কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪৬
লামিয়া রহমান মেঘলা
সমুদ্র এক শান্ত বাতাসের তট। নিস্তব্ধতা যেন চারিপাশ জুড়ে এক অপার্থিব আবরণ বিছিয়ে রাখে। দূর দিগন্ত ছুঁয়ে থাকা নীল জলরাশি, অনবরত বয়ে চলা শীতল বাতাস, আর বালুকাবেলায় ঢেউয়ের ছন্দময় পদচারণা মিলিয়ে সৃষ্টি করে এক মোহময় সৌন্দর্য। সমুদ্রের বিরাট ঢেউ যখন দুলে দুলে তটরেখায় আছড়ে এসে পড়ে, তখন সেই দৃশ্যের সৌন্দর্য শব্দে প্রকাশ করা সত্যিই অসম্ভব হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এমন কিছু রূপ আছে, যা কেবল অনুভব করা যায়, ভাষায় সম্পূর্ণভাবে ধরে রাখা যায় না, সমুদ্র ঠিক তেমনই।
সমুদ্র মানে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য। কারও কাছে এটি শান্তির আশ্রয়, কারও কাছে হারিয়ে যাওয়া নিজেকে ফিরে পাওয়ার ঠিকানা। কেউ বারবার ফিরে আসে সমুদ্রের বুকে, তার অনন্ত গভীরতায় নিজের স্বপ্নগুলো ভাসিয়ে দিতে। আবার কেউ কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে, হৃদয়ের সমস্ত অস্থিরতা শান্ত করতে ফিরে যায় সেই নীল বিস্তারে। জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে, নিজেদের জন্য এক টুকরো নির্মল সুখ খুঁজে পাওয়ার নামই যেন সমুদ্রতট।
সমুদ্র কায়ান এবং সেরিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর মধ্যে একটি। এই নীল বিস্তারের বুক থেকেই তাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। সেই স্থানটি শুধু একটি জায়গা নয়, বরং তাদের স্মৃতি, অনুভূতি আর অগণিত অপ্রকাশিত আবেগের নীরব সাক্ষী।
সেরিনের বরাবরই সমুদ্রের প্রতি এক গভীর টান রয়েছে। সমুদ্রের নীল পানি, মাতাল করা বয়ে চলা বাতাস, পায়ের নিচে নরম বালুর স্পর্শ, সবকিছুই তার ভীষণ প্রিয়। প্রকৃতিপ্রেমী একজন মানুষ হিসেবে সেরিন সত্যিই সমুদ্রকে ভালোবাসে। প্রকৃতির মাঝে সে খুঁজে পায় প্রশান্তি, খুঁজে পায় নিজের আত্মার এক অদ্ভুত স্বস্তি। তাই তো সে বারবার বোনের সঙ্গে ছুটে এসেছে সমুদ্রের কাছে, সেই নীল জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে হৃদয়ভরে শ্বাস নিতে, আর নিজের ভেতরে জমে থাকা সব ক্লান্তি ঢেউয়ের সাথে ভাসিয়ে দিতে।
একটি পাঁচ তারকা হোটেলের বিলাসবহুল রুমে উঠেছে কায়ান এবং সেরিন। এটাই সেই রুম, যেখানে কায়ান সবসময় এসে থাকে। রুমটির সাথে রয়েছে একটি নিরিবিলি বিচ, যেখানে বসে অনায়াসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। চারপাশের শান্ত পরিবেশ যেন মুহূর্তেই মনকে প্রশান্ত করে তোলে।
দীর্ঘ জার্নির ক্লান্তি সেরিনের শরীরজুড়ে স্পষ্ট। রুমে এসে আয়নার সামনে বসে নিজেকে দেখছিল সে। শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় কালচে হয়ে আছে ক্ষতগুলোর দাগ। সেগুলোর দিকে তাকিয়ে তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসে।
কায়ান তখন কিছু কাজে ব্যস্ত ছিল। কিছুক্ষণ পর রুমে ঢুকে আয়নার সামনে বসে থাকা সেরিনকে দেখে এক নজরেই বুঝে ফেলে, সেরিন ঠিক কী ভাবছে।
কায়ান লাগেজ খুলে একটি ড্রেস বের করল। তারপর সেটি হাতে নিয়ে সেরিনের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, “যাও সাওয়ার নিয়ে এসো।”
কায়ানের কণ্ঠে সেরিনের ধ্যান ভাঙল। সে ফিরে তাকাল কায়ানের দিকে।
“ওকে।”
সেরিন ধীরে উঠে দাঁড়াল। কায়ানের হাত থেকে ড্রেসটি নিয়ে সাওয়ার নিতে চলে গেল।
সাওয়ার শেষ করে যখন সেরিন রুমে ফিরে এলো, তখন দেখল কায়ান সোফায় বসে আছে। সেরিন বেরিয়ে আসতেই কায়ান তাকে আলতো করে ধরে খাটে বসিয়ে দিল। সেরিন নীরবে তাকিয়ে রইল কায়ানের দিকে।
কায়ান পকেট থেকে একটি অয়েন্টমেন্ট বের করল। তারপর অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সেরিনের শরীরের প্রতিটি কালচে ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগিয়ে দিতে লাগল। তার স্পর্শে ছিল সংযত কোমলতা, আর চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতা।
সেরিন নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল কায়ানের দিকে।
সকল ক্ষতস্থানে অয়েন্টমেন্ট লাগানো শেষ হলে কায়ান উঠে দাঁড়াল।
“রেস্ট করো।”
সেরিন আর কিছু বলল না। নীরবে বিছানার এক কোণায় গিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিল। যেন ক্লান্ত শরীরের সঙ্গে সঙ্গে তার মনের ভারও সেই নীরবতার মাঝে আশ্রয় খুঁজে নিল।
সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশের দিকে ঢলে পড়ছে। কায়ান হোটেল রুমের বিশাল জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। দূরে সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি সোনালি আলোয় চিকচিক করছে। আকাশের রঙ ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, নীলের গায়ে লেগেছে কমলা আর সোনালি আভা।
সেরিন তখনও ঘুমিয়ে আছে। একবার ঘুমানোর পর আর জেগে ওঠেনি। কায়ানও তাকে ডিস্টার্ব করেনি। তার চোখেমুখে অন্যরকম এক চিন্তার ছাপ। মনে হচ্ছে বহু ভাবনা এসে ঘুরপাক খাচ্ছে তার ভেতরে।
কিছুক্ষণ পর সেরিনের ঘুম ভাঙল। ধীরে ধীরে চোখ খুলে উঠে বসতেই কায়ানকে বসে থাকতে দেখল। তারপর দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকাল।
বিকাল চারটা বাজে।
তার ফোনটা কায়ান নিয়ে নিয়েছে, অথচ এখনও ফেরত দেয়নি। সেরিন আর সেটা চাইবার সাহসও দেখায়নি।
সেরিন বিছানা ছেড়ে নিচে নামতেই কায়ান ফিরে তাকাল।
“উঠে গেছো?”
“হ্যাঁ।”
“চলো লাঞ্চ করে নেই।”
সেরিন মাথা নাড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর সেরিন একটি সাদা ড্রেস পরে বেরিয়ে এলো। সাদা পোশাকে তাকে অদ্ভুত নির্মল লাগছে। কায়ানও পরে নিয়েছে সিম্পল একটি সাদা টি শার্ট এবং ফর্মাল প্যান্ট। দুজনকে পাশাপাশি দেখতে যেন শান্ত অথচ গভীর এক ফ্রেমের মতো লাগছিল।
সেরিন এবং কায়ান রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
কায়ান তাকে কক্সবাজারের একটি সুন্দর রেস্টুরেন্টে নিয়ে এলো। জায়গাটি যেন সৌন্দর্যের এক আলাদা রাজ্য। চারপাশে সারি সারি উঁচু নারকেল গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গাছের কাণ্ড জুড়ে আর ডালপালায় ঝুলছে রঙবেরঙের ছোট ছোট লাইট, যেগুলো সন্ধ্যার আগমনী আলোয় জোনাকির মতো ঝিলমিল করছে। হালকা সমুদ্রের বাতাস ভেসে এসে খাবারের ঘ্রাণের সঙ্গে মিশে এক মনমুগ্ধকর আবহ তৈরি করেছে। দূরে ঢেউয়ের মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছে, যেন প্রকৃতি নিজেই নীরব সুর তুলেছে।
সেরিনের মনটা একটু ভালো হয়ে গেল।
কায়ান সেরিনের পছন্দমতো সব খাবার অর্ডার করল। সকাল থেকে তেমন কিছু খাওয়া হয়নি। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। তাই সেরিন একে একে সব খাবারই খেয়ে ফেলল।
খাওয়া শেষ করে দুজন বিচ সাইডে হাঁটতে গেল।
কায়ান সেরিনের হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। এই বিচটা সম্পূর্ণ ফাঁকা। কোথাও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র কায়ান এবং সেরিন এখানে।
সেরিন সামনে তাকিয়ে দেখল, সমুদ্রের বিশাল বুকের সামনে নীল আকাশজুড়ে সূর্য কমলা রঙের আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। ঢেউগুলো তীরে এসে আছড়ে পড়ে আবার ফিরে যাচ্ছে, প্রতিটি ঢেউয়ের গায়ে সূর্যের শেষ আলো ঝলমল করছে। আকাশে কমলা, গোলাপি আর হালকা বেগুনির মিশেলে এক অপার্থিব রঙের ক্যানভাস তৈরি হয়েছে। বাতাস অনবরত এসে তাদের ছুঁয়ে যাচ্ছে, চুল এলোমেলো করে দিচ্ছে, পোশাকের প্রান্ত উড়িয়ে দিচ্ছে। পুরো দৃশ্যটা যেন জীবন্ত কোনো ছবির মতো সুন্দর।
কায়ান সমুদ্রের সামনে এসে সেরিনকে নিজের দিকে ফেরাল।
হুট করেই সে সেরিনকে জড়িয়ে ধরল। সেরিনের হাইট অনুযায়ী সে কায়ানের বুক পর্যন্তই পড়ে। কায়ান তাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বলল,
“ভালোবাসো আমাকে?”
সেরিন কাঁপা কণ্ঠে জবাব দিল,
“হ্যাঁ ভালোবাসি।”
কায়ান সেরিনের ঘ্রাণ নিতে নিতে আবার বলল,
“আবার বলো।”
সেরিন আবার বলল,
“ভালোবাসি।”
“আবার বলো”
“ভালোবাসি।”
এভাবেই প্রায় পঞ্চাশ বারেরও বেশি সেরিনকে দিয়ে “ভালোবাসি” বলিয়ে নিল কায়ান। সেরিনও বিরক্তি না দেখিয়েই প্রতিবার বলল।
এরপর কায়ান সেরিনকে ছেড়ে দিল।
সেরিনের লম্বা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। কায়ান আলতো হাতে তার চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিল।
“চলো একটা স্পেশাল জায়গায় যাই।”
“ওকে।”
কায়ান সেরিনের হাত ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে গেল। দুজন আবার গাড়িতে উঠে বসল। কায়ান নিজ হাতে সেরিনের সিটবেল্ট লাগিয়ে দিল। তারপর গাড়ি স্টার্ট করল।
ততক্ষণে সূর্যটা প্রায় পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। চারপাশে সন্ধ্যা নামার অপেক্ষা। আকাশের শেষ আলো মুছে গিয়ে ধীরে ধীরে রাতের নরম আঁধার নেমে আসছে।
কায়ান গাড়ি ড্রাইভ করে সেরিনকে আরেকটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে এলো। গাড়ি থামতেই কায়ান আগে নেমে সেরিনের পাশের দরজাটি খুলে দিল। সেরিনও ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো।
দুজন পাশাপাশি হেঁটে রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করল।
এটি আগের রেস্টুরেন্টটির থেকেও অনেক বেশি সুন্দর। চারপাশের সাজসজ্জায় ছিল রাজকীয় আভিজাত্য। নরম আলোয় পুরো জায়গাটা যেন রহস্যময় এক আবরণে ঢাকা। সমুদ্রের বাতাস ভেসে আসছে, কিন্তু সেই বাতাসেও যেন অদ্ভুত এক শীতলতা মিশে আছে।
কায়ান সেরিনের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে এলো।
অদ্ভুত বিষয় হলো, এখানে কেউ নেই।
পুরো রেস্টুরেন্ট নিস্তব্ধ। কোথাও কোনো অতিথি নেই। শুধু ভয়ানক নীরবতা।
সেরিন অবাক হয়ে গেল।
“এখানে কেউ নেই কেন?”
কায়ান কোনো উত্তর দিল না।
সেরিন ফিরে তাকাল কায়ানের দিকে।
কায়ান মৃদু হাসল। তারপর সেরিনের পেছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কালো কাপড় দিয়ে তার চোখ বেঁধে দিল।
“আরে, কী করছেন?”
“সারপ্রাইজ আছে।”
সেরিন আর কিছু বলল না।
কায়ান তার হাত শক্ত করে ধরে ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে নিয়ে যেতে লাগল।
রেস্টুরেন্টের সব স্টাফ তখন দাঁড়িয়ে ছিল। তারা কায়ানকে বো করে সম্মান জানাল। কায়ান ইশারায় তাদের কিছু জিজ্ঞেস করল। তারাও ইশারায় পেছনের বিচ সাইডের দিকে যেতে বলল। আসলে এটি সমুদ্রের ধারে গড়ে ওঠা একটি রেস্টুরেন্ট।
কায়ান সেরিনকে নিয়ে সেখানে চলে গেল।
সমুদ্রের গর্জন এখন আরও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। রাত প্রায় নেমে এসেছে। দূরের ঢেউগুলো কালো ছায়ার মতো তীরে এসে আছড়ে পড়ছে। বাতাসে লবণের গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে অজানা আতঙ্ক।
কায়ান ধীরে ধীরে সেরিনের চোখের বাঁধন খুলে দিল।
চোখ খুলতেই সেরিনের মুখের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেল।
সামনের দৃশ্য দেখে তার শরীর জমে গেল।
কয়েকজন লোক মাটিতে পড়ে আছে, গুরুতর আহত অবস্থায়। কারোর হাতের কবজি থেকে নেই৷ কারোর পায়ের হাটু থেকে নিচের টুকু নেই। কারোর একটা হাত নেই। কারোর দু হাতের আঙ্গুল নেই। তাদের ক্ষতস্থান বেয়ে অনবরত রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। নিচের বালি রক্তাক্ত তাদের রক্তে। তাদের অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে দৃশ্যটা দেখলেই বুক কেঁপে ওঠে। তাদের পাশে বসে আছে জাকির। তার হাত বাঁধা। শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন। দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তার ওপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
সেরিনের মনে হলো তার আত্মা যেন শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চাইছে।
তার নিঃশ্বাস আটকে এলো।
কাঁপতে কাঁপতে সে নিজের মুখে হাত চাপা দিয়ে কায়ানের দিকে তাকাল।
কিন্তু কায়ানের দৃষ্টি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
যেন এসব তার কাছে খুবই সাধারণ দৃশ্য।
তার চোখে না ছিল বিস্ময়, না ছিল করুণা। শুধু ঠান্ডা, স্থির এক নির্লিপ্ততা।
সেরিনের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
“এ… এগুলো… কী?”
কায়ান কোনো উত্তর দিল না।
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৪৫
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেদের মধ্যে একজন দ্রুত দুটো চেয়ার এনে রাখল।
কায়ান নির্বিকার ভঙ্গিতে একটিতে বসল। পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে হেলান দিল।
অন্যদিকে সেরিনের পুরো শরীর কাঁপছে।
সামনের নির্মম দৃশ্য, সমুদ্রের অন্ধকার গর্জন, আর কায়ানের অস্বাভাবিক শান্ত মুখ, সব মিলিয়ে মুহূর্তটা যেন গা শিউরে ওঠার মতো এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো।
