Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৮

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা আর আয়রা তখনো আরহামের কোলে,,,এই অবস্থায় ওদের নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো আরহাম তবে বাড়ির অবস্থা বেশি ভালো না আমিনা বেগম কে সোফায় শুয়ে রাখা হয়েছে,,আরশি হাউমাউ করে কাঁদছে,,, হারুন মির্জা ব্যস্ত হাতে কাউকে কল দিচ্ছে মনে হয় doctor,,,ইশিতা শাশুড়ির পা ঢলে দিচ্ছেন,,সবাই বিচলিত,,, এমন সময় তিনজনকে দেখে সবাই অবাক হলো,,, আরহাম আস্তে করে নুবাকে আর আয়রাকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো,,,
পরপর “mom” বলে একটা চিৎকার করে আরহাম দৌড়ে যেএ মায়ের কাছে হাঁটু গেঁড়ে বসলো,,আমিনা বেগমের অতিরিক্ত টেনশনে দাঁতে দাঁত চেপে গেছে,,খুচুনি উঠেছে তার,,পেশার বেড়েছে,,, আরহাম মায়ের হাত ধরে আরহাম উচ্চ স্বরে বললো

_ mom,,, what happened,,,উঠো,, হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে,,তোমরা বলে বসে আছো কেন,,,
আরফ ব্যস্ত কন্ঠে বললো,,
_ doctor,,আসছে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া সময় নেই,,, doctor অর্ধ পথে,,,
হারুন মির্জা বুঝতে পারছিলেন এখনি তার wife অসুস্থ হয়ে পড়বেন তাই আগে থেকে doctor কল করেছিলেন,,

পুরো বাড়িটার উপর দিয়ে যেন এক অদৃশ্য ঝড় বয়ে গেলো।কিছুক্ষণ আগের কোলাহল এখন নিস্তব্ধতায় হারিয়ে গেছে।চারপাশে শুধু নীরবতা, কারো মুখে কোনো কথা নেই।প্রতিটা ঘর যেন নিজের ভেতরেই কোনো কষ্ট লুকিয়ে রেখেছে।জানালার বাইরে বাতাস চলছে, কিন্তু ভেতরের ঝড়টা আরও গভীর।সবাই চুপচাপ বসে আছে, যেন সময়ও কিছুক্ষণের জন্য থেমে গেছে।কেউ কারো চোখের দিকে তাকাচ্ছে না, শুধু অনুভব করছে সেই ভারী মুহূর্তটা,,,
আরহাম চেয়ার নিয়ে মায়ের হাত মুঠো করে ধরে কপালে ঠেকিয়ে বসে আছে,,বুকটা ভারি হয়ে আছে সে বুঝতে পারেনি এভাবে আমিনা বেগম অসুস্থ হয়ে যাবে,,আমিনা বেগমের মুখে অক্সিজেন, কারণ শাঁস কষ্টের রোগী সে,,হাতে সেলাইন,তবে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়নি,,,, জ্ঞান ফিরেছে তবে চুপচাপ আছে,,,
নুবা রুমের এক কোনায় ফ্লোরে আসাম করে বসে আছে,, হারুন মির্জা স্ত্রীর পাশে বসা,,
রুমে সবাই উপস্থিত আছে,,কারো মুখে কোনো কথা নেই,,,
সব থেকে আরশি অনেকটা ভেঙে পড়েছে,,এখনো গুনগুন করে কাঁদছে আর আরহামেক মনে মনে গালি দিচ্ছে,,,তবে সবাই নীরব থাকার চেষ্টা করছে,,,
কিছু সময় পর আমিনা বেগম কম্পিত হাত দিয়ে মুখের অক্সিজেন খুলে ফেললো,, হারুন মির্জা বিচলিত কন্ঠে বললো

_ খুলছো কেন,??
আমিনা বেগম অক্সিজেন মুখ থেকে সরিয়ে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে বললো,,,
_ আমার কোনো ছেলে নেই ওকে এখান থেকে চলে যেতে বলো,,
বলেই আরহামের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে হাতটা আরো শক্ত করে চেপে ধরলো,,,
আমিনা বেগম উত্তেজিত হয়ে বললো
_ হাত ছাড়,,,
আরহাম চোখের পলক ফেলে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ Mom,,, please,,
আমিনা বেগম চোখের পানি ফেলে বললেন

_ আমি মনে হয় শত্রু তোদের তাই না,,আমি শুধু তোদের খারাপ ভেবে কাজ করি,,, তোদের ভালো আমি দেখতে পারি না,,, আমার মনে হয় তোদের জন্ম দেওয়াই আমার ভুল হয়েছে,, জীবন তো সার্থক তখন হতো যখন আমার সন্তান গুলো আমার কথা শুনতো,,তার মাকে বুঝতো যে,,সে কেনো এই কাজটা করতে চাইছে,,,আমি কোনো দিনও তোদের ভালো চাইনি শুরু খারাপ চেয়েছি,,,কারো লাগবে না আমার,,,সবাই যে যার মতো চল,,, আমাকে একা থাকতে দে,,,রুম থেকে বেড় হ,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমি,, sorry মা,,,আমি তোমাকে বুঝাতে পারছি না,,, তুমি আমায় দিকটা বোঝার চেষ্টা করো,,,
আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললো
_ মেয়েটার ভিতরে কি খারাবি আছে,, তুই কি ভাবছিস শুধু সুন্দর দেখে ওকে বউ করতে চাইছি গত ২/৩ মাস ধরে মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করেছি,,ও খুবি ভালো,, তোকে আর আয়ারকে অনেক ভালোবাসবে,,আমি কি করে বুঝাবো তোকে,,,
বলতে বলতে আমিনা বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, আরহাম মায়ের হাত ঠোঁটের সাথে চেপে ধরে চুমু খেএ বললো

_ আমি জানি তুমি আমার ভালো চাও,,তবে,,,
আমিনা বেগম নাক টেনে বললেন
_ তবে কি,,বাড়ির সবাই এই সম্পর্কে রাজি,,তার উপর আশে পাশের খোঁজ নেওয়ার পর কোনো মানুষি পরিকে খারাপ বলেনি তাহলে কি সমস্যা,,,একটা কারন বল,,, অন্ততপক্ষে একটাতো বল,,কি সমস্যা,,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিলে বললো,,
_ আমি,,আমি,,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে এক পলক নুবার দিকে তাকালো যে কিনা বাচ্চাদের মতো চুপচাপ বসে আছে,,চোখে মুখে কিছু জানার আগ্রহ,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি নুবাকে,,,আমি,,নুবা,,,,নুবার মতো মেয়ে লাগবে,,পরির মতো না,,যে আমার মেয়েকে আগলে নিবে,,,
আমিনা বেগম ছেলের কথা ধরতে না পেরে বিরবির করে বললো

_ পরি নুবার মতোই আরহাম,,,তোর মেয়েকে আগলে নিয়েছে,, তুই বললে বিয়ের পর পরিকে দিয়েই আয়ারকে ফিড করাবো দুই জনের বোর্ডিং ভালো হবে,,
আরহাম অদ্ভুত ভাবে নিঃশ্বাস ফেললো,, হারুন মির্জা ছেলেকে বুঝিয়ে বললেন
_ নুবা তো অনেক ছোটো আরহাম,,পরি তো mature ও আরো ভালো ভাবে আয়রার খেলায় রাখবে,,, তুই বিয়েটা করলে নুবাও এই সব থেকে ছাড়া পাবে,, বছর খানিক পর নুবাকেও বিয়ে দিতে হবে তাই আয়রাকে একটা নির্দিষ্ট মানুষের কোলে দেওয়া যথার্থ কি না?? আরহাম,,,
প্রথম বারের মতো আরহাম আসার পর তার বাপ তার সাথে এতোটা সুন্দর ভাবে কথা বললো,,,এর আগে বাপ ছেলের ভিতরে কথাও হয়নি,,,
নুবা আর একটু সাই দিয়ে ঝামেলা যাতে না বাড়ে তাই বললো,,,

_ হ্যাঁ হ্যাঁ,,, কয়দিন পর ভার্সিটিতে উঠে যাবো,, হয়তোবা হোস্টেলে চলে যাবো তখন তো আর আয়ারকে ফিড করাতে পারবো না আপনি বরং রাজি হয়ে যান ভাইয়া,,,
বলেই নুবা হাসলো,,,তার মনে কোনো রকম অনুভুতি নেই,,সে আরহামকে বড় ভাইয়ের নজরে দেখে,, কারণ এক ভুল সে করে আইক্কালা বাস খেয়েছে দ্বিতীয় বার করে রড খেতে চায় না,,আর না তার ভাঙ্গা মন জুরা লাগবে,,তবে আরহাম যদি পারে,,,সে আদেও পারবে এই বিচ্ছুকে বুঝাতে,,??কে জানে,,
আরহাম মুখ বিকৃত করে নুবার দিকে তাকালো নুবা তা খেয়াল করে একটা সুন্দর মন জুড়ানো হাসি দিলো,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,এখন যদি ভুলেও সে বিয়ের কথা বলে ফেলতো তবে নির্ঘাত নুবা ঝড়ের তান্ডব মাতিয়ে ফেলতো,,,

আমিনা বেগম,, হারুন মির্জা,,সবাই মিলে আরহামকে বুঝালো এক পর্যায়ে হাজেরা বলে উঠলো,,
_ তোমার রাজি হয়ে যাওয়ার উচিত বাবা,,,নুবা ঠিকি বলেছে,,,
আরহাম শেষ পর্যন্ত শাশুড়ির কথা শুনে বুকে পাথর রেখে আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ আমাকে একটা রাত সময় দেও মা, আমি ভেবে বলবো,,,
আমিনা বেগম শান্ত কন্ঠে বললেন
_ এখানে ভেবে দেখার কি আছে,,, এমন তো না যে হুটহাট সব হয়েছে,,,এক দের মাস আগে থেকেই তো কথা হচ্ছে,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ ওর বয়স একটু বেশি মনে হয় না মা,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললেন
_ কোথায় বেশি,,,,২৭/২৮ হবে,,ভালোই তো তোর সাথে মানাবে,,তার উপর ও তোর মতো বয়স চুরা বোঝাও যায় না,,,

_ তাও এতোটা,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললেন
_ তাহলে কতটা লাগবে তোর,,,,নিজের বয়সো তো কম না আপনার,,,
আরহাম চুপচাপ রইলো,,,আমিনা বেগম আবারো জিগ্গেস করলো
_ কি হলো বল,,,
আরহাম সবাইকে চম্কে বলে উঠলো
_ ১৮/১৯ ,,,
আমিনা বেগম কপালে হাত রেখে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ আরশির বাপ,,,এখানে দেখো স্লিপার আছে,,,তুলে একটা কপালে বারি দেও,,, কিন্তু ওর না আমার ,,,এটা শোনার আগে মরে গেলেলাম না কেন,,,,
সবাই হতভম্ব,,,,হাজেরা বেগম চুপচাপ দাঁড়িয়ে কিছু একটা ভেবে ভিতরটা কেঁপে উঠলো তার,,পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে বললেন

_ নুবা নিচে চল,,পুরো বাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে,,,সব গুছাতে হবে,,,,
নুবা জামা ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালো,,,পরপর মায়ের পিছন পিছন চলে গেলো,,,
আরশি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুখ বাঁকালো,,২৪/২৫ বললেও একটা মানানসই হতো,,, ডিরেক্টর ১৮/১৯ ছ্যে,,,এতোটা ছোটো,,,ধরতে গেলে পোলাপাইন মাত্র একটু বেশি বয়সে পা রেখছে,,,
আরশি মুখ বিকৃত করে বললো
_ কে দিবে তোমাকে এরকম মেয়ে,,আজব কথা বার্তা,,,পরি মেমযে তোমার বেবি সহ তোমাকে একসেপ্ট করছে এটাই তোমার সাত কপালের ভাগ্য,,,একটা রুচি থাকা দরকার,,ছি,,,
বলতে বলতে আরশি রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,

নুবা বিরক্তি নিয়ে বললো
_ উফ্ কি হয়েছে মা,,রুমে টেনে আনলে কেন,, তুমি নাকি সব গুছাবে,,,
হারেজা বেগম অদ্ভুত কন্ঠে বললেন
_ পরিক্ষা শেষ,,,ঘড়ের বাইরে বেড় হওয়ার প্রয়োজন নেই,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমি কবে বেড় হলাম,, সবসময় তো বাড়িতেই থাকি,,,
হাজেরা মেয়েকে ধমকে বললেন
_ রুমেই থাকবি,,,,আমি চাই না কোনো শকুনের নজর আমার সদ্য ফুটা ফুলের উপর পড়ুক,,দিন কাল ভালো না,, বিশেষ করে আরহাম হ্যাঁ,,ওই ছেলেটার থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবি,,,
নুবা চোখ মুখ ছোটো করে বললো
_ আজব তো কেন,,

হাজেরা বেগম কিছুটা বেঙ্গ করে মেয়ের মাথায় ঠুয়া মেরে বললেন
_ তা তোমার জানতে হবে না বাছাধন,,,সেই গু এখনো তোমার মাথায় হয়নি,,,যা বলছি তাই করবি,,,আর যদি কথা না শুনিস তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না,,,
মেয়েকে শাশিয়ে রেখে হাজেরা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেন,,
নুবা কপালে হাত দিয়ে ভাবলো,,,তার মাকি ভাবছে আরহামের সাথে তার কোনো চক্কর চলছে,,,ভেবেই নুবা মুখ বিকৃত করলো,,ধূর কি ভাবছে এই সব,,

আপাতত যে যার রুমে অবস্থান করছে,, হারুন মির্জা প্রচন্ড চিন্তিত,, আরহাম বলেছে একটু ভেবে জানাবে,,,আমিনা বেগম শুয়ে আছেন তবে স্বামীকে এরকম চিন্তিত দেখে বিরবির করে বললেন
_ কি হয়েছে আপনার,,,
হারুন মির্জা খেকিয়ে উঠে বললেন
_ তোমাকে বলেছিলাম নুবাকে আরহামের থেকে দূরে রাখতে,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ কেন কি হয়েছে,,,
হারুন মির্জা ভারি কন্ঠে বললেন
_ তুমি ছেলের কথার টন শুনে বুঝতে পারছো না তোমার ছেলে কি বলতে চাইছে,,,নুবার মতো মেয়ে লাগবে,,বয়স ১৮/১৯ হতে হবে,,আয়ারকে আগলে রাখতে হবে,, ইনডিরেক্টলি তোমার ছেলে নুবার কথাই বলে গেলো,,,মাথায় কি জ্ঞান বুদ্ধি নেই তোমাদের,,,
আমিনা বেগম জোরপূর্বক হেঁসে বললো
_ দূর কি যে বলেন না আপনি,,নুবা তো আরহামের ছোটো বোনের মতো,, হয়তোবা বলেছে,,তাই বলে আপনি যা ভাবছেন তাই না,,,

হারুন মির্জা স্ত্রী কে ধমকে বললেন
_ চুপ করো তুমি,,আমি একজন পুরুষ আর একজন পুরুষ মানুষের কথার টন আমি বুঝি,,,, তোমার ছেলে বে লাইনে যাচ্ছে,, লজ্জা থাকা উচিত,,,যে তার মেয়েকে সামাল দিলো তার উপরেই কু নজর দেয়,,তার উপর তুমি তো জানো না আজ নুবাই আরহামকে বাসায় নিয়ে আসছে,,বাসায় কিভাবে ওরা ডুকেছে সেটা দেখলে তোমারি সন্দেহ হতো,,
আমিনা বেগম বিছানায় উঠে বসে বললেন
_ দেখুন আমার ছেলেকে নিয়ে উল্টাপাল্টা বলবেন না,,আর নুবাও আরহামকে বড় ভাইয়ের নজরেই দেখে,, আজগুবি কথা বলে মাথা গড়ম করবেন না আমার,,
হারুন মির্জা চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ যতো যাই বলো তুমি,,, আমার ক্ষুত ক্ষুত লাগছে,,না হলে পরির মতো একটা মেয়েকে রিজেক্ট করার কারন কি,,,

আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে বললেন,,
_যদি এমন হয় তবে নুবাকে আরহামের সাথে বিয়ে,,,,
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই হারুন মির্জা ধমকে উঠলেন স্ত্রী কে,,,রাগি কন্ঠে বললেন
_ বুদ্ধি জ্ঞান লোপ পেয়েছে তোমার,,, তুমি জানো না তোমার ছেলে কেমন আর তার থেকেও বড় কথা নুবার চোখে আমি এমন কিছু দেখিনি, তোমার ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে ওর জীবন কেন নষ্ট করবো,,,বয়স কম,, অবিবাহিত,, আমাদের হাতে পালিত সেই নিষ্পাপ বাচ্চাকে তুমি ধলধলে ফেলে দিতে চাচ্ছো,, তোমার তো জ্ঞান বুদ্ধি থাকা দরকার,,,হাজেরা কখনোই রাজি হবে না,, আরহামের উল্টা পাল্টা কথা বলার সাথে সাথে মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে,,যার অর্থ সে এই বিষয়ে আগ্রহ প্রশন করছে না,, কিছু বুঝো না তুমি,,বাতাসে চুল পেকেছে তোমার,,
আমিনা বেগম স্বামীর দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন

_ সব বুঝি আরশির বাবা,, কিন্তু ছেলেটা যেহেতু বলছে আমাদের কি নুবাকে জিগ্গেস করা উচিত না,,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর কথা শুনে হতভম্ব বনে গেলো,,ভুরু কুঁচকে বললো
_ এতোটা স্বার্থপর হবে তুমি আমিনা,,এতোটা,, স্বার্থপর হয়ে আয়ারকে জোর করে নুবার কাছে ধরিয়ে দিলে,,এখন এটা বলছো বিবেক থাকা দরকার,,, তোমার কি মনে হয় নুবার মতো ভালো একটা মেয়ে এরকম তোমার ছেলের মতো বিবাহিত এক বাচ্চা ওয়ালা,,, বয়স কয়দিন পর ৩৫ এর উপরে চলে যাবে তাদের ডির্জাভ করে,,মেয়েটা মাত্র প্রাপ্ত বয়সে পা দিতে যাচ্ছে,,,ওরো কিছু স্বপ্ন আছে তুমি এরকম টা কি করে বলতে পারো,,
হারুন মির্জার মুখে আফসোসের সুর,,কি একটা অবস্থা,,ছেলের সুখের জন্য আর একজনের জীবন নষ্ট করতে ২ বারো ভাবলো না আমিনা,,
আমিনা বেগমের বুকটা খচখচ করতে লাগলো,,,তার মানে আরহাম তাকে তখন ইনিয়ে বিনিয়ে নুবার কথাই বলেছে,,,

হারুন মির্জা স্ত্রীকে আরো বুঝাতে বললো
_ দেখো পরিকেই বাড়িতে আনো,,, আস্তে আস্তে ওদের বোর্ডিং টা ঠিক হোক,,,নুবাকে নুবার মতো বাঁচতে দেও,,,পরির সাথেই আরহামের ভালো যাবে,,পরি সব মেনে নিয়েছে,,ওর মা বাবাও রাজি তুমি বরং পরির দিকেই ধ্যান দেও,,,
না আমিনা বেগম অন্য কিছু ভাবছে তার মনটা কেমন আনচান করছে,,, গভীর চিন্তায় মগ্ন সে,,,
স্ত্রী কে গভীর চিন্তায় মগ্ন দেখে হারুন মির্জা দাতে দাঁতে চেপে বললেন
_ তুমি যদি ভেবে থাকো তোমার ছেলের জন্য স্বার্থপর হবে তবে শুনে রেখো আমিনা ,আমি এমন টা কখনোই হতে দিবো না,,, দরকার পড়লে নুবাকে আর হাজেরাকে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দিবো,,আলদা হয়ে থাকবে তারা বা নুবার ভালো একটা জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিবো,,তাও এই অন্যায় আমি মানবো না,,,ওরো জীবন আমিনা,,,মেয়েটা নিষ্পাপ,,,,
পরপর আবার বললো,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৭

_ পরিকে আনার ব্যবস্থা করো,,ওর বাবাকে ফোন দেও,,,পরিকেই মানাবে ওর সাথে,,, সামনাসামনি থাকলে পরি আরহামের বোর্ডিং ভালো হবে,,,বুঝলে আমার কথা,,
আমিনা বেগম স্বামীর কথায় মাথা ঝুঁকিয়ে উঠলেন,,, হারুন মির্জা এক কথার মানুষ যা বলবেন তাই করবেন,, একবার যেহেতু বলেছে নুবার সাথে আরহামের কোনো সম্পর্ক হতে দিবে না,,মানে দিবে না,,তার জন্য সে যেকনো কিছু করতে পারে,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here