Home ম্যারিড লাইফ্ ‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৯

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৯

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৯
‎রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

‎”আরে ইখতিয়ার যে!”
‎কণ্ঠস্বরটা কানে আসতেই ইখতিয়ার থমকে দাঁড়াল। পরিচিত স্বর। কোন সময়ের ভীষণ পরিচিত কেউ। কিন্তু বহুদিন শোনা হয়নি এই আওয়াজ।
‎ইখতিয়ার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। তারপর কয়েক সেকেন্ড একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সামনের মানুষটার দিকে। চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
‎ “তৃষা?”
‎তৃষা ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল। বহু আগের স্বভাব সসুলভ চুল উড়িয়ে বলল,
‎ “ইয়েস, দ্যা বিউটি কুইন, বাট এই কলেজে তোর কি কাজ ?।”
‎ইখতিয়ারের মুখে হাসি ফুটে উঠল অজান্তেই। এক পা এগিয়ে গিয়ে বলল,
‎”তুই এখানে কি করিস?”
‎তৃষা ভ্রু কুঁচকালো।
‎”এইটা আমি জিজ্ঞেস করলাম তো।”
‎ “আগে উত্তর দে।”
‎ “আগে তুই দে।”
‎”আমি জিজ্ঞেস করছি।”
‎”আমিও করেছি।”
‎দুজনেই কয়েক সেকেন্ড একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর তৃষা হেসে ফেলল।
‎ইখতিয়ারও।

‎কিছু মানুষ থাকে, যাদের সামনে দাঁড়ালেই বয়স কয়েক বছর পিছিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে মানুষ আবার সেই পুরোনো দিনে ফিরে যায়। তৃষা ছিল ঠিক তেমন একজন।
‎কলেজজীবনের দুটি বছর একসাথে কেটেছে তাদের,একই ক্লাস,একটা বন্ধু মহল,একটা স্মৃতি।
‎অনেক সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু বন্ধুত্ব পুরোনো সুরের মতো। বহুদিন না শুনলেও একবার কানে এলেই সমস্ত কথা মনে পড়ে যায়। তৃষা দুই হাত বুকের কাছে গুটিয়ে বলল,
‎ “এখন বল। তুই এখানে কি করতেছিস?”
‎ইখতিয়ার ভ্রু তুলল। বলল,
‎ “তুই আগে বল।”
‎”আচ্ছা, আচ্ছা।”
‎তৃষা নাটকীয় ভঙ্গিতে গলা খাঁকারি দিল। ভাব নিয়ে বলল,
‎ “আমি এই কলেজের ইংরেজি বিভাগের সম্মানিত, সুদক্ষ, সুনামধন্য প্রভাষক।”
‎ইখতিয়ার কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
‎তারপর গম্ভীর গলায় বলল,
‎ “কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি সমবেদনা রইল।”
‎ “ইখতিয়ার!”
‎তৃষা চোখ গোল করে তাকালো। তার প্রতিবাদে আশেপাশের দু-একজন ছাত্র ঘুরে তাকাল।
‎ইখতিয়ার এবার সত্যিই হেসে ফেলল। সেই হাসিটা দেখে তৃষা থমকে গেল।
‎চোখ ছোট ছোট করে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে রইল।

‎”এক মিনিট।”
‎ “কি?”
‎”তুই হাসতেছিস? তুই হাসতে পারিস?”
‎ইখতিয়ার মাথা ঘুরিয়ে আড়চোখে তাকালো।
‎”মানুষ সাধারণত হাসেই।”
‎ “না। তুই তো আর সাধারণ মানুষ না।”
‎তৃষা কথা বলার সাথে মাথা নাড়ল । চোখ ছোট করে মনে করার ভঙ্গিতে বলল,
‎ “কলেজে থাকতে মনে হয় বছরে দুইবার হাসতি। একবার রেজাল্টের দিন। আরেকবার ঈদের দিন।”
‎ “অতিরঞ্জন করিস না। চুপ যা”
‎ “আমি সত্য বলছি তো।”
‎ইখতিয়ার মাথা নিচু করে মৃদু হাসল। তৃষা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল।
‎অদ্ভুত। বহু বছর পরও মানুষটার কিছুই বদলায়নি।
‎আবার অনেক কিছু বদলেও গেছে। চোখের নিচের পরিণত ছাপ, কণ্ঠের স্থিরতা, ব্যক্তিত্বের গভীরতা— সবই আগের চেয়ে ভারী হয়েছে।
‎তবু ভেতরের সেই শান্ত, কম কথা বলা ছেলেটা এখনও একই রয়ে গেছে। বন্ধুত্ব বোধহয় এমনই।
‎সময় মানুষের চেহারা বদলায়, জীবন বদলায়, ঠিকানা বদলায়। কিন্তু কিছু মানুষকে দেখলে এখনও মনে হয়, তারা আমাদের জীবনের সবচেয়ে পরিচিত অধ্যায়গুলোর একটি অংশ।
‎তৃষা মৃদুস্বরে বলল,

‎ “ভালো লাগতেছে তোকে দেখে।”
‎ইখতিয়ার তার দিকে তাকাল। একটা শান্ত হাসি ফুটল ঠোঁটে।
‎ “আমারও।”
‎মাত্র দুটি শব্দ। কিন্তু তৃষা জানে, ইখতিয়ারের অভিধানে এই দুই শব্দের মূল্য অনেক।
‎অনেক মানুষ অনুভূতি প্রকাশ করে দীর্ঘ বাক্যে।
‎ইখতিয়ার করে না।সে বরাবরই কম কথার মানুষ।
‎কিন্তু যাদের সে নিজের মানুষ মনে করে, তাদের জন্য তার সংক্ষিপ্ত বাক্যগুলোও অনেক গভীর।
‎তৃষা আবার বলল,
‎ “আচ্ছা, তুই কী এখনও সেই আগের মতোই আছিস।”
‎ “কোন দিক দিয়ে?”
‎ “কম কথা, গম্ভীর মুখ, রাম গড়ুরের ছানা টাইপ।”
‎ইখতিয়ার কিছু বলল না।
‎শুধু মুচকি হাসল। তৃষা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
‎তারপর হঠাৎ বলল,
‎”এত কিপ্টে কেন তুই?।”
‎ইখতিয়ার এবার বেশ অবাক হলো। চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করল,
‎”কীহ? আমি কিপ্টে?আমি?”
‎ “জ্বী।”
‎তৃষা ধীরে মাথা নাড়ল।
‎ “এবার তো একটু শব্দ ব্যবহার কর, ভাই তোর শব্দ শেষ হয়ে যাবে না?, নাহলে আমাকে দেখ, আমি এত কথা বলি, আমার শব্দ কি শেষ হয়েছে?।”
‎নিজের গলায় হাত দিয়ে বলল তৃষা। ইখতিয়ার কিছুক্ষণ ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তারপর হাসল। তৃষা ও হেসে ফেললো। তার হাসি প্রাণোচ্ছল, ইখতিয়ারের মতো ক্ষীণ নয়।

‎কৃষ্ণচূড়ার ছায়াটা তখন একটু একটু করে সরে যাচ্ছে। সকালের রোদ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ও বেড়েছে অনেকটা।
‎দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ইখতিয়ারের দিকে তাকিয়েই ইশতিয়াকের ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
‎ “আহারে!”
‎মুগ্ধা ভ্রু কুঁচকাল।
‎ “এবার কি?”
‎ “দেখ।”
‎সে আঙুল তুলে দেখাল। মুগ্ধা তাকাল।
‎ইখতিয়ার দাঁড়িয়ে আছে এক মহিলার সঙ্গে।
‎দুজনের মাঝে যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্য। মেয়েটা কথা বলছে, আর ইখতিয়ার শুনছে। মাঝে মাঝে উত্তরও দিচ্ছে।
‎সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—
‎ইখতিয়ার হাসছে। মুগ্ধার চোখ অজান্তেই সরু হয়ে এল। তার মনে পড়ল, গতকাল রেস্টুরেন্টে বসেও মানুষটা এমনই হাসছিল।
‎আবার আজও। তবে এই হাসিটা যেন আরও সহজ। আরও নির্ভার।
‎তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি জন্ম নিল। যেন কারও অজান্তে তার নিজের জিনিসে অন্য কেউ হাত দিয়েছে।
‎অথচ জিনিসটা আদৌ তার কিনা, সেটাও সে জানে না।

‎ “চল।”
‎ইশতিয়াক হঠাৎ তার হাত ধরে টান দিল। মুগ্ধা হতভম্ব হয়ে গেল। বলল,
‎ “কোথায়?”
‎ “ওইখানে।”
‎ “আমি যাব না।”
‎”আমি নিয়ে যাব।”
‎কথা শেষ না হতেই টেনে নিয়ে চলল। মুগ্ধা বিরক্ত হলো। কিন্তু হাত ছাড়াল না। কয়েক মুহূর্ত পর তারা এসে দাঁড়াল ইখতিয়ার আর তৃষার সামনে।
‎প্রথমে ইখতিয়ারের দৃষ্টি পড়ল মুগ্ধার উপর।
‎তারপর ইশতিয়াকের হাতে ধরা মুগ্ধার হাতের দিকে। ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল।
‎খুব সামান্য। কিন্তু মুগ্ধা সেটা দেখল। আর অকারণেই তার মনটা ভালো হয়ে গেল।
‎তৃষা ভদ্রভাবে হাসল।
‎”হ্যালো।”
‎তার কণ্ঠে শিক্ষকের মতো সৌজন্য।
‎পরিপাটি শাড়ি, চশমার আড়ালে বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব— তাকে দেখলেই বোঝা যায় সে শিক্ষক।
‎ “আমি তৃষা রহমান। ইংরেজি বিভাগের নতুন প্রভাষক।”
‎মুগ্ধা সৌজন্যমূলক হাসল।

‎ “আমি মুগ্ধা।”
‎ইশতিয়াকও পরিচয় দিল। কিছুক্ষণ সাধারণ কথাবার্তা চলল।
‎তারপর ইশতিয়াক হঠাৎ মাথা কাত করল।
‎ “ভাইয়া?”
‎”কি?”
‎ “তুমি এখানে কি কর?”
‎ইখতিয়ার একবার ভাইয়ের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিল। কিন্তু ইশতিয়াককে থামানো সহজ নয়। তাই উত্তর দিল ইখতিয়ার।
‎ “এমনি আসছিলাম।”
‎ “ওহ।”
‎ইশতিয়াক এমনভাবে মাথা নাড়ল যেন সে পৃথিবীর সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কথা শুনেছে। তৃষার মুখেও হাসি ফুটল। তারপর সে কৌতূহলী হয়ে মুগ্ধার দিকে তাকাল।
‎ “আচ্ছা, একটা প্রশ্ন করি?”
‎ “জ্বি?”
‎”ইখতিয়ার আপনাদের কি হয়?”
‎ইশতিয়াক দ্রুত উত্তর দিল।
‎ “আমার ভাই।”
‎তৃষা মাথা নাড়ল। তারপর মুগ্ধার দিকে তাকাল।
‎ “আর আপনার?”
‎প্রশ্নটা শুনে মুগ্ধা এক মুহূর্ত থামল। তারপর শান্ত গলায় বলল,
‎”বেস্ট ফ্রেন্ডের ভাই।”

‎শব্দগুলো উচ্চারণের পর অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। মুগ্ধা খেয়াল করল না।
‎কিন্তু তৃষা খেয়াল করল। ইখতিয়ারের চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। চোখের দৃষ্টি বদলে গেছে।
‎যেন কারও খুব প্রিয় কোনো বইকে কেউ এসে বলেছে—এটা তো আমার সবথেকে অপছন্দের।
‎তৃষা অবাক হয়ে বলল,
‎”তোর কি হয়েছে?”
‎”কিছু না।”
‎ইখতিয়ার দাঁতে দাঁত পিষে উত্তর দিলো যেন।
‎”তোর মুখ এমন লাগতেছে কেন?”
‎ইখতিয়ার এবার উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল।
‎ঠিক তখনই ইশতিয়াক গম্ভীর মুখে বলল,
‎”পেট ব্যাথা করছে হয়তো।”
‎তৃষা থমকে গেল।
‎ “কি!”
‎ “হুম।”
‎”সত্যি?”
‎”হুম এদানিন ভাইয়া শুধু এমন করে।”
‎তৃষার মুখের রঙ বদলে গেল। সে তৎক্ষণাৎ ইখতিয়ারের দিকে ঘুরল।
‎ “ইখতিয়ার!”
‎ইখতিয়ার চোখ বন্ধ করল। মনে হলো ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। কিন্তু তৃষা থামল না।
‎ “কবে থেকে হচ্ছে? ডাক্তার দেখাইছিস?ওষুধ খাচ্ছিস? তুই আমাকে বললি না কেন?”

‎তার কণ্ঠে সত্যিকারের উদ্বেগ। সত্যিকারের উৎকণ্ঠা। বহু বছরের বন্ধুত্বের টান।
‎মুগ্ধা সেটা দেখল। আর তার ভেতরে কোথায় যেন কেমন একটা টান লাগল। অস্বস্তিকর সে টান।
‎তবু তীব্র সে ব্যথা।
‎তৃষা এখনও উদ্বিগ্ন মুখে দাঁড়িয়ে। ইখতিয়ারের দিকে তাকিয়ে আছে।
‎যেন এই মুহূর্তে কলেজ, ক্লাস, ছাত্রছাত্রী— সব ভুলে গেছে। শুধু বন্ধুর শরীর খারাপের খবরটাই গুরুত্বপূর্ণ। মুগ্ধার ভেতরের অস্বস্তিটা আরও একটু বাড়ল। সে নিজেই বুঝতে পারল না কেন।
‎তৃষা আবার বলল,
‎”ইখতিয়ার, আমি সিরিয়াস।”
‎ইশতিয়াক আর পারল না। হাসি চেপে রাখতে রাখতে তার অবস্থা খারাপ। অবশেষে বলেই ফেলল,
‎ “আরে ম্যাম, সত্যিকারের পেট ব্যাথা না।”
‎তৃষা বিভ্রান্ত হলো। জিজ্ঞেস করল,
‎ “তাহলে?”
‎”মনে পেট ব্যাথা।”
‎মনে আবার পেট ব্যাথা হয়? কি আদেও সম্ভব? তবে ইশতিয়াক বলল যে!ইখতিয়ার ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে ইশতিয়াকের দিকে তাকাল।
‎সেই দৃষ্টি দেখে ইশতিয়াকের হাসি একটু কমে গেল।
‎খুবই সামান্য। কারণ সে জানে—
‎ভাইয়ার এই দৃষ্টি ঝড় আসার আগের আকাশের মতো। নীরব,কিন্তু বিপজ্জনক।

‎আর মুগ্ধা?সে মুখ ফিরিয়ে নিল।কারণ তার নিজেরই বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে—
‎তৃষার উদ্বেগ দেখে তার এত বিরক্তি হচ্ছে কেন।
‎কেন মনে হচ্ছে, তৃষার সেই উৎকণ্ঠিত দৃষ্টি তার একদমই ভালো লাগছে না।আর কেন ইখতিয়ারের সঙ্গে অন্য কোনো নারীর সহজ সম্পর্ক দেখলে বুকের ভেতরটা কেমন অদ্ভুতভাবে জ্বলে ওঠে।
‎ইখতিয়ার কেন অন্য মেয়ের দিকে তাকাবে? কেন?

‎ইশতিয়াকের মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে প্রশস্ত হচ্ছিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই তার চোখ পড়ল মুগ্ধার দিকে। মেয়েটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।
‎মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। তবু ইশতিয়াক বুঝতে পারল, ভেতরে ভেতরে কিছু একটা চলছে।
‎হঠাৎ করেই ইখতিয়ার মুগ্ধার কব্জি ধরে ফেলল। কোন কথা ছাড়াই টান দিয়ে নিয়ে গেল নিজের সাথে ।
‎তৃষা হতভম্ব হয়ে তাকাল প্রায়।
‎ “আরে! এই কি করছিস?”
‎ইশতিয়াক থামল। তারপর এমন একটা হাসি দিল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন রহস্যটা সে একাই জানে।
‎ “ম্যাম, ওদের যেতে দেন।”
‎”মানে?”
‎ “ওরা হাজব্যান্ড-ওয়াইফ।”
‎বাতাস যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল।
‎তৃষার চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠল। সে প্রথমে ইশতিয়াকের দিকে তাকাল। তারপর ইখতিয়ারের দিকে। পুনরায় মুগ্ধার দিকে।
‎ “কি?”
‎ইশতিয়াক মাথা নাড়ল।
‎ “জ্বি।”
‎ “ইখতিয়ার বিয়ে করেছে?”
‎তার কণ্ঠে অবিশ্বাস স্পষ্ট। ইশতিয়াক এবার গর্বিত ভঙ্গিতে বলল,
‎— “তিন মাস আগে।”
‎তৃষা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না।
‎কলেজজীবনের সেই নীরব, গম্ভীর, সম্পর্ক থেকে শতহাত দূরে থাকা ছেলেটা বিয়ে করেছে!

‎কলেজের মূল ভবন থেকে একটু দূরে একটা নির্জন অংশ। চারপাশে বড় বড় গাছ।
‎কিছু পুরোনো বেঞ্চ। আর মাঝখানে বিস্তৃত পুকুর।
‎পনির উপর রোদের আলো পড়ে রুপালি ঝিলিক তৈরি করেছে। বাতাসে হালকা শ্যাওলার গন্ধ।
‎এখানে মানুষের আনাগোনা খুব কম।
‎সাধারণত যারা নিরিবিলি থাকতে চায়, তারাই আসে। ইখতিয়ার সোজা পুকুরের ধারে এসে থামল।
‎তারপর হঠাৎ করেই মুগ্ধাকে নিজের দিকে টেনে আনল। হ্যাঁচকা টান। মুগ্ধা প্রস্তুত ছিল না।
‎এক নিমিষে দুজনের দূরত্ব কমে এল।
‎এতটাই কম যে একজনের নিশ্বাস অন্যজনের মুখে এসে লাগছে। মুগ্ধা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
‎ইখতিয়ারের বুক ওঠানামা করছে। চোয়াল শক্ত।
‎চোখদুটো অদ্ভুতভাবে জ্বলছে।
‎যেন বহুদিন ধরে দমিয়ে রাখা আগুন আচমকা বাতাস পেয়ে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে।
‎তার কণ্ঠ বেরোল কর্কশ স্বরে।
‎ “আমি তোমার কে হই?”
‎মুগ্ধা স্থির। ইখতিয়ার আবার বলল,
‎ “বলো। টেল মি”
‎তার স্বর ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছে।
‎ “আমি তোমার কে? স্পিক আপ”

‎মুগ্ধা চুপ। ইখতিয়ারের রাগ তখন বর্ষাকালের উত্তাল নদীর মতো। উপরিভাগে নিয়ন্ত্রণ আছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে স্রোত ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে।
‎সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
‎” শুধুমাত্র তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডের ভাই? তোমার কেউ নই আমি?”
‎মুগ্ধা অপলক তাকিয়ে রইল তার দিকে।
‎একদৃষ্টিতে। যেন প্রথমবারের মতো মানুষটাকে দেখছে। তারপর খুব ধীরে বলল,
‎ “কে আপনি আমার?”
‎ইখতিয়ারের চোখ সরু হয়ে এল। মুগ্ধা থামল না।
‎ “আমিই বা আপনার কে?”
‎কণ্ঠটা কাঁপছে না। বরং অদ্ভুত শান্ত।
‎”কেউ হই আমি আপনার?”

‎ইখতিয়ারের বুকের ভেতর কিছু একটা মোচড় দিয়ে উঠল। মুগ্ধা তিক্ত হেসে বলল,
‎ “কোন সম্পর্ক আছে আমাদের?”
‎প্রশ্নটা ছুরির মতো এসে বিঁধল। ইখতিয়ারের চোয়াল আরও শক্ত হয়ে গেল।
‎তার চোখের ভেতর জমে থাকা রাগ যেন গলিত লাভার মতো ধীরে ধীরে উপরে উঠছে।
‎”সম্পর্ক নাই?”
‎সে ফিসফিস করে বলল।
‎ “সত্যিই?”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৮

‎মুগ্ধা দৃষ্টি সরাল না।
‎দুজনেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।
‎যেন দুজনের মাঝখানে অদৃশ্য এক যুদ্ধ চলছে।
‎কেউ হার মানতে রাজি নয়। কেউ পিছু হটতে রাজি নয়। ইখতিয়ার বাজখাঁই স্বরে বলল,
‎”ইউ আর মাই ওয়াইফ, মাই বেটার হাফ, মাই লাইফলাইন, আমার তিন কবুল বলা স্ত্রী, অস্বীকার করবে তুমি?”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here