Home আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ২

আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ২

আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ২
সাবিলা সাবি

ঘড়িতে তখন রাত একটা বেজে পনেরো মিনিট। রুমের লাইটটা অন করেই ভাইপার সোজা চলে গেল নিজের একান্ত ক্লোজেটের সামনে, এক টান দিয়ে খুলে ফেলল দরজাটা।
সাধারণ মেয়েদের ক্লোজেটে যেখানে নানারকম রঙিন, স্টাইলিশ পোশাকের ভিড় থাকে, এখানে তার ছিটেফোঁটাও নেই। ভেতরের পুরোটা জুড়েই শুধু কালো রঙের রাজত্ব—তবে তার প্রতিটিই অত্যন্ত দামি ব্র্যান্ডের। একপাশে অন্তত পঞ্চাশটা লুজ ব্ল্যাক হুডি, বিশেক শার্ট, আর অগনিত টি-শার্ট আর ব্যাগি প্যান্ট ঝুলছে। আর ঠিক তার পাশের র‍্যাকগুলোয় থরে থরে সাজানো নাইকি ( Nike) ব্র্যান্ডের শখানেক জুতো। সে একটা কালো হুডি বের করে চটপট গায়ে গলিয়ে নিল। এরপর পছন্দের একজোড়া জুতো পরে ফ্লোরে বসল। জুতোর ফিতা দুটো টেনে ধরে নিখুঁত একটা গিঁট দিলো। ফিতা বাঁধার শেষ টানটা দিতেই ভাইপারের চোয়ালটা একবার শক্ত হয়ে উঠল। ড্রেসিং টেবিল থেকে কোনো ভ্যানিটি ব্যাগ নয়, নিজের পছন্দের ওই একই ব্র্যান্ডের একটা কালো ওয়ালেট পকেটে পুরে নিল। আর সবশেষে মুখটা আড়াল করল একই ব্র্যান্ডের কালো মাস্কে। হুডির ক্যাপটা কপাল অব্দি টেনে যখন আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, তখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সেই ভয়ংকর ‘ভাইপার’ ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই।

আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকাল সে। পুরো দুনিয়া এই চোখ দুটো দেখলে ভয়ে কাঁপে, পুরো দুনিয়া তাকে চেনে ‘ভাইপার’ নামে। কিন্তু সে নিজে তো জানে, এই অন্ধকারের আড়ালে ওর একটা আসল সুন্দর পরিচয় আছে। যে নামটা ও সাত বছর ধরে বুক পকেটে লুকিয়ে রেখেছে, আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই নামটাই ওর মনে দোলা দিয়ে গেল ‘নুজহাত হিয়া’ মনে মনে নামটা আওড়াতেই এক বুক হাহাকার দলা পাকিয়ে উঠল বুকের ভেতর। নুজহাত হিয়া—নামটার অর্থ ছিল পবিত্র হৃদয়। বাবা কত আদর করে এই নামটা রেখেছিলেন! কারন ওর মনটা ছিলোই পবিত্র। অথচ নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! নামের অর্থ যার পবিত্র হৃদয়, সে আজ এই নরকের সবচেয়ে অপবিত্র এক সত্তা। যার হাত লোহিত রক্তে রাঙা, যার প্রতিটি নিঃশ্বাসে এখন শুধুই বিষাক্ততা। যে নামটা একসময় ক্যাম্পাসের করিডোরে দূর থেকে লিওনের চেনা চাউনির সামনে লজ্জায় রাঙা হতো, আজ সেই নামটাকে পুরোপুরি কবর দিয়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ভয়ংকর ইতিহাস তৈরি হয়েছে ‘ভাইপার’। তার বয়স মাত্র পঁচিশ বছর, কিন্তু এই অল্প বয়সেই সে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আয়নায় ভেসে ওঠা মানুষটার গায়ের রঙটা আর দশটা সাধারণ ফর্সা মানুষের মতো নয়; পাকা গমের মতো অতিরিক্ত হলদে ফর্সা, যাকে এক নজরে খাঁটি গমরঙা বলা চলে। এই উজ্জ্বল হলদেটে চামড়ার নিচে চোখ দুটো বরফের মতোই ঠান্ডা আর তীক্ষ্ণ। নিজের সেই গমরঙা চোয়ালে একবার হাত বুলাল সে।

এই পঁচিশ বছরের শান্ত অবয়বের আড়ালে যে কতটা ভয়ংকর এক খুনে মস্তিষ্ক লুকিয়ে আছে, তা বাইরের দুনিয়া টের পাওয়ার আগেই সে তার পরবর্তী চাল চালতে প্রস্তুত। অতীতকে আর এক মুহূর্তও প্রশ্রয় দিল না সে। স্লাইডিং ডোরটা একপাশে সরিয়ে সে পা বাড়াল বারান্দার ঘুটঘুটে অন্ধকারের দিকে।
বারান্দায় পা রাখতেই রাতের হিমেল বাতাস তার কালো হুডির ওপর দিয়ে ছুঁয়ে গেল। সে ঠোঁট দুটো গোল করে মাঝরাতের নিস্তব্ধতা চিরে একটা তীক্ষ্ণ শিস দিল। নিস্তব্ধতা ভেঙে পরক্ষণেই ডানা ঝাপটানোর ভারী একটা শব্দ হলো। অন্ধকার ফুঁড়ে ডানা মেলে নেমে এলো এক রাজকীয় গোল্ডেন ঈগল। ওর বাঁ কাঁধে এসে যখন বসল ঈগলটা। ভাইপারের ঠোঁটের কোণে তখন মৃদু হাসি। ওটাই ‘শ্যাডো’, ওর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। হুডির মোটা কাপড় ভেদ করে ঈগলের তীক্ষ্ণ নখের চাপ অনুভব করল সে। তবে ভাইপার বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ওর লেদার গ্লাভস পরা হাতটা বাড়িয়ে দিল, আলতো করে হাত বুলাল শ্যাডোর সোনালী পিঠে। শ্যাডোর চোখের দিকে তাকিয়ে সে একদম শীতল, নিস্পৃহ স্বরে বলল, “সারাদিন অনেক নজরদারি করেছিস শ্যাডো… এবার একটু বিশ্রাম নে। আমি একটু বের হবো।” শ্যাডো যেন ওর কথা বুঝতে পেরেই হালকা একটা ডাক দিয়ে মাথাটা নোয়াল। লিওনের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজরদারি করার জন্য কোনো জড় সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজন পড়ে না ভাইপারের।

এই শ্যাডো নিজেই এক জ্যান্ত হিডেন ক্যামেরা। ওর ধারালো চোখের ঠিক নিচেই পালকের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অতি ক্ষুদ্র লেন্সটা লিওনের অজান্তেই তার প্রতিটি মুহূর্তের ছবি পৌঁছে দেয় ভাইপারের স্ক্রিনে। ঘড়ির কাঁটার সাথে পাল্লা দিয়ে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না ভাইপার। শ্যাডোকে রেলিংয়ে ছেড়ে দিয়ে সে ঘুরে দাঁড়াল। করিডোরের ঘুটঘুটে অন্ধকারের বুকে সে যখন পা বাড়াল, তখন কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল এক শিকারীর নিখুঁত শীতলতা। চোখের পলকে তার কালো অবয়বটা সেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
মাঝরাত পার করে যখন লিওন বাড়ি ফিরল, সদর দরজার লক খোলার মৃদু আওয়াজটা নিস্তব্ধ ঘরে বেশ স্পষ্ট শোনাল। চওড়া করিডোরটা পেরিয়ে ডাইনিং টেবিলের হালকা আলোর রেখা চোখে পড়তেই লিওন থমকে গেল। সেখানে তখনও তার জন্য অপেক্ষা করছেন বাবা আর্থার হায়াস, মা শিরিন হায়াস আর তার ফুফাতো বোন মায়া। লিওনকে দেখেই শিরিন হায়াস ব্যস্ত হয়ে উঠলেন। প্লেটে ধোঁয়া ওঠা খাবার বেড়ে দিতে দিতে আক্ষেপের সুরে বললেন, “প্রতিদিন এত রাত করে ফিরলে শরীর টিকবে কী করে বাবা? নিজের ওপর একটুতো দয়া কর।”
চেয়ারটা টেনে বসার সময় লিওনের মুখে ফুটে উঠল এক চিলতে ক্লান্ত হাসি, “কী করব বলো মা? হুট করে ডিপার্টমেন্ট থেকে অনেক বড় আর জটিল একটা কেসের দায়িত্ব পড়েছে ওপরে। একদম দম ফেলার সময় পাচ্ছি না।”

রাতের খাবারের মাঝেই আর্থার হায়াস সাহেব গলার স্বর কিছুটা গম্ভীর করলেন। ওনার স্বভাবসুলভ ব্রিটিশ টোনে বললেন, “লিওন, বয়স তো একত্রিশ পেরিয়ে গেল। এখনো যদি থিতু না হও, তবে কবে হবে? আমি চাচ্ছিলাম খুব দ্রুত তোমার আর মায়ার বিয়েটা দিয়ে দিতে। মায়ার সাথে এনগেজমেন্ট হয়েছে আজ অনেক মাস হয়ে যাচ্ছে।”
মায়া চুপচাপ মাথা নিচু করে নিজের প্লেটের খাবার নাড়ছিল। বাইশ বছরের আদুরে মেয়েটার চোখের কোণে এক চিলতে অভিমান ধরা দিলো। শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে এই বাড়িটাই তো ওর সব। লন্ডনের পিওর ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত মামা আর্থার হায়াস আর বাংলাদেশের মেয়ে মামি শিরিন হায়াস—এই দুই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ ওকে কখনো অনাথ হতে দেননি, নিজেদের মেয়ের মতোই বুকে আগলে বড় করেছেন।
বাবার দিকে তাকিয়ে লিওন কিছুটা ইতস্তত করল, তারপর ধীর গলায় বলল, “বাবা, আমি এনগেজমেন্ট করেছি ঠিকই, কিন্তু বিয়ে করতে আমার সত্যিই ভয় হয়। আমি সিআইডি-তে কাজ করি, যেখানে প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে বাজি রেখে চলতে হয়। আমার এই জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই, কখন কী হয়ে যায় কেউ জানে না। মায়া বড্ড ভালো মেয়ে ড্যাড, ও আমার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর একটা জীবন ডিজার্ভ করে। আমার মতো একজন অনিশ্চিত মানুষের সাথে জড়িয়ে ও হয়তো কোনোদিন সুখী হতে পারবে না।”
লিওনের কথাগুলো শেষ হতেই ডাইনিং টেবিলে এক ভারী নীরবতা নেমে এল। শিরিন হায়াস এক বুক হতাশা নিয়ে ছেলের মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। আর মায়া? মায়ার চোখের কোণে ততক্ষণে জল জমে উঠেছে, কিন্তু ও একটা শব্দও উচ্চারণ করল না; শুধু ভেতরের কষ্টটা বুকের গভীরে চেপে রাখল।
ডাইনিং টেবিলের থমথমে ভাবটা কাটাতে শিরিন হায়াস নিজেই উদ্যোগ নিলেন। বাটিগুলো এক জায়গায় জড়ো করতে করতে ওনার চেনা কণ্ঠটা কিছুটা ভারী শোনাল, “আজ সকালেই তোর বড় আপা অ্যামেলিয়ার সাথে কথা হলো। বাংলাদেশে নাকি এখন প্রচণ্ড গরম পড়েছে। তাও ও বলল, ভাইয়ের বিয়ের খবর পেয়ে জামাইকে নিয়ে ও খুব জলদিই ঢাকা থেকে এখানে ছুটে আসবে। বড় বোন তো, ভাইয়ের বিয়েতে ও না থাকলে কি জমে বল?”

মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে লিওনের ভেতরের গম্ভীর ভাবটা একটু কাটল। সে হালকা হেসে বলল, ” সিস্টার আসছে… ভালোই হবে তাহলে। আমি ভাবছি ডিপার্টমেন্ট থেকে এবার কিছুদিন ছুটি নিয়ে নেব। অনেকদিন সবাই মিলে কোথাও যাওয়া হয় না, সুন্দর একটা ফ্যামিলি ট্যুর দেওয়া যাবে।”
লিওনের কথা শেষ হতে না হতেই আর্থার হায়াস সাহেব ওনার পানির গ্লাসটা টেবিলে রাখলেন। ওনার গম্ভীর মুখে তখন এক চিলতে শক্ত অথচ রসিকতার আভাস ফুটে উঠলো, ওনার চেনা ব্রিটিশ টোনে তিনি বললেন, “ফ্যামিলি ট্যুর নয় লিওন। ছুটিটা তুমি নেবে ঠিকই তবে সেটা মায়াকে নিয়ে হানিমুনে যাওয়ার জন্য!”
আর্থার হায়াস সাহেবের মুখে সরাসরি ‘হানিমুন’ শব্দটা শুনে মায়ার ফর্সা গাল দুটো মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে উঠল। সে লজ্জায় আর এক সেকেন্ডও সেখানে বসে থাকতে পারল না। হাতের চামচটা প্লেটের ওপর রেখেই সে তড়িঘড়ি করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। মাথা নিচু করে ডাইনিং স্পেস ছেড়ে নিজের রুমের দিকে প্রায় দৌড়েই চলে গেল। মায়ার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে শিরিন হায়াস বরের দিকে চোখ রাঙালেন। তারপর বাটি হাতে রান্নাঘরের দিকে এগোতে এগোতে আর্থার সাহেবকে মৃদু ধমকের সুরে বললেন, “তুমিও পারো বটে! এতো সেইমলেস কিভাবে তুমি? সবার সামনে একটা ত্রিশ-একত্রিশ বছরের এতো বড় ছেলের সাথে ওভাবে কেউ রসিকতা করে? এদিকে বাচ্চা মেয়েটা লজ্জায় পালাল দেখছ?”
ওদিকে মায়ার ওভাবে চলে যাওয়া আর মায়ের ধমক শুনে লিওন চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেল। সে নিজের চুলগুলো হাত দিয়ে একটু ঘেঁটে বাবার দিকে তাকিয়ে থতমত খেয়ে বলল, “ড্যাড! তুমিও না… কী যা তা বলছ সবার সামনে!”
আর্থার হায়াস সাহেব অবশ্য নিজের জায়গায় একদম অবিচল রইলেন। ওনার মুখে তখনও এক চিলতে রহস্যময়, তৃপ্তির হাসি।

দরজার পাসকোড চেপে নিজের রুমে ঢুকেই দরজাটা আটকে দিল লিওন। গা থেকে ভারী জ্যাকেটটা খুলে চেয়ারের পিঠে ছুড়ে ফেলার মাঝেই সে বসে পড়ল তার ল্যাপটপের সামনে। আর কোনো দিকে মন দেওয়ার সময় নেই তার, আজকের কেসের জটটা খুলতেই হবে। সে দ্রুত নিজের অফিসের কেবিনের সিসিটিভি ফুটেজটা ল্যাপটপে চালু করল। ফুটেজ ফরওয়ার্ড করতে করতে ঠিক যে সময়টায় সে কেবিনে ছিল না, সেখানে এসে স্পিড স্বাভাবিক করল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই হঠাৎ তার ভ্রু কুঁচকে গেল, চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে উঠল।
কোনো মানুষ নয়, কেবিনের খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকল একটা বিশাল ঈগল পাখি! পাখিটা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে টেবিলের পেপারওয়েটের নিচে সেই রহস্যময় চিরকুটটা রেখে দিল, তারপর ডানা ঝাপটে আবার মিলিয়ে গেল রাতের আকাশে।
লিওন স্ক্রিনটা পজ করে দিল। চেয়ারে হেলান দিয়ে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবল, ‘তার মানে কোনো মানুষ ভেতরে ঢোকেনি। এই ঈগলটা সম্ভবত ভাইপারেরই পোষা প্রাণী! ট্রেইনড ঈগল দিয়ে সে চিরকুট পাঠিয়েছে।

ঠিক তখনই দরজার ডিজিটাল প্যানেলে পাসকোড চাপার মৃদু একটা শব্দ হলো। লিওন ল্যাপটপের স্ক্রিনটা কিছুটা নামিয়ে দিতেই দেখল, হাতে কফির মগ নিয়ে মায়া এসে ঘরে ঢুকছে। সে ভেতরের দিকে এগিয়ে এসে কফির মগটা টেবিলের একপাশে নামিয়ে রাখল। মায়ার চোখের কোণটা এখনো হালকা লালচে হয়ে আছে, তবে সে এখন স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে।
কফিটা এগিয়ে দিয়ে মায়া নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, “ভাইপারের কেসটা নিয়ে কি খুব বেশি ঝামেলায় আছ? ও কি খুব বিপজ্জনক কেউ লিও ভাইয়া?”
লিওন কফির মগে একটা চুমুক দিয়ে জানালার বাইরের অন্ধকার আকাশটার দিকে তাকাল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, “এই কেসের জট এত সহজে খুলবে না মায়া। পুরো ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপিয়ে দিচ্ছে এই অপরাধী। এটা কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, খুব বড়সর একটা আন্তর্জাতিক চক্র এর পেছনে কাজ করছে। একে হাতের মুঠোয় আনা মোটেও সহজ কাজ না।”
এটুকু বলেই চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল লিওনের। সিআইডি অফিসারের সেই চেনা জেদ আর আত্মবিশ্বাসটা আবার ফিরে এলো তার চোখের দৃষ্টিতে। মায়ার দিকে তাকিয়ে একটা দৃঢ় হাসি দিয়ে বলল, “তবে লিওনার্দো হায়াসের ডিকশনারিতে অসম্ভব বলে কোনো ওয়ার্ড নেই। ও যত বড় চক্রই চালাক না কেন, ওকে আমি ধরবই। আমার হাতে ও ধরা পড়বেই, এটা আমার প্রমিস।”

মায়া কিছুক্ষণ চুপচাপ লিওনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা লিও ভাইয়া, ভাইপার যে লন্ডনে এসেছে, এই খবরটা তুমি হুট করে কীভাবে জানতে পারলে?”
কফির মগটা টেবিলে নামিয়ে রেখে লিওন নিজের হালকা থতমত ভাবটা কাটিয়ে বলল, “আমাদের ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব সোর্স আর আন্তর্জাতিক ইন্টেলিজেন্সের কিছু নেটওয়ার্ক আছে মায়া। ওরাই কনফার্ম করেছে যে ভাইপার এখন লন্ডনেরই কোথাও একটা হাইডআউট বানিয়ে লুকিয়ে আছে।”
মায়া মাথা নেড়ে শুনল বটে, কিন্তু ওর ভেতরের কৌতূহলটা যেনো আরও উসকে উঠল। সে আবার প্রশ্ন করল, “আচ্ছা, ভাইপার ছেলে নাকি মেয়ে, এটা কি জানতে পেরেছ?”
ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে এক সেকেন্ড থামল লিওন। তারপর খুব ঠান্ডা গলায় বলল, “ভাইপার কোনো ছেলে নয় মায়া, ও একজন লেডি ক্রিমিনাল।”
লেডি ক্রিমিনাল! শুনে মায়া চরম অবাক হয়ে দুপা পিছিয়ে গেল। সে যেনো নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কোনো একটা মেয়ে পুরো ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপাচ্ছে। চোখ বড় বড় করে মায়া দ্রুত শুধাল, “তুমি এত নিশ্চিতভাবে কীভাবে জানলে লিও ভাইয়া? পুলিশ কি ওর কোনো ক্লু পেয়েছে?”
মায়ার এই সরাসরি প্রশ্নে লিওন পুরোপুরি চুপ হয়ে গেল; কোনো জবাব দিতে পারল না। তার ভেতরের সিআইডি অফিসারটা তাকে কড়া গলায় মনে করিয়ে দিল—কেবিনে ঈগলের রেখে যাওয়া ওই রহস্যময় চিরকুটের কথা কোনোভাবেই মায়াকে জানানো যাবে না। ওটা ডিপার্টমেন্টের টপ সিক্রেট। মায়ার চোখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে লিওন ল্যাপটপের কিবোর্ডে আঙুল চালাল, যেন প্রশ্নটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য সে হঠাৎ খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

লিওনের এই আচমকা নীরবতা আর এড়িয়ে যাওয়ার ভান দেখে মায়া আর কথা বাড়াল না। ও খুব ভালো করেই জানে, লিওন মানুষটা বড্ড জেদি আর একগুঁয়ে। কাজের মধ্যে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে হয়তো হুট করে মেজাজ চড়ে যাবে, তখন ওকেই উল্টো বকুনি খেতে হবে। তাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মায়া নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
মায়া চলে যেতেই ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল লিওন। ঘরের চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে সে উঠে দাঁড়াল। চেয়ারে রাখা জ্যাকেটের ভেতরের পকেট থেকে বের করল সেই রহস্যময় চিরকুটটা। এই টপ সিক্রেট ডকুমেন্টটা আরও সাবধানে লুকিয়ে রাখার জন্য সে আলমারির দিকে এগোল।
আলমারির লক খুলে একদম ভেতরের সিক্রেট ড্রয়ারটা টানতেই হঠাৎ থমকে গেল লিওনের হাত। চিরকুটটা রাখার কথা ভুলে তার চোখ আটকে গেল ড্রয়ারের এক কোণে সযত্নে জমিয়ে রাখা ভার্সিটির অ্যাসাইনমেন্টের খাতাগুলোর ওপর।

খাতাগুলোর ওপর হাত ছোঁয়াতেই লিওনের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান হাসি ফুটে উঠল। সে নিজেই আজ পর্যন্ত ভেবে পায় না, ভার্সিটির সেই অ্যাসাইনমেন্টগুলো প্রফেসরের কাছে জমা দেওয়ার পর কেন আবার ওগুলো ফেরত চেয়ে নিজের কাছে নিয়ে এসেছিল। কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না, তাও সে নিয়ে এসেছিল।
আসলে কারণটা লুকিয়ে ছিল খাতাগুলোর ভেতরেই। ভার্সিটির সেই দিনগুলোতে কেউ একজন বড্ড যত্ন করে, নিখুঁত হাতের লেখায় চুপিচুপি ওর এই অ্যাসাইনমেন্টগুলো লিখে দিয়েছিল। লিওন কখনো জানতে পারেনি কে সেই চেনা মানুষ, যে রাতের পর রাত জেগে ওর জন্য এই খাতাগুলো সাজিয়ে দিত। সেই না-জানা মানুষের নিখুঁত ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা আর এক অদ্ভুত মায়া থেকেই খাতাগুলোকে ও আজ অবধি নিজের জীবনের সবচেয়ে গোপন স্মৃতি হিসেবে আগলে রেখেছে।
লন্ডনের একটা সুনসান ট্র্যাকে তখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের চড়া বাজির বাইক রেস বসছে। একের পর এক হেভিওয়েট বাইকের স্টার্ট নেওয়ার আওয়াজে কান পাতা দায়। ঠিক রেস শুরুর আগমুহূর্তেই যা হওয়ার হয়ে গেল—টিমের মেইন রেসারটা মারাত্মক চোট পেল! পুরো টিম তখন অকূল পাথারে। রেস থেকে যে নাম কাটিয়ে নেবে, সেই পথও বন্ধ। ঠিক তখনই কোত্থেকে এসে হাজির হলো এক রহস্যময়ী মানুষ। সবাইকে তাজ্জব বানিয়ে দিয়ে রেসের পুরো দায়িত্বটা এক ঝটকায় নিজের ঘাড়ে তুলে নিল সে।
শরীরটা কুচকুচে কালো রেসিং স্যুটে মোড়া। আপাদমস্তক এমনভাবে ঢাকা যে চেনার কোনো উপায় নেই। হাতের গ্লাভসগুলো ঢেকে রেখেছে ভেতরের যেকোনো ট্যাটু বা দাগছোপ। মাথায় পরা ফুলফেস হেলমেটের কালো ভাইজারটার কারণে মুখটা দেখার কোনো সুযোগই রইল না।

গ্রিন সিগন্যাল পড়তেই চাবুকের মতো ছিটকে বেরিয়ে গেল বাইকগুলো। ট্র্যাকে তখন গতির আগুন জ্বলছে। একেকটা বিপজ্জনক বাঁকে বাইক যেভাবে প্রায় মাটির সাথে মিশিয়ে নিখুঁত ব্যালেন্স আর অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় সে বাকিদের পেছনে ফেলছিল, তা দেখে উপস্থিত সবার বুক দুরুদুরু কাঁপছে। স্পিডোমিটারের কাঁটা তখন ২০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে! মনে হলো আক্ষরিক অর্থেই মৃত্যুর সাথে খেলছে সে। শেষ ল্যাপে এসে পুরো গ্যাংস্টার মহলকে থমকে দিয়ে ফিনিশিং লাইনে প্রথম পৌঁছাল তার বাইকটা।
সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রথম হলো সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেসার। বাইক থামালেও সে হেলমেটটা মাথা থেকে সরাল না, স্রেফ হাতের ইশারায় হেলমেটের কালো কাচটা ওপরে তুলে দিল। ব্যস, ওইটুকুই! তার চোখের দিকে তাকিয়েই গ্যালারির সবার চট করে মাথায় ঢুকল—এই অদম্য রেসার আসলে কোনো ছেলে নয়, বরং একটা মেয়ে! কিন্তু কে সে তার পরিচয় কি? আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাঘা বাঘা রাইডারদের এভাবে হারিয়ে দেওয়া রহস্যময়ীকে চেনার সাধ্য কারও হলো না। কেউ জানলই না, তাদের চোখের সামনে দিয়ে স্বয়ং ‘ভাইপার’ এসে পুরো বাজিটা জিতে চলে গেল!

রেস শেষ করে ভাইপার যখন লকার রুমে চেঞ্জ করতে গেল, তখন ওপাশে দুটো ছেলের ব্রিটিশ টোনের ফিসফিসানি ওর কান এড়াতে পারলো না। একটা ছেলে তখন বলছিল, “ক্লোইকে কোনোভাবেই রুমে নিতে পারছি না রে! ওই ব্লাডি বিচ তো আমাকে ছুঁতেই দেয় না। আজকে যেভাবে হোক ওই স্লা*/টকে আমি হাত দেবই। চার্লটন হোটেলের ৪০২ নম্বর রুমটা বুক করে রেখেছি, শুধু ওর ড্রিংকসে ড্রাগস মিশিয়ে দেব, ব্যস!”
তার বন্ধুটা হেসেই কুটিপাটি খেয়ে বললো, “তাহলে মাঝপথে আমাকেও একটা কল দিস, আমিও একটু খেলব। তা রুম নাম্বার কত বললি? ৪০২?”

ওপাশ থেকে ছেলেটা মাথা নাড়তেই লকার রুমের আড়ালে ভাইপারের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। মনে মনে ভাবল, আজকে তবে তার হাতে আরও দুটো লা/শ পড়তে যাচ্ছে!
লন্ডনের একটা জমজমাট ক্লাবে তখন বন্ধুদের আড্ডা তুঙ্গে। ক্লোই ভাবতেও পারেনি ওর নিজেরই এক বন্ধু, যাকে ও এত ভরসা করে, সে-ই পেছন থেকে এমন একটা চাল চালবে। আড্ডার ফাঁকে ক্লোই যখন একটু অন্যমনস্ক ছিল, তখনই ছেলেটা কায়দা করে ওর গ্লাসের ড্রিংকসটায় কড়া নেশার ওষুধ মিশিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরই ক্লোই টের পেল ওর পুরো শরীর কেমন অবশ হয়ে আসছে, মাথাটা অসম্ভব ভারী। কিন্তু তাও ওর ভেতরের মনের জোর আর শেষ জ্ঞানটুকু পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। আচ্ছন্ন অবস্থাতেই ও বুঝতে পারল, বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে ছেলেটা ভিড় থেকে ওকে আলগা করে ট্যাক্সিতে তুলল এবং সোজা নিয়ে এল চার্লটন হোটেলের ৪০২ নম্বর রুমে। রুমে এনে দরজাটা লক করতেই ছেলেটা তার আসল রূপ দেখাল। ক্লোই তখনো আচ্ছন্ন চোখে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, কিন্তু ওর অবশ শরীরটা কোনোভাবেই সায় দিল না। এক পর্যায়ে ছেলেটা হিং/স্র পশুর মতো ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং জোর করে রেই/প করার উদ্দেশ্যে এক ঝটকায় ক্লোইয়ের গায়ের জামাটা ছিঁড়ে ফেলল বিছানায় ক্লোই তখন বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই কক্ষের বাতাসে একটা হিমেল স্রোত বয়ে গেল, আর কোনো সাড়াশব্দ ছাড়াই ভাইপার এসে দাঁড়াল রুমের ঠিক মাঝখানে।
তাকে সামনে দেখে ছেলেটা থতমত খেয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “এই কে তুই? রুমে কী করে এলি? দরজা তো লক ছিল!”

ভাইপার কিছু বলল না। এক ঝটকায় ক্লোইকে টেনে বারান্দায় পাঠিয়ে দরজাটা বাইরে থেকে আটকে দিল। ছেলেটা চিৎকার করে ওঠার আগেই ভাইপারের এক প্রচণ্ড ঘুষি আছড়ে পড়ল ওর চোয়ালে। সামলে ওঠার আগেই পড়লো বুক বরাবর এক লাথি সাথে সাথে ছেলেটা মেঝেতে আছড়ে পড়ল। মেঝেতে ছিটকে পড়ে ছেলেটা আর্তনাদ করে উঠল, “কে তুই? কী চাস?”
ভাইপার নিচু হয়ে ছেলেটার কলার চেপে টেনে মাস্কের আড়াল থেকে হিংস্র ফিসফিস স্বরে বলল, ” মাদারচোদ তোর আম্মা লাগি। পরক্ষনেই মনে পড়লো এই ছেলেতো বাংলা জানেনা তাই পুনরায় ভাইপার ফিসফিস করে ইংরেজিতে বললো “আই এম ইয়োর মাদার, মাই ফাকিং বা*স্টার্ড সান। তোর আসল মা তোকে মেয়েদের সম্মান করা শেখায়নি, আজ আমি দেখাবো আমার জারজ সন্তানকে রেইপের শাস্তি আসলে কি হয় —অনলি মৃত্যু।”
ভাইপার গ্লাভস খুলে টেবিল থেকে ভারী অ্যাশট্রেটা তুলে নিল। ছেলেটার পায়ে লাথি মারতেই হাড় ভাঙার মটমট একটা শব্দ হলো। এরপর শুরু হলো নৃ/শংসতা। ভাইপার পকেট থেকে ছু/রি বের করে ছেলেটার মুখ আর বুকে বারবার বসাতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ আর বুকটা মাংসপিণ্ড হয়ে বি*কৃত হয়ে গেল। ছেলেটা নিথর হয়ে এলিয়ে পড়ল মেঝেতে। ভাইপার পকেট থেকে মোটা একটা চুরুট বের করে ম্যাচলাইট দিয়ে ধরাল। দীর্ঘ একটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে সেই জ্বলন্ত চুরুটের আগুন দিয়ে ছেলেটার কপালে লিখে দিল—’RAPIST’।

সবশেষে ল্যাম্প স্ট্যান্ড দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাটা গুঁড়িয়ে দিয়ে চিপটা স্নিকার্সের নিচে পিষে ফেলল সে। করিডোরে বেরিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল ভাইপার।
ক্লোইয়ের বন্ধুরা সেই ৪০২ নাম্বার রুমে ঢুকেই আতঙ্কে জমে গেল। বিছানার ওপর পড়ে থাকা দেহটা আর মানুষ বলে চেনার উপায় নেই—পুরো মুখ আর বুকটা বী/ভৎসভা*বে বিকৃ/ত করে কেটে কুচি কুচি করা হয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে পুরো ঘর, কিন্তু ক্লোইকে কোথাও দেখা গেল না। দ্রুত সিআইডিকে খবর দেওয়া হলো। ঘটনা শুনে সিআইডি অফিসার লিওন সহ তার বাকি সহকারীরা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এসে হাজির হলো। লিওন দ্রুত পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করতে শুরু করলো। এক পর্যায়ে বারান্দার দিকে গিয়ে দেখলো, সেখানে ক্লোই অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।তাকে পাঠানো হলো জ্ঞান ফেরানোর জন্য।

আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ১

তল্লাশি করার সময় টেবিলের ওপর লিওনের চোখ পড়ল একটা চিরকুটের দিকে। হাতে তুলে নিতেই তার সারা শরীর রাগে রি রি করে উঠল। চিরকুটে লেখা: “আমি জানি চিরকুটটা তুমিই পাবে, হ্যাঁ খুনটা আমিই করেছি পারলে আমাকে ধরে দেখাও,লিওন, আমার দিলবার।” আর লেখাটার নিচে সেই পরিচিত সাপের ট্যাটুটা আঁকা। লিওন চিরকুটটা মুচড়ে হাতের মুঠোয় পিষে ফেললো। আর দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বললো “এগেইন!এগেইন ভাইপার! আমার নাকের ডগা দিয়ে একটা খুন করে বেরিয়ে গেল, আর এখন আমাকে নিয়ে মশকরা করছে? আমাকে ‘দিলবার’ বলে ডাকার সাহস কীভাবে হয় ওই ক্রিমিনালের!” লিওনের চোখে তখন আগুনের হলকা ফুটে উঠেছে। সে এবার ভালো করে বুঝতে পারল, এটা আর আর স্রেফ কোনো কেস নয়; ক্রিমিনাল ভাইপার এখন তাকে ব্যক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

আম ইন লাভ উইথ আ ক্রিমিনাল পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here