Home চেকমেট ২ চেকমেট ২ পর্ব ২৩

চেকমেট ২ পর্ব ২৩

চেকমেট ২ পর্ব ২৩
সারিকা হোসাইন

ফোনের চিন্তায় রোদের নাওয়া খাওয়া সব উবে গেলো।শরীরের উত্তাপ বাড়লো সঙ্গে চূড়ান্ত মাথা ব্যথার উদ্রেক হলো।অজানা ভয় মনের ভেতর শক্ত হয়ে জেঁকে বসে কেমন ক্রুর হাসতে লাগলো। যেনো গহীন হৃদয় থেকে কেউ হুংকার ছেড়ে ধমকে উঠছে –
“এবার চোর ধরা পড়লো তবে।”
রোদ এলোমেলো পায়ে নিজ কক্ষের সর্বত্র জুড়ে পায়চারি চালালো সেই সাথে দাঁত দিয়ে নখ কেঁ/টে গোলাপি চামড়া বের করে ফেললো।তবুও কোনো সুরাহা বের করতে পারলো না।ইচ্ছে তো হচ্ছে এখনই ফোনটা নিয়ে আসতে।কিন্তু কাকে পাঠাবে সে?আর শাহরান তার ভার্সিটির লেকচারার এটাই বা বাড়িতে কিভাবে জানাবে? সব কিছু কেমন জট পাকিয়ে যাচ্ছে।ঘুরে ফিরে পুরোনো অতীত আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।সত্যিই বোধ হয় মানুষটার থেকে তার কোনো নিস্তার নেই।

দুপুরের খাবার প্লেটে সাজিয়ে চুপক্থা মেয়ের ঘরের সামনে এসে দরজায় কড়া নাড়লেন।ভেতর থেকে দরজা বন্ধ।ভদ্র মহিলা ভ্রু গুটালেন।মেয়ের কিছু হলো কিনা সেই শঙ্কায় জোরে জোরে দরজায় আঘাত করলেন।কয়েক পল গড়াতেই রোদ দরজা খুললো।চেহারা বিবর্ণ ,চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ,মাথার চুল আলুথালু শুকনো খসখসে গোলাপি ঠোঁট। যেনো আজন্মের শয্যা নেওয়া মৃত্যুপথাত্রী। চুপকথা ত্বরিত মেয়ের কপালে হাতের উল্টোপীঠ ছোঁয়ালো।শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে আকস্মিক।মেয়ের আচমকা জ্বর হলো ভেবেই মাতৃমন ঘাবড়ে উঠলো।মেয়েকে বিছানায় বসিয়ে হাত ইশারায় শুধালো –
“শরীর কখন থেকে খারাপ হতে শুরু করেছিলো?”
রোদ মিহি গলায় বললো –
“ও কিছুনা।একটু পরেই সেড়ে যাবে। ”
চুপকথা শুনল না।দ্রুত পদে মেয়ের ঘর থেকে বেরিয়ে রুদ্রকে টেক্সট পাঠালো –
“মেয়ের সাংঘাতিক জ্বর।ওষুধ নিয়ে বাসায় এসো।”

রোদ ফোনের চিন্তায় বিছানায় নেতিয়ে পড়ে রইলো।নিজের ভুলো মনের উপর নিজেরই রাগ জন্মালো।বাসায় যে কেউ শুনলে তাকেই গালমন্দ করবে। শাহরান বাঘ,ভাল্লুক নয়।তাকে দেখে ভয় পেয়ে দৌড়ে পালানো পুরোটাই অযৌক্তিক।কিন্তু তার মনে শাহরান কে ঘিরে যেই অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছে তা সকলের অজানা।সেই অনুভূতি লুকাতেই রোদ দৌড়ে পালিয়েছে।নয়তো কখন যেনো শাহরান পড়ে ফেলে তার মনের কথা।
এদিকে শাহরানকে ঘিরে হাজারো আলাপ চারিতা বন্ধু বান্ধবের সাথে সেই সংগে শাহরানের ছবি দিয়ে ফোনের ওয়ালপেপার দেয়া।একবার এসব যদি মানুষটার নজরে এসে যায় সাংঘাতিক বিচ্ছিরি এক কাণ্ড ঘটে যাবে।লজ্জায় মুখ দেখানো তো দূর বেঁচে থাকা হারাম হয়ে যাবে।এবার তবে কি উপায়?
স্ত্রীর টেক্সট পেয়ে ঘন্টা খানেকের ভেতর ফিরলো রুদ্র।মেয়ের ওষুধ নিয়ে হন্তদন্ত করে মেয়ের কক্ষে এসে স্থির দাঁড়ালো।বিছানায় আধো জাগরণে শুয়ে আছে রোদ।তপ্ত শ্বাস ফেলে মেয়ের কপালে হাত ছুঁইয়ে চমকে উঠলো রুদ্র।তাপমাত্রা হুহু করে বাড়ছে।হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন।এভাবে জ্বর বাড়তে থাকলে খিঁচুনি হবে।
রুদ্র মেয়েকে ডাকলো –

“মেডিসিন খেয়ে আমার সংগে হসপিটালে চলো রোদশী।তোমার গায়ের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক।”
রোদ উঠলো না। গো ধরে শুয়ে রইলো।সেই সংগে স্পস্ট গলায় জবাব দিলো –
“এটা ওই জ্বর নয় পাপা।একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে।আমাকে কিছুক্ষন একা রেস্ট করতে দাও।”
মেয়ের জবাবে রুদ্রের বাকা ভ্রু সরু হলো।এই জ্বর তবে কোন জ্বর?”
পিতৃহৃদ্য় মেয়ের কথাকে পাত্তা দিতে চাইলো না।সে জোর করলো উঠে তার সঙ্গে হসপিটালে যেতে।কিন্তু রোদ তার জবাবে অটল।শেষমেশ পরাস্ত হয়ে কক্ষ ত্যাগ করলো রুদ্র।
রুদ্র যেতেই রোদ যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।অহেতুক এক ফ্যাসাদে জড়িয়ে গেলো সে।এখন কিভাবে শাহরানের মুখোমুখি হবে সে?

শাহরণকে জরুরি তলবে ডেকেছে নিনাদ। নিনাদের অফিস ভার্সিটি থেকে দু ঘন্টার পথ।ছুটি হতেই শাহরান গাড়ি নিয়ে ছুটলো নিনাদের কাছে।রোদের ফোনটা গাড়ির ফোন হোল্ডারে রাখা।এমন সময় ভোঁ ভোঁ করে ফোনটা বেজে উঠলো।স্ক্রিনে প্রিয়ন্তীর নম্বর। শাহরান একবার ফোনটা পিক করতে চাইলো।পরক্ষনেই মনে হলো কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই শ্রেয়।ফোন কেটে গেলো। শাহরানের ব্যস্ত নজর রাস্তায় নিবদ্ধ।সারি সারি গাড়ি চলছে মসৃণ হাইওয়ে ধরে।একটু এদিক সেদিক হলেই জীবনের টাটা গুড বাই হয়ে যাবে।
প্রিয়ন্তী পুনরায় ফোন করলো রোদের নম্বরে।শাহরান বিরক্তিতে চ সুচক শব্দ উচ্চারণ করে ভ্রু কুচকে চোয়াল শক্ত করে বসে রইলো।ইচ্ছে করলো প্রিয়ন্তীর বাড়িতে গিয়ে ঠাটিয়ে দুই চড় বসাতে।দেখতেই পাচ্ছে একটা মানুষ ফোন ধরছে না।তারপরেও এতবার ফোন দেয়ার প্রয়োজন টা কি?এতোবড় ধিমড়ী মেয়ে অথচ সামান্য এই কমনসেন্স টুকু নেই?

নিনাদের অফিসের কাছাকাছি এসে শহরণের গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলো।চূড়ান্ত ভাবে মেজাজ বিগড়ালো এবার।সেই সংগে বলা কওয়া ছাড়াই ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো।অথচ আকাশ ভরা ঝকঝকে রোদ।যদিও ওয়েদার ফোরকাস্টে বৃষ্টির কথা বলা হয়েছিলো।এদিকে সাথে নেই ছাতা।অধিক রাগে দাঁত মুখ কামড়ে গাড়ি থেকে নেমে গেলো শাহরান।এরপর ভিজে ভিজে নিনাদ এর অফিসে এলো।
শাহরানকে কাকভেজা দেখে নিনাদ বিস্ময়ে শুধালো –
“সেকি গাড়িতে বসে বসে কিভাবে ভিজলি?”
জবাব দিতে মোটেও ইচ্ছে করলো না শাহরানের ।এদিকে নিনাদ একের পর এক বকবক করেই যাচ্ছে। শাহরান ঠোঁট শক্ত করে বলে উঠলো –
“মেকানিক ডেকে গাড়ি ঠিক করার ব্যবস্থা কর আর কেনো ডেকেছিস ফটাফট বল।আজ আমার অনেক কাজ।”
নিজের কেবিনে শাহরান কে বসিয়ে টাওয়েল এগিয়ে নিনাদ বলে উঠলো –

“আগে বল কোনো রিয়াক্ট করবি না।”
শাহরান ফোস করে শ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলো –
“আবার ব্লাইন্ড ডেট?”
নিনাদ মাথা ঝাঁকালো।উত্তর পেয়ে শাহরানের চোখে বিদ্যুৎ খেলা করলো।হাতের শক্ত মুঠিতে টাওয়েল চেপে বলে উঠলো –
“তুই জানিস আমি যাব না তার পরেও কেনো এভাবে জরুরি তলবে আমায় ডাকলি?”
বলেই টাওয়েল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে শাহরান উঠে দাঁড়ালো।নিনাদ হুড়মুড়িয়ে শাহরানের পা চেপে ধরে কেঁদে ফেলার ভঙ্গিতে বলে উঠলো –
“তোর বাপ এবার আমার গর্দান নেবে।আমাকে বাঁচানোর জন্য হলেও তুই চল প্লীজ। হতেও তো পারে মেয়েটা রুদ্র রাজের মেয়ের থেকেও সুন্দর।তখন তোর মন ঘুরে গেলো।বয়স ও তো আর কম হলো না বল?বিয়ে শাদী করতে হবে না?”

দাঁত চিবিয়ে শাহরান বলে উঠলো –
“তুই মরেই যা।যতো নষ্টের মূল তুই। তোর জন্য আমাকে আজ বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে।তুই জানিস বৃষ্টিতে ভিজলে আমার সাংঘাতিক জ্বর হয়।আর শোন, আজ যদি আমার জ্বর হয় আমার বাসায় গিয়ে নার্সের মতো করে আমার সেবা করবি।আর এসব ফাতরামি বন্ধ কর তোরা।আমার সময় হলে আমি নিজেই বিয়ে করবো।আমার বিয়ে নিয়ে তোদের ভাবতে হবে না ।পাপাকে জানিয়ে দিবি আমি এখনো বিয়ের জন্য প্রিপেয়ার্ড না ।”
“বুঝতে কেনো চাইছিস না তোর বয়স ত্রিশ ছাড়িয়েছে।”
“তো? তোর বয়স ও তো তেত্রিশ পেরিয়েছে। তোর বিয়ের খবর নেই কেনো?”
নিনাদ খুক খুক করে কেশে উঠলো দুর্বল জায়গায় হাত পড়েছে।তবুও নিজেকে সামলে বলে উঠলো –
“ইলিয়ানার পড়াশোনা শেষ হলেই বিয়েটা করবো।মেয়েটা ক্যারিয়ার নিয়ে ভীষণ ডেসপারেট।নয়তো এতদিন বাচ্চা ফুটিয়ে ফেলতাম ডজনে ডজনে।,”

বলেই বোকার মতো হে হে করে হাসলো নিনাদ।শাহরান পট করে বলে উঠলো –
“নিজের প্রেমিকার ক্যারিয়ার নিয়ে এতো সিরিয়াস তবে অন্যের ক্যারিয়ারে বা হাত কেনো?”
নিনাদ তাজ্জব হলো।নিজের বুকে তর্জনী আঙুল ইশারা করে বললো –
“আমি তোকে হাত ঢুকিয়েছি?”
“ভাষা সংযত করে কথা বল নিনাদ ”
ধমকে উঠলো শাহরান।নিনাদ হা করে তাকিয়ে রইলো শাহরানের পানে।তার চাইতে দু বছরের ছোট ছেলেটা ।অথচ কেমন ধমকে ধমকে কথা বলছে। যেনো নিনাদ তার থেকে বিশ বছরের জুনিয়র।নিনাদ গলা পরিষ্কার করে কাশলো।এরপর টাইয়ের নট ঢিলা করতে করতে বললো –
“সে যাই হোক, এ বছরই তো করবি নাকি? আই মিন বিয়ে?
শাহরান নাক ফুলিয়ে বসে রইলো।নিনাদ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঝটপট কফি মেকারে কফি বানালো।এরপর ধোঁয়া উঠা কফি মগ শাহরানের পানে এগিয়ে বলে উঠলো –
“রূদ্ররাজের মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছে?বহু বছর পর তোকে দেখে চমকে যায়নি তো? যাই বলিস তাই বলিস ,একদম সিনেমা ভাই।ফার্স্ট ক্রাশ এখন স্টুডেন্ট।”

বলেই হো হো করে হেসে ফেললো নিনাদ। শাহরান কপাল কুচকে কফিতে চুমুক দিয়ে বলে উঠলো –
“ওসব এখন পাস্ট।অতীত নিয়ে আমি এই মুহূর্তে কথা বলতে চাইছি না।
নিনাদ জানে শাহরান কেনো এসব এড়িয়ে যেতে চাইছে।তবুও শাহরান কে ক্ষেপাতে বলে উঠলো –
“হঠাৎ পুরোনো প্রেমিকাকে দেখে কেমন ফিলিংস হলো বন্ধু?হার্টবিট মিস হলো?গান গাইতে ইচ্ছে করলো?দিওয়ানা দিল যায়রে ভেসে!”
“তুই এবার বেশি বাড়াবাড়ি করছিস নিনাদ।আমি সাংঘাতিক রেগে যাচ্ছি।”
নিনাদ পাত্তা দিলো না এসব হম্বিতম্বি।সে আয়েশ করে বলে উঠলো –
“ভাবছি তদের ফার্স্ট মিটিংয়ে কোন গানটা যায়।ইয়েস মনে পড়েছে….ও আমায় ভালোবাসেনি।”
কফি ফেলে চট করে উঠে দাঁড়ালো শাহরান।ইতোমধ্যে মাথা ধরেছে বৃষ্টিতে ভেজার কারনে।এখানে বসে থাকলে নিনাদ তার মজা উড়াতেই থাকবে।শরীরটাও বড্ড টায়ার্ড।একটু ঘুম খুব প্রয়োজন।
শাহরান কে উঠতে দেখে নিনাদ বিস্ময়ে শুধায় –
“ওমা উঠলি যে?গান তো শেষ হয়নি।কোথায় যাচ্ছিস?ব্লাইন্ড ডেটে সত্যিই যাবিনা? এজন্মে বিয়ে ছাড়াই থাকবি বন্ধু?”

শাহরান জবাব না দিয়ে বেরিয়ে গেলো।বিয়ে বিষয়ক কোনো কথা মোটেও শুনতে বা বলতে কোনোটাই ইচ্ছে করছে না তার এই মুহূর্তে।শুধু এই মুহূর্তে নয় কখনোই তার বিয়ের কথা শুনতে বা বলতে ইচ্ছে করে না।বিয়ে করে জীবনে কী লাভ?বিয়ে শুধুমাত্র নিছক এক বাড়তি উটকো ঝামেলা।যাকে মনে টানেনা,ভালো লাগে না,যার প্রতি কোনো আগ্রহ কাজ করে না তাকে কিভাবে কেউ বিয়ে করে?এসব ব্লাইন্ড ডেট নামক ছোটোলকি কারবার খুব করে ঘৃণা করে শাহরান।অহেতুক সময় অপচয়।
এদিকে শাহরানের পিছে পিছে নিনাদ দৌড়ে এলো।বৃষ্টি থামবে থামবে ভাব। শাহরান পার্কিং এরিয়া থেকে নিনাদের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলো –
“রাস্তার ওই পাড়ে আমার গাড়ি পরে আছে।ওটা ঠিক করে বাসায় পৌঁছে দিস।গেলাম।”
নির্দয়ের মতো নিনাদ কে পিছনে ফেলে শাহরান শো শো করে গাড়ি চালিয়ে চলে গেলো।নিনাদ বেকায়দায় দাঁড়িয়ে নিজের চুল টেনে ধরলো।এরপর ফোন বের করে সারফরাজ কে কল করলো –
“আংকেল আপনি বরং আমাকে মাটি চাপাই দিয়ে দিন।এই ছেলেকে বাগানো আমার সাধ্যের মধ্যে নেই।”
সারফরাজ কোনো বাক্য ব্যয় না কল কে টে দিলো।নিনাদ কে টে যাওয়া ফোনের পানে অনিমেষ তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠলো –
“বাপ ব্যাটা মিলে আমায় পাগল করে ছাড়বে এরা।”

রাতের বেলা না খেয়েই ঘুমিয়ে গেলো রোদ।কোনো মতে ভোরের আলো ফুটলেই ভার্সিটি গিয়ে সবার প্রথমে শাহরণের থেকে ফোনটা আদায় করবে।এরপর বাকি কাজ।
সারা রাত এপাশ ওপাশ করে ভোরের দিকে গভীর ঘুমে তলালো রোদ।নিদ্রা ভাঙলো একদম ঘড়ির কাটা যখন নয়ের ঘরে তখন ।বাইরে ঝকঝকে রোদ।ঘুম থেকে উঠেই দেয়াল ঘড়িতে নজর বুলালো সে।সময় পরখ করেই লাফিয়ে বিছানা ছাড়লো ।কোনো মতে ফ্রেশ হয়েই দৌড়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলো। ড্রইং রুমে রুদ্রের সাথে দেখা হলো তার।মেয়ের কাঁধে ব্যাগ দেখে কপাল কুচকে শুধালো –
“অসুস্থ শরীরে কোথায় যাচ্ছো?”
রোদ যেতে যেতে জবাব দিলো –
“ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস আছে।ভার্সিটি যাচ্ছি।”
“যেতে হবে না।তুমি অসুস্থ।”
“আমি ভালো আছি আর আমাকে যেতেই হবে।
বলেই দরজার পানে এগুলো।মেয়ের একরোখা জেদের কাছে হার মেনে রুদ্র ডেকে উঠলো –

“এটলিস্ট ব্রেকফাস্ট তো করে যাও।গত রাতেও খেলে না।”
“খিদে নেই।খিদে পেলে ক্যান্টিনে খেয়ে নেব।আসছি।”
রোদ বেরিয়ে এলো।একটা ট্যাক্সি ধরে ছুটলো ভার্সিটি।নিজ ক্লাস রুমে ঢুকতেই হইচই কলরবে তার মাথা ধরে উঠলো।নিজের আসনে বসে নোট খাতা আর কলম বের করে ক্লাসের ব্রিলিয়ান্ট চপল মেয়ে লিওনা কে ডেকে উঠলো রোদ –
“সেকেন্ড পিরিয়ডে স্যার কি কি পড়িয়েছে একটু তোমার নোট খাতাটা দাওনা।আজ আমার খুব দেরি হয়ে গেছে।”
রোদের ফ্যাকাশে মুখের পানে তাকিয়ে লিওনা বলে উঠলো –
“আজকে স্যার আসেনি।ক্লাস হয়নি।”
শাহরান আসেনি শুনে রোদের মাথা ঘুরে উঠলো।কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লো।লিওনা কে এই কিছু জিজ্ঞেস না করে ব্যাগ কাঁধে তুলে বেরিয়ে এলো ক্লাস ছেড়ে। শাহরানের কেবিনের সামনে এসে দাঁড়ালো একেবারে।এরপর উকি মেরে বোঝার চেষ্টা করলো ঘটনার সত্যতা।এমন সময় পিয়ন ড্যানো কে দেখা গেলো। রোদ গলা খাকরি দিয়ে ড্যানোর সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো –

“উনি আসেনি আজ?”
ড্যানো ব্যস্ত ভঙ্গিতে জবাব দিলো –
“সিক লিভে আছেন।তিনদিন পর ফিরবেন।”
বলেই ড্যানো ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে গেলো।শাহরান তিনদিন পর ভার্সিটিতে আসবে সঙ্গে তার মোবাইল ভেবেই রোদের ঘাম ছুটলো।কি সাংঘাতিক জ্বালাতনে পড়লো অহেতুক।শেষমেশ উপায় না পেয়ে সিদ্ধান্ত নিলো ক্লাস শেষ করে নিজেই ওবাড়িতে গিয়ে ফোন নিয়ে আসবে সে।ব্যক্তিগত দরকারী জিনিস কিছুতেই অন্যের কাছে এভাবে পরে থাকতে পারে না।

ভার্সিটি ছুটির পর নিজের বাড়িতে এসে পোশাক পাল্টে নিলো রোদ।বাইরে আজ অনেক গরম।সামার সিজন চলছে।রোদের উত্তাপ ধরণী পুড়িয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।একটা সাদা টিশার্ট,জিন্স আর স্নিকার্স পরে পনিটেইল স্টাইলে চুল বেঁধে মায়ের ঘরে গেলো রোদ।গিয়ে একটা কাগজ এগিয়ে বলে উঠলো –
“রূপকথা আন্টিদের বাড়ির ঠিকানা লিখে দাও দেখি।”
মেয়ের কথায় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো চুপকথা। রোদ তাগাদা দিয়ে বলে উঠলো –
“আগে ঠিকানা দাও পরে হা করে তাকিয়ে থেকো।
“ওখানে কি দরকার?
বিস্ময় কাটিয়ে জিজ্ঞেস করলো চুপকথা।রোদ ভণিতা না করে বলে উঠলো –
“শাহরানের কেবিনে ভুলে ফোন ফেলে চলে এসেছি।ভদ্রলোক সিক লিভে আছেন ।ফোন আনতে যাচ্ছি ”
চুপকথা ঠিকানা লিখে বলে উঠলো –
“ফিরবি কখন?”
“নিশ্চয়ই দাওয়াত খেতে যাচ্ছিনা।উনাদের সাথে আমার সম্পর্ক সেরকম ঘনিষ্ঠও নয়।যেতে আসতে যতক্ষণ লাগে।”
বলেই বেরিয়ে গেলো রোদ। এখান থেকে ত্রিশ কিলোমিটার এর পথ।খুব কাছেই।পনেরো মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যাবে ট্যাক্সিতে।

এদিকে সারা রাত সারা দিন জ্বরের ঘোর কাটিয়ে সুইমিং পুলের বসার জায়গায় হাত পা মেলে বসলো শাহরান।এখন জ্বর নেই।একটু ভালো লাগছে কিন্তু মাথাটা এখনো ধরে আছে। যেনো কয়েক মণ বোঝা চাপানো তাতে।শরীরটা বড্ড মেজমেজে হয়ে আছে। নিনাদকে ধরে সারা দিন রাত শরীর টেপাতে পারলো ভালো লাগতো।অথচ হারামী ছেলেটার কোনো খুঁজ নেই।ইচ্ছে করেই ঘাপটি মেরে বসে আছে শাহরান তা ঢের জানে।কতদিন এভাবে গায়েব থাকতে পারে শাহরান ও তা দেখতে চায়।

চেকমেট ২ পর্ব ২২

এদিকে হঠাৎই মনে পড়লো রোদের ফোনের কথা।ভেবেছিল ভার্সিটি গিয়ে আজই মেয়েটাকে ফোনটা দিয়ে দিবে।কিন্তু শরীর সায় দেয়নি।এদিকে দিন রাত বেজে চলেছে মেয়েটার ফোন ।কে খুঁজ নেই এতো?বয়ফ্রেন্ড?
পরক্ষনেই তাচ্ছিল্য হেসে সবটা উড়িয়ে দেয় শাহরান।বলে
“জাহান্নামে যাক।তাতে আমার কি?
এই অমোঘ সত্যিটা বলতে কেমন বুক কাপে।সত্যিই কি তার কিছুই নয়?”

চেকমেট ২ পর্ব ২৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here