Home প্রফেসর উজান চৌধুরী প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯
বন্যা সিকদার

কাঙ্ক্ষিত হাতের সেই চেনা ছোঁয়া পাওয়া মাত্রই এতক্ষণ পাথরের মতো শক্ত হয়ে থাকা উজান এক পলকে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। সে নিজের সমস্ত পুরুষালি অহংকার আর ইগো একপাশে ঠেলে দিয়ে ইফাত’কে দুই হাতে আষ্ঠেপৃষ্ঠে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
​উজানে’র এমন আকস্মিক কাণ্ডে ইফাত স্তব্ধ হয়ে গেল। চৌদ্দ বছর আগে শিরিন যখন ওনলি টাকার লোভে উজানে’র লাইফ থেকে চিরকালের জন্য চলে গিয়েছিল‚ তখনও ইফাত এই পাথরমানবকে এতটা বেপরোয়া হতে বা অপরাধবোধে এভাবে অনুশোচনা করতে দেখেনি। আজ এই পুঁচকে মৌ’য়ের জন্য সে যেভাবে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হচ্ছে। উজানে’র চোখ-মুখে এখন স্পষ্ট এক অপরাধবোধের ছাপ অথচ কয়েক ঘন্টা আগেই বাইরে একটা ছেলেকে পিটিয়ে আধমরা করে আসার পরেও তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা ভ্রুক্ষেপ ছিল না। উজানে’র ভেতরের এমন আমূল পরিবর্তন দেখে ইফাত নিজেই নিজের মনে চরম অবাক হলো। ​উজান এবার ইফাত’কে ছেড়ে দিয়ে তার মুখোমুখি হয়ে বসল। সে ইফাতে’র হাত দুটো নিজের দুই হাতের ভাঁজে শক্ত করে ঢুকিয়ে নিয়ে। চরম ভয়ার্ত ও কাঁপা কাঁপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল‚

​“ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড। প্লিজ ভাই বিশ্বাস কর তুই আমাকে‚ আমি আমার ওই পুঁচকে পিচ্চিটাকে বিন্দুমাত্র হার্ট করতে চাইনি। আমি ওকে নিজের হাতে ওভাবে আঘাত করতে চাইনি‚ কেন তোরা কেউ আমার ভেতরের ছটফটানিটা বুঝতে পারছিস না? ওকে ওভাবে হার্ট করে যে আমি নিজের ভেতরে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ক্ষতবিক্ষত হচ্ছি। পিচ্চি বলল‚ ও নাকি আমাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবে। আমাকে নাকি ও চিরকালের জন্য আমার এই খাঁচা থেকে মুক্তি দিয়ে দেবে।
কিন্তু আমি তো এমন শূন্যতার মুক্তি চাই না। আমার তো ওকেই চাই। অনলি ওই অবাধ্য পিচ্চিটাকেই চাই। তুই-ই বল না ভাই‚ ও যদি সত্যি সত্যি আমায় ছেড়ে চলে যায় তবে আমাকে কে ওভাবে হাসাবে? কে আমার সাথে রোজ অমন পাগলের মতো অধিকার নিয়ে ঝগড়া করবে? প্রতিদিন রাতে আমার বুকে মুখ গুঁজে ঘুমানোর জন্য কে অমন অবুঝের মতো পাগলামি করবে? কে সারাদিন আমার পেছনে ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ বলে চিলড্রেনদের মতো চিৎকার করবে? আমি আমার পিচ্চিকে কোনো মূল্যে হারাতে চাই না। তুই প্লিজ ওর কাছে যা না‚ ওকে বুঝিয়ে বল না আমার এখানে থাকতে।

​ইফাত এক দীর্ঘ ও তপ্ত শ্বাস ফেলল। সে আগেই বুঝেছিল কোনো না কোনোদিন এমন একটা কালবৈশাখী ঝড় আসবেই। ইফাত উজানে’র কাঁধে হাত রেখে তাকে শান্ত হতে বলল। কিন্তু উজান আজ নিজের সমস্ত ম্যাচিউরিটির ছাপ ধুয়ে-মুছে ফেলে অবুঝ বাচ্চাদের মতো করছে। ​
“রিলাক্স ইয়ার এমন কিছু হয়নি।
​“তুই আমাকে এই মুহূর্তে রিলাক্স হতে বলছিস‚সিরিয়াসলি? আর ‘এমন কিছু হয়নি’ মানে কী? তুই কি আদেও বুঝতে পারছিস না যে ওকে হারানোর ভয়ে আমার বুকের ভেতরটা ঠিক কতটা পুড়ছে‚ কতটা কষ্ট হচ্ছে আমার?
​উজান নিজের মাথাটা দুই হাঁটুর মাঝখানে নিচু করে নিল। অতিরিক্ত রাগ আর মদ্যপানের কারণে তার চোখ-মুখ এখনও টকটকে লাল হয়ে আছে। উাজনে’র এমন করুণ দশা দেখে ইফাত হুট করেই এক পাগলের মতো শব্দ করে উপহাসের হাসি হেসে উঠল। উজান নিজের জোড়া ভ্রু কুঁচকে চরম বিরক্তিতে তাকাল।
“তুই আমার এই মরণাপন্ন অবস্থা দেখে এভাবে হাসছিস? তোর মনে হচ্ছে আমি এখন তোর সামনে দাঁড়িয়ে কোনো জোকস বলছি‚ হ্যাঁ?

ইফাত কোনো রকম হাসি থামিয়ে উল্টো প্রশ্ন করলো‚ “কষ্ট হচ্ছে তোর? কিন্তু কেন কষ্ট হচ্ছে তোর উজান? ওই মেয়েটাকে তো তুই নিজের ‘বউ’ বলে কোনোদিন স্বীকারই করিসনি। তাহলে আজ ও চলে যাওয়ার কথা বলতেই কেন তোর মনে এত বড় আহাজারি শুরু হলো‚ হ্যাঁ? চলে যাক সে। তুই তো তাকে ছাড়াও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারবি‚ তাহলে এত নাটক কিসের?
​ইফাতে’র এই নির্মম সত্য কথাটি শোনা মাত্রই উজান এক তীব্র ঝটকায় ইফাত’কে নিজের থেকে সজোরে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দিল। তারপর নিজের দুই হাত দিয়ে নিজের মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে চিৎকার দিয়ে উঠল‚
“তুই কেন বুঝতে পারছিস না? ওই পিচ্চিটাকে ছাড়া থাকতে পারবে না উজান চৌধুরী। রোজ ভালোবাসা নামক যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য হলেও ওই মেয়েটাকে আমার চাই‚ মানে চাই। আমি চিরকালের জন্য মুক্তি চাই না। আমি ওই অবাধ্য মেয়েটার খাঁচায় বন্দি থাকতে চাই আজীবন।

​কথাটি শেষ করতে করতেই উজান হুট করে ইফাতে’র শরীরের ওপর ঢলে পড়ল। এতক্ষণ নিজের মনের ভেতরের ক্ষোভ আর শক্তির জোরে নিজেকে সোজা করে ধরে রাখলেও এখন আর তার শরীর সঙ্গ দিল না। মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল আর এসিডের তীব্র যন্ত্রণার কারণে তার মাথাটা এখন প্রচণ্ড ঝিমঝিম করছে‚ চোখের চারপাশের সবকিছু যেন এক গভীর অন্ধকারের চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। চারপাশের পুরো রুমটা যেন পাথরের মতো নিথর হয়ে গেল। আর সেই গভীর অন্ধকারের মাঝেই উজান ইফাতে’র বুকে পুরোপুরি সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেল। ​অবশ্য এতে নতুন করে ভয়ের কিছু নেই‚ মাত্রাতিরিক্ত নেশাজাতীয় দ্রব্য আর মানসিক স্ট্রেস একসাথে নেওয়ার কারণেই তার শরীরটা সাময়িকভাবে অবশ হয়ে পড়েছে। ইফাত বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে উজানে’র নিস্পন্দ শরীরের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে উজান’কে ঠিকঠাকভাবে শুইয়ে দিয়ে সে নিজে ওই কক্ষ ত্যাগ করল।
ইফাত নিজেও এই মুহূর্তে নিজেকে ঠিকঠাক সামলাতে পারছে না। সে খুব ভালো করেই বোঝে ‘মায়া’ নামের জিনিসটা আসলে ঠিক কতটা মারাত্মক ও বিষাক্ত। হয়তো উজান এখনও নিজের মুখে স্বীকার করতে পারছে না যে সে মৌ’য়ের প্রতি মনে মনে কতটা মারাত্মক দুর্বল কিন্তু ইফাত তো উজানে’র চোখের দিকে তাকিয়েই তার মনের সব কথা এক পলকে বুঝতে পেরেছে। তবে সে নিজের ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের মতো উজানে’র জীবনটাকে এভাবে ইগোর টানে ধ্বংস হতে দেবে না। সে উজান’কে বুঝিয়েই ছাড়বে—এই অন্ধ অধিকারবোধ আর জেলাসি থেকেই আসলে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ভালোবাসার সৃষ্টি হয়‚ মুখে যতই ‘বউ মানি না’ বলে চিল্লাক না কেন।

​ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে উজানে’র চোখের পাতার ঘোর ভাঙল। চোখ মেলতেই কয়েক ঘণ্টা আগের সেই জঘন্য কাণ্ডকারখানা আর ছটফটানির কথা মনে হওয়া মাত্রই উজান বিছানার ওপর ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল। মৌ’য়ের কথা মনে হতেই সে এক বুক আতঙ্ক নিয়ে চারদিকে তাকাল। কিন্তু আজ আর ভোরের এই আলোয় নিজের চওড়া বুকের ওপর সেই অবাধ্য‚ চপল পিচ্চি মেয়েটাকে সে জড়িয়ে ধরে রাখতে পারল না। বিছানার অন্য পাশটা আজ একদম শূন্য। সে যে অভিমান করেছে। উজানে’র ওপর এক আকাশ সমান তীব্র ও বিষাক্ত অভিমান বুকে চেপে মেয়েটা রুম ছেড়ে চলে গেছে। ​উজান নিজের দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরে বেশ কিছুক্ষণ বিছানার ওপর ঝিম মেরে বসে রইল। তারপর ধীরপায়ে‚ অপরাধীর মতো নিজের রুম থেকে বেরিয়ে গেল। একে একে বাসার প্রায় সব কটা রুম খোঁজা শেষ হলেও সে মৌকে কোথাও খুঁজে পেল না। তার বুকের ভেতরের ভয়টা এক নিমেষে হাজার গুণ বেড়ে গেল।

​অতঃপর করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় সে দেখতে পেল নিজের বাবা-মায়ের বেডরুমের দরজাটা কিছুটা খোলা। রোজ সকালে তার বাবা এই সময়ে মর্নিং ওয়াকে যান‚ আজ কেন জানি না ভেতরটায় একটু উঁকি দিতে ইচ্ছে হলো উজানে’র। উজান দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিতেই বিছানার এক কোণে মায়ের বুক ঘেঁষে ঘুমিয়ে থাকা মৌ’কে দেখতে পেল। তার মানে‚ সারারাত ধরে মৌ নিজেরতার শাশুড়ি আর শ্বশুরের রুমে এসে গুটিসুটি মেরে লুকিয়ে ছিল।
মৌ’য়ের সেই ভয়ার্ত‚ ফ্যাকাশে আর চোখের জলে ভেজা বিধ্বস্ত মুখখানার দিকে তাকিয়ে উজানে’র নিজের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা আর আক্রোশ হতে লাগল। ​ইচ্ছে করছিল এখনই দৌড়ে গিয়ে মেয়েটাকে নিজের বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের এই অশান্ত বুকটা শান্ত করতে। কিন্তু সে নিজের পা বাড়াতে পারল না। যদি তার যাওয়ার কারণে মেয়েটার ঘুম ভেঙে যায়‚ আর সে ভয়ে আবারও চিৎকার করে ওঠে। তখন তো তার এই পিচ্চি বউটাই মনে মনে আরও বেশি কষ্ট পাবে। তাই উজান একরাশ বিষাদ মেশানো চোখে কিছুক্ষণ ওভাবেই তাকিয়ে থেকে অলক্ষ্যেই নিজের রুমে ফিরে এলো। তারপর প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের ভেতরের সব পাপ ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করে টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বেরিয়ে এলো সে।

ছাদে যাওয়ার আগে সে ইফাতে’র টেবিলের ওপর থেকে নিজের হাতের মুঠো শক্ত করে কিছু একটা নিল। তারপর ধীরে ধীরে ভারী পায়ে ছাদের রেলিংয়ের গ্রিল ঘেঁষে এসে একাকী দাঁড়িয়ে গেল। সেই হাতের মুঠোয় শক্ত করে বন্ধ করা জিনিসটার নাম হচ্ছে‚ সিগারেট। ​উজান নিজের জীবনে আজ পর্যন্ত কোনোদিন নেশার এই ক্ষতিকারক কাঠি ছুঁয়েও দেখেনি। তবে সে ইফাত’কে দেখেছে খুব বেশি কষ্ট বা ট্রমা থাকলে ছেলেরা নাকি এই সিগারেট খেয়ে নিজের কষ্টটা কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করে। তাই আজ সে-ও নিজের ভেতরের অসহ্য জ্বালা মেটাতে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁপানো হাতে সিগারেটটা ধরাল। এক এক করে কয়েকটি সিগারেট টানতেই তার ফুসফুস কাঁপিয়ে ধোঁয়া বের হতে লাগল। সে নিজের বুকের ভেতরের জমে থাকা সমস্ত তীব্র যন্ত্রণা আর বিষাদ ধোঁয়া হিসেবে বাতাসে উড়িয়ে দিতে চাইল।

​ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ একজন এসে তার চওড়া কাঁধের ওপর পরম মায়ায় হাত রাখল। আচমকা এমন ছোঁয়ায় উজান চমকে উঠে পেছনে তাকাল। পাশে ইফাত’কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে এক স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ইফাত দূর নীল আকাশের দিকে নিজের দৃষ্টি স্থির করে ঠোঁটের কোণে এক মৃদু হাসলো।
​”এই ধোঁয়ার মাঝে নিজের মনের শান্তি খুঁজছিস?
​উজান এক পলক ইফাতে’র দিকে তাকাল। এই ছেলেটা আজকাল না বলতেই তার মনের ভেতরের সব গোপন কথা কীভাবে যেন নিখুঁতভাবে বুঝে যায়। হয়তো দুজনেই এক নৌকার মাঝি বলেই ইফাত তার এই দহনটা টের পাচ্ছে। দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ নীরব চোখাচোখি হলো‚ তারপর আবারও দুজনে একসাথে সামনের দূর দিগন্তের আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। উজান এক তপ্ত শ্বাস ছেড়ে নিচু স্বরে উত্তর দিল। ​“শান্তি খুঁজলেই কি আর এত সহজে পাওয়া যায়?
​”ভালোবাসিস ভাবিকে?
ইফাত কোনো ভূমিকা না করে সরাসরি মেঘনাদ বধের মতো প্রশ্নটা ছুড়ে দিল। ​এই আচমকা প্রশ্নটা শোনা মাত্রই উজানে’র মাথার ওপর যেন আস্ত আকাশটা ভেঙে পড়ল। সে ইফাতে’র কাছ থেকে এমন প্রশ্ন আশা করেনি। সে থতমত খেয়ে গেল। ইফাত এবার নিজের পুরো দৃষ্টি উজানে’র ওই বিষণ্ণ মুখের দিকে নিবদ্ধ করে শান্ত গলায় বলতে লাগলো।

​”ভালোবাসিস না এটাই বলবি তো? তবে সামান্য চলে যাওয়ার কথা শুনে এমন উন্মাদ প্রেমিকের মতো বিহেভিয়ার করছিস কেন? কেন তাকে বউ মানি না বলার পরেও তাকে ছাড়া থাকতে পারবি না? কেন এক সামান্য মেয়ের কষ্ট দেখলে তোর নিজের বুকেও এমন তীব্র কষ্ট হয়? জানি‚ আমার একটা প্রশ্নের উত্তরও তুই দিতে পারবি না। ভালোবাসা এমনই‚ মনে হয় সে আমার কেউ নয় অথচ তাকে ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও থাকতে পারি না।
​জানি তোর লাইফে একটা বাজে পাস্ট আছে‚ তাই বলে নিজের প্রেজেন্ট আর ফিউচারকে ওই পাস্টের অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখবি‚ এমন কেন তুই? কেন তোর মনে নতুন করে ভালোবাসার জন্ম হবে না? কেউ একজন চলে গেলেই যে পুরো লাইফটা ওখানেই থেমে যাবে এমন তো নয়। তুই বরং তাকে দেখিয়ে দে‚ তাকে ছাড়াও তুই আজ নিজের জীবনে কতটা পরিপূর্ণ। কাপুরুষের মতো এভাবে ভেঙে পড়ার লোক কিন্তু উজান চৌধুরী নয়। ​

জানিস তো নারী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ। পুরুষ কখনো একা একাকী এই পৃথিবীতে শান্তিতে বাঁচতে পারে না। প্রতিটা পদক্ষেপে‚ প্রতিটা মোড়ে একজন পুরুষের একজন নারীর প্রয়োজন হয়। তুই মুখে তা মানিস আর না-ই মানিস। একটা নারী যেমন একটা সুখের সংসার ভেঙে চুরমার করতে পারে‚ তেমনি নিজের মায়া আর ভালোবাসা দিয়ে একটা ভাঙা সংসার নতুন করে গড়তেও পারে। আর সেই কারণেই নারী ছাড়া পুরুষ অর্থহীন।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৮

​উজান হাতের জ্বলন্ত সিগারেটটা ফেলে দিয়ে ইফাতে’র বলা প্রতিটা কথা একমনে‚ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। নিজের লাইফ নিয়ে সবসময় বেপরোয়া ও চিল করা যে ছেলেটাও সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে থাকে‘ সে আজ তাকে এত সুন্দর করে বোঝাচ্ছে ভালোবাসা কী জিনিস। একজন পুরুষের জীবনে নারীর গুরুত্ব ঠিক কতখানি। ​উজান নিজের মনে মনে ভাবল‚ ভালোবাসা বুঝি সত্যিই এমনই এক জাদুকরী জিনিস। যা একটা চরম জেদি‚ রুক্ষ আর খারাপ পুরুষকেও এক নিমেষে এমন বুঝদার ও প্রেমিক বানিয়ে তোলে।

প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here