অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৭
রিদিতা চৌধুরী
দুপুরের ঠিক বারোটা। মাথার ওপরের সূর্যটা আজ যেন সাক্ষাৎ আগুনের গোলা, অবিরাম ঝলসানো উত্তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। চারপাশের প্রকৃতি যেন স্থবির, নিথর। প্রখর রোদের দাপটে পিচঢালা পথগুলো থেকে ধোঁয়া উড়ছে, আর এই ঝিঁঝিঁ ডাকা নিস্তব্ধ দুপুরে বাড়ির চারপাশটা এক অদ্ভুত, গা ছমছমে শূন্যতায় ডুবে আছে। প্রতিটি গাছের পাতা রোদের তীব্রতায় নুইয়ে পড়েছে; কোথাও কোনো প্রাণের স্পন্দন নেই, যেন পুরো পৃথিবীটাই আজ তন্দ্রাচ্ছন্ন।
এই তপ্ত রোদেও ছাদের এক কোণে ব্যস্ত রিদি। পরম মমতায় গাছগুলোতে পানি দিচ্ছে সে, আর তার ঠিক পেছনেই লেজ নেড়ে মিকি—মিউ মিউ করে এক অদ্ভুত ছন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রিদি গাছগুলোতে পানি দেওয়া শেষ করে আদুরে ভঙ্গিতে মিকিকে কোলে তুলে নিল। ঠিক যখন তার মুখটা মিকির লোমশ শরীরে ছুঁইয়ে এক চিলতে চুমু খাওয়ার জন্য ঝুঁকেছে, তখনই যেন স্তব্ধতা চিরে ভেসে এল এক গম্ভীর, পুরুষালি কণ্ঠস্বর।
“এই দেড় ব্যাটারি! আর একবার যদি এটাকে চুমু খেয়েছ, তো তোমার ওই ঠোঁট দুটো আমি সেলাই করে দেব। স্টুপিড মহিলা! আর আমার কোনো ইচ্ছে নেই এরকম একটা স্টুপিড বিড়ালের ‘বাবা’ হওয়ার। এখনই ফেল ওটাকে!”
কিছুক্ষণ আগেই বাবার রুম থেকে ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদে এসেছিল সৌহার্দ্য। দরজার সামনে এসে হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে সে থমকে গিয়েছিল। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে বউয়ের আদুরে মুখটা দেখছিল, কিন্তু এই বিড়ালছানাটাকে আদর করতে দেখে নিজের বিরক্তি আর ধরে রাখতে পারেনি।
রিদি পিছন ফিরে তাকাতেই দেখল সৌহার্দ্য ছাদের দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর এমন তিরিক্ষি মেজাজ দেখে রিদি নাক-মুখ কুঁচকে ঝংকার দিয়ে উঠল, “এত সুন্দর একটা বাচ্চার সাথে এই লোকের এত সমস্যা কেন, কে জানে!” তারপর কিছুটা বিরক্ত হয়ে যোগ করল, “সব সময় মাসুম বাচ্চাটাকে এমন করেন কেন? ও আপনার কী দোষ করেছে? আমি তো আপনাকে বলছি না ওর বাবা হতে!” বলেই রিদি জেদের বশে মিকির নরম তুলতুলে শরীরে টুপ করে একটা চুমু খেয়ে নিল। বেচারি মিকিটা বড়ই শান্ত, কোনো ঝামেলা করে না বলেই রিদির ওকে ভীষণ ভালো লাগে।
এদিকে সৌহার্দ্য একরাশ বিরক্তি নিয়ে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে বিড়ালছানাটার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল, “স্টুপিড মহিলার স্টুপিড বিড়াল! একে একবার ঠিকঠাক ধরতে পারি, এবার ছুঁড়ে অ্যামাজনের জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসব!” বলেই রাগে গজগজ করতে করতে সে সেখান থেকে চলে গেল।
সৌহার্দ্য চলে যেতেই রিদি তার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙাল। তারপর মিকিকে কোলে নিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল। আজ আর কলেজে যাওয়া হয়নি; সকালে সৌহার্দ্যের মান-অভিমান ভাঙানোর পর সে রিদিকে রুম থেকে বের হতে দেয়নি, বরং দুই হাতে জাপটে ধরে রেখেছিল বেলা এগারোটা পর্যন্ত। রিদি একবার কলেজে যাওয়ার কথা তুললেও সৌহার্দ্য জোর গলায় বলে দিয়েছিল, “আজ যেতে হবে না!”
বেলা প্রায় দুটো। কলেজ থেকে বেরিয়ে প্রচণ্ড রোদে ক্লান্ত সুমি এসে বসেছে রেস্টুরেন্টের এক কোণে। বাবার পছন্দ করা পাত্রের সাথে দেখা করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না তার, বুকের ভেতরটা যেন অজানা এক আতঙ্কে দুরুদুরু কাঁপছে। কিন্তু বাবার কঠোর শাসনের কাছে সে আজ নিরুপায়। এতদিন ছেলেপক্ষ নীরব ছিল বলে বাবাও চাপাচাপি করেননি, কিন্তু আজ হঠাৎই বিয়ের তাড়া! দশ মিনিট পার হয়ে গেল, পাত্রের দেখা নেই। সুমি বিরক্ত হয়ে ব্যাগ গুছিয়ে উঠে দাঁড়াতেই সামনে এসে দাঁড়াল এক সুদর্শন, শান্ত মেজাজের যুবক। তাকে দেখেই সুমির হৃৎস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল—এ তো সেই লোক, যার সাথে কয়েক মাস আগে ঝগড়ার তিক্ত স্মৃতি এখনো তার হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধে আছে!
সুজনের অবস্থাও তথৈবচ। নিজেকে সামলে নিয়ে চেয়ার টেনে বসতেই সুমিকে দেখে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সুজন যান্ত্রিকভাবে বলল, “বসুন, মিস!”
সুমি বসলেও তার চোখেমুখে বিরক্তি আর অবজ্ঞার ছাপ। সুজন এক পলক তার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে উঠল, “বাবা শেষ পর্যন্ত মেয়ে পায়নি? আমার মতো ভোলা-ভালা ছেলের জন্য জলজ্যান্ত এক আগ্নেয়গিরি ঠিক করল? এটা তো দেখছি একদম সৌহার্দ্যের ফিমেল ভার্সন!”
সুমি বিরক্তিতে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, “এভাবে ছেঁচড়ার মতো হা করে তাকিয়ে না থেকে কিছু বলার থাকলে বলুন, আমার তাড়া আছে!”
সুজন কিছুটা হকচকিয়ে গেল। নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে প্রশ্ন করল, “আমাকে বিয়ে করতে আপনার কোনো সমস্যা নেই তো? আই মিন…”
সুমি তাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলল, “আপনাকে আমি বিয়ে করতে চাই না। আমি একজনকে ভালোবাসি। ছেলেটা ভালো না, মানে গ্যাংস্টার টাইপের, তাই বাবার চাপে আপনাকে বিয়ে করতে হচ্ছে। এখন আপনি যদি মনে করেন এই সত্যিটা জানার পরও বিয়ে করা সম্ভব, তবে করতে পারেন—আমার আপত্তি নেই!”
সুমির কথা শুনে সুজন খুক খুক করে কেশে উঠল, মনে মনে ভাবল, ‘একদম পারফেক্ট পছন্দ! এই মেয়ের সাথে ওই গুন্ডা ছেলেই মানায়, আমার মতো নাদান না!’ মুখে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে ভদ্রতার সাথে বলল, “ঠিক আছে, আমি আপনার বাবার সাথে কথা বলব। আসি আজ, ভালো থাকবেন, মিস… কী যেন নাম?”
সুমি বিরক্ত হয়ে জবাব দিল, “সেটাও আমার বাবার কাছ থেকে জেনে নিয়েন।”
সুমি উঠতে যাবে, ঠিক তখনই তার চোখের সামনে পড়ল এক পরিচিত ছায়া। নীল চোখের শাহাবীর! তার সেই জ্বলন্ত দৃষ্টি সুমির সারা শরীরে যেন আগুন ধরিয়ে দিল। সেই ঘটনার পর শাহাবীরের সাথে আর দেখা হয়নি, তার অজস্র কলের উত্তর দেয়নি সুমি। শাহাবীরের সেই তপ্ত দৃষ্টির সামনে সুমি যেন ছোট হয়ে গেল, ভয়ে কুঁকড়ে সে দ্রুত পাশ কাটিয়ে চলে গেল।
সুমি চলে যেতেই শাহাবীর সুজনের দিকে তাকিয়ে শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল, “ওই মেয়ের সাথে তোর এখানে কী?”
সুজন সুমির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলল, “বাবা বিয়ে ঠিক করেছে, তাই দেখা করতে এসেছিলাম। এটা মেয়ে না, পুরো হাই ডো…”
শাহাবীর তাকে থামিয়ে দিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল, “পছন্দ হয়েছে? করতে চাস বিয়ে? কোনো তালবাহানা না করে সোজাসুজি বল।”
সুজন শাহাবীরকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে বলল, “না, এই মেয়ের সাথে আমার অসম্ভব! কিন্তু তোর ব্যাপারটা ঠিক লাগছে না, কারণ কী দোস্ত, এই মেয়ের সাথে তোর…”
শাহাবীর ঠোঁট কামড়ে মুচকি হাসল। সুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, “ঠিক ধরেছিস। তুই তোর বাপকে বলবি এই বিয়ে করতে চাস?”
সুজন চমকে গিয়ে বিরক্ত হয়ে বলল, “মাথা খারাপ নাকি তোর…” বলতে গিয়েই থেমে গেল। শাহাবীরের চোখের গভীরতা দেখে সে যেন সব আঁচ করতে পারল। “তুই কী চাচ্ছিস বল তো?”
শাহাবীর মৃদু হেসে বলল, “তুই যেটা ভাবছিস।”
সুজন হঠাৎ বলে উঠল, “কিন্তু ভাই, এই মেয়ে তো বলল সে কাউকে ভালোবাসে, ছেলেটা গ্যাংস্টার, গুন্ডা!”
শাহাবীর সাথে সাথে বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে নিল। রাগে গজগজ করে বলল, “সব ওই বেয়াদব ফারিসের দোষ, বাচ্চা মেয়েটাকে কেমন ভয় পাইয়ে দিয়েছে! বেয়াদবটাকে হাতের কাছে পাই শুধু!”
সুজন হেসে ফেলল। শাহাবীরের দিকে তাকিয়ে বলল, “বাদ দে ওর কথা, ওর ভণ্ডামি আর যাবে না। আমি আসি রে, আমার কিছু রোগী আছে।” বলেই বিদায় নিল।
সুজন চলে যেতেই শাহাবীর মুচকি হাসল। সে খুব ভালোমতোই জানে মেয়েটা তাকেই ভালোবাসে—আজ সুজনের কথার পর তা যেন নিশ্চিত হলো। মনে বিড়বিড় করে বলল, “ওয়েট করেন, খুব তাড়াতাড়ি মিসেস শাহাবীর হওয়ার জন্য, মাই এংরি বার্ড!” বলেই নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
বিকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় ছাদের কার্নিশে পাশাপাশি বসে আছে রিদি আর পৃথা। চারপাশটা শান্ত, অথচ পৃথা সেই কখন থেকেই একমনে আচার খেয়ে যাচ্ছে। তার এই অস্বাভাবিক আচারপ্রীতি দেখে রিদির ভ্রু কুঁচকে উঠল। সন্দেহভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রিদি জিজ্ঞেস করল, “তোর ব্যাপার কী বল তো? আজকাল দেখছি ভাতের চেয়ে আচার বেশি খাচ্ছিস!”
পৃথা দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল, “জানি না রে… ইদানীং খেতে গেলেই বমি আসে। সবকিছুর গন্ধে কেমন যেন গা গুলিয়ে ওঠে!”
রিদি একটু নড়েচড়ে বসল। তার বুকের ভেতরটা যেন মুহূর্তেই ধক করে উঠল। গভীর সন্দেহে রিদি নিচু গলায় বলল, “পিরিয়ড মিসিং?”
রিদির সরাসরি প্রশ্নে পৃথা চমকে উঠল। লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় তার মুখটা রাঙা হয়ে উঠল, নিচুস্বরে মিনমিন করে বলল, “হুম।”
রিদির মেজাজটা যেন এক মুহূর্তে তিরিক্ষি হয়ে গেল। বিরক্তি আর উদ্বেগের মিশেলে সে বলে উঠল, “ভাইয়াকে বলছিস না কেন? আমার তো মনে হচ্ছে খালামনি হব! তুই টেস্ট করে দেখ না আজই?”
পৃথা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে সায় জানাল। আসলে সে নিজেও ভেতরে ভেতরে এমনটাই আঁচ করেছিল, কিন্তু দ্বিধায় ছিল। চেয়েছিল নিজে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তবেই আরবানকে সুখবরটা দেবে।
রিদি নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল। হঠাৎ করেই তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা যেন কেমন মোচড় দিয়ে উঠল এক অদ্ভুত দীর্ঘশ্বাসে। আকাশের দিকে তাকিয়ে সে ভাবল, মা হওয়ার অনুভূতিটা কেমন হয়? এই যে একটি প্রাণ নিজের ভেতরে বেড়ে ওঠা—সেই অসীম মমতা আর এক অদ্ভুত রোমাঞ্চের ছোঁয়া কি কখনো তার জীবনেও আসবে? নিজের অজান্তেই রিদির চোখে এক চিলতে জল চিকচিক করে উঠল।
রাত প্রায় একটা। দিনের প্রখর রোদ আর ব্যস্ততা পেরিয়ে সৌহার্দ্য সবেমাত্র ঘরে ফিরল। রুমে ঢুকতেই তার নজর গেল খাটের এক কোণে—রিদি ফোনটা হাতে নিয়ে খাটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। যেন তার জন্যই অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমের দেশে হারিয়ে গেছে মেয়েটা। রিদির এই অসহায় আর মায়াভরা দৃশ্যটা দেখে সৌহার্দ্যের বুকের ভেতরটা মুহূর্তেই নরম হয়ে এল।
সে নিঃশব্দ পায়ে এগিয়ে গিয়ে রিদিকে আলতো করে শোয়াতে যাবে, তখনই রিদি পিটপিট করে চোখ মেলল। ঘুমের ঘোর তখনও কাটেনি, ঝাপসা চোখে সৌহার্দ্যকে দেখে সে মিনমিন করে বলল, “কখন থেকে অপেক্ষা করছি আমি?”
সৌহার্দ্য খেয়াল করল রিদির মুখটা কেমন বিষণ্ণ, যেন কোনো এক অজানা কষ্ট তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে সে জিজ্ঞেস করল, “মন খারাপ কেন সুইটহার্ট? কিছু হয়েছে?”
রিদি মুহূর্তের জন্য দ্বিধা কাটাল। তারপর সব লজ্জা বিসর্জন দিয়ে সৌহার্দ্যের গলার ওপর দুই হাত জড়িয়ে ধরে বুকের কাছে মুখ লুকাল। কম্পিত কণ্ঠে মিনমিন করে বলল, “আমি মা হতে চাই, ডাক্তার সাহেব। আপনার মতো দেখতে কিউট একটা বাবু চাই আমার… দিবেন?”
সৌহার্দ্য এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। হঠাৎ রিদির এমন আকুল আবদার তাকে যেন অপ্রস্তুত করে তুলল। সে ভ্রু কুঁচকে, কৃত্রিম বিরক্তিতে তাকিয়ে বলল, “হ্যাঁ! প্রসেসিং ছাড়া কি বাবু আকাশ থেকে টপকাবে? কাছে গেলেই তো মৃগী রোগীর মতো চটপট করো!”
রিদি সৌহার্দ্যের দিকে তাকাতে পারল না, লজ্জায় রাঙা হয়ে নিচু স্বরে বলল, “আর করব না।”
সৌহার্দ্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বউকে পর্যবেক্ষণ করল। কিছুক্ষণ পর তার কণ্ঠস্বর গমগম করে উঠল, “শিওর? পরে কিন্তু কাঁদলে ছাড়া পাবে না, ভেবে বলছ তো?”
রিদি লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে অস্ফুটস্বরে বলল, “হুম।”
সৌহার্দ্য তার নাক টিপে ধরে দুষ্টুমির স্বরে বলল, “হুম কী? আদর চাই?”
রিদি লজ্জায় মাথা নিচু করে ছোট করে মাথা দোলাল। সৌহার্দ্য দেরি করল না; নিজের শার্টটা খুলে ছুড়ে ফেলে রিদিকে বিছানায় শুইয়ে দিল। নিজের শরীরের সমস্ত ভার তার ওপর ছেড়ে দিয়ে, নেশাতুর চোখে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “জেনে শুনেই আমার কাছে ধরা দিয়েছেন ম্যাডাম। এখন চাইলেও আর ছাড়া পাবে না।”
বলেই সে রিদির টি-শার্টটা আলতো করে সরিয়ে রিদির উন্মুক্ত উদরে মুখ ডুবিয়ে দিল। রিদির শরীরে যেন এক অদ্ভুত শিহরণের বিদ্যুৎ খেলে গেল; হৃদস্পন্দনের ছন্দ যেন হারিয়ে ফেলল সে। লজ্জায় আর উত্তেজনায় তার আঙুলগুলো সৌহার্দ্যের চুলে হারিয়ে গেল, আবেশে সে শক্ত করে খামচে ধরল তাকে। সৌহার্দ্যের এলোমেলো স্পর্শ আর তার প্রতিটি উত্তপ্ত নিশ্বাস রিদির নাজুক শরীরটাকে যেন তিলে তিলে দিশেহারা করে দিচ্ছে, সে তখন এক অন্য জগতের যাত্রী।
অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৪৬
দুজনের মাঝে যখন সেই গভীর, আচ্ছন্ন উন্মাদনা তার চরম শিখরে, ঠিক তখনই দরজায় পড়ল এক তুমুল শব্দে আঘাত। যেন কারো ঝোড়ো হাওয়া এসে সব কিছু উড়িয়ে নিয়ে গেল! ওপাশ থেকে মায়ের তীক্ষ্ণ চিৎকারে দুজনেই যেন ঘোর ভাঙা আতঙ্কে বাস্তবের কঠিন মাটিতে আছড়ে পড়ল। সৌহার্দ্য দ্রুত রিদিকে ছেড়ে দিয়ে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল। রিদিও লজ্জায় আর তীব্র অস্বস্তিতে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে উঠে বসল। সৌহার্দ্য তাড়াহুড়ো করে রিদির টি-শার্টটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, “পরে নাও, আমি দেখছি!” বলেই সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
