উন্মাদনা পর্ব ৮
কায়নাত খান কবিতা
____কীরে বা’ন্দী শরীরে চর্বি বেশি না-কি? ওড়না কই তোর? আমারে বডি দেখাস? কিছু আছে তোর মাঝে? পিচ্চি বোকা চন্দ্র।”
অভীর হেয়ো পূর্ন কথা গুলো আনন্দীর শরীরে কাঁচের টুকরোর মতো বিঁধে যায়।কিন্তু তবু ও, সে আজ কোনো প্রতিবাদ করে না। কারণ করলেই পুরো এলাকার সামনে আবার ও অভী সিনক্রিয়েট করবে।তারপর আবার ও থানা-পুলিশ। অভী জেলে। এবং পরিশেষে জেল থেকে বেরিয়ে তাদের বাড়িতে হট্টগোল করা। এটাই তো গত তিন বছর ধরে হয়ে এসেছে।
অভী জীপ থেকে নেমে মুন্ডিটি এক হাতে উঁচু করে ধরে, একদম জীপের সামনে গিয়ে উপরে উঠে বসে।
গাড়ির হেডলাইটের হালকা আলো তার মুখের একপাশ ছুঁয়ে যায়, অন্যপাশটা ডুবে থাকে অন্ধকারে। এক হাঁটু ভাঁজ করে, হাতটা তার উপর রেখে বসে থাকে সে।ঠোঁটের কোণে হালকা একটা রেখা, যেন ভিতরে ভিতরে কিছু ভাবতে থাকে অভী। কিন্তু মুখে তার কোনো প্রকাশ নেই।
চারপাশের নীরবতার মাঝেও অভীর উপস্থিতি যেন আলাদা করে চোখে পড়ে।অভী এক হাত উঁচু করে আনন্দীর উদ্দেশ্যে বলে,
__এই শেখের বেটি! এদিকে আয়!”
আনন্দী কপাল কুঁচকে গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে। অভীর কথা শুনে ও না শোনার ভ্যান ধরে থাকে সে। অভী আবার ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বলে, __কীরে কথা কানে যায় না?”
এক বুক ভারি নিঃশ্বাস ফেলে আনন্দী আওড়ালো,,
__বর্তমানে আপনি নে’শাগ্রস্ত! আমি যাবো না আপনার কাছে!”
আনন্দীর চেটান চেটান কথাগুলো কর্নপাত হতেই এক লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পরে অভী।এক হাতে মুন্ডু ধরে আরেক হাতে চুল ঠিক করতে করতে একদম আনন্দীর সামনে এসে দাড়ায় অভী।
আনন্দীর মুখ বরাবর দাঁড়িয়ে খুব জোড়ে মুখ থেকে হা মেলে বাতাস বের করে সে।কপাল কুঁচকে চোখ বন্ধ করে ফেলে আনন্দী। অভী মুখ খোলার সাথে সাথে কী বিশ্রী গন্ধ তার মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে এসেছে। সেটা একমাত্র আনন্দীই বলতে পারবে। রিতীমত গা গুলিয়ে আসে আনন্দীর। অপর প্রান্তে মুখ থেকে লালা বের করে ফেলে সে। তা দেখে হেঁসে লুটোপুটি খায় অভী।
__বাহহ রে শেখের বেটি! বাহহহ! একে তো বড় গো সম্মান করস না। আবার থু ফেলাস।”
অভীর তাচ্ছিল্যময় কথাগুলো শুনে আনন্দী উত্তর দেয়, __সম্মান পাওয়ার মতো কাজ করলে তো দিতামই।”
__আচ্ছা?”
অভী আনন্দীর খুব কাছে দাঁড়িয়ে তার কোমরে খুব জোড়ে চিমটি কাটে। এমন অপ্রস্তুতিকর কোনো কিছু অভী করবে সেটা আনন্দী বুঝে উঠতে পারেনি। যার ফল স্বরূপ খুব জোড়ে অভীর গালে চ’ড় বসিয়ে দেয় সে। সেই চ’ড় খেয়ে গালে হাত দিয়ে কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে অভী। রাগে যেন মস্তিষ্ক ফেটে পরতে থাকে তার।
আনন্দী বেশ কর্কশ গলায় আওড়ালো,..আপনার মতো বখা’টে আমি আর দু’টো দেখিনি। ছোটোবেলায় একটা ভুল করেছিলাম। তাও নিজের অজান্তেই। যে ইচ্ছেকৃত করেছিলো, তাকে তো আপনি ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ আমি?”
খুব জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকে আনন্দী।যেন শতজন্মের আক্রোশ সে আজ বের করে ছাড়বে, একটু দম নিয়ে আনন্দী আবার ও বলে, __যেখানে আমি পুরো বিষয়ের সাথে তেমন একটা জড়িয়েই ছিলাম না। সেখানে দিনের পর দিন আপনি আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন। সাথে আমার পরিবারকে ও। কী ক্ষতি করেছি আমরা? কেন এমন করছেন? আপনি তারই সাজা পেয়েছেন যেটা আপনি করেছিলেন, একজন খারাপ লোক আপনি অ…!”
আনন্দীর সম্পূর্ণ কথাটি শেষ হওয়ার আগেই তার গালে ও বেশ জোরে সোড়েই চ’ড় বসিয়ে দেয় অভী। যেটার তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে বসে পরে আনন্দী।
আনন্দীর সামনে হাঁটু ভাজ করে বসে পরে অভী। নেশাগ্রস্ত হলে ও শরীরে বল তার যথেষ্ট রয়েছে তার । আনন্দীর চুলের মু”ঠি টে’নে ধরে, অভী বলে,
__তোর জীবনটা আমি তেজপাতা বানাই ছাড়বো শেখের বেটি । অনেক বাড়ছোস তুই!”
আনন্দীকে সেভাবে রেখেই উঠে দাঁড়ায় অভী। দু-কদম পিছিয়ে গিয়ে আবার ও আনন্দীর উদ্দেশ্যে বলে,_তোর জানাজা আমার হাতেই উঠবে বা’ন্দীর বাচ্চা। মিলাইয়া নিস!”
জীপ নিয়ে নিজের সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে বেরিয়ে পরে অভী। আনন্দী তখনও মাটিতেই বসে থাকে। দু-হাতে চোখের পানি মুছে উপরের দিকে তাকায়,
__আল্লাহ! এতো মানুষ ম’রে। এই জা’নোয়ারটা কেন মরে না? ওকে কেন আপনি নিয়ে যাচ্ছেন না নিজের কাছে?”
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে আনন্দী। এই অন্ধকার আচ্ছন্ন রাতে তার কান্নার আওয়াজ শোনার মতো বা তাকে শান্তনা দেওয়ার মতো কেউ নেই। উপরে আল্লাহ ছাড়া আনন্দীকে আর কেউ এই বখাটের হাত থেকে বাঁচাতে পারবে বলে মনে ও হয় না। দিন যত যাচ্ছে অভী নামক বখাটে আনন্দীর জীবনটি ও আরে বিষদময় করে তুলচ্ছে।
_অন্ধকারে আচ্ছন্ন ঢাকা শহরটি এক আলাদা সৌন্দর্য বহন করে থাকে। সারাদিন কোলাহলে পরিপূর্ণ শরহটি নিমিষেই ফাঁকা হয়ে পরে থাকে এতিমের মতো। এই শহরের অলিতে-গলিতে রয়েছে অজানা অনেক গল্প। যেই গল্প গুলোর বিস্তৃত বর্ণনা তো রয়েছে বটে। তবে তার ইতি টানার মতো কেউ নেই। এভাবেই একটির পর আরেকটা ঘটনার স্বাক্ষী হতে থাকে এই ঢাকা শহর। অভী এবং আনন্দীর ঘটনাটি ও ছিলো ঠিক সে-রকমই।
২০২৩ সালে এক কিশোরী এমন কিছু করেছিলো যেটা পুরো বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পত্রিকা সব কিছুতেই ছিলো সেই খবরটি। একটা হেডলাইন চলতো নিউজ প্রট্যেল গুলোতে। তবে খুব বেশিদিন সেই নিউজ এবং খবর গুলো স্থায়ী হতে পারেনি।
ক্ষমতা এবং অর্থের জোরে সাদাকে কালো এবং কালোকে সাদাতে পরিনত করা হয়। লোকটি মুক্তও পায়। এবং নিমিষেই সব জায়গা থেকে সেই নিউজটি ও। আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে আমরা একটা নতুন কিছু পেলে পূর্বের সমস্ত কিছু ভুলে যায়। যেটার সুযোগ অসত ব্যক্তিগুলো নিয়ে থাকেন। এই নিউজটি ও ছিলো ঠিক সে-রকমই। তারপর থেকে শুরু হয় আনন্দী এবং তার পরিবারের সর্বনাশ।
কথায় রয়েছে না, কারো পৌষ মাস তো কারো সর্বনাশ। আনন্দী এবং অভীর বিষয়টি ও ঠিক সে-রকমই। অভীর পৌষ মাস তো আনন্দীর সর্বনাশ। এভাবেই চলছে তাদের জীবন।
জীপ নিয়ে ফাঁকা ঢাকার মাঝে ছুটতে থাকে অভী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। তারা ও জানে না বর্তমানে তাদের গন্তব্যটি ঠিক কোথায়। গাড়ি ছুটতে থাকে আপন গতিতে তার মাঝেই হঠাৎ করে ব্রেক কষালে পরিপূন্য ধ্যানে ফিরে আসে অভী। বিগ্রিত মেজাজ নিয়ে সামনে তাকাতেই দেখে এক পথ শিশু জীপের সামনে দাড়িয়ে থরথর করে কাপছে।পাশ থেকে নোবেল বলে ওঠে,
__কীরে শালা! ম’রার জায়গা পাইলি না?”
শিশুটি কিছু না শুধুই কাঁপতে থাকে। অভীর চোখ চলে যায় তার হাতে থাকা পলিথিন ব্যাগ ভর্তি খাবারের দিকে। হয়তো কোনো ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে এনেছে সে। অভী হাতের ইশারা করে পিচ্চি ছেলেটিকে কাছে ডাকে। ইশারা পেতেই ছেলেটি ধীরে ধীরে কাছে চলে যায়। অভী এক টান দিয়ে হাতে থাকা পলিথিন নিয়ে গন্ধ শুঁকে দেখে, অসম্ভব জঘন্য। হয়তো কয়েকদিনের বাসি খাবার। অভী পিছনে তাকিয়ে তার সাঙ্গপাঙ্গদের উদ্দেশ্যে বলে,
__গাড়িতে কিছু আছে খাওয়ার মতো?”
কবি মাথা চুলকাতে চুলকাতে উত্তর দেয়,__ভাই দুই বো’তল মা*ল আর পিৎজা আছে!”
অভী কড়া চোখে তাকিয়ে পিৎজার প্লেটার ছিনিয়ে নেয়। তারপর শিশুটির হাতে ধরিয়ে দেয়। শিশুটি খাবার নিয়ে যাবে তার আগেই অভী তার হাত ধরে ফেলে! পকেট থেকে হাজার টাকার নোট বের করে বলে, __আগে ডাক্তারের কাছে যা বেটা! শরীর জ্বরে কাপতাছে।”
পিচ্চিটি টাকা নিতে নিতে উত্তর দেয়, __সমস্যা নাই মিয়া ভাই! আমার মাইয়ের কাছে গেলেই ঠিক হইয়া যামু।”
ছেলেটি টাকা নিয়ে হাসিখুশি মনে রাস্তা পার হয়ে যেতে থাকে। অভী তার খুশির গতি দেখে বলে ওঠে, __মানুষ কষ্ট পাইলে মায়ের কাছে যায়..আর আমার তো শা’লার মা-ই নাই।”
জীপে উপস্থিত সকলে এক মুহুর্তের জন্য নিশ্চুপ হয়ে পরে। অভী অনাথ হলে ও তার মনটা দান বীরের মতো বড়। যখন প্রত্যকেই প্রায় চুপ হয়ে থাকে, তখন পাশ থেকে নোবেল একটু সাহস যুগিয়ে অভীকে বলে
__চাঁদ ভাই! এহন আমরা কই যামু?”
আড়মোড়া দিয়ে শরীরের অলসতা তাড়িয়ে চোখে কালো চশমা পড়তে পড়তে অভী বলে, __বিলকিসের কাছে যা।”
পুরান ঢাকার অলিগলি পেরিয়ে রেড লাইট এলাকার দিকে ছুটতে থাকে অভীর জীপটি। রাত হলেই সেখানে মেয়ে লোকের পাশাপাশি বিলকিস রানির মনোরম নাচ দেখতে পাওয়া যায়। যেটা দেখার জন্য সব বয়সের লোকই ম:দের বোতল হাতে নিয়ে পারি জমায়। যে যত টাকা দেবে বিসকিস সেই রাতের জন্য তার। অবশ্য সেখানে ভদ্রলোকের কোনো সন্তানের আনাগোনা নেই। যত প্রকারের নে’শাগ্রস্ত, মা’তাল, চো’র, ডা’কাত, ছিন’তাইকারী, খু’নি বড় নেতাদের বিলকিসের রানি সালাই আগমন।
তখন বোধ হয় বিলকিসের বয়স সবে ১৩ বছর হবে বইকি। ঢাকা শহরে মানুষের বাসায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছরের ছোট্ট বিলকিসকে নিষিদ্ধ প:ল্লিতে বিক্রি করে দেয় তার আপন মামা। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা ও পায় সে। তখন অবশ্য তার নাম ছিলো আশালতা। কিন্তু সে নিষিদ্ধ এলাকায় এমন নাম তো চলে না! তাই কোনো এক শহরের বিশিষ্ট বড়লোক নিষিদ্ধ পল্লিতে আশালতার শ্রী’লতা হানি করে তার নাম উপাধি দেয় বিলকিস রানি। সেই থেকে আশালতা কোনো এক নিষিদ্ধ ফাঁকা রাস্তাতেই মারা যায়। এখন যে রয়েছে সে বিলকিস রানি। সহজ ভাষায় পতি**! তার না আছে কোনো সম্মান আর না আছে সেই এলাকা থেকে বের হয়ে আবার ও ফরিদপুরে নিজের মায়ের কাছে ছুটে যাওয়ার কোনো উপায়।
তাকে স্পর্শ তো অনেক লোকই করেছে, তবে ভালো কেউ বাসেনি। বিলকিসের সব সময় একটাই চাওয়া ছিলো। সে চাঁদের বউ হবে। যেদিন থেকে চাঁদ আড্ডা খানায় যোগদান করে, সেদিন থেকে বিলকিস নিজেকল আর কাউকে স্পর্শ করতে দেয় না। অবশ্য চাঁদের নীতি ও রয়েছে। সে কোনো মেয়কে স্পর্শ করে না। যতবার আসে নেচে গান গেয়ে দুটো কোমর দুলিয়ে চলে যায়। আজ ও হয়তো তার ব্যাতীক্রম হবে না। অভী চাঁদ আসবে, নাচবে তারপর আবার ও বিলকিসের মনে ভালোবাসার সুপ্ত অনুভূতি জাগিয়ে চলে যাবে।
রাত তখন বেশ গভীর। অভীর জীপ সবেমাত্র বিলকিস রানির কোঠার সামনে দাড়ায়। জীপের আওয়াজ পেতেই খোলা জায়গায় বিশাল মাচার উপরে দাঁড়িয়ে পরে বিলকিস রানি। ভীর ঠেলে অভীকে আসতে দেখে দু আঙ্গুলের ইশারা করে অভীকে মাঝখানে ডাকে বিলকিস।
অভী আসবে আর সে গান গেয়ে নাচবে না এটা তো অসম্ভব। বিলকিস সুন্দর মতো কোমর বাকিয়ে দাড়িয়ে পরে, হলুদ লাইটের আলোয় বিলকিসের ধনুকের ন্যায় পেটটি আর্কষণের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। অভী নিজের মুন্ডু এক হাতে উঠাতে উঠাতে গাইতে থাকে,
__ প্রেম_পিরীতির ছন্দে ময়না..প্রেম_পিরীতির ছন্দে ময়না..এমনই কোমর দুলাইছে। রশিক আমার..মন বান্ধিয়া পিঞ্জর বানাইছে..হাই রে রশিক আমার মন বান্ধিয়া পিঞ্জর বানাইছে…!”
অভীর সাথে সাথে তাল মেলাতে থাকে বিলকিস। সে ও সুন্দর মতো নাচতে নাচতে গেয়ে ওঠে,
__মন মজানো রশের কথায়..মন মজানো রশের কথায়..প্রেমেরই জ্বালে ফাঁসাইছে..রশিক আমার মন বান্ধিয়া পিঞ্জর বানাইছে… রশিক আমার মন বান্ধিয়া পিঞ্জর বানাইছে…!”
সারাটি রাত বিলকিসের সাথে সমান তালে কোমর দুলাতে অভী। তাদের দেখলে যে কেউ বলবে রাজযোটক।
নাচের শেষে যেখানে হাজার হাজার মানুষ বিলকিসকে এক রাতের জন্য সজ্জা সঙ্গী করতে চায়, সেখানে বিলকিস তাদের টাকা তাদের মুখের উপরে ছুঁড়ে মেরে অভীর কাছে চলে আসে..
__চাঁদ!”
বিলকিসের ডাক শুনে অভীর সাঙ্গপাঙ্গরা চলে যায় অন্যত্রে। জীপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে শুধু অভী এবং বিলকিস।
__কিছু কইবি না-কি বাইজি?”
বিলকিস হালকা হেঁসে অভীর কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়। একমাত্র অভী তাকে বাইজি বললে সে বিন্দু মাত্র অপমান বোধ করে না। বরং আরো ভালো বাসে সে এই ডাকটিকে।
__আমার লগে আজকে রাতটা থাকবি?”
জীপে বসতে বসতে অভী তার সাঙ্গপাঙ্গদের ইশারা করে জীপে ওঠার জন্য। তারপর বিলকিসকে উদ্দেশ্য করে বলে,
__এই চাঁদ সবার আকাশে উদয় হয় না। একমাত্র তার আকাশেই উদয় হইবো, যে আমারে তিন কবুল কইবো।”
চোখে কালো চশমা পরে বেরিয়ে পরে অভী তার জীপটি নিয়ে। ফাঁকা রাস্তায় বিলকিস শুধু তার চলে যাওয়া দেখে আর মুচকি মুচকি হাসতে থাকে
__বউ তো তোর আমিই হমু চাঁদ। বিলকিসের আকাশে চাঁদ উঠবোই।”
__পূর্ব দিকের সূর্যটি যেন এক নতুন সকালের বার্তা নিয়ে উঠেছে আজ। তার ঝলমল কিরণে হয়তো কেউ পুড়ে ছারখার হবে। নতুবা কেউ পরম যত্নে তার রশ্মিগুলোতে শরীরে মাখবে। অবশ্য নভেম্বরের সূর্য তেমন একটা কিরণ ছড়াতে পারে না। আর না,ধরনি তাঁতিয়ে তুলতে পারে। একটা মিষ্টি শীত শীত ভাব চারপাশে জুড়ে শরীর মন উজাড় করে দিয়ে যায় ।
নভেম্বরের বিকেল বেলটা বেশ ঠান্ডা পরে। সিম্পল সোয়েটার শরীরে জড়িয়ে, চুল গুলো পোনিটেল করে,কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বান্ধবীদের সাথে বেরিয়ে পরে আনন্দী। বরাবরের মতোই ৪:১৫ তে তার ছুটি হয়েছে। মিডসিফট হওয়াতে প্রতিনিয়ত এই সময়েই ছুটি হয় তার। মরিং সিফটে স্পেস না থাকায়, মিড সিফটেই ক্লাস করতে হয় আনন্দীর। যার ফলে প্রতিদিনের ভাত ঘুম নষ্ট হয় তার। ব্রেন ও কেমন গরম হয়ে থাকে।
কলেজ থেকে বেরিয়েই আনন্দী দেখতে পায় বেশ অনেকটা দূরে একটা কালো জীপ রাখা। তার একটু সামনেই V4 বাইকটি রাখা। যেটা অভীর সিগনেচার বাইক। শর্ট_স্লিম ফিট পাঞ্জাবি এবং মুন্ডুর সাথে সাথে বাইকটি ও অভীর ড্যানিং লুককে কমপ্লিট করে। একদম আলফা মেইলদের মতো।
উন্মাদনা পর্ব ৭
দূর হতে অভীর এক ঝলক স্পষ্ট দেখতে পায় আনন্দী।দেখেই কপাল কুঁচকে বলে, __বখা’টে!”
অভীকে দেখে ও না দেখার ভ্যান ধরে একটা রিক্সা নিয়ে উল্টো দিকে হয়ে যেতে থাকে সে। আনন্দীকে যেতে দেখে অভী বলে,
__ বা’ন্দী কামডা করলো কী!! চাঁদরে ইগনর করলো। ওরে এবার সত্যি সত্যি খাঁচায় ভরতে হইবো।”
