চেকমেট ২ পর্ব ২৮
সারিকা হোসাইন
ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে সরফরাজ সহ বাড়ির সকলে।সরফরাজের ধরে বেঁধে দেয়া নিয়ম অনুযায়ী সকাল আটটার মধ্যে বাড়ির প্রত্যেকের ব্রেকফাস্ট করা চাই।সুফিয়ান চৌধুরী বিমর্ষ মনে নিজের প্লেট টেনে নিয়ে সামনের ফাঁকা চেয়ার দুটোর দিকে নজর দিলেন।চেয়ার দুটোর মালকিন ইহ জগতের মায়া ত্যাগ করেছে বছর তিনেক আগে পিছে।তাদের সাথে কত স্মৃতি কত ভালো লাগা মন্দ লাগা ছিলো।অথচ মানুষ দুটো আজ কেবলই অতীত।বেঁচে আছেন শুধু তিনিই।হয়তো তিনিও একদিন হুট করে বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে আকাশে পাড়ি জমাবেন।কিন্তু তার আগে প্রাণাধিক প্রিয় নাতির সুখের একটা সংসার দেখে যেতে চান তিনি।
নিজের প্লেটে ডিমের অমলেট তুলে নিতে নিতে সারফরাজ একবার সুফিয়াম চৌধুরীর মুখের পানে তাকালো।বৃদ্ধ সুফিয়ান প্লেট সামনে নিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছেন।বৃদ্ধের ভেতরের ব্যাথা খুব করে অনুধাবন করলো সারফরাজ।নিজের মা আর শাশুড়ির চেয়ার দুটোর পানে তাকিয়ে সেও কষ্ট পেলো।চোখের কোনে জল চিকচিক করলো।বুঝতে দিলো না কাউকে।শুধু ভার গলায় বললো –
“একদিন আমাদের সবাইকে ওই পাড়েই যেতে হবে বাবা।কষ্ট পাবেন না।খাবার খান।ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।”
বলেই শাহরান কে নির্দেশ দিলো তার নানার প্লেটে নরম সবজি খিচুড়ি তুলে দিতে।শাহরান সুফিয়ান চৌধুরীর পাতে দু চামচ খিচুড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করলো –
“বেগুন ভাজা দেবো?”
তপ্ত শ্বাস ফেলে সুফিয়ান চৌধুরী বলে উঠলেন –
“আমের আচার টা দে।”
আচারের বৈয়াম নানার সামনে খুলে এক গ্লাস জুস নিয়ে সিপ তুললো শাহরান।এমন সময় আরো কিছু নাস্তা ট্রেতে সাজিয়ে হেলে দুলে ডাইনিং রুমে এলো রোদ।সবেই জুসটা গলাধঃকরণ করতে নিচ্ছিলো শাহরান।পারলো না।নাক মুখে উঠে দম যাবার জোগাড় হলো।ছেলের এহেন প্রাণ যাই যাই মুহূর্তে ঘাবড়ে গেলো সারফরাজ।রান্না ঘর থেকে দৌড়ে এলো রূপকথা।তার আগেই এক গ্লাস পানি নিয়ে শাহরানের মুখে তুলে পিঠে হাত বুলিয়ে রোদ জোরে জোরে বলে উঠলো _
“বালাই ষাট কিচ্ছু হবেনা।”
আকস্মিক মেয়েলি গলায় সুফিয়ান চৌধুরী সারফরাজ দুজনেই চমকিত হলো।নিজের বুকে অবলীলায় শাহরানকে জড়িয়ে ধরে পিঠ চাপড়ে চলেছে রুদ্ররাজ কন্যা।এই দৃশ্যে সারফরাজ এর চোখ কপালে উঠলো।সুফিয়ান চৌধুরী চোখ কচলে বোঝার চেষ্টা করলেন তিনি ভুল দেখছেন নাকি সবটাই সত্যি।
কিছু সময় গড়াতেই স্বাভাবিক হলো শাহরান।নিজের দম ফিরে পেতেই রোদ কে ঠেলে নিজের থেকে সরিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।কাশতে কাশতে গলা বসে গেছে বেচারার ইতোমধ্যে।সেই বসে যাওয়া গলা নিয়েই আঙ্গুল তুলে শাহরান রূপকথাকে বলে উঠলো –
“এই মেয়ে আমাদের বাড়িতে কি করছে মা? তাও আবার এই সকাল বেলা?”
রূপকথা শাহরানকে শান্ত হতে ইশারা করলো।বললো –
“আমি বলেছি আসতে।
তাৎক্ষণিক জরুরি কাজে ঘরে ঢুকলো নিনাদ।রোদকে দেখে সকাল বেলায়ই তার মেজাজ চটে গেলো।মনে পড়লো পুরোনো সব কথা।তাই সুযোগ হাতছাড়া না করে বলে উঠলো –
“ওহ নতুন কাজের লোক বুঝি আন্টি?বাহ আজকাল টাকার জোড়ে এতো সুন্দরী কাজের বুয়া জুটে।আমার মাকেও একটা খুঁজে দিয়েন তো।”
সারফরাজ চোখ গরম করে নিনাদকে থামালো।কিন্তু নিনাদের উপর চরম ক্ষিপ্ত হলো রোদ।সে ট্রে থেকে গরম কফির মগটা নিয়ে ফেললো একদম নিনাদের পায়ের উপর।আতঁকে উঠলো নিনাদ।লাফিয়ে চিৎকার করে উঠলো।এরপর চেঁচিয়ে সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলে উঠলো –
“চূড়ান্ত বজ্জাত ডাইনি একটা।ও বাবা গো পা জ্বলে গেলো।”
শাহরান বিরক্তিতে চোখ মুখে অমানিশার আধার ফুটিয়ে বলে উঠলো –
“এসব আউটসাইডার মানুষকে কেনো ঘরে এলাউ করো?সামনে বেচারার বিয়ে।পা টা দিলো তো পুড়িয়ে।”
রোদ মুখ বাকিয়ে রূপকথার পিছনে দাঁড়ালো।রূপকথা নিনাদের কান টেনে ধরে শুধালো –
“মায়ের মতো নাটক বাজ হয়েছিস?কফিটা তো কবেই ঠান্ডা হয়ে গেছে বদমাশ ছেলে।”
নিনাদ নিজের কান সামলাতে সামলাতে বলে উঠলো –
“খালামণি লাগছে ছেড়ে দাও।”
সারফরাজ আর সুফিয়ান চৌধুরী নীরব দর্শকের ন্যয় তামাশা দেখতে লাগলো।কি হচ্ছে না হচ্ছে কিছুই যেনো জামাই শশুরের ঘটে ঢুকছে না।
শাহরান নিনাদ কে নিয়ে সিঁড়ি ধরে উপরে যেতে লাগলো।যাবার আগে রোদকে শাসিয়ে বলে গেলো-
“যত যাই করোনা কেন তুমি আমার মন পাবে না।এসবে আমি আরো বিরক্ত হবো।যাও খেয়ে দেয়ে বাড়ি ফিরে যাও।অযথা সবাইকে হেনস্থা করা বন্ধ করো।”
রোদ কষ্ট পেলো শাহরানের কথায়।মুখ নামিয়ে চোখ বুজে ফেললো সে।সারফরাজ এর সামনে লজ্জায় কান কাটা গেলো মেয়েটার।তবুও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইলো।সুফিয়ান চৌধুরী কোনো মতে খেয়ে রোদের পাশে দাঁড়িয়ে বলে উঠলেন –
“যখন আমার নাতি মৌমাছির মতো তোমার চারপাশে ঘুরলো তখন তুমি ওর পাখা ভেঙে দিলে।এতদিন বাদে কি মনে করে ওকে কাছে টানতে চাইছো?যখন কাছে ছিলো তখন কেনোই বা ঠেলে আঘাত করে দূরে সরালে?”
রোদ জবাব দিতে ব্যার্থ হলো এই প্রশ্নের।সারফরাজ প্লেট থেকে হাত গুটিয়ে রূপকথাকে বলে উঠলো –
“ওকে ভেতরে নিয়ে যাও রূপকথা।”
রূপকথা রোদের হাত টেনে উপরে নিয়ে নিজের ঘরে বসালো।রোদ চোখের জল ছেড়ে দিলো সকাল সকাল এতো গুলো অপমানিত হয়ে।সে রূপকথার হাত জড়িয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে বলে উঠলো –
“আমি শাহরান কে ভালবাসি প্রথম থেকেই আন্টি।বয়স কম ছিলো তাই ঠিক ভুল গুলিয়ে ফেলেছিলাম বাবার ভয়ে।এর জন্য আমি সত্যিই অনুতপ্ত।এর জন্য শাহরান আমাকে যেই শাস্তি দিবে আমি তাই মাথা পেতে নেবো।শুধু আমাকে ওর থেকে দূরে সরিয়ে দিবেন না আপনারা।আমি এবার সত্যি সত্যি মরে যাবো তাহলে।”
রূপকথা রোদকে আগলে নিলো পরম মমতায়।মাথায় হাত বুলিয়ে বলে উঠলো –
“আমি শাহরানের সঙ্গে কথা বলবো এই বিষয়ে।”
পেছন থেকে সারফরাজ বলে উঠলো –
“ওদের কথা ওদেরকেই বলতে দাও রূপকথা।অভিমানের পাল্লা বড্ড ভারী হয়েছে তোমার ছেলের।তুমি কমাতে পারবে না তা।”
রোদ চোখ মুছে সারফরাজ কে বলে উঠলো –
“যেহেতু আমি ওর মন ভেঙেছি সেহেতু আমিই তা জোড়া লাগাবো।আপনারা শুধু আমার পাশে থাকবেন।”
সারফরাজ হাসলো অল্প।বললো –
“তুমি তো অপরাধী।তোমাকে সাহায্য করা কি উচিত হবে আমাদের?ছেলেটা তো আমার নিজের তাই না?”
মিইয়ে গেলো রোদ।সারফরাজ ভারী গলায় বলল –
“হাজার হলেও আমার ছেলের ভালোবাসা তুমি।এইটুকু সাহায্য করতেই পারি।”
বলেই চোখ টিপে চলে গেল সারফরাজ।রূপকথাকে জড়িয়ে চোখ বুজে পরে রইলো রোদ।যে করেই হোক শাহরানের অভিমান ভাঙাতেই হবে তাকে।
“তুই আবার মেয়েটার প্রেমে গলে গলে পরে যাচ্ছিস তাই না নির্লজ্জ্ব ছেলে?”
বলেই দাঁত মুখ কামড়ালো নিনাদ।শাহরান জবাব দিলো না।ফোন ঘাটতে ব্যাস্ত হলো।নিনাদ নিজের রাগ সামলে বলে উঠলো –
“মেয়েটা তোকে ভালোবেসে ফেলেছে।প্রিয়ন্তীর কাছে স্বীকার করেছে সবটা।”
শাহরান নির্বিকার ভঙ্গিতে বললো –
“জানি।
নিনাদ বিস্মিত হলো।বললো –
“তুই কি করে জানিস?প্রিয়ন্তী বলেছে?
“উহু।তার ফোনে দেখেছি।আমার ছবি ওয়ালপেপার দিয়ে রেখেছে।বন্ধুদের সাথে আমাকে নিয়ে আলাপ করেছে।আরো অনেক কিছু।”
“তুই কি ভেবেছিস?”
“এখনো কিছু ভাবিনি।দেখি সামনে কি হয়।
নিনাদ নিজের চুল খামচে বলে উঠলো –
“একদম ভালোবাসবি না ওকে।
“কেনো?
অবাক হয়ে জানতে চাইলো শাহরান।নিনাদ ফট করে বলে উঠলো –
“যেই দেখেছে তুই প্রতিষ্ঠিত অমনি হামলে পড়েছে।রুদ্ররাজ তখন কত বড় বড় বয়ান ঝেড়েছিলো মনে আছে?
শাহরান হাসলো।অদ্ভুত সুন্দর হাসি।এরপর বলে উঠলো –
“ঠিকই তো বলেছে।সুন্দরী মেয়ে।প্রভাব প্রতিপত্তি, নাম ডাকের ও কমতি নেই উক্ত ভদ্রলোকের।চাইলেই আমার চাইতে ভালো কাউকে ধরে আনতে পারবে মেয়ের জন্য।”
নিনাদ শাহরানের মুখ হাতের আজলায় ভরে বলে উঠলো –
“বন্ধু সোনামনি ভাই আমার।জাহান্নামের চুলোয় যাক সব কিছু।তুই ওই মেয়ের ফাঁদে আর পা দিবি না ব্যাস।”
শাহরান মাথা ঝাকিয়ে বললো –
“আচ্ছা বাবা দেবো না।এবার তুই খুশি?”
নিনাদ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো।বুড়ো আঙুল দেখালো শাহরান কে।বুঝালো সে খুব খুশি।অতঃপর বললো –
“যা বলতে এসেছিলাম এমন কুত্তার মতো দৌড়ে।”
“কি ?বল!”
“ইলিয়ানা বিয়ের জন্য রাজি হয়েছে।আগামী মাসে বিয়ের ডেট দিতে বলছে।তুই আঙ্কেল কে দিয়ে একটু বাবাকে বলে বিয়ের ডেট টা ফিক্সড কর।বুঝতেই পারছিস নিজের বিয়ে।গুরুজনদের সাথে এসব নিয়ে কথা বলতে লজ্জা লাগে।আমার আর তর সইছে না বুঝলি?মনে হচ্ছে বিয়েটা আজই করতে পারলে ভালো হতো।দীর্ঘ বছরের অপেক্ষা।বুঝিসই তো!”
শাহরান নিনাদের কাঁধে চাপড় মেরে বলে উঠলো –
“তবে করে ফেল।আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”
নিনাদ উত্ফুল্ল হয়ে বললো-
“আংকেল কে একটু ম্যানেজ করে দেখ কিছু করা যায় কি না।”
বলেই বিদায় নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।আজ তার অনেক কাজ।এখানে আর সময় অপচয় করা যাবে না।
নিনাদ যেতেই ঘড়িতে সময় বুলালো শাহরান।আজ অফ ডে।বিশেষ কিছু কাজ নেই ।শপিং আছে টুকটাক।সেটাই করবে একটু পর বেরিয়ে।
তাই বিছানায় মিনিট বিশেক রেস্ট নিয়ে শাওয়ারে ঢুকলো।লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে শরীর মোছার টাওয়েল এর তাকে নজর দিতেই চোখ চড়ক গাছ হলো।ভেতরে কোনো টাওয়েল নেই।হয়তো লন্ড্রি তে দেয়া হয়েছে।তাকে যেটা ছিলো সেটা কোমরে জড়িয়ে গোসল করে ফেলেছে সে।এবার উপায়?
অনাকাঙ্খিত বিরক্তিতে মেজাজ তপ্ত হলো শাহরানের।সে ওয়াশ রুমের দরজা অল্প ফাঁকা করে ডাকলো-
“মা ভেতরে টাওয়েল নেই।”
কেউ সাড়া দিলো না।শাহরান আবার গলা উঁচিয়ে ডেকে অপেক্ষা করতে লাগলো।এমন সময় অল্প ফাঁকা দিয়ে কেউ টাওয়েল বাড়িয়ে দিলো।শাহরান হাত বাড়িয়ে টাওয়েল নিতেই খপ করে কব্জি চেপে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেলো রোদ।
এরপর শাহরান কে চেপে ধরলো দরজার সাথে।বেচারা বেকায়দায় ফেঁসে ভেজা বিড়ালের মতো পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো শুধু।এরপর দাঁত চিবিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো –
“এসব কি ধরনের অসভ্যতা?বের হও শিগ্গির।কেউ দেখলে তোমাকেই খারাপ ভাববে।”
রোদ শাহরানের বুকে আঁকিবুকি করে বলে উঠলো –
“ভাবলে ভাবুক।কি আসে যায়?আপনাকে ভালোবেসে একটু নাহয় মন্দই হলাম।”
“কেনো এসেছো এখানে?”
“বলে ছিলাম না বাড়ি গিয়ে লজ্জা হরণ করবো।সাহস থাকলে চিৎকার করে সবাইকে ডাকুন।”
ফাঁকা ঢোক গিললো শাহরান।তার শীতল শরীরে মেয়েটার উষ্ণতা ছুঁইছুঁই করছে।সেই অল্প স্পর্শে শরীরে বিদ্যুৎ খেলছে।কখন ধৈর্যের লাগাম ছুটে যায় বলা মুশকিল।মেয়েটা বারুদ রূপে আগুনের সংস্পর্শে এসে থমকেছে।এবার বাঁচার উপায় কি?
কপালে লেপে থাকা শাহরানের ভেজা চুল আঙুলের ডগা দিয়ে সরিয়ে দিল রোদ।চোখ বুজে মাথা সরিয়ে নিলো শাহরান।শাহরানের বলিষ্ঠ শরীর গড়িয়ে বিন্দু বিন্দু জল কণা গড়িয়ে যাচ্ছে।তাতে নেশা ধরলো রোদের।নিষিদ্ধ বাসনা মনে উকি দিতে চাইছে।তবে ওপাশের মানবের কি হাল?
রোদ আগাগোড়া পরখ করলো সামনে ফেঁসে যাওয়া সুদর্শন মানবের।চোখ ধাঁধিয়ে গেলো অপার্থিব সৌন্দর্যে।এই সৌন্দর্য আগে কেনো ধরা দেয়নি তার চোখে?তবে কি আর এতো এত অপেক্ষা করতে হত সামান্য স্পর্শের জন্য?
রোদ জিহ্বার অগ্রভাগে শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট ভেজালো।সেই দৃশ্যে শাহরান ফাঁকা ঢোক গিলে বলে উঠলো –
“নেহাত ভদ্রলোক বলে চুপ রয়েছি।যাও বাইরে যাও।তুমি লিমিট ক্রস করছো স্টুপিড।”
রোদ দুস্টু হেসে বলে উঠলো –
চেকমেট ২ পর্ব ২৭
“একটু অভদ্র হয়ে দেখান দেখি।”
শাহরান ফস করে শ্বাস ছাড়লো।এরপর ঝটকায় মুচড়ে ধরলো রোডের সরু হাত।অবলীলায় কলমি লতার ন্যায় লতানো কোমর ছুঁইয়ে দিলো পৌরুষালী হাতে।শিউরে উঠলো রোদ।গোলাপি আভায় ছেয়ে গেলো মুখ মন্ডল।তাৎক্ষণিক রোদকে ছেড়ে দিলো শাহরান।এরপর রোদকে ওয়াশরুমে রেখেই বাইরে বেরিয়ে পোশাক পাল্টে নিলো।রোদ ঠাঁয় দাঁড়িয়েই রইলো।কোন মোহনীয় ঘোরে স্টব্ধ হলো টেরই পেলো না।শুধু মন মস্তিষ্ক আন্দোলন করে জানান দিলো-
“তাকে না পেলে আত্মিক দৈহিক দুই ভাবেই মরন হবে।কঠিন মরণ।”
