প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৬
উম্মে হাবিবা
রাতের খাবার শেষ হতে হতে প্রায় সাড়ে দশটা বেজে গেছে।
মেহতাব ভিলার ডাইনিং টেবিলে আজ অদ্ভুত একটা শান্ত পরিবেশ ছিল। আদিবা খাবার শেষ করেই নিজের রুমে চলে গেছে। সারাদিনের অপমান এখনো বোধহয় হজম করতে পারেনি।
রুদ্রও খুব একটা কথা বলেনি।
তবে সোহা যখনই মাথা তুলে তাকিয়েছে, কয়েকবার তার দৃষ্টি গিয়ে ধরা পড়েছে রুদ্রর চোখে।
সেই দৃষ্টিতে ছিল অদ্ভুত কোমলতা। আর সেই কোমলতাই বারবার লজ্জায় লাল করে দিচ্ছিল সোহাকে।
খাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ রুমে চলে গেল।সোহা বিছানার একপাশে বসে বই খুলে পড়ছিল।সামনেই টেস্ট।পড়াশোনায় ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।
রুদ্র ল্যাপটপ নিয়ে পাশে বসে কিছু অফিসিয়াল কাজ করছিল,, মাঝে মাঝে চোখ তুলে সোহার দিকে তাকাচ্ছিল।
বেলি ফুলের গাজরাটা এখনো সোহার চুলে জড়িয়ে আছে।
রুদ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
এত রাত পর্যন্ত পড়বে?
_আরেকটু।
— এই “আরেকটু” কথাটা খুব বিপজ্জনক।
— পরীক্ষা আছে।
— শরীরও আছে।
সোহা মুখ ফুলিয়ে বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। রুদ্র এবার ল্যাপটপ বন্ধ করে পাশে এসে বসল।
— বইটা দাও।
— না।
— সোহা।
— না মানে না।
— আমাকে জেদ দেখাচ্ছ?
— আপনিও তো দেখাচ্ছেন।
রুদ্র ভ্রু উঁচু করল। তারপর আচমকা বইটা টেনে নিল। সোহা বই ধরতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ল।
পরের মুহূর্তেই তার দুই হাত গিয়ে ঠেকল রুদ্রর বুকের ওপর।দুজনেই থমকে গেল।
সময়ের গতি যেন থেমে গেল। সোহা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে রুদ্রর হৃদস্পন্দন। আর রুদ্র অনুভব করছে মেয়েটার কাঁপতে থাকা নিঃশ্বাস।
রুদ্র ধীরে ধীরে সোহার মুখের সামনে ঝুলে থাকা একগুচ্ছ চুল সরিয়ে দিল।
তারপর ফিসফিস করে বলল,
— আজ বেলিফুলটাকে খুব সুন্দর লাগছে।
সোহা চোখ নামিয়ে ফেলল। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ যেন কানে বাজছে। রুদ্রর দৃষ্টি ধীরে ধীরে নেমে এল তার কাঁপতে থাকা ঠোঁটের দিকে।
মুহূর্তটা অদ্ভুত হয়ে উঠল। আর একটু হলেই হয়তো দুজনেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলত।
কিন্তু হঠাৎই দুজনের হুঁশ ফিরে এল।
সোহা তড়িঘড়ি উঠে গিয়ে বিছানার অন্য পাশে শুয়ে পড়ল।
— আমি ঘুমাবো।
রুদ্র হালকা হেসে বলল,
— পালিয়ে যাচ্ছ?
— কে পালাচ্ছে?
— আচ্ছা।
লাইট নিভে গেল। কয়েক মিনিট পর সোহা অনুভব করল কোমরের কাছে শক্ত একটা হাত।
চমকে উঠে বলল,
— কি করছেন?
— ঘুমাচ্ছি।
— এভাবে?
— হুম।
— ছাড়ুন।
— না।
— প্লিজ
— বেশি কথা বললে আরও শক্ত করে ধরব।
সোহা লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, কিছুক্ষণ পর সে নিজেও আর সরার চেষ্টা করল না।
রুদ্রর বুকের কাছে মাথা রেখে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, সে নিজেও জানল না।
রাত প্রায় বারোটা।রৌদ সবে পড়ার টেবিল থেকে উঠে বিছানায় শুয়েছে। ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল।
Unknown Number।
রৌদ বিরক্ত মুখে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।ধরবে?না ধরবে না?শেষ পর্যন্ত ধরল।
— হ্যালো?
নীরবতা।
— হ্যালো?
কোনো উত্তর নেই।
— কথা বলবেন?
তবুও না।
— আজব!বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর আবারও কল।এবার রেগে গিয়ে ধরল।
— সমস্যা কি আপনার?
ওপাশ থেকে ভেসে এল পরিচিত কিন্তু বদলে ফেলা কণ্ঠ।
— রাগলে তোমাকে বেশ সুন্দর লাগে।
রৌদ চোখ কুঁচকে বসল।
— কি?
— সত্যি।
— আপনি কে?
— একজন ভক্ত।
— রাতে মানুষের ঘুম নষ্ট করার ভক্ত?
ওপাশে চাপা হাসি।
— তোমার কণ্ঠটা খুব সুন্দর।
— দেখুন ভাই, ফ্লার্ট করার মানুষ কম পড়েছে নাকি?
— তুমি কি সবসময় এত রাগী?
— আর আপনি কি সবসময় এত বিরক্তিকর?
ফয়সালের মুখে হাসি ফুটল।
সে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই রৌদ বিরক্ত হয়ে বলে উঠল,
— শুনুন, আমার জীবনে অন্য কেউ আছে। তাই এসব ফালতু ফ্লার্ট বন্ধ করুন।
কথাটা শুনে ফয়সাল স্থির হয়ে গেল। মুহূর্তেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। অন্য কেউ? তাহলে সে এতদিন যা ভেবেছে…সব ভুল?
অকারণে রাগ হলো,, অকারণে কষ্টও। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে সে বলল,
— ও আচ্ছা।
তারপর কল কেটে দিল।
রৌদও ফোনটা পাশে রেখে শুয়ে পড়ল।
অথচ দুজনের কেউই জানল না—যার কথা ভেবে একজন “অন্য কেউ” বলেছে,,,,সেই মানুষটাকেই আরেকজন হারানোর ভয় পাচ্ছে।
পরদিন সকাল।
ফজরের পর ঘুম ভাঙতেই সোহার গতরাতের কথা মনে পড়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে মুখটা লাল হয়ে গেল।রুদ্র তখনও ঘুমিয়ে,,,কিন্তু এখনো তাকে জড়িয়ে রেখেছে।
সোহা আস্তে করে হাত সরাতে গিয়ে দেখল রুদ্রর গ্রিপ আরও শক্ত।
— আল্লাহ!”লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে।”অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে ওয়াশরুমে পালাল।
নাস্তার টেবিলে আজ সবাই প্রায় উপস্থিত। শুধু আদিবা নেই।কেউ তেমন কিছু জিজ্ঞেসও করল না।
রৌদ তাড়াহুড়ো করে খেয়ে কলেজে চলে গেল।আর কিছুক্ষণ পর রুদ্র ও সোহাও বের হলো। গাড়িতে প্রথম কয়েক মিনিট নীরবতা।
তারপর রুদ্র বলল,
— পায়ের ব্যথা কেমন?
— কমেছে।
কিন্তু সোহা কি করে বুঝাবে সে ব্যথাই নি, শুধু বয়ে নিজের কাধে ঝামেলা আনতে কেনো যে গেলো।
— ওষুধ খেয়েছ?
— হুম।
আবার নীরবতা।দুজনেই যেন কিছু বলতে চাইছে।কিন্তু কেউ বলছে না। কলেজের কাছাকাছি পৌঁছাতেই সোহা বলল,
— আমি এখানেই নেমে যাব।
রুদ্র এক ঝলক তাকাল। তার ইচ্ছে করছিল আরেকটু একসাথে থাকতে।
কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারল না। মখে বললো _ঠিক আছে।
সোহার বুকটা কেমন খচখচ করে উঠল।একবারও আটকায়নি একবারও না! চুপচাপ নেমে গেল সে।গেটের কাছে রাইসা অপেক্ষা করছিল। দুজন একসাথে ক্লাসে গেল। কিছুক্ষণ পর রাফিন ক্লাসে ঢুকল।
আজও প্রথমে বসা সোহার দিকে চোখ চলে গেল তার। ক্লাস চলতে লাগল।
মাঝে মাঝেই অজান্তে সোহার দিকে তাকিয়ে ফেলছে রাফিন।কয়েকবার চোখাচোখি হতেই সোহা অস্বস্তিতে পড়ে গেল,,,অন্যদিকে রাইসা তো রাফিনকে দেখতেই ব্যস্ত। ক্লাস শেষে রাফিন বলল,
— সোহা, একটু বাইরে আসবে? সোহা অবাক হলেও বেরিয়ে গেল।
করিডোরে দাঁড়িয়ে রাফিন জিজ্ঞেস করল,
— এখন কেমন আছ?
— জ্বি?
— পায়ের ব্যথা।
সোহা অবাক।
— আপনি জানলেন কিভাবে?
— রাইসা বলেছিল।
— ওহ।
রাফিন মুচকি হেসে বলল,
— সাবধানে থাকবে।
ঠিক তখনই গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এল।
— এখানে কি হচ্ছে?
দুজনেই ঘুরে তাকাল।
রুদ্র।
চোখ দুটো ভয়ানক ঠান্ডা।
সোহা এক ঝলক মুখ দেখে বুঝে গেল কিছু একটা হয়েছে। তাই দ্রুত ক্লাসে ঢুকে গেল। রাফিন হালকা হেসে বলল,
— আসলে ওর পায়ে ব্যথা পেয়েছিল। সেই ব্যাপারেই জিজ্ঞেস করছিলাম।
রুদ্রর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাফিন জানল কিভাবে? সোহা বলেছে? তাদের কি আলাদা কথা হয়? ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত রাগ জমতে লাগল।
— তাই নাকি?
— জি।
— সব ছাত্রছাত্রীর খোঁজ এভাবেই নেন?
রাফিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। কিছু বলার আগেই রুদ্র ক্লাসে ঢুকে পড়ল। ক্লাস শুরু হলো। রাইসা ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,
— কি বলেছিল?
সোহা উত্তর দিতে লাগল।
ঠিক তখনই রুদ্র দেখল,,, সোহা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে, কথা বলছে একদিকে রাফিনের সাথে কথা।এখন আবার ক্লাসে গল্প।
ভেতরের জমে থাকা রাগটা বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।
— সোহা। দাঁড়াও।
পুরো ক্লাস চুপ।
— আমি কি পড়াচ্ছিলাম?
সোহা থমকে গেল।
সে খেয়ালই করেনি।
— বলো।
সোহা চুপ করে আছে
— পারছ না?
সোহা তখনো চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
রুদ্রর গলা আরও কঠিন হলো।
— ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে গল্প করলেই হবে?
সোহা হতভম্ব।
— স্যার…
— Enough!
পুরো ক্লাস কেঁপে উঠল।
— তোমার যদি পড়ার ইচ্ছে না থাকে তাহলে ক্লাসে আসারও দরকার নেই।
সোহার চোখ ছলছল করে উঠল।
— স্যার আমি…
— বের হয়ে যাও।
সোহা বিশ্বাসই করতে পারছে না।
সামান্য একটা পড়া না পারার জন্য এত অপমান?
— শুনতে পাচ্ছ না? বের হও।
সবার সামনে অপমানিত হয়ে মাথা নিচু করে বেরিয়ে গেল সে।
বের হতেই রুদ্রর হুঁশ ফিরল।সে কি বেশি বলে ফেলল?
কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে।
ক্লাসও শেষ হলো। ক্লাসের সবাই যেনো অবাক চোখে তাকিয়ে আছে রুদ্রের দিকে। রুদ্র রাগী হলেও কখনো কারো সাথে এভাবে কথা বলেনি। সোহার কথা মনে পড়তেই রাইশা দৌড়ে বেরিয়ে যায়।গেইটের কাছে পৌঁছতেই জোরে ধাক্কা খায় রাফিনের সাথে।
এভাবে দৌড়াচ্ছো কেনো?
স্যার সোহা।
কি হয়েছে সোহার?
রাইশা সংক্ষেপে সবটা বলে।আর বলে_ স্যার ও রেগে গেলে বা কষ্ট পেলে রাস্তায় হাটার সময়,, কোনো হুশ থাকে না। যদি কোনো অগঠন ঘঠে যায়।
রাফিন হাতের দুটো আঙ্গুল কপালে ঘষে রাইশার দিকে তাকিয়ে বলে_
এসো আমার গাড়িতে বসো আর কোন দিকে গিয়েছে সেটা বলো।
কিন্তু স্যার __
কোনো কিন্তু না হেঁটে যেতে যেতে যদি ওর কিছু হয় যায়। তার থেকে ভালো গাড়িতে চলো, তারাতারি পেয়ে যাবো।
রাইশা আর কাথা বাড়ালো না উঠে পড়লো গাড়িতে।
নিজের কেবিনে এসে রুদ্র টেবিলের উপর রাখা পানির গ্লাসটা ছুঁড়ে মারল।
কাঁচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
চোখ বন্ধ করতেই ভেসে উঠল—সোহার ভেজা চোখ। কাঁপতে থাকা ঠোঁট। মাথা নিচু করে বেরিয়ে যাওয়া।
হঠাৎ বুকের ভেতর কেমন ব্যথা অনুভব হলো। নিজের উপরই রাগ লাগছে। কিন্তু কেন?
এদিকে সোহা একমনে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। চোখের পানি বারবার মুছছে। কানে শুধু বাজছে রুদ্রর কথাগুলো।
“বের হয়ে যাও…মনোযোগ না দিলে ক্লাসে থাকার দরকার নেই…”
কিছুই ভালো লাগছে না।কখন যে রাস্তার মাঝখানে চলে এসেছে খেয়াল নেই।
ঠিক তখনই অন্যদিক থেকে গাড়ি নিয়ে আসছিল মাইশা।
দূর থেকে সোহাকে দেখে তার চোখ চকচক করে উঠল।আরে এটা সোহা না। ও এভাবে রাস্তায় হাটছে কেনো?
তার পরেই মাথায় শয়তানি চিন্তা এল। যদি এখন…সব শেষ করে দেওয়া যায়? সবাই ভাববে এক্সিডেন্ট।
তাহলে রুদ্রও মুক্ত। আর সোহাও। এক ঠিলে দুই পাখি।
ঠোঁটে কুটিল হাসি ফুটল। গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল।
সোহা তখনই খেয়াল করল। একটা গাড়ি ভয়ংকর গতিতে তার দিকে ছুটে আসছে।
মুহূর্তের মধ্যে পুরো শরীর অবশ হয়ে গেল। মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিল। চিৎকার করতেও পারছে না। পা নড়ছে না।
মনে হচ্ছে মৃত্যুই বুঝি সামনে দাঁড়িয়ে আছে। চোখের সামনে সব ঝাপসা।
ঠিক তখনই—
একটা শক্ত হাত তার কবজি ধরে প্রবল টানে সরিয়ে নিল। সোহা গিয়ে ধাক্কা খেল কারো বুকের মধ্যে। গাড়িটা শোঁ শোঁ করে পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল।
কিছু দূরে দাঁড়িয়ে মাইশা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
কে বাঁচাল?
তারপরই দেখল—
সোহা একটা ছেলের বুকের মধ্যে লেপ্টে আছে। সে দ্রুত ফোন বের করে কয়েকটা ছবি তুলে নিল। এমন অ্যাঙ্গেলে— যে কেউ দেখলে ভুল বুঝবে।
ঠোঁটে কুটিল হাসি ফুটে উঠল। তারপর গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল।
সোহা ধীরে ধীরে হুঁশ ফিরে পেল। ছিটকে সরে দাঁড়াল। সামনে রাফিন। আর পাশে হাঁপাতে থাকা রাইসা।
পরের মুহূর্তেই রাইসা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল।
— তুই ঠিক আছিস?
— কিছু হয়নি?
— লাগেনি তো?
সোহা শুধু মাথা নাড়ল। রাফিনের মুখটাও ফ্যাকাসে।
আর কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই… কি হতো ভাবতেও ভয় লাগছে।
— আমি তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিই।
— না স্যার।
— এটা কোনো অনুরোধ না।
শেষ পর্যন্ত রাফিন আর রাইসার জোরাজুরিতে গাড়িতে উঠল সোহা।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামল মেহতাব ভিলার সামনে। সোহা শুধু বলল,
প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৫
— ধন্যবাদ স্যার।
তারপর ভেতরে চলে গেল…রাফিন অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
ভেতরে যেতে পর্যন্ত বলল না! তারপর নিজেই মাথা ঝাঁকাল।
হয়তো ভয় পেয়েছে। তারপর রাইসাকে নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দিল।
আর জানতেও পারল না—
তার জন্য খুব শিগগিরই কারো সংসারে ভয়ংকর ঝড় তুলতে চলেছে…
