প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ২৭
জান্নাতুল ফেরদ্দোস ময়না
রাত তখন প্রায় এগারোটা।
সন্ধ্যা থেকে একটানা বইয়ের পাতায় চোখ রেখে রিত্তিকার মাথা যেন জ্যাম হয়ে গেছে। পড়ার টেবিলের ঠিক সামনেই জিয়ান বসে আছে পাহাড়ের মতো গম্ভীর হয়ে। কড়া নজরদারি! রিত্তিকার আর এক মুহূর্তও পড়ার টেবিলে বসে থাকতে ইচ্ছে করছে না। মনটা ছটফট করে উঠল ফাঁকি দেওয়ার জন্য। সে জিয়ানের দিকে তাকিয়ে বেশ নিরীহ মুখে বলল,
— “স্যার, একটু ওয়াশরুমে যাবো?”
জিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ না তুলেই সংক্ষেপে বলল,
— “হ্যাঁ, যাও। জলদি আসবে।”
অনুমতি পেতেই রিত্তিকার মুখে জয়ের হাসি ফুটে উঠল। সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। জিয়ান ফোনে একটু ব্যস্ত হতেই রিত্তিকা সেই সুযোগের শতভাগ ব্যবহার করল। ওয়াশরুমের দিকে না গিয়ে সে নিঃশব্দে পা টিপে টিপে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল।
এদিকে দেখতে দেখতে প্রায় তিরিশ মিনিট পার হয়ে গেল। জিয়ান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকাল।
_’সেই কখন গিয়েছে, এখনো আসার নাম নেই! আসলেই কি ওয়াশরুমে আছে নাকি ফাঁকি দিয়ে কেটে পড়েছে?’— ভাবল সে।
জিয়ান উঠে গিয়ে ওয়াশরুমের দরজা নক করল, কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। ধাক্কা দিয়ে দেখল দরজা খোলাই পড়ে আছে, ভেতরে কেউ নেই। জিয়ানের ঠোঁটের কোণে একটা চিলতে হাসি ফুটল, যা মুহূর্তেই মিলিয়ে গিয়ে রাগ আর জেদের রূপ নিল।
— “বেয়াদব মেয়েটা! পড়বে না বলে মিথ্যা কথা বলে চলে গেছে? ঠিক আছে, খুঁজে পাই খালি একবার, তারপর মজা দেখাচ্ছি!”
জিয়ান নিচে নেমে পুরো ড্রয়িংরুম, কিচেন সব খুঁজল। কোথাও রিত্তিকার চিহ্ন নেই। এবার সে পা বাড়াল জিয়ার ঘরের দিকে।
জিয়ার ঘরের দরজার সামনে আসতেই দেখলো ভেতরে টিভির আওয়াজ। সে আলতো করে পর্দা সরিয়ে ভেতরে তাকাতেই দেখল—মহাশয়া জিয়ার পাশে বসে আয়েশ করে টিভিতে একটা রোমান্টিক মুভি দেখছেন! পর্দায় তখন নায়ক-নায়িকার বেশ কিছু মুহুর্তের দৃশ্য চলছে, আর রিত্তিকা তাতে মগ্ন।
তা দেখে জিয়ানের ঠোঁটে এক বাঁকা, রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। সে ধীর পায়ে হেঁটে গিয়ে সোজা তাদের টিভির সামনে আড়াল করে দাঁড়াল।
হঠাৎ জিয়ানকে সামনে দেখে জিয়া চমকে উঠে বলল,
— “ভাইয়া! তুই এখানে?”
— “হুম, আমি।” জিয়ানের কণ্ঠস্বর গম্ভীর।
রিত্তিকা তখন ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। জিয়ান রিত্তিকার দিকে তীব্র চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,
— “আপনি এখানে কেন? আপনার না ঘরে থাকার কথা ছিল?”
— “হ্যাঁ, ছিলাম তো। কিন্তু আমার বেয়াদব বউটা পড়া বাদ দিয়ে ওয়াশরুমের নাম করে কোথায় হাওয়া হয়ে গেল, সেটাই তো দেখতে এলাম।”
রিত্তিকা আমতা আমতা করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করল,
— “আমি… আমি তো ওয়াশরুমেই গিয়েছিলাম।”
— “তাহলে এখানে কী করছ?” জিয়ানের এক পা এগিয়ে আসা।
— “পানি খেতে এসেছিলাম…” রিত্তিকা জিয়ার দিকে তাকিয়ে ইশারা করল, “হুম, বিশ্বাস না হলে জিয়াকে জিজ্ঞেস করুন।”
জিয়ান আর কথা বাড়াল না। সে রিত্তিকার একদম কাছে এগিয়ে গেল। রিত্তিকার কানের লতির কাছে নিজের মুখটা নিয়ে গিয়ে একদম ফিসফিসে, অথচ ধারাল স্বরে বলল,
_একটা থাপ্পড় মারবো বেয়াদব পড়া বাদ দিয়ে এখানে এসে রোমান্টিক মুভি দেখা হচ্ছে। আমাকেই বলতে আমিই দেখতাম।শুধু শুধু টিভি তে দেখে টাইম নষ্ট।
জিয়ানের কথার ধরনে রিত্তিকার ফর্সা গাল দুটো মুহূর্তেই লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই, জিয়ার উপস্থিতির তোয়াক্কা না করে জিয়ান এক ঝটকায় রিত্তিকাকে নিজের কাঁধে তুলে নিল।
হঠাৎ শূন্যে ভেসে ওঠায় রিত্তিকা চিৎকার করে উঠল,
— “কী করছেন কী আপনি? নামান আমাকে! নির্লজ্জ পুরুষ, একটুও লজ্জা করে না এভাবে কোলে তুলতে? বারবার কেন কোলে নিচ্ছেন আমাকে?”
জিয়ান কাঁধে রিত্তিকাকে নিয়েই হনহন করে নিজের ঘরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
— “উফ বউ, এত তাড়া কিসের? তুমি একটু আগে টিভিতে কী মুভি দেখছিলে যেন?”
— “কই, কিছু না তো!” রিত্তিকা কাঁধের ওপর থেকেই হাত-পা
ছোড়ার চেষ্টা করল।
— “তাই?”
— “হুম!”
রুমে এসে জিয়ান দরজাটা পা দিয়ে ঠেলে বন্ধ করে দিল। তারপর রিত্তিকাকে বিছানার ওপর আলতো করে শুইয়ে দিল। রিত্তিকা উঠে বসার আগেই জিয়ান তার শরীরের ওপর খানিকটা ঝুঁকে এল।
— “আমি তো দেখলাম কিছু একটা দেখছিলে। একটু প্র্যাক্টিক্যাল হয়ে যাক?” জিয়ানের চোখে দুষ্টুমির আভাস।
রিত্তিকা দুই হাত দিয়ে জিয়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করে বলল,
— “সরুন তো আমার ওপর থেকে! একদম বাড়াবাড়ি করবেন না।”
জিয়ান দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে আরও খানিকটা ঝুঁকে এল রিত্তিকার দিকে। নিজের একটা গাল আলতো করে ছুঁইয়ে দিল রিত্তিকার নরম গালের সাথে। জিয়ানের এমন গভীর আচরণে রিত্তিকা যেন এক মুহূর্তের জন্য জমে পাথর হয়ে গেল। মনে হচ্ছে তার হৃদপিণ্ড তখন গলার কাছে এসে কাঁপছে। শরীর থেকে সব শক্তি যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। তবুও শেষ চেষ্টা হিসেবে জিয়ানের বুকে হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল সে।
কিন্তু জিয়ান নড়ল না। সে এবার মুখ নামিয়ে রিত্তিকার গলার নরম ভাঁজে নিজের মুখ গুঁজে দিল। জিয়ানের উষ্ণ ও ঘন ঘন নিঃশ্বাস রিত্তিকার গলায় আছড়ে পড়ছিল, যা রিত্তিকার শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণের সৃষ্টি করল।
— “কী… কী করছেন টা কী…” রিত্তিকার কণ্ঠস্বর বুজে এল।
— “হুশশশ! কোনো কথা না।” জিয়ানের ফিসফিসানি।
প্রায় কয়েক মিনিট কেটে গেল। জিয়ান ওভাবেই রিত্তিকার গলায় মুখ গুঁজে রইল, যেন এক তীব্র অধিকারবোধে তাকে আগলে রেখেছে। রিত্তিকা শত চেষ্টা করেও জিয়ানের এই বলিষ্ঠ দেহের শক্তির সাথে পেরে উঠছিল না।
ঠিক এমন একটা চরম মুহূর্তে জিয়ানের পকেটে থাকা ফোনটা সশব্দে বেজে উঠল।
জিয়ান বিরক্তিতে চোখ বন্ধ করল। রিত্তিকার গলা থেকে মুখ তুলে ক্ষিপ্ত স্বরে বলল,
— “শা’লা! কল দেওয়ার আর সময় পেল না!”
জিয়ান বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ফোনের স্ক্রিনে তাকাল—আরিফ কল করেছে। জিয়ান একটু দূরে যেতেই রিত্তিকা যেন খাঁচা থেকে ছাড়া পাওয়া পাখির মতো হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। নিজের ওড়নাটা টেনে নিয়ে দ্রুত বুকের ওপর চেপে ধরল সে।
জিয়ান বেলকনিতে গিয়ে রিসিভ করেই চেঁচিয়ে উঠল,
— “ইডিয়ট! ফোন দেওয়ার আর সময় পেলি না তুই?”
ওপাশ থেকে আরিফ অবাক হয়ে বলল,
— “কেন রে? আমি আবার কী করলাম?”
— “এত রাতে কল করেছিস কেন?”
— “মাত্র তো সাড়ে এগারোটা বাজে। এত রাত কই? ওহ বুঝেছি! তুই তো আবার বিবাহিত পুরুষ, তোর কাছে দিনও রাত আর রাত তো রাতই! বিয়ে করে তো বন্ধুকে ভুলেই গেলি।”
— “চুপ কর ইডিয়ট! কল কেন দিয়েছিস সেটা বল।” জিয়ান মেজাজ দেখাল।
— “তুই যেমন রাতে বউ নিয়ে সুখে আছিস, ভাবলাম আমিও এবার সেই সুখের ভাগীদার হই।”
— “মানে?” জিয়ান ভ্রু কুঁচকাল।
— “মানে, আমার বিয়ে ঠিক করেছে বাড়ি থেকে। সামনের সপ্তাহেই বিয়ে!” আরিফের গলায় আনন্দের সুর।
— “আর তুই আজ বলছিস আমাকে?”
— “আরে, আমি নিজেই তো আজ সন্ধ্যায় জানলাম। কাল তোর অফিসে গিয়ে বাকি কথা বলব নে। এখন রাখি, তুই তোর কাজে মনোযোগ দে।” আরিফ হেসেই লাইনটা কেটে দিল।
জিয়ান ফোনটা পকেটে পুরে রুমে ফিরে এল। এসে দেখল, রিত্তিকা ততক্ষণে বিছানায় একপাশ হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তার নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাস বলে দিচ্ছে সে ঘুমানোর ভান করছে।
জিয়ান রিত্তিকার মুখের ওপর এসে পড়া কয়েকটা চুলের গোছা আলতো করে কানের পেছনে গুঁজে দিল। তারপর নিজের মনেই ফিসফিসিয়ে বলল,
— “কতদিন আর এভাবে পালাই পালাই থাকবেন মিস পুকি পাই? নিজেই তো ধরা দিয়েছেন, আবার নিজেই পালানোর চেষ্টা করছেন? উহু, তা আর হচ্ছে না।”
পরের দিন সকাল।
আজ জিয়া মার্কেটে একাই এসেছে। কিছু জরুরি ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেনার ছিল তার। মল থেকে কেনাকাটা শেষ করে মাত্রই সে বাইরের চত্বরে এসে দাঁড়িয়েছে, এমন সময় পরিচিত একটা কণ্ঠস্বর তাকে ডাকল।
— “কেমন আছো জিয়া?”
জিয়া তাকিয়ে দেখল ইফাত দাঁড়িয়ে আছে। নীল শার্টে তাকে বেশ হ্যান্ডসাম লাগছে। জিয়া মৃদু হেসে বলল,
— “আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?”
— “আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। তা এখানে যে একা একা?”
— “কিছু জিনিস কিনতে এসেছিলাম।”
— “ওহ। রিত্তিকা আসেনি সাথে?” ইফাত এদিক-ওদিক তাকাল।
— “না, আমি একাই এসেছি।”
ইফাত একটু ইতস্তত করে বলল,
— “চলো, কোথাও বসে একটু কথা বলি? যদি তোমার তাড়া না থাকে।”
জিয়া একটু ভাবল, তারপর বলল,
— “চলুন।”
তারা দুজনে মলের ভেতরেই একটা শান্ত, নিরিবিলি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসল। কফির অর্ডার দেওয়ার পর ইফাত সোজা জিয়ার চোখের দিকে তাকাল। ইফাতের চোখের দৃষ্টিতে আজ এক অন্যরকম গুরুত্ব।
— “তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল জিয়া। আসলে আমি বেশি ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলতে পারি না, পছন্দও করি না। তাই সোজাসাপ্টাভাবেই বলছি।”
জিয়া কফির কাপে হাত রেখে বলল,
— “জি, বলুন।”
— “আমি তোমাকে পছন্দ করি।”
জিয়া একদম অবাক হয়ে ইফাতের দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে ভাবতেই পারেনি ইফাত হুট করে এমন কিছু বলবে।
— “কী… কী বলছেন এসব?”
— “হ্যাঁ, যা বলছি একদম সত্যি। তবে আমি তোমার সাথে কোনো লুকোচুরি বা ক্যাজুয়াল রিলেশনে যেতে চাই না। তাই ভাবলাম আগে তোমাকে জানাই। তারপর তোমার মতামত নিয়ে সোজা তোমার বাসায় বিয়ের কথা বলব।”
জিয়া কী বলবে বা কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবে, কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার। বুকটা টিপটিপ করছে।
ইফাত জিয়ার নীরবতা দেখে আবার প্রশ্ন করল,
— “তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? সত্যি বলতে, তোমাকে প্রথম দেখেই আমার খুব ভালো লেগেছিল।”
জিয়া মনে মনে চাইল চিৎকার করে বলতে যে, সেও ইফাতকে পছন্দ করে। কিন্তু সে লজ্জা আর সংকোচে তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরোচ্ছিল না। সে টেবিলের দিকে চোখ নামিয়ে আমতা আমতা করে বলল,
— “আপনি… আপনি বাসায় জানান। তারা যা বলবে, তাই হবে।”
ইফাত মুচকি হাসল, কিন্তু সে এত সহজে ছাড়ার পাত্র নয়।
— “সে তো জানাবোই। কিন্তু তার আগে তোমার নিজের মনটা কী বলে? তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? হ্যাঁ কি না, বলো। একদম সোজাসাপ্টা উত্তর চাই আমার।”
জিয়া আর পারল না। লজ্জায় তার ফর্সা মুখটা লাল হয়ে উঠল। সে টেবিলের দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে, মিনমিন করে বলল,
— “হ্যাঁ…”
ইফাতের মুখে তখন জয়ের চওড়া হাসি। সে অত্যন্ত ভদ্রতার সাথে বলল,
— “থ্যাংক ইউ। তোমাকে কিছুটা সময় দিলাম, আরও ভালো করে ভেবে দেখো। তারপর আমি খুব জলদিই তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছি।”
জিয়া শুধু মাথা নিচু করে বলল,
— “আচ্ছা।”
তারপর তারা দুজন আরও কিছুক্ষণ টুকটাক সাধারণ কথাবার্তা বলল। কফি শেষ করে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরনোর পর ইফাত নিজ দায়িত্বে জিয়াকে তার গাড়িতে করে একদম তাদের বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে গেল। জিয়া যখন গাড়ি থেকে নামছিল, তার ঠোঁটের কোণে তখন এক অদ্ভুত সুখের হাসি লেগে ছিল।
প্রফেসর জিয়ান কায়সার পর্ব ২৬
সেখানে তখন সোফায় মুখোমুখি বসে বেশ জমিয়ে গল্প করছিল রিত্তিকা আর জেসমিন। জিয়াকে ঢুকতে দেখেই রিত্তিকার তীক্ষ্ণ চোখ জোড়া তার ওপর গিয়ে পড়ল। জিয়ার মুখের সেই লাজুক আভা আর উসখুস ভাব রিত্তিকার নজর এড়াতে পারল না।
রিত্তিকা সোফা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠে জিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল।
— “কী ব্যাপার জিয়া ? মুখটা এত লাল হয়ে আছে কেন? আর চোখ-মুখের এই অবস্থা… মার্কেটে কি শপিং করতে গিয়েছিলি নাকি মেঘের দেশে ডানা মেলে উড়তে গিয়েছিলে?”
