নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ কি করছেন আপনি,, মারবেন উনাকে ছাড়ুন,,, আরহাম ছাড়ুন বলছি,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ সামনে থেকে সর,,না হলে এই ছুরি দিয়ে ঠিক বুক বরাবর কোপ বসাবো শুয়োর,,,,
আরহমের আচরন দেখে নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,, অনুমান করলো আরহাম সত্যিই রেগে আছে,,হাজেরা এগিয়ে এসে মেয়ের হাত টেনে সরিয়ে নিলো,,নুবা অসহায় দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকালো,,
আরহামের হাত থেকে ছুরি পড়ে গেলো,,ছুরি নেই তাই কি হয়েছে আরহাম রিহানের কলার ধরে আন্দা গোন্দা মারতে লাগলো,,রিহান ঠেকানোর চেষ্টা করলো তবে পেরে উঠলো না,,রিহানের উপর বসে ইচ্ছামতো তাকে পেটাতে লাগলো,,
নুবা সহ সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো,,, হাজেরা এখানে দাঁড়ানো,,না হলে নুবা নিশ্চিত যেএ আরহামকে শক্ত করে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো,,
পরি এগিয়ে এসে বললো
_ আরে থামুন পাগল হয়েছেন,,
কারো কথাই কানে গেলো না আরহামের,,হাজেরা এগিয়ে আসলো,,,না হলে রিহান এরকম মার খেএ মরেই যাবে,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ মেরে ফেলবে তুমি,,বেয়াদব ছেলে,,,
আরহাম তেতে উঠলো,,এমনিতেই হাজেরার উপর রাগ তার,, তার উপর এখন আসছে তাকে থামাতে,,,
হাজেরা এবার এগিয়ে এসে আরহামকে ধরার চেষ্টা করলো তবে আরহাম নিজ অজান্তেই হাজেরাকে বাহু দিয়ে ধাক্কা মেরে ফ্লোরে ফেলে দিলো,হুংকার ছেড়ে বললো
_ সাহস হয় কি করে শরীরে হাত দেওয়ার,, কোন সাহসে এগিয়ে এসেছেন,,,
নুবা পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আম্মু,,,,
পরি আর তানিয়া তাড়াতাড়ি এগিয়ে আলসো,,,,নুবা অবাক,, আরহাম এই কাজটা কি করে করলো,,,, অন্ততপক্ষে তার মায়ের বয়সটার লিহাজ তো করতো,,,এভাবে ধমকে উঠলো,,কতটা অসম্মান করলো হাজেরাকে,,,
এতটুকু ভেবেই নুবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো ছুটে এসে আয়ারকে ফ্লোরে শুইয়ে হাজেরাকে ধরে বললো
_ ব্যথা পেয়েছো মা,,
হাজেরা চোখ মুখ খিচে মৃদু কন্ঠে বললো
_না,,,
কিন্তু নুবা অনুভব করলো পড়ে যাওযায় তার মা বেশ ব্যথা পেয়েছে,,,নুবার প্রচন্ড রাগ হলো,,,ফ্লোরে কান্না রত আয়রাকে উঠিয়ে উঁচু করে ধরে চিৎকার করে বললো
_ আপনি কি উনাকে ছাড়বেন নাকি আপনার মেয়েকে আছার মারবো,,,
বাক্যটা আরহামের কানে বিধলো,,, ক্ষিপ্ত চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা আরহামের চাহনি দেখে ভয় পেলো তবে তাও চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ উনাকে ছাড়ুন,,না হলে আমি যা করবো তা আপনি সহ্য করতে পারবেন না,,,
এদিকে নুবার চিৎকারে আয়রা চিৎকার করে কান্না করে উঠলো,,,হাত পা ছুঁড়তে লাগলো,,
আরহামের মুখ দিয়ে বিচ্ছিরি গালি বেড় হয়ে আসলো
_ জানোয়*** বাচ্চা,,,,তোকে তো,,,
বলেই আরহাম রিহানকে ছেড়ে দিলো,, এগিয়ে যেএ ফ্লোরে পরে থাকা ছুরি উঠিয়ে নিলো,,,সবাই আরহামের দিকে তাকালো,,,ছুরি উঠাতে দেখে ভয়ে নুবার কলিজা কেঁপে উঠলো,,, আস্তে করে আয়ারকে দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে বিরবির করে বললো
_ hsss hsss, কান্না করে না মা,,,
আরহাম কেমন তেরে আসলো,,নুবা ভয়ে দুই কদম পিছিয়ে গেলো,, আরহাম এগিয়ে আসতে আসতে শক্ত করে ছুরি ধরলো,,,নুবা অনেকটা ভয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো,,, কারণ এই লোক সুবিধার না,,মেরে দিতে ২ বার ভাববে না,,
আরহাম এগিয়ে এসে সাপের মতো ফোঁস করে ছুরি উঁচু করলো,,নুবা আয়ারকে দুই হাত দিয়ে খামচে ধরে চোখ মুখ খিচে শব্দ করে কেঁদে উঠলো,,,,হাত পা কাঁপতে লাগলো তার,,,
আরহাম এসে ছুরি ফেলে নুবার গলা চেপে ধরে বললো
_ তুই আছার মারবি আমার মেয়েকে,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,,
আরহাম নুবাকে ছেঁড়ে আয়ারাকে নুবার কোল থেকে ছিনিয়ে নিলো,,,নুবা ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ নিজের মেয়ের কথা মুখ দিয়ে শুধু বলেছি ঝাঁঝা লেগে গেলো,,আর আমার মাকে যে ঝাড়ি মেরে ফেলে দিয়ে অসম্মান করলেন এটাতে কি আমার ঝাঁঝ লাগার কথা না,,,,এতোটা বেয়াদব কেনো আপনি,,
আরহাম নুবাকে ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিলো,,, দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ তোর কলিজা কত বড় আমি দেখে ছাড়বো,,কত বড় সাহস তোর আমার মেয়েকে আঘাত করতে চাস,,,
নুবা গালে হাত দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ অমানুষ একটা,,, আপনার মতো মানুষ কে ভালো,,,,,,,,,
নুবা আর কিছু উচ্চারণ করতে পারলো না,,মনে পড়লো সবাই মানে তাই নিরব হয়ে গেলো সে,,পরপর আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ অমানুষ,,,আগে মানুষ হোন,, স্বার্থপরের মতো ব্যবহার করেন,,, এরকম করলে কেউ আপনার সাথে থাকতে চাইবে না,,
বলেই নুবা হাজেরার কাছে ছুটে গেলো,, অতঃপর মাকে নিয়ে রুমে চলে গেলো,,
এদিকে রিহান এতো গুলো মার খেএ শুয়ে শুয়ে হাঁফাতে লাগলো,,একটুর জন্য বেঁচে গেলো সে,, সারাজীবন নুবার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে রিহান,, সাথে এটাও মনে রাখবে আরহাম এখনো সেই আগের মতো অর্ধ পাগল আছে,,,
আরশি কান্না করতে করতে বললো
_ কি করেছে মেরে বাবা,,ও কেনো আমার স্বামীর গায়ে হাত দিবে,,, জিগ্গেস করো ওকে,,
হারুন মির্জা রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন
_ তুমি ওকে মেরেছো কেনো,
আরহাম সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে বললো
_ বেশি লাফালাফি করছিলো ও,,ওকেই জিগ্গেস করো কেনো কেলানি দিয়েছি,,
রিহান বিরবির করে বললো,,,
_ বাদ দেও খালু,,, আমার আর বিচার লাগবে না,, বেঁচে আছি এটাই শুকরিয়া করো,,,
হারুন মির্জা রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ যখন তোমাকে মারছিলো তখন কি তুমি হাতে চুরি পড়ে বসে ছিলে,,দুটো দিতে পারোনি,,
হারুন মির্জার কথা শুনে আরহাম মুখে দুই আঙ্গুল কামড়ে ধরে শব্দ করে হেসে উঠে বললো
_ ওওও আর আমাকে মারবে,,কলিজায় সাহস আছে ওর, আমার গায়ে হাত তুললে আজ ও জেন্ত থাকতো,,
রিহান মুখ কালো করে বললো
_ আরশি তোমার ভাইকে সম্মান করি,,,তাই মারিনি না হলে,,,,,
_ তাই নাকি,, তুই আমাকে সম্মান করিস,,শালার ধোঁকাবাজ,,,
কথা বার্তার ভিতরে তানিয়া বলে উঠলো,,
_ আইজকা নুবার মারেও অসম্মান করছে আপনের পোলায়,,,বেচারি অনেক বেদনা(ব্যথা)পাইছে
হারুন মির্জা হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,,,? হাজেরাকে,,
_ হো,,, হেরে মারে দেইখা ধরতে গেছিলো তাই ধাক্কা দিয়া ফালায় দিছে,,,আবার নুবারেও থা,,,,
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম ক্ষিপ্ত চোখে তানিয়ার দিকে তাকালো,,তানিয়া তা খেলায় করে শুকনো ঢোক গিলে পিছিয়ে গেলো,,
হারুন মির্জা ছেলের কান্ড দেখে হুংকার ছেড়ে বললেন
_ চোখ দুটো উঠিয়ে ফেলবো তোমার,,কাকে চোখ গড়ম দিচ্ছো তুমি,,,তানিয়া তোমার মা চাচির সমান,,,
আরহাম তানিয়া থেকে চোখ সরিয়ে নিলো,,, হারুন মির্জা আমিনা কে উদ্দেশ্য করে বললো
_ আমিনা যাও তো হাজেরাকে ডেকে আনো,,আজ হাজেরার পায়ে ধরে মাফ চাইবে,, অমানুষ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন,,আদব কায়দা কিচ্ছু নেই,,,
আমিনা বেগম যেএ হাজেরাকে লিভিং রুমে ডেকে আনলো,,পিছন পিছন মায়ের সাথে নুবা আসলো,,,
হাজেরা এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_ ডেকেছেন ভাইজান,,
হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আরহাম নাকি তোমার সাথে বেয়াদবি করেছে,,
হাজেরা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ বাদ দেন ভাই,, বাচ্চা মানুষ,,,
হারুন মির্জা রেগে বললেন
_ বাচ্চা না ও,,৩০/৩২ বছরের বুড়ো বেডাছেলে ও,,, এরকম বেয়াদবি মাফ করার মতো না,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি কিছু মনে করিনি,,,আপনি রাগবেন না,,,
হারুন মির্জা আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ হাজেরার পা ধরে মাফ চাও,,কত বড় বেয়াদবি করেছো তুমি,, অসভ্য ছেলে,,,
আরহাম ক্লান্ত ভঙ্গিমায় বললো
_আমি আর মাফ চাইবো,,তাও উনার পা ধরে how Radiculous dad,,,
হারুন মির্জা এগিয়ে আসলো ছেলেকে মারার জন্য,,,পিছন থেকে নুবা রেগে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ এরকম কথায় কথায় গায়ে হাত তুলে অমানুষ বানিয়ে ফেলেছেন চাচা,,, তাকে বুঝান যে সে অভদ্র হয়ে গেছে,, অমানুষ হয়ে গেছে,,,তবে যদি একটু সুধরায়,,আর আমার মায়ের কাছে মাফ চাইতে হবে না,,,এরকম মানুষের মুখ দিয়ে ক্ষমা শব্দ বের হলে সেই শব্দ টাই লজ্জা পেয়ে যাবে,,,এর থেকে বরং তাকে নিজের মতো চলতে দিন,,,চলো মা,, এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না,,
বলেই নুবা মায়ের হাত ধরে চলে যেতে নিলো,,পরপর আবার ঘুরে বললো
_ আমাদের মতো মানুষের কাছে মাফ চাইলে তার সম্মান যাবে চাচা, শুধু শুধু আপনি কষ্ট করবেন না,,এই মাত্র বাসায় ফিরলেন যেএ রেস্ট নিন,,,
হাজেরা মেয়ের কথায় প্রচন্ড খুশি হলো,,যাক এই ঘটনার জন্য হাজেরা আরহামের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে কারণ এতে করে নুবার মন একটু হলেও আরহামের থেকে সরে আসলো,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে নুবার কথা গুলো হজম করে তার যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো,,,
সন্ধা শেষ হয়ে রাত হয়েছে,,,পরি নিজের রুমে বসে আছে,,হাত পা কাঁপছে তার,,, শরীর যেনো স্তব হয়ে গেছে,, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,,পরির মাথায় শুধু তার বাবার বলা একটা কথাই ঘুরছে,,
_ মা তুই ওই বাড়ি থেকে বেড় হইস না,,,নাবিল জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে,,,,এখনো এই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি তবে খুব শীঘ্রই হয়তো খবর পেয়ে যাবে,,, তুই ওখানে সাবধানে থাকিস,,,আমি এই ব্যাপারে তোর শশুরের সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম তবে বাড়িতে নাকি তোর ননদের বিয়ে,,কি করবো বল,, তুই সাবধানে থাক,,
এই বাক্য গুলো শুধু কানে ভাসছে,তবে পরি বলতে পারলো না”বাবা এই বিয়েটা হচ্ছে না” বলতে পারলো না পরি,,
,,জেল থেকে বেড় হয়ে গেছে নাবিল তালহে পরির বিয়ের খবর আর খুব তাড়াতাড়ি জেনে যাবে,,এখানে পৌঁছে যাবে সে,,তারপর,,তারপর কি হবে পরিকে টেনে হিচরে নিয়ে যাবে
ভাবতেই পরির নিজেকে পাগল পাগল মনে হলো,, দুটি হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল নিজে খামচে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো,, হাঁটুতে মুখ গুঁজে বিরবির করে বললো
_ আমি কি দোষ করেছি এমন কেনো হলো,,,এই বিয়েটাও হবে না,, আমাকে ফিরে যেতে হবে,, কিন্তু আমি ওই জানোয়ারের সাথে যেতে চাই না,,কি করবো আমি,,
পরি হু হু করে কেঁদে উঠলো,,,
সবার দুঃখের সাথে যেনো বাইরের আকাশটাও কালো হয়ে গেলো।মেঘে ঢেকে গেলো চারপাশ, নীরব হয়ে এলো পুরো পরিবেশ।কিছুক্ষণ পরই ঝুম বৃষ্টি নামলো, যেনো আকাশও নিজের কষ্টগুলো ঝরিয়ে দিচ্ছে।বৃষ্টির প্রতিটা ফোঁটার সাথে মিশে গেলো কয় একটা মানুষের না বলা ব্যথা।চারপাশের নীরবতা আর বৃষ্টির শব্দে মনে হলো, প্রকৃতিও আজ মন খারাপ করে আছে,,,
নুবা মায়ের থেকে অনুমতি নিয়ে ছাদে ভিজতে এসেছে এই রাত করে,, কারণ অনেক দিন ভিজে না,,আজ খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো তাই এসেছে সে,,,হাজেরা আসতে দিবে না তাও মেয়ের জোরাজুরিতে আসতে দিলো,,
নুবা বৃষ্টির পানিতে ভিজে প্রশান্তি পেলো,,,রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_আমার দোষ টা কোথায় ছিলো,,
নিজের সাথে নিজে বিরবির করতে করতে নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়লো নুবা,, আচ্ছা নিজের মাকে কি আরহাম এভাবে ধাক্কা দিতে পারতো,, অসম্মান করতে পারতো,,তবে হয়তোবা নুবার জানা নেই যেদিন আরহাম নুবাকে মেরেছিলো সেদিন আমিনা বেগম ঠেকাতে আসলে তাকেও এক ঝাড়া মেরে ফ্লোরে ফেলে দিয়েছিলো আরহাম,,,তখন কেউ এটা খেলায় করেও করেনি,, কারণ সেটা নিজের মা ছিলো,,আমিনা ছেলের এরকম আচরণে কিছুই মনে করেনি কারণ সে জানে রেগে গেছে কাউকে দেখে না আরহাম,,
কিছু মূহূর্ত পর আরহাম এসে বৃষ্টিতে গাঁ হেলিয়ে দিলো,,সে দেখছিলো নুবা ছাদে আসছে,,
আরহাম দুই কদম এগিয়ে যেএ খেয়াল করলো নুবা সোঁজা হয়ে ছাদে বৃষ্টি পানির ভিতরে শুয়ে আছে,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,,,কি একটা অবস্থা এই ময়লা পানিতে শুয়ে আছে,,, নুবার ভালো লাগছিলো না,, কান্ত লাগছিলো তার তাই শুয়ে আছে,,, বৃষ্টির পানি শরীরে পড়লে ভালো অনুভূতি হচ্ছে,,
হালকা গোলাপি থ্রিপিস পড়া নুবার শরীরের সাথে লেপ্টে আছে ড্রেস,,,হালকা হালকা দেহের গঠনের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু বোঝা যাচ্ছে,,, গোলাপির ভিতরে কালো মানানসই না,,
আরহাম চোখ সরিয়ে নিলো,,কতটা বেয়াদব এভাবে শুয়ে আছে এখন যদি অন্য কেউ আসতো,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ নুবার সামনে ঝুঁকে দাঁড়ালো,, হঠাৎ শরীরে পানির ফোঁটা পরা বন্ধ হওয়ায় নুবা চোখ খুলে চাইলো,,,সামনের মানুষ টাকে দেখে দাঁতে দাঁত চিপে আসলো নুবার,,, আরহাম ভেজা চুল ঠেলে পিছনে দিলো,,,নুবা বিরক্ত নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,
আসার আর সময় পেলো না,, আরহাম টু শব্দ করলো না,,,নুবা যেএ রেলিং ধরে নিচে আশে পাশে তাকিয়ে বৃষ্টির পানি পরখ করতে লাগলো,,
আরহাম ধীরো পায়ে এসে নুবার পিছনে দাঁড়ালো,,পরপর তার রেলিংয়ের উপর রাখা দুই হাতের উপর নিজের দুই হাত রেখে আঁকড়ে ধরলো,,নুবার কাঁধে মুখে রেখে গলায় নাক স্লাইড করে সুধালো,,
_ রাত করে ভিজচ্ছো,,ঠান্ডা লেগে যাবে তো,,
নুবা বড় একটা শাঁস টেনে চোখ বন্ধ করে নিলো দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_ দূরে সুরুন,,,
আরহাম বুঝতে পারলো কিছু একটা তাই নুবার কাঁধে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ এভাবে বলছো কেনো,,রেগে আছো মনে হচ্ছে,,,
নুবা রাগে ঝারা মেরে আরহামকে সরিয়ে দিলো,,,পিছন ফিরে ধাক্কা মেরে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ ছুঁবেন না আমাকে,,,
আরহাম নুবার হঠাৎ ধাক্কা আর চেঁচিয়ে উঠায় ক্ষিপ্ত হলো,,,নিভে জাওয়া আগুন আবার জ্বলে উঠলো,,, নিজেকে অনেক কষ্ট করে বুজিয়েছিলো আয়ারকে নুবা কখনোই ফেলতো না,,তবে এখন নুবার রাগ দেখে নিজে কি করে রাগ দেখাবে তা ভেবে মেয়ের কথা স্মরণ করলো সে,,,
আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ চেঁচিয়ে উলঠে টুঁটি টেনে ছিরে ফেলবোরে বান্দির বাচ্চা,,,
নুবা চোখের পলক ফেলে অন্য দিকে তাকালো ,,সে তর্ক করতে চাইছে না,, একটু শান্তি চাইছে,, কিন্তু এই লোকটা এখানেও চলে আসছে,,নুবা ঝামেলা চায় না দেখে শান্ত কন্ঠে বললো
_ যান এখান থেকে,,আর কোনো ঝামেলা চাইছি না আমি,,,
আরহাম নুবার শান্ত কন্ঠ শুনে নিজেও শান্ত হলো,, এগিয়ে এসে নুবাকে আঁকড়ে ধরতে চাইলো,,,নুবা বিরক্ত হলো,,,আরহামকে আবারো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বললো
_ সবসময় সবকিছু ভালো লাগে না আরহাম,, আপনি সবসময় অতিরিক্ত করেন,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ সমস্যা কি তোর,,,
নুবার গলা ছুটলো,,রাগে দুই হাত মুঠো বদ্ধ করে চেঁচিয়ে বললো
_ আপনি আমার কাছে সেদিনি আসবেন যেদিন সবাইকে সম্মান করতে পারবেন,, বিশেষ করে আমার মাকে,,,দুপুরে একবার আমার মাকে গালি দিয়ে কথা বলেছেন,,,কিচ্ছু বলিনি আমি শুধু চুপ ছিলাম ঝামেলা হবে বলে,, কিন্তু একি কাজ আপনি আবার করলেন,,,
পরপর থেমে নুবা কেমন করে হেসে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আরে আমি আপনাকে সম্মান দিতে বলছি,,ভুলেই গেছিলাম আপনি তো একজন অমানুষ কি আর সম্মান দিবেন,, আমাকেই তো সম্মান করেন না আবার আমার মাকে,,কতোটা বোঁকা আমি,, আমার কোনো মতামত আপনার কাছে গুরুত্ব পায় না,,সেখানে সম্মান,,,আপনি যা বলবেন তাই হবে,,,না করলে খারাপ হয়ে যাবো আমি,,,তাও ভয়ে ভয়ে সব কথা শুনি যে ছেড়ে না চলে যান,,তবে তার প্রতিদান আপনি খুব ভালো দিয়েছেন,,, খুব ভালো,,
বলেই নুবা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে আবারো বললো,
_ আপনি ভাবতেও পারবেন না আমার মা আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ,,তার পরেও তার মনের বিরুদ্ধে যেএ আমি আপনার সাথে সম্পর্ক জরিয়েছি,আপনি যা বলেছেন,,যখন যেভাবে বলেছেন তাই মান্য করার চেষ্টা করেছি,,,তাও আপনার কাছে একটু সম্মান পেলাম না,,,
নুবা একটু থেমে দুই হাত দিয়ে সামনে আসা ছোটো চুল গুলো পিছন দিকে সরিয়ে দিলো,,পরপর নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কোন দিন দেখা হলো বিয়ের আগেই আমাকে শুয়ে পড়তে বললেন,,তখন কি করবো আমি হ্যাঁ,,কি আর করবো শুয়ে পড়বো কারণ আপনি বলেছেন তো,,, ছেঁড়ে চলে যান যদি,,কত বড় ভুল করেছি আমি আপনাকে কাছে আসতে দিয়ে তা আমি টের পাচ্ছি,,আমারি দোষ ছিলো,,বিয়ের আগে আপনার সাথে এতো সাই দেওয়া,,নিজের উপর লজ্জা হচ্ছে আমি আসলেই কি ভালো একটা মেয়ে,,ভালো হলে এই সব কি করে করলাম,,,ছি ছি,,, মানুষ জানলে মুখে থুথু দিবে,,,আপনি,,,,
আরহাম আর সহ্য করতে পারলো না এগিয়ে এসে নুবার গাল চেপে ধরে বললো
_ চুপ,,আর একটাও বাজে কথা বলবি না তুই,,তখন তোর মায়ের পায়ে ধরলে সন্তুষ্ট হতি তুই,,এর জন্যই তো এতো নাটক তাই তো,,,
নুবা দুই হাত দিয়ে আরহামের বুকে ভেজা শার্ট খামচে ধরে সুধালো,,
_ কিচ্ছু করতে হবে না আপনার,,,আপনি শুধু দূরে সরে যান আমার থেকে,,,আপনার মতো মানুষ আমার লাগবে না যে আমার মাকে সম্মান করতে পারে না,,, আমাকে সম্মান করে না,,,বাড়ি ভরা মানুষের ভিতরে অপমান করে,,, আপনার মতো পুরুষদের আমার একটুও পছন্দ না,,যারা সবার সামনে অপমান করে ৪ দেওয়ালের মাঝে এসে মাফ চায়,,,লুতুপুতু করে,, আমার দরকার নেই আপনার মতো স্বামী,, কারণ আপনি ভবিষ্যতে ওরকমি স্বামী হবেন,,,
আরহাম কেমন রেগে দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_ কি এমন অপমান করেছি তোর মাকে,,যে এতো গায়ে লাগছে,,,আর তোকেই বা কি বলেছি,,,
নুবা আরহামের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে জবাব দিলো
_ কি করার বাকি রেখেছেন আপনি,,,আর অপরাধ করার পর আপনি তা বুঝতে পারেন না এটাই আপনার বড় অপরাধ,,,আমি কেনো বলতে যাবো আপনি কি করেছেন,,আপনি কি জানেন না আপনি কি করেছেন,,,
আরহাম তেতে উঠে সুধালো
_ না বলবি এখন কি করেছি আমি,,আমি তো দোষ দেখছি না,,,
_ দেখবেন কি করে,, আপনি যা করেন তা তো সংসদের নিয়ম কানুনে লেখা থাকে,,তাই কোনো দোষ হয় না আপনার,,,
_ হ্যাঁ হয় না দোষ,, তুই বুঝিয়ে দে কি করেছি,,,আমি তো বুঝতে পারছি না,,
নুবা রাগি দৃষ্টিতে আরহামের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ আপনাকে কোনো কাজ করতে বারণ করছে সেই সময় তাকে উপেক্ষা করে ঝাড়া মেয়ে ফেলে দিয়ে ঝাড়ি দিয়ে কথা বলা কি অপমান না,,,,সবার সামনে বিনা কারনে কাউকে চর মারা কি অপমান না,,,
_ ও তাই,,খুব গায়ে লেগেছে ,,,তাই তো,,,,আর যখন তুই আমার মেয়েকে আছার মারার কথা বলেছিলো তখন লাগেনি আমার,,,তোর ভাগ্যে ভালো এই ব্যপারে আমি তোকে কিচ্ছুটি বলিনি,,,
_ মেরেছি আছার,, আপনার কি মনে হয় ফেলে দিতাম ওকে,, হ্যাঁ ফেলে দিতাম,, আপনাকে কি করে থামাবো তাই বলেছিলাম,,আর যাকে কুত্তার মতো মারছিলেন সেও তো কারো সন্তান,,তার কি কষ্ট হয় না,,, আপনার লজ্জা থাকা উচিত নিজের বোন জামাইয়ের উপর হাত তুলেন,,,,
আরহাম খুঁজে পেলো না কি বলবে তাই রেগে বলে উঠলো
_ থাকতে হবে না আমার সাথে তোর,,যা যেখানে ভালো পাস সেখানে যা,,,তোর মা যেখানে দিবে যেখানেই যা তুই,, তুই তো তোর মায়ের কথায় আমাকে ছেড়ে দিতে ২ মিনিট ও ভাববি না তাই না,,,
নুবা সাপের ন্যায় ফোঁস করে উঠলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ না ভাববো না,, আমার মা বললে ছেড়ে দিবো আপনাকে,,,তাই তো এই সম্পর্কে জরিয়েছি ,, আপনাকে এতো কাছে আসতে দিয়েছি,,,তাই না,,ছেড়ে দেওয়ার জন্য,,
আরহাম দিশে পেলো না কি বলবে,,এই মেয়ে এতো সাজিয়ে কথা বলে যে আরহাম নিজেই অগুছালো হয়ে যায়,,তবে জিততে তো হবেই তাঁকে,,যেকনো মতে,,,যেই ভাবা সেই কাজ,,
_ তাহলে আমার সাথে থাকতে হলে তোর এই সব সহ্য করতে হবে,,,তোকে মারি কাটি,, অপমান করি যাই করি না কেন,,,সব মেনে নিতে হবে,,, না মানতে পারলে তুই নিজের রাস্তা দেখতে পারিস,,
নুবা ক্লান্ত চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,এই কথার ভিতরে এই কথাটা সাজলো তার,,,নুবার রাগ হলো,,,আরহামকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো গটগট করে চলে যেতে নিলো নুবা,,
আরহাম চেঁচিয়ে উঠে বললো,
_ কোথাও যাবি না তুই,,ছেড়ে দিবো না কিন্তু তোকে আমি,,,নুবা,,,নুবা,,,,
নুবা ফিরেও তাকালো না,,,আরহাম নিজের প্রতি বিরক্ত হলো,,,পরপর সে অনুমান করলো রাগ দেখিয়ে চেঁচিয়ে ডাকলে এই মেয়ে কখনোই ফিরে তাকাবে না,,,তাই আরহাম গলার স্বর নরম করলো,, নুবার পিছন পিছন এগিয়ে এসে মলিন কন্ঠে সুধালো
_ নুবু,,,এই নুবু,,,আচ্ছা ঠিক আছে,,, তোমার আম্মুর কাছে মাফ চেয়ে নিবো,,, আচ্ছা sorry তো বাবা,,আর মারবো না,,,আয়রাকে ফেলে দিতে চাইছিলে রাগ উঠে গেছিলো,, sorry নাআ,,,
বলতে বলতে এগিয়ে যেএ নুবার হাত টেনে ধরলো,,,নুবা চোখের পলক ফেলে সুধালো
_ হাত ছাড়ুন,,, আপনার কারনে শান্তির মা মরে গেছে আমার,,একটু শান্তি করতে এখানে এসেছিলাম কিন্তু আপনি সব যায়গায় হাজির হোন,,,
আরহাম জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,আর এমন করবো না,,,
আরহামের এরকম মিষ্টি কথায় নুবার ভুরু কুঁচকে গেলো এই মাত্র তো রেগে ঝাড়াঝাড়ি করছিলো এখন আবার কি হলো এতো নরম কন্ঠে কথা বলছে কেন,,,
নুবা ফিরে তাকালো,,, আরহাম নিষ্পাপ চেহারা করে সুধালো,,
_ কান্না করে না বিচ্ছু,, আম্মুর কাছে মাফ চেয়ে নিবো,,হুম,,আর sorry,,
বলেই নুবার থাপ্পর মারা গালে হাত বুলিয়ে বললো
_ খুব লেগছে তাই না,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ জুতা মেরে গরু দান করেছেন আপনি,,,
আরহাম কথার তালে তালে নুবাকে নিজের সাথে জরিয়ে নিলো,,,মিনমিন করে বললো
_ রেগে গেলে মস্তিষ্ক কাজ করে না নুবা,,, তুমি বুঝবে না,,তবে next time এমন হবে না,,, sorry
নুবা আরহামের কথায় একটু নরম হলো,, যেহেতু তার মায়ের কাছে মাফ চাওয়ার কথা বলছে,, এমন কি তার কাছেও নিজের দোষ স্বীকার করছে তাই একটু ছাড় দিলো নুবা,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,, অনুমান করলো তার মিনি হাতি নরম কথায় গলে খির হয়ে যায়,,,নুবার দুর্বল পয়েন্ট আরহাম লুফে নিলো,,,পরপর নুবার দুই গালে হাত রেখে বললো
_ আম্মুর কাছে মাফ চেয়ে নিবো,,তাহলে ঠিক আছে তো,,আর বেয়াদবি করবো না,,,
নিজের মাকে আরহামকে মা সম্মোধন করতে দেখে নুবা আরো গলে পানি পানি হয়ে গেলো,,,বিরবির করে বললো
_ আম্মু অনেক কষ্ট পেয়েছে,,সাথে হাতির মতো শরীর দিয়ে ঝাড়া মেরেছেন ব্যথাও পেয়েছে,,
_ ব্যথার মলম এনে দিবো না,,আর sorry ও বলে দিবো,,তাহলে তো হবে,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে হু বললো,,পরপর তার গালে রাখা আরহামের হাতের উপর নিজের হাত দিয়ে সুধালো
_ এভাবে চলতে থাকলে আম্মুর মন পাওয়ার বদলে,,তার মন থেকে আরো উঠে যাবেন আপনি,,
আরহাম ঠোঁটে ঠোঁট চাপলো,,, কি দিনকাল চলে আসলো এখন শাশুড়ির মনো জয় করতে হবে কি প্যারা বাবা,,,
বৃষ্টির তেজ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে এসেছে।
চারপাশে শুধু বৃষ্টির শেষ ফোঁটার শব্দ।দুজনেই ভিজে একাকার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ কারো সেদিকে খেয়াল নেই।দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন নীরবতাতেই হাজার কথা বলা হয়ে যাচ্ছে।দূরত্বটা কমে এসেছে, তারা দাঁড়িয়ে আছে খুব কাছাকাছি।মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তটা সময়ের মাঝে থেমে গেছে,,,,
আরহাম পরপর নুবাকে আর একটু অস্থির করতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে তার ওধরে মেতে উঠলো,,নুবা প্রথমে একটু কম্পিত হলো তবে অনুভব করলো আরহাম খুবি নরম ভাবে তাকে সামলানোর চেষ্টা করছে,,,
নুবা সাই দিলো না তবে কান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলো,,, নিজেকে আরো ধরে রাখার জন্য দুই হাত দিয়ে আরহামের পেশিবহুল বুকের শার্ট আঁকড়ে ধরলো,,,
আরহাম এক হাত দিয়ে নুবার পাতলা কোমর আর অন্য হাত দিয়ে চুলের মুঠি ধরে আরো নিকটতম হলো,,
মিনিট খানিক কেটে গেলে আরহাম ছেড়ে দিলো নুবাকে,,,বেশি সময় নিলো না এমনিতেই রেগে আছে এখন আবার কি বলে কে জানে,,তবে নুবা কিছুই বললো না,, আরহামের বুকে লুটিয়ে পড়লো,,মিনমিন কন্ঠে বললো
_ কাল আম্মুর কাছে মাফ চাইছেন,,
আরহাম চোখ উল্টে বললো
_ আচ্ছা,,,
কিছু সময় ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো তারা,, আরহাম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ শরীর দিয়ে গড়ম ভাব ছুটছে,,, মনে হচ্ছে জ্বর আসবে,,রুমে যেএ আগে শাওয়ার নিবে,,,এই বৃষ্টির পানি শরীরে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে,,,
নুবা কান্ত ভঙ্গিতে আরহামকে জরিয়ে ধরলো যেনো এটাই তার ভরসা,, আস্থা,, বিশ্বাস,,সবকিছুর স্থান,,,
আরহাম নুবার গায়ের ওরনা টেনে ঠিক করে দিলো,,পরপর কান্ত নুবাকে কোলে তুলে নিলো,,,নুবা আরহামের গলা জরিয়ে ধরে কাঁধে মাথা রাখলো,,, আরহাম এগিয়ে যেতে যেতে বললো
_ বেশি খারাপ লাগছে,,,
নুবা ছোট্ট করে”উম হুঁ” বললো,, অর্থাৎ না
_ তাহলে কোলে উঠার বাহানা,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে “হুম” বললো
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,তবে সত্যি বলতে নুবার বেশ খারাপ লাগছে,,,এই রাত করে ভেজা ঠিক হয়নি তার,,,
আরহাম ছাদ থেকে বেড় হয়ে সিরিতে নেমে মৃদু কন্ঠে বললো
_ আমার রুমে চলো ফ্রেশ করিয়ে ওষুধ খাওইয়ে দিবো,,এতো কান্ত তুমি ফ্রেশ হতে পারবে না
নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ ছি,,, আমার প্রয়জন নেই,, আম্মু পিটানি দিবে,,আপনি ২ নাম্বার সিরিতে নিয়ে যেএ নামিয়ে দিবেন,,,
_ কেনো কেউ ফেলবে,,,
_ হুম,,
আরহাম হাসলো,,, অতঃপর ঠিক স্থান মতো তাকে নামিয়ে দিলো,,,
পরি ছাদের দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে,,এসেছিলো শান্তির জন্য তবে এদের দেখে আরো অশান্তি হয়ে গেলো তার,,পরি নিজেকে পাগল পাগল লাগতে লাগলো,,, হঠাৎ করেই নুবার উপর প্রচন্ড রাগ হতে লাগলো,,,নাবিল মাথার উপর চড়ে আছে,,এর ভিতরে নিজের শেষ ভরসা টুকুও হারিয়ে ফেলেছে পরি,,,এই সময় নিজেকে অর্ধ পাগল মনে হওয়ায় স্বাভাবিক,, উল্টা পাল্টা কাজ করাই স্বাভাবিক,,
পরি ফুঁপিয়ে উঠলো আর সুধালো,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৬
_ কি করবো আমি,,নুবা কেন করলে,, পৃথিবীতে ছেলের অভাব পড়েছিলো,,
কেমন আলগা রাগে পরির শরীর ফেটে গেলো,, ইচ্ছা করলো নুবাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে,,,যাতে নিজে একটু বাঁচতে পারে,,,
