তোমার আমার গল্প পর্ব ২৭
noorayn
আলিশা বাবুকে খাওয়াচ্ছে আর আরহাম চেয়ে চেয়ে দেখছে।
আলিশার নজরে এটা পড়তেই সে ভ্রু কুচঁকালো, আরহাম এটা দেখে সে নিজেও ভ্রু কুচঁকালো। “এদিকে কি দেখছো?”
“তোকে”
“চোখ সরাও অসভ্য লোক”
“ইশ এই চোখ যে সরেনা তোমার থেকে ললনা”
“ইভ টিসিং করছো?”
“করছি”
“বাবাকে বলে দেব”
আরহাম এটা শুনে হো হো করে হেসে বললো, যা বল এখনি গিয়ে বল, বাবা বাবা তোমার ভাই এর ছেলে আমার দিকে খারাপ নজর দিচ্ছে।
“সুযোগ নিচ্ছো?”
“না নিলে কি ও কি থাকতো?” বাবুর দিকে ইশারা করে দেখালো।
“বাবাকে বলবো তুমি আমাকে জ্বালাচ্ছো”
“ওলেলেলে আমাল পাপা কি পরী”
আলিশা পাশ থেকে কুশন নিয়ে ছুড়ে মারলো, আরহাম সেটা গায়ে লাগার আগেই ক্যাচ করে নিলো।
“যা এখান থেকে বজ্জাত বেটা”
“এটা আমার রুম বজ্জাত বেটি”
“এটা আমার রুম বেশি”
“এ্যাঁ আসছে আমার রুম দখল করতে, এক ধাক্কা দিয়ে বের করবো”
“তোর এতো বড় শাহস আমাকে বের করবি? দাড়া এখনি সবাইকে বলবো”
“যা বল”
“বড় মায়ায়ায়া…আরহাম দেখলো এই মেয়ে সত্যি মাকে ডাকছে তাই তাড়াতাড়ি করে আলিশার মুখ চেপে ধরলো।”
“উম উম্মম ছা..ড়”
“আগে বল চিল্লাবিনা”
“উমম্মম”
আরহাম হাত সরাতেই আলিশা জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিয়ে আরহাম এর পিঠে কিল বসালো।
“উফফ লোহার হাত”
“কি বললি? আমার হাত লোহার? আগে তো কাছে আসার সময় এই হাত তুলোর মতো লাগতো।
“সেটার বিষয় আলাদা”
“আর শুধু আসিস কাছে, দেখ কি করি”
“কি করবি?”
“করার সময় দেখিস”
“দেখতেই তো চাই, দেখা”
আরহাম এর ডাবল মিনিং কথা শুনে আলিশা আবার মারতে উদ্যেত হলে আরহাম হাত ধরে সেই হাতে চুমু খেলো।
“ছুবেঁনা আমায়”
“আমার বউ কে আমি ছুবোঁ, তোর কি?”
“কথা বলবিনা আমার সাথে”
“কেন?”
“আমাকে সরি বল”
“এ্যাঁ, শখ কত!”
“বলবি কিনা বল?”
“না”
“ডাকবো বড় মাকে?”
“না”
-বড় মা…এই থাম থাম বলছি…বলো।
“আমার কুইন, আমার বাচ্চার মা দয়া করে এই অধম কে ক্ষমা করুন, এই রুম কেন এই আরহাম এর জান ও আপনার”
আরহাম এর এমন নাটকীয় ভঙ্গিতে আলিশার দম ফেটে হাসি আসলো।
“এই এই এতো ভেটকাবি না, আমার ছেলের ঘুম ভেঙে যাবে”
আরহাম এর কথা শুনে আলিশা নিজের কোলে থাকা ঘুমন্ত ছেলের দিকে তাকালো যে এখন মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে শুয়ে আছে।
খান বাড়িতে জমজমাট অবস্থা, কেননা আজ বাবুর নাম রাখা হবে তাই ঘরেই ছোট করে আকিকার আয়োজন করা হয়েছে।
কাছের মানুষ যারা আরহাম আলিশার ব্যাপারে জানে তাদের সবাইকে ইনভাইট করা হয়েছে।
বাবুর নাম এখনো কাওকে জানায় নি আরহাম আলিশা, বলেছে সবার জন্য সারপ্রাইজ।
বাবুর বয়স এখন সাতদিন।
গত দুদিন আগেই নিয়াজ আর ইজাজ এসেছেন দেশে, এসেই নাতিকে দেখে যেন দুজনেই খুশিতে দিশেহারা, এতো এতো উপহার এনেছেন যে আরহাম এর বিশাল রুমেও গিফ্ট এর জায়গা হচ্ছিলো না।
আলিশার আজকাল ঘুম একদমি হয়না, বাবু সারারাত জেগে থাকে, কোলে নিয়ে হাটঁতে হয় নাহলে কান্না করে তাই আলিশা একটু ঘুমালে আরহাম কোলে নিয়ে হাটেঁ আবার আরহাম ঘুমালে আলিশা তবে ডেলিভারির পর আলিশার মেজাজ আরো খিটখিটে হয়ে গেছে মাঝে মধ্যে বিনা কারনে ঝগড়া করে আরহামের সাথে তখন আরহাম চুপ থাকে আবার কখনো আলিশার সাথে পাল্টা ঝগড়া করে, এভাবেই চলছে তাদের দিনকাল।
বাবু মা-বাবার কোল ছাড়া কারো কোলে তেমন থাকতে চায়না কান্না করে এদিকে আলিশার পক্ষেও সারাদিন একা হাতে বাবুকে রাখা সম্ভব না, সামনে তার এ-লেভেল এর ক্লাস শুরু হবে আর আরহামের ও এক্সাম শুরু হবে তাই তারা সময় দিতে পারবেনা, এই কারনে ডাক্তার এর পরামর্শে বাচ্চাকে ফর্মুলা মিল্ক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
কাল ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ করে বাচ্চাদের দুধ এনেছে ইজাজ সাহেব কিন্তু এখনো খাওয়ানো হয়নি।
আজ আকিকা হওয়াতে অনেক ব্যাস্ত সবাই তাই আলিশা ও বাবুকে বুকে নিয়ে রাখতে পারছেনা একটু পরে মেহমান আসা শুরু হয়ে যাবে তাই আলিশা আয়শার সাহায্যে বাবুর জন্য প্রথম বার ফিডার রেডি করলো।
আলিশা ফিডার নিয়ে রুমে এসে দেখলো বাবু বেডে হাত পা ছুরে খেলা করছে আর আরহাম পাশে শুয়ে ফোন টিপছে তাই আলিশা আরহাম এর দিকে গিয়ে তাকে বললো,
“ধরো এটা খাইয়ে দাও বাবুকে”
“এটা কি?”
“চোখে দেখছোনা? ফিডার এটা”
“কি করবো এটা দিয়ে?”
“তুমি খাবা”
“হোয়াট?” আমি কেন ফিডার খাবো?”
তোমার আমার গল্প পর্ব ২৬
আলিশা দাঁতে দাঁত চেপে বললো, এটা বাবুর জন্য, ওকে খাইয়ে দাও আমি ওয়াশররুম থেকে আসছি।
আলিশা যেতেই আরহাম বাবুর মুখে ফিডার ধরলো কিন্তু না এই মিনি গন্ডার তো মুখেই দিচ্ছেনা, অনেক চেষ্টা করেও খাওয়াতে পারলোনা সে, এখন আলিশা যদি এটা জানে নিশ্চিত তার সাথে আবার ঝগড়া করবে তাই আরহাম নিজেই ফিডারে মুখ দিয়ে টেস্ট করলো যদি ভালো হয় তাহলে সে নিজেই খেয়ে নিবে। “কিরে এই ছোট গন্ডার এর দুধ দেখি মজার আছে” আরহাম ছোট আরশান কে দেখিয়ে দেখিয়ে ফিডার এর দুধ খেতে লাগলো আর বাবুকে বলছে, “শিখ বাপ থেকে কিছু শিখ যে কিভাবে ফিডার খেতে হয়, পরের বার তুই না খেলে একটা মাইর দিবো ধানিলঙ্কার বাচ্চা ছোট মরিচ”
ফিডার খেতে খেতে আরহাম সামনে তাকিয়ে টাস্কি খেলো, কারন সামনে আলিশা কোমড়ে হাত দিয়ে অবাক দৃষ্টি তে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
