Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮০

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮০

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮০
সাইয়্যারা খান

বাইরের আবহাওয়ার ক্রমশই অধঃপতন ঘটছে। তুষার ঝড় বইছে সেই রাত দশটা থেকে। রুমের মাঝে ফায়ার বক্সের আগুনটা এখনও জ্বলে যাচ্ছে। তৌসিফ আধ ঘন্টা আগেই ওটা নেড়েচেড়ে দিয়ে এসেছে। পৌষ ঠান্ডায় বারবার গুটিয়ে যাচ্ছে। দেশে এমন শীত কখনো পড়ে না। হঠাৎ শীতের মধ্যে তুষার ঝড়ে পৌষের অবস্থা নাজেহাল। তৌসিফের বুকের মাঝেই লুকিয়ে আছে কিছুটা। তৌসিফ ঘড়ির দিকে তাকালো। পেন্ডুলাম এদিক ওদিক দুলছে, কাটা গিয়ে আটকেছে আপাতত তিনটার ঘরে। তৌসিফ পৌষকে নিজের আরেকটু কাছে টানলো। পৌষ নিজের শরীরটা কেঁপে কেঁপেই তৌসিফের উপর তুলে দিলো। চিকন দেহটার ভার বইতে তৌসিফের কষ্ট হলো না, আদরে আদরে অস্থির করে দিতে মন চাইলো। পৌষের মুখটা ওর কাঁধের দিকে গুঁজে রাখা। উষ্ণ উষ্ণ নিশ্বাস ছাড়ছে ও। তৌসিফ ওর চুলের ভাজে হাত বুলাতে বুলাতে কানের কাছে মুখ নিয়ে প্রশ্ন করলো,

“ইজ ইট হার্টিং হানি?”
“অল্প অল্প।”
“বেশি না তো?”
“উঁহু।”
তৌসিফ ওর মাথায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। পৌষের পরণে তৌসিফের শার্টিন সাদা শার্ট। এক হাত বাড়িয়ে ওর কোমড়ের চেইনটা ছুঁয়ে দিলো। চোখে এখনও ভাসছে পৌষের ঐ রূপ যা তৌসিফ কিছুক্ষণ আগে নিজ চোখে দেখেছে। যেই সাজ তৌসিফ নিজে নষ্ট করেছে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে তৌসিফ সামান্য অস্থির হলো। নিজেকে সামলানোর চেষ্টা তারমধ্যে নেই তবুও আগে পৌষের কম্ফোর্ট দেখলো৷
“হানি?”
“ঘুমাতে পারছি না। খুব ঠান্ডা।”
“ফায়ার ইজ অন হানি।”
“টিকতে পারছি না৷ হাত-পা আঁকড়ে যাচ্ছে আমার। আমাকে বুকে নিয়ে রাখুন শক্ত করে।”
তৌসিফ ওকে শক্ত করে বুকে জড়ালো। ঘাড়ে মুখ গুঁজে আস্তে করে বললো,
“ঠান্ডা বাদে তো সমস্যা নেই না?”
“আপাতত না।”
“তাহলে আমি….।”

পৌষ সামান্য চমকে উঠে মুখ তুলে তাকালো। তৌসিফের চোখ দুটো কথা বলছে তখন। পৌষের পেটে হাত রেখে তৌসিফ কাছে আসতে আসতে বললো,
“আমরা হানিমুনে আছি।”
“আমি জানি।”
“দ্যান….।”
“মোটেও না।”
“তুমি বলেছো ঠান্ডা লাগছে। আমি উষ্ণতা দিব শুধু।”
“লাগবে না। সরুন।”
“উঁহু, তুমি বলেছো খারাপ লাগছে না।”
“তাই বলে এমন করবেন আপনি? ঘুমাতে দিন।”
“না মানলে আমি জোর করব হানি।”
“এখানে এসে প্রচুর সাহস বেড়েছে আপনার।”
“সাথে যে তুমি আছো। তুমি কাছে থাকলে আমার দুটো পাখা গজিয়ে যায়। আমি তখন তোমাকে নিয়ে উড়ে যেতে চাই।”
তৌসিফ সত্যিই উড়লো, সাথে উড়লো তার তোতাপাখি। দু’জনের মাঝে জড়তা-সংকোচ কাজ করে না। পৌষকে লাজ পেতে কখনো দেখে নি তৌসিফ বরং স্বেচ্ছায় পৌষ তৌসিফকে আদর করে। এই তো এখনও ক্লান্ত তৌসিফের কপালে চুমু খেলো। গালে আদর করে বললো,
“আমার সবটুকু সুখ আপনার হোক।”
“সেই সুখটুকু তোমাকে ঘিরেই হোক।”

“আপনি আমাকে কি পেলেন এখানে এসে? আমি এটা কিভাবে পরব?”
“এই তো, আমি পরিয়ে দিচ্ছি।”
গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে উত্তর দিলো তৌসিফ। পৌষ ঠাই বসে রইলো। অভিযোগ তুললো,
“এই হাতাকাটা ড্রেস কেন এনেছেন? রাত এখন? এটা পরে বাইরে যাব আমি?”
“এই তো। আসছি। মাই হানি, জাস্ট টু মিনিটস।”
পৌষ হাত-পা তুলে বসলো। নিজেকে গরম করতে মোটা কম্ফোডারটা গায়ে তুললো। তৌসিফ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘন্টা খানিক হলো। সে তৈরী হচ্ছে। পৌষের এখন অবশ্য অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তৌসিফ আসতেই পৌষ বললো,

“আপার বাসায় যাব এখন? আমার ঠান্ডা লাগছে অনেক। গোসল করে এখন বেশি ঠান্ডা লাগছে।”
তৌসিফ লোশন হাতে নিয়ে বসলো পৌষের কাছে। পৌষ কখনোই নিজ ইচ্ছায় নিজের যত্ন নিবে না। হাতে, পায়ে লোশন লাগিয়ে মুখটায় ক্রিম লাগালো তৌসিফ। লাল রঙের লিপস্টিকটা দেখেই পৌষ বললো,
“এখন লাগবে না। খাব না?”
“ক্ষুধা পেয়েছে?”
“আমি কিন্তু রেগে যাব। সেই গতকাল খেয়েছি।”
তৌসিফ রেগে যাওয়া পৌষের ঠোঁটে পরপর কিছু চুমু খেলো। পৌষের পেটে হাত বুলিয়ে বললো,
“তোমার পেটটা খুব চিকন হানি।”
“দুই কেজি চর্বি জমাবো নাকি?”
“আরেকটু বেশি।”
তৌসিফ আচমকাই পৌষের পরণে থাকা ক্রপটপটা টেনে তুললো। সেখানে জ্বলজ্বল করছে ডায়মন্ড বসানো ওয়েস্ট চেইন। তৌসিফ নাভির কাছে চুমু খেয়ে মুখ ঘষলো। সেখানে মুখ ঠেকিয়েই বললো,

“আমার একটা বাচ্চা রাখবে এখানে পৌষরাত?”
পৌষের বুকটা ধক করে উঠলো। খামচে ধরেলো তৌসিফের চুল। তৌসিফ আরো গভীর ভাবে ডুবে রইলো সেখানে। পৌষ ওকে টেনে বুকে তুললো। নিজের বুকের মাঝে মাথাটা জড়িয়ে ধরে ব্যার্থ স্বরে স্বীকারোক্তি দিলো,
“হচ্ছে না তো। কি যে করব আমি? আপনি আমাকে ডাক্তার দেখান। মনে হয় সমস্যা আছে আমার।”
তৌসিফ কথা বললো না। তারা অনেক মাস ধরেই চেষ্টায় আছে। সেই বিয়ের পর থেকে। পৌষ ঘরোয়া ধরণের মেয়ে মানুষ। তৌসিফ বাচ্চা চাওয়ার আগেও কখনো জন্মনিরোধক ঔষধ সে নেয় নি। প্রথম দিকে তো তৌসিফ এক পাতা এনে রেখেছিলো। জোর দিয়ে কখনো খেতে বলে নি। পাতাটা আজও ড্রয়ারের কোণায় পড়ে আছে অবহেলায়। এতগুলো মাস চলে গেলো। ফলাফল শূন্য। তৌসিফ আবার ডাক্তারও দেখাতে চাইছে না৷ ওর মনে হচ্ছে এতে পৌষ কষ্ট পাবে। জুলুম হবে। অথচ পৌষ নিজে এই পর্যন্ত কয়েকবার জোর করেছে তৌসিফকে কিন্তু তৌসিফই রাজি না ওকে ডাক্তার দেখাতে। পৌষ জানে ওর সমস্যা থাকতে পারে। থাকাটাই স্বাভাবিক। আজ পর্যন্ত স্বাভাবিক খাওয়া দাওয়া হয় নি। নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা হয় নি। না দিতে পারার অপরাধবোধে পৌষের ভেতর ফেটে যাচ্ছে। এই লোক তো বাচ্চা পাগল। কিভাবে আকুতি মিনতি করতে থাকে। না হলে কোথায় পাবে পৌষ বাচ্চা? কিভাবে পূরণ করবে তৌসিফের আবদার?

“শুনুন না?”
“হুঁ।”
“এখানে ভালো ডাক্তার থাকবে তাই না? আমাকে দেখাতে পারেন৷ কোন… ”
তৌসিফ ওর ঠোঁটে আঙুল ঠেকালো। পৌষ চুপ করতেই তৌসিফ ওর গালে আদর করতে করতে বললো,
“সময় হলে ও আসবে।”
পৌষ চুপ করে গেলো। তৌসিফ পাশ থেকে পৌষের পোশাক তুললো। নিজ হাতে পরিয়ে দিতে দিতে বললো,
“স্লিভলেসে তোমাকে ভীষণ আবেদনময়ী লাগে। আ’ম ডায়িং হানি।”
ওয়াইএসএল এর সিগনেচার হিলটা তৌসিফ যখন ওর পায়ে পরালো পৌষ কপাল কুঁচকে বললো,
“এত উঁচু জুতা আমি পরি? হাটতে পারব?”
“কোলে তুলে ঘুরব।”
“কোমড়ের এটা খুলে যাই? যদি হারিয়ে যায়?”

“হারাবে। আমি অধম আছি কি করতে?”
“এই তো, আমাকে ভালোবাসতে।”
পৌষের গায়ে মোটা জ্যাকেট জড়িয়ে দিলো তৌসিফ। আজ প্রথম উচ্চতায় তৌসিফের কাঁধ ছুঁয়ে ফেললো পৌষ অনায়াসে। আয়নায় ওকে দেখে তৌসিফ আরেকবার হেলে গেলো। নিজেকে সামাল দিতে দিতেও লিপ ওয়েল লাগানো পৌষের ঠোঁট দুটো শুষ্ক করে দিলো সে। ঘটনা গড়াতো আরেকটু যদিনা তৌসিফের ফোন বাজতো আর পৌষ ক্ষুধার জন্য তাড়া দিতো।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৭৯

তৌসিফ পৌষের কোমড় আঁকড়ে সামনে হাঁটা দিলো। কানে ফোনটা লাগাতেই ওপাশ থেকে অতি পরিচিত এক কণ্ঠস্বরে শোনা গেলো পুরাতন এক ডাক,
“তৌসিফ, আর ইয়্যু লিসেনিং তৌস?”
তৌসিফের হাটার গতি কমলো না। উত্তরে শুধু বেরিয়ে এলো,
“পিয়ু।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮১