Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৩১

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩১

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩১
noorayn

আলিশার কাছে ডোরা নামটা বড্ড কিউট লেগেছে সেই সাথে উদ্ভট ও – এই গন্ডার এর দ্বারাই সম্ভব এমন নাম রাখা।
এসব ভাবতে ভাবতে আলিশা বেডে এসে বসলো, আরহাম ব্যালকনি তে কলে কথা বলছে আরাফ এর সাথে আর ডোরা মুখে আঙুল পুরে মার দিকে তাকিয়ে আছে।
আলিশা ছেলেকে কোলে নিয়ে বুঝলো ডাইপার চেঞ্জ করতে হবে – সে আয়শার কাছ থেকে শিখে নিয়েছে কিভাবে চেঞ্জ করতে হয়। আলিশা ডাইপার এনে ছেলেকে চেঞ্জ করে দিতে দিতে বললো – “এতবার হিসি করিস কেন তুই হ্যাঁ? বাপের মতো হয়েছিস?”
আরহাম তখন ব্যালকনি থেকে রুমে আসছিলো কিন্তু আলিশার এমন কথা শুনে তার পা-জোড়া থেমে গেলো, কাছে এসে বললো -” বাপের মতো হয়েছে মানে? আমি কি সারাদিন হিসি করি?”
আরহাম এর কন্ঠে আলিশা মনে মনে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এমন রিয়েকশেন দিলেও বাহিরে তা প্রকাশ করলোনা-” আমি কি সেটা বলেছি?”

“তাহলে কি বলেছিস?
” আমি মিন করেছি তোমার মতো ইচ্ছা করে জ্বালায় আমাকে।”
আরহাম উত্তরে “ওহ আচ্ছা” বললেও পরবর্তী তে যখন আলিশার কথার মানে বুঝলো তখন ঠাস করে এক মাইর দিলো পিঠে।
“আহহহ, মেরেছিস কেন তুই আমাকে?”
আরহাম ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বেডে শুতে শুতে বললো- “মন চেয়েছে তাই”
আলিশা কিছু বলবে তার আগেই বাবু কেদেঁ উঠলো।
আরহাম কোলে নিলেও থামার নাম নেই তাই সে আলিশা কে বললো খাইয়ে দিতে।
“না, আমি ওকে এখন দিবোনা, একবার মুখে নিলে আর ছাড়তে চাইবেনা রাতে – পরে দেখা যাবে অভ্যস হয়ে গেলে তখন আমাকে ছাড়া থাকবেনা আর কিছুদিন পর থেকে আমার ক্লাস শুরু তাই ওকে ফিডার এর অভ্যস করাতে হবে।”
আরহামের কাছে আলিশার কথা যুক্তিসম্মত লেগেছে তাই সে বললো,
“যা আমার ছেলের জন্য ফিডার বানিয়ে আন”
“হ্যাঁ, আমি তো বাপ-বেটার কাজের ঝিঁ তাই সারাদিন দুজনের জন্য খাটঁবো।”
“এতে কোনো ডাউট আছে?”

আরহামের উত্তরে আলিশা পাশ থেকে কুশন নিয়ে আরহামের দিকে ছুড়ে মারলো।
-কুশন এসে সোজা আরহামের গায়ে পড়লো, সেও ছেড়ে দেয়ার মতো পাত্র নয় তাইতো ছেলেকে কোলে নিয়ে দোলনায় রেখে আসলো।
আরহামের এমন করাতে আলিশা মনে মনে ঢোক গিললেও, মুখে বললো – “ওকে দোলনায় দিয়েছিস কেন?”
আরহাম আলিশার দিকে এগুতে এগুতে বললো -“তোকে শায়েস্তা করার জন্য।”
“একদম কাছে আসবিনা বলছি”
“এসে গিয়েছি এখন?”
“আমি তোকে…আলিশা কথা শেষ করার আগেই আরহাম তার ঠোঁট দখলে নিয়ে কথা বন্ধ করে দিলো।
কিছু সময় চলে গেলেও আরহামের ছাড়ার কোনো নাম নেই, এদিকে আলিশার শ্বাস ফুরিয়ে আসছে দেখে সে আরহামের বুকে ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তার মতো চুনোপুঁটি কি আর আরহাম এর মতো বলিষ্ঠ দেহের মানবকে সরাতে পারে? – একটু পরে আরহাম নিজেই সরে এসে হাপাঁতে লাগলো আর আলিশা তো একেবারে কাইত হয়ে শুয়ে গেছে – আরহাম তা দেখে বাঁকা হাসলো, সে আলিশা কে ধাতস্থ হওয়ার সময় না দিয়েই আবার হামলে পড়লো তার উপর।

“ছা..ছাড়ো প্লিজ এখন না।”
“তাহলে কখন?”
“জানিনা, তবে এখন না।”
আরহাম যেন নিজের হুশে নেই, সে আলিশার কাধে, গলায় কামড় দিতে ব্যাস্ত – ঠিক সেই সময় ছোট্ট আরশান আবার কাদঁতে লাগলো।
ছেলের কান্না শুনে আলিশা কোনোমতে আরহাম কে সরিয়ে উঠে, ছেলেকে কোলে নিলো।
“ওর ক্ষিদে পেয়েছে, ফিডার বানিয়ে আনো”
“ওকে আমার কাছে দিয়ে, তুই বানিয়ে আন – আমি ফর্মুলা মিল্ক বানাতে জানিনা”
আলিশা রাগী চোখে তাকিয়ে বললো – “নিচে যাওয়ার মতো অবস্থা রেখেছো আমার? এই দশা নিয়ে নিচে কারো সামনে পড়লে লজ্জায় আর মুখ দেখাতে পারবোনা।”
আরহাম ধাতস্থ হয়ে আলিশার দিকে তাকিয়ে দেখলো – ঠোঁট ফুলে আছে, ঘাড়ে/গলায় লাল ছোপ ছোপ দাগ বসে গেছে আর কাপড় এর দশা যা-তা।
ছেলে কাদঁছে এবং আলিশার এই অবস্থা দেখে সে আর জেদ করলোনা বরং নিজেই নিচে চলে গেলো দুধ বানাতে।

-আরহাম কিচেনে গিয়ে আগে ঠান্ডা পানি খেয়ে নিজেকে শান্ত করলো তারপর ফর্মুলা মিল্ক এর কৌটার পিছনে লেখা নির্দেশনা দেখে দুধ বানিয়ে তা ফিডারে ভরে নিজেদের রুমের দিকে চলে গেলো।
-আলিশা ছেলেকে কোলে নিয়ে ডিভানে বসে ছিলো – আরশান বারবার মায়ের বুকে মুখ গুজে দিচ্ছে, যেন বোঝাতে চাচ্ছে তার ক্ষিদে পেয়েছে।
“আমার জানবাচ্চাটার ক্ষিদে পেয়েছে অনেক? এইতো এক্ষুনি পাপা তোর জন্য ফিডার বানিয়ে আনবে সোনা, একটু অপেক্ষা কর।”
-ছোট্ট ডোরা আবারো মায়ের বুকে মুখ গুজে দিচ্ছে দেখে আলিশা বললো – “স্যরি ডোরা, মাম্মা তোকে ফিড করাতে পারবোনা, এতে তোরই কষ্ট হবে পরে।”
আলিশা কথা বলতে বলতেই আরহাম হাতে ফিডার নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো – এসেই ফিডার আলিশার হাতে ধরিয়ে দিলো।

-আলিশা বাবুর মুখে ফিডার ধরতেই সে মুখ সরিয়ে ফেললো, আলিশা আবার ধরলো কিন্তু না এই মিনি গন্ডার তো কোনোভাবেই ফিডার মুখে দিচ্ছেনা।
আলিশা পারছেনা দেখে এবার আরহাম ডোরাকে কোলে নিয়ে নিজে ফিডার খাওয়াতে চেষ্টা করলো কিন্তু এবারো ফেইল বাবু ফিডার মুখে নিবেনা মানে নিবেই না – এতটুক বাচ্চার এতো জেদ দেখে আরহাম-আলিশা দুজনেই অবাক।
“একদম তোমার মতো হয়েছে – “ত্যাড়া বাপের ত্যাড়া বাচ্চা।”
“হ্যাঁ, সব দোষ শুধু আমার।
-আরহাম আবার চেষ্টা করার উদ্দেশ্য নেচেকুদে মুখ কে নানাভঙ্গিমা করে ছেলের মুখে ফিডার ধরলে এবার ডোরা ফিডার মুখে তুললো – এই খুশিতে আলিশা হাত তালি দিয়ে উঠলো আর আরহাম যেন নিজের উপর প্রাউড ফিল করছে তাই আলিশা কে বলছে – “দেখ অকর্মার ঢেকি দেখ কিভাবে বাচ্চাকে ফিডার খাওয়াতে হয়।”

-ডোরা মুখে ফিডার নিলেও তেমন একটা খায়নি বরং যেই না আরহাম মুখ থেকে ফিডার সরালো সে সাথে সাথে সব বমি করে ফেলে দিলো – এটা দেখে তো আরহাম এর মাথায় হাত আর আলিশা ওয়েট ওয়াইপ্স দিয়ে বাবুর মুখ মুছাতে মুছাতে আরহাম কে ঠেস মেরে বললো – “আচ্ছা, বাচ্চাকে কিভাবে জোর করে খাইয়ে বমি করাতে হয় এটাও কি শিখবো?”
-আরহাম কটমটে দৃষ্টিতে তাকালো আলিশার দিকে।
আলিশা আর কথা না বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে কাপড় পাল্টে দিলো।
আরহাম ফ্রেশ হয়ে এসে এক লাফে বিছানায় শুতে শুতে বললো – এবার কি করবি? “ডোরা তো কিছুই খায়নি।”
“আমিও তাই ভাবছি।
“এখন আপাতত তুই ফিড করিয়ে দে, বাকিবাদ কাল দেখা যাবে।”
আলিশা আরহাম এর কথামত ডোরাকে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়লো। ছেলের মুখে খাবার গুজে দিতেই সে চোখ বুজে চুকচুক করে খেতে শুরু করলো তা দেখে আরহাম-আলিশা ও নিশ্চিন্তে চোখ বুজে নিদ্রার দেশে পাড়ি জমালো।

সকাল ১০ টা বাজে,
যেহেতু কাল সবাই অনেক ক্লান্ত ছিলো এবং দেরি করে ঘুমিয়েছিলো তাই আজ সকলে একটু লেট করে ঘুম থেকে উঠেছে – কেউ এখনো ব্রেকফাস্ট করেনি।
প্রতিদিন সকালের নাস্তা শাইনা আর আয়শা মিলে তৈরি করলেও আজ দেরি হওয়ার কারনে তারা শেফ এর সাহায্যে নিচ্ছে যাতে দ্রুত ব্রেকফাস্ট রেডি করতে পারে সবার জন্য।
নিয়াজ, ইজাজ এবং জামাল সাহেব একসাথে মিলে সকালের চায়ের আড্ডা দিচ্ছে গার্ডেনে। নোমান একটু আগে জগিং শেষ করে এসে বাবা/চাচ্চু দের সাথে জয়েন করেছে।

মেহরোজা আক্তার কঠোর নিয়ম মেনে চলা মানুষ – রাতে তিনি সবার আগে ঘুমিয়েছিলেন এবং সকালে সবার আগে উঠে ব্রেকফাস্ট সেরে এখন ড্রইং রুমে বসে রিনা আহমেদ এর সাথে গল্পে মশগুল।
টিয়া একটু আগে উঠে হায় তুলতে তুলতে মায়ের পাশে এসে বসেছে।
আলিশা একটু আগে শাওয়ার নিয়ে এসে, ছেলেকেও ফ্রেশ করিয়ে দিলো, এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে চুড়ি পড়ছে।
একটু পর, দেখা গেলো আরহাম ও একেবারে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে, তার পড়নে কেবল একটা টাওয়াল – চুল মুছতে মুছতে সেও আয়নার সামনে এসে দাড়ালো আলিশার পিছনে।

“ফ্রেশ হতে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে আসলে কেন?” (আলিশা)
“মন চেয়েছে তাই।”(আরহাম)
“তোমার মন কতকিছুই না চায়”
“এখনো অনেক কিছু চাচ্ছে এই মন, করে দেখাবো?”
“নাহ, থাক আপাতত।”
আরহাম চুল মুছে টাওয়াল টা বেডে ছুড়ে দিয়েছে – এটা দেখে আলিশা একদফা চিল্লাচিল্লি করে এখন নিজে গিয়ে টাওয়াল ব্যালকনিতে মেলে দিয়ে এসেছে।
আরহাম রেডি হয়ে বসে, ছেলেকে নিয়ে খেলছে।
“ওকে খাইয়েছিস?”
“না, এখন খাওয়াবো।”
“জলদি কর, নিচে যেতে হবে।”
আলিশা ডোরাকে কোলে নিয়ে ফিড করাতে শুরু করলো, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাবু ঘুমিয়ে পড়লে আলিশা তাকে যত্নসহকারে আরহাম এর কোলে দিয়ে দিলো।
“চলো নিচে, সবাই অপেক্ষা করছে”
“চল”

আরহাম নিচে এসে ডোরাকে শাইনা বেগমের কোলে তুলে দিলো, আর আলিশা টেবিলে ব্রেকফাস্ট সার্ভ করতে হেল্প করছে যদিও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা বরং বাড়ছে তাই আয়শা তাকে বকে বলেছে কাজ করতে গিয়ে না বাড়াতে এবং সবাইকে ব্রেকফাস্ট এর জন্য ডেকে আনতে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩০

আলিশা তাই করলো, সবাইকে গিয়ে ডেকে আনলো ব্রেকফাস্ট এর জন্য।
নোমান বাড়িতে ঢুকতেই তার দেখা মিললো আলিশার সাথে। আলিশার আপাদমস্তক দেখে নোমান এর হাত আপনা-আপনি মুষ্ঠিবদ্ধ হয়ে গেলো, কেননা আলিশার গলার লাভ বাইট তার চোখ এড়ালোনা।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here