এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩১
ফাতেমা তুজ জোহরা
ইনানের সম্বিত ফিরলো সে নিজেকে ছা*ড়া*নোর চেষ্টা করতেই আগুন্তক তার গলায় না*ক ডু*বি*য়ে ঘ*ষ*তে লাগলো। আগুন্তকের তপ্ত শ্বাস আর খোঁ*চা খোঁ*চা দাঁ*ড়ির ছোঁ*য়া*য় ইনানের সারা শ*রী*র আচানাক কেঁ*পে উঠলো । ইনানের চোখ থেকে পানি পড়ছে ভ*য়ে চোখের সামনে রকির কার্যকলাপ গুলো ভেসে উঠলো । সে কিছু বলার আগেই আগুন্তক তার কোমল ঠোঁ*ট জো*ড়া খুব শ*ক্ত ভাবে আকড়ে ধরলো তার ঠোঁ*টে*র সাথে। ইনান চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল আচানাক, চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো তার । তবুও আগুন্তক তাকে ছাড়লো না বুকের সাথে জাপটে ধরে তার ঠোঁ*টে চু*মা খেতে লাগলো। ইনান তখন দিশেহারা কি থেকে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না সে।
আগুন্তক আস্তে আস্তে তার জা*মা*র জি*পা*র খুলতে নিলেই ইনান আঁ*ত*কে তার ঠোঁ*টে দিলো এক কা*ম*ড়। সাথে সাথে ইনান কে ছেড়ে দেয়। ইনান আস্তে আস্তে মেঝেতে বসে গেল, তার শ্বাস প্রশ্বাস খুব দ্রুত চলতে লাগলো, কপাল বেয়ে ঘাম বের পড়ছে গালে। সে হঠাৎ শুনতে পেল কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে , তারপর মাথা উঠাতে গিয়ে আবার পুরো ঘরে আলোকিত হয়ে উঠলো সে মাথা উঠিয়ে যেন বোকাবনে গেল ঘরের দরজা লাগানো তাহলে কে আসলো ঘরে। যে তড়িঘড়ি করে মেঝে থেকে উঠে ঘরের চারপাশে তাকাতে লাগলো। না কোথা ও কেউ নেই। ইনান বিছানায় বসে নিজেকে ধাতস্থ করতে লাগলো।
। ইনান কিয়তক্ষন পর ঘরের জানালা গুলো শক্ত করে লাগিয়ে দেয়, বলা তো যায় না আবার কখন এসে পড়ে। তাই দরজা গুলো লাগিয়ে একবার করে টেনে টেনে দেখলো। না খোলা যাচ্ছে না। ইনান এবার দরজাটা আরো ভালো করে লাগিয়ে আলমারীর দিকে এগিয়ে গেল। আলমারী খুলতেই তার সাইজের জামা কাপড় গুলো দেখতে পেল। এগুলো আইয়ুব মির্জা আগে থেকে কিনে এনেছিলো ঢাকা থেকে।
ইনান পার্পেল কালারের থ্রিপিচ নিলো, সে জামাগুলো নিয়ে ভাবলো ওয়াশরুমে যাবে কিন্তু কি মনে করে আর গেল না । জামা গুলো বিছানায় রেখে, ওখানেই পরনের জা*মা খু*ল*তে লাগলো ইনান। এদিকে রুশভিয়ান পর্দার আড়ালে ইনান কে ন**গ্ন অবস্থায় দেখে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। সে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে, কপাল দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে তার। অনবরত শুকনো ঢোক গিলছে রুশভিয়ান। শক্ত করে পর্দার কাপড়টাকে আকড়ে ধরলো। ইনান জা*মা কা*পড় পা*ল্টে বিছানায় শুয়ে গেল। ইনান বুঝতে পারছে না, সে তো শুধু জামা কাপড় গুলো পাল্টালো কিন্তু মনে হচ্ছে কতবড় পাহাড় সরালো। রুশভিয়ান হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। মনে মনে বলল,” এই ছেমরি কবে যে তারে মনে পড়বো হাই আল্লাহ” বলেই কপাল চাপড়াতে লাগলো সে।
এরইমধ্যে ইনান কে খাওয়ারের জন্য ডাকতে এলো আমির। সে বাইরে থেকে ইনান বলে ডাকলো। এদিকে রুশভিয়ান রে*গে ফা*য়া*র হয়ে গেল, কেন সে ইনান কে ইনান বলবো। সে সহীহ শুদ্ধ ভাবে বলবে ও ভাবি নিচে আইসেন। কিন্তু শেষমেশ ইনান কইলো ” কথাগুলো ভেবে রুশভিয়ান রা*গে কাঁপতে কাঁপতে বলল,” একবার তোরে হাতে পায়, তখন বুঝাইয়া দিমু কে তোর ভাবি, কে ইনান ” হাতগুলোকে মু*ষ্টিব*দ্ধ করলো রুশভিয়ান ।
ইনান সুন্দর করে মাথায় ওড়নাটা পেঁচিয়ে বলল,” আসছি মামা? বলেই বাইরে চলে গেল।
। আর রুশভিয়ান ইনানের মুখে মামা ডাক শুনে একহাত দিয়ে শক্ত করে বু*কটা আ*কড়ে ধরলো। এমন জোরো শ্বাস টানতে লাগলো যেন কেউ তার গলাটাকে শ*ক্ত করে আ*ক*ড়ে ধরে আছে। রুশভিয়ান পর্দার আড়াল থেকে বের হতে হতে বলল,” আল্লাহ, আমারে ধৈর্য্য দাও, আল্লাহ আমারে ধৈর্য্য দাও, না হইলো বইরা করে দাও । তা হইলে আমারে আর এই বি*ষা*ক্ত মামা ডাক শুনবার হইবো না। এই মামা ডাক শুইনা আমার অন্তরটা পু*ই*ড়া যাইতাছে ” রুশভিয়ান আল্লাহর দরবারে কথাগুলো বলতে বলতে নিচে চলে গেল।
ইনান টেবিলের সাইডের চেয়ারে খেতে বসেছে, আর টেবিলের আরেক মাথায় বসেছে আইয়ুব তারপাশে বসে আছে আমির। খাওয়ার বেড়ে দিচ্ছে দুজন কাজের লোকে।
রুশভিয়ান এখানে আসার সময় আমির ডেকে বলেছে ইনান কে যেন পুষ্টিকর খাওয়ার গুলো দেয়, সাথে পোয়াতিরা যেগুলো পছন্দ করে সেগুলো। আমির বড় ভাইয়ের হুকুম থোড়াই না ফেলতে পারে, সে কাজের লোক বলে সেরকম খাওয়ারের ব্যবস্থা করেছে। সাথে আমের টক, আমড়ার আচার, এগুলো ও ছিলো ইনানের পাতে। ইনান মাছ মাংস বাদ দিয়ে আমের টক দিয়ে ভাত খেতে ব্যস্ত। ইনানের খেয়াল নেই সে তো আমের টক খেতে একদম পছন্দ করে না তাহলে কেন আজকে কেন খাচ্ছে এগুলো, সে প্রশ্নটাও তার মাথায় আসছে না।
এমন সময় রুশভিয়ান সগৌরবে নেমে এলো সিঁড়ি দিয়ে। পরনে কালো রঙের শার্ট,আর নিচে সাদা লুঙ্গি। শার্টের হাতাগুলো গোটানো আছে তার, মুখে রয়েছে মুচকি হাসি। আইয়ুব কারো পায়ের শব্দ পেয়ে মাথা তুলে উপরে তাকাতেই চক্ষু চরকগাছ তার। সে কত বুঝিয়েছে রুশভিয়ান কে মির্জা মহলে থাকার জন্য। কিন্তু রুশভিয়ান একটাই উত্তর কারো চোখের বালি হয়ে এই বাড়িতে থাকবে না।
তাই আইয়ুব ও হাল ছেড়ে দিয়েছিলো। কিন্তু আজকে রুশভিয়ান কে এখানে দেখে সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো।
আইয়ুব মুখের খাওয়ারটুকু চিবিয়ে বলল,” কি ব্যাপার তুমি এইখানে?
রুশভিয়ান হেলেদুলে ইনানের সামনের চেয়ারে বসে বলল,” ক্যান আমি কি এই বাড়িতে আসতে পারমু না!
ইনান রুশভিয়ানের কন্ঠ শুনে তার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। আস্তে আস্তে মাথাতুলে সামনে তাকাতেই হেঁচকি উঠতে উঠতে লাগলো। ইনান যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, এই লোকটা আবার এখানে কেন । আর রুশভিয়ান তড়িঘড়ি করে গ্লাসটা বাড়িয়ে দেয়। ইনান নিলো না পানি, সে অনবরত কাশতে থাকলো। আমির ও পানি দিতে পারছে না ভাইয়ের সামনে।একগ্লাস পানি বাড়িয়ে দিলে তাকে এই ভুলের মাশুল দিতে হবে।
রুশভিয়ান আর স*হ্য করলো না,সে চেয়ার ছেড়ে উঠে একহাত বাড়িয়ে ইনানের মুখটাকে শক্ত করে চে*পে ধরে পানি খাওয়াতে লাগলো। ইনান হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রুশভিয়ানের দিকে। আর রুশভিয়ান ইনান কে পানি খাওয়াতে ব্যস্ত।
আইয়ুব কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,” রুশভিয়ান এটা কি করতাছে, ওরে গ্লাসডা দাও! ও খাইয়া লইবো?
রুশভিয়ান কিছু বলল না, পুরো গ্লাসের পানিটুকু ইনান খাইয়ে ক্ষা*ন্ত হলো। তবুও লা*ল চোখ করে ইনানের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইনান ভ*য় পেল রুশভিয়ানের চোখ দেখে, সে নিঃশব্দে চোখ নামিয়ে খাওয়ার খেতে লাগলো কিন্তু খাচ্ছে কম আর খাওয়ার গুলোকে নড়াচড়া করছে বেশি!
রুশভিয়ান ইনান কে খাবার নড়াচড়া করতে দেখে রা*গী গলায় বলল,” খাওয়ার খাবি, না হইলে আমি ..…. তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ইনান গপাগপ করে খেতে লাগলো। এই লোককে বিশ্বাস নাই উঠে এসে আবার খাওয়ার গিলাতে লাগবে।
আইয়ুব মুচকি হেঁসে বলল,” ইনান!
ইনান খাওয়াটুকু গিলে আইয়ুবের দিকে তাকিয়ে বলল,” জি বড় আব্বু !
রুশভিয়ান মনে হলো তার কানের মধ্যে কেউ গ*র*ম সি*ক ঢু*কি*য়ে দিচ্ছে , আর সে য*ন্ত্র*ণায় ছ*ট*ফ*ট করছে। ভাতের থালাতে হাত রেখে তাকিয়ে রইলো ইনানের মুখের দিকে।
আর আমির মুখে খাওয়ার নিয়ে তাকালো রুশভিয়ানের দিকে, সে জানে তার ভাই ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না কিছু না কিছু একটা ঠিক করবে।
আইয়ুব বলল,” রুশভিয়ান তোমার মেজো মামা হয়, আর রুশভিয়ান ও হলো ইশিতার…. বাকি কথা শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ান তার সামনের কাঁ*চের প্লেটটা নিচে ফে*লে দিলো। সাথে সাথে পুরো মির্জা মহলের খাওয়ার ঘর ঝনঝন শব্দে মুখরিত হতে লাগলো।
ইনান ভ*য় পেয়ে পা দুটো তার চেয়ারে উঠিয়ে নিয়ে সামনে তাকালো, এদিকে রুশভিয়ান র*ক্তি*ম চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে ইনানের দিকে। ইনান তার দৃষ্টির মানে বুঝতে পারলো না। কিন্তু সে এটুকু বুঝলো এই বাড়িতে এই লোকটা তাকে পছন্দ করে না, তাই এমন ব্যবহার করছে। মুহূর্তেই ইনান আবেগী হয়ে উঠলো মনে পড়লো তার আব্বুর কথা । আজকে তার আব্বু বেঁচে থাকলে তাকে হয়তো অন্যের বাড়িতে থাকতে হতো না। তার চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
রুশভিয়ানের মাথার ভেতর রা*গ*টা দপ করে উঠে গেল ইনানের চোখে পানি দেখে। সে চেয়ার ছেড়ে উঠে হাতের কাছে কাঁ*চের জগটা নিচে ফে*লে দিয়ে উপরে চলে গেল।আইয়ুব অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রুশভিয়ানের যাওয়ার
দিকে। আর ইনান এবার শব্দ করে কেঁদে উঠল , তার কান্নায় সবাই হকচকিয়ে গেল এমনকি রুশভিয়ানের পায়ের গতি থেমে গেল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো ইনানের দিকে।
আইয়ুব আর আমির এগিয়ে গেল ইনানের কাছে, আর ইনান কেঁদেই যাচ্ছে। আইয়ুব ইনানের মাথায় হাত রেখে আলতো করে বলল,” কি হইছে তুমি কান্দো ক্যান? ও বুজতাছি রুশভিয়ান ওইরকম করলো তাই! আরে হের তো মাথা খারাপ হের লেইগা যখন তখন এগুলোন করে । তুমি কাঁইন্দো না ” বলেই ইনানের মাথায় হাত বুলালো।
ইনান হেঁচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল,” আমি বাড়ি যা*বো বড় আব্বু? এইখানে থাকবো না? আমি আমার আব্বুর বাড়ি যাবো? বলেই নাক টেনে কাঁদতে লাগলো।
রুশভিয়ান মনে মনে অনুশোচনা হলো ইনানের কান্না দেখে পরক্ষণেই তার দাদুকে বড় আব্বু ডাকায় রাগটা উঠে গেল। সে আর থামলো না এগিয়ে গেল সামনে
আর এদিকে ইনান কে আমির আর আইয়ুব বুঝাতে লাগলো ছোট বাচ্চার মতো করে।
রাত্রি দশটা,, ইনান তার ঘরের বিছানায় শুয়ে আছে, ঘরে যতগুলো লাইট ছিলো ইনান সেগুলো জ্বালিয়ে রেখেছে কিন্তু চোখ দুটো বোজার সাহসটুকু পাচ্ছে না সে, মনে হচ্ছে এই কেউ এলো বলে। তখনি ইনান ধ*ড়*ফ*ড়ি*য়ে উঠে বসছে। এভাবে অনেকক্ষণ পর আর থাকতে পারলো না, চোখ দুটো বুঁজে এলো তার তলিয়ে যেতে লাগলো গভীর ঘুমে। এভাবে দশমিনিট কেটে যাবার পর সে অনুভব করলো তার পে*টে কেউ চু*মা খাচ্ছে আর ফিসফিস করে কিছু বলছে। ইনান তড়াক করে চোখ খুললো কিন্তু কিছু জিজ্ঞেস করতে পারলো না ভ*য়ে, কাট হয়ে পড়ে রইলো।
ইনানের পে*টে*র কাপড় উঁচু করতে করতে উপরে যেতে নিলেই ইনান হাতটাকে শক্ত করে আ*ক*ড়ে ধরলো, কিন্তু কোন কথা বললো না সে। হাতটা আর এগোলো না কিন্তু তার উদরে চু*মা খেতে লাগলো চটাস চটাস করে । ইনান কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,” কে?
কোন উত্তর শুধু চারদিকে নিস্তব্ধতা আর পেটে একদিক চুমুর বর্ষন হচ্ছে । ইনান উঠতে চাইলে রুশভিয়ান এক হাত বাড়িয়ে ইনানের হাত গুলো বিছানার সাথে চে*পে ধ*রলো । ইনান চমকে উঠলো সে আরো জোরে চিৎ*কা*র করে বলল , ” কে ?
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩০
রুশভিয়ান পে*ট থেকে মু*খ তুলে ইনান কে ফেলল নিজের উপরে আর সে হলো নিচে।একটা ফুলের কলিকে যেমন নরম হাতে ধরতে হয়, নাহলে নষ্ট হয়ে যায়। ঠিক ওইভাবে রুশভিয়ান ইনান কে তার প্র*শ*স্ত শ*রী*রে*র উ*প*রে রাখলো। ইনান না চাইতে ও রুশভিয়ানের হাতদুটোকে আ*কড়ে ধরে নেয়ে..…
