Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ২
নীতি জাহিদ

থমথমে মুখে সবাই চেয়ে আছে। মিনহাজ বেডে শুয়ে আছে। ডাক্তার এসে একবার দেখে গিয়েছে। গায়ে মোটামুটি জ্বর এসেছে। খাটের এক পাশে মামুন সাহেব এবং মনসুর দাঁড়িয়ে আছে। অন্য পাশে মহিলারা দাঁড়িয়ে আছে। মিনহাজ একটু নড়েচড়ে বসে বললো,
-‘ আমি কি ইচ্ছে করে করেছি,নাকি ওদের ডেকে এনেছি এই বলে যে আজ আমার মিটিং আছে,আমাকে মা*রতে আসো।’
ইমরান তীক্ষ্ণ নজরে উত্তর দিলো,
-‘ ঝা/মে/লা/র সাথে যে তোমার পারসোনাল বন্ধুত্ব আছে এটা তো সবার জানা কথা। সাথে তারেককে নিলে না কেনো?’
-‘ বিশ্বাস কর এত ঝা/মে/লা/য় পড়বো বুঝিনাই। পরের বার থেকে নিব।
-‘ ঝা/মে/লা তো বলে কয়ে আসে তাই না?আমি তো ভেবেছিলাম তোমার মা*রা*মা*রি*র স্বভাব চলে গিয়েছে। কলেজে/ভার্সিটি তে ও মা*রা*মা*রি করতে। কি দরকার ছিলো খালেদ জব্বারকে ওর অফিসে গিয়ে থা*প্প*ড়
মা/রা/র?’

-‘ ও কেনো আমার সাথে তর্ক করতে গেলো। আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। ‘
-‘ তুমি কোন দেশের প্রেসিডেন্ট যে তোর সাথে তর্ক করা যাবে না। তর্ক করলেই তুমি মারবে?’
-‘ওকে আর করবোনা। আচ্ছা বাদ দে না। মুড ভালো কর। তোকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব।’
মায়াকে ইশারা দিলো। একটু পর এলোমেলো চুলে,পোশাকে বাচ্চা একটা মেয়ে দরজা দিয়ে রুমে ডুকলো। পরনে ডেনিম ট্রাউজার, ঢিলাঢালা টি শার্ট, চুল গুলো মাথার উপর ক্লিপ দিয়ে মুড়িয়ে বাঁধানো। মিনহাজ ইশারা দিতেই সালাম দিয়ে মিনহাজের বুকে এসে জড়িয়ে ধরলো।
ইমরান সালামের উত্তর নিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে মোনার গাল টেনে দিলো। মোনা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে চোখ মুখ হাস্যজ্বল করলো। মিনহাজ পরিচয় করিয়ে দিলো,
-‘ ইমরান, আমার মেয়ে মোনাশা ইকবাল।’
ইমরান এক নজর দেখে একটা হাসি দিয়ে বললো,
-‘ নামটা আমি জানি মিনহাজ। হাই, মোনালিসা। মিনহাজ ভাই ওর নাম মোনাশা না রেখে মোনালিসা রাখা উচিত ছিলো তোমার। ছবিতে আরো ছোট দেখেছি।’
মোনালিসা ব*ড় ব*ড় চোখ মেলে চেয়ে আছে।এখনো মুখে হাসি লেগে আছে। বাবার কানে ফিসফিস করে বলে,

-‘ বাবা উনি কে?’
-‘ উনি তোমার বাবার অনেক পছন্দের একজন। তোমার ইমরান আংকেল।’
মোনা বাবার দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে বলে,
-‘ উনিই সেই ইমরান আংকেল? তোমার বিজনেস পার্টনার? আমার তো ভাইয়া লাগছে। এত ফিট কিভাবে?’
মায়া ভাইঝির মুখ চেঁ/পে ধরেছে। ইমরান এমন বেফাঁস কথা শুনে মিনহাজ এর দিকে তাকিয়ে আছে। কি অদ্ভুত! এই মেয়ের মুখে এমন অস্বাভাবিক কথা শুনে নিজেই চমকিত,এমনটা আশা করেনি। বয়সই বা কত ওই পুচকির। মোনাকে মায়া রুমে থেকে নিয়ে গেলো। সালমা বলে উঠলো,
-‘ ইমরান ভাই কিছু মনে করবেন না, মেয়ের দো*ষ নেই আপনার বডি ফিটনেস দেখলে তো যে কেউ আপনাকে ভাইয়া ডাকবে।’

মনসুর রেগে গিয়ে সালমাকে এক ধ/ম/ক দিলো। বাড়ির সবাই ইমরানকে সমীহ করে। বে/ফাঁ/স কথাবার্তা ইমরানের পছন্দ নয় সবাই জানে। মিনহাজের সুখ-দুঃখের সঙ্গী ইমরান।পরিস্থিতি বি/গ/ড়া/নো/র আগে মনসুর ডাইনিং এ খেতে তাঁড়া দিলো।
রাতের খাবার শেষ করে,একটা গুরুত্বপূর্ণ কল রিসিভ করতে ইমরান ড্রইং রুমে এসে বসলো। পাশের সোফায় তাকিয়ে দেখে মোনা চকলেট খেতে খেত মাশা কার্টুন দেখছে। ইমরানের ঠোঁটের কোণায় হাসি ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুক্ষন আগে মোনার বলা কথাটি মনে পড়ে গেলো। মোনা ইমরানকে দেখে গাল প্রশস্ত করে হাসি দিয়ে পাশে বসতে বললো। ইমরান পাশে বসলো। মোনা চকলেট সামনে এগিয়ে দিয়ে বলে,

-‘ এটা ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক চকলেট। আমার খুব পছন্দ। সবাইকে দি না। আপনাকে পছন্দ হয়েছে তাই দিলাম। আচ্ছা আপনি তো বাবার কলিগ। তাহলে এত ইয়াং কেনো এখনো। বাবার তো কয়েকটা চুল পেকেছে, পেট ও একটু বের হয়েছে। কিন্তু আপনাকে দেখলে তো মনে হয় আপনার পিছে অনেক মেয়েরা লাইন দিয়ে রেখেছে।’
– ‘তোমার বাবার বয়স আমার চেয়ে বেশি। কলিগ হলেই চুল পাকতে হবে কোথায় লিখা আছে?’
– ‘চুল না পাকলে বুঝবো কিভাবে আপনি আংকেল? আপনি তো ভাইয়া বয়সী।’
ইমরান মনে মনে ভাবলো এই মেয়ের সামনে বসলেই মান সম্মান থাকবে না। এত পাকনা কেনো? মিনহাজ ভাইয়ের মেয়ে বলে কথা।মাইশা ভাবী তো কথা কম বলত। রাগ লাগছে, মেয়েটা কথা বেশি বলে। অন্যদিকে শুনতেও ভালো লাগে। নিজেকে সংযত করে ইমরান বললো,

-‘ কোন ক্লাসে পড়ো তুমি?’
-‘ ক্লাস নাইনে উঠবো। এইটের রেজাল্ট দিয়েছে।’
-‘ বয়স কত তোমার?
-‘ পনেরো।
-‘ আমার সাথে কথা বলার আগে ভেবে কথা বলবে। তোমাকে দেখলে মনেই হয় না তুমি এত ছোট, কথা জানোনা। ‘
ইমরান চকলেট না নিয়ে মোনাকে দিয়ে দেয়। পুনরায় বলে,
-‘ আমি অন্য কারো এঁটো খাবার খাইনা।’
ততক্ষনে ড্রইং রুমে বাকিরা চলে এসেছে। ইমরান বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছে। মোনা নাক মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। রা/গে ফুঁসছে। কি ভাব এই লোকের। কই আজ পর্যন্ত কেউ তো এভাবে আঘাত করেনি। এত অপমান। চকলেট ই সেঁধেছিলো। এত অপমান করতে হবে কেনো?অন্য কেউ হলে আচ্ছা করে বকা দিত। কিন্তু বাবার কলিগকে তো আর বকা যায় না। দাদী মাঝে মাঝে ঘ্যান ঘ্যান করলেও এভাবে কথা বলে না। মন খারাপ করে নিজের রুমে চলে গেলো।

ইমরান গাড়িতে বসে কনফারেন্সে মিটিং শেষ করলো। ঘাড় ব্যাথা করছে। জার্নি করে এসে রেস্ট নেওয়ার সময় টুকু পায়নি। সিটে মাথা এলিয়ে দিতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো কিশোরীর উচ্ছল চেহারা। এলোমেলো কিশোরী হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ধরার আগেই কেউ ধা*ক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফে/লে দিলো কিশোরীকে। তড়াক করে চোখ খুলে সোজা হয়ে বসলো। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সাথে সাথে ড্রাইভারকে বলে সাইড করে গাড়ি থামাতে। গাড়ি থেকে নেমে চোখে মুখে পানি দিলো ইমরান। বুক ধুকপুক করছে। মনে হচ্ছে নিষিদ্ধ কিছু করে ফেলেছে। নিজের উপর রাগ লাগছে৷ বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে আবার গাড়িতে চড়ে বসলো। গন্তব্যে যেতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। নাহলে একটুপর আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ১

এই কিশোরী তার অপরিচিত। চেহারা মনে করতে পারছেনা। কিংবা কোনো কারণে সে চাচ্ছেনা এমন কেউ তার ভাবনায় আসুক। ভুলে যাক সব। রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যাক ভাবনা গুলো। নতুন প্রহরের অপেক্ষা।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here