নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৮
সুরাইয়া জিয়াসমিন
কেমন আলগা রাগে পরির শরীর ফেটে গেলো,, ইচ্ছা করলো নুবাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে,,,যাতে নিজে একটু বাঁচতে পারে,,,পরি তো এখান থেকে অরশির বিয়ের পড়েই চলে যেতে চাইছিলো তবে নাবিল জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে শুনে তার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এখন প্রায় পাগল কুকুর হয়ে গেছে সে,,,ওই নরকে ফিরে না যাওয়ার জন্য রাস্তা খুঁজতে তবে এই মির্জা বাড়ি ব্যতিত রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না,,,কি করবে সে,,,এই কারনে এখন তার মনে হচ্ছে নুবার জন্য সব হলো,,নুবা দোষী,,তার কারনেই আরহাম এই বিয়েতে রাজি না,,,
রাতের ডিনার সেরে সবাই গোল মিটিং করে বসেছে ওখানে হাজেরাও আছে,,কাল যেহেতু গায় হলুদ তাই ছোটো খাটো আলোচনা বসেছে বাড়িতে,,
নুবা রান্না ঘড়ে দাঁড়িয়ে আছে,, আরহাম বসলেছিলো দাঁড়াতে,,,ছাদ থেকে নামার পর থেকেই তার কান্ত লাগছিলো এখনো লাগছে,,
নুবা রান্না ঘড়ে ঘুরঘুর করতে লাগলো এমন সময় পিছন থেকে কেউ ডেকে উঠলো
_ নুবা,,
নুবা ফিরে তাকালো,,,পরি ডাকছে তাকে,,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আপনি এখানে কিছু বলবেন,,
পরি কেমন ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ এমন না করলেও পারতে তুমি,,কেনো এমন করলে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ বুঝলাম না আপনার কথা,,
পরি কেমন করে কেঁদে উঠলো,, চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ তোমার জন্য কি ছেলে কম পড়ে যাচ্ছিলো,,জানতে না তুমি আমার সাথে আয়রার বাবার বিয়ে ঠিক হয়েছে,,তবে কেন আবার এই সব করতে গেলে,,দূরে সরে গেলে পারতে না,,
নুবা কিছুটা অবাক হলো,,,এই কয়দিন চুপ ছিলো পরি,, তাদের এক সাথে দেখে তেমন কোনো রিয়েক্ট করেনি,,তার চোখে মুখে কোনো রাগ বা অভিযোগ ছিলো না তবে আজ কেমন রাগ আর চিন্তার ভাজ,,,দেখে অস্থির আর পাগল পাগল লাগছে,,, কান্না করাতে আরো ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ দেখুন মেম,, আপনার সাথে এই বিষয়ে আমি তর্ক করতে চাই না,,, please আপনি উনার থেকে দূরে থাকুন,,,না হলে আমার সহ্য হবে না,,
পরি তেতে উঠে বললো
_ বেহাইয়া,,বেজাল,, নির্লজ্জ মেয়ে মানুষ,,, লজ্জা করে না তোমার একজন পরপুরুষের সাথে এতোটা ঘনিষ্ঠ হতে,, লজ্জা লাগে না,,,,সে অন্য কারো হবু বর জেনেও কাছে যেতে,,
নুবা কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেলো মুখটা হা হয়ে গেলো তার,,,রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কিসের হবু বর,,উনি শুধু আমার,,আপনি কেনো মাঝখানে আসছেন,,,উনি আমার ছিলো,, আমার আছে আমার থাকবে এই কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নিন,,আর কি বললেন আমি নির্লজ্জ,, হ্যাঁ আমি নির্লজ্জ,, শুধু তার জন্য,,, দরকার পড়লে শুয়ে পড়বো তার সাথে আপমি,, আপনার কি সমস্যা,,আপনি জানেন না আমরা দুইজন দুইজনকে পছন্দ করি,,,আর এই দেখুন,,,,,,
বলেই নুবা ওরনার তলে লুকিয়া রাখা চুরি গুলো হাত বাড়িয়ে পরিকে দেখিয়ে বললো
_ এগুলো উনার আম্মু দিয়েছে আমাকে ছেলের বউ হিসাবে,, আপনাকে কি দিয়েছে সে আপনি উনাকে হবু বর হিসাবে দাবি করছেন,,ও ho মনেই তো নেই আন্টি পড়িয়েছিলো আপনাকে কিন্তু আফসোস উনি পাড়ায়নি,,সবি জানা আমার তাই আমার সাথে নাটক কম করেন,, সুন্দর দেখে যে প্রতিবার জিতে যাবেন এমন তো কোনো কথা নেই,,হেরে যাওয়ার অভ্যাস করে নিন মেম,,,
পরি রাগে ফুঁসে উঠলো,,,সে বুঝতে পারছে না কি করবে সবাইকে বলে দিবে তাতে তেমন কোনো লাভ হবে না,, কারণ আমিনা বেগম সব জেনেও কিছু বললেননি তাহলে আর কি হবে,,
পরি ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ তুমি উনাকে ছেঁড়ে দেও,,,কত ভালো ছেলে আছে,,উনার সাথে তো তোমার যায়ও না,,নিজেদের বয়সের গেপ দেখো,, তুমি আরো ভালো মানুষ ডিজার্ভ করো নুবা,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ আপনি আরো ভালো ছেলে ডিজার্ভ করেন আমি না,,উনি আমার জন্য পারফেক্ট,,,আর উনিই আমার সব,,আয়রার পাপা আমার সব বুঝলেন,,,
পরি চিন্তায় নিজের সামান্য জ্ঞান টুকু হারিয়ে ফেললো,,নুবা তার কথা শুনছে না দেখে এগিয়ে যেএ ঠাস করে একটা থাপ্পর লাগিয়ে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো সে ভাবতে পারেনি এমন কিছু হবে,,
নুবা কিছু বলতেই যাবে তার আগেই পিছন থেকে কেউ গর্জে উঠে বললো
_ Bastard,,How dare you slap him?
নুবা গালে হাত দিয়ে পিছন ফিরে তাকালো,, আরহাম প্রথম থেকেই এখানে ছিলো,,সে শুধু নুবার ঝগড়া দেখে enjoy করছিলো,,সে জানতে চাইলো তার নুবা কতটা হিংসুটে,,,তবে হঠাৎ পরি নুবাকে থাপ্পর মারবে তার ধারনার বাইরে ছিলো,,
পরি পিছন ফিরে তাকালো,, আরহাম এসেই ঠাস করে একটা চর লাগিয়ে দিলো পরিকে,, হুংকার ছেড়ে বললো
_ তোর সাহস কি করে হয় ওর গায়ে হাত দেওয়ার,,
বলেই পরির চুলের মুঠি ধরলো,, ফর্সা পরির গালে ৫ আঙ্গুলের দাগ বসে গেলো,, থাপ্পর খেএ তার মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো চোখের কার্নিশ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,
আরহাম রাগে আর একটা চর মারলো পরিকে,,ঠাস শব্দে নুবা কম্পিত হলো,,তার তো জানা এই থাপ্পর গুলো কতোটা জোরদার,,,
কান্ত পরির মাথা ঘুরে উঠলো তৃতীয় বার আঘাত কৃরার আগেই নুবা আরহামকে ধরে ফেললো চোখ বড় বড় করে বললো
_আর না,,,হয়েছে তো,,
আরহাম রাগে হাসফাস করে বললো
_ ওর সাহস কি করে হয়,,ওকে এখন জেন্ত কবর দিলোও আমার রাগ কমবে না,,
পরি ছলছল চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,নুবা আরহামকে শান্ত করার জন্য জরিয়ে ধরলো,,,বিরবির করে সুধালো,,
_ আয়রার পাপা শান্ত হোন তো,, মানুষ কতকি বলবে কত কি করবে ওদের কথা বলে লাভ আছে,,আপনি শান্ত থাকুন,,
আরহাম পরির দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠে বললো
_ Get out of here. ,,,
পরি ছলছল চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে গেলো,,
পরি যেতেই আরহাম নুবাকে কোলে তুলে cabinet এর উপরে বসালো,,নুবা নিচে আর একটু পা ঝুলিয়ে ভালো মতো বসলো,,পরপর আরহামের গলা জরিয়ে ধরে বললো
_ আয়রা কোথায়,,
_ আম্মুর কাছে,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ ডেকেছিলেন কেনো,,
আরহাম নুবার পিঠে হাত রেখে মৃদু কন্ঠে বললো
_ শরীর দিয়ে তাপ ছুটছে,,জ্বর আসবে,,,রুমে যেএ নাপা এক্সট্রা খেএ নিবে,,, ওষুধ আছে তো,,
_ হ্যাঁ আছে,,,
পরপর নুবা আরহামের কাঁধে থুতনি রেখে অন্যমনষ্ক হয়ে ভাবলো আগে আরফের সামনে কেউ নুবাকে নিয়ে মজা করলে বা অপমান করলে আরাফ হেসে উড়িয়ে দিতো,, বিশেষ করে যখন কলেজে আরাফের সাথে দেখা করলে তার বন্ধুরা সাথে থাকতো,,নুবার খারাপ লাগতো তবে সেই সব কথা কানে নিতো না,,তবে আরহাম এভাবে প্রতিবাদ করায় নুবার মনে আর একটু জায়গা তৈরি করা নিলো,,,
নুবা মুখ তুলে আরহামের দিকে তাকালো,,,cabinet এ বসায় আরহামের থেকে কিছু লাম্বা হয়ে গেছে নুবা,,,
নুবার থুতনি আরহামের কপাল বরাবর ,,নুবা এক গাল হেসে আরহামের লাম্বা সিল্ক গুলো গুলোতে নাক ছুয়ালো,,, অনেক সুন্দর ঘ্রান আসছে,,, অনেক সফ্ট চুল গুলো,,,
নুবা হাত উঁচু করে আরহামের চুল গুলো এলোমেলো করে দিলো,, আরহাম নুবার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার চুল আবার কি দোষ করলো,,
নুবা আরহামের দুই গালে হাত দিয়ে আদুরে কন্ঠে সুধালো
_ কি মাখেন চুলে,,এতো সুন্দর কেন,, সাথে এতো সুন্দর ঘ্রান,,, উফ্,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে নুবার গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ বেশি লাগেনি তো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ ওই চিকনির শরীরে জোর আছে নাকি,আপনি না আসলে আমি এক থাবা দিয়ে দিতাম,,হুম,,
আরহাম এক গাল হেসে বললো
_ ঝগরুটে,,,এতো পকপক করো,,
নুবা ভেংচি কেটে বললো
_ তাহলে চুপ করে থাকবো নাকি,,ডাইনিটা আপনাকে নিয়ে কথা বলছিলো হুম,, আজকে আপনি না আসলে ওর লাম্বা লাম্বা চুল ছিরে ফেলতাম,,একটু সুন্দর দেখে ঢং,,আমরাও কম সুন্দরী নাকি,,
আরহাম মাথা উঁচু করে নুবার থুতনি ঠোঁট হেলিয়ে মিষ্টি কন্ঠে বললো,,,
_ আমার রসো গোল্লা,,
বলেই নুবার থুতনিতে আলতো করে কামড় বসালো,নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ খেএ ফেলবেন নাকি,,,
_ হুম,,পারলে মুখে দিয়ে টুপ করে গিলে ফেলতাম,,,
নুবা খিলখিল করে হেসে উঠলো,,,আরহামের দুই কাঁধ চেপে ধরে বললো
_ আসছে,,টুপ করে গিলে ফেলতাম,, রাক্ষুসে বেডা,,
আরহাম নুবার হাসি দেখে মুগ্ধ হলো,,বিরবির করে বললো
_ চকলেট খাবে,,,
নুবা আরহমের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ চকলেট,,কোথায় পাবেন,,
আরহাম ছোট্ট করে নুবার থুতনিতে চুমু খেএ তাকে ছেঁড়ে ফ্রিজের দিকে এগিয়ে গেলো,,,নুবা উকি চুকি মেরে দেখতে লাগলো কোথায় যাচ্ছে সে,,
পরপর আরহাম ফ্রিজ থেকে একটা Dairy Milk Silk Bubbly নিয়ে এগিয়ে আসলো,,নুবা চোখ বড় বড় করে তাকালো ফ্রিজে চকলেট,,সে তো জানতোই না,,আসলে সে তো ফ্রিজ খুলেই না,,তবে দেখবে কি করে,,
আরহাম নুবার সামনে এসে তাকে টেনে সামনে নিয়ে আসলো,,নুবা ভয়ে দুই পা দিয়ে আরামের কোমর আঁকড়ে ধরে চোখ বড় বড় করে বললো
_ পড়ে যাবো,,,
আরহাম চকলেটের পেকেট খুলতে খুলতে বললো
_ দুই পা দিয়ে কোমড় পেঁচিয়ে ধরো তবে পড়বে না,,
নুবা নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ ছি,, নির্লজ্জ,,,আর নিশ্চিন্তে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেউ যদি চলে আসে,,
_ কেউ আসবে না,,সবাই এক সাথে বলেছে,,আমি mom কে বলে এসেছি যাতে কেউ এদিকে না আসে,, বিশেষ করে তোর মা আর আমার বাপ,, অবশ্য dad এখানে কোনো দিনও আসবে না কিন্তু তোমার মার তো খেয়ে দেয়ে কাজ নেই ডিস্টার্ব করতে চলে আসবে,,
নুবা মুখ কালো করে বললো
_ আবারো কিন্তু অপমান করছেন,,খেয়ে দেয়ে কাজ নেই মানে কি,,
_ এখন আমি কিছু বললেই দোষ,, আচ্ছা আর কিছু বলবোই না,,,
অতঃপর Dairy Milk নুবার দিকে এগিয়ে দিলো,,,নুবা একটু খুশি হলো,, চকলেট মুখে পুরে চিবাতে চিবাতে বললো
_ আপনি কি করে জানলেন এটা আমার পছন্দ,,,
_ আম্মু বলেছিলো,, dad নাকি আগে অফিস থেকে আসার সময় তোমার জন্য এটা নিয়ে আসতো,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হুম,,এটা অনেক আগের কথা,যখন আমি ছোটো ছিলাম তবে কলেজে উঠার পর থেকে এই সব আর খাওয়া হয় না,, আমারি তেমন ভালো লাগে না,,
আরহাম কেমন করে হেসে বললো
_ অভ্যাস করে নেও,,বিয়ের পর প্রতিদিন রাতে একটা করে Chocolate খেএ ঘুমাবে,,
নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ দাঁত নষ্ট হয়ে যাবে,,আর কোন দুঃখে আমি প্রতিদিন খেতে যাবো,,
আরহাম smirk করে বললো
_ সময় হলেই দেখতে পাবে,,
নুবা এক পর্যায়ে খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো,,, অর্ধেক চকলেট খাওয়া শেষ এমন সময় খেলায় করলো আরহাম চেয়েই আছে তার দিকে,,নুবার কেন জেনো লাগলো,,বিরবির করে সুধালো
_ আপনি কি এগুলো খান নাকি,,i think আপনি ঝাল জিনিস পছন্দ করেন,,
আরহাম নুবার কোমড় জড়িয়ে ধরে ভারি কন্ঠে সুধালো,,
_ I like chocolate very much ,, like you,,,
নুবা চোখ বড়বড় করে বললো
_ অসভ্য,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ হুম,, আপনার জন্য,,
নুবাকে কে চকলেট খাওয়ায় অভ্যস্ত করতে চায় আরহাম,,অবশ্য এর বিশেষ একটা কারণ আছে,,এই মেয়ে যা মনে হয় না তাকে বিয়ের পরে ২ মিনিট ও সামাল দিতে পারবে,,, অন্ততপক্ষে ২/৩ ঘন্টা Stay করার জন্য হলেও এই মেয়েকে এগুলোতে অভ্যস্ত করতে হবে,,
নুবা আরহামকে চেয়ে থাকতে দেখে চকলেট এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আপনিও খান,,,না হলে আমার পেট খারাপ হবে,,যেভাবে তাকিয়ে আছেন,,
আরহাম চকলেট হাতে নিয়ে ছোট্ট একটা কামড় বসালো,,,নুবা আরহামের হাত থেকে চকলেট কেড়ে নিয়ে বললো
_ আর খাওয়া লাগবে না,,,
বলেই নিজে খেতে শুরু করলো,,, আরহাম মুখে পুরা টুকরোটার অর্ধেক দুই ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে নুবার দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচালো,,,আরহামের আবদার বুঝতে পেরে নুবা চোখ ছোটোখাটো করে মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,,আবার এঁটো খাওয়াতে চাচ্ছে অসভ্য লোকটা,,,,
আরহাম নুবার চুলের খোঁপা ধরে সামনে নিয়ে আসলো,,নুবা ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ না না,,,
তবে আরহাম এগিয়ে আসলো,,নুবা দুই ঠোঁট ভিতরে নিয়ে মুখ বন্ধ করে চেপে ধরে মাথা ঝুঁকিয়ে না করলো,,
এরকম সুন্দর একটা মোমেন্টে নুবার “না” বোধক শব্দ আরহামেরর পিত্তি জ্বালিয়ে তুললো,,, রাগি চোখে নুবার দিকে তাকানো,,,আরহামের চাহনি দেখে নুবার কপাল চাপড়াতে ইচ্ছা করলো,,,এখন “না” শব্দ টা তার জন্য যেনো হারাম হয়েছে,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,
_ কেউ চলে আসবে,,,
আরহাম এগিয়ে আসলো,,নুবা বুঝতে পারলো আরহাম কি চায়,,পরপর নুবা চোখ মুখ বন্ধ করে কোনো মতে তার ওধর দিয়ে ধরে থাকা চকলেটের টুকরো থেকে একটু মুখে নিলো তবে সরে আসার আগেই আরহাম নিজের সুযোই টুকু লুফে নিলো
নুবার বুক ফেটে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,সে জানতো এই লোকটা এখন এমন কিছু করবে,,,
মিনিট খানিক যেতেই আরহাম নুবাকে ছড়ে দিয়ে বললো
_ Why are you so stubborn, kiss ব্রেক করো না কেন হুম,,,
নুবা ওরনা দিয়ে ঠোঁট মুছে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ আপনি অনেক ফাস্ট, আমাকে সুযোগ দেন নাকি,,,
আরহাম এগিয়ে এসে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
_ আর একটা,,এবার তোমাকে সুযোগ দিবো,,
নুবা কিছুটা দূরে সরে যেএ বললো
_ না,,এখনো আপনি আম্মুর কাছে মাফ চাননি,, আপনার কাছে আসাই কিন্তু আমার ভুল,,,
আরহাম নাক মুখ কুঁচকে বললো
_ কালকে,,এই মূহুর্তে এই সব কথা ভেবে আমার মুড খারাপ করে দিও না,,
নুবা এগিয়ে এসে আরহামের কপালে টোকা দিয়ে বললো
_ না,,,আর না,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে নিলো,,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ তুই বউ হোস না আমার,,না কি করে বলিস,,,মুখে বাঁধে না,,,
নুবা মুখ ঘুরিয়ে বললো
_ নাটক কম করেন আগে বউ হয়ে নি,,
আরহাম নুবার কোমড় জড়িয়ে ধরে ঝাঁঝ লাগানো কন্ঠে বললো
_আমি হারুন মির্জার পুত্র আরহাম শাহারিয়ার মির্জার সাথে ইয়াশ রহমানের একমাত্র কন্যা নুবাইরা রহমান কে নির্ধারিত মোহরানায় বিবাহ করিলাম আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, উপস্থিত সাক্ষী মাটি ,,আসমান,হাড়ি ,পাতিল,,গ্যাসের চুলা,,সামনে, আপনি কি আমাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করিলেন,,
রাজি থাকলে আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলুন,,,
নুবা বড় বড় চোখ করে আরহামের দিকে তাকালো,,,এই লোক বলে কি,,নুবা কোনো এক জায়গায় শুনেছিলো মজা করেও কবুল বলা নাকি ঠিক না,,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ মজা করছেন,,,
আরহাম নুবাকে আরো চেপে ধরে বললো
_ কবুল বলুন,,
নুবা বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আম্মু,রাজি হবে,,
_ কবুল বলুন নুবাইরা,,,আমি চাই একটু হলেও আপনি আমার হয়ে থাকেন,,,মনের ভিতরে যাতে সন্দেহ না থাকে,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে কিছু সময় আরহামের দিকে তাকিয়ে থেকে বিরবির করে বললো
_ আরহাম আপনি,,,,,,
_ নাকি আমাকে বিয়ে করতে চান না,,,এতো ভয় পাচ্ছেন কেন,,
নুবা মাথা নিচু করে কেমন কম্পিত কন্ঠে বললো
_ আলহামদুলিল্লাহ কবুল,,,
_ আবার বলুন,,,
_ আলহামদুলিল্লাহ কবুল,,,
_ আর একবার,,
_ আলহামদুলিল্লাহ কবুল,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো,,,
_ ইয়াশ রহমানের একমাত্র সু কন্যার সাথে,, হারুন মির্জার এক মাত্র বড় পুত্র আরহাম শাহারিয়ার মির্জা নুবাইরা রহমানকে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে স্ত্রী হিসাবে গ্ৰহন করিলাম,,, আলহামদুলিল্লাহ কবুল,, আলহামদুলিল্লাহ কবুল,, আলহামদুলিল্লাহ কবুল,,,
নুবা আরহামের দিকে ছলছল দৃষ্টিতে তাকালো,, হঠাৎ করেই নুবা আরহামকে শক্ত করে জরিয়ে ধরে কেঁদে উঠলো,,আরহাম একটু অবাক হলো নুবার কান্না দেখে,,
এই কবুল শব্দ শুনে নুবার অতীতের কিছু কথা মনে পড়ে গেলো,,,একবার মজা করেই নুবা আরাফকে বলেছিলো
“চলেন আমরা দুই জন দুইজনের নামে কবুল পরি”
আরফ সেদিন বিরক্ত নিয়ে কথা ঘুরিয়ে বলেছিলো
” পরে,,,এই সব ফালতু ব্যপার মাথায় আসে কিভাবে”
সেদিন প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিলো নুবা তবে টু শব্দ করেনি শুধু মাথা নিচু করে ভেবেছিলো আসলেই কি আরাফ তাকে ভালোবাসে,,, সবসময় বিয়ের ব্যপারটা সে এড়িয়ে যায়,, সবসময় ছোটো করে কথা বলে,,
নুবা আগের চিন্তা ফেলে বর্তমানে ফিরে আসলো,,আরহাম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো
_ what happened,,,
নুবা নাক টেনে বললো
_ আপনি সবসময় এমন থাকবেন তো,,
_ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত,,,যত সময় নিঃশ্বাস বন্ধ না হয়,,আর পরোকালে যদি আপনি আমাকে চান তবে অবশ্যই দেখা হবে,,
নুবা মুচকি হেসে আরহামের কাঁধে শরীর ছেঁড়ে দিলো,,,,
_ what happened ,, কান্না করছো কেন,,
নুবা ঠোঁট নাড়িয়ে কান্ত কন্ঠে বললো
_ বিয়ে হয়ে গেলো এখন তো আম্মু কে ছেড়ে শশুর বাড়ি যেতে হবে তাই কান্না করছি,,,
আরহাম মুচকি হাসলো,,পরপর দুই হাত দিয়ে নুবাকে আঁকড়ে ধরে কেবিনেট থেকে নামিয়ে নিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে ভীতু কন্ঠে বললো
_ কি করছেন,,,,
আরহাম পুরো পুরি নুবাকে কেবিনেট থেকে নামিয়ে নিলো নুবা ভয়ে দুই পা দিয়ে আরহামের পেট আঁকড়ে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ অসভ্য লোক ছাড়ুন,,নামবো,, ahhh,,,
নুবার শরীর ঝিম ঝিম করে করে,,, অদ্ভুত লাগছে,,এই লোকটা একটা আস্ত বেয়াদব,,,
নুবা ছটফট করতে লাগলো,,,আরহাম নুবাকে নিয়ে যেএ আর এক পাশের কেবিনেট বসালো,,পুরো Kitchen টা খুবি বড় ,,দুটো বড় বড় বেড রুম হবে এমন বড়ো,,,
নুবাকে বসাতেই নুবা এক ঝাটকায় দূরে সরে গেলো,,, আরহাম নুবার কান্ড দেখে হেসে ফেললো,,নুবা নাক মুখ কুঁচকে সুধালো,,,
_ বেয়াদব,,,
আরহাম একটা প্লেট নিয়ে অল্প কয়টা ভাত নিলো,,সাথে মাংস ছিলো,,আরহামের জন্য especiall করে ঝাল ঝাল তরকারি রান্না করা ছিলো,, আরহাম তা তুলে নিলো,,,
পরপর খাবারের প্লেট এনে নুবার কাছে ধরিয়ে দিয়ে বললো
_ হুম,,একটু মুখে তুলে দেও,,,তখন ভালো মতো খেতেই পারিনি,,,
নুবা কেবিনেট থেকে নেমে হাত ধুয়ে নিলো,,পরপর আবারো কেবিনেটে এসে বসার চেষ্টা করলো তবে এক হাত দিয়ে পারলো না,, আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে কেবিনেটে বসিয়ে দিলো,,,
নুবা ভাত মাখতে মাখতে সুধালো,,
_ এর জন্য ডেকেছিলেন,,
_ হুম,,তবে না,,, বিশেষ করে চকলেটের জন্য,,,
_ চকলেটের জন্য নাকি চুমু খাওয়ার জন্য,,,হুম,,
_ আপনি যা ভাবেন তাই,,
নুবা একটু হেসে বিরবির করে বললো
_ তবে আজকের চুমুটা সব থেকে রসালো আর মাজার ছিলো,,এমনি দিন তো কোনো স্বাদ পাইনি তবে আজকে মিষ্টি মিষ্টি লাগলো,,,,i like it,,,
আরহাম নুবার গাল আলতো করে চেপে ধরে বললো
_ দিন দিন নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছো,,,
_ আপনার সাথে থেকে,,
_তবে মেয়েদের লজ্জা মাখা মুখি বেশি ভালো লাগে,,
_ তাই নাকি,,
বলতে বলতে নুবা আরহামের মুখে খাবার তুলে দিলো,,আরহাম খেতে খেতে বললো
_ হুম,,,
পরপর তাদের ভিতরে অনেক খোশগল্প হতে লাগলো,,,আর আরহাম খেতে খেতে সদ্য বিয়ে করা বউ এর সাথে দুষ্ট কাজ করতে লাগলো,,নুবা বারবার চোখ গড়ম করে না করলো তবে আরহাম কি শুনার মানুষ,,,
আজ বাড়িজুড়ে গায়ে হলুদের আনন্দের ছোঁয়া। চারপাশে সাজসজ্জা, হাসি আর খুশির মেলবন্ধন। হলুদের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ি, আত্মীয়-স্বজনের কোলাহলে মুখরিত উঠোন। সবার মুখে একরাশ আনন্দ, আর নতুন জীবনের শুরু নিয়ে জমে উঠেছে সুন্দর এক মুহূর্ত।
সকালে মেহেদী করা হবে,,,আরশি বলেছে ছোটো করে হলেও মেহেদি অনুষ্ঠান করবে,,,
শুধু আত্মীয় দের ডাকা হয়েছে,,,হাজেরা সকাল সকাল ঘড় গুছিয়ে রাখছে,,নুবা শুয়ে আছে,, কেমন আনন্দ লাগছে তার,,,
এমন মূহুর্তে কেউ দরজায় কড়া নাড়লো,,, হাজেরা দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো আরহাম আয়ারকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,হাজেরা ভাবলো হয়তোবা আয়রাকে দিতে এসেছে তাই না চাইতেও সে এগিয়ে গেলো,,
নুবা শোয়া থেকে উঠে উঁকি মেরে চাইলো,,হাজেরা এগিয়ে যেএ হাত পেতে বললো
_ দেও,,,
আরহাম মেয়েকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ আমি দুঃখী আম্মু,,ও মানে আন্টি,,, কালকে আমার ওরকম আচরন করা সাজেনি,,তবে আমি বুঝতে পারেনি এভাবে একটা বিব্রত কর পরিস্থিতি তৈরি হবে,, please আপনি আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,
নুবা আরহামের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো,,কত সুন্দর করে মাফ চাইছে এই লোক,, বিশ্বাসি হচ্ছে না,, কিন্তু সে তো জানে না এই নিয়ে ২ বার সে তার মায়ের সামনে মাথা ঝুকালো ক্ষমা চাইলো,,
হাজেরা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,,
_ তেমন কিছু মনেকিরিনি আমি,, কারণ আমি জানি তুমি পাগল,,,
আরহাম হাজেরার কথায় হতভম্ব হয়ে গেলো,,কি বজ্জাত মহিলা,,কি সুন্দর করে মাফ চাইলো আর সে ডিরেক্টর পাগল বললো
মায়ের কথা শুনে নুবা ফিক করে হেসে উঠলো,,নুবার হাসির সব হাজেরা আর আরহাম দুইজনেই পেলো,,, আরহাম মুখ কালো করে বললো
_ তাহলে আসি,,
_হুম,,,
বলেই হাজেরা আরহামের মুখের উপর দরজা চাপিয়ে দিলো,,, আরহাম চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে সরে গেলো,,কি দিন কাল চলে আসলো মাফ চেয়েও পাগল শুনতে হচ্ছে,,,
মেহমান আসবে সন্ধ্যার দিকে এখন শুধু কাছের কিছু কাজিন,,আরশির বান্ধবী তারা এসেছে,,,
আরশির রুমে সবাই মেহেদি দিচ্ছে,,, পার্লার থেকে মানুষ এসেছে,,আরশিকে মেহেদী দেওয়া শেষে ভিডিও ফুটের জন্য সাজানো হবে,,, ভাগ্যক্রমে নুবাও একটা মেহেদি পেয়েছে,,
পরি চুপচাপ আরশির রুমের এক কোনায় বসে আছে,,সে আসতে চায়নি তবে আমিনা বেগম মন খারাপ দেখে এনে বসিয়ে রেখছে,,
পরির ডান হাতের তালুতে মলম লাগিয়ে ওরনার তলে ডেকে রেখেছে,,, কারণ তার হাতের তালু আর আঙ্গুল গুলো পুড়ে গেছে,, ফোস্কা পড়বে এমন,,, ইচ্ছা করে কেনি সে কেউ একজন করেছে,,
পরির রাতের কথা মনে পড়তেই শরীরে কাটা দিলো,,,আরহাম যে এতো বড় সাইকো সে আগে জানতো না,,,তখন থাপ্পর মেরেও আরহামের রাগ মিটেনি,,,কত বড় সাহস তার বউ এর গায়ে হাত দেয়,,
রাগ না নিয়ন্ত্রণে আসায় রাত ২ টা বাজে ফুটন্ত গড়ম পানি নিয়ে পরির রুমে গিয়েছিলো,,পরিও সজাগ ছিলো,,, কারণ এতো টেনশন সাথে আরহামের এরকম ব্যবহার তাকে ভিতর থেকে ভেঙ্গে ফেলেছিলো
দরজায় কড়া নাড়তেই পরি জিগ্গেস করেছিলো কে আরহাম গম্ভীর কন্ঠে উত্তর দিয়েছিলো”আমি”,,
আরহামের কষ্ট শুনে পরি ভেবেছিলো হয়তোবা sorry বলতে এসেছে বা কিছু বলতে এসছে কিন্তু দরজা খুলার সাথে সাথে যে আরহাম তার ডান হাত গড়ম পানিতে ডুবাকে কে জানতো,,
আরহাম শুধু নিষ্পাপ পরির হাত গড়ম পানিতে চেপে ধরে গর্জে উঠে প্রথম শব্দ উচ্চারণ করেছিলো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৭
_ চেঁচাবি না,,,
পরি হতভম্ব হয়ে গেছিলো,, আরহাম পরির হাত গড়ম পানিতে চেপে ধরে রাগি কন্ঠে সুধিয়েছিলো
_ এটা সামান্য মাত্র শাস্তি আমার নুবুর গায়ে হাত দেওয়ার next time এরকম করলে জানে মেরে ফেলবো,,,
ভাবনা থেকে বেড় হলো পরি,, আরহাম যে এতো বড় অমানুষ তার জানা ছিলো না,,,সব অমানুষ যেনো তার কপালেই জুটে,,
নুবা হাতে মেহেদি নিয়ে _
