আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৮ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি
রুফটপে সব কিছুর আয়োজন চলছে। তবে পার্টির নয়, পিকনিকের আয়োজন চলছে। কথাটা দীধিতি আসার পর জানতে পারল। রান্নাবান্নার জন্য প্রায় সকল কিছুর বন্দোবস্ত করা শেষ। তন্বী আর ঐশী আগেই চলে এসেছিল বলে শিহাব, রুমানদের সঙ্গে হাত লাগিয়ে সব কাজই সম্পন্ন করে ফেলেছে প্রায়। বাদ বাকি যা আছে তা এখন দীধিতি, তামান্না, তাওসিফ আর নাওফিল করবে। ইয়াসিফও থাকছে এই পিকনিকে। কিন্তু সে আসবে আরও একটু দেরিতে। তবে ওর একটি দায়িত্ব রয়েছে। আজ বিশেষ একজন অতিথি আসতে চলেছে নাওফিলের। তাকে নিয়েই ইয়াসিফকে আসতে হবে এখানে। আবার দায়িত্ব সহকারে রাত দশটার মাঝে ফিরিয়েও দিয়ে আসতে হবে তাকে। এই বিশেষ অতিথির কথা দীধিতিরা কেউ-ই এখনও জানে না।
বাকি কাজের মধ্যে আছে, সকলের গলা ভেজানোর জন্য বিশেষ কোনো পানীয় বা শরবতের ব্যবস্থা করে রাখা, সালাদ তৈরি করা আর সকলের খাওয়ার প্লেট, গ্লাসও নিয়ে আসা বাকি। রাতুল নাওফিলদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘তোরা চারজন একেক জোড়া হয়ে এখন তিনটি কাজ ভাগ করে নে। মেয়ে দু’টোকে এক দলে না ফেলে একজন ছেলে, একজন মেয়ে হ। তাহলে কাজ জলদি খতম হবে।’
-‘আমি আর দীধিতি এক সঙ্গে জোড়া বেঁধে কাজ করলে দেরি হবে কেন?’ তামান্না প্রশ্ন রাখল।
রাতুলকে এড়িয়ে যাবার পর আজ প্রথম কথা বলল ওর সঙ্গে তামান্না। তুষারের দিকে আড়চোখে রাতুল তাকালে তুষার জবাবটা দিলো, ‘সইয়ে সইয়ে কাজ করার চেয়ে গল্প বেশি হয় তাই। আপনি তাওসিফ ভাইয়ের সাথে কাজে লেগে পড়েন, বেয়ান। আর ভাবিজানকে তাওসিফ ভাইয়ের সাথে পাঠানো যাবে না। পাছে তারা কাজ করার বাহানায় সামথিং সামথিং শুরু করলে কাজ আর ফুরাবে না তাহলে।’
-‘আরে নাহ, ওরকম কিছু না। ওদের কথায় কান দিয়ো না তো তামান্না। আসো আমরা প্লেট, গ্লাসগুলো নিয়ে আসি।’
বলেই তাওসিফ দ্রুত ছাদ থেকে নেমে গেল। সে সহজ কাজটি বেছে নেওয়ার জন্যই বেশি দেরি করল না। অগত্যা তামান্নাও নেমে গেল ওর পিছুপিছু।
মিটিমিটি হাসি খেলা করছে তখন নাওফিলের বন্ধুদের মাঝে। সেসব দেখেও দীধিতি বিশেষ কিছু আর মনে করল না। ওকে যে আজকে থেকে ভবিষ্যতে আরও নানারকম টিটকারির শিকার হতে হবে এই দলটির কাছে, তা তো ওর জানায়। কিন্তু যেটা ও প্রকাশ করতে পারছে না তা হলো, নাওফিলের প্রতি নিজের না বোঝা আর না হতে দেওয়া প্রেম প্রেম প্রখর অনুভূতিটা শেষ পর্যন্ত ভালোবাসাতেই রূপ নিয়েছে আর আজই তা খুব বেশি উপলব্ধি করছে সে। সেই দীর্ঘ চার বছর ধরে কত সংযম করে গেল নিজের মনের সাথে! তবুও কি শেষ রক্ষা হলো? ফেঁসেই তো গেল নাওফিলের মোহে, আবেগে আর ভালোবাসাতেও। এতগুলো বছর বারবার মনকে শাসন করে বিশ্বাস করিয়েছে, স্রেফ ভালো লাগা ছাড়া ভালোবাসা বাসি নাওফিলের জন্য ওসব কিছুই নেই ওর মনে। যতটুকু যা করেছে এই ছেলেটির সামনে, সবটাই সুনিপুণ অভিনয়। বরঞ্চ নাওফিলকেই নিজের প্রতি আকর্ষিত করায় ছিল ওর প্রথম লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। সেখানে সফলও হয়েছিল। ভেবেছিল খুব সহজেই নিজের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে এবার। নাওফিল ওর প্রেমে বা মোহে ডুবে গেলে নিজের পরিচয় আর বাবার হত্যাকারীকেও পাওয়া হয়ে যাবে চট করেই। কিন্তু কে জানত এই ছেলেকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ভয় পালাবে সে? আবার এই অস্বাভাবিক মানসিকতার মানুষটিকেই শেষমেশ ভালোওবেসে ফেলবে?
আসলে পরিকল্পনা করে কোনো কিছুই পরিপূর্ণ পাওয়া সম্ভব নয়। উপরওয়ালা যা ভেবে রাখবেন, তিনি যা পরিকল্পনা করে রাখবেন সেটাই তো ঘটবে। তাঁর উপরে ভাবার ক্ষমতা তাঁর সৃষ্টির সামান্য মানুষের পক্ষে কি সম্ভব?
এসব ভাবনায় নিমজ্জিত দীধিতিকে দূর থেকে দেখতে থাকল তন্বী। এখানে আসার পর থেকেই সে দীধিতির চালচলন, চাহনি, সবটাই লক্ষ করে যাচ্ছে। নাওফিলের প্রতি দীধিতির যে দুর্বলতা বুঝতে পেরেছিল সে, তা কখনই সামান্য ছিল না। শুধু দীধিতি বিভ্রান্ত ছিল নিজের অনুভূতিকে নিয়ে। কিন্তু তন্বী নিশ্চিত ছিল, এই নাজুক মনের মেয়েটা মাত্র কয়েকটা মাস নয় বরঞ্চ সে চার বছর ধরেই নাওফিলের মাঝে ডুবে আছে। আর তা কখনই শুধু ভালো লাগা থেকে নয়। শতভাগ ভালোবাসা ছিল বলেই গভীর রাতেও ঘুম ভেঙে তাকে ফোনের স্ক্রিনে নাওফিলের ছবি দেখতে দেখা যেত, পড়তে পড়তে অন্যমনস্ক হয়ে পড়তে দেখা যেত। সেই মেয়েটাই সেদিনের দুর্ঘটনাটার জন্য নিমিষেই তাওসিফকে বিয়ে করে নিতে পারল কী করে? ওই পরিস্থিতিতে বিয়ের কথা ভাবা কি আদৌ স্বাভাবিক? তাছাড়া ওর তো ট্রমার মধ্যে থাকার কথা। এত জলদি কীভাবে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিতে পারল? কই চেহারাতে তো একটুও প্রকাশ পাচ্ছে না সেদিনের দুর্ঘটনার রেশ? সম্ভ্রম যে কোনো মেয়ের কাছে কঠিন মূল্যবান সম্পদ। আর দীধিতির মতো কোমল মনের মেয়ের কাছে প্রাণের চেয়েও বেশি। সেই সম্ভ্রম হারিয়ে ফেলার পর যদি শুনত দীধিতি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে, সেটা শুনতে সত্যি খুব স্বাভাবিক লাগত তন্বীর কাছে। যদিও এটা মোটেই চায় না তন্বী৷ ও কেবল যে দীধিতিকে চিনত সেই দীধিতিকে আজ ও খুঁজে পাচ্ছে না। কিছু একটা গোলমেলে লাগছে। তামান্নার কাছে শুনতে হবে সবটা সময় করে।
তামান্না আর তাওসিফের কাজ শেষ মিনিট পনেরোর মধ্যেই। রান্না শুরু হয়ে গেছে। তন্বীই রাঁধতে বসে গেছে ছেলেদের সরিয়ে। কেননা, এতগুলো মানুষের মধ্যে রান্নার হাত বেশি প্রশংসনীয় তারই। ঐশী এটা ওটা এগিয়ে যুগিয়ে সাহায্য করছে ওর। পাশে দাঁড়িয়ে বাকি ছেলেরা একটু আধটু ফরমায়েশ দিচ্ছে, এটা এভাবে দাও, ওভাবে দিলে স্বাদ বেশি হবে, লবণ বেশি হলো যে, ঝাল বাড়িয়ে দিয়ো কিন্তু, নানানরকম উপদেশ তাদের। তন্বী কিছু না বললেও ঐশী এক ধমকে চুপ করিয়ে দিলো সবাইকে৷ তামান্না ওদের কাছে আসতেই রাতুল আচমকা বুকের মধ্যখানে হাত চেপে কাতরে উঠল, ‘ব্যথাআআ! দিলে ব্যথা আমার, ভাই!’ বলেই তুষারের গায়ে হেলে পড়ল।
তুষার ওকে জড়িয়ে বাহুতে চাপড়ে দিতে দিতে সান্ত্বনা দিলো, ‘সয়ে যা ভাই, এ ব্যথা সয়েই বেঁচে থাকতে হয় তুষারদের, রাতুলদের।’
সবুজ ফোন চাপতে চাপতে হাসে। রুমান এখনও জানে না এদের মাঝে কী চলছে! সে হাবাগোবা মুখখানি করে দেখতে থাকে ওদের কার্যকলাপ। আর তামান্না ওদের দুজনের নাটক দেখতে দেখতে একটা গাজর হাতে তুলে নিয়ে সবুজের কাছে এগিয়ে এসে শুধায়, ‘আপনি না কি খুব গাজর পছন্দ করেন, সবুজ ভাই?’
হকচকিয়ে সবুজ ফোনের স্ক্রিন থেকে মাথা তুলে ওর দিকে চায়, সহসা জবাব দিতে পারে না। তাই তামান্না কথা বাড়ানোর সুযোগ পেয়ে যায়, ‘গাজরের হালুয়া কি আপনার পছন্দ?’
-‘পছন্দ।’ ছোটো করে জবাবটা দিয়ে কোনা চোখে রাতুল আর তুষারকে দেখে নেয়।
কপালে পড়ে থাকা চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে বলে তামান্না তখন বলে, ‘তাহলে আপনার অসিলায় আজকে হালুয়া খাওয়া হবে আমার। আসলে একা খাওয়ার জন্য তো আর রান্না করা যায় না।’
-‘বলছিলাম যে আমার লাউ দিয়ে করা পায়েসটা খুব পছন্দ।’ তুষার জোর কণ্ঠে পাশ থেকে বলে ওঠে।
রুমানও সায় দেয়, ‘আমারও। অনেক দিন খাই না। এই ঐশী, আজ কি করে খাওয়াবে?’
ঐশী এখনও কথা বলে না রুমানের সাথে। তাই তন্বী জবাব দিলো, ‘সময় লাগবে প্রচুর, ভাইয়া। এইটুকু রাতের মধ্যে হবে না এত কিছু।’
গাজরের ঝুড়িটা নিয়ে তামান্না বসে গেল কাটতে। কাটার ফাঁকে সবুজের দিকে মুচকি হেসে তাকাতেই সবুজও হাসে। আর রাতুল তা দেখে হঠাৎ ফোনে য়্যুটিউবে ঢুকে কাঙ্ক্ষিত গানটা খুঁজে প্লে করে দেয় গানের শেষ দিকে টেনে নিয়ে। ছাদের আনন্দ, দুঃখের সম্মিলিত পরিবেশটা হঠাৎ থমকে যায় গানের কথায়,
চলে গেছো তাতে কী
নতুন একটা পেয়েছি
তোমার চেয়ে অনেক সুন্দরী।
লোকে আমারে শুধায়
ভালোবাসা কারে কয়, বলো না…
এখানেই থামল না রাতুল। প্লেলিস্টেই পেয়ে গেল পছন্দসই আরেকটি গান,
ও মাইয়া ও মাইয়া রে তুই অপরাধী রে
আমার যত্নে গড়া ভালোবাসা দে ফিরায়া দে…
গাজর কাটা বন্ধ করে তামান্না বেকু্বের মতো রাতুলের দিকে চায় একবার, আরেকবার তুষারের দিকে। তুষার তখন ঠোঁট চেপে হাসছে ওর দিকে চেয়েই। অপরাধী গানটা চলা কালীনই হঠাৎ লাথি কষে দেয় রুমান রাতুলের উরুতে, ‘এই শালা! গান খুঁজে পাস না? আউল ফাউল গান বাজিয়ে পিকনিকের ** মারছিস!’
ছাদের কর্নারে ইয়টের হাওয়াই লাউঞ্জ সোফা পেতে রাখা হয়েছে। তাওসিফ সেখানে বসেই হাসতে হাসতে ফোনে ক্রিকেট খেলা দেখছে আর নাওফিলের বন্ধুদের তামাশাও। নাওফিলও ওর পাশেই বসা৷ কথা বলছিল সে কলে ইয়াসিফের সঙ্গে। রাতুলের চালানো অমন উদ্ভট গানগুলো শুনতে পেয়ে সেও ভ্রু, কপাল কুঁচকে তাকিয়ে থাকে রাতুলের দিকে। সুযোগ বুঝে একটা ধমকও দেবে , তা ভাবতে ভাবতেই রুমান তার কাজটা করে দেয়৷
দীধিতি ছাদের মাঝখানটাই রেলিংয়ের সাথে হেলে দাঁড়িয়ে আছে একা একাই৷ ওর মুখের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝে যাবে, প্রচণ্ড লজ্জা আর আড়ষ্টতা ঘিরে ধরেছে তাকে। কারণ, তার ধারণা রাতুল তাকে লজ্জা দিতেই গানগুলো শুনিয়ে যাচ্ছে। তার দুঃখজনক অবস্থাচা খেয়াল করল নাওফিল, ব্যাপারটা বুঝে মজাও লাগল ওর। হঠাৎ চোরা চোখে দীধিতি ওর দিকে তাকায় আর তাতে নিমিষে ধরাও পড়ে যায়। নাওফিলের চোখ চোখ পড়তেই সে তড়িঘড়ি করে তন্বীদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘আমি কিচেনে যাচ্ছি সালাদ আর শরবত করতে। সব তো ওখানেই আছে, না?’
নাওফিল এবার সোফা ছেড়ে উঠে এলো, ‘চলেন ভাবি, আমি এগিয়ে দিচ্ছি সব।’
ওর দিকে এক পলক তাকাল দীধিতি তখন। খেয়াল করল ওর ঠোঁটে চাপা দুষ্টু হাসি। অসহ্য রকম মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে দীধিতির। আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। নেমে যাবার মুহূর্তেই বেজে উঠল তৃতীয় ডিজে একটি গান,
তোর কুন কুন জায়গায় ব্যথা লো বান্ধবী ললিতা…
পা জোড়া থেমে পড়ল তখনই। রাগে, বিস্ময়ে গোল গোল চোখদু’টো বড়ো বড়ো হয়ে এলো দীধিতির।
নাওফিলও ওর পেছনেই ছিল।
রাতুলের হাত থেকে ওর ফোনটা কেড়ে নেবার সময় রুমানের কাছ থেকে বেখেয়ালে স্ক্রিনে টাচ পড়ে গানটা চালু হয়ে যায়। মেয়েগুলো লজ্জায় পড়লেও ওরা মুখে হাত দিয়ে হাসছে। তাওসিফ গম্ভীর মানুষ হয়ে থাকার চেষ্টা করলেও সে ছেলেটা আদতে গম্ভীর ধাচের না। তাই তো হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে সে সোফাতে। রাতুল, সবুজ, তুষার রীতিমতো লাফিয়ে লাফিয়ে নাচতে আরম্ভ করে দিয়েছে। গানটা অসাবধানবশত চালু হয়ে গেলেও রুমানও তা বন্ধ না করে বন্ধুদের সাথে নাচতে শুরু করলেই ঐশী তখন রান্নার কাছ থেকে উঠে এসে ওর পিঠে থাপ্পর বসিয়ে দেয়।
দীধিতি ফিরে দেখল না এসব কিছুই। হনহন করে সে চলে এলো এলিভেটরে। নাওফিল ওর পাশে এসে দাঁড়াতেই শুনতে পেল ওর বন্ধুদের উদ্দেশ্যে দান করা দীধিতির ভদ্রসুলভ গালি, ‘বজ্জাত, লুচ্চা সবগুলো অশ্লীলতার জায়গা পায় না।’
-‘আপনি শ্লীলতা শিখিয়ে দেবেন, ভাবি?
-‘শিখবেন? আচ্ছা শেখাব। কবে, কোথায় শিখবেন বলেন?’
-‘কেন আজই, এখনই, আমার ঘরের রান্নাঘরে।’
-‘চলেন, শেখাই।’ ঘাড় নাড়িয়ে সম্মতি জানাল দীধিতি।
নাওফিল হেসে সেও ঘাড় নাড়াল। ওরা অ্যাপার্টমেন্টে এসে পৌঁছতেই নাওফিল জিজ্ঞেস করল, ‘দেবরের সঙ্গে কিচেন শেয়ার করতে আপত্তি নেই তো, ভাবি?’
দীধিতি থমথমে মুখ করে বলল, ‘অসভ্যতা করছেন খুব বেশি, নাওফিল।’ বলেই রান্নাঘরের দিকে এগোলো।
পিছু পিছু নাওফিল আসতে আসতে বলল, ‘আমি কিচেন শেয়ারের কথা বলেছি, ভাবি। আপনি কি বায় চান্স বেড শেয়ার শুনেছেন?’
রান্নাঘরে এসেই একদত হাতের কাছে ফল, সবজি কাটার ছুরিটা পেয়ে গেল দীধিতি। নাওফিল এসে পাশে দাঁড়াতেই ওর গলার কাছে ছুরিটা চেপে ধরে বসল সে। কপট ভীতিবোধ দেখিয়ে নাওফিল আতঙ্কিত চেহারায় দু’হাত উঁচু করে ফেলর সমপর্ণের ভঙ্গিতে, ‘আমার অপরাধ কী, মাননীয় স্পিকার? ওহ স্যরি, সম্মাননীয় ভাবি?’
গলা থেকে নামিয়ে ছুরিটা বুকের মাঝে এনে থামাল দীধিতি, বুকের দিকে ইশারা করে বলল, ‘বুক খুলে ঘুরে বেড়ানো আমার চোখে অশ্লীলতা৷ বোতামগুলো লাগান।’
চোখ পিটপিট করে নাওফিল ভীত চেহারা ধরেই বলল, ‘আমার হাত কাঁপছে, পা কাঁপছে, দেহ কাঁপছে, বুক কাঁপছে আপনার হাতে ছুরি দেখে। আই ওয়ান্ট টু পি।’
এমন নাটকীয়তাই দীধিতির হাসি এলেও সে চেপে গেল।শক্ত কণ্ঠেই বলল, ‘উহুঁ, পারমিশন নেই। আগে বোতামগুলো লাগান।’
-‘আপনি লাগিয়ে দিন। তাহলে আর জীবনেও বুক দেখাব না আপনাকে।’
-‘আমাকে?’ কপট রেগে উঠল দীধিতি।
-‘ওই তো… মানে কাউকেই।
-‘আমি আপনার হবু ভাবি। দেবরের এসব কাজও ভাবিদের করা অশ্লীলতা।’
-‘তাহলে দেবরের সামনে পর্দা না করে চলাও ভাবিদের অশ্লীলতা, যদি দেবরকে ভাবি সিডিউসড করার মানসিকতা রাখে তো। তবে মানসিকতাকে অনেস্ট রাখতে পারলে সমস্যা নেই এখন। আপনি স্বামীর ছোটো ভাইকে স্নেহ করে তার অগোছাল বোতামগুলো লাগিয়ে দিতে পারেন। আমি একটুও ভিন্ন কিছু উপলব্ধি করব না। আপনিও ভিন্ন কিছু ফিল করবেন না।’
চোখ রাঙিয়ে কতক্ষণ নাওফিলের চোখে চেয়ে থেকে ছুরিটা নামিয়ে নিয়ে ফ্রিজের কাছে চলে গেল দীধিতি। নাওফিলও হাঁপ ছেড়ে হাত দুটো নামিয়ে বোতামগুলো লাগিয়ে নিতে নিতে দীধিতির কাছে এসে দাঁড়াল৷ ফ্রিজে দই আর বেল দেখে বলল দীধিতি, ‘কীসের শরবত করবেন? পুদিনা আর লেবুর না কি দই আর বেলের?’
-‘যেটা খেলে সবাই সুনাম করবে বেশি।’
বেলগুলো এগিয়ে দিলো নাওফিলের কাছে। সেগুলো ভাঙতে ভাঙতে নাওফিল বলল, ‘আপনার উচিত এখন ভাইয়ের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করা, দুজন দুজনের সম্পর্কে জানা। আর অভ্যাস করুন নিয়মিত বোরখা হিজাব পরার। পর্দা করাও শিখতে হবে।’
কথা বলতে বলতে বেলগুলো ভাঙার শেষ ওর। দুজন মিলে বেলের ভেতর থেকে ক্বাথ কুড়িয়ে নিয়ে বড়ো গামলাতে রাখতে রাখতে দীধিতি বলল, ‘লোক দেখানো ধর্ম ভক্তি বেশি পছন্দ করেন? না কি মন থেকে ভক্তি করা?’
-‘অবশ্যই মন থেকে ভক্তি করা। আপনি মাঝেমধ্যে বোরখা পরতেন কি তাহলে লোক দেখানোর জন্য?’
-‘এ বিষয়ে কথা বাড়াতে চাইছি না।’
-‘কিন্তু এ ব্যাপার আমাদের পারিবারিক নিয়মনীতিরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
-‘আপনাদের পরিবারের সকলে কতটুকু ধর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান?’
তিরস্কার করল দীধিতি তা ঠিক বুঝতে পারল নাওফিল।জবাবে হেসে বলল, ‘সত্যিই খুব বুদ্ধিমতী আপনি। মাত্র এক দিনেই সব বুঝে গেলেন?’
-‘নাহ, সব বোঝা হয়নি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়িই সব বুঝে যাব, জেনে যাব।’
-‘নিশ্চয়ই। তার জন্য আমি নাওফিল যোগ্য দেবর হয়ে সর্বদা আপনার পাশে থাকব, ভাবি। সব কিছু জানানোর দায়িত্বও নেব।’
শেষ কথাটায় একবার নাওফিলের দিকে তাকাল দীধিতি। নাওফিল তখনও মুচকি হাসছে দেখে বেলের ক্বাথ কুড়ানোয় মনোযোগ দিলো। কিছুক্ষণ যেতেই কানের কাছে গরম নিঃশ্বাসের অনুভব করল। হাত কেঁপে উঠতেই শুনতে পেল ফিসফিস আওয়াজ, ‘আর সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বটাও।’
চকিতেই ঘাড় ফিরিয়ে তাকার দীধিতি, ‘সুরক্ষিত কেন?’
নাওফিল কাজে হাত লাগিয়ে জবাব দিলো, ‘শেখ ভিলার প্রতিটি ইট নৃশংসতার গল্প জানে। সেখানে প্রবেশ করছ তুমি সকলের অপছন্দের পাত্রী হয়ে।’
-‘তুমি ভয় দেখাচ্ছ আমায়, নাওফিল।’ গমগমে গলায় বলল দীধিতি।
হাসি পেল নাওফিলের, ‘তার আগে বলো তুমি হঠাৎ হঠাৎ আপনি আর তুমি সম্বোধনে গুলিয়ে ফেলো কেন আমার সামনে?’
দীধিতি নিজেও তা এই মাত্র লক্ষ করল৷ মূলত নাওফিলকে তুমি বলেই সম্বোধন করতে মন চায় ওর। কিন্তু কেন যেন খুব জড়তা কাজ করে বলেই জোরপূর্বক আপনি বলা। উত্তেজিত হয়ে পড়লেই এই জড়তাটা ভুলে যায় সে।
-‘জানি না৷ স্যরি ফর দ্যাট।’
-‘আমি আপত্তি করব না। বরং গুড ফিল করব তুমি বললেই।’
এরপর অনেকক্ষণ কথা বলল না দীধিতি। কিন্তু নাওফিল চাইছিল ওদের মাঝে কথা চলুক আজ রাতভর। কথার মেলা বসানোর জন্যই তো আজকের আয়োজন।
ক্বাথগুলো গামলায় পানিতে ডুবিয়ে রাখা হযেছে। অন্তত আধা ঘণ্টা ডুবানো থাকবে এভাবেই। ততক্ষণে সালাদ তৈরি করা শুরু করল দীধিতি৷ গাজরগুলো ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তামান্নাকে আলাদা করে সালাদের জন্য কেটে রাখতে বলল নাওফিল কল করে।
রান্নাঘরে আপাতত নাওফিলের আর কাজ নেই৷ দীধিতি ওকে বলল ছাদে চলে যেতে। ঠিক তখনই সারা ঘরের বাতি নিভে গেল। একটু চমকে গেল দীধিতি এক মুহূর্তের জন্য, ‘নাওফিল? তুমি কি আছ পাশে?’
-‘চাইলে সব সময়ই থাকব, দীধি।’
কোমলতার কথাখানিতে প্রচ্ছন্ন আকুল আবদার উপলব্ধি করল দীধিতি। ফোনের আলো জ্বলে উঠল দুজনের মাঝে। নাওফিল অপেক্ষায় ছিল জবাবের। কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও জবাব না পেয়ে দীর্ঘশ্বাস পড়ল ওর৷ যা বিষণ্নতার কিংবা হতাশার৷ দীধিতি টের পেলেও। তবুও আশাহত করল সে নাওফিলকে। বুকের মধ্যে হাতটা চেপে ধরে মাথা নুইয়ে চোখ বুজে রইল। কান্না ঠেলে আসছে যেন গলা বেঁয়ে।
ওকে এমন করে দেখে নাওফিল কাছে এসে দাঁড়াল৷ একটু দ্বিধাদ্বন্দ, একটু জড়তা-সংকোচে ভুগে পরবর্তীতে সাহস নিয়ে ক্যাবিনেটের ওপর রাখা দীধিতির হাতটার ওপর হাত রাখল নিজের। তখনই হাতটা সরিয়ে নিহে চাইল দীধিতি৷ নাওফিল হতে দিলো না। ওর হাতের আঙুলের ফাঁকে আঙুল গুজে খুব শক্ত করে ধরে অনুযোগ করল, ‘বুকের ওখানটাই তোমার কষ্ট হলো না দীধি? আমাকে নিয়ে হওয়া অনুভূতিকে ওখানে কবর দিতে একটুও কষ্ট হলো না তোমার? পারছ কেমন করে আমার ভাইকে স্বামী করতে? আমার পাশে অন্য কাউকে দেখতে সুখ লাগবে তো তোমার?’
-‘তোমার জন্য আমার কোনো অনুভূতিই নেই।’ কড়া স্বরেই কথাটা জানাল দীধিতি।
-‘আই ওয়ান্ট টু নো ওয়ান লাস্ট টাইম। ডোন্ট য়্যু লাভ মি? ভেবেচিন্তে জবাবটা রেখো কিন্তু৷ এই উত্তরের ভিত্তিতেই তোমার আগামী দিনের পরিস্থিতি নির্ভর করবে।’
-‘দেয়ার ইজ নাথিং টু থিঙ্ক অ্যাবাউট৷ তুমি আমার প্রথম উত্তরটাই গ্রহণ করতে পারো।’
নিমিষেই ওর হাতটা ছেড়ে দিলো নাওফিল৷ বুকের মধ্যে যেন তার আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে নিভছে… রাগে মাথা ফেটে যেতে চাইছে। অবুঝকে বোঝানো যায়, না বুঝে ভুল করলে মাফ করা যায়, সুযোগ দেওয়া যায়। কিন্তু বুঝশক্তি, জ্ঞানশক্তি যার তীব্র, তাকে কি বোঝানো যায়? না কি জেনেবুঝে ভুল করলে তাকে ক্ষমা দান করা যায়? জবাবে একটা কথায় বলল নাওফিল পরিশেষে, ‘শুধু নামেই তাওসিফ শেখ হবে না তুমি, আর না উদ্দেশ্য শেষে শেখ তাওসিফ শেখকে ত্যাগ করতে পারবে। আমি নাওফিল তোমাকে এবং আমাকেও কথা দিচ্ছি, মৃত্যু অবধি তোমাকে শেখ পরিবারের বউ হয়ে থেকেই যেতে হবে। আর তা আমার ভাইয়ের বউ হয়েই।’
কলিংবেল বেজে উঠল হঠাৎ৷ আলোও জ্বলে উঠল সারা ঘরে৷ নাওফিল কথাগুলো শেষ করে আর দাঁড়িয়ে রইল না। কঠিনতা নিয়ে রান্নাঘর ত্যাগ করল। দমটা আটকে ছিল যেন এতক্ষণে দীধিতির৷ নাওফিল যেতেই মুখে হাত চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে।
কলিংবেল আবারও বেজে উঠতেই নাওফিল এসে দ্রুত দরজাটা খুলল।
-‘আসসালামু আলাইকুম।’
রান্নাঘর থেকেই দীধিতি শুনতে পেল খুব সুন্দর এক নারী কণ্ঠ থেকে সালাম। তারপরই শুনতে পেল নাওফিলের জবাব।
ইয়াসিফ এসে পড়েছে সেই বিশেষ মানুষটিকে নিয়ে। আপাদমস্তক পর্দায় আবৃত মেয়েটি। নাওফিল দ্রুত তাকে ঘরে নিয়ে এলো আর ইয়াসিফকে বলল, ‘কিচেন থেকে দীধিতিকে ডেকে নিয়ে আয় তো। আমি আতিথেয়তা করলে ও অস্বস্তিতে পড়বে।’
-‘তা তো পড়বেই।’
বলেই ইয়াসিফ রান্নাঘরে এলো। দীধিতিকে বলল, ‘ভাবিজান, একটু কষ্ট করে ড্রয়িংরুমে আসবেন?’
ইয়াসিফের সাথে এই প্রথম কথা৷ আজ বিকালে এই ছেলেটিকে দেখে দীধিতির এক পলকের জন্য মনে হয়েছিল সে জায়িন মাহতাবকে দেখছে সামনে৷ যার ছবি জাইমা তাকে দেখিয়েছিল সেদিনও।
-‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। কোনো প্রয়োজন?’
-‘প্রয়োজন খুব। নাওফিলের গেস্ট এসেছে। কিন্তু তাকে মেহমানদারি করার জন্য একজন মেয়েকে প্রয়োজন।’
-‘আচ্ছা আচ্ছা, ঠিক আছে চলুন।’
ইয়াসিফের সঙ্গে এসে দেখল কালো, সাদা বোরখা আর হিজাবে ঢাকা একটি মেয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে সোফায়৷ নাওফিলও তার বিপরীত পাশের সোফায় মাথা নুইয়ে কেমন গুটিয়ে বসে আছে। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না। যেন দুজন নব দম্পতি, দুজনেরই কাছাকাছি আসতে দারুণ লজ্জা। দীধিতিকে দেখেই সে উঠে এসে ভার গলায় বলল, ‘যেহেতু আপনি আমাদের পরিবারের সদস্যই হতে চলেছেন খুব তাড়াতাড়ি। তাই বড়ো ভাবির দায়িত্ব আজকে থেকেই না হয় পালন করতে শুরু করুন।’
-‘কী দায়িত্ব বলুন?’
-‘ওকে নিয়ে আমার ঘরে যান, ওর সঙ্গে কথা বলুন৷ আজকে ও এখানে আমার অতিথি হলেও পুরুষদের সামনে পর্দা সরাবে না৷ তাই ওকে সঙ্গ দিতে হবে আপনাকে আর আপনার বান্ধবীদেরও।’
-‘কিন্তু ওর পরিচয় কী? আপনার ফ্রেন্ড?’
কথাটা শুনেই ইয়াসিফ হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠল, ‘এ জীবনে ওর কোনো মেয়ে ফ্রেন্ড জোটেনি, ভাবিজান। বেচারা!’
ওর হাসির শব্দে মেয়েটা ওদের দিকে তাকালে নাওফিল ইশারায় দীধিতিকে ঘরে নিয়ে যেতে বলল। দীধিতি দেরি করল না আর। মেয়েটার কাছে এসে বলল, ‘চলুন আপু। আপনার সঙ্গে আলাপ করি ঘরে গিয়ে।’
মুচকি হাসল বোধ হয় মেয়েটা৷ চোখদুটো ছোটো ছোটো হয়ে গেল বলেই তা বোঝা গেল। দীধিতিকে অনুসরণ করে সে ঘরে আসতেই মেয়েটা শুধাল, ‘আপনিই তাহলে তাওসিফ ভাইয়ার হবু স্ত্রী?’
-‘হ্যাঁ। আপনি জানলেন কী করে?’ ওরা দুজন পাশাপাশি বসতে বসতেই জিজ্ঞেস করল দীধিতি।
-‘ইয়াসিফ ভাইয়া আসার পথে বলেছেন সব থেকে সুন্দর দেখতে মেয়েটা তাওসিফ ভাইয়ার বউ।’
স্রেফ সৌজন্য রক্ষার্থেই মৃদু হাসল দীধিতি। জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার পরিচয় তো জানা হলো না, আপু?’
মেয়েটা মুখের নিকাব তুলে লাজুক হেসে বলল, ‘আমি তাবাসসুম। সম্পর্কে আপনার জা হতে পারি ভবিষ্যতে।’
হাসিটা নিভল দীধিতির, বুকটা কেঁপে উঠলেও জিজ্ঞেস করল, ‘ইয়াসিফ ভাইয়ার?’
একবার ঘরের চারপাশটা দেখে নিয়ে তাবাসসুম লাজুক হেসেই বলল, ‘এই ঘরের মালিকের৷ আসলে নাওফিলের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল বাইরে একাকীভাবে। কিন্তু আমি এতে স্বাচ্ছন্দবোধ করব না বলে আপনাদের সবাইকে ডেকে পিকনিকের আয়োজন করা হলো। যাতে আপনাদের উপস্থিতিতে আনইজি ফিল না করি৷ নাওফিলের সঙ্গে আজকে প্রাথমিক কথাবার্তা বলার পর দুজনকেই সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বাড়িতে। আসলে আজকের এই আলাপ আরও ক’মাস আগেই হওয়ার কথা ছিল আমাদের। ওঁ হঠাৎ অস্ট্রেলিয়া চলে গেল বলে আমাদের ডিসিশন পেন্ডিং হয়ে আছে৷’
-‘ওহো, এত ভালো সুখবর! খুব ভালো লাগছে শুনে। আপনি তাহলে বসুন আপু৷ আমি এক্ষুনি হালকা নাশতা নিয়ে আসছি।’
-‘আরে না না, ব্যস্ত হবেন না প্লিজ। আপনি চলে গেলে আমি নার্ভাস ফিল করব৷’
দীধিতি তবুও উঠে পড়ল, ‘নার্ভাস হওয়ার কী আছে? আমি এখানে থাকলে কি নাওফিল কথা বলতে পারবে? তাকে সুযোগ দিতে হবে না কথা বলার? আপনি বসুন, একদম নার্ভাস হবেন না।’
তাবাসসুম অনুরোধ করল আরও কিছুক্ষণ বসতে। দীধিতি শুনলই না তার অনুরোধ৷ ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটে আসলো রান্নাঘরে। নাওফিল আর ইয়াসিফ তখন বসার ঘরে বসে কথা বলছিল। ওকে অমন তাড়াহুড়ো করে যেতে দেখে ইয়াসিফ সোফায় গা এলিয়ে নাওফিলকে দেখতে দেখতে গেয়ে উঠল,
ফেরাতে পারিনি আমি
পারিনি তোমার হতে
তুমি তো গিয়েছ চলে
দ্রুতলয়ে আলোর পথে…
-‘থাম তো! গরম আছে মাথা। হাত চালিয়ে বসব কিন্তু।’ এক ধমক দিয়ে বসল নাওফিল ইয়াসিফকে।
ইয়াসিফ আরও দ্বিগুণ প্রশ্রয়ে গাইল,
দিল আমার…
দিল আমার কিছু বোঝে না
দিল আমার
দিল আমার কিছু বোঝে না…
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৮
রেগেমেগে খ্যাপা ষাঁড়ের মতো নাওফিল তেড়ে আসতেই ইয়াসিফ ওর আক্রমণ সামলে নিয়ে ওকে জোর করে নিজের পাশে বসাল, স্নেহের সুরে বলল, ‘জেদ করে, মাথা গরম করে আজ কিন্তু সিদ্ধান্ত নিবি না, জাদ৷ বিয়ে নিয়ে স্মরণ খেলা করলেও তুই করবি না ভুলেও।’
