হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৯
রাজিয়া রহমান
নির্জন কিছুটা বিরক্ত হয়ে থার্মোমিটার নিয়ে মিনির রুমের দিকে পা বাড়ায়।বাহিরে পূর্নিমার চাঁদের আলোয় সব কেমন চকচক করছে।
মিনির বুকের ভেতর দ্রিমদ্রিম করছে ভয়ে,উত্তেজনায়।
সারা শরীর কেমন অবশ হয়ে আসছে মনে হয়।
নাটকটা সে ভালো করে করতে পারবে তো!
আজকে যদি না পারে তাহলে আজীবনের জন্য তাকে নির্জনকে ভুলে যেতে হবে।
মিনির দুই চোখ টলমল করে। সে নির্জনকে সত্যি ভীষণ ভালোবাসে।
তার ভাগ্য খারাপ তাই নির্জন ভাই তাকে বুঝে না।
ভালোবাসলে মানুষ বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলে।শখের মানুষটাকে নিজের করার জন্য যে কোনো কাজ করতে পারে। মিনির মনে হচ্ছে আজকে যদি নির্জনকে নিজের করতে না পারে সে বোধহয় মরেই যাবে।
ছোট মামী যে কখনোই তাকে নির্জনের হতে দিবে না তা মিনি জানে।আর তাছাড়া নির্জন ভাই যদি তাকে ভালোবাসতো তাও একটা সম্ভাবনা ছিলো।
এক তরফা ভালোবাসা এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা। হট ওয়াটার ব্যাগটা মিনি তার কপালে চেপে ধরে আছে।
নির্জন মিনির রুমের সামনে এসে মিনিকে ডাকলো।
মিনি মুহুর্তেই গলার স্বর চেঞ্জ করে কাতর সুরে বললো, “ভেতরে আসেন নির্জন ভাই।”
দ্রুত ব্যাগটা মিনি চাদরের নিচে ঢুকিয়ে গলা অবধি চাদর টেনে দিলো।ব্যাগটা বগলে চেপে ধরলো এবার।
নির্জন রুমে ঢুকে দেখে মিনি কেমন নেতিয়ে পড়ে আছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নির্জন মিনির কপালে হাত রেখে চমকে উঠে। সত্যি তো মিনির ভীষণ জ্বর।
নির্জন চিন্তিত হয়ে বললো, “ফুফুকে ডাকছি আমি।”
মিনি বললো, “না নির্জন ভাই, মা’কে ডাকতে হবে না।মা আমাকে ভীষণ মারবে।আমি আজকে অনেক সময় নিয়ে গোসল করেছি।তাছাড়া মা’র মেজাজ ও ভালো নেই।”
নির্জন অবশ্য কোনো খবর রাখে না।এই যে মা চলে গেছে, নির্জনের তাতে ও তেমন কোনো শোক তাপ অনুভব হচ্ছে না।
নির্জন মিনিকে থার্মোমিটার দিলো।মিনি বগলে রেখে কিছুসময় পর বের করলো।নির্জন চমকায়।মিনির জ্বর ১০৩°।
মিনি মনে মনে ভাবে মায়ের বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।মা বলে দিয়েছে বেশি সময় যাতে গরম পানির ব্যাগ না রাখে শরীরে। নয়তো তাপমাত্রা বেশি দেখালে নির্জন বিশ্বাস করবে না।
মিনি হুট করে কাঁপতে লাগলো। দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে এমন ভাব করে বললো, “ভীষণ শীত লাগছে নির্জন ভাই।আমাকে একটা চাদর দিয়ে চেপে ধরেন।আমার ভীষণ জ্বর।”
নির্জন ভেবে পাচ্ছে না হুট করে মিনির এতো জ্বর কেনো হলো।
এই মেয়েটাকে নির্জন তেমন একটা পছন্দ করে না,শুধু একে না,এদের তিন বোনের কাউকেই নির্জন পছন্দ করে না।
যাতে একটু আধটু মনে লাগে সে ও আষাঢ়ের পছন্দের মানুষ।
আষাঢ়ের কথা ভাবতেই নির্জনের কেমন অস্বস্তি হয়।আষাঢ় হাসপাতালে ভর্তি। নির্জন একবারের জন্যও দেখতে যায় নি।
আজকাল নির্জনের কারো সাথে কথা বলতে, দেখা করতে ভালো লাগে না।
মিনি আবারও কাতর স্বরে বললো, “নির্জন ভাই,আমাকে একটু জড়িয়ে ধরেন প্লিজ।”
নির্জন শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো একটা চাদর দিয়ে।
নিরা ফোন কান থেকে নামিয়ে বললো, “মা,দ্রুত যাও এবার। সব প্ল্যান মতো হচ্ছে।”
শিরিন দ্রুত মিরাজুল ইসলামের রুমের দিকে ছুটলো।এই রাজ্য,এই রাজত্ব সব তার পৈতৃক। অন্য বাড়ির মেয়েরা সেসব ভোগ করবে!
এই সাম্রাজ্যের লোভে নিজের স্বামীর বাড়িতে যান নি শিরিন।
এবার যদি মেয়ে বিয়ে দিতে পারে তাহলে তো আসন আরো পাকাপোক্ত হবে।
মিরাজুল ইসলাম নিজের স্টাডি রুমে একটা কেস স্টাডি করছে।শিরিন ছুটে গিয়ে বললো, “সর্বনাশ হয়ে গেছে।আমার সাথে আয়।”
মিরাজুল ইসলাম কিছু বলার আগেই শিরিন চিলের মতো ছোঁ মেরে ভাইকে বগলদাবা করে নিয়ে ছুটলেন।
মিনির রুমের দরজার বাহিরে দাঁড়াতেই শুনলো মিনি কেমন কাতর সুরে বলছে,”আমি মরে যাচ্ছি নির্জন ভাই। আপনি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন।আরো শক্ত করে।”
নির্জন শান্ত সুরে বললো, “তুই ভয় পাস না।একটু রিল্যাক্স হ।ঠিক হয়ে যাবে।”
মিরাজুল ইসলামের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। শিরিন দরজা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো।
নির্জন,মিনি দুজনেই চমকে উঠলো।
মিনি আলগোছে গায়ের চাদর নামিয়ে দিলো কিছুটা। একটা ট্যাঙ্ক টপস পরনে মিনির।মিরাজুল ইসলাম রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।
শিরিন বিলাপ করে কাঁদতে লাগলো।
মুহুর্তেই পুরো বাসার সবাই সজাগ হয়ে গেলো।
নির্জন বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে। সে তো এখানে মিনির কথাতে এসেছিলো।
বাবা,ফুফু কেনো ভুল বুঝেছে তাকে!
মিনি অবুঝের মতো বললো, “কি হয়েছে এদের?এরা এমন চিৎকার চেঁচামেচি করছে কেনো নির্জন ভাই?”
নির্জন মিনির দিকে তাকালো।মিনি কেমন অবুঝের মতো তাকিয়ে আছে।
মনের সন্দেহ দূর হয়ে গেলো নির্জনের।মিনি হয়তো সত্যি বলছে।ব্যাপারটা পুরো মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং।
বাবা ফুফুকে বুঝাতে হবে।
শিরিন ছুটে গিয়ে মহুয়া বেগমকে জড়িয়ে ধরে। এই প্ল্যানে সে মহুয়া বেগমকে রাখে নি।
শিরিন জানে আগে থেকে প্ল্যান জানলে মহুয়া বেগম একেবারে রিয়েল অভিনয় করতে পারবেন না যতটা পুরো ঘটনা সত্যি জানলে পারবেন।রিয়েল এক্সপ্রেশন না আসলে খেলা জমবে না।
মহুয়া বেগম সবে শুয়েছেন।এমন সময় হাউকাউ শুনে উঠে বসেন।
তারস্বরে ঝুনিকে ডাকেন।
ঝুনি লাফিয়ে উঠে দরজা খুলে বের হয়ে নিচে নেমে দেখে আসে।ড্রয়িং রুমে বসে শিরিন মাথা ফাটিয়ে ফেলছে ফ্লোরের সাথে।
ঝুনি ছুটে গিয়ে মহুয়া বেগমকে আপডেট দিলো।
মহুয়া বেগম ছুটে এলেন মেয়ের কান্নার কথা শুনে।
নির্জন মিরাজুল ইসলামের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, “বাবা,আমার কথা শোনো।তোমরা ভুল ভাবছো।মিনির সাথে আমার….”
নির্জন কথা শেষ করতে পারে না। তার আগেই তার গালে মিরাজুল ইসলাম থাপ্পড় বসায়।
এতো খারাপ কবে হয়েছে তার ছেলে!
এতো শাসনে থাকার পরেও নির্জন কিভাবে এসব করলো!
নির্জন আর কথা বললো না।
মহুয়া বেগম সব শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো।
মিরাজুল ইসলাম মা’য়ের পায়ের কাছে বসে বললো, “আমি এখন কি করবো মা?তুমি আমারে বুদ্ধি দাও।”
‘“দ্রুত কাজী ডাক ছক্কা।পাঁচ কান হওয়ার আগে সমাধা দিতে হবে।নিজেগো মান ইজ্জতের ব্যাপার।”
শিরিন আর্তনাদ করে বললো, “আমি কখনো আমার মেয়েরে এখানে বিয়ে দিতে চাই না।আত্মীয়ের মধ্যে আবার কিসের আত্মীয়!”
মহুয়া বেগম রাগান্বিত হয়ে বললেন, “তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে?কি বলছিস তুই?ঘটনা কি তুই জেনে শুনে কিভাবে বলছিস এই কথা?”
মিরাজুল ইসলাম কান্নারত বোনের হাত ধরে বললেন,”আপা,কান্না করিস না।আমার ছেলে মোটেও খারাপ ছেলে না।জানি না আজকে কেনো এমন করলো ও।কিন্তু বিশ্বাস কর,তোর মিনি ভালো থাকবে।তোর সামনেই তো থাকবে সবসময়। এরচেয়ে ভালো আর কি হতে পারে বল।”
শিরিন বললো, “ঠিক আছে।বিয়ে হতে পারে তবে একটা শর্ত আছে।৩০ লাখ টাকা দেনমোহর হবে।আমি জানি,নির্জনের মা কখনো সহজে এটা মেনে নিতে চাইবে না।তাই আমার মেয়ের নিরাপত্তার জন্য দেনমোহর বেশি দিতে হবে।”
মিরাজুল ইসলাম একবার মা’য়ের দিকে তাকায়। মহুয়া বেগম এই মুহূর্তে আরেকটা কথা ভাবছেন।এরকম কোনো একটা কিছু করে যদি পিয়াসা আর আষাঢ়কে বিয়ে করিয়ে দেওয়া যায়!
মিরাজুল ইসলাম রাজি হলো তাতেই।
কাজী আসতে আসতে রাতের দেড়টা বাজলো।৭ ভরি গহনা এবং নগদ ১০ লক্ষ টাকা উসুল দিয়ে সেই রাতেই মিনির আর নির্জনের বিয়ে হয়ে গেলো।
পুরো ব্যাপারটায় নির্জন নিরব দর্শক ছাড়া কিছু ছিলো না।
বলার মতো কিছু থাকলেও সে আর বললো না।
সে মেনেই নিয়েছে তার জীবনে তার কোনো মতামত নেই।সবসময় মা’য়ের সিদ্ধান্ত ছিলো সবকিছুতে।
নির্জনের মনে হচ্ছে যা হবার হোক। সে এমনিতে ও তো হাতের পুতুল যেনো সবার।
তার নিজস্ব মতামত বলে কিছু থাকতে নেই।
সোফায় হেলান দিয়ে বসে নির্জন সামনের সোফায় বসে থাকা নিজের তিন ভাই বোনের দিকে তাকালো।তাকাতেই লজ্জায় তার মাথা নিচু হয়ে গেলো। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার ভাই বোনেরা জানবে তাদের বড় ভাই কোনো এক মাঝ রাতে মিনির রুমে গিয়ে মিনির সাথে….
নির্জনের বুক কেমন ভারী হয়ে এলো।মা কেনো তাকে এমন চাবি দেওয়া পুতুলের মতো করে গড়ে তুলেছেন?
কেনো তার ভেতর মেরুদণ্ড নেই?
চাইলে সে না করতেই পারতো বিয়ে।
তবুও কেনো মায়ের উপর একটা অভিমান থেকে করে নিলো!
আজীবন তো তাকে এই অভিযোগ মাথায় নিয়ে বাঁচতে হবে।
রাত তিনটার দিকে মহুয়া বেগম মিনিকে নিয়ে এলেন নির্জনের রুমে।নির্জন নিজের ল্যাপটপ নিয়ে বসে আছে। মহুয়া বেগমের গলার স্বর শুনে নির্জন দরজা খুলে দিল। মহুয়া বেগম এবং মিনি দাঁড়িয়ে আছে।মিনির পরনে লাল জামদানি শাড়ি। নির্জন দাদিকে জিজ্ঞেস করল,”কি ব্যাপার দাদি এখন আবার কি হলো?”
মহুয়া বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন, “ কেন যে কাজ বাকি ছিল তখন, অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত কর এখন।” লজ্জায় নির্জন মাথা নিচু করে চলে এলো। নির্জনের পিছু পিছু মিনি ও ঘরের রুমে ঢুকলো।
মিনিট এখন আর ভয় লাগছে না। বরং ভীষণ আনন্দ লাগছে। যাকে সে নিজের করতে চেয়েছে, একেবারে আজীবনের জন্য নিজের করে পেয়েছে। মা এবং বোনের কাছে মিনি চির কৃতজ্ঞ থাকবে। ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে বাঁচার চাইতে মিনির মনে হচ্ছে থাক একটু কলঙ্ক, তাতে অসুবিধা কি?
যাকে সে চেয়েছে,তাকে পেয়েছে।
নির্জন মিনির দিকে তাকায়। এই মেয়েটা তার বউ?
কেমন অদ্ভুত লাগছে নির্জনের।
কই মন থেকে তো একটুও টান অনুভব করছে না সে!
মিনি দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়লো।অনেক রাত হয়েছে।
নির্জন যখন দেখলো মিনি ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও শুয়ে পড়লো।
আজকে আষাঢ়ের হাসপাতাল থেকে ছুটি। যদিও সম্পূর্ণ সুস্থ না তবুও হাসপাতালে বন্দী থাকার চাইতে ভালো আছে।
হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নির্জন একটা উবার নিলো।সোজা ছুটলো শ্যাওড়াপাড়া।
নিজের বাপ চাচাকে আষাঢ় চেনে।চেনে বলেই জানে ছোট মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার মানুষ ছোট চাচা না।
নার্গিস ফ্লোরে বসে ছিলো একটা মাদুরে।হুট করে আষাঢ়কে দেখে নার্গিস যেমন আনন্দিত হলো তেমন কষ্ট ও পেলো।আষাঢ় এসেছে তার কাছে অথচ তার নিজের ছেলে তো এলো না একটা বার ও!
না একটা বার কল করেছে।
মা’কে ছাড়া তাহলে ভালোই আছে।
আষাঢ় নার্গিসকে জড়িয়ে ধরে বললো, “একটা অযুহাত ও শুনবো না আমি।সোজা আমার সাথে চলো ছোট মা।মা নেই,তুমি নেই পুরো বাড়ি কেমন খাঁখাঁ করছে। মা না থাকা বাড়িতে প্রাণ থাকে না মা।তোমরাই তো বাড়ির প্রাণ।”
নার্গিস আজ বহু দিন পর আন্তরিক গলায় বললো, “তোর এই হাল কেনো?”
আষাঢ় হেসে বললো, “জানোই তো আমি দুষ্ট ছেলে তোমার। মারামারি হয়েছে। প্রতিপক্ষের মার খেয়ে হাসপাতালে পড়ে ছিলাম।যেদিন তুমি চলে এলে আমি ও সেদিন হাসপাতালে চলে গেলাম। আজকে আমি ও বাড়ি ফিরবো,তুমি ও ফিরবে আমার সাথে।”
নার্গিস অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, “আমার ওই বাড়িতে কিছু নেই।কার কাছে যাবো বল?তোর চাচা,চাচাতো ভাই বোন কেউই… “
নার্গিস কথা শেষ করার আগে আষাঢ় বললো, ‘“ও বাড়িতে কেউ না থাক।আমি আছি।আমি জন্ম থেকে আমার দুই মা’কে এক সাথে দেখে এসেছি। আমার জন্য যাবে তুমি। চলো।”
নার্গিস যেনো তৈরি ছিলো। কথা না বাড়িয়ে সোজা বের হয়ে এলো আষাঢ়ের সাথে।
নিজের স্বামী, শ্বশুর বাড়ি যেমনই হোক,তা নিযেরই হয়।এই যে এই কয়দিন নার্গিসের কেমন দমবন্ধ লেগেছে তা নার্গিস কাউকে বুঝাতে পারবে না।নিজেকে ভীষণ অবাঞ্চিত মনে হচ্ছিলো।যেনো স্রোতে ভেসে বেড়ানো কচুরিপানা সে।
অথচ শ্বশুর বাড়ি যেমনই হোক সেখানে তার একটা দাম আছে।
লজ্জায় নিজ থেকে যেতে ও পারছিলো না।আর একটা বার কেউ আসার জন্য নার্গিস চাতকের মতো অপেক্ষায় ছিলো।
নার্গিসকে নিয়ে আষাঢ় বাড়ি ফিরতেই নীরব,রিংকি,পিংকি সবাই এসে মা’কে ঘিরে ধরে। মুহুর্তের মধ্যে নার্গিসের মনে হয় তার যেনো হার্টবিট বন্ধ হয়ে গেছে।
মিনির আর নির্জনের বিয়ে হয়ে গেছে!
আষাঢ় নিজেও হতভম্ব হয়ে গেলো শুনে।
এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো পিয়াসা ঝুনি খালার সাথে বসে তরকারি কাটছে।
পিয়াসা উবু হয়ে বসেছে,গলার কাছ দিয়ে জামার ফাঁক দিয়ে ফর্সা বুকের কিছুটা দেখা যাচ্ছে। আষাঢ় ক্ষুব্ধ হয়।
কিছু বলতে পারে না পিয়াসাকে।তাই বিরক্ত হয়ে ঝুনি খালাকে বললো, “খালা,এসব কাজ কিচেনে করবা।এরকম ড্রয়িং রুমে এসব কাজ করার মানে কি?কোনো কমনসেন্স নেই তোমাদের?
যাও ভেতরে!”
পিয়াসা মাথা তুলে তাকায়।আষাঢ়ের দিকে তাকাতে তাকাতে উঠে রান্নাঘরে চলে যায়।
এই লোক যে সম্পূর্ণ মানসিকভাবে অসুস্থ একজন মানুষ তা বুঝতে পিয়াসার দেরি হয় না।
ওখানে বসে কাজ করায় কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে কে জানে!
পয়াসা নিশ্চিত এই লোক পিয়াসাকে দেখেই এমন করেছে।ঝুনি খালা তো উছিলা মাত্র।
নার্গিস থম মেরে বসে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর ধীর পায়ে উপরে উঠে গেলো।
এতো অধঃপতন কবে হলো তার ছেলের!
মাঝরাতে একটা মেয়ের রুমে যাওয়ার মতো শিক্ষা তো তনি দেন নি কখনো।
বরং আষাঢ়ের সাথে ও মিশতে দেন নি তেমন ভাবে যাতে আষাঢ়ের পাল্লায় পড়ে খারাপ না হয়ে যায়। সবসময় নিজের চোখে চোখে রেখেছেন,ঘরের বাহিরে বের হতে দেন নি।
সেই ছেলে এমন কাজ করলো!
হ্যালো 2441139 পর্ব ৩৮
কই এতো অবাধ স্বাধীনতা পেয়েও তো আষাঢ় ভুল করে নি কখনো?
তার ছেলে তো একবার ও তার খবর নেয় নি কিংবা আনতে যায় নি।
যে ছেলেটাকে সবসময় বেয়াদব ভেবে এসেছেন সে-ই তো তাকে ফিরিয়ে এনেছে।
এজন্যই কি মানুষ বলে বেশি শাসন করলে এভাবেই বিগড়ে যায়!
