মৌটুসী পর্ব ২৫
ঋতস্বিনী মাহবিশ
সময়ের আবর্তনে পেরিয়ে গেল বেশ কয়েকটা দিন। ক্যালেন্ডারের পাতা জানান দিচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ।
চড়ুইদের স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। প্রতিযোগিতা পর্ব অলরেডি শেষ। চড়ুই পঞ্চাশ ফিট দৌড় ও বিস্কুট খাওয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম, আর চামচ-মার্বেল দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছে। এদিকে বীর কেবল বিস্কুট খাওয়া প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একক নাচ পারফর্মের জন্য সিলেক্ট হয়েছে ছোট্ট চড়ুই।
মৌটুসী আলমারির সামনে এসে দাঁড়াল। পাল্লাটা খুলতেই এক কোণে রাখা পুরোনো একটা ছোট কাঠের বাক্স চোখে পড়ল তার। আলতো হাতে সেটা বের করে খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এল দুই জোড়া সোনালী ঘুঙুর। মৌ একটা ঘুঙুর হাতে তুলে নিয়ে তার ওপর আলতো হাত বুলিয়ে দিল। কত স্মৃতি, কত শখ, কত স্বপ্ন! সময়ের স্রোতে আজ তাতে ধুলোর স্তর জমেছে, মলিন হয়ে গেছে সোনালী আভা। কত বছর পর সে এই স্মৃতির বাহক হাতে নিল, তার হিসাব নেই।
বিছানায় বসে থাকা চড়ুই বড় বড় চোখ করে ঘুঙুরগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। এগুলো তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। কণ্ঠে একরাশ কৌতূহল ঢেলে জিজ্ঞেস করল, “মাম্মা, এগুলো কী?”
মৌটুসী মেয়ের দিকে তাকিয়ে স্নিগ্ধ হেসে বলল, “এগুলো ঘুঙুর, মাম্মা। এগুলো পায়ে পরে নাচ করতে হয়। দেখি তো, উঠে দাঁড়াও।”
চড়ুই চট করে বিছানার ওপর খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। মৌ খুব যত্ন নিয়ে ওর দুই পায়ে দুটো ঘুঙুর বেঁধে দিল। এরই মধ্যে টুপ করে একফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল চড়ুইয়ের ছোট্ট পায়ের ওপর। উত্তেজিত চড়ুই তা খেয়ালই করতে পারল না।
ঘুঙুর দুটো বেঁধে দেওয়া হলে চড়ুই বিছানার ওপরই হাঁটতে লাগল, তার ছোট্ট পায়ের প্রতিটা পদক্ষেপের সাথে তাল মিলিয়ে ঘুঙুরগুলো রুমঝুম আওয়াজ তুলে যেন ঘর কাঁপিয়ে তুলছে। ঘুঙুরের সাথে সাথে চড়ুইয়ের ছোট্ট মনটাও আনন্দে নেচে উঠল, উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল, “মাম্মা দেখো এগুলো কী সুন্দর শব্দ করে!”
মৌটুসী মৃদু হাসল। “হুম। খুব সুন্দর শব্দ।”
মহা খুশিতে আত্মহারা চড়ুই বিছানার ওপরই লাফাতে শুরু করে দিল।
মৌটুসী শাসিত গলায় বলল, “চড়ুই পাখি বিছানার ওপর লাফায় না। নিচে নামো মা।”
কথামতো চড়ুই এবার মেঝেতে নেমে কতক্ষণ নাচানাচি করল। তারপর দৌড় দিয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে এল। বাইরে এখন নানুকে দেখাতে হবে। ছামেদ আলী চড়ুইয়ের পায়ে ঘুঙুর দেখে কী যে খুশি হলেন! এই “রুমঝুম” শব্দ যে উনার ভীষণ চেনা, ভীষণ প্রিয় স্মৃতি। এককালে বাড়িটা মেতে থাকত এই ধ্বনিতে। প্যারালাইসিসে বেঁকে যাওয়া হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন নাতিকে। চড়ুই চঞ্চল পায়ে নানাভাইয়ের মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ছোট্ট হাতটা পাকা চুলের মাঝে ডুবিয়ে অভিজ্ঞ বুড়ির মতো করে মাথা নেড়ে বলল,
“নানাভাই, এগুলো পরে নাচ করতে হয়। আমি স্কুলে নাচ দিব।”
প্রাণচ্ছল নাতিকে দেখে চোখের কোণে অশ্রু চিকচিক করে উঠল এই মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোকের। ক্রমাগত হাত নাড়িয়ে মুখ দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে কিছু বলতে চাইলেন তিনি। কিন্তু চড়ুই তা বুঝল না। সে মাথা নামিয়ে বড় দাড়িযুক্ত খসখসে গালে শব্দ করে একটা চুমু খেয়ে বলল, “আমি এখন যাই নানাভাই। আমাকে নাচ প্র্যাকটিস করতে হবে।”
”রুমঝুম ঝুমঝুম রুমঝুমঝুম…….”
ঘরের কোণে একটা ছোট সাউন্ড বক্সে বাজছে নজরুল গীতি। তার তালে উন্মাদ হয়ে একবিন্দুতে দাঁড়িয়ে চর্কির মতন ঘুরছে রমনী। সে যেন থামবার কথা জানে না, ঘুরছে তো ঘুরছেই! দুনিয়াবি কোনো কিছুরই হুঁশ নেই তার। হরিণী চোখ দুটো শক্ত করে বোজা, চোয়াল জোড়া অভিমানে কটমট করছে। পায়ে বাঁধা সোনালী ঘুঙুরের প্রতিটি ঝংকার বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকা একেকটি স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে যেন। পরনের চুড়িদারটি ঘূর্ণির সাথে তাল মিলিয়ে ছাতার মতো গোল হয়ে ছড়িয়ে আছে, বুকে নেই কোনো ওড়নার আবরণ।
বাস্তব জগৎ থেকে হারিয়ে স্মৃতির জগতে বিচরণ করছে রমনী। নাড়ির সঙ্গী, ফেলে আসা স্নেহ, লালিত স্বপ্ন আর ভেঙে যাওয়া সংকল্প—সবই আজ কেবল ধূ ধূ স্মৃতি। পাখি ফাঁকি দিয়ে উড়ে গেছে।
হঠাৎই রমনীর দক্ষ তালের ছন্দপতন ঘটল। তীব্র এক বিষাদ ভর করল শরীরে। মেঝেতে বসে পড়ল ধপ করে। দুই হাতে খোলা চুল খামচে ধরে বুক ভাঙা কান্নায় ডুকরে উঠল সে। হৃদয়ের সুপ্ত যাতনা আর দীর্ঘশ্বাসিত অভিমানে অসম্ভব রক্তিম হয়ে উঠল তার ফর্সা মুখমণ্ডল।
লালবানু বেগম শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে দরজা থেকেই ফিরে গেলেন। ভেতরে ঢোকার আর সাহস পেলেন না।
ঠিক তখনই চঞ্চল পায়ে ঘরে এল চড়ুই। দরজার চৌকাঠ পেরিয়েই একমুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে গেল সে। মায়ের এই দৃশ্য দেখে ছোট্ট মেয়েটার খুশিতে ভরা মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে মলিন হয়ে গেল। অস্থির পায়ে ছুটে এসে বসে পড়ল মায়ের সামনে। ছোট ছোট দুই হাত দিয়ে মৌটুসীর দুই গাল আলতো করে চেপে ধরে উৎকণ্ঠাভরা কণ্ঠে বলল,
“মাম্মা, কী হয়েছে? তুমি কান্না করছ কেন? নাচ করতে গিয়ে ব্যথা পেয়েছ?”
মৌটুসী চমকে উঠল। চড়ুইয়ের নিষ্পাপ চোখের দিকে তাকাতেই বুকের ভেতরটা আরেক দফা মুচড়ে উঠল। সে দ্রুত দুই হাত দিয়ে চোখ মুছে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। গলার স্বর স্বাভাবিক রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় বলল, “না মাম্মা, কিচ্ছু হয়নি। অল্প একটু ব্যথা পেয়েছি, তাতেই কেঁদে ফেলেছি।”
চড়ুই সঙ্গে সঙ্গে মায়ের ভঙ্গিটাই নকল করল। কপাল কুঁচকে গম্ভীর মুখে বলল,
“কোথায় ব্যথা পেয়েছ? চড়ুই পাখিকে দেখাও!”
মেয়ের কাণ্ড দেখে চোখে অশ্রু নিয়েই হেসে ফেলল মৌটুসী। মিছেমিছি ডান পায়ের গোড়ালির দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল,
“এই যে, এখানে একটু ব্যথা পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন ভালো হয়ে গেছে।”
চড়ুই উতলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে জায়গাটিকে আলতো করে হাত ছুঁয়ে দিল। ব্যথিত গলায় জিজ্ঞেস করল, “ব্যথা লাগছে মাম্মা?”
মৌটুসী নাক টেনে বলল,
“না, একদম না। আমার চড়ুই পাখি ছুঁয়ে দিয়েছে না? এখনো ব্যথা থাকবে, এত সাহস?”
চড়ুই এবার মৌটুসীর রক্তিম-ভেজা মুখমণ্ডল জুড়ে চুমুর বর্ষণ নামিয়ে ক্ষান্ত হলো। মৌ মেয়েকে কতক্ষণ বুকে চেপে নীরবে চোখ বুজে বসে রইল। তারপর বলল, “চড়ুই পাখি চলো উঠো। নাচ প্র্যাকটিস করতে হবে না?”
মৌ উঠে গিয়ে ছোট্ট সাউন্ডবক্সটার সামনে দাঁড়াল। মেয়েকে নির্দেশ দিতে বলল, “স্টেপ নাও মাম্মা, গান চালু হবে।”
মায়ের কথামতো চড়ুই দুই হাত ওপরের দিকে একটু বাঁকা করে তুলে ধরে তার নির্ধারিত স্টেপ নিল।
মৌটুসীর আঙুলের এক স্পর্শে আবারো ভেসে উঠল সুর—
“তার ভুরুর ধনুক বেঁকে ওঠে, তনুর তলোয়ার…”
গান চালু করে দিয়ে সেও গিয়ে দাঁড়াল চড়ুইয়ের পাশে। সামনে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় দুজনের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে। আর সেদিকে তাকিয়েই চলতে থাকল মা-মেয়ের নৃত্য অনুশীলন।
ছোটবেলা থেকেই মৌটুসীর কাছে টুকটাক নাচ শিখে আসছে চড়ুই। তাই তাল-লয়ের সঙ্গে তার বেশ ভালোই সখ্য। এছাড়া নতুন যেকোনো স্টেপও খুব দ্রুত আয়ত্ত করে নিতে পারে সে। নাচের সময় চেহারার এক্সপ্রেশনও বেশ। এদিক দিয়েও পুরাই মায়ের মতন হয়েছে মেয়েটা।
শীতের বিদায়লগ্নে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতির গায়ে লেগেছে নতুন রঙের ছোঁয়া। তবু শীত যেন পুরোপুরি বিদায় নিতে রাজি নয়। মাঝেমধ্যেই উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাস শরীর শিউরে দিচ্ছে। আজও বিকেল গড়াতেই হঠাৎ করে ঠান্ডাটা যেন নতুন করে চেপে বসল ধরণীর বুকে।
শো-রুম থেকে ফেরার পথে টেস্টি ট্রিট ফাস্টফুড স্টলের সামনে স্কুটি থামাল মৌটুসী। তার চড়ুই পাখিটা আজ বার্গার খেতে চেয়েছে, এই লক্ষেই এখানে ব্রেক নেওয়া। স্কুটি থেকে নেমে গায়ের কাশ্মীরি চাদরটা আরেকটু ভালো করে জড়িয়ে নিল। তারপর দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে চারপাশে বিশেষ খেয়াল না করেই কাউন্টারের সেলসম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমাকে দুটো চিকেন বার্গার দেবেন, প্লিজ।”
”মিস খুব ব্যস্ততার মধ্যে আছেন মনে হচ্ছে! আশেপাশে কোনো খেয়াল নেই!”
মৌটুসী ব্যাগ থেকে টাকা বের করছিল, তখনই পরিচিত কণ্ঠস্বর কানে আসতেই একটু থমকাল সে। চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে ডান দিকে তাকাল। তার পাশেই সটাং হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বোরাক।
মৌটুসী একটু অপ্রস্তুত হেসে বলল,
“আরে মি. বোরাক! আ..আমি সরি, আমি সত্যিই লক্ষ্য করিনি আপনাকে?”
”ইটস ওকে। শো-রুম থেকে ফিরলেন?”
”হুম, বাসায় যাচ্ছি।”
সেলসম্যান বোরাকের পার্সেল রেডি করে এগিয়ে দিলেন। বোরাক ওয়ালেট থেকে একটা এক হাজার টাকার নোট বের করে দিয়ে বলল, “ম্যাডামের বিলটাও এর সঙ্গে রাখবেন।”
বোরাকের কথা শুনে মৌটুসী তড়িঘড়ি করে আপত্তি জানিয়ে বলল, “আরে কী করছেন? না না। আমি দিচ্ছি তো!”
প্রত্যুত্তরে বোরাক নির্লিপ্তভাবে বলল,
“আমি আমার মেয়ের জন্য কিছু কিনে দিচ্ছি। আপনার কোনো সমস্যা?”
এই কথার বিপরীতে মৌটুসী আর না করতে পারল না। এই কয়দিনে তারা একে অপরের সাথে অনেকটাই সহজ হয়েছে। বলা বাহুল্য বন্ধুত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক এখন বিরাজমান তাদের মাঝে।
মৌয়ের পার্সেল রেডি হলে দুজনেই একসাথে বেরিয়ে এল। টেস্টি ট্রিটের পাশেই একটা ছোট্ট চায়ের স্টল। সেদিকে তাকিয়ে বোরাক বলল, “এই যে মিস, আপনার হাতে সময় থাকলে এক কাপ চায়ের অফার করি?”
মৌটুসী একটু গম্ভীর হয়ে বলল,
“অফার একসেপ্ট করতে পারি একটা শর্তে?”
বোরাক ভ্রূ তুলে তাকাল।
”বিলটা কিন্তু আমার।”
বোরাক এবারে হেসে ফেলল। মৌটুসীর ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠল। বোরাক ইশারা করে বলল, “চলুন তাহলে!”
আশ্চর্যজনকভাবে পুরো স্টলে আর কেউ নেই। তারা রংচটা বেঞ্চটার ওপর পাশাপাশি সামঞ্জস্যপূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে বসল। বোরাক জিজ্ঞেস করল, “লাল চা নাকি দুধ চা?”
”অবশ্যই লাল চা।”
রমণীর সহসা উত্তরে বোরাক ভ্রূ জড়িয়ে বলল,
“ডায়টে আছে নাকি?”
”না না। আমি ডায়ট করি না। সুখী মানুষ আমি, শত খেলেও কোনোদিন মোটা হব না। এমনিতেই লাল চা-ই পছন্দ আমার।”
”আচ্ছা।” বোরাক একটু গলা উঁচিয়ে চাওয়ালাকে বলল, “মামা দুইটা লাল চা দিবেন এখানে।”
বয়স্ক চাওয়ালা হেসে উত্তর দিলেন,
“আইচ্ছা মামা, দিতাছি।”
চায়ের অপেক্ষা করতে করতে বোরাক বলল,
“তারপর, কালকে তো স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান!”
”হুম। আসছেন না আপনি?”
”না গিয়ে উপায় আছে? মেয়ে তো দুইদিন আগে থেকেই আমাকে আর তার সাফওয়ান চাচ্চুকে নাচ দেখার ইনভাইটেশন দিয়ে রেখেছে।”
মৌটুসী মুচকি হেসে বলল,
“ও এমনই। প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলছেন তো, দেখবেন কয়দিন পর আপনার মাথার চুল ছিঁড়তে লাগবে।”
বোরাকও হেসে দুই হাতে নিজের ঘন, স্টাইলিশ চুল ব্যাকব্রাশ করতে করতে বলল,
“সমস্যা নেই, অলরেডি বুড়োর খাতায় নাম লেখা হয়ে গেছে। এখন টাক হলেও বিশেষ আফসোস হবে না।”
বোরাকের অনায়াসে ব্যাক ব্রাশ করার দৃশ্যটা এতটাই ম্যানলি অ্যাট্রাকটিভ ছিল যে মৌটুসী সেদিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না। দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল।
এরই মধ্যে চাওয়ালা মামা দুই কাপ ধোঁয়া ওঠা চা এনে রেখে গেলেন।
কিছুক্ষণ নীরবে চায়ে চুমুক দেওয়ার মাঝেই হঠাৎ যেন একটা কথা মনে পড়ল মৌটুসীর। বলল,
“শুনুন, আপনার একটা টাস্ক আছে, আজকে রাতে বীরকে টুইংকেল কবিতাটা ভালো করে প্র্যাকটিস করাবেন। আমি কিন্তু রিসাইটেশনে ওর নাম লিখিয়ে দিয়েছি।”
”হায় হায়! কী করেছেন? ও এমনিতেই ভয় পায়। স্টেজে এতগুলো মানুষ দেখে নার্ভাস হয়ে যাবে।”
বোরাকের এমন ভীতি দেখে মৌটুসী ভ্রূ কুঁচকে বলল,
“তাই বলে নার্ভাসনেস কাটাতে হবে না?”
”আপনি বুঝতে পারছেন না। একবার আমার অফিসের এক পার্টিতে ছড়া বলতে গিয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছিল। আর নার্ভাসনেস! তা বড় হওয়ার সাথে সাথে এমনিতেই কেটে যাবে।”
”আচ্ছা দেখি কাল কী হয়! বেশি অস্বস্তি মনে হলে ডায়াপার পরিয়ে আনবেন। বাকিটা আমি দেখে নিব।”
বোরাক অদ্ভুত সুন্দর করে হাসল, সামান্য মাথা নত করে বলল,
“যথা আজ্ঞা, ম্যাডাম!”
মৌটুসী পর্ব ২৪
লোকটার এই স্বতঃস্ফূর্ত, সহজ-সরল ব্যবহারটা ইদানীং মৌটুসীকে কেমন অস্থির করে তুলছে। হুটহাট এমন আপন ভঙ্গিতে কথা বলে ফেলে মানুষটা! মৌয়ের ভেতরে কি কিছু হয় না বুঝি?
এই যেমন এখন অকারণেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল মৌটুসীর। নিজের অস্থিরতা আড়াল করতে সে তৎক্ষণাৎ চোখ ফিরিয়ে নিয়ে চায়ের কাপে মন দিল।
