Home তুমি আমার শেষবেলা তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৬

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৬
নীতি জাহিদ

“উফ হাসিটা, মাইনর একটা হার্ট এটাক সহজে হয়ে যাবে।”
কথাটা মোনা আস্তে বললেও ইমরানের কানে পৌঁছে গিয়েছে। মোনার ব্যবহার মোটেও স্বাভাবিক নয়। ইমরান পুরোপুরি নিশ্চিত। তাই ব্যাপারটা নিয়ে নিজের মনের মধ্যে ও দ্বন্দ্ব চলছে। ইমরান ফাইল সাইন করে উঠে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। মিনহাজকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার চোখে দেখে। একই সাথে বিজনেস জার্নি শুরু করেছে। ইমরানকেও বিশ্বাস করে। মোনার আচার আচরন ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। তেরো তলায় চারদিকে গ্লাসে ঘেরা নিজের কেবিনে দাঁড়িয়ে কাচের দেয়ালে মুখ করে বাইরে অন্তরীক্ষে চেয়ে আছে। অনেক বছর পর অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। এই অনুভূতির সাথে ইমরান পরিচিত। তবে আগের অনুভূতির মধ্যে ছিলো আনন্দ কিন্তু বর্তমান অনুভূতি নিষিদ্ধ, আতংক মিশ্রিত।

মোনার কথায় অনুভূতি হচ্ছে তেমন টা নয় তবে প্রথম ভালোবাসার কথা মনে পড়ছে। যেটা অবাঞ্চনীয়, অপ্রয়োজন তবুও অনুভুতি তো, কাউকে ভালোবাসলে যদি এতটা কষ্ট পেতে হয়,তাহলে ভালো না বেসে এক জীবন পাড় করে দেওয়াই ভালো। কাঁকনের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহুর্তে মনটা বিষিয়ে তোলে। সে তো চেয়েছিলো এই সুন্দর সম্পর্কটাকে আমৃত্যু টিকিয়ে রাখতে। কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো। একটা অপ্রিয় ঘটনা অনেকগুলো দূর্ঘটনার সাক্ষী। বাবা- মা হারিয়েও ইমরান এতটা বিধ্বস্ত হয়নি, যতটা কাকন ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়েছিলো। কি করে বেঁচে আছে এই মেয়ে ইমরানকে পিতৃমাতৃহীন করে। এরপর ও তো মাফ করে দিতে চেয়েছিলো ইমরান।
টেবিলের উপর ফোনটা কাঁপছে। স্ক্রিনে ভেসে উঠা নামটি দেখে অধর কোণে হাসির রেশ। হাতে নিয়ে রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে মায়া মাখানো স্বর ভেসে এলো,যা শুনলে ইমরানের মনে পৃথিবীতে কয়েক শতক বাঁচার আকাঙ্খা বেশি জাগে,

-‘ পাপা, আজকে জাফরির বার্থ ডে, আমি কি যাব?’
-‘ জ্বি প্রিন্স যেতে পারেন আপনি, তবে রশিদ আংকেলকে নিয়ে যাবেন। আসার সময় তার সাথেই আসবেন ঠিক আছে?’
-‘ ইয়েস ক্যাপ্টেন।’
ফোনটা কেটেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে ইমরানের। অ*শু*দ্ধ,অ*ন্যা*য়,বি*ষা*ক্ত প্রেমের শক্তি কি এতই বেশি ছিলো যে নিজের রাজপুত্রতুল্য সন্তান, এক সমুদ্র ভালোবাসা দেওয়া স্বামী ছেড়ে, তাকে অপমান করে চলে যেতে হলো। কখনো কখনো এই কথাটি চিরন্তন সত্য হয়ে দাঁড়ায়,
“পুরুষের সাফল্যের চাবিকাঠি যেমন নারীর কোমড়ের ভাঁজে ঝুলে, ঠিক তেমনি পুরুষের ধ্বংসের মূলমন্ত্র নারীর কন্ঠনালীতে থাকে। কিছু ধ্বংস সুখের,কিছু বিনাশের।”

প্রায় কয়েক মাস ঘুরিয়ে আজ ছেলে পক্ষ মায়াকে দেখতে আসছে। ড্রইং রুমে ছেলের বাড়ির থেকে আসা আত্মীয় স্বজন বসে আছে। মিনহাজের পরিবারের সবাই ও আছে। কলিংবেল বাজতেই মনসুর দরজা খুলে দিলো। ইমরান দরজা ঠেলে ভেতরে এসে সোফায় বসলো। মায়াকে সামনে আনা হয়েছে। মেয়ে দেখা পর্বে ইমরান উঠে মিনহাজের রুমের বারান্দায় এসে অফিসের ইম্পোরটেন্ট কল পেয়ে কথা বলছিলো। বারান্দা থেকে রুমে ঢুকতেই দেখতে পায় পিংক কালার টি-শার্ট,কালো ট্রাউজার পরে বসে আছে এই বাড়ির শাহজাদী। হাতে সেই ডেইরী মিল্ক। আশ্চর্য ফুফুকে দেখতে এসেছে কিন্তু এই মেয়ের কোনো আনন্দ নেই। অবশ্য এই উড়নচণ্ডী মেয়ের কাজ কারবার ই অদ্ভুত। হয়তো ঝামেলা পছন্দ করে না তাই এমন একা একা বসে বসে চকলেট খাচ্ছে। ইমরানকে দেখে অধর প্রশস্ত করে হাসি দিলো। মোবাইলে কি যেন করেছে। ইমরান চেয়ার টেনে বসে বললো,

-‘ হাই মিস ইউনিভার্স, কেমন আছো?’
-‘ এমন সম্বোধন কেনো?’
-‘ মিনহাজ ভাইয়ের কাছে তো তুমি মিস ইউনিভার্স, এছাড়া নিজেই তো বলো তুমি এই বাড়ির শাহজাদী।’
-‘ হ্যাঁ তা বলি, কিন্তু আপনি আমাকে এই নামে ডাকবেন না।’
-‘ এজ ইউর উইশ।’
মোনা তাকিয়ে ভ্রু কুচকে ভাবে, লোকটা প্রসঙ্গে বদলায় কেন? সবসময় অল্প বাক্যে কথা শেষ করে। সে কি বুঝেনা এই মোনাশা ইকবাল তার সাথে কথা বলতে চায়। অদ্ভুদ লোক!! ইমরান চলে যেতে চাইলে পেছন দিক থেকে ডাকলো,
-‘ দাঁড়ান মি. এংরি ইয়াং ম্যান। ‘
ইমরান থমকে গেলো এই সম্বোধন পেয়ে।
-‘ ইয়াং ম্যান!! তোমার আমাকে ইয়াংম্যান মনে হল!!!”
মোনা পুনরায় হেসে বলে,
-‘হুম! আমি মোনালিসা হয়েই থাকতে চাই ।’
ইমরান হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলো। কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। তিনমাস আগের কথা, সেদিন ইমরান মোনার সাথে কেবিনে বসে মোনাকে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলে। এভাবে দুষ্টুমি করলে সবাই খারাপ ভাববে। এছাড়াও স্যরি বলেছে চকলেট খায়নি বলে। তাদের মধ্যে এখন বন্ধুত্ব হয়েছে। মোনা কতটা কথা বুঝে নিয়েছে তা ইমরানের জানার বাইরে। কিন্তু মোনা আগের মত আর টিজ করেনা, এড়িয়ে চলে । তাই ইদানীং কথা কম বলে।

‘প্রতিটা মেয়ের জীবনে প্রেমিক পুরুষ থাকে। আমার ও ছিলো। যার জন্য এতগুলো বছর অপেক্ষা করেছি। যেদিন জানলাম সেই পুরুষ টা আমার না অন্যকারো সেদিন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি। তার বিচ্ছেদে তার পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। সবার সাপোর্ট পেলেও ওই মানুষটার পাই নি। ভাইকে বুঝিয়ে পরিবারকে রাজি করিয়েছি। কিন্তু মানুষ টার এত অপমানের সত্ত্বেও আজ ও মানুষ টাকে মনের মাঝে বেঁধে রেখেছি। কি দোষ ছিলো আমার!! একদিন তার বোনের সাথে যোগাযোগ করি। সব রকমের চেষ্টা আজ ব্যর্থ আমার। বাধ্য হয়ে অজানা পথে পা বাড়াবো। আপনি কিছু বলবেন না ইমরান ভাই’।

‘ মায়া মোহ, আবেগ এগুলাতে জড়াতে চাই না বিশ্বাস করো। আমি চাইলেই তোমাকে বিয়ে করতে পারতাম কিন্তু মন টানে না। ভালোবাসাবিহীন সম্পর্কে আমি বিশ্বাসী নই। তুমি আমার কাছে আমার ছোট বোনের মত ছিলে, আছ এবং থাকবে। ইশান বড় হচ্ছে। ওকে নিয়েই আমার যত ভাবনা। এগুলো নিয়ে আর কথা না বাড়ানোই ভালো। ‘
ইমরান রুম থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলো। দরজার সামনে দেখে মোনা দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা থমকে গিয়ে মোনার মাথায় হাত রেখে ওর চুল এলোমেলো করে দিলো। মোনা ইমরানের পেছন পেছন ছুটলো। ছুটতে ছুটতে গেট অবধি এসে ইমরান এর হাত ধরলো।

-‘ ফুফি আপনাকে ভালোবাসে, ইমরান সাহেব?’
ইমরান ভীষণভাবে অবাক হলো। এই মেয়ে নাম ধরে ডাকছে!! এখন না সামলে নিলে ভবিতব্য খুব খারাপ হবে।
-‘ এই মেয়ে ইমরান সাহেব কি? সেদিন এত কি বুঝালাম। বড়দের মত ব্যবহার করো কেনো। বাচ্চা আছো বাচ্চাই থাকো, এটা কেমন অভদ্র প্রশ্ন? তোমাকে আমি উত্তর দিতে কি বাধ্য? ঘরে যাও। পেছনে ছুট লাগিয়েছো কেনো?’

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৫

কথার উত্তর না জানতে চেয়েই নিজের মার্সিডিস- বেনজ্ জি ক্লাসটা ছুটিয়ে নিয়ে গেলো। একবার যদি পেছন দিকে ফিরত তাহলে হয়তো কিশোরীর চোখে অশ্রু কণায় সিক্ত হতো তার পাশান হৃদয়। আবার আকাশে মেঘ। মোনার সাথে বন্ধুত্ব করতে মেঘ ও তাল মেলালো। দুজনের ক্রন্দন রত অশ্রুতে কেউ ধরনী সিক্ত করে আর কেউ নিজের মন। কেনো এমন হলো। “ইমরান সাহেব শুধু আমার হবে, হোক ফ্যান্টাসি, হোক ইনফ্যাচুয়েশন। কিন্তু আমার জিনিস শুধুই আমার। ফুফি কেনো ভালোবাসবে আমার ইমরান সাহেবকে।

তুমি আমার শেষবেলা পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here