Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৯

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৯

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৯
মহাসিন

বিরাজের মনটা ছটফট করছে শুধু আগুন সুন্দরীর জন্য।
ঘরের এক কোণে বসেও শান্তি পাচ্ছে না সে। চোখ বন্ধ করলেই সামনে ভেসে ওঠে আগুন সুন্দরীর মুখ। হাসিটা, চোখের চাহনি, রাগী রাগী কথা সবকিছু পাগলের মতো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
শেষে আর স্থির থাকতে পারল না। দিশেহারার মতো ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করল আগুন সুন্দরীর নাম্বার।

রিং বাজল কয়েকবার। তারপর ওপাশ থেকে ভেসে এলো সেই চেনা কণ্ঠ,
“হ্যালো।”
আগুন সুন্দরীর কণ্ঠটা কানে লাগতেই বিরাজের বুকের ভেতর হার্টবিট বেড়ে গেল দিগুণ। ঢোক গিলে কাঁপা গলায় বলল,
“কেমন আছেন, আগুন সুন্দরী?”
ওপাশ থেকে খানিকটা উদাসীন গলা,
“ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন ফোকরা মশাই।”
বিরাজ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“ভালো নেই।”
আগুন সুন্দরী একটু থেমে বলল,
“তা হঠাৎ কি হলো আপনার?”
বিরাজ ঠোঁটের কোণে ম্লান হাসল।
“কেউ একজন আমার মনটা চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই আর ভালো লাগছে না।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর আগুন সুন্দরীর কণ্ঠে কৌতূহল,
“তা সেই ‘কেউ একজন’ টা কে শুনি?”

“আপনি।”
কলি অবাক সুরে শুধালো,
“মানে কী?”
“আরে মজা করলাম।”
আগুন সুন্দরী এবার একটু বিরক্ত হলো।
“ধ্যাত! আপনার মাথায় সমস্যা আছে।”
বলেই কলি কল কেটে দিল।
টু…টু…টু…
লাইনটা কেটে যেতেই বিরাজের বুকের ভেতরটা মুহূর্তে খালি হয়ে গেল। ফোনটা হাতে নিয়ে সে চুপ করে বসে রইল। মনটা আরও অস্থির হয়ে উঠল। আগুন সুন্দরীর একটা কথা, একটা হাসি
সব যেন কাঁটার মতো বিঁধে রইল বুকে।
কিছুক্ষণ পর বিরাজ রুম থেকে বের হলো। ধীরে ধীরে ড্রয়িংরুমে এসে এদিক ওদিক তাকালো।
“ভাবী, কোথায় আপনি?”
কিচেন থেকে নীলাঞ্জনার গলা ভেসে এলো,
“রান্নাঘরে আছি।”
বিরাজ ধীরে ধীরে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে এলো। দরজায় পা রাখতেই থমকে দাঁড়ালো। চোখ বড় বড় করে তাকালো ভেতরে।
কবিতা দাঁড়িয়ে আছে! রান্নাঘরে!
বিরাজ অবাক হয়ে বলল,
“কিরে! তুই এখানে? রান্নাঘরে এলি কিভাবে?”

কবিতা মুখ ভেংচি কেটে জবাব দিল,
“উড়ে উড়ে আসছি।”
নীলাঞ্জনা হাসি চেপে বলল,
“কেন? এর আগে কবিতাকে রান্নাঘরে দেখোনি কখনো?”
বিরাজ মাথা চুলকালো।
“আমি যতবার দেশে আসছি, এই প্রথম ওকে রান্নাঘরের ছায়াও মাড়াতে দেখলাম।”
কবিতা বলল,
“ধ্যাত! এমন করে বলিস না তো।”
বিরাজ ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
“তা তুই কি রান্না করবি নাকি?”
কবিতা দুই হাত নাড়িয়ে বলল,
“না না, আমি রান্না করবো না।”
নীলাঞ্জনা খুন্তিটা নেড়ে বলল,
“কেন? আমি তো দেখিয়ে দিবো।”
কবিতা এক পা পিছিয়ে গেল। গলায় আতঙ্ক,
“না ভাবী, থাক। আপনার দেখানো লাগবে না। আর আজ দুপুরে কারো খাওয়া হবে না, আমি রান্না করলে।”
কথাটা শুনেই বিরাজ আর নীলাঞ্জনা দু’জন একসাথে হেসে উঠল। রান্নাঘরটা হঠাৎ হাসির শব্দে ভরে গেল।
কবিতা মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মনে ভাবছে রান্নাঘরে এসে ভুলই করেছি!

হঠাৎ গাড়ি একটা পুরোনো বাংলোর সামনে এসে থামল। চারপাশে নিস্তব্ধতা। সিয়াম গাড়ির দরজা খুলে নেমে এলো। তারপর শাপলার পাশের দরজা খুলে হাত বাড়িয়ে দিল।
“নেমে আয়।”
শাপলা ভয়ে সিটের সাথে মিশে গেল। “আমি নামবো না।”
সিয়াম আর কথা বাড়ালো না। সোজা শাপলার সিটবেল্ট খুলে কোলে তুলে নিল ওকে।
“ছাড়ুন! নামিয়ে দিন! লোকে দেখলে কি ভাববে?” শাপলা কি*ল ঘু*ষি দিতে লাগল।
“লোক? এখানে লোক নাই । আছি শুধু তুই আর আমি। আর আমার পাগলামি।”
বলেই সিয়াম ওকে কোলে করে বাংলোর ভেতর ঢুকে গেল।
সিয়াম একটা রুমের ভেতর ঢুকল। শাপলাকে বিছানার ওপর ছেড়ে দিল।
শাপলা চিৎকার করে উঠল, চোখে আতঙ্ক।
“আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে এলেন? এটা কোন জায়গা?”
সিয়াম দরজাটা বন্ধ করে দিল। গলায় শান্ত, কিন্তু দৃঢ় স্বর।
“ভয় নেই। এটা আমাদের পুরোনো বাড়ি। এখানে তেমন কেউ আসে না।”
কথা শেষ করেই সে ধীরে ধীরে শাপলার দিকে ঝুঁকে পড়ল। প্রতিটা পা ফেলায় শাপলার বুকের ভেতর কেঁপে উঠছে।

“কি করছেন? কাছে আসতেছেন কেন?” শাপলার গলা কাঁপছে।
সিয়াম একদম শাপলার মুখোমুখি এসে ঝুকে গেল। শাপলা দুই হাতে ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।
“কি হলো? সরিয়ে দিলি কেন?” সিয়ামের চোখে আগুন।
“আজকে তুই আর আমাকে আটকাতে পারবি না। কতদিনের তৃ*ষ্ণা… আজকে মি*টি*য়েই ছাড়ব।” বলেই এক টানে শাপলাকে নিজের কাছে টেনে নিল।
শাপলা ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল। কাঁপা গলায় বলল,
“কিভাবে তৃ*ষ্ণা মে*টা*বেন আপনি?”
সিয়াম বাঁকা হাসল। চোখে দুষ্টু চাহনি।
“যখন মে*টা*বো, তখন নিজেই দেখতে পারবি।”
শাপলা প্রাণপণে ওকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। তারপর এক দৌড়ে দেয়ালের কোণে গিয়ে দাঁড়ালো। কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আমার গোসল করতে হবে।”
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
“কিছুই তো করলাম না, তার আগেই গোসল করবি?”
শাপলা বিরক্ত হয়ে বলল,
“চুপ করুন তো! আমার প্রচুর গরম লাগছে। গোসল করতে হবে।”

সিয়াম আঙুল দিয়ে ওয়াশরুম দেখিয়ে দিল।
“ওই তো ওয়াশরুম। যা, গোসল কর।”
শাপলা অসহায়ের মতো বলল,
“গোসল করে কি পড়বো? আমার জামা কাপড় তো চাচার বাড়িতে রয়ে গেছে। আপনি তো আমাকে জোর করে নিয়ে এলেন।”
সিয়াম এক সেকেন্ড ভাবল। তারপর বলল,
“আচ্ছা, আমি এখনই গিয়ে তোর জামা কাপড় নিয়ে আসছি।”
এই বলে সে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। ও দরজাটা আটকে দিল।
কিছুক্ষণ পর শাপলা ফিসফিস করে বলল,
“এই তো সুযোগ। এখনই পালাতে হবে।”
দৌড়ে গিয়ে দরজার হাতল ধরল। মোচড় দিল… কিন্তু দরজা নড়ল না। বাইরে থেকে আটকানো।
ওপাশ থেকে সিয়ামের গলা ভেসে এলো, শান্ত অথচ সাবধানী।
“তুই কি আমাকে বোকা পেয়েছিস শাপলা? আমি দরজা খোলা রেখে চলে যাবো, আর তুই পালাবি? তা হবে না।”
শাপলা দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে বলল,
“না না, আমি পালাবো না। আপনি দরজা খুলে যান।”

সিয়াম ওপাশ থেকে হাসল। সেই হাসিতে রহস্য মিশে আছে।
“বউ, তুমি রাতের জন্য তৈরি হও। রাতে যে কোনো কিছুই হতে পারে।” বলেই পায়ের শব্দ মিলিয়ে গেল। দরজা আর খুলল না।
শাপলা দরজায় দুই হাতে বাড়ি দিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“সিয়াম ভাইয়া! দরজা খুলুন! সিয়াম ভাইয়া!!!”
কিন্তু উত্তর এলো না।

এখন দুপুর একটা বাজে। সূর্যটা যেন আকাশের ঠিক মাঝখানে একটা জ্বলন্ত অগ্নিগোলা হয়ে ঝুলে আছে। নিষ্ঠুর, নির্দয়। চারদিক ঝলসে যাচ্ছে প্রচণ্ড রোদের তেজে। রাস্তার পিচ গলে আঠার মতো লেগে যাচ্ছে পায়ের তলায়। বাতাসের নাম গন্ধ নেই। যা একটু বাতাস বইছে, তাও গরম হাওয়ার ঝাপটার মতো গায়ে লাগলে মনে হয় কেউ গরম তাওয়া ছুঁইয়ে দিলো। প্রকৃতি আজ রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। আকাশের নীল রঙটা কেমন ফ্যাকাশে, ধূসর হয়ে গেছে। মেঘের লেশমাত্র নেই। পাখিরাও ক্লান্ত হয়ে গাছের ডালে মুখ গুঁজে বসে আছে। চারদিকে একটা অস্বস্তিকর, দমবন্ধ করা নিস্তব্ধতা।

একটা কাক ডানা ঝুলিয়ে বৈদ্যুতিক তারে বসে আছে। গরমে ওর ঠোঁট হাঁ হয়ে গেছে, গলা শুকিয়ে কাঠ। পিপাসায় ছটফট করতে করতে নিচে নেমে এলো। নর্দমার পাশে জমে থাকা ঘোলা পানিতে ঠোঁট ডুবিয়ে বারবার পানি খেতে লাগল, তবু তৃষ্ণা মিটছে না। ওর কা কা ডাকটাও যেন গরমে পুড়ে ভেঙে যাচ্ছে। এই ব্যস্ত শহরের যা কিছু গাছপালা আছে, তারাও আজ ক্লান্ত। রাস্তার পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাতা রোদে পুড়ে নেতিয়ে পড়েছে। যেন সবাই দম বন্ধ করে সহ্য করছে এই অসহ্য দহন। রিকশাওয়ালা গামছা দিয়ে মাথা ঢেকে হাঁপাচ্ছে। দোকানের শাটারের নিচে দু একজন ছায়া খুঁজছে। গরমে সবকিছু স্তব্ধ, নিথর, প্রাণহীন।
সময়টাও যেন থেমে গেছে। এই দুপুর শুধু গরম না, একটা শাস্তি। প্রকৃতির রুদ্র রূপের সামনে মানুষ, পশু পাখি সবাই অসহায়।
এই দগ্ধ দুপুরে আরিফ ধীর পায়ে বাবার কেবিনের সামনে এসে দাঁড়ালো। বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা হাতে দরজায় টোকা দিলো।
“বাবা, ভিতরে আসবো?”

ভেতর থেকে গম্ভীর গলা ভেসে এলো,
“সব নিয়ম কি ভুলে গেছিস আরিফ? এটা অফিস, বাসা না।”
আরিফ মাথা নিচু করে ফেলল। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“সরি স্যার… ভুল করে বলে ফেলেছি। স্যার, ভিতরে আসবো কি?”
“হ্যাঁ।”
আরিফ কেবিনে ঢুকল। এসির ঠান্ডা হাওয়াও ওর কপালের ঘাম মুছতে পারলো না। সায়েক আহমেদ চেয়ার ঘুরিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। চোখ দুটো তীক্ষ্ণ, কঠিন।
“কিছু বলবি?”
আরিফ একবার ঢোক গিলল। তারপর কাঁপা কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল,
“হ্যাঁ, তবে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী ‘স্যার’ হিসেবে না… নিজের বাবা হিসেবে কিছু বলতে চাই।”
সায়েক আহমেদ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন,
“ঠিক আছে, বল।”
আরিফ সাহস সঞ্চয় করে বলল,
“সিয়াম আর শাপলাকে মেনে নাও, বাবা।”

কথাটা শেষ হতেই সায়েক আহমেদ চোখ বড় বড় করে তাকালেন। টেবিলে হাতের মুঠো চেপে ধরলেন।
“তোর মাথা ঠিক আছে তো? ওদের হয়ে আমার কাছে সুপারিশ করতে এসেছিস?”
আরিফ মিনতি করে বলল,
“কিন্তু বাবা….”
“কোনো কিন্তু না!” সায়েক আহমেদ ধমকে উঠলেন।
“যা, গিয়ে নিজের কাজ কর।”
আরিফ আর কিছু বলল না। মাথা নিচু করে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।

দুপুরের করা রোদে পুড়তে পুড়তে সাইকেল চালাতে চালাতে হাঁপিয়ে উঠেছে ঊষা। কপাল বেয়ে ঘাম নামছে নদীর মতো, ঠোঁট শুকিয়ে কাঠ। রাস্তাটা ফাঁকা। জনমানবের চিহ্ন নেই বললেই চলে। গরমে সবাই যেন গর্তের ভেতর লুকিয়েছে।
একটা সুনসান গলির সাইডে সাইকেলটা থামালো ঊষা। বুকের ভেতর হাপরের মতো ওঠানামা করছে। পানির পিপাসায় গলা ফেটে যাচ্ছে। চোখ পরল রাস্তার পাশের পুরোনো টিউবওয়েলটা দেখতে পেল। যেন মরুভূমিতে মরুদ্যান।
টলতে টলতে কলের কাছে এলো। হ্যান্ডেল চেপে ধরতেই ঝরঝর করে ঠান্ডা পানি পড়ল। ঊষা দুই হাতের আঁজলা ভরে পানি খেল। মন প্রাণ ভরে তৃষ্ণা মেটালো। তারপর মুঠো ভরে পানি নিয়ে পুরো মুখে গলায় ছিটিয়ে দিলো। গরমে পোড়া শরীরটা যেন একটু প্রাণ ফিরে পেল।
কিন্তু হঠাৎ করেই ওর মনে হলো কেউ ওকে দেখছে। আড়াল থেকে, চুপিসারে। বুকের ভেতর ছ্যাঁৎ করে উঠল। চারদিকে একবার চোখ বুলালো ঊষা। ঝাঁ ঝাঁ রোদ, ফাঁকা রাস্তা, নেতিয়ে পড়া গাছপালা… কিন্তু কাউকে চোখে পড়ল না।

“মনের ভুল হয়তো।” নিজেকে বোঝালো ঊষা। ধীর পায়ে সাইকেলের কাছে ফিরে এলো। সিটে পা দিয়ে উঠতে যাবে, ঠিক তখনই…
পেছন থেকে একটা শক্ত হাত এসে ওর মুখটা চে*পে ধ*রল মোটা রু*মাল দিয়ে। ঊষা ছ*টফট করে উঠল। আতঙ্কে চোখ দুটো বড় হয়ে গেল। নিজেকে ছাড়ানোর জন্য প্রাণপণে হাত পা ছুঁড়তে লাগল, কিন্তু লাভ হলো না। রুমাল থেকে কিছু একটার গন্ধ নাকে ঢুকতেই মাথাটা ঘুরে উঠল। চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে এলো। ধীরে ধীরে জ্ঞা*ন হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল ঊষা।
মুখোশ পরা লোকটা এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না। অচেতন ঊষাকে কাঁধে তুলে নিলো, যেন একটা পুতুল। তারপর ধীর পায়ে গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রঙের গাড়িটার দিকে এগিয়ে গেল। পেছনের দরজাটা খুলে ঊষাকে সিটের উপর ছুঁড়ে ফেলে দিল।

নিজেও ড্রাইভিং সিটে উঠে বসল। গাড়িটা স্টার্ট দিতেই নীরবতা ভেঙে গুড়গুড় শব্দ উঠল। কালো গাড়িটা ফাঁকা রাস্তা দিয়ে ধুলো উড়িয়ে মিলিয়ে গেল দূরে… আর পড়ে রইল শুধু ঊষার সাইকেলটা, রোদের মধ্যে একা।
কিছুটা সময় পেরিয়ে গেছে। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে একটা রুম। চারদিক থেকে বদ্ধ বাতাসের গন্ধ ভেসে আসছে। রুমের মাঝখানে কাঠের শক্ত চেয়ারের সাথে হাত পা বাঁ*ধা অবস্থায় বসে আছে ঊষা। ওর চুলগুলো এলোমেলো, কপালে গালে ঘাম আর ধুলো মাখা। শরীরটা বারবার কেঁপে উঠছে ভয়ে।
হঠাৎ চোখের পাতা কেঁপে উঠল। জ্ঞান ফিরল ঊষার। নিজেকে এভাবে দড়ি দিয়ে বাঁ*ধা দেখে বুকের ভেতরটা মুহূর্তে হিম হয়ে গেল।
“কেউ আছেন? আমাকে বাঁ*চান! আমাকে কেউ আটকে রেখেছে!”গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল ঊষা। ওর গলা কেঁপে কেঁপে ভেঙে যাচ্ছে।
“কেউ শুনতে পাচ্ছেন? আমাকে এখানে কেউ বেঁধে রেখেছে! বাঁচান আমাকে! কেউ আছেন?”
বার বার চিৎকার করছে, কিন্তু উত্তর দিচ্ছে শুধু দেয়ালের প্রতিধ্বনি। ভয়ে ওর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসবে এখনই।
হঠাৎ নাকে একটা পচা, বোটকা গন্ধ এসে লাগল। গা গুলিয়ে উঠল ঊষার। বমি আসতে চাইল। চোখের পানি মুছে সামনে তাকাতেই ওর শরীরের র*ক্ত হিম হয়ে গেল।

মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে আছে শুকনো, কালচে র*ক্তের দাগ। চারপাশে বড় বড় রা*ম*দা, ধারা*লো ছু*রি, লোহার শিকল সবকিছুতে লেগে আছে লালচে দাগ। রুমের কোণে অন্ধকার, আর সেই অন্ধকার যেন ওকে গিলে খেতে আসছে।
এই দৃশ্য দেখে ঊষার কলিজা কেঁপে উঠল। গলা দিয়ে আবার চিৎকার বেরিয়ে এলো,
“আমাকে কেউ বাঁ*চান! আমাকে এখানে আটকে রেখেছে! কেউ আমার চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন? প্লিজ… কেউ আছেন?”
ওর চিৎকারে রুমের বাতাসও যেন ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু বাইরে থেকে কোনো সাড়া এলো না। শুধু ওর নিজের কান্না আর ভয় জড়ানো নিঃশ্বাসের শব্দ।
হঠাৎ ‘ক্যাঁচ’ করে শব্দ হলো। রুমের মরিচা ধরা লোহার দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
ঊষা আতঙ্কে মাথা তুলে তাকালো। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে কালো পোশাক পরা একটা লম্বা অবয়ব। মুখে কালো মুখোশ, হাতে একটা ধারালো রা*ম*দা। লোকটা ধীর পায়ে ভেতরে ঢুকল। প্রতিটা পা ফেলার শব্দ ঊষার বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটাচ্ছে।
লোকটা ঊষার সামনে এসে দাঁড়ালো। রামদাটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে, যেন শিকার কা*ট*বে এখনই। মুখোশের ফাঁক দিয়ে ওর চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে ঠান্ডা, নিষ্ঠুর, প্রাণহীন।
ঊষা কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,
“কে… কে আপনি? আমাকে ছেড়ে দিন… আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৮

লোকটা ঊষার পায়ের কাছে রামদাটা সজোরে ছুঁড়ে ফেলল। ‘ঠং’ করে শব্দ হয়ে ধারালো ফলাটা মেঝেতে গেঁথে গেল। তারপর পাগলের মতো জোরে জোরে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে মরিচা ধরা লোহার দরজাটা টেনে দিয়ে বাইরে থেকে খট করে আটকে দিল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here