Home ক্যাপ্টেন সাহেব ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ১৭

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ১৭

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ১৭
মারিয়াম ফুল

“হ্যালো ওয়াইফি…. ইওর বিলভাড হাজব্যান্ড ইজ ব্যাক!”
“কেন? আমাকে খুব মিস করছিলে বুঝি?”
সায়েদ মির্জার সেই চাবুকের মতো কণ্ঠস্বর যখনই মেঘলার কানে আছড়ে পড়ল, তখন এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো পুরো দুনিয়ায় থমকে গেছে। ফোনের ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে যাওয়ার পর যে নিঃশব্দতা নেমে এল, তা যেন কোনো এক আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস।
মেঘলা পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। সে জানত, মেহেরের সেই অসমাপ্ত বিদ্রোহের মূল্য এখন তাকেই চুকাতে হবে। করিডোর দিয়ে হলরুমের দিকে যাওয়ার সময় প্রতিটি পদক্ষেপে তার মনে হচ্ছিল, সে নিজের বাড়ি নয়, বরং এক অন্ধকার সুড়ঙ্গের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে।
হলরুমে সায়েদ কামিনী বসে আছেন আগের মতোই শক্ত, গম্ভীর ভঙ্গিতে।মেহের চলে যাওয়ার পর যেন এই বাড়ির দেয়ালগুলো আরও কঠিন হয়ে গেছে। কামিনী চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে মেঘলার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন— “তোমর কি কোনো রিলেশন আছে মেঘলা? সত্যি বলবি…তা না হলে…

সায়েদ পরিবারে মিথ্যার কোনো ঠাঁই নেই।”
মেঘলা মাথা নিচু করে রইল। তার পছন্দের কেউ ছিল না, আর থাকলেও মেহেরের মতো রুখে দাঁড়ানোর দুঃসাহস তার নেই। সে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করল, “ জি না বড় আম্মু, আমার কেউ নেই।”
সায়েদ কামিনী এক মুহূর্তের জন্য থামলেন, তারপর রায় দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, “গুড। তোমার বিয়ে ঠিক করেছি মাশফির সাথে। ও ইউকে থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে, এখন ওখানেই আছে। আপাতত ফোনেই তোমাদের বিয়ে হবে।”
মেঘলার পায়ের নিচ থেকে যেন পৃথিবীটা সরে গেল। বেশ কয়েক বছর আগে মাশফির জন্য সায়েদ কামিনী মেঘলার হাত চেয়েছিলেন।
তখনকার পরিস্থিতি আর এখনকার পরিস্থিতি একদম আলাদা ছিল। মাশফি …. মানুষ হিসেবে মন্দ নন, সায়েদ মির্জার মতো উগ্রতা তাঁর চরিত্রে নেই। এমনকি বিদেশের মাটিতে থেকেও সে
একনিষ্ঠভাবে ইসলাম পালন করেন। কিন্তু মেঘলার আতঙ্কের কারণ মাশফি নন, বরং এই সায়েদ বাড়ির সেই অভিশপ্ত চার দেয়াল।

মেহের যে শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, সেই একই শিকল এখন মেঘলার পায়ে আরও শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হলো। সে বুঝতে পারল, সায়েদ কামিনী আসলে মেহেরের ওপর নেওয়া প্রতিশোধটা মেঘলার ওপর দিয়ে তুলছেন—তাকে আজীবন এই বাড়ির প্রাচীন আর কঠোর আদব-কায়দায় পিষে মারার জন্য। এক খাঁচা থেকে অন্য এক সোনার খাঁচায় তার স্থানান্তর হতে যাচ্ছে মাত্র।
অন্যদিকে, রুদ্রের সেই অ্যাপার্টমেন্টটা শুরুতে মেহেরের কাছে এক নিঃশব্দ কারাগার মনে হতো। কিন্তু কথায় আছে না , মানুষ যখন পৃথিবীর কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখনই সে তার অন্তরাত্মার প্রকৃত কণ্ঠস্বর শুনতে পায়।
লকডাউনের দুপুরে মেহের মাঝে মাঝে নিচে ওয়াকওয়েতে হাঁটতে যেত, তখন চারপাশের পরিবেশ তাকে আর বিন্দুমাত্র টানত না। একদিন সে দেখল দুটো ছোট বাচ্চা একটা চকলেটের প্যাকেট নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। সেই তুচ্ছ খুনসুটি দেখে মেহেরের চোখের কোণে অজান্তেই নোনা জল জমে উঠল।
তার মনে পড়ে গেল ছোটবেলার মাশফি আর মির্জাকে তারা ৩ ভাই -বোন ছোটবেলায় টিক এভাবে ঝগড়া করতো …. মেহের দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল, মানুষ আসলে বড় হওয়ার সাথে সাথে তার ভেতরের পবিত্রতাটুকুও কি এই বস্তুবাদী দুনিয়ায় বিলিয়ে দেয়?

বাচ্চাদের ঝগড়া… এই দেখবেন কাঁদছে, আবার এই দেখবেন হাসিখুশি।
মেহের ওয়াকওয়ের বেঞ্চে বসে ছিল। ভদ্র মহিলা কথাটা বলে হালকা হেসে মেহেরের পাশে বসলেন।
“হ্যালো, আমি রিনি শেখ ।”
তাদের কথার এক পর্যায়ে জানা গেল—মেহের রিনি তাদের পাশের অ্যাপার্টমেন্টেই থাকে।
তাঁর স্বামী একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।তার স্বামীর এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের ব্যবসা আছে।তার জন্য তিনি বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকেন। রিনির দুই সন্তান তামিম আর তিন্নি। রিনি প্রায়ই মেহেরের ফ্ল্যাটে আসতেন, আড্ডা হতো।
কেটে গেছে প্রায় ৯০ দিন।
এই ৯০ দিন মেহেরকে আমূল বদলে দিয়েছে।
মেহের এখন আর আগের মতো কান্নাকাটি করে না। নিজের পরিবারের কথা ভেবে যে কষ্টটা হতো, সেটুকুও সে মন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। গত ৯০ দিন সে শুধু নিজেকে সময় দিয়েছে। বাইরের অস্থিরতা থেকে দূরে থেকে নিজেকে চেনার চেষ্টা করেছে, ইসলামের ছায়ায় শান্তি খুঁজেছে। দিনের অনেকটা সময় তার কাটত কুরআন আর হাদিস পড়ে। মাঝেমধ্যে বাইরে বেরোলে রিনির সাথে দেখা হতো, টুকটাক ভালো-মন্দের কথা হতো ব্যস, এটুকুই।

রুদ্র এই তিন মাসে একবারও ফোন করেনি। রুদ্রর সাথে যোগাযোগ করার কোনো পথও তার কাছে ছিল না…… মেহেরও যোগাযোগ করার চেষ্টা করে নি। এমনকি তার ফোন নম্বরটাও মেহেরের কাছে নেই।
সবচেয়ে কঠিন সময়টা আসত তখন, যখন রুদ্রর মা জিজ্ঞেস করতেন, “রুদ্রর সাথে কথা হয়েছে?”
সেই মুহূর্তে মেহেরের ভেতরে এক প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যেত। সে কখনোই মিথ্যা বলতে চাইত না , কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাকে বলতে হতো “জি, কথা হয়েছে।”
মেহেরের কাছে এক সময় ধর্ম ছিল স্রেফ একটা পারিবারিক পরিচয়…ঠিক আলমারিতে তুলে রাখা দামী পোশাকের মতো, যা বিশেষ দিন ছাড়া বের করা হয় না। সে ভাবত, সৃষ্টিকর্তার দয়া তো অসীম, তাই জীবনের ছোটখাটো ভুলগুলো বোধহয় হিসেবে আসবে না। বিশ্বাসের সেই আবরণটা ছিল মূলত নিজের সুবিধামতো তৈরি করা।
কিন্তু এই নিঃসঙ্গ নব্বই দিন তার ভেতরের সব সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়েছে। এখন সে যখন জায়নামাজে দাঁড়ায়, তখন সেটা আর কেবল ‘নিয়ম’ পালনের দায় থাকে না… বরং সেটা হয়ে ওঠে নিজের সাথে নিজের একান্তে কথা বলার সময়। আগে সে নামাজে দাঁড়াত চাহিদার ফিরিস্তি নিয়ে, আর এখন দাঁড়ায় এক অদ্ভুত সমর্পণে।

সিজদায় যখন সে কপাল ঠেকায়, তখন মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল আর মনের ভার এক নিমেষেই মাটি শুষে নিয়েছে। কুরআনের আয়াতগুলো পড়ার সময় তার মনে হয়, প্রতিটি শব্দ যেন সরাসরি তার ক্ষতে প্রলেপ দিচ্ছে, যেন নিজের অস্তিত্বকে কোনো এক পরম শক্তির কাছে সঁপে দিচ্ছে ।
মেহেরের প্রেগন্যান্সি এখন চার মাসে পড়েছে।মেহেরের সেই আগের রোগা পাতলা চেহারাটা এখন আর নেই। এই কয়েক মাসে তার চেহারায় বেশ পরিবর্তন এসেছে; গালগুলো আগের থেকে বেশ ফোলা ফোলা হয়েছে।
তার শরীরেও এখন মাতৃত্বের পরিবর্তনগুলো কিছু টা বোঝা যাচ্ছে।
এই কয়েক মাসে মেঘলার সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। মাশফির সাথে মেঘলার বিয়ে জেনেও মেহের কিছুই করতে পারেনি। কোথাও না কোথাও তার বিশ্বাস ছিল মাশফি সায়েদের বাড়ির অন্য সদস্যদের মতো না।মেহের একবারও বুঝতে পারেনি, মেঘলার সাথে তার মা এমন কিছু করবে।
কয়েক মাস আগের সেই স্মৃতিগুলো যখন মেহেরের মনের জানালায় কড়া নাড়ে, তখন সে অদ্ভুত এক শূন্যতা অনুভব করে। হাসপাতালের রুদ্র যখন তাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিল, তখন মেহেরের খুব একা লাগত। কিন্তু আজ তিন মাস পর, নির্জনে দাঁড়িয়ে মেহের রুদ্রর প্রতি এক গভীর কৃতজ্ঞতা অনুভব করে। সে ভাবে, রুদ্রের জায়গায় যদি আজ অন্য কোনো পুরুষ হতো, তবে কি বিয়ের রাতেই অন্য কারো সন্তানের মা হতে যাওয়া এক নারীকে সে এভাবে আশ্রয় দিত?

হয়তো দিত না।
প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, রুদ্রের মাঝেও হয়তো এক ধরণের রুক্ষ সততা আছে যা তাকে আর দশটা সাধারণ পুরুষ থেকে আলাদা করে।
জুনের মাঝামাঝি সময়। রাত তখন তিনটা। চারপাশ এক গভীর নিস্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। মেহেরের ঘুমটা ভেঙে গেল, এরকম মাঝেমাঝেই তার ঘুম ভেঙে যায়।তার ঘুম আসছিল না। মনে হলো, নামাজ পড়া দরকার। সে উঠে গিয়ে ওযু করল, তারপর জায়নামাজ নিয়ে দাঁড়াল। নামাজ শেষ করে দোয়ার জন্য হাত তুলল।
তাহাজ্জুদের সেই প্রশান্ত মুহূর্তে সে যখন দুহাত তুলে মোনাজাত শুরু করল, তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সে তার অনাগত সন্তানের জন্য দীর্ঘক্ষণ দোয়া করল। মোনাজাতের এক পর্যায়ে অবধারিতভাবেই তার মনে পড়ে গেল ‘অন্তু’র কথা।সে অন্তু’কে কীভাবে ভুলে যেতে পারে…? অন্তু তো তার প্রথম ভালোবাসা ছিল…

তার প্রথম স্বামী। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, মেহের যখনই অন্তুর মুখটা কল্পনা করতে চাইল, বারবার তার চোখের সামনে এক অন্য প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠতে লাগল। এক দীর্ঘকায় সুঠাম পুরুষ, পরনে ধবধবে সাদা শার্ট, কাঁধে সোনালী স্ট্রাইপ দেওয়া এপোলেটস, গলায় টাই আর পায়ে পালিশ করা কালো জুতো। এক চিলতে বাঁকা হাসি যার গালে টোল ফেলে দেয়।
ক্যাপ্টেন সাহেব !!!
মেহের নিজের প্রতি চরম বিরক্ত হলো। মেহের জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগল… তার সাথে এমন কেন হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছে না।
সে নিজেকে ধমক দিয়ে আবার মোনাজাতে মন দিল, কিন্তু বারবার রুদ্ররের চেহারাটাই তার হৃদয়ে কড়া নাড়তে লাগল। এক সময় নিজের অজান্তেই তার হাত দুটি আরও উঁচুতে উঠল, ঠোঁট থেকে বেরিয়ে এল :
“হে পরম দয়াময়,

যে পথ হারিয়ে ভুল ঠিকানায় থমকে দাঁড়িয়ে আছে,
তার ফিরে আসার সব পথ তোমার রহমতে খুলে দাও।
হৃদয়ের ভেতর জমে থাকা অন্ধকার,
মুছে দাও ইসলামের নূর আর হেদায়েতের আলো দিয়ে।
নিজের অজান্তেই সে আজ বিপথে চলে গেছে,
তাকে আগলে রাখো তোমার রহমতের স্নিগ্ধ আঁচলে।
ভুলের মোহ ছিন্ন করে তাকে সত্যের পথ দেখাও,
দু’হাত বাড়িয়ে দয়া করো প্রভু, সঠিক পথে ফিরিয়ে আনো।”
মোনাজাত শেষ করে মেহের চোখ মুছল। মুহূর্তেই নিজের ওপর নিজেই অবাক হয়ে গেল। সে রুদ্রের জন্য দোয়া করেছে… শুধু দোয়া নয়, অজান্তেই চোখ ভিজে গেছে। এই কান্না রুদ্রের জন্য ? তার জন্য এমন আকুলতা কীভাবে জন্ম নিল?

গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। রুমে পানির জগটা খালি দেখে সে ধীর পায়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল। ড্রয়িংরুমের আবছা অন্ধকারে মেহেরের হঠাৎ মনে হলো, কেউ তাকে অনুসরণ করছে। একজোড়া অতৃপ্ত চোখ যেন তার প্রতিটি পদক্ষেপ মাপছে।
“কে? কে ওখানে?” মেহের থমকে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করে উঠল।
পেছনে তাকাতেই সে কাউকে দেখতে পেল না। সে ভাবল হয়তো মনের ভুল। কিন্তু আবার দুপা বাড়াতেই এক দীর্ঘ ছায়া তার পথ আগলে দাঁড়াল। মেহের বিদ্যুৎবেগে ঘুরে তাকাতেই দেখল
—ক্যাপ্টেন রাইহাম চৌধুরী রুদ্র !
রুদ্র দুহাত প্রসারিত করে সেই চিরচেনা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে উঠল,
“হ্যালো ওয়াইফি…. ইওর বিলভেড হাজব্যান্ড ইজ ব্যাক!”
মেহেরের বিস্ময়ের সীমা রইল না। সে অস্ফুট স্বরে বলল, “আপ… আপনি? আপনি এখানে কীভাবে?”
রুদ্রর হাসিটা আরও চওড়া হলো। “কেন? আমার অ্যাপার্টমেন্ট, যখন খুশি আসব, যখন খুশি যাব। এটা কি খুব অস্বাভাবিক?”

“কিন্তু আপনি ভেতরে ঢুকলেন কীভাবে? দরজা তো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।”
রুদ্র এবার পকেট থেকে একটা চাবি বের করে নাড়াতে নাড়াতে বলল,
ম্যাজিক! আমার কাছে এই বাড়ির এক্সট্রা চাবি থাকে, মিসেস অ্যারোফোবিয়া গার্ল ।
মেহের বিরক্ত হলো,যে মানুষটির জন্য কিছুক্ষণ আগে সে জায়নামাজে চোখের পানি ফেলেছে, সামনাসামনি তাকে দেখামাত্রই মেহেরের ভেতরটা রাগে জ্বলে উঠল। সে গম্ভীর মুখে বলল, “ওহ… আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আর কোনোদিন ফিরবেন না।”

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ১৬

রুদ্র এক পা মেহেরের দিকে এগিয়ে এল। তার চোখেমুখে এক ধরণের দুষ্টুমি আর রহস্যের খেলা। সে ফিসফিস করে বলল, “কেন? আমাকে খুব মিস করছিলে বুঝি?”
মেহের ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেল। তার হৃদপিণ্ড তখন দ্রুত তালে স্পন্দিত হচ্ছে।

ক্যাপ্টেন সাহেব পর্ব ১৮