Home তোমার জন্য সব তোমার জন্য সব পর্ব ২৪

তোমার জন্য সব পর্ব ২৪

তোমার জন্য সব পর্ব ২৪
রেহানা পুতুল

অমনি কলি এমন এক নিষ্ঠুর বাক্য বলে ফেলল মাহমুদের উদ্দেশ্যে। যা শুনে মাহমুদ স্তব্ধ হয়ে গেলো। বিয়ের দ্বিতীয় রাতেই কলি তাকে এমন কিছু বলতে পারে যা তার কাছে অবিশ্বাস্য! অচিন্তনীয়!
“আপনি এই মুহূর্তে যা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না। রেপিস্ট এর কাজ। আর একটু বাড়লে আপনাকে ডিভোর্সড দিবো আমি।”

নিমিষেই মাহমুদের শিহরিত অন্তর বিষিয়ে ব্যথায় নীল হয়ে গেলো। সব অনুভূতিরা পালিয়ে গেলো সাত সাগর তেরো নদীর ওপারে। তার সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বরফখন্ডের ন্যায় জমে শীতল হয়ে গেলো। সে আর কোন টু শব্দ করল না। কোন উচ্চবাচ্য করল না কলির সঙ্গে। কলির শরীরের উপর থেকে সরে গেলো। নিচে দাঁড়িয়ে তার দুই হাতের বাঁধন খুলে দিলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

কলি শাড়ির আঁচল টেনে বুক ঢেকে নিলো। উঠে বিছানায় দেয়াল হেলান দিয়ে বসলো। দৃষ্টি অবনত ও ক্রুদ্ধ!
মাহমুদ একটি টি শার্ট খালি গায়ে পরে নিলো। ওয়ালেটটা ট্রাউজারের পকেটে রাখলো। চোখে চসমা পরে নিলো। মোবাইলটা হাতে নিলো। আয়নায় দাঁড়িয়ে কোনমতে চুল আঁচড়ে নিলো। টেবিলের উপর থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে নিলো। গলা তুলে ঢকঢক করে পুরো গ্লাসের পানি খেয়ে নিলো।
কলির সামনে এসে দাঁড়ালো। গম্ভীর মেঘমুখে বলল,
“খুব সরি হাত বাঁধার জন্য। কেবল নিজের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে এমনটা আর হবে না। আর বাকি যেটা বলছেন আপনি। এনিটাইম করতে পারেন। বাধা নেই কোন। খেয়াকে বিয়ে করবো আমি। ঘুমিয়ে যান।”
কলি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলো খেয়ার কথা শুনে। নির্বাক চোখে মাহমুদের মুখপানে চাইলো। মাহমুদ আস্তে করে দরজা খুলে নিলো।

“এতরাতে কোথায় যাচ্ছেন আপনি?”
আতংকিত গলায় জানতে চাইলো কলি।
“সেটা আপনাকে বলতে বাধ্য নই আমি।”
বলেই মাহমুদ দাঁড়ালো না। বাসা থেকে বেরিয়ে লিফটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কলি মাহমুদের পিছন পিছন বাসার গেটের বাইরে গেলো।
আর্তির স্বরে ডাক দিলো,
“স্যার প্লিজ যাবেন না। আমার কথা ত শুনবেন।”
লিফট এলে মাহমুদ চলে যায় নিচে। বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। কলি নিজের রুমে এসে দরজা চাপিয়ে দিলো। বিছানায় বসে ঢুকরে কেঁদে উঠলো। অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাহমুদের নাম্বারে বারবার ট্রাই করে যাচ্ছে। বাট সুইচড অফ। কলি মহাচিন্তায় পড়ে গেলো।

হায় খোদা! বাসায় গেস্ট। জুলিও আছে। সকালে জানাজানি হলে খুব বাজে হয়ে যাবে। তার নানী হলো আরেক ডেঞ্জারাস পাবলিক। এনিহাউ একে বাসায় আনাতে হবে। কলি পূনরায় ট্রাই করেও ব্যর্থ হলো। পরে একটা মেসেজ দিয়ে রাখলো।
মাহমুদ মহল্লার একটি টি স্টলে গেলো। এটা বহুরাত অবধি খোলা থাকে। সেখানে ঢুকে পাতানো লম্বা কাঠের বেঞ্চটাতে বসলো। চা,সিগারেট খেতে লাগলো একের পর এক। চা দিতে দিতে ছেলেটা মাহমুদের দিকে আড়চোখে চায়। কিন্তু কিছু বলে না। রাত দুটোর দিকে সে দোকান বন্ধ করে ফেলে। মাহমুদ উঠে হাঁটতে থাকে। তিনটার দিকে মাহমুদ মোবাইল অন করলো। দেখলো কলির নাম্বার হতে মেসেজ।

“স্যার প্লিজ ফিরে আসুন। দোহাই আপনার। আমি কিছু বলতে চাই। এরপর আপনি যে পানিশমেন্ট দিবেন মাথা পেতে নিবো। আমার দিব্যি খেয়ে বলছি। আমার কষ্ট হচ্ছে খুব!”
মাহমুদ মেসেজ পড়েই আবার মোবাইল অফ করে ফেলল। যেন কলি ফোন না দিতে পারে। সে আরো কিছুক্ষণ রাস্তায় এদিক সেদিক পায়চারি করতে লাগলো। সাড়ে তিনটার দিকে বাসায় গেলো মাহমুদ ঢুলু ঢুলু চোখে। চাপানো দরজা ঠেলে রুমের ভিতরে গেলো। দরজা অফ করে সোফায় গিয়ে বসল থম মেরে।
কলি নিস্তেজ কন্ঠে ডেকে উঠলো,
“স্যার বেডে এসে ঘুমান। প্লিজ!”

মাহমুদ না পেরে বিছানায় এলো। উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো নিজের বালিশে। শরীর,খারাপ লাগছে বেশ। মনের অবস্থা তার চেয়েও শোচনীয়! কলি নিজ থেকেই অপরাধীর সুরে বলল,
“স্যার আমার সেই কথা আমি ফিরিয়ে নিচ্ছি। আর কোনদিনও অমন কুফা শব্দ উচ্চারণ করব না। আপনি ফোর্স করে সুখ পেতে চেয়েছেন। অথচ আমি আপনার কাছে সময় চেয়েছি। তাইতো আমার রাগকে সংবরণ করতে পারিনি। আপনাকে সবসময় দেখে এসেছি একচোখে। এখন ভিন্নভাবে ভাবতে,দেখতে একটু অসুবিধা হচ্ছে আমার। ঠিক হয়ে যাবে সব। এগেইন সরি স্যার।”
মাহমুদ রুক্ষ স্বরে বলল,

“মাথা ব্যথা করছে। গতরাতের মতো আমার আরামদায়ক ঘুমের ব্যবস্থা করে দিন।”
কলি মুখে আর কিছু বলল না। মাহমুদের চুলে আস্তে করে বিলি কাটতে লাগলো। চুলগুলো টেনে দিলো। কপালে ম্যাসাজ করে দিলো। হাত পা টিপে দিলো। এভাবে বেশ সময় পার হয়ে গেলো। দেখলো মাহমুদ গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো। কলিও পাশে তার বালিশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।
সকালে কলি উঠে ফ্রেস হয়ে নিলো। রুমের এলোমেলো কাপড়চোপড়গুলো গুছিয়ে রাখলো নিদিষ্ট জায়গায়। বের হয়ে আনুশকার রুমে গেলো। নানু পান খাচ্ছে বসে বসে। কলিকে দেখেই হেসে উঠলো। চোখের পাতাকে ছোট করে বলল,

“কাছে আহো,চুল ভিজানি দেহি।”
কলি অপ্রস্তুত কন্ঠে মিথ্যা বলল,
“নানু আমার শারীরিক সমস্যা চলতেছে। তাই অফ।”
নানু মুখ গোঁজ করে বলল,
“ও বুঝলাম। তবে বইন একটা কথা কই। পুরুষ মানুষ হইলো ভ্রমরের জাত। কাছে থাকা ফুলের মধু না পাইলে অন্যফুলে উইড়া যাইবো মধু খাওনের লাইগা। প্রেম, সোহাগ দিয়া স্বামীরে ভুলায়া রাইখো। নইলে নিজেই চোক্ষে আঙ্গুল দিয়া কাঁনবা।”

কলি পূর্ণ মনোযোগে কথাগুলো শ্রবণ করলো এবং বিশ্বাস করতেও দুবার ভাবল না। যার প্রমাণ কয়েক ঘন্টা আগেই পেয়ে গেলো। খেয়াকে বিয়ে করবে, মিথ্যে করে হলেওতো একথা স্যার তাকে শুনিয়ে ফেলল। কলি আনুশকার রুমের বারান্দায় গেলো। এই বারান্দায় আনুশকার কিছু ফুলগাছ রয়েছে।
কলি দেখলো অলকানন্দা, বেলী,নয়নতারা,হাস্নাহেনা ফুল ফুটে আছে। এখন বর্ষাকাল। এগুলো বর্ষাকালের ফুল। কলি সব ফুল ডাঁটাসহ ছিঁড়ে নিলো। আনুশকার থেকে চেয়ে সুতা নিলো। ফুলগুলোর গোড়া এক করে ভালো করে বেঁধে নিলো কলি। সাজিয়ে একটি পুষ্পতোড়া তৈরি করে ফেলল। সেগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কিছু পাতা গুঁজে দিলো সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
আনুশকা বলল,

“তোমাদের রুমে রাখার জন্য? না ভাইয়াকে গুড় মর্নিং জানানোর জন্য?”
“দুটোই।”
মিষ্টি হেসে বলল কলি।
“বাহ! চমৎকার হয়েছে সাজানো। যাও কন্যা। স্বামীকে তুষ্ট করো পুষ্প সুরভি বিলিয়ে।”
এভাবে কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হলো। হয়তো মাহমুদ এবার উঠে যাবে। কলি নিজেদের রুমে গেলো। দেখলো মাহমুদ চেয়ারে বসে আছে। তারমানে উঠে ফ্রেস হয়ে হয়ে গিয়েছে। কলি দুহাতে ধরা ফুলের তোড়াটি মাহমুদের দিকে বাড়িয়ে ধরলো।
মাধুর্যভরা কন্ঠে বলল,

“শুভ সকাল স্যার। আপনার জন্য।”
মাহমুদ চমকালো। ফুল হাতে নিলো। নিরস ভঙ্গিতে কলিকে থ্যাংকস জানালো। অতিরিক্ত একটি শব্দও বলল না কলিকে। মনে মনে বলল,
দুধের স্বাধ ঘোলে মেটেনা কলি। এতটা অবুঝ কেন তুমি?
কলি বুঝতে পারলো মাহমুদ তার উপর বেজায় অসন্তুষ্ট। মাহমুদ আজ কলিকে ডাকল না। নিজেই নাস্তা খেতে চলে গেলো। আবদুর রহমান ছেলেকে আদেশ দিয়ে বলল,
“বৌমাকে নিয়ে তাদের বাসায় বিকালে যাস। এটা নিয়ম।”

“বাবা আমার জরুরী কাজ আছে বাইরে। ফিরতে লেট হবে। এক ফ্রেন্ড বাইরে যাবে। রাতে ফ্লাইট। দিনে আমাকে নিয়ে তার বাকি থাকা শপিংগুলো করবে। কলিকে কাল তাদের বাসায় নিয়ে যাবো।”
“আচ্ছা কালই যাস।”
মাহমুদ নাস্তা খেয়ে রুমে এসে রেডি হয়ে নিলো। গায়ে পারফিউম ছড়িয়ে দিলো। কলি চোখ বন্ধ করে পারফিউমের ঘ্রাণ নিলো নিঃস্বাস ভরে। নিজ থেকেই মাহমুদকে জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় যাচ্ছেন? আজ রবিবার। ভার্সিটি যাবেন ত মঙ্গলবার।”
মাহমুদ আগুন ঝরা কন্ঠে বলল,

” কারো অপ্রিয় হয়ে সামনে থাকার চেয়ে আড়ালে থাকা ভালো।”
কলি আর কিছুই বলার সুযোগ পেলনা। মাহমুদ বেরিয়ে গেলো। কলি যেন আকাশ থেকে পড়লো। এত জেদ তার পুরুষটার? এত প্রকট অভিমান? দুপুর, বিকাল,সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলো। মাহমুদের আসার নাম নেই। কলির মন খারাপের পাল্লা ভারি হতে লাগলো। বাসায় কারোই মন খারাপ নেই। কারণ মাহমুদ সবাইকে কারণ বলেই বেরিয়েছে। কলি সংকোচে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারছে না মাহমুদের কথা। ঝিম মেরে প্রহর গুনতে লাগলো। রাত হয়ে গেলো তাও মাহমুদ এলো না। কলি বার বার ফোন দিচ্ছে মাহমুদকে। কিন্তু সুইচড অফ। তার অস্থিরতা আনুপাতিক হারে বেড়েই চলল। কত কু কথা মনে উদয় হতে লাগলো।

ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই। কলি রুমের জানালার গ্লাস সরিয়ে বাইরে চেয়ে আছে। দৃষ্টি ক্লান্ত! অসহায়। অম্বরে মেঘ ডাকছে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো। তুমুল বৃষ্টি। তখনই মাহমুদ টলতে টলতে রুমে প্রবেশ করলো। বাসার গেট বন্ধ ছিল না সে আসবে বলে। নিচে সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে একাধিক। তাই বন্ধ না করলেও তেমন অসুবিধা হয় না। কলির কলিজায় পানি এলো মাহমুদকে দেখে। ভিজে জুবুথুবু মাহমুদ। তাওয়েল এগিয়ে দিলো কলি। মাহমুদ ওয়াশরুমে চলে গেলো।

কলি তাকে কিছুই বলল না। কারণ জানে সে,মাহমুদ তার কথার রিপ্লাই দিবে না। গত রাত থেকেই কথা বলেনা মাহমুদ তারসঙ্গে। কলি বিছানায় গিয়ে তার বালিশে শুয়ে পড়লো। মাহমুদ ওয়াশরুম থেকে বের হলো পরনে তাওয়েল পেঁচিয়ে। চশমা,ওয়ালেট,সেলফোন সব টেবিলের উপরে রাখল। মাহমুদ তাওয়েল পরেই বিছানায় শুয়ে পড়ল। কলির লজ্জার বেহাল দশা। ‘নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক’। এত বড় একটা শরীরে মাত্র একটা তাওয়েল? আর সব উদাম? এর কি কোন হুঁশ নেই। এত বেশরম পুরুষ সে? মাল খেয়ে টাল হলো নাকি? মাহমুদ চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। দৃষ্টি নিবু নিবু।

কলি চোরা চোখে দেখলো মাহমুদকে। চোখ দুটো ভয়ংকর লাল হয়ে আছে। সম্ভবত মাহমুদ স্বল্প পরিমাণে হলেও ড্রিংকস করেছে। কলি পায়ের নিচের কাঁথাটা দিয়ে মাহমুদের শরীর ঢেকে দিলো। উদ্দেশ্যে যেন তার চোখে না পড়ে কিছু। কিন্তু কাঁথা একটা। তারও ঠান্ডা লাগছে। এবার নিজে কি গায়ে দিবে। তবুও ভাঁজ হয়ে শুয়ে রইলো কলি।
রাত আরো গভীরে ডুবে গেলো। বাইরে ঘন বরষা। বৃষ্টির সাথে সাথে আকাশে থেমে থেমে বজ্রধ্বনি হচ্ছে। ভয়ংকর গর্জনে কলি ওহ! বলে মাহমুদের কাছে নিজেকে একটু ভিড়িয়ে নিলো। কাঁথাটা একটু নিজের গায়ের উপরে দেয়ার চেষ্টা করলো। মাহমুদ চোখ বন্ধ রেখেই এক হাত মেলে দিলো। কলিকে নিজের বাহুর উপরে টেনে আনলো। নিজেও কাত হলো। একই কাঁথার ভিতরে কলিকে নিজের শরীরের সঙ্গে পেঁচিয়ে নিলো এক পা দিয়ে। কলির বুক উঠানামা করছে তীব্র গতিতে। নিজের গায়ের সঙ্গে মাহমুদের পুরো উদাম শরীরের স্পর্শ পেতেই এক অচেনা নিবিড় শিহরণ তাকে দোল দিয়ে যাচ্ছে বিরামবিহীনভাবে।

তার ভিতরে এমন লাগছে কেন। এমন স্বর্গীয় অনুভূতি এর আগে কখনো হয়নি তার। এত ভালোলাগছে কেন? উঁহু! এবার কলি নিজেই আদুরে বিড়ালের মতো মাহমুদের খোলা বুকে নাক মুক ঘষতে লাগলো। মাহমুদ প্রায় নেশাগ্রস্ত। কেননা সে সত্যি নেশা করে এসেছে। ঘুম জড়ানো চোখ মেলল না সে। তবে কিছু উপলব্ধি করতে পারলো। কলির নিটোল দেহের সংস্পর্শে সে আরো আগুন হয়ে উঠলো। মোমের মতো কলিকে গলিয়ে দেওয়ার এইতো মোক্ষম সুযোগ।

মাহমুদ নিজের উপর ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। সীমাহীন উত্তেজনায় কাঁপছে দুজন নব বর বধূ। পরিবেশ যেন স্বর্গীয় কিছু প্রত্যাশা করে দুজনের থেকে। মাহমুদ একটু একটু করে এগোয়। কলির গাল, ঘাড়, বুক অধর, ভিজিয়ে দিলো নিজের দুই ঠোঁটের উষ্ণ আলিঙ্গনে। শাড়ির নিচে দিয়ে কলির মসৃণ পেটে হাত রাখলো। কলি চোখ বন্ধ করে অন্যরকম নবসুখের স্বাদ উপভোগ করছে বৃষ্টিভেজা নিশুতি রাতে। তার যত কষ্ট আর লজ্জাই লাগুক। তবুও মাহমুদকে আজ আর বাধা দিবে না এই রোমাঞ্চকর পরিবেশে। যা ইচ্ছে করুক। লুটেপুটে নিক তার গোপন সব। কলি নিজের দু’হাত দিয়ে লাজরাঙা মুখখানা ঢেকে রাখলো।

শেষ রাতের দিকে দুজনে ক্লান্ত মাঝির মতো নিদ্রা-ঘোরে সপে দিলো দুজনকে। প্রভাতকালেই উঠে কলি গোসল করে নিলো। বিছানায় উঠে আবার শুয়ে পড়লো। টের পাচ্ছে শরীর খুব ব্যথা করছে। রাতেও খায়নি। তাই কলির ক্ষুধার্ত শরীরে ফের অবসাদ নেমে এলো। তার দুচোখ বুঁজে এলো অল্প সময়ের ব্যবধানেই।
নাস্তা তৈরি হয়ে গেলো। কলিকে আজ না দেখে নানু তাদের রুমে গেলো। দেখলো মাহমুদ টেবিলে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে৷ তিনি সোজা বারান্দায় চলে গেলেন। এসে ঘুমন্ত কলির দিকে চাইলেন।
মুচকি হেসে মাহমুদকে বললেন,

“ঘুমাক। থাউক। শরীর ব্যথার ট্যাবলেট আইনা দিস। এইটা পরে গুতাইস। নাস্তা খাইতে আয়। দিলেতো ম্যালা শান্তি আইজ তোর।”
মাহমুদ উঠে গিয়ে নাস্তা খেয়ে এলো। বেশ বেলা হলো তবুও কলির ঘুম ভাঙ্গছে না। মাহমুদ কলিকে প্রেমময় সুরে ডাকলো। কিন্তু কলির কোন সাড়া নেই। অসাড় হয়ে নির্জীবের মতো পড়ে আছে বিছানায়। মাহমুদ কলির পাশে বসে কপালে হাত রাখলো। কলির জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। মাহমুদ দিশেহারা হয়ে ছুটে গেলো রুমের বাইরে। বোনকে জানালো। শুনে মাহফুজাও হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো।

তোমার জন্য সব পর্ব ২৩

মাহফুজা কলিকে নেড়েচেড়ে দেখেই চিৎকার করে উঠলো,
“ওমা! আল্লাহ রহম করো। কলির তো কোন জ্ঞানই নেই। পুরো শরীর হিম হয়ে আছে। হাসপাতালে নিতে হবে। এম্বুলেন্স ডাক জলদি। হঠাৎ এমন হলো কেন?”

তোমার জন্য সব পর্ব ২৫