Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৯ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৯ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৯ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি

মাভিশার গগনবিদারী চিৎকারেই সারা তল্লাটের মানুষ জেগে যেত। কিন্তু ষণ্ডা দেহের পশুত্ব এক ডাকাত তার মুখসহ সারা দেহ নিজের বলিষ্ঠ হাতের মাঝে এমনভাবে চেপে ধরেছে যে, তার চিৎকারের ধ্বনি গোঙানিতে পরিণত হয়েছে। অন্য দুজনও একই কায়দায় কিন্তু আরও কঠিনভাবে ইয়াসিফকে চেপে ধরে হুঙ্কার দিচ্ছে, ‘বেয়াগ্নিন বের গর!’

ইয়াসিফ শূন্য পকেটের মানুষ। পরনের টি শার্ট, প্যান্টও কিছুদিন আগে মাভিশা কিনে দিয়েছে ওকে। নিঃস্ব এই ছেলেটা সত্য কথা বললেও ওকে যে খুন হতেই হবে তা কেমন করে যেন গাড়িতে কাঠিন্য হয়ে বসে থাকা মারিহামও বুঝে গেছে৷ ইয়াসিফ তা বুঝেছে আরও আগেই। নিজের পরিচয় দিলেও এরা তা বিশ্বাস করবে না এই মুহূর্তে। এই হিংস্র ডাকাত দলটা বহু বছর ধরেই নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করে লুটপাট করে নেয় আর নারীদের হাতের নাগালে পেলেই ক্ষুধার্ত জানোয়ার হয়ে যায়। তারপর শেষ মুহূর্তে বলি হতে হয় তাদেরও। শোনা গেছে, ভেতরের গ্রামে ঢুকে এদের আরেকটা দল একেকটা বাড়িকে টার্গেট করে হামলা করে রাত-বিরেতে।
এই ভয়াবহ বিপদে খুব শীতল মস্তিষ্কের মারিহামও কিছুটা ভয় পেয়েছে বটে। কিন্তু নিজের দৃঢ় মনোবলের কাছে সে ভয় ক্ষীণ। গাড়ির স্টোরেজ থেকে সাইলেন্সার লাগানো 9mm পিস্তলটা বের করে নিয়ে লোড করতে করতে শিকারী চোখে দেখতে থাকল পাঁচজন ডাকাতের অবস্থান।

ইয়াসিফের কাছে কিছু নেই তা জেনে নিয়েছে তারা ইতোমধ্যে। মাভিশার শরীরেও জঘন্যভাবে তল্লাশি চালিয়ে তার গলাতে সর্বক্ষণ ঝুলতে থাকা হীরার ছোট্ট পেনডেন্টের প্লাটিনামের চেইনটা ছিনিয়ে নিয়েছে। কাছে গানও ছিল। সেটাও পেয়ে গেছে৷ এবার এই গাড়িটাকে কব্জা করবে নিশ্চিত। কিন্তু তার আগে ইয়াসিফকে হত্যা করাটা জরুরি তাদের৷ ডাকাতের আসল হোতা হাতের রাম দা’টা দু’হাতে ধরে আড়াআড়িভাবে ইয়াসিফের গলা লক্ষ করে কোপ বসানোর মুহূর্তেই হঠাৎ ছোটো একটা লাল রশ্মিবিন্দু পড়ল তার ডান চোয়ালে৷ কেউ খেয়াল করল না। একদম ন্যানো সেকেন্ডের মাঝেই গুলিটা বিঁধে গেল তার চোয়ালের হাড় ফেটে পুরো গহিনে৷ শয়তানটা আর্তনাদ করারও সময় পায়নি। তখনও তার দা’টা ইয়াসিফের গলার খুব কাছেই৷ সেখানে আঘাত পড়ার পূর্বেই কলাগাছের মতো ধপ করে ইয়াসিফের গায়ের উপর পড়ল অকস্মাৎ। জন্তুটার ওজন অসম্ভব ভারী। আচমকা এসে পড়াতে ইয়াসিফ তার ভার সামলাতে পারল না। চিত হয়ে পড়ে গেল তার নিচেই।
বাকি চারজন মাভিশাকে নিয়ে খেলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এখনই। তারা আলোচনাও শুরু করেছে সর্দারের পর কে পাবে মাভিশাকে। আচমকা তাদের সর্দারসহ ইয়াসিফকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে চমকে উঠল সবাই৷ মরার মতো পড়ে আছে তাদের সর্দার ইয়াসিফের গায়ের ওপর।
মাভিশাকে একজন ধরে রেখে বাকি তিনজন চকিতে ছুটে এলো৷ ‘সর্দার! সর্দার, অনর কী হইয়ি?’ তার কোনোই সাড়া নেই।

সর্দারকে দুইজন টেনে তুলে ইয়াসিফের গলায় আবারও রাম দা’টা চেপে ধরল একজন। রাস্তার মাঝে রক্তের জোয়ার দেখে আঁতকে উঠল তারা। আর ঠিক তখনই মাভিশাকে ধরে রাখা ডাকাতটাও একইভাবে পড়ল নিচে। সুযোগ পেতেই কাল বিলম্ব না করে মাভিশা যখন গাড়ির দিকে ছুটল। তখনই মারিহাম গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো আর মাভিশা মুহূর্ত মধ্যে গাড়ির ভেতরে ঢুকে গেল। চমকটা বাকি তিনজনের জন্য খুব বেশিই অপ্রত্যাশিত ছিল বলে বিহ্বলতা কাটতে কিছুটা সময় লাগল তাদের। মাভিশার গানটা নিচে পড়ে আছে। সেটা তোলার মতো সময়টাও নেই তিনজনের। কারণ, মারিহামের তাক করা পিস্তলের মুখে এক সেকেন্ডও দাঁড়িয়ে থাকলেই মৃত সঙ্গীদের মতো পরিণত হবে তাদেরও।

ইয়াসিফের দুর্দান্ত দৈহিক শক্তি কাবু হয়ে আছে কেবল গলার কাছে রাম দা’টার কাছেই। ইতোমধ্যে সেটার প্রখর ধার গলার চামড়া কেটে নিয়েছে। রক্ত সেখান থেকে গড়িয়ে বুকের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে তা টের পাচ্ছে ও। শূন্য হাতে এতগুলো জন্তুদের সাথে গায়ের শক্তি দেখাতে যাওয়া মানেই মৃত্যুকে শীঘ্রই ডেকে আনা।
আগুন চোখে মারিহামকে জানোয়ার তিনটা দেখে নিয়ে কল্পনাতীত একটা কাজ করে বসল। মারিহাম তৃতীয়বার শুট করতেই তারা ঝোপের মাঝে লাফিয়ে পড়ল ইয়াসিফকে নিয়েই। গুলিটার নির্মমতা থেকে একটুর জন্যই বেঁচে গেল তারা। তারপরই ইয়াসিফকে টেনে তুলে ওকে নিয়েই তিমিরে ডোবা ঝোপের মধ্যে ছুটতে আরম্ভ করল। ইয়াসিফকে এই মুহূর্তেই খুন করতে গেলে নিশ্চিত মারা পড়বে তারা। কিন্তু সঙ্গীদের মৃত্যুর প্রতিশোধও না নিতে পারলে তা হবে তাদের জন্য কাপুরুষতার পরিচয়৷
মারিহাম চেঁচিয়ে উঠল, ‘ইয়াসিফ!’ দৌড়ে গিয়ে মাভিশার গানটা তুলে নিয়ে মাভিশাকে অস্থির গলায় ডাকল, ‘ম্যাভি, ওরা ধরে নিয়ে গেছে ইয়াসিফকে। মেরে ফেলবে! ধরতে হবে ওদের, জলদি এসো।’ বলে ওদিকে ছুটতে যেতেই মাভিশা গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে টেনে ধরল তাকে৷ ব্যগ্র কণ্ঠে বলে উঠল, ‘চলে এসো, ফ্লোরেন্স৷ ওদের পিছে ছুটতে গেলেই আমরা মারা পড়ব।’

-‘কী বলছ, হ্যাঁ? মেরে ফেলবে ওরা ইয়াসিফকে। আমরা তা জেনেও পালিয়ে যেতে পারি না।’
-‘আমরা ওদের সঙ্গে পারব না কেন বুঝতে পারছ না? মরব আমরাও! তাও ওদের প্রত্যেকের কাছে রেপ হয়ে! কিছু করার নেই আমাদের। মেনে নিতেই হবে।’ কাঁদতে কাঁদতে চেঁচিয়ে বলল মাভিশা।
রেগে গিয়ে দাঁতে দাঁত চিবিয়ে বলল মারিহাম, ‘তুমি পাগলের প্রলাপ করছ! ইয়াসিফকে বিপদে আমরা ফেলেছি। আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে তাই ওকে রক্ষা করা। ছাড়ো আমাকে!’ ঝাড়ি দিয়ে মাভিশার হাত থেকে মুক্ত করে নিলো নিজেকে৷ তার গানটা তাকে ছুঁড়ে দিয়ে সে ঝোপের মাঝে ঢুকে গেল।

-‘এখন তোর ঘরে যাওয়া উচিত, জাদ। তোরা অকারণে, ইচ্ছা করে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করছিস!’
-‘ঘরে যাওয়া আজ দেরি আছে৷ থাক ও একাই।’
অবাধ্য কথায় নাওফিলের দিকে ঘাড় ফেরাল তাওসিফ। ধমকে উঠল, ‘থাপ্পড় দিয়ে নিচে ফেলে দেবো, বজ্জাত!’
রাতের খাবার শেষেই দু ভাই রুফটপে এসে বসেছে প্রায় ঘণ্টা দুই হতে চলল৷ দুজনেই আজ বেশ রাত করে বাড়ি ফিরেছে৷ তাওসিফ যখন ফ্রেশ হয়ে নিচে আসলো খেতে, হঠাৎ রুনাকে হাস্য মুখে খাবার টেবিলের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে বসে তাকে, ‘তুমি এখানে কীভাবে?’
-‘নাওফিল স্যারই আসতে বলেছে, স্যার৷ আমি এসেই তো রাতের জন্য রান্নাবান্না করলাম সব। খেতে বসেন প্লিজ৷ আর নাওফিল স্যার কই? খেতে আসবেন না?’

সহাস্য মুখে এসব কথা যখন সে বলছিল, ওদিকে ড্রয়িং স্পেসে সোফায় বসা কিরণ রেগে আগুন৷ একটা খাবারও সে মুখে তোলেনি, যখন দীধিতির কাছে জানল এই মেয়ের স্পর্ধিত আচরণের কথা৷ খুব রেগেছে সে নাওফিলের ওপরও। রান্নার জন্য লোক ঠিক করার হলে আর কাউকে পায়নি সে? যেচে পড়ে কেন এই বেহায়া, উদ্ধত স্বভাবের মেয়েটাকে ডাকল?
তাওসিফ কিরণের সেই চেহারাতে তাকালে দুজনের চোখাচোখি হয়ে যায়৷ ছোটো ওই মেয়েটার রাগান্বিত চেহারাটা হঠাৎ করেই ওই মুহূর্তে এত মজার লাগল তাওসিফের যে, সেও না খেয়ে কিরণের দলে নাম লেখাল৷ যেভাবে গরম চোখের ইশারায় কিরণ তাকে খেতে নিষেধ করেছিল তখন, মনে হচ্ছিল যেন তাওসিফের প্রতিও কিরণের ভীষণ অধিকার৷

দীধিতি সে সময় লিভিংরুমে একাকী বসা৷ নাওফিল ঘরে ঢুকলেও সে যায়নি। আর নাওফিলও তাকে ডাকেনি৷ তাওসিফ তা দেখে দীধিতিকে কিছু না বললেও নাওফিলকে বকতে ওর ঘরে যায়৷ তখনই দেখে খাবারের কতগুলো পার্সেল বিছানার ওপর। পুরো ঘটনাটা এত বেশি নাটকীয় লাগল তাওসিফের, যে মেজাজ হারা হয়ে সে বড়ো এক কিল লাগিয়ে দেয় নাওফিলের কাঁধে৷ চাপা গলায় ধমকে ওঠে, ‘সিনেমা লাগিয়েছিস ঘরে দুইজন? বাইরের খাবারই খাবি যদি তাহলে ওই বেয়াদব মেয়েটাকে কেন ডেকেছিস?’
চেহারা কুঁচকে প্রচণ্ড ব্যথায় নাওফিল কাঁধটা মালিশ করতে করতে কাতর গলায় জবাব দিলো, ‘কোনটা বলে বোঝাব? কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে? না কি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে?’
-‘আরেক ঘুষিতে নাক ফাটাব! সোজাসাপটা বল।’ আবারও ধমক লাগাল তাওসিফ।
-‘আগে খাই। সারাদিন খাইনি৷ তার আগে এখান থেকে দুটো পার্সেল ওদের দু বোনকে দিয়ে আয়৷ নিচে কিরণের চেহারা দেখেই বুঝেছি এক বোনও মুখে খাবার তোলেনি। বলবি তুই এনেছিস। আর ভুলেও বলবি না রুনার রান্না খাবার আমি খাইনি।’

-‘পার্সেলগুলো কেন আনলি আগে সেটা বল।’
-‘কারণ, আমিও রুনার হাতের খাবার মুখে তুলব না আর তোদেরও খেতে দেবো না। বিস্তারিত ট্যারেসে বসে বলব।’
দীধিতি, কিরণ, দুজনই হঠাৎ তাওসিফকে খাবারের পার্সেল দিতে দেখে অবশ্য ভ্রু কুচকেছিল৷ তাদের সন্দেহ দূর করতে নাওফিলের শেখানো বুলি আওড়েছিল তাওসিফ, ‘রুনার হাতের রান্না আমার ভালো লাগে না বলে খাবার সাথে নিয়েই এসেছিলাম৷ একা তো আর খেতে পারি না। তাই তোমাদের জন্যও এনেছি৷ রুনার রান্না ওই ফাজিলটা একা গিলুক।’
তারপরই দুই ভাই ঘরের দরজা আটকে চুরি করে খেয়ে নিয়ে চলে যায় ছাদে৷

কার্নিশ থেকে নেমে তাওসিফ নাওফিলের মুখোমুখি দাঁড়ায়। সেও কার্নিশের ওপরই চেপে বসা। শীতল কণ্ঠেই ওকে শুধায়, ‘কী চাইছিস তুই ভালো করে বল তো? রুনাকে দিয়ে কীভাবে কাঁটা তুলবি?’
বহুদূরের আকাশে একটা প্লেন ছুটে যাচ্ছে। এত দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটা তারা ছুটছে খুব ধীরে ধীরে৷ সেদিকে চেয়ে নাওফিল বলল, ‘আমার ঘরের বিভিশনটা কে তা জানতে আর আমার বউকেও একটা শিক্ষা দিতেই রুনাকে প্রয়োজন।’
-‘রুনা কী করে জানবে ঘরশত্রুটা কে?’
চোখ ফেরাল সে তাওসিফের দিকে। একটু সময় চুপ থেকে বলল, ‘শেখ পরিবার কিন্তু এখনও নিজেদের পুরোনো সেই নবাবি চালচলন থেকে বেরিয়ে আসেনি, এটা তো মানিস?’

-‘অবশ্যই। অথচ শেখ গোষ্ঠীর জমিদারি ক্ষমতা ছিল বহু আগে। তা আমাদের দাদাও দেখেনি।’
-‘হুঁ, কিন্তু সেই নিষ্ঠুরতা আর সেই অহংকার তাদের মধ্যে এখনও বিদ্যমান৷ বিশেষ করে আমাদের দাদীর মধ্যে। তারা এখনও একশোটা সার্ভেন্ট পোষে অপ্রয়োজনেই৷ তার মধ্যে মহিলা সার্ভেন্টগুলোকে পুরোনো আমলের দাসীদের মতো ট্রিট করে বাড়ির সকল নারীরা। রুনা আমাদের সেই বাড়ির সার্ভেন্টদের গুরু। তার অধীনেই সবাইকে রাখা হয়েছে৷ দাদী, মিসেস জাকির এমনকি মেজো চাচি আর ফিহাও ওকে যে কোনো কাজে ভরসা করে, বিশ্বাস করে অন্ধের মতো।’
-‘হ্যাঁ, সব সার্ভেন্টদের মধ্যে রুনার সাথেই এদের সবার গুড রিলেশন৷ সবার সব কিছুর খেয়াল রুনা একাই সামলে নেয়, সেই কারণে।’

-‘এক্সাক্টলি৷ পয়েন্টে এসে গেছিস। রুনাকে মিসেস খুশি আমার বারণ সত্বেও বারবার পাঠাত এখানে। লাস্ট টাইম ওভার রিয়্যাক্ট করেছিলাম বলেই আর পাঠায়নি ওকে৷ একটা কথা তোর খারাপ লাগবে এখন৷ তাও বলতে বাধ্য হচ্ছি৷ আমি বাড়ির প্রতিটা মহিলা সদস্যকেই আমার সন্দেহের তালিকায় রেখেছি৷ প্রত্যেকে মানে প্রত্যেকেই।’
-‘জাদ! মা আর ফিহাকে তুই…! ওরা কিছুটা স্বার্থপর গোছের মানুষ হলেও তোর ক্ষতি করার কথা কখনই ভাববে না।’ আহত হলো তাওসিফ বেশ।
নাওফিল তবুও নরম হলো না৷ ‘আমি দুঃখিত, ব্রাদার৷ শুধু আমার নিজের ব্যাপার হলে আমি এতদূর অবধি ভাবতামই না৷ দীধিতি জড়িত বলেই আমাকে গোয়েন্দার ভূমিকাতে আসতে হয়েছে। তাছাড়া তুই, নিহাদ, দুজনই জানিস আমাকে নিয়ে ফিহার মনোভাব। সেটা ভুলে যাসনি নিশ্চয়ই? এমনকি মেজো চাচিও জানেন।’
সত্যিই ভুলে বসেছিল তাওসিফ। এ পর্যায়ে তাই প্রতিবাদ করতে পারল না। তবে মা বোনের নামে অপবাদটাও হজম হলো না। গম্ভীর গলায় শুধাল, ‘এখন রুনাকে কী করতে চাচ্ছিস?’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৯

-‘এই জায়গায় আজ নিহাদকে খুব দরকার ছিল। পুলিশের আঠারো ঘা ওর থেকে ভালো আর কেউ দিতে পারত না। কবে যে ওর মিশন সম্পন্ন হবে!’
-‘মা আর ফিহা যেহেতু সন্দেহ তালিকায় আছে। তাই নিহাদের পরিবর্তে ঘা’টা লাগানোর দায়িত্ব আমিই নেবো। থেরাপি দেওয়া পদ্ধতি আমিও কম জানি না নিশ্চয়ই?’ শক্ত কণ্ঠে বলল তাওসিফ।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৫০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here