Home আপনাতেই আমি সিজন ২ আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৫

আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৫

আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৫
ইশিকা ইসলাম ইশা

ক্লাস শেষ হয়েছে প্রায় অনেকক্ষণ।আজ নাকি লাস্ট ক্লাস হবে না।মেঘ, রিদি আর ওমা বসে আছে বিশাল গাছের নিচে!!বসে না বলতে গেলে রিতী মতো ঝরগা করছে দুইজন,
এ্যাই এ্যাই তুই আমার ক্রাশকে ওলোট পালোট বলতে পারিস না!!(ওমা)
তোর ক্রাশ!! হ্যাঁ তোর ক্রাশ আস্ত একটা বন মানুষ!!(মেঘ)
একদম এসব বলবি না!!বনমানুষ হবে তোর বর আর তার বৌ হবি তুই!!!(ওমা)
খবরদার ওম আমার হবু বর নিয়ে মন্তব্য করবি না!!(মেঘ)
এএএএ!!! খোঁজ নাই তার আবার হবু বর!!পিরিত!(ওমা)
রিদি এতোক্ষণ হাবার মতো এদের ঝরগা দেখলেও এবার বলল,
থাম দুইজনে!!অভিক ভ……মানে স্যার কে নিয়ে তোদের মাঝে কিসের ঝরগা হচ্ছে!!
মেঘ কিছু বলার আগেই ওমা বলল,
আর বলিশ না!!অভিক স্যারের দুটা থাপ্পর খেয়ে ওনি স্যার এর উপর রাগান্বিত!!
রিদি অবাক হয়ে বলল,

থাপ্পর!!
ওমা মেঘের দিকে তাকিয়ে বলল,
তুই তো এখন থেকে আমাদের বন্ধু তোকে বলায় যায়!! আসলে মেঘের সাথে পরশের ব্রেকআপের দিন মেঘ ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মরতে যাচ্ছিল।ওদিন অভিক স্যার মেঘকে বাঁচায়।বেশি না দুটা থাপ্পড় দিয়ে পুরো কলেজের সবার সামনে অপমান করে। মেঘের বাবা, মা,ভাই কে ডেকে কমপ্লেন করে।মেঘের ভাই মানে মিলন ভাইয়া আবার অভিক স্যারের বন্ধু।তাই মিলন ভাইয়া মেঘের দায়িত্ব অভিক ভাইয়াকে দিয়েছে!এদিক সেদিক হলেই কল চলে যায় মিলন ভাইয়ার কাছে।আর মিলন ভাইয়া বাঁশ হাতে রেডি থাকে!!তাই মেঘ পছন্দ করে না অভিক স্যার কে!!!
রিদি হতবাক হয়ে তাকালো মেঘের দিকে।এরপর ওমার দিকে চেয়ে বলল,
পরশ কে???
ওমা বিরক্ত কন্ঠে বলল,
শয়তান বেডা!!প্লে বয়!!সালা!!মেঘদের সামনের বাসায় থাকত!একসাথে একই স্কুলে পড়ত ! সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেম।এরপর দুইজনেই কলেজে ভর্তি হয়।বাট কলেজে উঠেই আরো সুন্দরী মেয়েদের সাথে নাকি তার গভীর সম্পর্ক হয়।এসব জানার পর মেঘ রেগে পরশকে জেরা করে।তারপর ওদের ব্রেক আপ!!
রিদি অবাক হয়ে বলল,
পরশ এই কলেজে পড়ে??

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

না!অন্য কলেজে!!তবে শুনেছি সে নাকি দেশের বাইরে চলে গেছে!সালা হারামি জীবনে সুখী হবে না দেখিস!!ওমার রাগান্বিত স্বরের কথাটা শুনে রিদি মেঘের দিকে তাকালো।
মেয়েটা উদাস মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে!!সেও মায়ের জন্য যখন মনটা উদাস হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।যদিও রিদির প্রেম ভালবাসার ব্যাপারে কোন ধারনা নেই।তবে মেঘের দিকে তাকিয়ে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট বেশ অনূভব করল রিদি!!তার মাও তো তাকে ছেড়ে চলে গেছে।রিদি ধীর পায়ে এগিয়ে জরিয়ে ধরল মেঘ কে!!
মেঘ রিদিকে জরিয়ে ধরে ধীর গলায় বলল,
ভুলেও কাউকে ভালবাসবি না রিদু!!বিশ্বাস কর ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়!
তোদের অভিক স্যার আমাকে সেদিন অনেক অপমান করেছে!! কিন্তু সে হয়তো জানে না যাকে ভালোবাসে তাকে না পাওয়া কতোটা কষ্টকর! বিচ্ছেদ কতটা কষ্টের!ওনি কাউকে হয়তো কখনো ভালোবাসেনি!!তবে আমি চাই ওনিও কাউকে ভালবাসুক!! কিন্তু সে তার না হোক!!সেও পুরুক আমার মতো!!ভেতরটা তারো ছাড়খাড় হোক!! মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করুক!!
রিদি মেঘের মাথায় হাত রেখে বলে,

কাউকে বড়দোয়া করা উচিত না মেঘ!আমি দোয়া করব তুই কোন ভাঙচুর হৃদয়ের মানুষ কে তোর মনে জায়গা দিবি!!কারন ভগ্ন হৃদয়ের দুইজন মানুষ ই পারে দুইজনের পথ চলার সঙ্গী হতে!!
মেঘের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল পানি!রিদির আদুরে হাত বুলানোতে যেন কষ্ট গুলো বেরিয়ে এসে হালকা হতে চাইছে মন !মেয়েটা কি জাদু জানে!!জানে হয়তো!!মেঘ কাঁদল হয়তো কিছুক্ষণ!! ষষ্ঠদশী মনের প্রথম অনূভুতি ছিল পরশ। চাইলেই কি ভুলে যাওয়া যায়!!
ওমার চোখের পানি টলমল করছে!মেঘের জন্য তার ও খারাপ লাগে নরম শান্ত মনের মেয়েটা কেমন কঠিন হয়ে গেছে আজকাল!ওমা সব ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সেও এসে জরিয়ে ধরলো দুইজন কে!!যতো যাই হোক বন্ধু তো!!
দূর থেকে দাঁড়িয়ে সবটা দেখল অভিক।যদিও ওদের কথা কিছু বুঝতে পারে নি।তবে মেঘ কে জরিয়ে ধরায় কিছুটা অবাক হয়েছে। আবার একদিকে চিন্তামুক্ত ও হয়েছে!! কারন মেঘ যদি রিদির বন্ধু হয় তবে ভীতু মেয়েটাকে নিয়ে তার চিন্তা করা লাগবে না।মেঘ একটু উগ্র হলেও মিলনের বোন হিসেবে যথেষ্ট ভালো।অভিক দূর থেকে তিনজনের বন্ধুত্বের হাগ করা দেখে মুচকি হাসল!!মনে মনে সেও মেঘের মতোই ভাবল জাদু জানে নাকি মেয়েটা মাএ কয়েক ঘন্টায় মেঘের মতো উগ্র,জেদি মেয়েটাকে বন্ধু করে নিল!অভিক সব ভেবে হুট করেই তার বাম হাতের দিকে তাকালো!!মনে পড়ল ভয় পেয়ে এই হাতটাই আকড়ে ধরেছিল রিদি। মূহুর্তটা মনে পড়তেই পুরো শরীর জুড়ে বয়ে গেল শীতল বাতাস।

কলেজ শেষ করে দাদির পাঠানো গাড়িতে করে বাড়ি ফিরেছে রিদি।দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই ড্রয়িং রুমে নাজমা চৌধুরী কে দেখে এগিয়ে গেল রিদি।নাজমা চৌধুরী রিদিকে দেখে মুচকি হাসল।হাত বাড়িয়ে বলল,
আয়!! এদিকে!!কেমন কাটলো প্রথম দিন!!
রিদি শুরু থেকে সবটা বলতেই দাদি মুচকি হেসে বলল,
সেকি!! সত্যি নাকি!!
রিদি হেসে বলল,
একদম!!কলেজে তোমার নাতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই!! প্রায় মেয়ের ক্রাশ!!তবে মেঘ বাদে!!
রাইফা নাজমা আর রিদির কথা শুনে এগিয়ে এসে গদগদ হয়ে বলল,
দেখেছেন আম্মা!!কলেজের কতো শত মেয়ে পাগল আমার সুদর্শন, সুপুরুষ,সুপুত্রের জন্য!!
নাজমা চৌধুরী আড়চোখে রাইফা নামক রমনীকে দেখে বলল,
তা তো অবশ্যই!!
রাইফা চটপট বলল,

কিন্তু ছেলে তো বিয়ে বসতে চায় না!!বয়স তো কম হলো না!!কতো শত মেয়ে দেখালাম! পছন্দ হয় না!!এই এই তুমি কাল থেকে অভিকের ওপর নজরদারি করবে বুঝলে।কলেজে কারো সাথে প্রেম ট্রেম আছে নাকি!!
রিদি হতবাক হয়ে তাকালো রাইফার দিকে।তার সাথে কতো সহজে কথা বলছে।অথচ সেদিন তার মাকে নিয়ে কতোটা কথা শুনালো। যদিওবা সে জানে না তার মায়ের সাথে এই বাড়ির কি সম্পর্ক!
নাজমা বিরক্ত হয়ে বলল,
তোমার ছেলে মানুষি যাবে না রাইফা!!অভিক বড় হয়েছে তুমি কি এখন ছেলের উপর নজর রাখবা!!
কি বলেন আম্মা!!নজর তো রাখতেই হবে!!আমার লেডিস ক্লাবের রুনা মেয়েটার ছেলে এক বিদেশী মেয়ে তুলে এনেছে!!দেখতে তো সেই!কারন সে বিদেশী! কিন্তু রুনা তাকে বাংলা শেখাতে শেখাতে প্রায় অধমরা হয়ে গেছে!!আহারে বেচারি!!মাঝে মাঝে তো নিজেও বাংলা ভুলে যায়!!আমি কিন্তু ছেলের বৌ নিব একদম রসগোল্লা টাইপ!!সেই ছেলে আমার পেটে থাকতেই আমার সাধ!!ছেলের বৌ হবে রসগোল্লা টাইপ!! ভুলে যদি কোন চেংগিস খানের মেয়েকে তুলে নিয়ে আসে তখন!!

রিদি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে বলল,
চেংগিস খান!!
রাইফা রিদির হতভম্ব হয়ে যাওয়া মুখ দেখে বলল সেকি তুমি চেংগিস খান কে চেনো না!!
রিদি তাজ্জব হয়ে মাথা নাড়ায় যার অর্থ সে জানে না!!
রাইফা ঘসঘসে কন্ঠে বলল,
শোনো মেয়ে আমি তোমাকে আরেকদিন এই বিষয়ে বিস্তারিত বলব।এখন আমি যাই!একটা ফেসপ্যাক মুখে লাগানো বাকি!!
রিদি মাথা নাড়ে যার অর্থ আচ্ছা!
রাইফা গদগদ করতে করতে চলে গেল উপরে।রিদি হতবাক হয়ে রাইফার যাওয়া দেখল।এরপর তাকালো নাজমা চৌধুরীর দিকে। নাজমা চৌধুরী মুচকি হেসে বলল,
ও একটু এমন ই!! তবে মনটা খুব ভালো!

আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৪

রিদি মুচকি হাসল। নাজমা চৌধুরী রিদিকে ফ্রেশ হতে বলল।রিদি ফ্রেশ হয়ে আসতেই একজন খাবার দিয়ে গেল।রিদি নামাজ পড়ে খেয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাড়াল।না চাইতেও চোখ গেল তীব্র নিবাসে।শুনেছে তীব্র নাকি এইখানে আসলেও এই বাসায় আসে না।তার নিবাসেই থাকে। রুপ আপু আর দাদি ছাড়া কারো সাথে কথা বলে না।হুট করে আসে আবার নাকি হুট করেই চলে যায়। কোথায় যায় তবে এই লোক?? কোথায় থাকে??রিদি নিজের প্রশ্নেই বেশ অবাক হয়।সে কেন ভাবছে ভয়ংকর দানবটার কথা। যেখানে ইচ্ছে সেখানে থাকুক !!আল্লাহ করে কখনো আর তার সামনে না আসুক।

আপনাতেই আমি সিজন ২ পর্ব ৬