Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৬

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ এতা কে আমমু(এটা কে আম্মু)
ইশা উঠে দাড়িয়ে বললো,,
_ তোমার বড় চাচি মা,,
নীরা ছোট্ট করে উচ্চারণ করলো,,
_ তাতি,,,(চাচি)
_ হুম,,,
নীরা পরিকে দেখে সুন্দর করে একটা হাসি দিলো,,,ইশা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ খেএ নেন ভাবি,,শরীরে শক্তি না থাকলে সয়ে যেতে পারবেন না,,,পেট ভরা থাকলে সব সহ্য হয়ে যাবে,,, সময়ের সাথে সাথে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে,,,
পরি নিশ্চুপ কিছু বললো না,,,ইশা কথা শেষ হওয়ার ভিতরেই নাবিল গটগট করে রুমে প্রবেশ করলো,,,পায়ের শব্দে ইশা পিছন ফিরে তাকালো,,,নাবিলকে দেখে মাথার ওরনা আর একটু টেনে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,নীরা নাবিলকে দেখে এক গাল হেসলো,,ইশার কোল থেকে নেমে দৌড়ে যেয়ে নাবিলকে জরিয়ে ধরে আদুরে গলায় বললো,

_”বড় বাবা”
নাবিল ছোটো নীরাকে দেখে এক গাল হেসে কোলে তুলে নিলো,গালে চুমু খেএ মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ আম্মা হেনে কি করো,,
নীরা ভাঙ্গা শব্দে বললো
_ তাতির সাতে দেতা কততে আততি,,(চাচির সাথে দেখা করতে আসছি)
নাবিল এগিয়ে যেএ বললো
_ তাই নাকি,,,চাচি পছন্দ হয়েছে,,,
নীরা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো,,
_ খুব পচনদ হয়েতে(খুব পছন্দ হয়েছে)
নাবিল মুচকি হাসলো,,,ইশা উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ আসো ,,,বড় বাবা বিশ্রাম নিবে,,,
নাবিল নীরাকে ইশার কোলে দিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ নাহিয়ানের আইতে সময় লাগবো,,,,ও আইলে ডাক দিও,,এক লোগে খাইতে বহুম,,,ওর লোগে কথা আছে,,,
ইশা মাথা নিচু বললো

_ আচ্ছা ভাই,,,
বলেই নীরাকে নিয়ে চলে গেলো সে,,,পরি মাথা নিচু করে তাচ্ছিল্য হাসলো,,,পরের সাথে জানোয়ারের মতো ব্যবহার আর রক্তের সম্পর্কের মানুষের সাথে যেনো মুখে মধু,,,প্রিউ তো নীরার মতো নিষ্পাপ তবে কেন তার উপর এতো অত্যাচার হলো,,কেনো গলা চেপে ধরা হলো,,কেনো বলা হলো তাকে দুই ভাগ করা হবে,,, কারণ সে তো এই বংশের রক্তের না,,,
নাবিল এগিয়ে এসে পররি সামনে খাবার দেখে কর্কশ কন্ঠে বললো,,
_ খাস না কেন,,নাটক কম কর,,না খাইলে কেউ তোরে মুখে তুইয়া খাওয়ায় দিবো না,,,
পরির রাগে শরীর ফেটে গেলো,,, অনেক সাহস করে ভাতের প্লেট ছুরে ফেলে দিলো নিচে,,, চেঁচিয়ে উঠে বললো,,

_ খাবো না,,,,
নাবিলের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেলো,,,এক থাপ্পড়ে পরিকে ফ্লোরে ফেলে দিলো,,,,পরি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,নাবিল তেরে এসে পরির লম্বা চুলের মুঠি ধরে বললো,,
_ তেজ দেখাস,,,হো আমার লোগে তেজ দেখাস,,,টুকরা টুকরা কইরা জমিনে পুইতা রাখমু,,,
পরি কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ রাখুন আমার আপত্তি নেই,,,,
নাবিলের রাগে শরীর ফেটে গেলো,, এমনিতেই সে আরহামের বিষয়টা নিয়ে রেগে আছে তার উপর পরির ব্যবহার,,,নাবিল পরির মুখ ফ্লোরে চেপে ধরে বললো
_ খা,, এগুলা খাবি,,,,,প্রত্যেকটা দানা ঘড়ে আনতে কামাই করতে হয়,,, এগুলাই গিলবি,না হলে গলা দিয়ে বাঁশ ঢুকামু,,কিন্তু এতো সহজে মরবি না,,,বুঝলি,,,
পরি উত্তর দিতে পারলো না,,,তার আগেই জ্ঞান হারালো সে,,,এতোটা দুর্বল শরীরে নাবিলের হাতের শক্ত থাপ্পর খেএ তার মাথা ঘুরে গেছে,,,

নুবা মৃদু কন্ঠে বললো,,
_বাড়িটা ফাঁকা হয়ে গেলো,,,
আরহাম নুবার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো
_ কেন,,কি হয়েছে,,
নুবা ঘুমানোর জন্য বিছানা গুছাতে গুছাতে বললো
_ আরশি আপু চলে গেছে,,,তাই,,,
_ তাই জন্যই তো বলেছি চলো তাড়াতাড়ি আমাদের প্লান অনুযায়ী ২৯ টা বেবি নিয়ে নি,,,
নুবা কথাটা শুনে মৃদু হাসলো উত্তর দিলো না,, কারণ এই লোকটা সবসময় জাওরামির মুডেই থাকে,,,

এতোটা দুঃখজনক একটা ঘটনা যে ঘটবে,তা মির্জা পরিবারের ধারনায় ছিলো না,,,আরহাম পাগল হয়ে গেছে প্রায় মাত্র কিছু ঘন্টা নুবাকে চোখের সামনে থেকে দূর করতেই এমন কিছু হবে তার ধারনা ছিলো না,,,,গত ৩/৪ দিন ধরে আরহাম নুবাকে আর আয়ারকে নিয়ে অফিসে যাচ্ছিলো তবে আজ তাড়াতাড়ি ফিরার কথা ছিলো আরহামের যার ফলস্বরূপ নুবাকে আর আয়ারকে রেখে গিয়েছিলো,,,তবে এমন কিছু হবে তার ধারনার বাইরে ছিলো ,আরহামের মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো,,,কি হচ্ছে সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে,,,
আরহাম গম্ভীর নিঃশ্বাস ফেলে হুংকার ছেড়ে গর্জে উঠলো,,,
_ মাত্র ৪টা ঘন্টা আমি ওদের থেকে দূরে গিয়েছি,,আর তোমরা ওদের খোঁজটা পর্যন্ত রাখোনি,,,,
ছেলের ছন্নছাড়া আচরণ দেখে আমিনা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললেন,,

_ আয়রা আর নুবা বাড়িতেই ছিলো,,,দুপুরের লাঞ্চ করার পর যে যার রুমে,,,,
কথা শেষ হলো না তবে আরহাম চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ আর একটা কথাও বলবে না তুমি,একটু খেলায় রাখতে পারোনি ওঁদের,আর তোমার গুনোধর বেয়াইন কোথায় যে সবসময় মেয়ের পিছনে চিপকে থাকতো আজকে কোথায় গেলো,,, খেয়াল রাখতে পারেনি মেয়ের,,,
হাজেরা নিশ্চুপ,,,সকাল থেকে হাজেরার সাথেই ছিলো নুবা আর আয়ার দুপুরে খাওয়ার দাওয়া শেষে নুবা আয়ারকে নিয়ে রুমে চলে যায়,,,এর পর ঘন্টা খানিক পড়েই আরহাম বাড়ি ফিরে তবে আফসোস নুবা আর আয়ারকে কোথাও পায় না,,এই নিয়েই বাড়িতে যুদ্ধ চলছে,,, আরহাম প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে তার বউ বাচ্চা কোথায় গেলো,,,
হারুন মির্জা বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছিলো,,তবে তেমন কিছুই পেলো না,, হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে বললো,,

_ না তেমন কিছু নেই,,,
আরহাম মাথার চুল চেপে ধরে আশে পাশে চোখ বুলিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো ,, চিন্তা করার চেষ্টা করলো নুবা গেলো কোথায়,,তাও আয়রাকে নিয়ে,,,
হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_ হয়তোবা নুবা কোথায় বাইরে গিয়েছে,,,না হলে বাড়ির ভিতরে কারো ঢুকার সাদ্য নেই,,,, দারোয়ান বা দেওয়াল টপকে,,না সম্ভব না,,,আর কেই বা করবে,,,, এমন কেউ নেই যে এরকম কাজ করবে,,,
আরহাম কিছু সময় নিশ্চুপ হয়ে ভাবার পড়েই এগিয়ে আসলো,,, বিচলিত কন্ঠে বললো,,
_ বাগানের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেছো,,,
হারুন মির্জা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,,,তবে নুবা বাড়ি থেকে বেড়ও হয়নি,,,
আরহাম শুকনো ঢোক গিললো অতঃপর হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই অস্থির কন্ঠে বললো,,
_ আমার বেলকানি দিয়ে সহজেই কেউ রুমে প্রবেশ করতে পারবে,,বাড়ির পিছন সাইডটায় সিসিটিভি আছে,,,
_ হ্যাঁ আছে,,
_ চেক করো,,,,
_ করছি তবে দেওয়াল টপকে কে আসবে,,,

আয়রার কান্নার শব্দে নুবা টিপটিপ করে তাকালো ,, ঝাঁপসা চোখে আশে পাশে তাকাতেই নুবার মাথা ঘুরে উঠলো,, নিঃশ্বাস নিতেও যেনো কষ্ট হচ্ছে,, কিন্তু সময় ওভাবেই পড়ে রইলো নুবা,,বুঝার চেষ্টা করলো কি হচ্ছে তার সাথে,,, মস্তিষ্কে একটু চাপ পড়তেই মনে পড়লো,,
দুপুরের লাঞ্চ সেরে আয়ারকে ঘুম পাড়াতে রুমে গিয়েছিলো নুবা,,তবে রুমে প্রবেশ করতেই হঠাৎ করেই পিছন থেকে কেউ তার মুখ চেপে ধরে,,সাথে সাথে তার পুরো দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেলো,,মনে হলো আয়রা তার কোল থেকে ফসকে নিচে পড়ে গেলো,,,তার পর আর কিছু মনে নেই নুবার,,
নুবা এতটুকু ভেবেই চোখের পাতা খুলে বোঝার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে,,ভয়ে তার কলিজা চুপসে আসলো,,একটু ভালো মতো জ্ঞান ফিরতেই নুবা অনুভব করলো তার হাত,পা মুখ বাঁধা,,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,ওভাবেই পড়ে রইলো সে,,,,সাথে সাথে নুবার ছোট্ট মস্তিষ্কে আসলো,,,তার গুনোধর স্বামী আবার এমনটা করেনি তো,,, কিন্তু কেন করবে,,,,তাই সে ভালো মতো আশে পাশে তাকিয়ে টের পেলো এটা কোনো কিছুর গোদাম,,তার মানে সে কি নিজ বাড়ি থেকেই কিডন্যাপ হয়ে গেছে,, কথাটুকু ভেবেই নুবার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো,,,তার অস্থির চোখ দুটো পাশ ঘুরে তাকাতেই দেখলো তার থেকে কিছুটা দূরে আয়রাকে ফেলে রাখা হয়েছে,,, কান্না করছে তার কলিজাটা,,,

নুবার নিঃশ্বাসের গতি বাড়লো,, অনেকটা ভয় লাগতে লাগলো তার,,,মুখ দিয়ে শব্দ করার চেষ্টা করলো তবে আফসোস মুখ বাঁধা থাকায় টু শব্দও করতে পারলো না,,,
নুবা আশে পাশে তাকালো, সাহায্যের জন্য হাহাকার করে উঠলো নুবা,,,তার মাথার উপর দিয়ে যেতে লাগলো সব কিছু,,কি হচ্ছে,,না হচ্ছে,,,সে কোথায় বা এখন দিন নাকি রাত,,,
নুবার ভাবনার ভিতরে একজন অপরিচিত মানুষ ভিতরে আসলো,,,এক পলক বাচ্চার দিকে তাকিয়ে বিরক্তে মুখ কুঁচকে নিলো যেনো বাচ্চার কান্নায় বিরক্ত হচ্ছে সে,,,,পরপর কাউকে কল করলো সে,,

[গল্প লিখতে ভালো লাগছে না,আর না লিখার আগ্রহ পাচ্ছি,, আমার বানান ভুল হয়,,দারি,কমার ঠিক নেই,করো কত কি,আসলে ব্যপারটা এমন যে ””একটা বোরকা,পুরো বোরকা ভালো তবে এক জায়গায় ফুটো সেটা নিয়েই সবার সমস্যা,সেটা দৃষ্টিকটু লাগবে সবার কাছে তবে পুরো বোরকাটা যে ভালো তা কারো চোখে পড়বে না এমনি,,তার উপর সামান্য ভুলের জন্য পুরো গল্প টাকেই ai বলা হচ্ছে,,জানি না মানুষের সাধারণ জ্ঞান কোথায়,,৩/৪ বছর গল্প লিখি তবে এরকম পরিস্থিতিতে জীবনের প্রথমবার পড়লাম,,তবু আমি জানি আমারি ভুল]

পরিকে জোর করে এনে লিভিং রুমে বসানো হয়েছে,,,পরি আসবে না তবে নাবিল টেনে হিচরে এনেছে,,, বিশেষ কারন আছে বটে। কারণ টা পরির জানা নেই,তবে আফসোসের ব্যাপার হলো আবারো বলির পাঁঠা বানানো জন্য তাকে এখানে আনা হয়েছে।
পরি মাথা নিচু করে নুইয়ে পড়লো।বসে থাকতেও কষ্ট হচ্ছে তার। নাবিল টেনে তুললো পরিকে পরপর কঠিন কন্ঠে বললো,
_”যা করবা জলদি করো, আমার যাইতে হইবো”
যেহেতু পরি যেভাবেই হোক এই বাড়ির বড়ো বউ তাই তার কিছু কর্তব্য আছে সাথে পরির হাত,গলা,নাক,কান,সব খালি ফল স্বরুপ তাকে এখানে আনা হয়েছে। এদিকে,পরি নিস্তেজ যেনো কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছে সে যা ভেঙ্গে যাবে তবে এটাই সত্য এটা দুঃস্বপ্ন নয় এটা ভয়ংকর বাস্তবতা।
বাড়ির ছোটো বউ তায়েবা তাকেও এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।তায়েবার মানুষিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ। ভালোবেসে ছিলো সে নাইমকে তবে আফসোস তার প্রতিদান সে অর্ধ পাগল হয়ে পাচ্ছে।আগে যদি জানতো নাইমকে ভালোবাসা তার জীবনে কাল নামিয়ে আনবে তবে সে কখনোই এরকম অমানুষের পরিবারে আসতো না। সত্যি বলতে সে আসেনি তাকে জোর করে আনা হয়েছে।
বাড়ির সব থেকে ছোট মেয়ে অর্থাৎ তিন ভাইয়ের একটা জান নাম নায়মা,এবার কলেজে পাড়া রেখেছে।
সবকিছুর ভিতরে নাবিলের ফোনটা বেজে উঠলো।নাবিল পকেট থেকে ফোন বেড় করে একটু দূরে সরে গেলো।ফোন রিসিভ করতেই অপাশ থেকে সাগর বলে উঠলো,

_”ভাই”
_ “হো আমি,ক কি হইছে”
সাগর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”ভাই পিচ্চিডা কাইন্দা কাইন্দা কানের পর্দা পাটায় দিতাছে,রাত তো হইয়া আইলো ওই বেডারে খবর দিছেন”
নাবিল শান্ত কন্ঠে বললো
_”এহন না,২/৩ দিন যাক, মির্জা সাহেব দেখুক এই নাবিল কি চিজ।তারপর খবর দিস,আগে কয়টা দিন কুত্তার মতো ঘুরুক।”
_”আইচ্ছা ভাই, কিন্তু ওগোরে খাবার পানি দিমু নাকি এমনেই,,,,,”
_”দেওয়া লাগতো না। মরলে মইরা যাক। পিচ্চিডারো মুখ বাইন্দা রাখ,বেশি পেচপেচ করলে দুই ঘা মেরে অজ্ঞান কইরা রাখছি”

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৫

_”আচ্ছা”
পরপর আরো কিছু কথা বলে নাবিল কল কেটে দিলো।নাবিলের মনটা আজ ফুরফুরে নিশ্চয় বউ বাচ্চা খুঁজে না পেয়ে আরহাম কুত্তার মতো এখানে ওখানে ছুটছে তবে নাবিলতো জানে না আরহাম তার থেকে এক ধাপ আগে এগিয়ে আছে ।

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here