৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৩
রুপান্জলি
,,,অর্পনা অলশ ভঙ্গিতে বইটা নিলো, হাতে নিয়ে পকেট থেকে রুমাল বের করে বইটা মুছতেই বুঝলো এটা একটা ডায়েরি। ডায়েরিটা কালো এবং বেশ মোটা, এই ডায়েরি এখন খুব একটা চলেনা। ২০১৯ এর দিকে এটার বেশ চল ছিলো। অর্পনা ডায়েরিটা ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে দেখতেই পিছনের দিকে একটা ১৯ সালের ট্যাগ দেখতে পেলো। তারমানে এটা ১৯ সালে তৈরি হওয়া ডায়েরি, এতো আগের ডায়েরি এখানে কি করছে? দেখে তো মনে হচ্ছে কারোর পারসোনাল ডায়েরি। অবাধ্য অপর্ণার কৌতুহল বাড়লো, ডায়েরিটা খুলে দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগলো মন পুটে। তবে কারোর পারসোনাল কোনোকিছু তার অনুমতি ব্যাতিতো ওপেন করা অভদ্রতা। কিন্তু তথাকথিত অপর্নাতো ভদ্র নয় তাহলে এতো কার্টিসির কি আছে? সুতরাং সে এটা টুস করে খুলে নিয়ে ঠাস করে পড়ে নিতে পারবে,, এতে লোকে তাকে অভদ্র বলার হলে বলুক। অভদ্র ডাক শুনতে তার খারাপ লাগে না। অগত্যা প্রথম পেইজ উল্টাতেই সেখানে লাভ সেইপের একটা কার্ড দেখতে পেলো। অর্পনা হুটোপুটির ন্যায় কার্ড টা খুলতেই সেখানে একটা লেখা দেখতে পেলো “” Dip&Paru””
লেখাটা দেখে ভ্রু গুটিয়ে হেসে ফেল্লো অর্পনা। কোন বলদ জানি দেবদাস উপন্যাস লিখতে গিয়ে দেব পারুর জায়গায় দ্বিপ পারু লিখে রেখেছে। পরপরি হাসি বন্ধ করে ডাইরির প্রথম পেইজে চোখ রাখতেই দেখলো সেখানে জ্বল জ্বল করে ভেষে উঠেছে “” দ্বিপ পারুর প্রেম কথন”” তারমানে এটা কোনো টাইপ মিস্টেক নয়? সত্যিই কারোর প্রেমের কাহিনি ? ভেবেই বোরিং হলো অর্পনা। আবারও সেই প্রেম ভালোবাসা? এই পৃথিবীতে কি প্রেম ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু নেই? এখন বিরক্তি লাগলেও অর্পনা এটা পড়বে। জাস্ট নিজেকে অভদ্র প্রুভ করার জন্য হলেও অন্যের পারসোনাল ডায়েরি পড়া উচিৎ। ওর ভাবনার মাঝে জুনিয়রটি বললো — আপু!! আমরা কি আরও বই নামাবো?
,,,অর্পনা ডায়েরিটা সাইড করে নিজের কাছে রেখে দিয়ে বললো — হে, কান্টিনিউ করো।
,,,তাহলে ওই ডায়েরিটা কি করবো? ফেলে দিবো নাকি রেখে দিবো?
,,, এটা আপাতত আমার কাছে থাক, গতকাল এসে লাইব্রারিয়ানের সাথে কথা বলে ফিরিয়ে দিবো। তোমরা তোমাদের কাজ করো।
,,,ছেলেদুটো মাথা ঝাকিয়ে নিজেদের মতো কাজে লেগে পরলো। অর্পনাও আগের মতো লিস্ট করায় মনোযোগ দিলো। তাদের এই বন্ধু মহলে পাঁচজন পাঁচ গুনে গুণান্বিত। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী হচ্ছে রাত্রি সে তার নামের মতোই স্নিগ্ধ এবং কোমল। লম্বায় ৫.১ হবে গায়ের রং নারকেলের খোমের মতোই ফর্সা, টানা চোখ, চোকা নাক আর গালের দুপাশ হালকা লাল, ঠোঁট দুটো সদ্য ফোটা গোলাপের পাপড়ির ন্যায় কোমল এবং সতেজ। রাত্রির মহাগুন হচ্ছে সে খুব ভালো সাজতে এবং সাজাতে পারে। তবে সবার তুলনায় অর্পনার গুন একটু বেশি, সে গান করা, গিটার বাজানো, ফটোগ্রাফি, স্কাই ড্রাইভিং, ক্যারাটে, ডান্স, বাইক রাইডে বেশ পারদর্শী। সেই সাথে রাত্রির মতো অতো সুন্দরী না হলেও তার নাম সৌন্দর্যের খাতায় না রাখলে বোধয় সৌন্দর্য ও রাগ করে বসবে। লম্বায় ৫.১, তার চোখ দুটো হরিনের মতো গোল আর বড়ো বড়ো, যখন পলক ঝাপটায় তখন দেখলে শুধু দেখতেই মন চায়, মুখের সাইজটা একদম সরু ,চিকন যেখানে সর্বদা মায়া মিস্রিত থাকে। হালকা বোচা নাক, শিমুলের তুলোর ন্যায় ত্বক, সরু, পাতলা ঠোট । ইরার গায়ের রং টা কিছুটা চাপা এবং তার স্বভাব অত্যান্ত সাদামাটা। সে যেমন সাদামাটা তেমন ওর পছন্দের রং ও সাদা। লোকে বলে শ্যামলাদের নাকি সাদা রঙে বেমানান লাগে, ঠিক ঐ কারনেই জেদি ইরা সর্বদা সাদা গাউন, সাদা কুর্তি, সাদা সালোয়ার স্যুট পরে থাকে।
মোট কথা হচ্ছে লোকের যা সহ্য হয়না সে ঐটাই করবে, কি এমন ঠেকা পরেছে যে অন্য লোকের কথামতো জীবন ঝাপন করতে যাবে? ওসব ভদ্রতা চুলোয় যাক, যেই ভদ্রতা আমাদের আত্মসম্মানকে আমের আটির মতো মাটিতে লুটোপুটি খাওয়ায়। সে লম্বায় ৫ ফিট ২, গায়ের রং শ্যমলা, শরু চোকা নাক, ঠোট টা গাড়ো বাদামি, অত্যন্ত এভারেজ চেহারা সেখানে মায়া বেতিত এক্সট্রা কিছুই খুজে পাওয়া যায়না। ইরা আর্ট এন্ড ক্রাফ্টে বেশ পারদর্শী। তাদের বন্ধু মহলে নামকরা ছেকাখোর হচ্ছে পল্লব, তার বর্তমানে ১৮ টা এক্স জমা হয়েছে। কজ অফ,, মেয়েদের ন্যাকামি। সে ব্যাচারা ন্যাকা মেয়েদের টলারেট করতে পারেনা। তাই আপাতত ১৮ জনের সাথে ব্রেকআপ করে নিজেই মাঝেমধ্যে ডিপ্রেশনে চলে যায়। কবে তার মনের মতো একটা মেয়ে পাবে? যে তার মতো স্ট্রং মাইন্ডের হবে, কথায় কথায় প্যারা দিবেনা। পল্লব দেখতে খুব সুন্দর যেকোনো মেয়েরা প্রথম দেখায় মুগ্ধ হতে বাধ্য। আপাতত পল্লবের এই মেয়ে পটানোর গুন ব্যাতিত কিছুই নেই। বলতে গেলে পল্লবের একটা গার্লফ্রেন্ডকেও তারা সচক্ষে দেখেনি তবে সে মেয়েদের সাথে ভালোই ফ্লার্টিং করে। এরপর বাকি থাকে অরুণ , সে পড়ালেখায় দূরন্দর, পরিসংখ্যান ডিপার্টমেন্টে সে বরাবর ফাস্টক্লাস। তার হাতের লেখা প্রিন্টের থেকেও সুন্দর, যেনো একেকটা অক্ষর তার ম্যাজারম্যান্ট অনুসারে বসানো। গায়ের রং লাল ফর্সা, দেখতে বেশ সুন্দর তবে পল্লবের মতো অতোটা নয়। ওরা দুজনেই লম্বায় ৫ ফিট ৯। পিছন থেকে দেহের গঠন দেখে বুঝার উপায় নেই কোনটা অরুন আর কোনটা পল্লব। ওদের পাঁচ জনের বন্ধুত্ব হয়েছিলো একপ্রকার অদ্ভুত ভাবেই।
,,,,,অর্পনা তখন ফাস্ট ইয়ার, ভার্সিটির এন্ট্রি গেইট পেরুতেই সিনিয়রদের ক্ষপ্পরে পরে। অর্পনা বরাবরই জেদি, তথাকতিথ অভদ্র, তাই নিজেকে অভদ্র প্রমান করতে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয়। এট লাস্ট তর্ক শেষে সিনিয়র রা যখন ওকে ছেড়ে দেয় তখন সে ফিরতি ঘাড়তেরামি করে বলে — এতোক্ষণ আপনাদের দেয়া টাস্ক নিতে আমি রাজি হয়নি। কারন, আমার কারোর হুকুম মানতে ভালো লাগেনা। এখন আমার মর্জি হয়েছে একটা টাস্ক নিতে, বলুন কি করা লাগবে? কঠিন কিছু দিবেন, আলতু ফালতু কাজে আমি আবার এন্টারটেইন খুজে পাইনা।
,,,ওর অভদ্র বেপোরোয়া আচরন দেখে সিনিয়র রা চরম খেপে গিয়েছিলো। আবার শুরু হয় তর্কাতর্কি। সেখানে থাকা একটা ছেলে জানতো, অর্পনা ডিটেক্টিভ আরশাদ জামানের মেয়ে। তাই সবাইকে ওর কথা মেনে নিতে বলে। এট লাস্ট সেখানে থাকা একটা মেয়ে রাগের তোপেই ওকে টাস্ক দেয়। টাস্ক টা এমন ছিলো যে, এই মুহুর্তে ভার্সিটির গেইট দিয়ে যে ঢুকবে তাকেই হাটু গেড়ে প্রপোজ করতে হবে। এট দ্যা সেইম টাইম একসাথে তিনজন ভার্সিটির গেইটে পা রাখে আর তারা হচ্ছে পল্লব অরুন আর ইরা। এই তিনজন আবার আগে থেকেই বন্ধু ছিলো, একসাথে একই কলেজে পড়েছে এখন আবার ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। একসাথে তিনজনকে ঢুকতে দেখে সবাই অর্পনার সাথে বেশ মজা নিচ্ছিলো। কারন নিয়ম মাফিক ওকে এখন তিনবার হাটু গেড়ে তিনজনকে প্রপোজ করতে হবে। অর্পনা তাদের মজা উড়ানোকে এক প্রকার পায়ে পিসে এটিটিউড সমেত তিনজনার সামনে দাড়ালো পরপর হাটু গেড়ে মুখ বাকিয়ে হেসে বলেছিলো —
,,,তরা আজ থেকে আমার বন্ধু, ওকে? না করার চান্স নেই, আমি বলেছি মানে তরা আমার বন্ধু । আর হে!! আমার বন্ধু হতে গেলে কিছু রুল্স মানতে হবে,, আমি যেভাবে ইচ্ছা চলবো কোনো কমেন্ট করতে পারবিনা,, খারাপ কাজ করি কিংবা ভালো কাজ, সবকিছুতে আমার সঙ্গ দিতে হবে,, সারাদিন ঝগড়া করলেও ছেড়ে যাওয়ার চান্স নেই,, সার্থপরের মতো পল্টিবাজি করা বন্ধ,, স্মোক করার স্বভাব থাকলে এখন থেকে এভোয়েট করবি। কারন, আমার স্মোকার পছন্দ না। এর মধ্যে একটা রুল্স ব্রেক করলে লাত্থি দিয়ে ফ্রেন্ড সারক্যাল থেকে বের করে দেওয়া হবে। আন্ডারস্ট্যান্ড? এবার হাত মিলা।
,,,একটা অচেনা মেয়ের অদ্ভুত আচরন দেখে তারা প্রথমে তিনজন ভরকে গেলেও পরবর্তীতে নিজেদের মতো একটা আইটেম পেয়ে খুশি খুশি হাত মিলিয়ে নিলো। অর্পনার দেওয়া রুল্স গুলো তাদের ও বেশ মনে ধরেছে,, সুস্থ ফ্যামিলির সন্তান হওয়ায় অরুন আর পল্লব কারোরই স্মোক করার অভ্যাস ছিলোনা। সুতরাং আদ পাগল অর্পনার সাথে আরও তিনটা আদ পাগল যুক্ত হলো। তার এক থেকে দের মাস পর অরুনের সাথে ঝগড়ার মাধ্যমে তারা রাত্রিকে পায়। ওরা চারজন তখন কার্জন হলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো এমন সময় একটা মুড়ির ঠোঙা এসে অরুনের মুখের উপর পরলো। অরুন দাত কটমট করে ঠোঙা কোতা থেকে এসেছে সেটার উৎস খুজেতেই ভাবের কলসি রাত্রিকে দেখতে পেলো। সে মহা আনন্দে মোবাইলের ক্যামেরায় তাকিয়ে নিজের ঠোটে লিপস্টিক দিচ্ছে। এদিকে তার খাওয়া মুড়ির ঠোঙা উড়ে কার মাথায় পরলো সেদিকে যেনো তার কোনো খেয়ালি নেই। অরুন রেগে মেগে মুড়ির ঠোঙা টা রাত্রির মুখে ছুড়ে মেরে বললো — এইযে ভাবের কলসি, এটা কি হলো?
,,,কি হলো?
,,,মুড়ি খেয়ে মুড়ির ঠোঙা ডাস্টবিনে না ফেলে আমার মাথায় ফেলা কি ধরনের ভদ্রতা?
,,,রাত্রি ভাব নিয়ে বললো — আমি তো ঠিক জায়গায় ই ফেলেছি, আপনি রেগে যাচ্ছেন কেনো?
,,,মানে কি? এখানে ডাস্টবিন কোথায় পেলেন আপনি?
,,, রাত্রি তার ফোন এগিয়ে দিয়ে অরুনের মুখের সামনে ধরে বললো — এইযে ডাস্টবিন, ভালো করে দেখে নিন।
,,,হোয়াট? আমাকে আপনার ডাস্টবিন মনে হয়?
,,,হুম!! একদম।
,,, তারপর দুজনের উধম ঝগড়া চললো, কেউ কাউকে ছাড় দেওয়ার মতো না। এদিকে অর্পনা, পল্লব আর ইরা বুকে হাত বেধে ওদের ঝগড়া দেখছে। ওদের এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অরুণ ওদের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো — তরা এখানে সিনেমা দেখতে এসেছিস? এই মুরির ঠোঙাকে কিছু বল।
,,রাত্রি তর্জনী আঙ্গুল তুলে শাসিয়ে বললো– ডন্ট কল্ড মি মুরির ঠোঙা, মাই নেইম ইজ রাত্রি। ওক্কে?
,,, অরুন কিছু বলতে নিলে অর্পনা থামিয়ে দিয়ে বললো — তদের ঝগড়া আমাদের ভালো লাগছে। সুতরাং, আজকের পর আমাদের ভালো লাগানোর জন্য হলেও তদের একসাথে থাকা চাই। এইযে রাত্রি নাকি পাত্রি, আজ থেকে তুই আমাদের বন্ধু। পল্লব ওকে ফ্রেন্ডশিপের রুল্স গুলো বুঝিয়ে দে।
,,,এভাবেই হুটহাট কোনো আয়োজন ছাড়া ওদের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তারপর একসাথে পথ চলতে চলতে আজ ওরা তৃতীয় বর্ষে রানিং। এই তিন বছরে তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন ভাঙার বদলে বহুগুণ দৃঢ় হয়েছে। একে অপরের অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়েছে। কাজ শেষ হতে হতে সন্ধ্যা প্রায়। বই নামানো তারপর লিস্ট করে ভালো ভালো বইগুলো সাজিয়ে রাখা, এর মাঝে খাওয়া দাওয়া, টুকটাক গান বাঝনা, আড্ডা, এভাবেই কেটেছে পুরোটা সময়। যেই জুনিয়র গুলো এসেছিলো তারা এখন এই পাঁচ জনের অনেক বড়ো ফ্যান। ভার্সিটি লাইফে ফ্রেন্ড সারক্যাল অনেক দেখা যায় তবে, এই ফ্রেন্ড সারক্যাল টা আলাদা। সবগুলাই ঘাড় ত্যারা তবে মন খুব ভালো, সাথে ওদের স্ট্রং ফ্রেন্ডশিপ।
,,,, ঠাস ঠাস বুলেট ছুড়া আর লাফ জাপ দিয়ে ফ্রি ফায়ার খেলায় মত্ত অর্পনা এটা তার অন্যতম ফেভারিট কাজ। ওসব টিকটক, ইন্সটা, রিল্স তার পোষায়না, মুভি টুভি দেখাতো একেবারেই অপছন্দের।
অর্পনা যখন এনিমি মারতে ব্যাস্ত তখনি হাত থেকে ফোনটা কেরে নিলো কেউ। অর্পনা জানে এই কাজটা কার, ঐ হেংলা প্রোফেসর বাদে এই কাজ কেউ করতেই পারেনা। অর্পনা দাতে দাত চেপে কিছু বলতে নিবে তখনি আদ্রিয়ান ওর দিকে ঝুকে মুখ চেপে ধরে বললো– একদম চুপ!! কোনো কথা বললে অন্য ভাবে মুখ বন্ধ করতে বাধ্য হবো।
,,,অর্পনা বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকালো, ঝুকে আসার ফলে আদ্রিয়ান অর্পনার মুখের অনেকটা কাছাকাছি। সহসা আদ্রিয়ানের বুকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলো। আদ্রিয়ান কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে অর্পনার হাত রাখা জায়গাটায় হালকা ম্যাসাজ করে বললো–
,,,থ্যাঙ্ক ইউ!! এখানে খুব যন্ত্রণা হচ্ছিলো, তুমি ছুয়ে দেওয়ার সাথে সাথে যন্ত্রণা কমে গিয়েছে। এরকম করে মাঝে সাজে ছুয়ে দিয়ো জানেম, তাহলে আমাকে রেগুলার পুড়তে হবেনা।
,,,অর্পনা দাঁতে দাঁত চেপে উঠে বসলো তার দৃষ্টি আদ্রিয়ানের হাতে থাকা ফোনে স্থির। মুখের ভিতর একসাথে ছয়টা চুইঙ্গাম দিয়ে রাখার ফলে কথা বলতে পারছেনা। আদ্রিয়ান ধপ করে অর্পনার পাশে বসে পরলো। পরপর হাতে থাকা ফোনটা ঘুড়াতে ঘুড়াতে বললো– অর্পন!! তুমিতো খুব ভালো রাইড করতে পারো তাইনা?
,,,অর্পনার চোখে জিজ্ঞাসা, এমন প্রশ্ন করার কারন কি? আদ্রিয়ান সেটা বুঝতে পেরে বললো– তোমার উচিৎ আমার মনের রাজ্যটা একবার ঘুরে আসা। তাহলে বুঝতে পারতে আমি তোমাকে ঠিক কতোখানি ভালোবাসি।
,,,অর্পনা বিরক্তিতে চোখ ঘুড়ালো, আদ্রিয়ান এবার সিরিয়াস ভঙ্গিতে অর্পনার দিকে ঝুকে বললো — ইদানীং দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ, তোমার উচিৎ একটা সেইফ জায়গায় আশ্রয় নেওয়া।
,,অর্পনা মুখের চুইঙ্গাম এক গালে রেখে বললো– রাফেজের ভিডিও থেকে ফ্লার্টিং শিখে আমার সাথে ফ্লার্ট করতে আসলে এক লাত্থি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিবো। অন্যের ফোন কেরে নেওয়া কেমন অসভ্যতা? আমার ফোন দিন।
,,,দিবোনা!!
,,,কেনো? এটা কি তর বাপের মোবাইল?
,,,না এটা আমার বউয়ের মোবাইল। বউ, ও বউ,, বউগো! একবার বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাও, তাহলে মোবাইল দিয়ে দিবো। প্রমিজ!!
,,,এই লোকের প্রতি এমনি বিরক্তির শেষ নেই এখন মোবাইলের জন্য বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। এই একটা মোবাইল না পেলো কি হবে? তার বাবার টাকার অভাব পরছে? এরকম দু তিনটে আইফোন প্রতিমাসে কিনতে পারবে। আজাইরা!! ভেবেই আদ্রিয়ানের হাত চেপে ধরলো অর্পনা সাথে সাথে ফোনটা অন্য হাতে নিয়ে পকেটে পুরে নিলো আদ্রিয়ান। অর্পনা সেটা দেখে হাসলো, পরপর মিষ্টি করে হেসে বললো —
,,,কফি খেতে মন চাচ্ছে,, একটু কফি বানিয়ে আনবেন প্লিজ!!
,,,আদ্রিয়ানের চোখে অবাকতা। অর্পনা তার সাথে মিষ্টি করে কথা বলছে? বিষয়টা আকাশের চাঁদ পাওয়ার থেকেও অধিক আনন্দের। আদ্রিয়ান তারাহুরো করে উঠে বললো — তুমি দুটো মিনিট অপেক্ষা করো জানেম, আমি এখোনি আসছি।
,,,বলেই তারাহুরো করে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো। আদ্রিয়ান বেরুতেই অর্পনা ঠাস করে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিলো। জীবনে একটু শান্তির প্রয়োজন,, এসব ভালোবাসাময় প্যারা তাকে খুব বিরক্ত করে। ভালোবাসা কথাটা ভাবতেই সন্ধায় পাওয়া সেই ডায়েরিটার কথা মনে পরে গেলো।আচ্ছা!! সেটাতো পড়া হলোনা,, এখন যেহেতু হাতে মোবাইল নেই সেহেতু ডায়েরি পড়েই সময় নষ্ট করা যাক। এটা তো সময় নষ্টই, অন্যের প্রেম কাহিনী পড়ার চেয়ে আজাইরা কোনো কাজ হয়? অগত্যা বুক সেল্ফ থেকে ডায়েরিটা নিয়ে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পরলো, দুপা পড়ার টেবিলে ক্রস করে রেখে ডাইরির প্রথম পেইজটা উল্টালো, সেখানে খুব সুন্দর করে গুটি গুটি অক্ষরে লেখা,,
( বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম)
,,,,আজ ৩৭০ টাকা দিয়ে একটা ডাইরি কিনে আনলাম, ইদানিং জিনিস পত্রের যা দাম!! সামান্য কাগজের দাম কিনা ৩৭০ টাকা। ভাবা যায়? তবে কেনার সময় কাগজের দাম অত্যাদিক লাগলেও, কিনার পার যখন তাতে প্রিয় মানুষের নাম লেখা হয়, তখন যেনো সকল আফসোস মাটি চাপা পরে যায়। কারন,তখন তার একেকটি অক্ষরের দাম হয় লাখ টাকার শামিল। গল্প সিনেমায় দেখি অনেক নাইকারাই তাদের জীবন কাহিনি ডায়েরির ভাজে বন্দী করে রাখে।আমার জীবনের এই পর্যায়ে এসে খুব করে ইচ্ছা করলো জীবনের একাংশ লিখি, যেটুকু আমার কাছে বড্ড ইম্পর্ট্যান্ট। এই পাঁচটা মাসে আমি যা পেয়েছি তার ব্যাখ্যা এই ডায়েরি কেনো? হাজারটা উপন্যাস লিখেও ব্যাক্ত করতে পারবোনা। তবুও আমার এই স্বল্প প্রচেষ্টা,,,
,,,সেদিন ছিলো আমার ভার্সিটির ১ম দিন,,,
২৬ / ০২ / ২০১৯
,,, আজকে সূর্যের আলোক ছটা প্রখর হলেও, বাতাসের প্রভাবে রোদ তেমন একটা গায়ে লাগছেনা। মাঝেমধ্যে সূর্যের আলোয় চোখ জ্বালা করলেও গরম অনুভূত হওয়ার চান্স নেই। মাঠের এক প্রান্তে লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট রা। এগুলো সব বাংলা ডিপার্টম্যান্টের। ভার্সিটি লাইফে রেগ জিনিসটা বড্ড ফেমাস,, এগুলো যেনো সিনিয়রদের নির্দিষ্ট করা অধিকার । বছরের শুরুতে কিংবা মাঝামাঝি সময় গুলোতে জাস্ট এন্টারটেইন এর স্কোপ হিসেবে সিনিয়র রা বরাবর ফ্রেসারদের ধরেই টান দেয়। তাদের ও বা দোষ কোথায়? তারা এসে থেকে যে ভোগান্তি সহ্য করে এসেছে, তা অন্যের উপর রিপিট করার সুযোগ পেলে হাতছাড়া করবে কেনো? মাত্রই দুটো ছেলে সিনিয়রদের কথায় কোমর দুলিয়ে নাচলো, একটা মেয়ে তো ভয়ে প্রায় কেদেই দিয়েছে। ঐ মেয়েটার মতোই অবস্থা হচ্ছে পারমিতার। সে গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ একজন মেয়ে, আব্বু কতো শখ করে তাকে এখানে পাঠালো যেনো ভালো রেসাল্ট করে নিজের পায়ে দাড়াতে পারে। অথচ এসেই কি এক বিপদে পরে গেলো মেয়েটা, যদিও আব্বু আগে এই বিষয়টা নিয়ে তাকে সতর্ক করেছিলো কিন্তু সে তেমন একটা পাত্তা দেয়নি। এখন মনে হচ্ছে আব্বুর কথাটা সিরিয়াসলি নেওয়া প্রয়োজন ছিলো। পারমিতার ভয়গুলোকে দ্বিগুণ করে দিতে এবার তার ডাক পরলো। সামনে দাড়িয়ে থাকা পাঁচ জন ছেলে আর তিনজন মেয়েকে দেখে ভয়ার্ত ঢোক গিললো পারমিতা। ছেলেগুলোর মধ্যে থাকা একটা ছেলে অত্তন্ত ব্যাঙ্গাক্তক স্বরে ডাকলো —
,,,এইযে তেলবতী সামনে এসো, এভাবে কাঠের পুতুল সেজে দাড়িয়ে থাকলে হবে?
,,,পারমিতা ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলো, মন চাচ্ছে এখান থেকে এক ছুটে পালিয়ে যেতে কিন্তু তা বোধয় সম্ভব না। পারমিতা ভয়ার্ত পা ফেলে ওদের সামনে এসে দাড়াতেই একজন অতিবো সুন্দরী মেয়ে তার মুখের সামনে পরে থাকা কগাছি চুল হাতে নিয়ে পরখ করতে করতে বললো — বাহ!! এতো দেখি সত্যি ই তেলবতী।ফারদিন তর চোখের পাওয়ার কিন্তু মাশাল্লাহ!! তকে এই সপ্তাহেই সেরা চোখের জন্য এওয়্যার্ড দেওয়ার ব্যাবস্থা করে দিবো। তো!! তেলবতী? মাথায় এতো তৈল মর্দন করার কাহিনী কি?
,,,পারমিতা মাথা নত করে রাখলো, সে তো ছোট থেকেই মাথা ভর্তি করে তেল দেয়। ছোট বেলায় সে একদমই তেল দিতে চাইতোনা যার ফলে তার লম্বা এবং হালকা কোকড়া চুল গুলো ফুলে থাকতো। তখন আম্মু এক প্রকার জোর করেই তার মাথা ভর্তি করে তেল দিয়ে দিতো,, এখন অবশ্য তেল না দিলে তারই খারাপ লাগে। কেমন মাথাটা ব্যাথা ব্যাথা করে। সে মাথা নত করে বললো– তেল না দিলে মাথা ব্যাথা করে আপু।
,,, সাথে থাকা আরেকটা ছেলে হেসে ফেলে বললো — তা বেশ তা বেশ!! তো তেলবতী তোমার নাম কি?
,,,, পারু!! ম,মানে পারমিতা হামিদ।
,,, পারু? বাহ বাহ!! তো কোন পারু? দেবদাশের পারু? এই!! তুমি আবার কোনো দেবদাশকে ছেক্কা টেক্কা দিয়ে পালিয়ে আসোনিতো?
,,,পারমিতা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো। সে জানেনা দেবদাশ কে? কি তার পরিচয়? পরমিতাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরেকটা মেয়ে বললো — কি শুরু করেছিস তরা? মেয়েটাকে খুব ভদ্র মনে হচ্ছে, ছেড়ে দে।
,,,তখন আরেকটা মেয়ে তার কথায় প্রতিত্তর করে বললো — ওপ্স!! কি যে বলিস,, ভদ্র তো আমিও ছিলাম। বাট!! আমাকে দিয়ে সিনিয়র রা ক্যাম্পাস ঝাড়ু দেইয়েছিলো। আমার বুঝি সেদিন ভালো লেগেছিলো? ভার্সিটি লাইফে ভদ্রতা ইকুয়েল টু বোকামি। এইযে তেলোবতী!! তোমাকে কি টাস্ক দেওয়া যায় বলোতো?
,,,পারমিতা মিনমিন করে বললো– আপু আমাকে ছেড়ে দিন, প্লিজ!!
,,, সেখানে থাকা সবচেয়ে সুন্দরি মেয়েটি প্রগাঢ় দৃষ্টি ফেলে পারমিতার দিকে তাকালো,, পারমিতা নামক মেয়েটা বেশ সুন্দরী,, লম্বা চুল, হরিণী চোখ, টানা ভ্রু, হালকা বুচা নাক, পদ্ম কোমল ঠোট, লম্বায় আনুমানিক ৫ ফিট ১ হবে, ছিমছাম গড়নে একটা সাদা মাটা সালোয়ার স্যুট, গায়ে আটসাট করে উড়না পেচানো, তেল চুপচুপা লম্বা চুলগুলো বেনি করে সামনে এনে রাখা। দেখতে একদম ভোলাভালা গাইয়া মেয়ে মনে হচ্ছে,,, মেয়েটাকে দেখতেই তার হাসি পাচ্ছে, এই যুগে কেউ এভাবে চলাচল করে? সত্যি!!
ওর ভাবনার মাঝেই অথৈ আঙুল উচিয়ে ক্যাম্পাসের এক কোনায় দেখিয়ে বললো–
,,,এইযে তেলোবতী!! ওখানে একটা ছেলেকে দেখতে পাচ্ছো? বাইকে হেলান দিয়ে চিল মুডে সি*গারেট খাচ্ছে। এটা ওর প্রধান কাজ, ও সি*গারেটের আগে নিজের বাবা মাকেও রাখেনা। এখন তোমার টাস্ক হচ্ছে, ওর হাতে থাকা সি*গারেট টা এনে আমাদের হাতে দেওয়া। যাও নিয়ে আসো।
,,, পারমিতা ঠোঁট কামরে সেই লোকটার দিকে তাকালো। বাপরে কিভাবে নাক মুখ দিয়ে ধুয়ার কুন্ডলী ছাড়ছে,, এভাবে কেউ সি*গারেট খায়? প্রানের মায়া নেই বুঝি? হার্ট যখন ডেমেজ হয়ে পরবে তখন বুঝবে সিগারেট খাওয়ার ফল। ভাবতে ভাবতে ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে চললো পারমিতা।
( এটুকু পরে দম নিলো অর্পনা, পরপর উঠে ইউগা স্টাইলে বসে পিঠের পিছনে বালিস রেখে তাতে হেলান দিয়ে বিরবির করে বললো— বাহ!! ইন্টারেস্টিং তো!! মেয়েটার বর্ননা একদম আমার সাথে খাপেখাপ। ইসস!! আরেকটু তারাতারি জন্ম নিলে সেই তেলবতীকে দেখতে পেতাম। ওপ্স!!! ৩ ইয়ার্স লেইট।)
,,, সিগা*রেট টা একটু দেয়া যাবে?
,,,আকষ্মিক এরুপ বাক্য কর্নকূহর হতেই শব্দ অনুসরন করে ফিরে তাকালো দ্বীপ। শব্দের মালিককে পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্কেন করে ভ্রু কুচকালো। পরপর আরও কিছুটা সময় তাকিয়ে থেকে এক ভ্রু উচিয়ে জিজ্ঞেস করলো —
,,,দেখে তো ভোলা ভালা নারী মনে হয়, সি*গারেট দিয়ে কি কাজ? টান দিবা নাকি? নতুন আরেকটা ধরিয়ে দিবো?
,,,সামনে থাকা লম্বা চওড়া গড়নের যুবকের নির্লিপ্ত জবাবে খানিক কেপে উঠলো পারমিতা।গ্রামের অতিবো সচ্ছ প্রকৃতির মেয়ে হওয়ার দরুন নারী জাতিরাও যে সি*গারেটে অভ্যস্ত সেটা জানা নেই তার। বাবা চাচাকেও এসব খেতে দেখেনি কোনোদিন তবে তাদের গ্রামের পান্ডু মাস্তানটা দিন দুপুরেই এসব নিষিদ্ধ জিনিস খায়। আর পারমিতার মা সবসময় বলে,, যেসব পুরুষরা এরকম নিষিদ্ধ জিনিসে মুখ ছোয়ায় তার ভালো পুরুষ নয়। মায়ের কথানুযায়ী সে ধরেই নিলো সামনের পুরুষটি খারাপ, তাই পারমিতা ভয়ে সংকোচে মাথা নেরে বললো —
,,, না না!! আমি ভালো মেয়ে, আমি এসব খাইনা।
,,,তাহলে চাইলে কেনো?
,,,পারমিতার একটা বদ অভ্যাস আছে, সে সামনের মানুষের চোখে চোখ না রেখে কথা বলতে পারেনা, কিভাবে কিভাবে যেনো দৃষ্টি মিলেই যায়। প্রতিবারের ন্যায় আজো তাই হলো, পারমিতা তার নজর সোজা দ্বীপের নজরে স্থির করলো, সাথে সাথে আবার চোখ নামিয়ে নিলো সে। এতোটা ভয়াঙ্কর সুন্দর চোখ পারমিতার উনিশ বছরের জীবনে কোনোদিন দেখেনি। চিলের ন্যায় তিক্ষ্ন টানা টানা ভ্রুদ্বয়েরর নিচে বিড়ালের মতো দুটো ধূসর রঙা চোখ। যার সৌন্দর্য এতোটাই গভীর ছিলো যে পারমিতা সেই চোখ থেকে চোখ সরিয়ে লোকটার চেহারা অবলোকন করার মতো সুযোগ পায়নি, মনে হয়েছে এক পলক তাকানোতেই পারমিতার চোখ ঝলসে যাবে। তাদের গ্রামে এসব চোখ কে নারকেলের খোমের মতো চোখ বলা হয়, আর এসব চোখের অধীকারিদের বলা হয় অপয়া। তবে পারমিতার কেনো যেনো সামনের খারাপ পুরুষটিকে অপয়া মনে হলোনা। বরং বিড়াল চোখা ধারী অসম্ভব সুদর্শন পুরুষ মনে হলো। পারমিতা যখন মনে মনে সামনের পুরুষের চোখের বর্ননা দিতে ব্যাস্ত, তখনি ভেষে এলো একটা কর্কশ ধ্বনি,,,
,,,এই মেয়ে!! কানে কথা লেনদেন হয়না?
,,,আকষ্মিক ধমকে কেপে উঠলো পারমিতা, নিজেকে প্রস্তুত না করেই তারাহুরো করে দূরে দাড়ানো কয়েকটা ছেলে মেয়েদের দিকে আঙুল তাগ করে বললো —
,,ওইখানে দাড়িয়ে থাকা ভাইয়া আপুরা বলেছে আপনার থেকে সি*গারেট নিয়ে যেতে।
,,,দ্বীপ ঠোঁট কামরে পারমিতার তাক করা স্থানে থাকা প্রত্যেকের মুখশ্রী পরখ করে একটা তপ্ত শ্বাস ফেললো। পরপর পারমিতার হাতে নিজের আধপোড়া সি*গারেট টা ধরিয়ে দিয়ে ফের ধমকের স্বরে বললো —
,,,, ৫ সেকেন্ডের মধ্যে স্থান ত্যাগ করো, নয়তো দ্বীপ জোহান মির্জার আধপোড়া সি*গারেট চাওয়ার অপরাধে, তোমায় অমুল্য খেসারত চোকাতে হবে।
,,পাঁচ সেকেন্ড কিনা জানা নেই তবে সি*গারেট হাতে পেতেই একপ্রকার দৌড়ে স্থান ত্যাগ করলো পারমিতা। ভয়ে বুকটা এখনো ঢিপ ঢিপ করছে, এতোটা ভয় সে কোনোদিন পায়নি। এমনকি তাদের গ্রামের সেই ভয়াঙ্কর গোরস্থান পেরুনোর সময়েও তার এতোটা ভয় লাগেনি যতটা ভয় লাগলো ঐ খারাপ পুরুষটাকে।
,,, পারমিতা স্থান ত্যাগ করতেই বাইকের গায়ে হেলান দিলো দ্বীপ, নতুন করে আরও একটা সি*গারেট ধরিয়ে সেটাতে বড়ো করে একটা টান দিয়ে বির বির করে দুটো লাইন উচ্চারন করলো—
,,, কাজল কালো দুটো চোখে,,সে যখনি আমায় দেখে।
,,পরেনা চোখেতে পলক ,, আর আসেনা কথা মুখে,,,
,,,, পারমিতা এক প্রকার হাপাতে হাপাতে সিনিয়রদের কাছে গিয়ে পৌছালো। ওকে এতো দ্রুত ফিরতে দেখে ৮ জন তব্দা খেয়ে তাকিয়ে আছে। সেই সাথে সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে পারমিতার হাতে দ্বীপের আদ খাওয়া সি*গারেট দেখে। এটা কিভাবে হতে পারে? যে কিনা সি*গারেটের আগে নিজের বাবা মাকেও স্থান দেয়না, সেই ছেলে এই গাইয়া মেয়েকে এটুকু সময়ের মাঝে সি*গারেট দিয়ে দিলো? অথৈ নামক মেয়েটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো— তোমাকে সত্যি সত্যি ই দিয়ে দিলো?
,,, পারমিতা মাথা নাড়িয়ে হে জানালো। ৮ জন একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতেই সেখানে থাকা একটা ছেলের ফোনে মেসেজ টোন বেজে উঠলো। সাথে সাথে ছেলেটির মুখে নামলো গাড়ো অন্ধকার, সে কোনো কথা বার্তা ছাড়াই ফাস্ট ইয়ারের বাকি স্টুডেন্টদেরকে ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দিলো। সবার সাথে সাথে পারমিতাও জায়গা থেকে প্রস্থান করলো। সবাইকে ছেড়ে দিতে দেখে সেখানে থাকা সুন্দরী মেয়েটা ওরফে সিমরান ফাহাদের উদ্দেশ্যে জানতে চাইলো — সবাইকে ছেড়ে দিলি যে? আজকে আর রেগ টেগ হবেনা?
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ২
,,,, ফাহাদ কিছুটা রাগি কন্ঠে সুধালো — তদের কে বলেছে ঐ মেয়েকে দ্বীপের কাছে পাঠাতে? মনে হচ্ছে বেশ রেগে আছে, এবার ওকে কে সামলাবে গিয়ে সামলা।
,,,বিহান হাতে থাকা ফোনটা পকেটে গুজে বললো — তরা থাক, আমি দেখছি কি হয়েছে।
