সঙ্গিন প্রনয়াসক্তি সারপ্রাইজ পর্ব ২
suraiya rafa
রমজান মাস। মাহে রমজানের আমেজে মাতোয়ারা ধরণি। পবিত্র এই মাসে দয়ার ভান্ডার যেন উজাড় করে দেন স্বয়ং উপরওয়ালা। দুনিয়া থেকে শুরু করে কবরবাসী অবধি সেই দয়ায় গা ভাসিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাসে ক্ষান্ত হয় যেন। রহমত বরকত আর নাজাতের সৌরভে পরিপূর্ণ থাকে প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অন্তর।
যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার এই অচেনা মাটিতে সেই সৌরভ নিতান্তই ম্লান, তবে ক্রীতিকের ডুপ্লেক্স বাড়িতে প্রতিদিন ঠিকই নিয়ম করে শেষ রাতে আলোকিত হয় রান্নাঘর। গরম খাবারের লোভনীয় ঘ্রাণ আর নিগূঢ় নিস্তব্ধ রাতে সেহেরি সারার টুংটাং শব্দে যেন পূনূর্জ্জীবিত হয় ম্লান হয়ে আসা রমজানের সেই মন্থর পবিত্র সুবাস। একমাত্র বউয়ের আবদারে কোনোদিন ধর্মের ডাকে সারা না দেওয়া বেপরোয়া, উগ্র, বদ মেজাজী মানুষটাও এবছর রোজা পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। রোজা থেকে শুরু করে সালাত আদায় সবকিছুই পালন করছে। ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে এনে সমর্পণ করতে চাইছে উপর ওয়ালার চূড়ান্ত কাঠগড়ায়।
আজ শনিবার। অরু ক্রীতিক কারোরই ক্লাস নেই, সারাদিন বাড়িতেই ছিল ওরা দুজন। সন্ধ্যা হতে এখনো বেশ কিছু সময় বাকি, মাত্রই আসরের সালাত শেষ করে রেডি হয়ে বেড়িয়েছে অরু। ক্রীতিক বাড়িতে নেই। তাই ড্রাইভিং এর দ্বায়িত্বটা নিজের ঘাড়েই নিয়েছে সে।
নীলিমার বাসায় ইফতার পার্টি আজ। দূর দেশে নিজেদের কাছের মানুষ গুলোর সঙ্গে দেখা হওয়ার সুক্ষ্ম এক অযুহাত ও বলা চলে। সে যাই হোক, যাত্রার মাঝপথে ক্রীতিককে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামায় অরু। বাইক স্ট্যান্ড করে তাতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশেই। অগত্যা কৌতুহলী অরু ক্রীতিকের সামনে গিয়েই ব্রেক কষালো গাড়িতে।
লেদার জ্যাকেট, হাতের গ্লাভস আর হেলমেট পরিহিত ক্রীতিককে দেখলে বরাবরই মুগ্ধ হয় মেয়েটা। এলোমেলো চুলের এই ড্যাশিং লোকটাকে দেখে ভালোলাগার চিনচিন ব্যথায় কেমন হাসফাস করে ওঠে ওর নাজুক অন্তরঃকরন। অরুর কান্না পায়, ভীষণ কান্না। গলা আটকে আসে ব্যাকুলতায়। এই বাজে, অসভ্য, উগ্র লোকটাকেই কেন এতো ভালোলাগতে হবে ? তাকে দেখলেই কেন এমন গলা শুকিয়ে যাবে? বিয়ে তো আজ হয়নি, তাহলে কেন এতো অস্থিরতা। কেন! কেন!কেন!
অক্ষিপুটে নিস্প্রভ চাহনি ধরে রেখে বিনাবাক্যে গাড়ির জানালা নামায় অরু। ক্রীতিক এগিয়ে এসে উঁকি দেয় সেথায়। অরুর অস্থিরতার পারদে তরঙ্গোচ্ছাস তুলে চকিতে প্রশ্ন ছোড়ে সে,
— চেহারা এমন ফ্যাকাসে লাগছে কেন তোর? ডুই ইউ নিড এনিথিং বেইবি ? কিছু লাগলে বল, সামনেই মার্ট আছে আমি নিয়ে আসবো।
ক্রীতিকের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে উল্টো শীতল আওয়াজ ছুড়লো অরু,
— ভর সন্ধ্যা বেলা বাইক নিয়ে বেড়িয়েছেন কেন? দেখে তো মনে হচ্ছে রাইডে যাবেন। আজ যে নীলিমাদের বাসায় ইফতারির দাওয়াত রয়েছে, সে কথা ভুলে গেলেন?
না সূচক মাথা নাড়ালো ক্রীতিক, তৎক্ষনাৎ প্রত্যুত্তর করলো,
— উহু ভুলিনি। সায়র ব্যাটা এখনো কাজ থেকে ফেরেনি,তাই ওকেই আটকাতে যাচ্ছি।
অরু বিস্মিত হয়ে শুধায়,
— কিন্তু কেন?
কন্ঠে গম্ভীরতা টানলো ক্রীতিক। জানালো,
— বউয়ের নাম মুখে নেওয়ার দায়ে কাউকে কেলিয়ে রোজাটা হালকা করতে চাইছি না, তাই।
বেপরোয়া স্বামীর এহেন কথায় দু’চোখ কপালে উঠে গেলো অরুর, তরতরিয়ে বলে উঠলো,
—সে কি কথা?
—হু,শত হোক আত্মাসংযমের মাস।
হাতের তালু কপালে ঠেকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো অরু, আপসোসের স্বরে বলে উঠলো,
— আপনি আর আত্মসংযম, হাসালেন।
মেয়েটার কথায় বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেনা ক্রীতিক, ভীষণ তাড়া দিয়ে অকস্মাৎ বলে ওঠে,
—ব্লাডপ্রেশার লো হয়ে আছে তাড়াতাড়ি চুমু খা তো একটা। আযানের টাইম হওয়ার আগে ফিরতে হবে। আই নিড সাম ফাস্ট এনার্জি।
— এই আপনার আত্মসংযম?
ভ্রু কুচকালো অরু।
— ইয়েস চুমু খেলে ডাইজেস্ট সিস্টেম ভালো থাকে, ফাস্টিং এ এনার্জি পাওয়া যায়।
— পারবোনা আমি এসব । যেখানে যাওয়ার ছিল যান। খাওয়া তো খাওয়াই সে চুমু হোক আর যাই হোক।
ক্রীতিক রাগ দেখালো না মোটেই, কপটতায় ঠোঁট বাঁকিয়ে আপসোসের স্বরে বললো,
— ঠিক আছে, রাস্তার মাঝে এক্সিডেন্ট করে ম’রে টরে গেলে তখন আবার কেঁদেকুটে দুনিয়া ভাসিয়ে ফেলিস না, তাহলে ম’রেও শান্তি নেই,জানিসই তো আমি আবার তোর কান্না সহ্য করতে পারিনা।
বাক্য শেষ হতে না হতেই দু’হাতের মাঝে ক্রীতিকের খরখরে পুরুষালি গালদুটো আঁকড়ে ধরে ওর কপালে গাঢ় এক চুমু খেলো অরু। চোখ পাঁকিয়ে অস্থির চিত্তে বলে উঠলো ,
— বাজে কথা বলবেন না একদম । দরকার পরলে একটা নয় হাজারটা দেবো।
এক চুমুতেই থমকে গেলো শ্বাসপ্রশ্বাস। দু’জোড়া বেহায়া নয়নের গভীর মিলনে অচিরেই প্রলয় শুরু হলো অন্তরে। প্রণয়াসক্তি মাত্রা ছাড়ালো। একটানে গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো ক্রীতিক, বেপরোয়া দু’হাতে আস্তরিত হলো রমণীর বাঁকানো কটিদেশ। নরম তুলতুলে নারী শরীরের ভাঁজে পুরুষালী হাতের রুক্ষতা সুস্পষ্ট। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে রইলো অরু, চেহারায় গম্ভীর ভাব অক্ষুণ্ণ রেখে অরুর পানে গভীর দৃষ্টিপাত করলো ক্রীতিক,প্রতিধ্বণিত হলো চিরচেনা সেই নেশালো হাস্কিস্বর,
— তাহলে দে।
— কি?
— চুমু, এখন এই মূহুর্তে হাজারটা চুমু দিবি।
স্বামীর বেসামাল আওয়াজে বেলুনের মতো চুপসে গেলো নাজুক রমণী। মিটিমিটি অক্ষিপুট নাঁড়িয়ে শুষ্ক ঢোক গিললো। অতঃপর ইতস্তত স্বরে বললো,
সঙ্গিন প্রনয়াসক্তি সারপ্রাইজ পর্ব ১
— আর ইফতার? সময় হয়ে এসেছে তো।
কপট হাসির প্রসারতায় কিঞ্চিত ঠোঁট বাঁকালো ক্রীতিক। প্রেয়সীর আঙুলের ভাঁজে আঙুল ঢুকিয়ে, হৃদ গহীনে এক আলোকবর্ষতুল্য ঝটকা বাঁধিয়ে গভীর হিমশীতল আওয়াজে জবাব দিলো,
—গাড়িতে পানি রাখা আছে বেইবি। আর বাকিটা ব্যাক সিটে।
