Home আপনাতেই আমি আপনাতেই আমি পর্ব ৭

আপনাতেই আমি পর্ব ৭

আপনাতেই আমি পর্ব ৭
ইশিকা ইসলাম ইশা

সব শুনে ঘৃণা সৃষ্টি হয় রিদিতার মনে তীব্রর জন্য।রুপালি যদিও বলেছে সে ভালো আছে তাছাড়া নিজের চোখে দেখেছে দুইজন কে একসাথে ভালো আছে তারা ‌। তবে মনে প্রশ্ন জাগে তীব্র ভাইয়ার প্রেমিকা কি আপুর চেয়েও সুন্দরী। রুপালির চেয়েও সুন্দরী যে আছে তা তো জানতোই না রিদি।হয়তো মেয়েটা আপুর চেয়েও ভয়ংকর সুন্দর তাই হয়তো তীব্র ভাই ভালোবাসে। কথাগুলো মনে মনে ভেবে বাড়ি থেকে বাইরে আসে রিদি।বাইরে আসতেই মজনু মিয়া কে দেখে ভু কুঁচকে তাকাই।লোকটা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

রিদি কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়।পিছে পিছে মজনু মিয়া ও আসছে।মজনু মিয়া হল এই বাড়ির কাজের লোক।দেখতে একদম হিন্দি সিরিয়ালের সেই গুজরাটি পাগড়ি আলার মতো।মাথায় পাগড়ি পড়ে,হাতে বালা,কানে দুল,পড়নে পাঞ্জাবি আর পায়জামা গালে দাড়ি,মুচে ভর্তি,চোখ দুটো সবুজ মনি। অবশ্য তিনি নাকি ভারত থেকে এসেছে।৬ মাস ধরে এই বাড়ির কামলা খাটে মজনু। সুঠামদেহী পুরুষ সব কাজ করতে পারে। সবচেয়ে বড় কাজ হলো রিদির উপর নজর রাখা। এই কাজ সে আমেনা বেগমের কথায় করে। আমেনা বেগম আগের মতো রিদির ওপর অত্যাচার না করলেও সব জায়গায় বডিগার্ড এর মতো পাঠায় মজনু কে।মজনু কথা বলতে পারে না।আর না পারত বাংলা লিখতে যে কথা লিখে বলবে।তাই রিদি সব ছোট বাচ্চাদের সাথে তাকেও বাংলা শিখিয়েছে যেন লিখে কথা বলতে পারে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রিদি বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটা বটগাছের নিচে বাচ্চাদের পড়ায়। গ্রামের বাচ্চারা অনেকেই আসে পড়তে।মজনু ও বসে পড়ে পাটির উপর।তা‌ দেখে রোজ ই বাচ্চারা হেসে উঠে এতোবড় মানুষ অ,আ পড়বে।যদিও রিদি বারন করেছে তবুও বাচ্চা তো বাচ্চা।মাঝে মাঝে রিদি ও হাসে কারন মজনু ক,খ,গ এগুলো লিখতে পারত না।তাই বাধ্য হয়ে হাত ধরে চক আর বোড এ শেখানো লাগত।তবে এখন বেশ পারে।কিছু কথা লিখে বোঝাতেও পারে।
রিদি সবাইকে পড়তে দিয়ে বটগাছের ছায়ায় বসে। রুপালির বলা তখনকার কথা গুলো ভাবছে রিদি।
রিদির মন খারাপ দেখে মজনু পটেক থেকে খাতা কলম বের করে তাতে কিছু রিদির হাতে দেয় লেখাটা এমন,
মন খারাপ???
রিদি লিখাটা পড়ে তাকাল মজনুর দিকে।মজনু মাথা নিচু করে আছে। মজনু সবসময়ই এমন মাথা নিচু করে থাকে।রিদি চোখ সরিয়ে বলে,

হুম । আপু এসেছে।তবে যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তার সাথে হয়নি।দের টা বছরের ঘটে যাওয়া কিছুই আমি জানি না।তীব্র ভাইয়া নষ্টা পুরুষ।ভালো হয়েছে এমন নষ্টা পুরুষ আপুর জীবনে আসে নি।না জানি কতো মেয়ের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
মজনু খাতায় লিখে বলে,
তীবববব কে??
রিদিতা খাতায় লেখা দেখে বলে,
তীব না তীব্র!আমার মায়ের ভাইয়ের ছেলে!
মজনু খাতায় লিখে বলে,
ওনি নষ্ পুরুষ কেন??
রিদি লেখাটা পড়ে বিরক্ত হয়ে বলে,
নষ্টা পুরুষ।আর ওনি নষ্টা পুরুষ কারন ওনি সব মেয়ের সাথে…….
জঘন্য একজন মানুষ।অন্যর কথা মিনিমাম ও ভাবে না।সবার সাথে নষ্টামি করে বেড়ায়।
মজনু আবারো খাতা কলমে কিছু লিখে ,

ঘনা করেন??
রিদি পড়ে ,
ঘনা না ঘৃনা হয়।হুম করি অনেক বেশি করি। সুন্দর পুরুষ এমন নষ্টা হয় কেন?আপনি হয়তো দেখেন নি আপু কে।আপু ভুবন ভোলানো সুন্দর।তাকে ওপেক্ষা করেছে ভাবা যায়?অসভ্য পুরুষ!
মজনু আবারো খাতায় লিখে,
এতোই খারাপ ওনি?
রিদি পড়ে বলে,
ভীষণ খারাপ।কারন ছাড়া কষ্ট দেয়, মানুষের রুপ দেখে বিবেচনা করে, পরিবার কে কষ্ট দেয়,নিজেকে রক্তাত করে।আপনি জানেন মজনু সাহেব কালো রং টা তার নাকি পছন্দ। ভীষণ পছন্দ।অথচ কালো রংয়ের মানুষ অপছন্দ।
মজনু খাতায় লিখে বলে,
আপনি কিন্তু জানেন না অনেক সময় অপছন্দের কিছু জিনিস পছন্দের তালিকায় চলে আসে।এমন ভাবে আসে যে তাকে ছাড়া বাঁচা ও কঠিন হয়ে যায়।
রিদি উদাস মনে বলে,
দুনিয়াতে সবার হলেও অহংকারে ভরা ঐ লোকের কখনো হবে না।দুনিয়া উল্টে গেলেও না। বাদ দেন ওনি এমন ইম্পর্ট্যান্ট কেউ না যে তাকে নিয়ে গবেষণা করা লাগবে।বলেই রিদি ওঠে বাচ্চাদের কাছে চলে যায়।

আজও রিদিকে দেখতে আসা পাএ ফোন করে মানা করে দিয়েছি।সে করবে না রিদি কে বিয়ে।পরপর চারটা বিয়ে ভেঙে যাওয়াই আমেনা বেগম ভীষন রেগে আছে।ছেলে পছন্দ করে যাই কিন্তু ফোন করে মানা করে দেয়।তাই তিনি রিদি কে অপয়া বলে বেশ কথা শুনিয়েছেন।আমেনা রিদির বিয়ে নিয়ে এতো জোরাজুরি করছেন কেন তাতেই ভীষন বিরক্ত রুপালি। তাছাড়া রাদিফ ভাইয়া কেন বড়চাচির সাথে কথা বলছে না।সে তো রিদিকে ভালোবাসে তাহলে ৪টা সম্বন্ধ আসার পরেও চুপ কেন?ভেবে ভেবে এবার আর চুপ থাকতে পারলো না রুপালি।
রাদিফ তখন ল্যাপটপ এ কাজ করছিল। রুপালি ভরা পেট নিয়ে রাদিফের সামনে দাড়াই।
সমস্যা কি তোমার ভাইয়া??
রাদিফ চমকে তাকাই রুপালির দিকে। রুপালিকে দেখে বলে,এই রুপ এমন সময় এভাবে চিৎকার করছিস কেন?কি হয়েছে?

রূপালী কিছুটা রেগে বলে,
ভালো যখন বাসো রিদিকে তখন অন্য কারো কেন হতে
দিচ্ছ ভাইয়া?
রাদিফ কিছু না বলে বসল সোফায়, ইশারায় বসতে বলল রুপালিকে। রুপালি বসলে রাদিফ বলে,
হাজারো বিয়ে আসুক একটাও হবে না।তুই চিন্তা করিস না।আমার শ্যামকন্যা আমি কাউকে দেব না।
রুপালি তাকাল রাদিফের দিকে,
এতোটা ভালোবাসো!তাহলে কেন ওকে এতো কষ্ট পেতে দিচ্ছ।
রাদিফ হাসলো এমনটা না যে রাদিফ চেষ্টা করে নি। কিন্তু আমেনা বেগম রাদিফের সাথে রিদির বিয়ে দিতে রাজি হয় নি।আর না সে এখন অব্দি হয়েছে। তাছাড়া রিদির এখনো ১৮হয় নি।
চাচি তো রাজি হয় না রুপ!!
রুপালি অবাক হয়ে বলে,
আম্মু রাজি হয় না!!

তোর কি মনে হয় রুপ আমি চাই রিদি কষ্ট পাক।ওকে কষ্টে দেখতে পারবো না তাই বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় থাকতে বাধ্য হয়েছি।তবে তুই চিন্তা করিস না। চাচির সাথে বোঝাপড়া এবার ভালো করেই করব আমি।
আম্মু তো গরিব ঘরে বিয়ে দিবে রিদির তাহলে তোমার সাথে দিতে কি সমস্যা।আম্মু তো বলেই রিদি কালো তাই ওকে বড়লোক ঘরের কেউ পছন্দ করে না।তাছাড়া এসব রিদ জানলে তো আরো বেশি রেগে যাবে।
কিছুদিনের জন্য আমি বাইরে যাব রুপ।আমি জলদি ফিরে আসব।এসেই রিদিকে বিয়ে করব।আমাকে যে সব জানতে হবে।কিছু রহস্য উদঘাটন করতে হবে।
রহস্য???
না সে কিছু না।তুই চিন্তা করিস না আমি ঠিক সামলে নিব সবকিছু।রিদিকে আর কষ্ট পেতে দিব না।
রুপ আর রাদিফের কথা আড়ালে দাঁড়িয়ে কেউ শুনে।

রিদি কলেজ থেকে বের হয়ে দেখে মজনু গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে কারো সাথে কথা বলছে।রিদিকে আসতে দেখে লোকটা চলে যায়।রিদি মজনু মিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
লোকটা কে??
মজনু কাগজ,কলম বের করে লিখে রিদিকে দেয়,
রাসতা ভুলে গেছিল তাই..
রিদি ভুল শুধরে দিয়ে বলে,
রাস্তা বানান ভুল হয়েছে!আপনাকে দিয়ে কিছু হবে না।চলুন!!
মজনু মাথা চুলকে রিদির পিছু পিছু হাঁটতে থাকে।

হুট করে বাড়িতে কাজি হাজির দেখে ভীষন অবাক হয় সবাই।আমেনা বেগম রুপালিকে বলে রিদি কে রেডি করে নিয়ে আসতে।রুপালি কিছু বলতেও যেয়েও পারল না।আমেনা রেগে তাকালো রুপালির দিকে।রুপালি ভাবল আজো হয়তো দেখতে আসবে রিদিকে।রুপালি রিদিকে ভীষন সুন্দর করে সাজিয়ে দিল।লাল টুকটুকে একটা শাড়ি জরানো গায়ে, এলোমেলো চুল খোপা করে বাধা তাতে আবার ফুলের মালা।চোখে গড়ো কাজল,ঠোটে লিবস্টিক,হাত ভর্তি কাচের চুরি।রুপালি রিদি কে রেডি করে নিজেই থমকে যাই। রুপালি জানে রিদি সুন্দর।ভীষন সুন্দর। অদ্ভুত সুন্দর সে।সবার নজরে পড়ে না এই রূপ। আজকের সাজে তো রূপটা অধিক সুন্দর লাগছে। ইতিমধ্যে রিদি অনেক বার জিজ্ঞেস করছে তাকে এভাবে সাজানো হচ্ছে কেন??
রুপালি জানে না তাই কিছুই বলতে পারে নি,

মায়ের আদেশ শুধু। রুপালি নিজেও কিছুটা অবাক হল যদি দেখতে আসে তাহলে এমন শাড়ি পড়ানোর কি আছে?
ররুপালির ডাক পড়তেই রূপালি রিদি কে নিয়ে নিচে নেমে আসে।রিদি কে দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। তাদের ধারনার বাইরে ছিল রিদি কে কখনো এতোটা সুন্দর লাগবে।আমেনা নিজেরও অবাক।সে জানে রিদির মধ্য অদ্ভুত সৌন্দর্য রয়েছে।জন্মের পর যখন আমেনার সামনে রিদি কে রাখা হয় তখন রিদির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি।তবে গায়ের রং ফর্সা না হওয়ায় রিদি কে নিজের মেয়ে মানতে নারাজ ছিল।যদিও এটাই আসল কারন কি না জানা নাই।

নিচে আমেনা,মজনু,ছোট চাচি,আরো তিজন লোক বসে আছে।বড়চাচি দুদিন আগে মায়ের বাড়ি গেছে।আর রাদিফ আজ ৫দিন হল গ্রামে নেই।আর কাউকে না দেখে অবাক হল রুপালি।কোন ছেলে , ছেলের বাবা,মা কিছুই তো দেখছি না।
আম্মা এখন তো বলো কেন ওকে সাজিয়ে নিয়ে আসতে বললে?
রিদির বিয়ে আজ।
রিদি, রুপালি চমকে উঠল!!
বিয়ে!!!!
আমেনা রিদির সামনে গিয়ে দাড়াই।রিদি অবাক হয়ে এখনো তাকিয়ে আছে।
আজ তোকে প্রমান করতে হবে তুই আমার মেয়ে।
রিদি চমকায়।
আমেনা রিদির হাত টেনে সোফায় বসিয়ে বলে,

বিয়ে শুরু করুন কাজি সাহেব। রুপালি আটকাতে চাইলে আমেনা বেগম রেগে যান। তবুও রুপালি আটকাতে চাইলেও পারে না।
রিদি হতভম্ব হয়ে আছে।যেন সে একটা পুতুল। হঠাৎ বরের নাম শুনতেই রিদির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।রিদি কে কবুল বলতে বলে সবাই।রিদি চুপচাপ কবুল বলে সাইন করে দেয়।সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে দাড়ালেও রিদি ঠায় বসে রইল।সবার কথার মাঝেই এবার রিদি উঠে দাঁড়ালো।কলের পুতুলের মত মায়ের সামনে দাঁড়াই।ভেতরে ভেতরে কি তুফান চলছে তা শুধু সেই জানে।

আমেনা বেগম খুশিতে আত্মহারা হয়ে আছে। রিদি আমেনা বেগমের কাছে গিয়ে বলল আমি তোমাকে একবার কি জরিয়ে ধরব আম্মু। আমেনা বেগম খুশিতে রিদিকে জরিয়ে ধরে।রিদি নিশ্চুপ হয়ে থাকে মায়ের বুকের সাথে মিশে।আমেনা নিজেও খুব অবাক হয়ে জরিয়ে ধরে আছে রিদিকে।রিদি ছেড়ে দেয় মাকে।এরপর সোজা গিয়ে মজনুর হাত ধরে।হাত ধরতেই শিউরে উঠে রিদি।তাকায় মজনুর দিকে।এই মানুষ টা এখন থেকে ওর স্বামী। মজনু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সবসময় এর মতো।মজনুকে কখনো ভালো করে দেখে নি রিদি তবে এখন দেখতেই কিছুটা ভরকে গেল। অদ্ভুত!!মনে হচ্ছে আগে কোথাও দেখেছে।
কি রে মজনুকে নিয়ে ঘরে যা।আমেনার কথায় রিদি হাসে।
আজ থেকে আমি মজনুর ঘরেই থাকবো।

কিহহহ!!কি বলছিস এসব??তুই ঐ কুড়েঘরে কিভাবে থাকবি??
যেভাবে মজনু থাকে।আপনার দায়িত্ব তো শেষ আম্মা।আপনি আমাকে কখনো ভালোবাসেন নি।কখনো আদর করেন নি,কখনো বুকে জরিয়ে ধরেন নি।ছোট বেলায় আমাকে কাছে নিয়ে ঘুমান নি।আমার প্রতি আপনার বিশেষ কোন টান নেই। তবে আমি আজ আপনাকে প্রমান করে দিলাম আমি আপনার মেয়ে। আচ্ছা আম্মু আমি কি তোমার গর্ভের না!!!

ফালতু কথা বলবি না রিদি যা ঘরে যা।
ফালতু কথা বলছি না আম্মা।তবে আমি আজ আপনাকে এটাও বলে যাচ্ছি আমি আপনার কাছে কখনো ফিরব না। কোনদিন ও না।আপনাকে মুক্ত করে দিলাম আম্মা।আপনি তো চাইতেন আমি মরে যায়।তাহলে সেটাই মনে করেন আপনি রিদিতা মারা গেছে।
দেখ রিদি!!
আমি চলে যাচ্ছি আম্মা।আজ থেকে রিদিতা এই বাড়ির মেয়ে না।রিদিতা মজনুর বৌ।
দেখ রিদি এসব শুধু কিছু সময়ের জন্য। তাছাড়া….
রিদি আমেনার কথা ওপেক্ষা করে মজনুর হাত ধরে টেনে বাইরে চলে আসে। মজনু রিদিদের বাড়ির পেছনের দিকে বিশাল বাগানের ওখানে একটা বাড়িতে থাকে।বাড়ি টা টিনের তৈরি।রিদি ধীর পায়ে হেঁটে চলছে। হঠাৎ এতোকিছু মানতে কষ্ট হচ্ছে রিদির।মন বলছে ওনি তোর মা না রিদি।কোন মা এতোটা স্বার্থপর কিভাবে হতে পারে।রিদির সব যেন ঘোলাটে লাগছে।এতো চাপ আর নিতে পারল মস্তিস্ক।হঠাৎ ই মাথা ঘুরে পড়ে যায়।পেছনে মজনু থাকায় ধরে ফেলে।

ঙ্গান ফিরে নিজেকে একটা চৌকির উপর পায়।গায়ে একটা কম্বল জরানো। পাশে বসে আছে মজনু। মজনুকে দেখে ঝটপট উঠে বসে রিদি।রিদি উঠতেই মজনু দৌড়ে পানি নিয়ে আসে।ইশারাই খেতে বলে।রিদি একটু খেয়ে ঘরটায় চোখ বুলায়।একপাশে একটা চকি ,পাশেই আলমারি,তার পাশে পড়ার টেবিল।আর ঘরেই গ্যাসের চুলা আর পাশেই সব রান্নার জিনিস আছে।
মজনু টেবিল থেকে একটা কাগজ,কলম নিয়ে লিখতে বসে,
আপনি ঠিক আছেন তো??
রিদি লিখাটা পড়ে বলে,
হুম।ঠিক আছি।
বাসাটা কি আপনার??
মজনু লিখে,
হ্যা।

মাফ করবেন আমি আপনাকে এভাবে হুট করে বিয়ে করতে চায় নি। আপনার মা….
রিদি তাচ্ছিল্য হাসে,আমি জানি!!কালো মানুষ কে কেঊ ই বিয়ে করতে চায় না।
মজনু হাতের ইশারায় না বুঝালো।রিদি তাকিয়ে আছে মজনুর দিকে লিখছে কিছু।
“না না আমি সেটা বলি নি। কোথায় আপনি মহলের রাজকুমারী আর কোথায় আমি রাখাল। আপনি সুন্দর ভীষণ সুন্দর।আপনি রূপবতী নন ,আপনি কারো হৃদয়হরনী মায়াবতী।
রিদি মজনুর কথায় অবাক হলো রিদি কানে বাজল “হৃদয়হরনী মায়াবতী” মজনু আবারো খাতায় লিখল
“জানেন তো রুপের মুগ্ধতা একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু মায়া কখনো ফুরাবে না”
রিদি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,

এসব শুধু গল্পেই সোভা পায় মজনু সাহেব।আর রাজকুমারী আমি কখনো ছিলাম না যে আপনি আমাকে রাজকুমারী বলছেন।আমি ছিলাম সেই রাজ্যর সামান্য আযাচিত ধুলোকনা।যার মেয়াদ শেষ।তাই ঝেরে ফেলে দিয়েছে।
মজনু কিছু একটা লিখে রিদির হাতে দিয়ে উঠে যায় চুলায় ভাত বসিয়ে পেঁয়াজ কুচি করতে থাকে।রিদি লেখাটা পড়ে তাকাল মজনু মিয়ার দিকে,
“আপনি কে ?আমি জানি না!! রাজকুমারী হন বা রাজকন্যা‌। কিন্তু আপনি আমার রাজ্যের রানী।আর আমি আপনার সেবক।”
মজনু ভাত আর ভতা করেছে। খাতায় লিখে,
আমি আপনার মতো সেরা রাধুনি নয়।ভাত আর ভতা চলবে!!
রিদি মাথা নেড়ে হ্যা বুঝায়।
মজনু হাসল।সাথে রিদিও। তবে তার দাড়ি মুচের জন্য হাসি আড়ালে রইল।
রিদি কিছুক্ষণ থেমে বলে,
শুনুন!!আপনি আর মিজা বাড়িতে কাজ করবেন না।ওটা এখন আপনার শশুর বাড়ি। ওখানে কাজ করাটা শোভা পায় না।

মজনু হ্যা বোধক মাথা নাড়াল।অবাক হল রিদি।সে ভেবেছিল মজনু হয়তো এটা মেনে নিবে না। টাকার জন্য ই মনে হয় বিয়ে করেছে রিদিকে।রিদিকে হতভম্ব হয়ে তাকাতে দেখে মুচকি হাসে মজনু।
পাশে খাতা নিয়ে লিখে,
আপনি ভেবেছেন আপনাকে টাকার জন্য বিয়ে করেছি!
রিদিকে নিশ্চুপ দেখে মজনু আবার লিখে,
আপনি অনেক ভালো রিদিতা।আমার মতো এতিম একজন মানুষ কে সন্মান দিয়েছেন,পড়ালেখা শিখিয়েছেন।আমি কথা বলতে পারি না।আপনি আমাকে কথা বলতে শিখিয়েছেন। মনের ভাষা লিখার মাধ্যম দিয়েছেন।নিজ হাতে কলমে শিক্ষা দিয়েছেন।আপনার এতো কিছু কখনো শোধ করতে পারবো না।আপনাকে পাওয়া আমার কল্পনা ছাড়া কিছু না।তবে পেয়েও কল্পনা করতে ভয় হচ্ছে। হারিয়ে যান যদি!

আমি সোজা কথায় বলি রিদিতা আমি “আপনাকে ভালোবাসি”। জানিনা কখন, কিভাবে কিন্তু ভালোবাসি।আমার জীবনে কখনো ভালবাসা আসে নি।আপনিই প্রথম যে আমার হৃদয় স্পর্শ করেছেন।আপনি হয়তো আমাকে বিশ্বাস করবেন না।না করাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভালবাসি ,সত্যি ভালবাসি।
আমি চাইলে বিয়ে টা আটকাতে পারতাম কিন্তু আমি চাই নি।লোভ সামলাতে পারি নি।আপনাকে নিজের করে পাওয়ার লোভ।আপনার ভালবাসা পাওয়ার লোভ।আপনার সাথে সারাজীবন থাকার লোভ। আমি লোভী হয়ে গেলাম।তবে বিশ্বাস করেন আমি আপনার ক্ষতি চাই নি।আর না চাইবো।
রিদিতা বিষ্মিত হয়ে তাকিয়ে আছে লেখাটার দিকে।এবার সরাসরি তাকাল মজনু মিয়ার দিকে।চোখের ভাষা আছে, রিদি দেখতে পাচ্ছে সেই ভাষা।রিদি কিছু একটা ভেবে বলল আপনি কিভাবে সিউর যে আমি আপনাকে ভালবাসবো!আর আমার ভালবাসা পাবেন ই।

মজনু খাতায় লিখতে লাগে,
কারনটা তো জানি না।তবে মনে বলে আপনি ভালোবাসবেন।
রিদি আর কিছু বলে না,
আমাকে একটু ওয়াসরুম যেতে হবে।তাই যদি বলতেন মানে কোথায় আরকি।
মজনু এবার আর লিখল না।হাত ধরল।হাত ধরতেই রিদি শিউরে উঠলো। মজনু হাত ধরে বাইরের দিকে নিয়ে এলো।উঠান এর সাইডে একটা পাকা বাথরুম।যাতে হলদে লাইট জ্বলছে।
রিদিতা শাড়ি ধরে ধীর পায়ে বাথরুমে গেল।বের হতেই দেখে মজনু দাঁড়িয়ে আছে। মজনু দুকদম এগিয়ে রিদিতার হাতে একটা কাগজ এগিয়ে দেয়।

আপনাতেই আমি পর্ব ৬

ভয় পাবেন না আমি আছি!!
আমি মোটেও ভয় পাচ্ছি না।
মজনু হাসল…আবারো হাত ধরলো রিদির।রিদি মনে মনে ভাবল সেকি বাচ্চা যে এভাবে হাত ধরে নিতে হবে।আজব!!

আপনাতেই আমি পর্ব ৮