প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (৩)
বন্যা সিকদার
উজান মৌ’কে পাঁজাকোলা করে নিয়ে রুমে ঢুকতেই মৌ নিজের সমস্ত রাগ উগরে দিয়ে উজানে’র শক্ত বুকের ওপর এলোপাতাড়িভাবে ছোট ছোট ঘুষি মারতে লাগল। এতে অবশ্য উজান চৌধুরীর বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ বা মাথাব্যথা হলো না। সে ডোন্ট কেয়ার ভাবটা মুখে বজায় রেখেই মৌ’কে আলতো করে বিছানায় বসিয়ে দিল। তবে বাইরে থেকে নিজেকে যতই শক্ত দেখাক না কেন? উজানে’র ডানহাতে কিন্তু এখনও তীব্র ব্যথা রয়েছে। মৌ দেখতে বেশ শুকনো গড়নের হওয়ায় তাকে একহাতে আগলে নিয়ে আসতে উজানে’র তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি ঠিকই কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় মৌ’য়ের অনবরত ছটফটানির কারণে উজানে’র চোট পাওয়া হাতটা দেয়ালের কোণে সজোরে লেগে নতুন করে অনেকখানি চোট পেয়েছে।
মৌ বিছানায় বসা মাত্রই আবারও এক ঝটকায় উঠে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু উজান তার চেয়েও চতুর; সে দ্রুত গিয়ে রুমের মেইন দরজাটা ভেতর থেকে লক করে দিল এবং এক বুক ক্লান্তি নিয়ে বিছানায় নিজের গা এলিয়ে বসল। মৌ উচ্চতায় উজানে’র চেয়ে অনেকটাই খাটো হওয়ায়, দরজার ওই উঁচু লকটার নাগাল সে কোনোভাবেই পেল না। এমনকি রুমে এমন কোনো হালকা-পাতলা চেয়ার বা টুলও নেই যা টেনে নিয়ে সে দরজার সামনে দাঁড় করাবে। যা আছে তার সবগুলোই মৌ’য়ের ওজনের চেয়েও অনেক বেশি ভারী। পালাবার কোনো পথ না পেয়ে মৌ এবার হনহন করে বিছানায় আধশোয়া উজানে’র সামনে গিয়ে দাঁড়াল। নিজের দুই কোমরে দুই হাত গুঁজে‚ চোখ দুটো বড় বড় করে অত্যন্ত কর্কশ কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত করল।
”বেয়াদব পুরুষ সবার সামনে ওমন অধিকার ফলিয়ে নিজেকে কি প্রমাণ করতে চাইছেন‚ হ্যাঁ? আপনি কি ভাবছেন সবার সামনে ওমন বেহায়াপনা করলেই তাসফিয়া মৌ আপনাকে এক পলকে ক্ষমা করে দেবে? নো‚ নেভার। কোনোদিনও না। আব্বু কাল সকালেই এই বাড়িতে আমাকে নিতে আসবে আর আমি কালকেই আব্বুর সাথে নিজের বাপের বাড়ি চলে যাব।
মৌ’য়ের মুখের শেষ বাক্যটা শেষ হতে পারল না‚ তার আগেই উজান এক হেঁচকা টানে মৌ’য়ের নরম হাতটা ধরে নিজের চওড়া ও উন্মুক্ত বুকের ওপর আছড়ে ফেলল। আচমকা টানে মৌ সরাসরি উজানে’র ওপর এসে পড়তেই উজান মৌ’য়ের কানের খুব কাছে নিজের ঠোঁট দুটো নিয়ে ফিসফিসিয়ে আওরাল‚
“ওহ্ মাই লিটল সুইট বউ। তুমি নিজে চাইলেই তো আর এই উজান চৌধুরী তোমাকে এত সহজে তার এই খাঁচা থেকে যেতে দিচ্ছে না।
মৌ উজানে’র বুকের বন্দিদশা থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছটফট করতে লাগল। আর বউয়ের এমন অবুঝ ছটফটানি দেখে উজান নিজের ঠোঁটের কোণে মুচকি মুচকি হাসতে লাগল। সে নিজেও নিজের মনকে প্রশ্ন করে বুঝতে পারছে না হুট করে এই সামান্য মেয়েটার মুখ থেকে চলে যাওয়ার কথা শুনে কেন তার নিজের বুকের ভেতরটা অমন তীব্র হাহাকার করে উঠছিল? মৌ’য়ের প্রতি উজানে’র মনে মনে যে এক অদ্ভুত‚ অলৌকিক অনুভূতির জন্ম হয়েছে তা আজ অনস্বীকার্য। কিন্তু কেন এই অনুভূতি? এর উত্তর উজান চৌধুরীর নিজের কাছেও নেই। বিগত দুটো বছর ধরে এই মেয়েটার তার পেছনে সারাদিন পাগলামি করার কারণে‚ নাকি সমাজ ও ধর্মের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার টানে? তবে কারণ যাই হোক না কেন‚ উজান এখন নিজের মনের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে নিজেকে পুরোপুরিভাবে এই ‘মৌ’ নামক মায়ায় মগ্ন করে ফেলার। আর কোনো কিছুর জন্য না হলেও‚ এই নিষ্পাপ পিচ্চি মেয়েটার চোখের সমস্ত স্বপ্ন এবার সে নিজে পূরণ করবে। তাকে একটা সুখের‚ ভালোবাসার নীড় উপহার দেবে; যদিও সে নিজে এখনও জানে না সে এই দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারবে। এর মাঝেই মৌ আবারও চেঁচিয়ে উঠলো।
”ছাড়ুন বলছি আমাকে। একদম ছোঁবেন না।
এই বলেই মৌ তীব্র আক্রোশে উজানে’র বাঁধন থেকে সরে আসতে চাইল। আর নিজেকে মুক্ত করার এই তাড়াহুড়োতেই সে অসাবধানতাবশত উজানে’র সেই আঘাতপ্রাপ্ত হাতটার ওপর সজোরে একটা ঘুষি বসিয়ে দিল। আর ততক্ষণাৎ উজান তীব্র যন্ত্রণায় নিজের মুখমণ্ডল চরমভাবে বিকৃত করে ফেলল। একটু আগের দেয়ালের চোটের ব্যথাই এখনও কমেনি‚ তার ওপর আবার এই মেয়েটার শক্ত হাতের ঘুষি। মৌ দেখতে যতই শুকনো আর পাতলা হোক না কেন। রাগলে তার শরীরে অনেক জোর চলে আসে‚ উজান তা আজ হাড়েমাসেই টের পেল।
উজান ব্যথায় ককিয়ে উঠে। “আউচ….
মৌ উজানে’র মুখ থেকে ওমন যন্ত্রণার আওয়াজ শুনে এক ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকাল। উজানে’র ব্যথায় নীল হয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠল। নিজের অজান্তেই উজান’কে এভাবে এত বড় আঘাত দিয়ে ফেলায় মৌ’য়ের নিজের ওপরই এখন ভীষণ রাগ হতে লাগল। সে নিজের সমস্ত মান-অভিমান একপাশে ঠেলে দিয়ে দ্রুত উজানে’র চোট পাওয়া হাতটা নিজের দুটি নরম হাতের মুঠোয় টেনে নিল। তারপর গভীর মায়ায় ও ব্যাকুলতায় সেই ব্যথার জায়গায় আলতো করে মুখে ফু দিতে লাগল। মৌ একরাশ অসহায় ও অপরাধী দৃষ্টিতে উজানে’র দিকে তাকিয়ে একদম নরম গলায় বলে উঠে।
“খুব বেশি ব্যথা দিয়ে ফেলেছি তাই না? আই অ্যাম রিয়েলি সরি। আমি সত্যি বুঝতে পারিনি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।
উজান এক দৃষ্টিতে মৌ’য়ের ওই ভয়ার্ত ও মায়াবী মুখখানার দিকে তাকিয়ে আলতো করে হাসল। এই মেয়েটা যখন এভাবে ভয় পায় বা হাসে তখন তাকে দেখতে ঠিক কতটা মারাত্মক কিউট লাগে‚ উজান নিজের জীবনে এর আগে এত নিখুঁত ও গভীর দৃষ্টিতে কখনো খেয়ালই করেনি। আজ তার মনে হলো‚ মেয়েটি সত্যিই অসম্ভব সুন্দর‚ এক মায়াবী অপ্সরী। অথচ সে নিজের তীব্র অহংকারের কারণে এতদিন এই পবিত্র মেয়েটার দিকে একবার ফিরেও তাকায়নি। ইফাত সত্যিই ঠিক কথা বলে “নারী ছাড়া পুরুষ এক্কেবারে অসম্পূর্ণ” এই ধ্রুব সত্যটা মনে মনে স্বীকার করা মাত্রই উজানে’র বুকের ভেতরের সমস্ত অশান্তি ধুয়ে-মুছে এক স্বর্গীয় শান্তি বিরাজ করতে লাগল। আচমকা সে নিজের শরীরটা আরও কিছুটা মৌ’য়ের দিকে ঝুঁকিয়ে নিয়ে‚ তার চোখের দিকে চোখ রেখে ফিসফিসিয়ে আওড়াল‚
“ব্যথা যখন দিয়েই ফেলেছো তাহলে পানিশমেন্ট হিসেবে আমাকে এখন গুনে গুনে দশ-দশটা মিষ্টি চুমু দাও দেখি।
উজানের মুখ থেকে এমন অকপট ও খোলামেলা দাবি শুনে মৌ মুহূর্তের মধ্যে পুরো থমথমে খেয়ে গেল। এই লোকটা কি তার সাথে নির্ঘাত কোনো ফাজলামো বা ইয়ার্কি করছে? নয়তো যে লোকটা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ‘তোমাকে বউ মানি না, বউ মানি না’ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতো। সে আজ হঠাৎ সবার সামনে আর রুমের ভেতরে এমন সাইকো প্রেমিকের মতো বিহেভিয়ার করছে কেন? মৌ নিজের লজ্জা লুকাতে এবারও কৃত্রিম চোখ রাঙিয়ে উজানে’র দিকে তাকালো।
“অসভ্য পুরুষ!
উজান নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে শয়তানি হাসি ঝুলিয়ে দিয়ে আরও কাছে এগিয়ে এলো। তারপর চোখ টিপে বলে উঠলো। “তাহলে হাজার খানেক চুমু দিয়ে সভ্য পুরুষ বানিয়ে ফেলো।
উজানে’র মুখে প্রকাশ্য এমন দাবি শোনা মাত্রই মৌ রাগে গজগজ করে উঠল। এমন অদ্ভুত ও বেহায়া পুরুষ সে নিজের জীবনে দুটো দেখেনি। সে উজানে’র সাথে আর একটা কথাও বাড়াল না; উল্টো দিকে ঘুরে ধড়ফড় করে নিজের মুখটা ফিরিয়ে রাখাল। মনে মনে শক্ত প্রতিজ্ঞা করল‚ এই পাষাণ লোকটার সাথে সে আর একটাও কথা বলবে না। উজান বারকয়েক তার দিকে তাকাল‚ একটু মানানোর চেষ্টা করল, তবুও মৌ নিজের গাল দুটো বেলুনের মতো ফুলিয়েই রাখল। রুমের মেইন দরজা লক থাকায় সে রুম থেকে বের হতে পারল না তাই হনহন করে বেলকনির দিকে চলে গেল। উজানও একগুঁয়ে মতো তার পিছু পিছু বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। কিন্তু মৌ জেদ ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল‚ উজানে’র সাথে একটাও কথা বলল না। উজান এবার কিছুটা কাতর গলায় আওরায়‚
“এই পিচ্চি বউ একটু কথা বলো না প্লিজ? তিন-তিনটে দিন ধরে নিজের মনে অভিমান জমিয়ে একটাও কথা বলোনি। এখনো ওভাবে মুখ ফিরিয়ে থাকবে? প্লিজ‚ টকিং টু মি। ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড‚ আর কখনো এমন হবে না। এরপর থেকে তুমি যা বলবে এই উজান চৌধুরী ঠিক তাই শুনবে গড প্রমিজ!
মৌ এবার এক ঝটকায় ঘুরে দাঁড়িয়ে তীব্র অভিমানে স্বরে উওর দিল। “আমি কোনোদিনই কথা বলব না আপনার সাথে। আপনি সেদিন কেন আমাকে ওভাবে সজোরে থাপ্পড় মেরেছিলেন হ্যাঁ? আমি কালকেই আব্বুর সাথে চলে যাব আর কোনোদিন এই বাড়িতে ফিরে আসব না। আপনি খুব খারাপ‚ ভীষণ খারাপ একটা মানুষ।
“প্লিজ পিচ্চি ক্ষমা করে দাও না। ট্রাস্ট মি‚ নেক্সট টাইম এমন রুড আর কখনো হবো না।
উজান বেশ অনুনয় করে বলল।
মৌ এবার উজানে’র চোখের দিকে তাকাল। দুজনের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য নীরব চোখাচোখি হলো। উজানে’র অপরাধী মুখটা দেখে মৌ’য়ের মনে হুট করেই খানিকটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। সে ঠোঁটের কোণে হালকা রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলে উঠল। “তাহলে আমাকে পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেবেন?
মৌ’য়ের কথা শোনা মাত্রই উজানে’র ভেতরের সেই কড়া প্রফেসর রূপটা এক নিমেষে জেগে উঠল। সে এক ঝটকায় নিজের চোখ বড় বড় করে চেঁচিয়ে উঠে‚ “শাশুড়ির মেয়ে সর এখান থেকে। পড়াশোনা চাঙ্গে ফেলে এসেছে পাস করতে। রসগোল্লা দেবো‚ বড় বড় রসগোল্লা দেবো খাতায়
মৌ এবার উজানে’র দিকে এক চরম কটমট দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। ভেবেছিল এই সুযোগে অন্তত উজানে’র কাছ থেকে প্রশ্নফাঁস বা পাস করার একটা আশ্বাস আদায় করে নেবে কিন্তু এই লোকটা জাতে মাতাল হলেও তালের বেলায় এক্কেবারে ঠিক আছে। নিজের প্রফেশন নিয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। মৌ চরম বিরক্তিতে মুখ বাঁকিয়ে বেলকনির অন্য এক কোণায় গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। উজানও নাছোড়বান্দা; সে আবারও মৌ’য়ের পেছনে পেছনে গেল এবং তার আঁচলটা আলতো করে টেনে ধরে কাতর স্বরে মিনতি করল।
“এই পিচ্চি আবারও ওভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিলে? একটু কথা বলো আমার সাথে?
”বলব না কথা। আগে ভালো মানুষের মতো প্রমিজ করুন যে আমায় পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেবেন?
মৌ জেদ ধরল। উজান এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে আওরায়‚ “প্লিজ পিচ্চি অবুজ বাচ্চাদের মতো অবাস্তব কথা বলো না। এটা কোনোদিনই পসিবিল নয়।
”তাহলে আমিও আপনার সাথে আর কোনোদিন কথা বলব না। একে তো সেদিন আমাকে ওভাবে জোরে থাপ্পড় মারলেন‚ আমি মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ে গেলাম। আবার এই ছোট্ট একটা কারণে আমার ভাইটা আজ হসপিটালের বেডে ভর্তি। ফুপি কত কান্না করেছে আপনার বিন্দুমাত্র ধারণা আছে সেটার?
“এতে আমার কী দোষ শুনি? আমি কি আগে থেকে জানতাম নাকি যে ওটা আমার নিজের শালাবাবু ? তাছাড়া সে যাই হোক না কেন ওই বজ্জাত ছেলেটা আমার এই পিচ্চি বউয়ের সাথে ওভাবে গায়ে ঘেঁষাঘেঁষি কেন করবে? যেখানে আমি নিজে এখনো তোমার এতটা কাছাকাছি যায়নি সেখানে ওই ছেলে কোন সাহসে ওভাবে যাবে? আমার পিচ্চি কি ওর বিবাহিত বউ? না তো‚ তাহলে কেন ও আমার বউকে ওভাবে জড়িয়ে ধরবে শুনি? কেন আমার বউয়ের সাথে ওভাবে হেসে হেসে মিষ্টি করে কথা বলবে? ওই বেয়াদব ছেলে কেন আমার বউকে চকলেট গিফট করবে হ্যাঁ? আমার কি টাকা-পয়সা নাই নাকি আমি নিজে রোজগার করতে পারি না কোনটা? আবার আমারই সামনে আমার নিজের বউয়ের কাঁধে ওভাবে হাত দেয় কোন সাহসে বলো আমায়?
উজানে’র মুখ থেকে অনর্গল ‘আমার বউ’, ‘আমার পিচ্চি’ শব্দগুলো শুনতে শুনতে মৌ হুট করেই প্রশ্ন ছুড়ে দিল। সে সোজা উজানে’র চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরস্থির কণ্ঠে বলল‚
”এতো যে বউ বউ করছেন‚ মন থেকে বউ মানেন আমায়?
প্রশ্নটা শোনা মাত্রই উজান নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে মৌ’য়ের দিকে তাকাল। সে দেখল মৌ নিজের ঘাড়টা কিছুটা কাত করে‚ এক বুক আশা আর আকুতি নিয়ে তার চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। উজান তার সেই গভীর ও তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি দেখেই এক পলকে বুঝতে পারল মৌ এই মুহূর্তে তার মুখ থেকে ঠিক কোন কথাটা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সে শুনতে চায় তাসফিয়া মৌ শুধু উজান চৌধুরীর একমাত্র অর্ধাঙ্গিনী‚ তার ওয়াইফ।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ১৯ (২)
কিন্তু উজান চৌধুরী তো সহজে গলে যাওয়ার মতো নরম ধাতু দিয়ে গড়া নয়। সে মৌ’য়ের ওই কাতর ও আশাবাদী দৃষ্টি দেখে নিজের ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরে ভেতরের হাসিটা চেপে রাখল। তারপর সোজাসাপ্টা গম্ভীর গলায় উত্তর দিল।
“সরি মিসেস চৌধুরী। আপনাকে আমি মন থেকে….
