Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 30

Mad for you 2 part 30

Mad for you 2 part 30
তানিয়া খাতুন

বাড়ি ফেরার রাস্তায় বাইক ছুটিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল ক্ৰিশ।
সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে, রাস্তার দুই পাশের গাছগুলো পেছনে সরে যাচ্ছে ঝাপসা হয়ে।
বেশ জোর গতিতেই বাইক চালাচ্ছিল সে।
আর তার পেছনে চুপটি করে বসে ছিল রুহি।
দুই হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল ক্ৰিশকে, যেন একটু ঢিলে হলেই মানুষটা হারিয়ে যাবে।
হঠাৎ করেই রুহির মনটা অস্থির হয়ে উঠল।
কোনো কারণ ছাড়াই বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে কাঁপতে লাগল।
কেন জানি মনে হচ্ছিল, খুব খারাপ কিছু একটা ঘটতে চলেছে।
সেই ভয়েই সে মাথাটা ক্ৰিশের পিঠে ঠেকিয়ে আরও গুটিসুটি মেরে বসে রইল।
এই মানুষটাকে সে কখনো হারাতে চায় না।
মানুষটার শরীরের উষ্ণতা অনুভব করতে করতে নিজের ভয়টা কে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল সে।
কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।
হঠাৎ করেই তিন দিক থেকে তিনটি গাড়ি এসে বাইকটা কে ঘিরে ফেলল।
জোরে ব্রেক কষে রাস্তার মাঝখানে বাইক থামিয়ে দিল ক্ৰিশ।
বাইক থামার সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িগুলোর দরজা খুলে গেল।
এক এক করে নেমে আসতে লাগল লোকজন।

পুরো একটা দল।
সবার হাতেই মোটা লাঠি আর লোহার রড।
সবায় মুখে কালো কাপড় বেঁধে রেখেছে।
এতগুলো লোক একসাথে দেখে রুহির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল বুক শুকিয়ে গেল।
ভয়ে কেঁপে উঠে সে ক্ৰিশকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
ক্ৰিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
সে জানত এমন কিছু একটা হবে।
অনেকদিন ধরেই বুঝতে পারছিল কেউ তাকে অনুসরণ করছে।
কিন্তু আজই যে আঘাত আসবে, সেটা সে বুঝতে পারেনি।
জানলে কখনোই রুহিকে নিয়ে বের হতো না।
নিজের কিছু হলে তার সমস্যা নেই।
কিন্তু রুহির গায়ে আঁচ লাগুক, এটা সে কল্পনাও করতে পারে না।
চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিল ক্ৰিশ।
পালানোর রাস্তা নেই।
সবদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
তবুও নিজেকে শান্ত রাখল সে।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল।
রুহির চোখে তখন স্পষ্ট আতঙ্ক।
মেয়েটার ঠোঁট কাঁপছে।
ক্ৰিশ নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল,

— বাটারফ্লাই… মন দিয়ে আমার কথা শোন।
— আমি ওদের সবাইকে নিজের দিকে টেনে নেব। ঠিক তখনই তুই পালাবি।
যত দূরে পারিস দৌড়াবি। কোথাও লুকিয়ে পড়বি। বুঝেছিস?
কথাটা শুনেই রুহির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে সাথে সাথে মাথা নেড়ে বলল,
— কখনো না!
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— আমি আপনাকে একা রেখে কোথাও যাব না। এতগুলো লোকের সাথে আপনি কীভাবে লড়বেন? চলুন আমরা পালিয়ে যাই। প্লিজ…
ক্ৰিশ চোখ রাঙিয়ে উঠল।
— যা বলছি তাই করো!
— বাচ্চামি করো না বাটারফ্লাই!
— কিন্তু…
— কোনো কিন্তু না!

রুহির চোখ ভিজে উঠল।
এদিকে ততক্ষণে লোকগুলো আরও কাছে চলে এসেছে।
একটা বৃত্ত তৈরি করে পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে তাদের।
লাঠিগুলো হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে সবাই।
চারপাশে অদ্ভুত এক নীরবতা।
শুধু বাতাসের শব্দ।
আর মৃত্যুর আগমনী বার্তার মতো ভারী পদশব্দ।
ক্ৰিশ ধীরে ধীরে বাইক থেকে নেমে দাঁড়াল।
তার চোখে কোনো ভয় নেই।
বরং ভয়ংকর এক শান্তি।
রুহিও নেমে তার পাশে দাঁড়াল।
ক্ৰিশ একবার বিরক্ত চোখে তাকাল।
কিন্তু মেয়েটা যে কিছুতেই যাবে না, সেটা বোঝায় যাচ্ছে।
সামনের দিকে এক পা এগিয়ে গিয়ে ক্ৰিশ গর্জে উঠল,

— তোদের শত্রুতা আমার সাথে।
— আমাকে যা খুশি করিস! মারবি, কাটবি, খুন করবি, যা ইচ্ছা কর!
তারপর রুহির সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত চেপে বলল,
— কিন্তু মেয়েটাকে ছেড়ে দে!
চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে তার।
— মানুষের বাচ্চা হয়ে থাকলে ওর গায়ে হাত তুলবি না!
ক্ৰিশের কথায় কয়েকজন একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ভিড়ের মাঝখান থেকে একটা বিকট হাসির শব্দ ভেসে এল।
আর সেই হাসি শুনে ক্ৰিশের চোখ ভয়ংকরভাবে লাল হয়ে উঠলো …
কারণ সেই কণ্ঠস্বরটা তার খুব পরিচিত।
মুখে কালো মুখোশ পরা মানুষটি ধীর পায়ে দলের মাঝখান থেকে সামনে এসে দাঁড়াল।
মুহূর্তের মধ্যেই সে মানুষটিকে চিনতে পেরেছে।
আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রুহিরও কেন যেন লোকটিকে চেনা চেনা লাগছিল।
বুকের ভেতরটা অকারণে কেঁপে উঠল তার। কিন্তু মুখোশ আর বদলে যাওয়া বেশভূষার কারণে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারল না তিনি কে।

ঠিক তখনই লোকটি একবার হাত তুলে ইশারা করল।
পরের মুহূর্তেই চারপাশ যেন নরকে পরিণত হলো।
দলের সবকটি লোক একসঙ্গে ক্ৰিশকে ঘিরে ধরল।
কারও হাতে মোটা বাঁশের লাঠি, কারও হাতে লোহার রড।
কোনো সতর্কতা ছাড়াই তারা ক্ৰিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল
প্রথম আঘাতটা পড়ল তার কাঁধে।
দ্বিতীয়টা পিঠে।
তৃতীয়টা সোজা মাথার পাশে।
ক্ৰিশ দাঁত চেপে আঘাতগুলো সহ্য করল। সঙ্গে সঙ্গে দুজনকে ঘুষি মেরে সরিয়ে দিল, একজনের পেটে লাথি বসিয়ে দিল।
কিন্তু একা একজন মানুষের পক্ষে এতগুলো লোকের বিরুদ্ধে বেশিক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব নয়।
রুহি আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল।
সে ছুটে যেতে চাইল।
কিন্তু তার আগেই মুখোশধারী লোকটি দ্রুত এগিয়ে এসে তার কবজি শক্ত করে চেপে ধরল।

— ছাড়ুন! আমাকে ছাড়ুন!
পাগলের মতো ছটফট করতে লাগল রুহি।
তার চোখের সামনে ক্ৰিশকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে, অথচ সে কিছুই করতে পারছে না।
অসহায়তায় তার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।
এদিকে ক্ৰিশ প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজেকে সামলানোর।
একজনকে ফেলে দিচ্ছে, আরেকজনকে সরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আঘাতের পর আঘাত তার শরীরকে ক্রমশ দুর্বল করে তুলছিল।
একসময় একটি ভারী লাঠির আঘাত তার হাঁটুতে এসে পড়ল।
ক্ৰিশ ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
আর সে মাটিতে পড়ে যেতেই যেন সবাই আরও হিংস্র হয়ে উঠল।
চারদিক থেকে একের পর এক আঘাত পড়তে লাগল তার শরীরে।
রুহির বুকফাটা আর্তনাদ ভেসে উঠল চারপাশে।

— না! ওকে মারবেন না!
— প্লিজ, ওকে কিছু করবেন না!
— আপনাদের পায়ে পড়ি!
কান্নায় তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল।
কিন্তু কেউ তার কথা শুনছে না।
মাটিতে পড়ে থাকা ক্ৰিশ যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল, তবুও বারবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল।
তার কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে, ঠোঁট ছিঁড়ে গেছে, তবুও তার দৃষ্টি বারবার রুহির দিকেই ছুটে যাচ্ছিল।
হঠাৎ করেই রুহির ভেতরে যেন এক অদ্ভুত সাহস জেগে উঠল।
নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে সে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে ধাক্কা দিল।
লোকটি অপ্রস্তুত হয়ে কয়েক কদম পিছিয়ে গেল।
আর সেই ধাক্কাধাক্কির মাঝেই তার মুখের মুখোশ খুলে মাটিতে পড়ে গেল।
রুহির চোখ পড়ল লোকটির মুখে।
তারপরই যেন পৃথিবীটা থেমে গেল।
শরীরের সমস্ত রক্ত মুহূর্তে শুকিয়ে গেল।
চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে উঠল।
ঠোঁট কাঁপতে লাগল।

— আ… আব্বু?
ফিসফিস করে বেরিয়ে এলো শব্দটা।
সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা।
সমীর সাহেব।
রুহির মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।
মুহূর্তের জন্য সে বুঝতেই পারল না কী ঘটছে।
একবার বাবার দিকে তাকাল।
আরেকবার রক্তাক্ত ক্ৰিশের দিকে।
তার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।
কিছুই ভাবতে পারছিল না সে।
শুধু একটি কথাই বারবার মাথায় ঘুরছিল—
ক্ৰিশকে বাঁচাতে হবে।
যেভাবেই হোক।
পরের মুহূর্তেই সে দৌড়ে গিয়ে ক্ৰিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
নিজের শরীর দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ আড়াল করে ফেলল।
ঠিক তখনই একটি লাঠির আঘাত এসে পড়ল তার পিঠে।
রুহি ব্যথায় কেঁপে উঠল।
কিন্তু সরল না।
তারপর একটি লোহার রড সজোরে আঘাত করল তার মাথায়।
কপাল ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে শুরু করল।
রক্ত মিশে যেতে লাগল তার চোখের জলের সঙ্গে।
তবুও সে ক্ৰিশ কে ছাড়ল না।
দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল,

— আব্বু…
— আব্বু, এমন কেন করছো?
— প্লিজ, ওকে ছেড়ে দাও…
— ওর কোনো দোষ নেই…
— আমার খুব কষ্ট হচ্ছে আব্বু…
— খুব কষ্ট…
তার কান্নাভেজা আর্তনাদ নিস্তব্ধ রাতের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল।
সমীর সাহেব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।
মেয়ের রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
চোখের গভীরে ক্ষণিকের জন্য এক অদ্ভুত যন্ত্রণা খেলে গেল।
তবুও তিনি নিজের মুখের কঠোরতা ভাঙতে দিলেন না।
ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলেন।
তারপর এক হাত উঁচু করে বললেন,

— থামো।
মুহূর্তের মধ্যেই সব আঘাত থেমে গেল।
চারপাশে নেমে এলো ভয়ঙ্কর নীরবতা।
সমীর সাহেব কিছুক্ষণ নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর ধীর কণ্ঠে বললেন,
— এত ভালোবাসো ওকে?
রুহি চোখভরা জল নিয়ে মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ, আব্বু…
— ওনাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না…
কথাগুলো শুনে সমীর সাহেবের মুখ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
তিনি ধীরে ধীরে ক্ৰিশের কাছে এগিয়ে গেলেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা ক্ৰিশের শার্টের কলার চেপে ধরলেন।
তারপর গভীর, শীতল কণ্ঠে বললেন,
— তাহলে আজ তোমার জানা উচিত তুমি কাকে ভালোবেসেছো, রুহি।
রুহির রক্তমাখা মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি বললেন,
— তোমার এই ক্ৰিশ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, রুহি।
আমাকে জেলে পাঠাতে চায়। তোমার বাবাকে অপরাধী প্রমাণ করতে চায়। তারপরও তুমি ওকেই ভালোবাসবে?
রুহির চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিল। মাথার ক্ষত থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে।
শরীরের যন্ত্রণা ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে যাচ্ছে। তবুও সে নিজেকে সামলে ক্ৰিশের দিকে তাকাল।
তার কণ্ঠ কাঁপছিল।

— না… না, ক্ৰিশ এমন করতে পারেন না।
— কী হয়েছে? আপনি চুপ করে আছেন কেন?
— আব্বু কী করেছেন, যার জন্য আপনি তাকে জেলে পাঠাতে চান?
মাটিতে পড়ে থাকা ক্ৰিশ কষ্টে চোখ খুলল।
তার ঠোঁট ফেটে গেছে, শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে।
তবুও সে রুহির দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— তোমার আব্বু… একটা জানোয়ার, রুহি…
কথাগুলো বলতে গিয়েই তার বুক কেঁপে উঠল।
সে কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে আবার বলল,
— সেদিন রাতে… যেদিন আমার আম্মুকে মেরে ফেলা হয়েছিল…
— যেসব মানুষ তাকে ছিঁড়ে খেয়েছিল… তাদের মধ্যে তোমার আব্বুও একজন ছিল…
শেষ কথাটা বলেই ক্ৰিশ প্রচণ্ড কাশতে শুরু করল।
তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো।
রুহির মনে হলো কেউ যেন তার মাথার ভেতর বজ্রপাত করেছে।
সে বিস্ফারিত চোখে নিজের বাবার দিকে তাকাল।
চোখেমুখে অবিশ্বাস ,আতঙ্ক ,ঘৃণা আর অসহনীয় যন্ত্রণা।

— আব্বু…?
তার ঠোঁট কাঁপছিল।
— এটা… এটা মিথ্যে, তাই না?
কিন্তু সমীর সাহেব আর কোনো অভিনয় করলেন না।
হঠাৎ করেই তিনি গর্জে উঠলেন।
— হ্যাঁ!
— হ্যাঁ, আমি করেছি!
— আমি আর শরিফুল খান একসময় ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলাম।
— আমরা দুজন মিলে সব করেছি।
— যা হয়েছে, হয়েছে।
— একটা ভুল ছিল।
— মানুষের জীবনে ভুল হতেই পারে।
তার কথাগুলো শুনে রুহির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়াকে তিনি “ভুল” বলছেন!
রুহির চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়তে লাগল।
সমীর সাহেব এবার একটু নরম স্বরে বললেন,

— রুহি, সরে আয়।
— তোকে হাসপাতালে নিতে হবে।
— তোর অবস্থা ভালো না।
তারপর ক্ৰিশের দিকে তাকিয়ে তার চোখ আবার কঠিন হয়ে উঠল।
— কিন্তু এই ছেলেটাকে আমি বাঁচতে দিতে পারি না।
— ও বেঁচে থাকলে আমি মরব।
রুহি মুহূর্তেই ক্ৰিশ কে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
যেন নিজের শরীর দিয়েই তাকে পৃথিবীর সব আঘাত থেকে আড়াল করবে।
তারপর কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— যদি ওনাকে মারতেই হয়…
— তাহলে আগে আমাকে মারুন, আব্বু।
— আপনার মতো একজন মানুষের মেয়ে হয়ে বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
সমীর সাহেবের চোখ লাল হয়ে উঠল।
— যে মানুষ নিজের অপরাধ লুকানোর জন্য একজন নির্দোষ মানুষকে মারতে পারে…
— সে আমার বাবা হতে পারে না।

কথাগুলো ছুরির মতো বিঁধল সমীর সাহেবের বুকে।
কিন্তু সেই আঘাত তার হৃদয় নরম করল না।
বরং আরও উন্মত্ত করে তুলল।
তিনি ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে এক পা এগিয়ে এলেন।
চোখে তখন আর কোনো মায়া নেই।
কোনো দ্বিধা নেই।
শুধু নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার অন্ধ লোভ।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি গর্জে উঠলেন,

Mad for you 2 part 29

— দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
— মার!
— যতক্ষণ না দুজনের নিঃশ্বাস বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ মারতে থাক!

Mad for you 2 part 31

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here