Home জোড়া পাতার দিনলিপি জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৪

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৪

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৪
তোনিমা খান

তালহার উদাসীন মুখে কাবার্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বুকের ভেতর জমে থাকা একটা ভারী দীর্ঘশ্বাস আলতো করে ছেড়ে লক করা ড্রয়ারটি খুলল‌। যেখানে তার জীবনের সবচেয়ে গোপন আর রক্তাক্ত ক্ষতটুকু সযত্নে তোলা থাকে। ড্রয়ারের একবারে নিচে পড়ে থাকা ফাইলটি বের করতেই তার ঠোঁটের কোণে একটা বিষণ্ণ, স্নেহভরা হাসি ফুটে উঠল।
ফাইলটি খুলতেই দুটো কাগজ বেরিয়ে এল। এই দুটো সাধারণ কাগজ তার দুটো হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্বের একমাত্র জাগতিক প্রমাণ। তালহার অপলক চোখে কাগজ দুটোর ওপর চোখ বুলালো। সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা,
বাবার নাম: তালহার মুজাহিদ
মায়ের নাম: বিন্দু মাহমুদ
জেস্টেশনাল এজ: সিক্স উইক।
তার ঠিক নিচেই ভীষণ নির্মমতার সাথে লেখা: মিসড অ্যাবোর্শন।
দ্বিতীয় কাগজটিতেও হুবহু একই তথ্য। শুধু ভ্রূণের বয়সের জায়গায় লেখা, সাত সপ্তাহ।
এবং নিচে সেই একই নিয়তি: মিসড অ্যাবোর্শন।
এই সামান্য কয়েকটা শব্দই জানান দেয়, সে দুটি অনাগত ছোট্ট প্রাণের বাবা। কিন্তু ‘মিসড অ্যাবোর্শন’ ঠিক এই শব্দ দুটিতে এসে থমকে যায় তালহারের আঙুল, থমকে যায় চারপাশের বাতাবরণ। ওই সাইলেন্ট মিসক্যারিজ প্রতিবার তার পিতৃত্বকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। পৃথিবীর কেউ জানল না, অথচ সে শূন্য হাতেই বাবা হয়ে রয়ে গেল।
লেখাগুলোর ওপর খুব আলতো করে, পরম মমতায় আঙুল ঘঁষতে ঘঁষতে তালহার বিড়বিড় করে বলল,

“তোমরা বাবা-মায়ের বুকে না আসলেও, সবসময় বাবা-মায়ের প্রথম এবং দ্বিতীয় সন্তান হয়েই থাকবে।”
সে কিয়ৎকাল কাগজ দুটোকে দেখে আবার আগের জায়গায় রেখে দিল। কাবার্ড বন্ধ করে বিছানার পাশে দাঁড়াতেই অন্তঃস্থল মিইয়ে গেল। দেহে অবসাদ ভর করে। একদম নিস্তেজ দেহে হাত পা ছেড়ে ঘুমাচ্ছে। হাতে ক্যানুলা। ডাক্তার স্যালাইন লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। মাত্রারিক্ত দূর্বলতায় চোখমুখ একদম শুকিয়ে গিয়েছে। সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁটু গেড়ে বসল পাশে। আলতোহাত রেশমের ন্যায় খোলা চুলে ডুবিয়ে দিয়ে কপালে দীর্ঘ সময় নিয়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। গালে গাল ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
‘আবারো লুকিয়ে নেবো তোমায়। আর কখনো কষ্ট পেতে দেব না। এইবারের মতো স্যরি!’
স্ত্রীর ভঙ্গুর অবয়বের মাঝে নিমগ্ন তালহারের ধ্যান ভাঙলো ফোনের তীব্র শব্দে। সে অলসতা ভেঙে এগিয়ে গিয়ে নিজের ডেস্কের উপর থাকা ফোনটি কানে ঠেকালো। মায়ের ফোন। কিন্তু তার দৃষ্টি বাঁকা দৃষ্টি এঁটে আছে কিয়ৎকাল পূর্বে ডাক্তারের দিয়ে যাওয়া প্রেসক্রিপশনটিতে। যেখানে আবারো প্রেগন্যান্সি টেস্ট দেয়া হয়েছে। সেদিন উপেক্ষা করলেও আজ আর উপেক্ষা করতে পারল না বিষয়টিকে। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দৃঢ় হয়। সে তো নিজ দায়িত্বে বিন্দুকে সবসময় পিল খাওয়াতো। তবে এটা কী করে সম্ভব? তবুও সে কাল নিশ্চিত হবে।
বহুদিন বাদ ছেলে ফোন রিসিভ করতেই তানিয়া ভীষণ ক্ষুব্ধ স্বরে বলল,

‘তালহার, কখনো কী বাবা মাকে নিজের জীবনের অংশ বানানো যায় না? বাবা মা কী এমন ক্ষতি করেছি তোর?’
‘কী বলতে চাও?’
তালহার অনাদরেই প্রত্যুত্তর করল। ডান হাতে ব্যস্ততার সাথে আগামীকালকের বাজারের লিস্ট তৈরি করছে। ঘর যে প্রায় শূন্য।
‘তোর আর বিন্দুর মধ্যে কিছু কী হয়েছে? হলে আমাদের খোলাখুলি বল। আমি জানি তোদের মধ্যে কিছু হয়েছে। তোদের এখন আর একসাথে পাই না কেন? গত একমাসে একবার ও দু’জনে ভিডিও কল দিসনি।’
তানিয়া জবাব পেল না বরং তার ফোনে ইনকামিং ভিডিও কল এর ইন্টারফেস ভেসে উঠল। সে কপাল কুঁচকে ভিডিও কল রিসিভ করতেই তালহারের গুরুগম্ভীর মুখটি দেখতে পেল। তালহার নিরুত্তর ফোনটা নিজের থেকে ঘুরিয়ে বিন্দুর মুখের উপর ধরল।
‘ঘুমাচ্ছে। আর কোনো প্রশ্ন?’

তানিয়ার ভেতর থেকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসল। ছেলে মেয়ে যেমনি হোক না কেন। তিনি তো মা। তার সবাইকে সুখী দেখতে ভালো লাগে। বিশেষ করে তার ছোট ছেলেকে। স্বল্পভাষী এই ছেলেটা সবসময় নিজেকে দূরে দূরে রেখেছে।
মায়ের সাথে খোলামেলা ছিল না। তাই তিনি সবসময় চেয়েছে ওকে কেউ বুঝুক। তেমনি এটাও চেয়েছে, তালহার ও কাউকে ভালোবাসুক। এতটা ভালোবাসুক যেন সে তার শক্ত খোলোস ছেড়ে বেরিয়ে আসে। তার চাওয়া তো পূরণ হয়েছে। কিন্তু ছেলেকে আজ ও বদলাতে পারেনি। বরং ভালোবাসার মানুষটিকে সহ নিজেকে দূরে রাখে সবার‌ থেকে।
তিনি নরম স্বরে বললেন,
‘ও এই সময় ঘুমাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ নাকি?’
‘হ্যাঁ। শরীর অনেক বেশি দূর্বল।’
তালহার পুনরায় ডেস্কের কাছে যেতে যেতে বলল।
‘হঠাৎ এমন কেন হলো?’
এই প্রশ্নে তালহার ও ভাবুক হলো। ডক্টর ধারণা করেছে, প্রেগন্যান্সি আর মানসিক চাপের কারণে। কিন্তু এটা কী করে হবে? হলেও তো বিপদ! সে কপালে আঙুল ঘঁষলো। ক্ষীণ স্বরে বলল,
‘কাল হাসপাতালে গিয়ে কিছু টেস্ট করাতে হবে। তারপর বলতে পারব।’
‘আচ্ছা, আমায় জানাবি কিন্তু।’

‘হু।’
‘খেয়েছিস?’
‘নাহ।’
‘কখন খাবি?’
‘বিন্দু উঠলে।’
তানিয়ার বুকের ভেতর শূন্যতা অনুভব হয়। ছেলেটা কেন একটু বাবা মায়ের সাথে মন খুলে কথা বলে না!
ভাবনার মাঝেই তালহার বলল,
‘টাকা পেয়েছ?’
তানিয়ার ছলছল চোখে অভিযোগ। বললেন,
‘মাসে মাসে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা না দিয়ে কখনো তো একটু মন খুলে কথা বলতে পারিস বাবা মায়ের সাথে।’
‘এখন কী করছি?’
‘আমি ফোন করেছি বলে কথা বলছিস। আর কারোর সাথে তো কখনো ফোন দিয়ে একটু কথাও বলিস না।’
‘বউকে ডিভোর্স দাও আর নতুন বিয়ে করে বছর ঘুরতেই একটা বাচ্চা নিয়ে তাদের খুশি করো এটা শোনার জন্য ফোন দিতে বলো?’
তালহারের কণ্ঠে তাচ্ছিল্যের আভাস।
‘সবাই কী এই কথা বলে, তালহার? আর বললেই কী হয়ে গেল না-কি? তুই কী অবুঝ? বাবার সাথে ফোন দিয়ে একটু কথা বলতে পারিস না?’
‘সেও একই কথা বলে। আমি তাদের সাথে ঠিকই কথা বলি যাদের মন মানসিকতা ভালো। কিন্তু কোনো নিচু মন মানসিকতার মানুষের সাথে আমি লোকদেখানো আদিখ্যেতা করতে পারব না। ওগুলো আমার ভেতর থেকে আসে না।’

ছেলের রুক্ষ স্বরে তানিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অভিমানী সুরে বললেন,
‘আচ্ছা, দরকার নেই। অন্তত মায়ের জন্য তো একবার বিন্দুকে নিয়ে বাড়ি আসতে পারিস। আমি তো আর এসব বলি না।’
‘বিন্দু ওই বাড়িতে যাবে না। তুমি যদি পারো তবে কিছুদিনের জন্য ঢাকায় আসো। বিন্দুর শরীর, মন দুটোই খারাপ। একটু ভালো লাগবে ওর।’
‘আচ্ছা।’
‘আম্মু আর আব্বু যদি আসে পারলে তাদেরকেও নিয়ে এসো।’
‘তোর শ্বশুর সারাদিন বিলাপ করে মেয়ের জন্য।’
‘হ্যাঁ, তাদের ও নিয়ে এসো।’
‘আচ্ছা।’
তানিয়া ফোন কেটে আঁচলে চোখ মুছে নিলেন। তানভীরের স্ত্রী তৃশা ছেলের মুখে ভাত দিয়ে শাশুড়ির পানে তাকালেন। তানিয়া অভিযোগ করে বলল,
‘সবসময় নিজেকে এমন সবার থেকে দূরে দূরে রাখে। মা বাবার ভাই, ভাইয়ের ছেলে ভাবির প্রতি কোনো টান নেই।’
তৃশা বলল,
‘সেদিন তো ফোন দিয়েছিল তানভীরের কাছে।’
‘কী বলেছে?’
‘বাবুর সাথে কথা বলেছে শুধু। তানভীর তো তার সেই একই কথা শুনিয়ে দিয়েছে। বিন্দুকে ডিভোর্স দেয়ার কথা।’
‘ওটা আরো একটা অমানুষ! ভাগ্যিস আমার নাতি হয়েছে নয়তো তোমার কপাল পুড়িয়ে ছাড়ত ওই অমানুষটা।’
তানিয়া ক্রুব্ধ স্বরে বলল। তৃশা মলিন হাসল। আসলেই তো, সে ভাগ্যবতী!
=
বিন্দু যখন চোখ খুললো তখন সে তার সাজানো গোছানো সেই সংসারে নিজেকে পেল। সে নড়তে যাবে তখুনি সাবধানি বার্তা আসল।
‘নড়ো না। হাতে ক্যানুলা লাগানো।’
বিন্দু নিজের জায়গায় স্থির রইল। হাতের দিকে তাকাতেই দেখল সুঁইয়ের পাশে রক্ত উঠে এসেছে। তালহার ত্রস্ত পায়ে এসে ক্যানুলাটা খুলে ফেলল। ক্ষতস্থানে একটা টিস্যু চেপে ধরে স্যালাইনের দিকে এক পলক দেখল। স্যালাইন শেষ প্রায়।
বিন্দু হাতটা সরিয়ে নিলো। এই ক্ষততে তার কিছু হবে না। তালহার তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।
‘উঠে এসো। এখন কেমন লাগছে?’
বিন্দু বাড়িয়ে দেয়া হাতটি ধরল না। নিজেই উঠে বসল। ক্ষীণ স্বরে বলল,
‘ভালো।’
তালহার খালি হাতটিকে এক পলক দেখে গুটিয়ে নিলো না বরং আরো জেদের সাথে বিন্দুর হাতটি টেনে নিজের মুঠোবন্দী করে নিলো। নম্র স্বরে বলল,
‘খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই? খাবার নিয়ে আসছি।’

বিন্দুর সত্যিই খিদে পেয়েছে। নাকচ করল না। তালহার দু’জনের খাবার এক প্লেটে নিয়ে রুমে আসলো। মেয়েটির পরনে তার ওভার সাইজ কালো টিশার্ট , ঢিলেঢালা প্যান্ট, কোমর সমান খোলা চুল আর দীর্ঘক্ষণ ঘুমের প্রভাবে ফোলা ফোলা গাল এক অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করছে। তালহারের ওষ্ঠকোনা আলতো বেঁকে যায়।
প্লেট রেখে ঝিমুনি দিয়ে বসে থাকা মেয়েটির চুলগুলোকে হাত খোঁপা করে দিল। পুনরায় হাত ধুয়ে
বিন্দুর সামনে হাঁটু ভাঁজ করে বসে ভাত মাখতে লাগল। বাম হাতে নিজের ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
‘ফয়সালকে ফোন করে বলো, আগামীকাল বাজারে কী কী লাগবে।’
ফয়সাল তাদের সপ্তাহের কাঁচা বাজার সহ মাছ, মাংস সব কিছু আনে। বিন্দু ফোনটি ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
‘আপনার যা ইচ্ছা তাই আনতে বলুন।’
‘সংসারে কী লাগে তা আমার থেকে তুমি ভালো জানো।’
‘সংসার আমি একা করি না। আপনিও করেন। আপনার ও জানা উচিত।’
বিন্দুর নিরুদ্বেগ শক্ত কণ্ঠে তালহার এক পলক শান্ত দৃষ্টি ফেলল। কোনো প্রকার দ্বিরুক্তি না করে বলল,
‘ওকে, এরপর থেকে জানব। তুমি ফোন করো আমি জেনে নিচ্ছি।’
তালহার মেয়েটির মুখে এক লোকমা তুলে দিয়ে বলল। পুনরায় তাড়া দিয়ে বলল,
‘ফোন করো। আমায় জানতে তো হবে।’

বিন্দু থমথমে মুখে ফোন করল ফয়সালকে। প্রয়োজনীয় সবকিছু বলল। সবশেষে তালহার ফোনটি নিয়ে বলল,
‘ফয়সাল, তোমায় আমি একটা লিস্ট পাঠাচ্ছি। ওখানে যেই সব মাছ আর সবজির কথা লেখা আছে তা বেশি বেশি করে আনবে। সকাল ছয়টার মধ্যে তাজা মাছ গুলো এনে দেবে।’
ফয়সাল সায় জানালো। ফোন রেখে বিন্দু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল স্বামী নামক দৃঢ় মানুষটার দিকে। কত যত্ন করে খাইয়ে দিচ্ছে তাকে। কিন্তু ওই দাম্ভিক মুখে আজ সে অন্যকিছু খুঁজছে। তার তিন বছরের দেখা তালহার আর এই তালহার যেন দুটি মুখোশধারী মানুষ। সে তার প্রিয় তালহারের মাঝে ছলনা, মিথ্যা, পাষণ্ডতা খুঁজে পেত না। কিন্তু এই তালহার? আপাদমস্তক জেদ, ছলনা, মিথ্যা আর পাষণ্ডতায় মোড়া।
এটা তার স্বামী নয়। তার স্বামী তো সে যে প্রতি রাতে এসে জোর করে তাকে ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়াতো, যে রোজ সকালে এক কাপ কফি খেতো তার সাথে, যে সর্বদা তার ভালোথাকা চিন্তা করত।
চোখে চোখ পড়তেই তালহার উষ্ণ নিঃশ্বাস ফেলল। নম্র স্বরে জিজ্ঞেস করল,

‘কিছু বলতে চাও?’
‘কিছু শুনতে চাই।’
‘বলো।’
‘আপনি বলবেন?’
‘বলার মতো হলে বলব।’
‘আর না হলে?’
‘এমন প্রশ্ন করবে কেন যা বলার মতো নয়?’
‘ওটা আপনার জন্য হয়তো বলার মতো নয়। কিন্তু আমার জন্য শোনাটা খুব জরুরী। আমি জানতে চাই আমি কার সাথে সংসার করছি!’
বিন্দুর হেঁয়ালিপূর্ণ কথায় তালহার বিরক্তি নিয়ে বলল,
‘হেঁয়ালি করো না। সোজাসুজি বলো।’
‘আমি কী বন্ধ্যা?’
ভাতের লোকমা এগিয়ে দেয়া তালহারের হাতটি থমকে গেল বিন্দুর আচমকা এহেন প্রশ্নে। তার ভ্রু যুগল কুঁচকে আসে।
‘মানে?’
‘আমি বন্ধ্যা?’

‘এইসব কথা কে বলেছে তোমায়? ডক্টর কী বলেছে? তুমি কনসিভ করতে পারছ না কিছু সমস্যার কারণে। কিন্তু কোনো একদিন হয়তো হবে।’
তালহারের চোখেমুখে মৃদু ক্ষোভ ফুটে উঠল।
বিন্দুর চোখ চিকচিক করছে। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল,
‘আমি কী মা হতে পারব?’
‘আল্লাহ চাইলে অবশ্যই পারবে।’
‘আল্লাহ চাইলে না-কি আপনি চাইলে?’
তালহারের বিরক্তি বাড়ছে। সে অসন্তোষের সাথে বলল,
‘কী উল্টাপাল্টা কথা বলছ?’
তালহারের বিরক্তিমাখা কণ্ঠে বিন্দুর চোখের পল্লব একটু একটু করে ভিজতে লাগল। আঁখিদ্বয় রক্তিম হয়ে উঠল। সে ক্ষীণ স্বরে জিজ্ঞেস করল,
‘আমি কী কনসিভ করতে পারছি না না-কি করতে দেয়া হচ্ছে না?’
ভেতরে জেঁকে বসা ভয়গুলো সত্যি হতেই তালহার শুকনো ঢোঁক গিলল। ভীষণ তেষ্টা পেল। শুকনো গলায় বলল,

‘হোয়াট ডু ইউ মিন?’
স্বামীর চোখমুখ থেকে দম্ভ সরে যেতেই বিন্দুর চোখ থেকে টপ করে এক ফোঁটা অশ্রু গড়ালো। শেষ ভরসা টুকু ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ার অসহ্য বেদনা ফুটে উঠল চোখেমুখে। সত্যিটা আর বলতে হলো না। স্বামীকে কঠোর থেকে নিষ্ঠুর হতে দেখে সে বিষন্নতার সাথে স্মিত হাসল। কণ্ঠ আঁটকে আসছে কঠিন বাক্যটি উচ্চারণ করতে। তবুও সে নিজের উপর জোর করে। বেদনাভরা হাসি নিয়ে বলল,
‘এটাই যে আমার স্বামী আমায় ইচ্ছাকৃতভাবে সকলের সামনে বন্ধ্যা বানিয়ে রেখেছে।’
হাতের মুঠোয় থাকা ভাতের দানাগুলো পড়ে যেতে লাগলো অবহেলায়। চোয়ালে বিস্ময়, চোখে প্রশ্ন। এগুলো বিন্দু কী করে জানে? সে ধিমি কণ্ঠে বলল,
‘এগুলো কে বলেছে তোমায়?’
‘কে বলেছে সেটা বড় কথা নয়। আপনি শুধু বলুন এটা সত্যি কি-না!’
বিন্দু কান্না আটকে জিজ্ঞাসা করল।
তালহার থমথমে মুখে বলল,
‘আমি সেটাই করি যেটা তোমার জন্য ভালো।’
বিন্দু কখনো চায়নি কোনো তৃতীয় ব্যক্তি জিতে যাক তার বিশ্বাসের কাছে। কিন্তু? আজ সে নয় বরং তার মাতৃত্ব তার বিশ্বাসের কাছে হেরে গিয়েছে। মেয়েটির চেপে রাখা কান্না টুপটাপ করে ঝড়তে লাগল। সে হতবাক হয়ে বলতে লাগল,
‘ভালো? কোন ভালোর কথা বলছেন আপনি? আপনার বাড়িতে গেলে যে দেখত, সেই কানে কানে জিজ্ঞেস করত ‘আমি বন্ধ্যা কি না!’ এটা ভালো? আপনার বাবা, ভাই আমায় পছন্দ করে না; আপনার ফুপু-খালারা আমায় প্রতিনিয়ত কথা শোনায়, আমি একটা অসম্পূর্ণ মেয়ে বলে! আপনি ঠকেছেন আমায় বিয়ে করে, অন্য কাউকে বিয়ে করলে এতদিনে আপনার কোল আলো করে সন্তান আসত, আপনি বাবা হয়ে যেতেন। এগুলো ভালো?’

বিন্দুর নীরব কান্না ততক্ষণে বুকফাটা ফুঁপিয়ে ওঠায় পরিণত হয়েছে। সে কান্নার তোড়ে কাঁপতে কাঁপতে চেঁচিয়ে বলল,
‘যেখানে আর পাঁচটা মেয়ে নিজের গর্ভে নিজের রক্ত-মাংসের একটা অংশ ধারণ করতে পারছে, সেখানে আমি শুধু দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের দেখি আর চোখ জুড়াই। আমি জানি না ভেতর একটা প্রাণকে নয় মাস নিজের ভেতর লালন করার অনুভূতি ঠিক কতটা সুখকর হয়। আমি জানি না, নিজের সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর সুখ কাকে বলে। আমি জানি না নিজের সন্তানের মুখে ‘মা’ ডাক শোনার অনুভূতি কেমন হয়!
সবার কোলজুড়ে তার নিজের অংশ থাকে, অথচ আমার কোলজুড়ে শুধু এক আকাশ শূন্যতা থাকে, তালহার। আমার ভীষণ মন খারাপ করি, নিজেকে ছোট লাগে, নিজেকে অসম্পূর্ণ খুঁতযুক্ত মনে হয়। তীব্র একটা শূন্যতা আর হীনমন্যতা আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় আপনার পাশে চলতে গেলে। এটা কি ভালো তালহার?’
বিন্দুর পুরো দেহ থরথরিয়ে কাঁপছে রাগে, দুঃখে, যন্ত্রণায়। তার চোখ টকটকে লাল হয়ে আছে। তালহার সেই লালচে করুণ চোখের পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ওটা আদোতে কোনো মেয়ের আক্ষেপ ছিল না বরং একটা মায়ের আর্তনাদ ছিল। যেটা সহ্য করা খুব কঠিন!
তালহার ও পারল না। ছোট্ট করে বলল,

‘তুমি অসুস্থ, বিন্দু।’
সহসা বিন্দু আরো দ্বিগুণ বেগে গর্জে উঠল।
‘আমি অসুস্থ নই। আপনি আমায় অসুস্থ বানিয়ে রেখেছেন! আপনি আমার আত্মাটাকে প্রতিদিন একটু একটু করে খুন করেছেন। সবার অবহেলা আর করুণার পাত্রী হয়ে যখন আমি ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছিলাম, তখনও আমি আপনার ওপর ভরসা রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, ভাগ্য হয়তো খারাপ, কিন্তু আমার স্বামী তো আমার পাশে আছে। অথচ আজ কী দেখছি? যার বুকে মাথা রেখে আমি দুনিয়ার সব অপমান ভুলে যেতাম, সেই মানুষটাই আমার মাতৃত্বের গলা চেপে ধরে রেখেছে!
আমি আপনার কাছে ভালোবাসা আর মাতৃত্ব ছাড়া কখনো কিছু চাইনি। কিন্তু আপনি কী করলেন? আমি দিনের পর দিন আপনার সামনে তরপেছি তারপরেও আপনি আমায় পঙ্গু করে রেখেছেন। এই আপনার ভালোবাসা? এই আপনার ভালো‌ চাওয়া? এর চেয়ে আপনি আমাকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেললেন না কেন!’
তার গর্জন আর দৈহিক কম্পনে হাত খোঁপা টা খুলে ছড়িয়ে পড়ল মুখের চারপাশে। একটি বিধ্বস্ত অবয়ব, একটি নিঃসাড় চাউনি। তালহার রক্তিম ওই ভেজা চোখে চেয়ে পুনরায় বলল বলল,
”আমি কোনো মিথ্যা বলছি না। তোমার অ্যান্টিফসফোলিপিড সিন্ড্রোম রয়েছে। যার কারণে প্রতিবার তোমার আর্লি মিসক্যারিজ হয়। তুমি সহজে বেবি কনসিভ করতে পারবে না। করলেও সেটা তোমার প্রাণের জন্য হুমকিস্বরূপ।’

‘আমার অসুখ রয়েছে আর আমি জানি না তাই না? আপনি আর কত মিথ্যা বলবেন?’
বিন্দু ঘৃণাভরা শ্রান্ত কণ্ঠে বলল।
‘তোমায় কখনো জানতে দেয়া হয়নি।’
‘কেন?’
‘তোমার দ্বিতীয়বার যখন মিসক্যারিজ হলো তখন ডক্টর যখন তোমায় জানালো, যে তোমার প্রেগন্যান্সিতে কমপ্লিকেশন রয়েছে। হাই রিস্কি প্রেগনেন্সি। তখন তুমি কী জবাব দিয়েছিলে মনে আছে?’
তালহারের কথায় বিন্দু দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
‘নাহ।’
তালহারের মুখে বিষন্ন হাসি ফুটে উঠল। মনে নেই। অথচ ওই এক কথার জোরে আজ পর্যন্ত সে কত কী করে এসেছে। সে ক্ষীণ স্বরে বলল,
‘তুমি তখন খুব দৃঢ়তার সাথে বলেছিলে, যা হয়ে যাক না কেন তুমি প্রস্তুত বেবি কনসিভ করার জন্য। যেভাবেই হোক না কেন তোমার বাচ্চা চাই। তাতে যদি তোমার প্রাণ ও যায় তোমার কোনো আক্ষেপ নেই।’
তালহার খুব নিখুঁতভাবে সেই কথাগুলো উল্লেখ করল যেটা এক বছর আগে বিন্দু বলেছিল। তার চোখ বিন্দু্র টলটলে চোখে স্থির। বিন্দু তাকে স্থির দৃষ্টিতে দেখতে দেখতেই তেজি কণ্ঠে বলল,
‘আমি আজ ও একই কথা বলছি, যেভাবেই হোক না কেন আমি বাচ্চা চাই। তাতে যদি আমার প্রাণ ও যায় আমার কোনো আক্ষেপ নেই। কিন্তু তবুও আমি কারোর মুখে ‘বন্ধ্যা’ নামক কটুক্তি শুনতে চাই না। ওটা আমায় ভেতর থেকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়।’

বিন্দু অশ্রুরুদ্ধ কণ্ঠে বলল। তালহারের চোখ রক্তিম হয়ে উঠল অবিলম্বে। চোখেমুখে আঁছড়ে পড়ল কঠোরতা। সে চোয়াল শক্ত করে ক্রুব্ধ কণ্ঠে বলল,
‘ঠিক এর জন্য! ঠিক এর জন্যই আমি আজ পর্যন্ত তোমাকে কখনো জানতে দেইনি এই কথা। তোমাকে আমার থেকে ভালো কেউ চেনে না, বিন্দু। ইউ আর অ্যান ইমশোনাল ব্লাইন্ড গার্ল। তাই আমি যা করেছি একদম ঠিক করেছি। আমি তোমায় সুস্থ সবল দেখার জন্য এমন হাজারবার মিথ্যা কথা বলতে পারব। হাজারবার নিজের পিতৃত্ব ত্যাগ করতে পারব। এন্ড আই হ্যাভ নো রিগ্রেট! আই ডোন্ট নিড বেবি। আই অ্যাম হ্যাপি।’
‘কিন্তু আমি হ্যাপি না। আমার বাচ্চা চাই। আমি মা হতে চাই।’
বিন্দু চেঁচিয়ে উঠল অসহায়ত্ব ভরা কণ্ঠে। তালহার কঠোর গলায় বলল,
‘বাচ্চা চাও। ওকে ফাইন! আমরা বাচ্চা এডপ্ট করে নেব। দুনিয়ায় এমন অনেক বাচ্চা আছে যারা বাবা মায়ের অভাবে দুঃখে দুঃখে মরছে। আমরা তাদের মধ্যে কারোর বাব মা হবো। বাবা মা হওয়া কোনো কঠিন বিষয় নয় আজকাল।’

‘আমি ওভাবে মা হতে চাই না। আমি নিজের গর্ভে একটা ছোট্ট প্রাণ লালন করতে চাই। তাকে নিজের দুধ খাওয়াতে চাই। তাকে নিজের হাতে বড় করতে চাই। তার মুখে মা ডাক শুনতে চাই, তালহার।’
বিন্দু অশ্রু রুদ্ধ কণ্ঠে চেঁচালো।
তালহার রাগান্বিত স্বরে ধমকে উঠল,
‘নো মোর আর্গুমেন্ট বিন্দু। তুমি অবুঝ হওয়ার ভান করবে না। একটা বাচ্চা কখনোই তোমার শরীরের থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই নিয়ে আর একটাও তর্ক করবে না। আর লোকের কথা শুনে মন খারাপ ও করবে না। তাদের খুশি করার কোনো প্রয়োজন নেই। তুমি মরে গেলে তাদের কিছু যায় আসবে না। আমরা ভালো আছি এভাবেই। এর থেকে আর বেশি কিছু চাই না।’
কঠোর গলায় বলেই তালহার ভাতের প্লেট নিয়ে বেরিয়ে যায়। বিন্দুর খাওয়া হয়ে গেলেও তার খাওয়ার ইচ্ছে ততক্ষণে মরে গিয়েছে। তার মাথায় শুধু ঘুরছে, বিন্দু এই কথা কী করে জানলো? সকালে হাসপাতালে গিয়েছিল তখন কী ডক্টর বলে দিয়েছে?
সে চোখেমুখে পানি দিয়ে নিজের রাগ দমায়। ডক্টর বলেছে বিন্দু মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে আছে। তাকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাখতে হবে। সে নিজেকে সামলে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।
রুমে ঢুকতেই দেখল বিন্দু সেভাবেই এলোমেলো ভাবে প্রাণহীন বদনে বসে আছে। সে পুনরায় মেয়েটির এলোমেলো চুলগুলো বেঁধে দিয়ে বেডসাইড মিনি কাবার্ড থেকে রোজকার ওষুধগুলো বের করে দিল। পানির বোতল হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

‘খেয়ে নাও।’
বিন্দু চারটা ওষুধের পানে তাকালো। অতঃপর তালহারের দিকে। তালহারকে কাবার্ডের কাছে যেতে দেখে সে দ্রুত ওষুধ গুলো খাটের নিচে ফেলে দিয়ে পানি খেয়ে নিলো।
তালহার ফিরে আসে আরো একটা টিশার্ট হাতে। ঘেমে ওঠা মেয়েটির পানে এগিয়ে দিয়ে বলল,
‘পরে নাও।’
বিন্দু কলের পুতুলের মতো টিশার্ট বদলে নিলো। তালহার নিজেও বদলে নিলো। ঘড়িতে বাজে রাত বারোটা। আজকের জন্য মন মানসিকতা সবকিছুর জন্যই একদম মরে গিয়েছে। কাজে বসতে পারবে না। একটু ঘুম প্রয়োজন। পরক্ষনেই তার কিছু মনে পড়ল। চকিতে বিছানায় পাথরের ন্যায় বসে থাকা মেয়েটির দিকে তাকালো। জিজ্ঞেস করল,
‘এখন কী করবে? এতক্ষণ ঘুমানোর পর তো এখন আর ঘুম আসবে না। বই পড়বে? নাকি অন্যকিছু খাবে?’
বিন্দু একই রকম পাথরের ন্যায় বসে জবাব দিল,
‘ঘুমাব।’
তালহার একটু দম নিলো। মৃদু সতর্ক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
‘তোমার পিরিয়ড সারকেল ঠিক আছে?’
বিন্দু মুখ তুললো। মস্তিষ্কে চলা রক্তক্ষরণ তখনো প্রদাহ সৃষ্টি করছে। অনুভূতিহীন কণ্ঠে বলল,
‘ঠিক না থাকার তো কোনো কারণ নেই। চাহিদা মেটানোর পর আপনি নিজ দায়িত্বেই তা নিশ্চিত করেন।’
‘চাহিদা’ শব্দটুকু শুনেই তালহারের চোয়ালে পুনরায় ক্রোধ ফুটে উঠল। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
‘সম্পর্কটাকে এতটা নিচু পর্যায়ে নিয়ে যেও না। কখনো তো নিজের ভালোটা বোঝার চেষ্টা করো।’
বিন্দুর চোখেমুখে তাচ্ছিল্য। তার কথা উপেক্ষা করল। বলহীন দেহে মলিন মুখে বলল,
‘আগে ভাবতাম আপনি আমায় ভালোবেসে রোজ সকালে আমার সাথে এক কাপ কফি খান। তাও আবার আমার টেস্ট অনুযায়ী। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, আমি তিন বছর একজন মস্তবড় অভিনেতার সাথে সংসার করেছি। আপনি স্বার্থপর তালহার!’

‘আর আজীবন এই স্বার্থপরের সাথেই তোমায় সংসার করতে হবে।’
তালহার কঠিন চোখে চেয়ে বলল। বিন্দু নিরুদ্বেগ। তালহার বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। প্রিশাকে খাবার দিকে এসে ঘরের লাইট নিভিয়ে দেয়।
জীবন আর সম্পর্কের দ্বন্দ্বকে দূরছাই করে বিছানার এক কিনারায় গুটিয়ে শুয়ে থাকা মেয়েটিকে বক্ষমাঝে জড়িয়ে নিলো। পেছন থেকে শক্ত বাঁধনে আবদ্ধ হতেই বিন্দু চোখ মেলে তাকালো। তালহার তার চুলের গোছায় চুমু দিয়ে নম্র স্বরে বলল,

‘জীবনটা সুন্দর। একটা অপূর্ণতা নিয়ে পড়ে থেকে জীবনটাকে নষ্ট করো না। পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যার সব স্বপ্ন পূরণ হয়। কিন্তু তাই বলে যা আছে তা পায়ে ঠেলে দেয়া বোকামি। যা আছে তা নিয়েই ভালো থাকতে হয়। আমরা এভাবেই ভালো থাকব। মানুষের কথা কখনো গায়ে মাখব না। বরিশালে কখনো যেতে হবে না তোমায়। দরকার পড়লে আব্বু-আম্মু আর সৃজনকেও ঢাকায় নিয়ে আসব। তুমি এন টি আর সি এর পরীক্ষা দেবে। চাকরি হলে চাকরিও করবে। ব্যস্ত জীবন যাপন করলে এসব ভুলে যাবে। ছোট্ট জীবনটাকে উপভোগ করো নিজের মতো করে।’

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৩

তালহারের শেষের কণ্ঠে অনুনয় ছিল। কিন্তু বিন্দুর তাতে একটুও মনোযোগ নেই। তার দৃষ্টি আর মনোযোগ এঁটে আছে নিজের উদরে লেপ্টে থাকা তালহারের হাতের পানে। তার ঠোঁটের কোনে ম্লান হাসি। অন্তঃস্থল বলে উঠল,
‘এটাই তোমার বাবার শেষ আদর। মন ভরে বাবাকে অনুভব করে নাও।’
সে আবার চোখ বুজলো। মস্তিষ্কে শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে।
‘স্বামী নামক মানুষটির বাবা হওয়ার কোনো অধিকার নেই।’

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here