Home উন্মাদনা উন্মাদনা পর্ব ৩৯

উন্মাদনা পর্ব ৩৯

উন্মাদনা পর্ব ৩৯
কায়নাত খান কবিতা

র*ক্ত মাখা হাত নিয়ে কলিংবেলটিতে একের পর এক চাপ দিতেই থাকে আনন্দী। চারপাশের নিস্তব্ধতা তার কাছে অসহনীয় লাগতে থাকে। ভয় এতোটাই বুকে বাসা বেঁধেছে যে দমকা হাওয়া ও তাকে কম্পিত করে যাচ্ছে। এর সাথে সাথে কিছুক্ষণ আগে ঘটে ঘটনাটি বারবার ফিরে আসতে চোখের সামনে। ক্রোধে, অপমানে, অসহায়ত্বে অন্ধ হয়ে সে ছু*রিটা চালিয়ে দিয়েছিলো অভীর পে টে। তারপর আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ানোর সাহস হয়নি তার। অন্ধকার ঘরটায় অভীকে ফেলে ছুটে বেরিয়ে এসেছিলো আনন্দী!
কিন্তু এখন?এখন তার ভেতরের সমস্ত আ’গুন যেন নিভে গেছে। রয়ে গেছে শুধু একরাশ ভয়।অভী কি বেঁচে আছে?

প্রশ্নটা বারবার মাথার ভেতর আঘাত করতে থাকে। নিজের হাতের দিকে তাকায় আনন্দী। শুকিয়ে আসা র*ক্তের দাগগুলো যেন তাকে বিদ্রূপ করছে। মনে হচ্ছে, এই র*ক্ত কোনোভাবেই আর ধুয়ে ফেলা যাবে না।তার কানে এখনও ভেসে আসতে থাকে অভীর ব্যথাভরা গুঙানির শব্দ। চোখের সামনে ভেসে আসতে থাকে বিস্ময়ে বড় হয়ে যাওয়া সেই দৃষ্টি। যেন শেষ মুহূর্তেও অভী বিশ্বাস করতে পারেনি। আনন্দী সত্যিই তাকে আ’ঘাত করতে পারে।
বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে।প্রতিশোধের যে তৃপ্তি পাওয়ার কথা ছিলো, তার কিছুই অনুভব করছে না সে। বরং মনে হচ্ছে, নিজের হাতেই যেন নিজের জীবনটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে সে।
কলিংবেলের ওপর রাখা আঙুলটা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসে। মা হয় তো রান্না ঘরে, তাই এতোটা দেরি লাগছে। কিন্তু আর তো দেরি সই না আনন্দীর। দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে সে। মাথার ভেতর ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার। সে জানে না সামনে কী অপেক্ষা করছে। জানে না অভীর ভাগ্যে কী লেখা আছে।
শুধু এটুকু জানে, কয়েক মিনিটের সেই উন্মত্ততা তার জীবনের সমস্ত হিসাব পাল্টে দিয়েছে। আর সেই অন্ধকার ঘরটিতে পড়ে থাকা মানুষটা, বেঁচে থাকুক কিংবা না থাকুক আজ থেকে তার নিয়তি চিরদিনের জন্য আনন্দীর নিয়তির সঙ্গে জড়িয়ে গেলো।

শত ভাবনার মাঝেই হঠাৎ করে মা দরজা খুলতেই ঝড়ের বেগে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে আনন্দী। তার এলোমেলো চুল, বিবর্ণ মুখ আর কাঁপতে থাকা শরীর দেখে মুহূর্তেই আঁচ করতে পারেন কিছু একটা ভয়াবহ ঘটেছে। তিনি বিস্মিত চোখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন।আনন্দী কোনো কথা বলে না। দ্রুত পায়ের শব্দ তুলে সোজা নিজের ঘরের দিকে চলে যায়। যেন কারও চোখের সামনে এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকার সাহস টুকু নেই তার।
দরজা খোলা রেখেই জড়োসড়ো হয়ে খাটের এক কোনায় বসে থাকে আনন্দী।র*ক্ত মাখা ছু:ড়িটা একপাশে পরে রয়েছে। আনন্দী চেয়ে ও সেটা লুকোতে পারেনি। ব্রেন এতোটাই অকেজো হয়ে গেছে তার।বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দটা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠে।
কাঁপতে থাকা হাত দুটো চোখের সামনে তুলে ধরে সে। আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা র*ক্তের দাগ দেখে হঠাৎই শরীর শিউরে ওঠে তার। এতক্ষণ যে ক্রোধ তাকে অন্ধ করে রেখেছিলো, এখন তার জায়গা দখল করছে এক অদ্ভুত আতঙ্ক।

আকরাম শেখকে কল করে আয়না বেগম। কিন্তু কল রিসিভ হয় না। তাই ফোন সাথে নিয়েই মেয়ের ঘরে চলে আসেন, দ্রূত উদ্বিগ্ন কণ্ঠ বলেন,
‘আনন্দী, কী হয়েছে তোর? এতো র:ক্ত কীসের মা?’
আনন্দী কোনো উত্তর দেয় না। ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে ফেলে। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্ধকার ঘর, মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে থাকা অভী, আর তার শার্টে ছড়িয়ে পড়া র*ক্ত।
হঠাৎ মনে হয়, ঘরের চারপাশের দেয়ালগুলো যেন ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। সে দু’হাতে মুখ চেপে ধরে, কিন্তু ভেতরের অস্থিরতাকে কোনোভাবেই থামাতে পারে না।এই প্রথমবারের মতো তার মনে হয়, হয়তো সে এমন একটি কাজ করে ফেলেছে, যার পরিণতি থেকে আর কখনোই মুক্তি পাওয়া যাবে না।
মেয়ের থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে আয়না বেগম আবার ও ফোন করেন আকরাম শেখকে।

এবার ফোন রিসিভ হওয়ার সাথে সাথে হরহর করে আয়না বেগম সব বলতে থাকেন।কিন্তু ভয়ের চোটে কথাগুলো ঠিকমতো গুছিয়েও বলতে পারেন না তিনি। শুধু এতটুকুই বোঝাতে পারেন।তাদের মেয়ের সঙ্গে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছে।
ফোন কেটে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ আনন্দীর পাশেই বসে থাকেন তিনি। মেয়ের হাতের র*ক্ত, ফ্যাকাশে মুখ আর আতঙ্কে ভরা চোখ দেখে তাঁর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। কী জিজ্ঞেস করবেন, কীভাবে জিজ্ঞেস করবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না।অল্প সময়ের মধ্যেই আকরাম শেখ বাড়িতে পৌঁছে যান। সিঁড়ি ভেঙে প্রায় দৌড়ে উঠে আসেন উপরে। ঘরে ঢুকেই তাঁর দৃষ্টি পড়ে এক কোণে সঙ্কুচিত হয়ে বসে থাকা আনন্দীর ওপর।ভয়ে মেয়েটার ঠোঁট কাঁপছে।তিনি একবার স্ত্রীর দিকে তাকান। চোখে প্রশ্ন। কিন্তু স্ত্রীও নির্বাক। যেন এই কয়েক মিনিটে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
ধীরে ধীরে মেয়ের কাছে এগিয়ে যান আকরাম শেখ। কাঁপতে থাকা হাতটা আলতো করে রাখেন আনন্দীর মাথায়।স্পর্শটা পেতেই আনন্দী মুখ তুলে তাকায়।

পরক্ষণেই আর নিজেকে সামলাতে পারে না।ঝাঁপিয়ে পড়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।
“আমি খু*ন করেছি, বাবাই… আমি খু*নি! এখন আমার ফা:সি হবে বাবা!”
আকরাম শেখের বুকের ভেতরটা হঠাৎ শূন্য হয়ে যায়। গলা শুকিয়ে আসে তার। তবু নিজেকে সামলে মেয়ের চোখের পানি মুছে দেন তিনি।
“কী হয়েছে মা? সব খুলে বল। এই যে বাবা আছি তো। বল না সোনা। কী হয়েছে! ”
থেমে থেমে, কান্নার ফাঁকে ফাঁকে পুরো ঘটনাটা বলে ফেলে আনন্দী।প্রতিটি শব্দের সঙ্গে যেন আরও ভারী হয়ে ওঠে ঘরের বাতাস।সব শুনে দীর্ঘক্ষণ কোনো কথা বলেন না আকরাম শেখ। তাঁর মুখের সমস্ত রং উধাও হয়ে যায়।
তারপর খুব ধীরে, অস্বাভাবিক শান্ত গলায় প্রশ্ন করেন,
“ম*রেছে জানো*য়ারটা?”
‘ জানি না! ‘

আকরাম শেখ চোখ বন্ধ করেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“প্রথম দিন কেন বলিসনি? কেন বলিসনি তোর সঙ্গে অভী…”
বাকিটা আর শেষ করতে পারেন না তিনি। গলা ধরে আসে।
আনন্দী মাথা নিচু করে বলে,
“তোমরা আমাকে নোংরা মেয়ে ভাবতে, বাবা…”
কথাটা শুনে যেন ভেঙে পড়েন আকরাম শেখ।
চোখের কোণে জমে থাকা পানি আর আটকে রাখতে পারেন না তিনি।
“বাপ হিসেবে আমি কতটা ব্যর্থ হলে আমার মেয়ে এই ভয়টা পায়? কতটা ব্যর্থ হলে নিজের কষ্টটা আমার কাছে বলতে পারে না? দেখেছো গিন্নি?”
আকরাম শেখকে দু’বার কাঁদতে দেখা গেছে। একবার ছেলে আনন্দ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার সময়। এবং আরেকবার আজকে। মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া বর্বরতার কথা শুনে।
“আমি তোকে রক্ষা করতে পারলাম না, মা… ইস কী কপাল আমার। কোথায় ভুল হয়েছিলো? কেন আমার মেয়ে আমাকে সব বলতে পারলো না। কেন পারলো না। তুমি শুনলে গিন্নি। আমার মেয়ে আমাকে কিছু বললো না! ”

ঘরের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনন্দীর মা পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে থাকেন, যেন পৃথিবীর সমস্ত শব্দ যেন এক মুহূর্তে হারিয়ে গেছে।আনন্দী কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“বাবাই…”
আকরাম শেখ সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের মুখ দুহাতে তুলে ধরেন।
“চুপ। একদম চুপ। তুই আর কাঁদবি না। আমি আছি।”
ভাঙা মানুষটার ভেতর যেন হঠাৎ অন্য এক মানুষ জেগে উঠেছে।মেঝের দিকে তাকিয়ে তিনি নিঃশব্দে র*ক্ত মাখা ছু*রিটি নিজের হাতে তুলে নেন। তারপর গভীর শ্বাস নিয়ে ধীর কণ্ঠে বলেন,
‘খু*ন আমি করেছি।আমার মেয়ে নয়।’
আনন্দী অবাক হয়ে আকরাম শেখের দিকে তাকায়। একজন বাবা নিজের সন্তানকে ঠিক কতটা ভালো বাসলে তার খু*নের দায় নিজে নিতে চায়।বাবাদের ভালোবাসা বোঝা খুবই মুশকিল।সারাজীবন মনে হয় হার্টলেস, দয়া মায়া হীন, মেশিন একটা। অথচ সন্তানের বিপদে সবার আগে নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে এই বাবা সমাজই।

‘ সোনামনি!’
আকরাম শেখ এবং আনন্দীর কথার মাঝেই হঠাৎ দরজাটা ঠেলে কয়েকজন লোক ভিতরে প্রবেশ করে। তাদের উপস্থিতিতে মুহূর্তেই থমকে যায় ঘরের পরিবেশ
লোকগুলোর মাঝখানে নোবেলের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অভীকে দেখেই ভয়ে কেঁপে ওঠে আনন্দী।তার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়।অভী!সে বেঁচে আছে!
চোখে কালো চশমা। উদোম শরীর, শুধু মাত্র মুন্ডু পরা। মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে।তবে এর থেকেও বেশি যে জায়গাটায় চোখ আটকে যায়, সেটা হলো অভীর পেটে শক্ত করে বাঁধা সাদা ব্যান্ডেজটি। ব্যান্ডেজের নিচে লুকিয়ে আছে আনন্দীর ক্রোধ, অপমান আর সেই ভয়ংকর মুহূর্তের স্মৃতি।
আনন্দীর বুকের ভেতরটা হঠাৎ করেই কেঁপে ওঠে। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসে তার।অভীও স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে আনন্দীর দিকে।ঘরের বাতাস মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কোনো কথা বলে না। শুধু নীরবতা আর একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকা কয়েক জোড়া চোখ।যেন ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা।
আনন্দী ভয়ে তার বাবার পিছনে মুখ লুকায়। অভীকে দেখা মাত্র তেড়ে আসেন আকরাম শেখ। মেয়ের সাথে এমন জঘন্য কাজ করা ব্যক্তিটি তার সামনে। তাও সুস্থ সবল। তাকে কী আর সুস্থ ভাবে রাখা যায়? হাত তুলে একটা গা*লি দিয়ে অভীর দিকে তেড়ে আসেন আকরাম শেখ।

কিন্তু অভীর কাছে যাওয়ার আগেই তার সাঙ্গোপাঙ্গরা ঘিরে ধরে আকরাম শেখকে । অভী হাসি দিয়ে আনন্দীর দিকে তাকায়।আনন্দী ভয়ে একদম চুপসে যায়।
‘ আমার বউ তো ইতিহাস করেছে রে। সে নিজের একমাত্র স্বামীর পে*ট ফু*টো করে দিয়েছে। ‘
অভীর মুখে বউ শব্দটা শুনে আনন্দীর চোখ বিস্ময়ে আরও বড় হয়ে ওঠে। যেন মুহূর্তের জন্য তার চারপাশের সব শব্দ থেমে যায়। বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।বউ?কোন বউ?
বিয়ে কবে হলো?অভী তো নিজেই বলেছিল তাদের বিয়ে হয়নি। তাহলে আজ হঠাৎ করে এমন দাবি করছে কেন? মাথার ভেতর একের পর এক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে আনন্দীর। আতঙ্ক, বিস্ময় আর বিভ্রান্তিতে তার মুখের সমস্ত রং উধাও হয়ে যায়।অন্যদিকে আকরাম শেখ আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেন না।
“কী যা-তা বলছো? আমার মেয়ে তোমার বউ কেন হবে?”
তাঁর কণ্ঠের কঠোরতা পুরো ঘরটাকে কাঁপিয়ে দেয়।কিন্তু অভীর মুখে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। বরং ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একরকম রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠে।
‘ বহুত খবিস আছেন আপনে।। প্রমাণ ছাড়া কিছুই মানেন না।”
কথাটা বলেই সে হাত বাড়িয়ে নোবেলের দিকে তাকায়।
“বাবা নোবেল।”

ইশারা বুঝতে নোবেলের এক মুহূর্তও সময় লাগে না। সঙ্গে থাকা ফাইল থেকে কয়েকটি কাগজ বের করে সে অভীর হাতে তুলে দেয়। অভী সেগুলো নিয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আকরাম শেখের দিকে বাড়িয়ে দেয়।কাগজগুলো হাতে নিয়েই থমকে যান আকরাম শেখ।প্রথমে তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। কিন্তু পরের মুহূর্তেই স্বাক্ষীর জায়গায় নিজের স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে তাঁর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে ওঠে।
“ভুয়া কাগজ! আমি কবে…?”
বাকিটুকু আর বলা হয় না।হঠাৎ করেই স্মৃতির দরজা খুলে যায়।যেদিন অভী তাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলো। কৃতজ্ঞতা আর স্বস্তির মুহূর্তে বেশ কিছু কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিলো সে। সেদিন গুরুত্ব না দিয়েই সই করেছিলেন আকরাম শেখ। ভাবতেও পারেননি সেই স্বাক্ষর একদিন তাঁর গলার কাঁটা হয়ে ফিরে আসবে।স্মৃতি ফিরে আসতেই তাঁর মুখমণ্ডল ক্রোধে বিকৃত হয়ে ওঠে। রাগে শরীর কাঁপতে থাকে।কিন্তু অভী যেন এসবের কিছুই পরোয়া করে না।সে ধীর পায়ে আনন্দীর দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।ঠিক তখনই আকরাম শেখ সামনে এসে দাঁড়ায়।

দুই হাত মুঠো করে মেয়েকে আড়াল করে তিনি গর্জে ওঠেন,
“আমার মেয়ের ধারেকাছেও যাবা না তুমি।”
অভী কোনো কথা না বলে ফোনটা অন করে একটি ভিডিও স্টার্ট করে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় আনন্দী ছু*রি হাতে অভীর দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। পরের মুহূর্তেই ধারা*লো অ স্ত্র টি অভীর পে টে বসিয়ে দিয়েছিলো সে।ভিডিওটা শেষ হতেই ঘরজুড়ে নেমে আসে ভারী নীরবতা।অভী ধীর দৃষ্টিতে আকরাম শেখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“মেয়েকে আমার সঙ্গে দেবেন, না-কি জেলে পাঠাবেন? ডিসিশন আপনার।”
আকরাম শেখ কোনো উত্তর দেন না। তাঁর মুখটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে আসে। কারণ পৃথিবীর কোনো বাবাই চাইবে না, তার সন্তান জে লের অন্ধকারে হারিয়ে যাক।ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে মায়ের পিছনে দাঁড়িয়ে গিয়ে দাড়িয়ে পরে আনন্দী।অভী এগিয়ে এসে আনন্দীর হাত ধরে নিজের দিকে টে নে নিতে নিতে বলে,
‘ আসো সোনামনি। আমরা সংসার করি। ভবিষ্যৎ ছেলে মেয়েদের পড়াশোনায় দেরি হয়ে যাচ্ছে। ‘
‘ আমি..আমি যাবো না।’
‘ আরে আসো তো!’
‘ না! না! বাবা..আমি যাবো না! ও বাবা!”‘

উন্মাদনা পর্ব ৩৮

অসহায় দৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকায় আনন্দী। কিন্তু বাবা নামক বট গাছটি যেন আজ নিরুপায়।কী করবে সে? মেয়েকে কী জে*লে পাঠাবে? প্রমাণ তো রয়েছে যথেষ্ট। অভী আনন্দীর কো মর জা প্টে ধরে বলে,
‘ এখন বাবা নয়! ড্যাডি বলার সময়। চলো সেনামনি।’

উন্মাদনা পর্ব ৪০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here