প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৪
সাইয়্যারা খান
পৌষকে আটকানো সম্ভব হয় নি আর তৌসিফও এই মূহুর্তে ছোট ভাইকে হাসপাতালে রেখে নিজেও বাসায় থাকতে পারছে না৷ বড় ওরনা দিয়ে পৌষকে ঢেকে দিয়েছে তৌসিফ। শ্রেয়া ওর হাত ধরে আনতে আনতে তৌসিফকে বললো,
“আমিও চলছি ভাইয়া।”
“শ্রেয়ান বাসায় একা না? তোমাকে রনি বাসায় দিয়ে আসবে শ্রেয়া। এখানেই থাকো। একটু পরই রনি আসবে।”
“শ্রেয়ানকে দেখার অনেক মানুষ আছে বাসায়।”
“তবুও মা তো মাই হয় শ্রেয়া। এককাজ করো নাহয়, তুমি এখানেই থাকো। আমি ওই বাসা থেকে বাচ্চাদের এখানে আনার ব্যাবস্থা করছি৷ পৌষরাতকে কার ভরসায় একা রাখব বাসায়? তুহিনের অবস্থা অতটা ভালো না।”
শ্রেয়া মাথা নাড়লো। তৌসিফ কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
“অনেক ধন্যবাদ শ্রেয়া।”
“আপনার পৌষরাত হেমন্তের বাচ্চা হয় ভাইয়া। সেই হিসেবে আমারও।”
তৌসিফ মাথা নাড়লো। কথা বলতে পারলো না৷ ওর কান্না পাচ্ছে কেন জানি৷ বুকের সবটুকু হাহাকার এখনো বেরিয়ে আসে নি। তৌসিফ তা চেপে রেখেছে ভেতরে। পৌষকে নিয়ে তৌসিফ নিচে নামলো। গাড়িতে বসালো ধীরে ধীরে। মীরা থাকায় একটু চিন্তা কম নাহয় শ্রেয়াকে একা রেখে যাওয়াটাও বেমানান। তৌসিফ গাড়িতে বসেই হেমন্তকে কল দিলো। হেমন্ত রিসিভ করতেই তৌসিফ বললো,
“তুমি হসপিটালে পরে যাও হেমন্ত। শ্রেয়াকে এখানে একা রেখে যাচ্ছি। বাচ্চাদের এখানে নিয়ে আসো। ওরা এখানেই থাকুক।”
হেমন্ত না করলো না৷ শ্রেয়া আর বাকিরা থাকলে পৌষ একটু শান্ত থাকবে। একা থাকলে আরো পা’গলামো করবে। গাড়িটা ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো তালুকদার বাড়ীর গেট দিয়ে। মেইন রোডে উঠতেই তৌসিফ আস্তে করে পৌষের মাথাটা নিজের বুকে টেনে নিলো। দুটো কুশন দিলো পৌষের পেছনে। এক হাত রাখলো পৌষের পেটে। গতকাল থেকেই তো বলছিলো শরীর ভালো লাগছে না। পৌষ অবশ্য এসব বলে না, ওর ভালো না লাগলে তা তৌসিফের বুঝে নিতে হয়। চোখের ভাষা পড়ে নিতে হয়। তার পৌষ নিজের সমস্যা কোনদিন ব্যাক্ত করে না৷ চুপচাপ সয়ে যায়৷
তৌসিফের কত কথা জমে আছে কিন্তু বলতে পারছে না৷ মনে হচ্ছে বলতে যেয়ে কেঁদে ফেলবে ও। খুব ধীরে ধীরে পৌষের পেটে হাত বুলাতে লাগলো ও। পৌষ ওর বুকে মুখ গুঁজে আছে অথচ শরীরটা কাঁপছে, তৌসিফ তা স্পষ্ট টের পাচ্ছে। ভোর বলে জ্যাম নেই একদম। রাস্তাঘাট একদম খালি। নয়াবাজার পাড় হতে ওদের বোধহয় বিশ মিনিটও লাগলো না। চল্লিশ মিনিটের মাথায় ওরা ধানমণ্ডি পৌছে গেলো। সারাটারাস্তা পৌষ ওভাবেই ছিলো আর তৌসিফ শুধু হাত বুলিয়ে গেলো।
লিফ্টের সাতে প্রেশ করে তৌসিফ পৌষের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখলো। হসপিটাল বলেই বোধহয় এত সকালেও মানুষের আনাগোনা। সাতে নেমে বাম পাশ ধরে ওরা এগিয়ে গেলো সামনের দিকে। এই ফ্লোর খালি। ভিআইপি কেবিনের দিকটা আরো খালি। কেমন ফাঁকা ফাঁকা। দুইজন নার্স শুধু বসে আছেন এই দিকে। পৌষ উৎকণ্ঠা নিয়ে হাঁটছে। তৌসিফও ধীর পায়েই তাল মেলাচ্ছে। পৌষ আগের মতো হাঁটতে পারে না। একটু সামনে যেতেই পৌষ দেখলো একটা চেয়ারে পলক অদ্ভুত ভাবে বসে আছে। মুখে কোন ভাবান্তর নেই৷ পেছনের দিকে থাকায় পৌষ প্রথমে ওকে চিনতেই পারে নি। তৌসিফ পৌষকে নিয়ে একটা কেবিনে ঢুকলো। সচরাচর যেমন ফিনাইলের গন্ধ থাকে, এখানে তেমনটা নেই। খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটা বিশাল কক্ষ। দুটো বেডিং সহ বিরাট একটা কাউচও রাখা। বেড আর কাউচ বাদ দিয়ে একটা সিঙ্গেল চেয়ারে বসে আছে তুরাগ। একদম তুহিনের পাশে যেন ছোট্ট একটা বাচ্চা এই তুহিন। ভাইকে একদন্ড একা রাখা যাবে না। পৌষ ধীরে ধীরে তাকালো বিছানায় শুয়ে থাকা তুহিনের দিকে। কোনদিন ভয় না পাওয়া পৌষ আঁতকে উঠলো সহসা। গলায় বিশ্রী দেখতে খয়েরী কালো দাগ, ফুলে উঠা মুখে ফুলা দুটি চোখের পাতা। ঠোঁট দুটো ফ্যাকাসে রঙের হয়ে আছে। মুখের অক্সিজেন মাস্ক থাকায় খুব বেশি লক্ষ্য করতে পারলো না পৌষ। প্রথম দেখায় ঝট করে খামচে ধরলো তৌসিফের বুকের দিকের টিশার্ট। তৌসিফ ঠোঁট কামড়ে শক্ত করে ধরলো ওকে। চাপাকান্না নিয়ে ফিসফিস করে বললো,
“বাইরে চলো।”
পৌষ মাথা নাড়লো। যাবে না ও। তুরাগ ওদের দেখে উঠে দাঁড়ালো। তৌসিফের দিকে তাকিয়ে বললো,
“ওকে আনতে পাঠিয়েছি তোকে?”
প্রশ্নটা করে পৌষকে দেখে কিছুটা বুঝলো তুরাগ। চেয়ার দেখিয়ে বললো,
“এখানে বসা।”
তৌসিফ বসাতে চাইলো না ওখানে কিন্তু পৌষ গেলো। ধীরে ধীরে হেঁটে গেলো তুহিনের নিকট। বসলো একদম পাশের চেয়ারটায়। তৌসিফ ভাইয়ের কাছাকাছি এসে মাথায় হাত বুলালো। তুরাগের দিকে দৃষ্টি দিয়ে প্রশ্ন করলো,
“জ্ঞান ফেরে নি?”
“না।”
“ভাইয়া?”
পৌষ ফিসফিস করে ডাকলো। তুহিন সাড়া দিলো না সেই ডাকে। জ্ঞানে থাকলে এভাবে শান্ত হয়ে থাকতো সে? এতক্ষণে না পৌষকে রাগীয়ে তুলতো? কত যে কথা বলতো, ভেবেই পৌষের গলা আটকে আসছে। নিজের এক হাত খুব আতঙ্ক নিয়ে এগিয়ে দিলো। তুহিনের মাথায় হাত রেখে চোখ বুজলো ও। কোনমতে বলতে লাগলো,
“উঠবেন না ভাইয়া? তুহিন ভাইয়া, বাসায় চলবেন না? আপনি না আমার জন্য সকালে কত কিছু কিনে আনেন, আজ আনলেন না? আমি খুব রাগ করে আছি ভাইয়া। উঠুন এবার। আপনাকে দেখতে খুব বিশ্রী লাগছে। আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি ভাইয়া।”
নাক টানলো পৌষ। তৌসিফ তুহিনের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো। ভাইয়ের নিস্তেজ হাতটা ধরে দাঁড়িয়ে রইলো। হাতটা তো সেই ছোট বেলা থেকেই ধরা, মাঝে বোধহয় মুঠ হালকা হয়েছিলো নাহয় কিভাবে তুহিনটা হারিয়ে যেতে নিয়েছিলো? পৌষ মাথা থেকে হাত সরিয়ে তুহিনের আঙুল ছুঁয়ে দিলো। একটা আঙুল বোধহয় সামান্য নড়ে উঠলো। পৌষ নাক টানলো। তৌসিফ দেখলো ভেজা চোখের পল্লব নড়ছে ক্রমান্বয়ে। তৌসিফ ডাকলো,
“বড় ভাইয়া, দেখো তো। দেখো তো। ওর চোখ দুটো নড়লো না?”
তুরাগ এগিয়ে এলো। হ্যাঁ, নড়ছে তো। ডক্টর ডাকতে বেরিয়ে গেলো তুরাগ৷ পৌষের ধরে রাখা হাতটায় একটা আঙুল খুব দূর্বল ভাবে ধরলো তুহিন। চোখ দুটো খুলে নি তখনও। ভেজা চোখ দুটোর পাপড়ি নড়ছে পুরোপুরি ভাবে। চোখ মেলতে পারে নি তখনও৷ তৌসিফ উত্তেজিত হলো ওকে দেখে। ডাকতে লাগলো আস্তে আস্তে,
“তু..তুহিন? ভাইয়া? তাকাও আমার দিকে? তুহিন, মেঝ ভাইয়ার দিকে তাকাও। দেখো, পৌষরাতও এসেছে। চোখ খুলো। মেঝ ভাইয়াকে বলো, কষ্ট হচ্ছে? কেন কাঁদছে আমার জান?”
তুহিনের চোখের কার্নিশ গড়িয়ে পানি গড়াচ্ছে অবিরত। তুরাগ সহ ডাক্তার আর আদিত্য কেবিনে ঢুকেছে ততক্ষণে। ডাক্তার এসেই চেকআপ করলেন। তুহিনের নাম ধরে ডাকতে লাগলেন। তুহিন সাড়া দিলো এবার। চোখ খুলার চেষ্টা করলো, পরপর হাত নাড়লো। একটা হাত তখনও পৌষের আঙুল ধরে আটকে রেখেছে। নার্স স্যালাইন চেক দিলেন। তুহিন চোখ খুললো ধীরে ধীরে। চোখের দৃষ্টিতে ক্লান্তি ছাড়া আর কিছু দেখা গেলো না। তুহিন বোধহয় তখনও মনে করতে পারে নি কি হয়েছিলো। এতগুলো মানুষকে কাঁদিয়ে নিজে ভুলে বসে আছে সে কি করেছে। তৌসিফের লাল হয়ে আসা চোখ দুটো প্রথমে চোখে পড়লো ওর। ডাকলো তুহিন ক্ষীণ স্বরে,
“মে..মেঝ ভাআইয়া।”
“হ্যাঁ, এই যে ভাইয়া৷ তুহিন, ভাই আমার, শুনতে পাচ্ছো?”
তুহিন মাথা নাড়লো। তুরাগকে দেখলো দাঁড়িয়ে থাকতে। তার বড় ভাই কাঁদছে নিঃশব্দে। তুহিনও ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে উঠলো। কাঁদতে গিয়ে খেয়াল করলো ওর গলায় প্রেশার পড়ছে। কথা বলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। হলেও ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, শোনা যাচ্ছে না। ডাক্তার হাসিমুখে বললেন,
“কথা বলো না তুহিন। তুমি ঠিক আছো এখন। কয়েকদিন গলায় রেস্ট দাও। খেতে আর কথা বলতে এখন একটু কষ্ট হবে। রাত থেকে ধীরে ধীরে খাবে। এখন রেস্ট একদম।”
তুহিন কথা বলতে মরিয়া হয়ে উঠলো যেন৷ মাথা তুলে বসতে চাইলো কিন্তু ডাক্তার না করলেন। তুহিন শুনবে না। মাথা উঁচু করতে চাইছে। তখনই একটা কণ্ঠে একদম শান্ত হয়ে গেলো ও,
“কি হয়েছে? ডক্টর বলছে না শুয়ে থাকতে। উঠে কি কাজ আপনার?”
ধমকটা কানে আসা মাত্রই তুহিন চোখ ঘুরালো। পরক্ষণেই খেয়াল হলো ও একটা আঙুল ধরে রাখা আর সেটা পৌষের। আশ্চর্য, পৌষ হাতটা সরিয়ে কেন দিচ্ছে না? পৌষকে এই মূহুর্তে দেখে তুহিন আর টিকতে পারলো না। পরপর তৌসিফ আর তুরাগের দিকে তাকিয়ে আবার তাকালো পৌষের দিকে। অতঃপর সবাইকে হতভম্ব করে দিয়ে জোরে কেঁদে ফেললো তুহিন। বড়ই বেমানান দৃশ্য, দৃষ্টিতেও অদ্ভুত। গলা দিয়ে ঘচড়ঘচড় শব্দ বের হচ্ছে। এতেই সে ব্যথা পাচ্ছে অনেক। এক হাতে গলা ধরতে নিতেই তৌসিফ ভাইকে আগলে নিলো। তুরাগ এগিয়ে এসে আরেকটা হাত ধরলো। বারবার সবাই বুঝাতে চাইলো, তারা আছে অতঃপর খুব অবাক করা এক বিষয় ঘটলো। পৌষ উঠে তুহিনের মাথাটায় হাত বুলালো। আদুরে স্বরে বলতে লাগলো,
“কি হয়েছে ভাইয়া? আপনার কি কষ্ট হচ্ছে? কাঁদলে তো গলায় চাপ লাগবে। ভাইয়া.. শুনছেন। তুহিন ভাইয়া, দেখুন আপনার জন্য আপনার দুই ভাইও কাঁদছে।”
তুহিনের কান্নার শব্দ কমলো কিন্তু কান্না কমলো না। তৌসিফের সিনায় লেগে রইলো সে। ভীষণ ভয় পাওয়ার পর যেমন ছোট্ট বাচ্চারা মায়ের বুকে লুকিয়ে যেতে চায় তুহিন সেভাবেই লুকিয়ে গেলো মেঝ ভাইয়ার বুকে। ডাক্তার আরো কিছু পরামর্শ দিলেন। তুহিন মাথাটা কাত করে কথা বলতে চাইলো কিন্তু পারলো না। তুরাগ উৎকণ্ঠা নিয়ে জানতে চাইলো কোন অসুবিধা হচ্ছে কি না। তুহিন খুব স্বল্প স্বরে বললো,
“ব..বসা..”
“বাসায় যাবেন?”
পৌষ প্রশ্ন করতেই তুহিন মাথা নাড়লো। তার দুই ভাই কিছুতেই বাসায় নিবেন না। ডাক্তার নিজেই বললেন,
“আজ থাকো। কাল যদি অবস্থা ভালো হয় তখন যাবে।”
তুহিন জেদ দেখালো। তৌসিফের বুকে থেকেই বোঝালো সে চলে যাবে। তুরাগ ভাইয়ের মাথায় হাত বুলালো। বললো,
“আজ রাতটা এখানেই থাকতে হবে। কাল ভাইয়া নিয়ে যাব। জেদ করে না তুহিন।”
হুড়মুড়িয়ে তখন তিশা আর তাহিয়া কেবিনে ঢুকলো তখন। দুই বোন নিচে গিয়েছিলো কিছুক্ষণ আগে। আসা মাত্রই নার্স জানালো তুহিনের জ্ঞান ফিরেছে। তাদের কান্নায় কেবিনটা ভারী হয়ে উঠলো মূহুর্তে। দু’জনের স্বামীও উপস্থিত এখানে। ডাক্তার এখানে থাকাতে নিষেধ করে দিলেন। তুহিন মানুষ দেখলেই কথা বলতে চাইবে৷ গলায় চাপ সৃষ্টি হবে তাতে সমস্যা বাড়বে। সবাই ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো সেখান থেকে। পৌষ ওখানেই বসে রইলো। তুহিন তৌসিফকে ছাড়ছে না কিছুতেই, না ছাড়ছে পৌষের হাতটা। ওভাবে থাকতে থাকতেই কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে গেলো ও। স্যালাইনে একটা ইনজেকশন দিয়েছে নার্স দশ মিনিট হবে, ওটারই প্রভাবে ঘুমিয়েছে তুহিন।
পৌষ ঘুমন্ত তুহিনের মাথাটায় আবারও হাত বুলালো। ফিসফিস করে বললো,
“তাড়াতাড়ি বাসায় চলুন। বোন বলুন আর ভাবী দুই সম্পর্কে আমি মা হতে না পারলেও আপনাকে যত্ন নিতে আমি কারো কথার পরোয়া করব না।”
“তৌসিফ, খাবি। ওঠ। আদিত্য খাবার এনেছে।”
তুরাগের কণ্ঠে তাকালো তৌসিফ। সেন্টার টেবিলে নাস্তা সাজাচ্ছে আদিত্য। ছেলেটার মুখ ছোট হয়ে এসেছে। আদিত্য আর তুহিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তৌসিফের মন চাইলো না কিন্তু ও না খেলে পৌষকে খাওয়ানো দুঃসাধ্য। বাধ্য হয়ে তৌসিফ পৌষকে নিয়ে উঠলো তবে পৌষ খাবে না এখন৷ আদিত্য এগিয়ে এসে বললো,
“ছোট চাচ্চু শুনলে ঝগড়া বেঁধে যাবে পুষি।”
পৌষ সামান্য হাসলো। তৌসিফ ওকে ধরে বসালো। খুব সামান্য খেলো পৌষ। তৌসিফ জোর করলো না। নিজেও খেয়ে নিলো। আদিত্য আর তুরাগ উঠে যেতেই তৌসিফ আদিত্যকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“ওর জন্য একটা ফলের প্লেট এনে দিস।”
“ঠিক আছে চাচ্চু।”
পৌষ পূর্ণ দৃষ্টি দিলো তৌসিফে। কেবিনটা একদম খালি। তৌসিফের গাল দুটো ধরে নিজের কাছে আনলো পৌষ। কপালে চুমু খেয়ে বললো,
“ভাইয়া সুস্থ হয়ে যাবেন। আপনি এভাবে কান্না চেপে আছেন কেন? দেখি..দেখি আমার দিকে তাকান।”
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৯৩ (২)
তৌসিফ আর টিকতে পারলো না। পৌষকে ঝাপ্টে ধরলো। উগলে দিলো ভেতরের সবটুকু কান্না। সবটুকু কষ্ট তার চোখের পানি রূপে বেরিয়ে আসতে চাইলো। দুটো চোখ বাঁধ ভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়লো। পৌষ কাঁদতে দিলো। যত্ন করে আগলে নিলো তৌসিফকে। এক সময় ফুঁপাতে ফুঁপাতে পৌষের কোলে মাথা রেখে গুটিয়ে শুয়ে পড়লো তৌসিফ। আধ ঘন্টা পেরিয়ে যেতে না যেতেই বাইরে থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শোনা গেলো। শোনা গেলো তুরাগের হুংকার। তৌসিফ ঝট করে উঠলো গেলো। দু’জনই বেরিয়ে এলো কেবিন থেকে।
