কেন? একেবারে ফ্রেশ হয়ে তারপর আসতি।”
শাফিন কাষ্ঠ হেসে একবার পুরো জায়গাটা দেখল। মলিন গলায় বলল,
“ বাড়ি গিয়ে কী করব? মন তো এখানেই পড়ে থাকবে। এখানে থাকলে মনে হয় বিট্টু আমাদের আশেপাশেই আছে।”
বাকিদের চেহারায় আঁধার ঘনাল। দীর্ঘশ্বাস ফেলল এক চোট।
আরমান বলল,
“ কবে যে বিট্টু সুস্থ হবে! কবে যে একটু দেখব ওকে। ওকে ছাড়া কিছু ভালো লাগছে না। একটা ধমক দেবে,চোখ রাঙাবে এতেও শান্তি। একটু যোগাযোগও করতে পারছি না।”
স্বর ভাঙা শোনাল তার। শাফিন বলল,
“ আসবে। অপেক্ষা কর,ঠিক আসবে। বিট্টু আমাদের কাছে না এসে কোথায় যাবে বলতো!”
উত্তরে কেউ কিছু বলল না। সবার বুক হতে বেরিয়ে এলো পোড়া শ্বাসের ঝুলি। করিম শাহও কিছু মন খারাপ করলেন! আজ
কতদিন ধরেই ছেলেগুলো আগের মতো তার এখানে বসে চা খাচ্ছে। কিন্তু
ওই আগের দাপটটা আর নেই। না একটা মেয়ে দেখলে দু-চারটে বাঁকা কথা বলে। না কাউকে ডেকে ইচ্ছে করে ফ্যাসাদে ফেলে মজা নিতে যায়।
তীব্রর শোকে নেতিয়ে গেছে সবাই । করিম জানেন, তীব্র সিঙ্গাপুরে! কিন্তু এরা তো এক সময়ের বখাটে। গুণ্ডামি করতো সারাদিন। অথচ
বন্ধুর অসুস্থতায় কী অবস্থা দ্যাখো! হেসেও হাসে না। শুধু ঠোঁটটা নেড়ে কথা বলে, এই যা!
মিরাজরা গাজীপুরে আর থাকে না। তল্পিতল্পা গুটিয়ে ঢাকায় চলে এসেছে। তীব্র না থাকলে ওখানে ওদের কী কাজ! শুধু নাহিদ আসতে পারেনি। এক,চাকরী। আর দুই,নূহা। এত শোকের মাঝে একটা ভালো ব্যাপার হলো,নূহা-নাহিদের বিয়ে ঠিক হয়েছে। দুই পরিবার বসেছিল আলাপে। আয়েশা বিয়েটা নূহার পড়াশোনা শেষ হলে দিতে চাইলেও,আংটিবদল করে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাহিদ তাতেও রাজি হয়নি। তার জীবনের সামান্য ভালো দিনেও তার তীব্রকে চাই। ওর বন্ধু সিঙ্গাপুরে জীবনের সাথে লড়ছে,আর ও আংটিবদলের অনুষ্ঠান করবে? এত জঘন্য হতে পারবে নাহিদ?
ছেলেটা প্রত্যেক বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসে। বন্ধুদের সাথে সময় পার করে। এখন আর ওরা আগের মতো রাত জেগে তাস মেলে বসে না। বরং গোটা রজনী মসজিদের নামাজে কাটিয়ে দেয়। সবাই মিলে তাহাজ্জুদ পড়ে তীব্রর জন্যে দোয়া করে। মদের বদলে মুখ ভেজায় ওযুর পানিতে।
সবার জীবনের গল্প গুলো কেমন আচমকাই বদলে গেছে,তাই না?
সকলের ভাবনা একই জায়গায় এসে থামল। চারটে ছেলের মাঝে সুদূর থেকে আসা নীরবতা বসল ঘাঁটি গেড়ে।
দৈবাৎ একটা গাড়ি ব্রেক কষার শব্দ এলো কানে। মুখ তুলল ওরা। সাদা,নতুন গাড়িটার কাচ তোলা। প্রথমে দোর খোলে। এরপর এক জোড়া পলিশ করা জুতোর সাথে যে চেহারার দেখা মেলে? তাতে পিলে সুদ্ধ চমকে গেল সবার। মিরাজের হাত থেকে চা পড়ে যায়। মুশফিকরা তড়াক করে উঠে দাঁড়ায় । দোকানের ভেতরে বসা করিম নিজেও হতভম্ব!
শাফিন চিৎকার করে উঠল,
“ বিট্টু!”
তীব্র হাসল। সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ের বেগে ছুটে এলো ওরা। তিরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল গায়ে। যে যেভাবে পারল,চারদিক থেকে জাপটে ধরল ওকে।
প্রকোপে তীব্র পড়তে নেয়। গাড়িতে এক হাত ঠেসে সামলায় নিজেকে।
মিরাজ কেঁদে ফেলল। আরমান ফোঁপাচ্ছে। মুশফিকের চোখ ছলছলে।
শাফিনের ম্লান মুখের দিকে তাকানোও দুঃসহ। দীর্ঘদিনের এই মিলনের পর বুক ফুলিয়ে লম্বা দম ঝাড়ল তীব্র।
মিরাজ কণ্ঠে অবিশ্বাস নিয়ে বলল,
“ তুই, তুই সুস্থ হয়ে গেছিস? আমি কি স্বপ্ন দেখছি,বিট্টু? এই শাফিন,এই মুশফিক আমরা ঠিক দেখছি সবাই? আমাদের বিট্টু সত্যি এসেছে?”
শাফিন বলল,
“ বিট্টু তুই কবে এলি?
জানাসনি কেন আমাদের? আমরা সবাই মিলে তোকে এয়ারপোর্টে আনতে যেতাম।”
তীব্র ওদের ধাতস্থ হতে সময় দিলো। সবসময়ের প্রতাপী ছেলেটার চোখমুখ আজ তরঙ্গের ন্যায় স্থির। বললও খুব ধীরে,
“ আমি ঠিক আছি এখন। তোরা একটু শান্ত হ! এভাবে মেয়েদের মতো কাঁদার কিছু হয়েছে?”
মিরাজ চোখ মুছল। স্ফূর্ত হেসে
বলল,
“ তুই এসে গেছিস,আমাদের আর কোনো চিন্তা নেই। এই, আমরা আজ সারারাত আড্ডা দেব হ্যাঁ? আজকে আমি সবাইকে বিরিয়ানি খাওয়াব।”
আরমান বলল,
“ আর আমি বিয়ার খাওয়াব!”
শাফিন বলল,
“ আমি কী করব? আমি সিনেমা দেখাব সবাইকে।”
মুশফিককে ওরা কিছু বলতেই দিলো না। কেমন হইচইয়ে ভরে ফেলল জায়গাটা।
তীব্রর বুক জুড়িয়ে যায়, এমন বন্ধু পাওয়ার খাতিরে।
দোকান থেকে ফটাফট নেমে এলেন করিম। কণ্ঠে বিনয়, উচ্ছ্বাস একসাথে শোনাল,
“ভাই, আপনি আইছেন? কী যে খুশি লাগতেছে আপনারে দেইখা। কত্তদিন হইলো আমার দোকানের চা খান না কন তো!”
আইজ আপনারে সেই আগের মত ফাস্টোকেলাস এক কাপ চা খাওয়ামু। আসেন,বসেন।”
কাঁধের গামছাটা দিয়ে বেঞ্চ মুছে দিলেন ভদ্রলোক। কিন্তু তীব্র মানা করল। বলল,
“ আজ না। আমি এখন খুব তাড়ায়। পরে অন্য সময় হবে।”
মুশফিক বলল,
“ তাড়া কেন? কোথাও যাবি?”
“ গাজীপুর যাচ্ছি।”
চারটে হাসিমুখ দপ করে নিভে গেল অমনি।
একে ওপরকে দেখল সতর্ক চোখে। মিরাজ তুঁতলে উঠল,
“ গা গাজীপুরে কেন? ককী কাজ?”
তীব্র স্বভাবসুলভ ভ্রু কোঁচকায়।
“ ইয়ার্কি মারছিস আমার সাথে?
ওখানে কী কাজ তোরা জানিস না ? ভীতু মেয়ের কাছে যাব।”
ওদের চেহারা আরো রক্তশূন্য হয়ে আসে। আবার দেখল একে-অন্যকে। শাফিন আমতাআমতা করে বলল,
“ বলছিলাম যে,বিট্টু সবে তো ফিরলি। আজ না গেলে হোতো না? পরে না হয়!”
তীব্র চড়া কণ্ঠে বলে,
“ না। পরে যাব কেন?”
মুশফিক, শাফিনের সাথে ফিসফিস করে বলল,
“ ওকে তো আটকানো যাবে না রে। কী করব এখন?”
“ বুঝতে পারছি না। কিন্তু ওখানে গেলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে।
এক কাজ করি,চল আমরাও ওর সাথে যাই!”
তীব্র গাড়ি দোর খুলল উঠবে বলে। মুশফিক ধড়ফড় করে বলল,
“ বিট্টু, আমরাও সাথে যাই?”
ও মানা করল না।
বলল,
“ আয়।”
সবাই অসহায় শ্বাস টানল। বাধ্য হয়ে চটজলদি উঠল গাড়িতে।
তীব্রর শরীর এখনও আগের মত সবল হয়নি। পুরোপুরি রিকভার করতে সময় লাগবে কিছু। স্ট্রেস নেওয়া একেবারেই নিষেধ!
সেজন্যে জামশেদ সাথে ড্রাইভার দিয়ে দিয়েছেন। এতটা পথ যেতেই দিতেন না। কিন্তু নাছোড়বান্দা ছেলের সাথে কোনোদিন জোর খেটেছে তার?
ভীতু মেয়ের হদিস না নিয়ে সে তো ক্ষান্ত হবে না।
তীব্র সামনে বসে। পেছনে মিরাজরা।
একটু পরপর ফিসফিস করছে সবাই। কথার শেষ একটাই,
“ বিট্টুকে যদি আটকানো যেত!”
একটা সময় তীব্র ড্রাইভারকে বলল,
“ একটা ফুলের দোকান দেখে দাঁড় করাও।”
ভদ্রলোক তাই করলেন। তীব্র নিজে নেমে গেয়ে মুঠো ভরতি গোলাপ কিনে আনল। সন্ধ্যের আলোতে ফুলের লাল রঙ স্পষ্ট!
অথচ মিরাজদের অমানিশায় ঢাকা চেহারায়,আলো ফেরার সম্ভাবনা শেষ! বুক মোচড় দিলো ব্যথায়।
এই ফুল তীব্র কার জন্য নিতে পারে সে কী ওরা জানে না!
তীব্র তখনই বলল,
“ আমি অসুস্থ হলাম আর তোরাও চলে এলি! কেন? ওখান থেকে তো ভীতু মেয়ের খেয়াল রাখতে পারতিস।
আমি নেই। মেয়েটা একা একা কী করবে? তারওপর আমার অসুস্থতার জন্যে না জানি কী অবস্থা করেছে নিজের! এত গর্দভ কেন তোরা?”
উত্তর দেয়ার জন্যে ওরা কেউ শব্দ খুঁজে পেলো না। চেষ্টা করলেও, ইয়ে-মানে অবধি এসে আটকে রইল মুশফিক।
গাজীপুরে ঢুকতে ঢুকতে রাতের প্রহর ঘনিয়ে আসে। ততোধিক বেড়ে যায় তীব্রর বুক কাঁপার গতি। ও আজকেই দেশে পৌঁছেছে। তারপর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করেই,ছুটছে পুষ্পিতার কাছে। মেয়েটার ফোন তো সেদিন গাড়ির সাথেই নষ্ট হয়ে গেছিল। চাইলে নূহা বা নাহিদকে জানাতে পারতো! কিন্তু তীব্র ইচ্ছে করে করেনি। একেবার স্ব-শরীরে গিয়ে সামনে দাঁড়াবে পুষ্পিতার। মিরাজরা তো ওকে দেখে কেঁদে ফেলল খুশিতে! ভীতু মেয়ে কী করবে? অজ্ঞান হয়ে যাবে?
তীব্র ঠোঁট কামড়ে হেসে ফুলের গায়ে হাত বোলাল।
গাজীপুরের চেনা রাস্তায় চলছে গাড়ি। এখানে ওদের কত স্মৃতি! সম-সঙ্গে কত যাত্রা! ভীতু মেয়ে নিশ্চয়ই ওর আশায় পথ চেয়ে আছে? খাওয়া দাওয়া করছে ঠিক মতো? গিয়ে কী দেখবে তীব্র, সুন্দর মুখটার কেঁদেকেটে বেহাল দশা তাইনা!
তীব্র গাড়ি থেকে ফ্ল্যাটের সামনে নামল। ঠোঁট ফুলিয়ে মুক্ত একটা শ্বাস নিলো তারপর। পেছনে হাস্যহীন নেমে দাঁড়ায় ওরা। তীব্র দাঁড়াল না। ত্রস্ত পায়ে গেট পেরিয়ে ঢুকল ভেতরে।
নাহিদ এখনো অফিস থেকে ফেরেনি। আয়েশা সবে এসেই ফ্রেশ হতে ঢুকেছেন। নূহা পড়ছিল।
হঠাৎ কলিংবেল বাজে। ও চ্যাঁচাল,
“ লিমা, দেখোতো কে!”
লিমার বয়স তেরো! নূহার ফুপি ওকে গ্রাম থেকে সাথে নিয়ে এসেছেন। কাজ খুঁজছিল,তাই আয়েশা ওনাদের বাসায় রেখেছেন মেয়ের সাথে থাকার সুবিধার্থে। দরজা খুলল মেয়েটা। অচেনা মুখগুলো দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ কারা আপনারা?”
ওপাশের মানুষটা জবাব দিলো না। ছোট্ট লিমাকে পাশ কাটিয়ে ঢুকে পড়ল ঘরে। মেয়েটা ঘাবড়ে গেল।
আর্তনাদ করে বলল,
“ কী হইলো,ভিত্রে আইছেন ক্যান? কেডা আপনে?”
আওয়াজ কানে গেল নূহার। চ সূচক শব্দ করল সে। এই মেয়েটাকে কতবার বলেছে আগে লুকিং গ্লাসে দেখে নিতে! তা না,প্রত্যেকবার গিয়েই ফট করে দরজা খুলে দেয়।
ও অতীষ্ঠ চিত্তে উঠে এলো। কিন্তু
এ ঘরে আসা মাত্রই পদযুগল থমকে গেল স্থানে।
তীব্র এদিক ওদিক দেখছে। হন্যে দৃষ্টি নূহার দিকে যেতেই মৃদূ হাসল। মেয়েটা স্তম্ভিত আওড়াল,
“ ভাইয়া!”
তারপর ছুটে এসে সামনে দাঁড়াল। পুরো তীব্রতে চোখ বুলিয়ে বলল,
“ আপনি,আপনি সুস্থ হয়ে গেছেন?
আল্লাহ! কবে ফিরেছেন দেশে? আমি নাহিদকে কতবার বলেছি একবার আপনাকে দেখার ব্যবস্থা করে দিতে। ওতো আঙ্কেলকে ভিডিয়ো কলও করতো,কিন্তু আঙ্কেল…
আপনি দাঁড়িয়ে কেন? বসুন না!”
নূহার অর্ধেক কথাই অস্পষ্ট। খুশির চকমকে প্রভা চেহারায় পরিষ্কার। চেয়ার এগিয়ে দিলো,কখনো সোফা দেখাল। চ্যাঁচিয়ে মাকে ডাকলও কবার। মিরাজরা কাচুমাচু মুখে পাশেই দাঁড়িয়ে।
কিন্তু তীব্রর তো এসবে মন নেই। তার চোখ অন্য কোথাও।
বুকের উৎকণ্ঠা চেপে রাখতে ব্যর্থ সে।
জিজ্ঞেস করল,
“ ও কোথায়?”
ব্যস! নূহার হাসি শেষ। জ্বলজ্বলে মুখবিবর সহসা কেমন মলিন হয়ে গেল।
তীব্রর হদিস থামল না। প্রশ্ন করেও জবাবের আশায় থাকেনি। গলা তুলে ডাকল,
“ ভীতু মেয়ে, ভীতু মেয়ে!”
ওদিকটা নিস্তব্ধ। কোনো সাড়া এলো না। তীব্র ফিরল পেছনে।
বলল,
“ ভীতু মেয়ে বাসায় নেই, নূহা?”
মেয়েটা মাথা নাড়ল।
“ এত রাতে কোথায় গেছে?”
নূহা সময় নিলো। ধীরুজ জবাব দিলো,
“ পুষ্পিতা এখানে থাকে না।”
তীব্রর কপালের রেখা প্রগাঢ়। চোখেমুখে বিভ্রম,
“ থাকে না মানে?” নূহা আড়চোখে মিরাজদের দিকে দেখল একবার। মুশফিক কিছু বলতে চাইল। হাঁ করতে গেলে আটকাল তীব্র। কণ্ঠ পুরূ করে বলল,
“ কী হলো?
সে আমার সন্ধ্যাপ্রদীপ পর্ব ৫১
আমি তোমায় কিছু জিজ্ঞেস করছি,নূহা। ভীতু মেয়ে এখানে থাকে না মানে কি? ওর মণি কি ওকে নিয়ে গেছে?”
নূহা মাথা নিচু করল। গলার খাঁজে থুতনী ঢোকানোর চেষ্টা।
কাঁপা গলায় উচ্চারিত কিছু লাইন ছিটকে এলো কানে। চোখমুখ খিঁচে বলল ,
“ পুষ্পিতার.. পুষ্পিতার বিয়ে হয়ে গেছে!”
