মি মাফিয়া পর্ব ৩১
সুমাইয়া সাবিহা
মাহিন খান উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য বলে ,আমরা আমাদের অনুষ্ঠান চালিয়ে যাই ।
স্নেহা দাঁড়িয়ে মাহিন খানের কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো ,ডেড আজ তুমি আমায় জিবনের সেরা গিফট টা দিলে।
মাহিন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো ,তোমার জন্যই তো আমার এই সব কিছু করা ।
মাহিন খান বললো আফরানের হাতে একটা রিং ধরিয়ে দিয়ে বললো এটা নাও । আফরান দুহাত মুঠি করে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে রিং টা হাতে নিলো।
উপস্থিত জনতা হাতে তালি বাজালো।
স্নেহাও একটা রিং নিয়ে আফরানের হাত টা ধরে তৎক্ষণাৎ রিং টা পরিয়ে দিলো ।
মাহিন দৃঢ় দৃষ্টি ফেলে চারদিক টা একবার দেখে নিলো ।
মাহিন খান:কি হলো আফরান পড়াও রিং টা ।
আফরান রিং টা সামনে নিলে স্নেহা হাত বাড়ায় আকস্মিক পুরো বাড়ি অন্ধকারে ছেয়ে যায় ,
মাহিন খান: হঠাৎ করে লাইট অফ হয়ে গেলো কেনো? এই কে কোথায় আছিস গিয়ে দেখ তো কি হলো ।
আবার মুহুর্তেই আলো চলে আসে।
মাহিন: ওহ হঠাৎ করে কারেন্ট চলে যাওয়ার মানে কি?
আফরান হেসে বললো ,যেটা হওয়ার নয় সেটাই হবে তাই নয় কি মি,খান?
মাহিন :কি বলতে চাচ্ছো?
আফরান:নাথিং ,বাট বি কেয়ারফুল মি,খান।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মাহিন:সকলের সামনে কথা বাড়াতে চাইলো না মানে সম্মানের প্রশ্ন আছে এখানে , হ্যাঁ সে বাধ্য করেছে আফরান কে ব্লাক মেইলে করে কিন্তু আফরানের সাহস আর ক্ষমতার কথা ভূলে গেলে চলবেনা ।
মাহিন খান কথা না বাড়িয়ে বললো, অনুষ্ঠান শুরু করা যাক, রিং টা পরাও।
স্নেহা বলে উঠলো ,ডেড রিং তো পরানো হয়ে গেছে ।
মাহিন বিস্ময় প্রকাশ করে বললো,কখন পরালো ? আমরা তো দেখলাম না আর লাইট তো চলে গিয়েছিলো।
স্নেহা :ডেড লাইট যাওয়ার সাথে সাথেই পরিয়েছে,মি,আফরানের কি ধৈর্য আছে বলো এতোক্ষণ ওয়েট করার ।
মাহিন খান স্নেহার হাতের দিকে তাকালো , হ্যাঁ রিং তো পরাই আছে ,
স্নেহার মুখে হাসির রেখা।
মাহিন খান:এখন সাইন টা করে দাও চট করে নয়তো ….
আফরান মাহিন খানের একদম কাছে গিয়ে হালকা নুইয়ে আস্তে করে বললো ,সময় আছে যতক্ষণ উড়ে নাও ততক্ষন,ডানা যেনো ভেঙে না যায় মি,খান , একবার ভেঙে গেলে …। এটুকু বলে ডেভিল হাসলো আফরান ।
মুখে হাসি রেখেই গিয়ে আগের জায়গায় বসে কলম টা হাতে নিয়ে সাইন করে বললো ,এভাবে দাড়িয়ে আছেন কেনো? আসুন আপনার ও তো সাইন লাগবে তাইনা।মাহিন ভীত চোখে ধ্যান ভেঙে গিয়ে ফটাফট সাইন করে দেয় সব গুলো পেপারে।
উপস্থিত সকলের মুখেই হাসি কারন এখানে প্রায় সবার ঐ এই একটা সাইনের জন্য কতো বছর যে অপেক্ষা করতে হয়েছে, কতো যে ঘুরেছে তার হিসেব নেই।
সবাই নিজেদের মতো ইনজয় করছে ,হেলে দুলে নাচ করে যাচ্ছে । হাতে সবারই প্রায় ড্রিঙ্ক এর গ্লাস।
আফরানের মুখে কোনো হতাশা নেই একদম কনফিডেন্টলি বসে আছে ,
হঠাৎ স্নেহা বলে উঠলো ,আমার সাথে কি মি আফরান চৌধুরী একটু আসবে?
আফরান কপাল কুঁচকে তাকায় ।
স্নেহা বললো,চলো একটু সবার সাথে যোগ দি ,এমন করে বসে থাকতে বোড়িং লাগছে ভিষন।
আফরান বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বললো,লিমিটের মাঝেই থাকো নয়তো আগামি কালের সূর্যটা দেখবে বলে নিশ্চয়তা দিতে পারছিনা।
স্নেহা ভয়ে ঢোক গিলে , সেকেন্ড কয়েক পর আবার বলে উঠে ,দেখো আফরান এখন আমরা কিন্তু এঙ্গেজড ভূলে যেওনা ।সব কিছু তে থাকতে হবে আমার সাথে তোমাকে,,
আফরান বাঁকা হেসে ,বললো ওয়ার্নিং চাচ্ছো কিনা সেটা বলো ,আমার কোনো আপত্তি নেই ,আর আফরান চৌধুরী কে চিনতে নিশ্চয়ই অসুবিধে হয়নি এতো দিনেও।ওয়ারনিং মানে ফাষ্ট এন্ড লাষ্ট ,নেক্সট বলতে কিছু নেই ।
স্নেহার মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ফুটে উঠে ,তাই চুপসে যায়।
আফরান বিরক্ত হয়ে সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পাশ কেটে অন্য জায়গায় যেতে নেয় কিন্তু চোখে পড়ে ঠিক কয়েক হাত দূরে ওয়েটারের পাশে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে একটার পর একটা গ্লাস তুলে নিচ্ছে আর গিলে যাচ্ছে।
মুহূর্তে আফরানের চোখ মুখে হিংস্রতার ছাপ জন্মে,হাতের গ্লাস টা দুকদম হেঁটে গিয়ে টেবিলে রেখে আরিয়ার কাছে যেতে নেয় তখনি সাদেক এসে আরিয়ার হাত থেকে গ্লাস টা নিয়ে বললো ,পাগল হয়ে গিয়েছেন আপনি? এসব কি করছেন? মাথা কি পুরোটাই গেছে?
আরিয়া মুখে হাসি টেনে বললো ,
__কেনো? সবাইতো খায় আমি খেলে অসুবিধে কোথায় ?
সাদেক: দেখুন এসব ভালো মানুষ রা খায়না বুঝেছেন।
আরিয়া ওয়েটারের হাত থেকে আরেকটা গ্লাস নিয়ে মুখে তুলে বললো :
__আপনি চলে যান এখান থেকে।
সাদেক আরিয়ার হাত থেকে আবারো গ্লাস টা টেনে নিয়ে ওয়েটার কে দিয়ে বললো ,আপনি এখান থেকে যান ।ওয়েটার চলে যায়।
আরিয়া:কি করলেন?
সাদেক আরিয়ার হেলদুল দেখে বুঝলো ,এই মেয়ে আর বেশিক্ষণ এখানে টিকার নয় ,তাই আরিয়ার হাত ধরেই নিয়ে যেতে লাগলো,
আরিয়া:আহ করছেন কি ছাড়ুন না । আমি এখানে নাটক দেখতে চাই প্লীজ ছাড়ুন।
সাদেক:অনেক হয়েছে আপনি এখন চলুন কোনো কথা বলবেন না ,
ঠিক আফরানের পাশ কেটে সাদেক আরিয়া কে নিয়ে যায় ,আরিয়া আফরান কে দেখেও না দেখার মতো করে এবার ইচ্ছে করেই চুপ করে সাদেকের পাশাপাশি হাটা ধরলো উপরের দিকে।
আফরানের কপাল টুপকে ঘাম ঝড়ছে,শরীর থরথর করে কাঁপছে,এই মেয়ে কে আজ খুন না করে এই কম্পিত শরীর শান্ত হবার নয় ,সব সময় উল্টো বুঝবেই ,এই তো সেদিন কতো সুন্দর করে বুঝালো , কিছু তেই সন্দেহ হলে যেনো জিজ্ঞেস করে , কিন্তু কি করলো সেদিন না বুঝে মারতে এসেছিলো কিন্তু সেটাও সহ্য করার মতো ছিলো কারন সব টা আফরান কে ঘিরেই ছিলো কিন্তু,আজ তো লিমিটের বাইরে চলে গেছে,,সাহস টা ঠিক কিভাবে নিস্তব্ধ করতে হবে সেটা জানা হয়ে গেছে আফরানের ।
সহ্যের সিমা পেরিয়ে গেছে এই মেয়ে ,
আফরান এর হাতের রগ চটা দিয়ে উঠে ,পাশের টেবিলের উপরের গ্লাস টা ডান হাতে সব টা শক্তি দিয়ে চেপে ধরে ,গ্লাস টা ভেঙে এতো গুলো কাচে তিরী হয় ,ফ্লোরে কাঁচের টুকরোর সাথে টকটকে লাল রক্তের ফুটা গুলো দৃশ্যমান।
স্নেহা এতোক্ষণ সবার সাথেই ড্যান্সে যোগ দিয়েছিলো হঠাৎ আফরানের দিকে তাকাতেই চোখে পড়ে এই অবস্থা, দ্রুত পায়ে এসে আফরানের হাত ধরতে নিলেই আফরান বলে উঠলো , ডোন্ট ক্রস ইউর লিমিট ,বলে হাতের মুঠোর টুকরো গুলো নিচে ফেলে সোজা উপরে চলে যায়।
স্নেহা : হঠাৎ কি হলো? এমন করছে কেনো আফরান? কিছু হয়েছে? চোখে তো এমন কিছুই পড়লো না।
কেউ একজন পেছন থেকে বলে উঠে ,ইউ আর সো কিউট বেবি।
স্নেহা পেছন ঘুরে তাকায়,সামনে একজন মাস্ক পরা ছেলে দাড়িয়ে আছে,এটুকু দেখেই চিনতে অসুবিধা হয়নি স্নেহার,ভেতর টায় কিছু একটার শঙ্কা কাজ করে ,চারদিক টা একবার পরখ করে নিয়ে ছেলেটার হাত ধরে জায়গা ছেড়ে সোজা বেড়িয়ে যায়,
স্নেহা: হাউ ডেয়ার ইউ,এখানে পর্যন্ত আসার সাহস কি করে হয় তোমার তন্ময়?
ছেলেটা মাস্ক টা খুলে বললো ,হাউ সুইট ডার্লিং,এমন ভাবে বলছো কেনো?
স্নেহা: ডোন্ট টক ডার্লিং,আর কতোবার বলবো পিছু ছেড়ে দাও আমার ,বাড়ি ভর্তি মানুষ কেউ দেখে নিলে আমার প্রেস্টিজ খারাপ হলে কিন্তু তোমাকে ছাড়বো না আমি ।
তন্ময় : যতোই বলো চলে যেতে ঘুরে ফিরে তোমার কাছেই আসবো ডিয়ার ,বিকোউজ আই লাইক ইউ,
স্নেহা: আমি আফরান চৌধুরী কে ভালোবাসি মাইকিং করে বুঝাবো তোমায়? নেকামু বাদ দেও এখান থেকে চলে যাও নয়তো খারাপ হয়ে যাবে ,বলে স্নেহা আবার চলে আসতে নেয় কিন্তু তন্ময় স্নেহা কে হেঁচকা টানে নিজের কাছে এনে শর্ট জামা পরার কারনে একটু নিচে পেট উন্মুক্ত ছিলো স্নেহার ,উন্মুক্ত পেটে জড়িয়ে ধরে বললো ,সুইট বেবি ,তোমাকে একটা খবর দেওয়ার জন্য এসেছি ।
স্নেহা: হাউ ডেয়ার ইউ মি,তন্ময় ,আমাকে রাগিও না ,ছেড়ে দাও বলছি।
তন্ময়: না শুনলে মিস করবে ,আফরান চৌধুরী তার চাচাতো বোন আরিয়া কে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে , শুধু শুধু ওর পিছে ছুটছো ,পাবেনা তুমি আফরান চৌধুরী কে , ভূলে যেওনা ও পাক্কা প্লেয়ার যতো কিছু করোনা কেনো ওর সাথে পেরে উঠবে না ,যার হৃদয়ে এতো কঠোরতা থাকার পরেও কাউকে ভালোবাসতে পারে সেটার পরিমান টা নিশ্চয়ই তোমাকে বলে বুঝাতে হবেনা ।
স্নেহা অবাক হয়ে বললো ,হুয়াট? কি বলছো নিজে জানো? আফরান কাউকে কেনো কোনো মেয়েকেই ভালোবাসতে পারেনা ,ওর মনে মেয়েদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া কিছু বাকি নেই। আর তোমার কথা বিশ্বাস কেনো করবো?মিথ্যে বলছো না তার গ্যারান্টি কি?
তন্ময়: আফরান চৌধুরীর সম্পর্কে ভালো করে খোঁজ নিতে গিয়ে জেনেছি ,তাই শিউর হওয়ার জন্য ঐ মেয়ের বান্ধবীর সাথে মিথ্যা নাটক করে প্রেমে জড়িয়েছি ,আজ দেখা করতে গিয়ে সব কিছু সন্দেহ না হওয়ার মতো করে জেনেছি। বুঝতে পেরেছো ।
আর একটা কথা , তোমার হাতের রিং টা আফরান নয় আমি পরিয়েছি বেবি, বলে স্নেহা কে কিছু বলতে না দিয়ে গান গাইতে গাইতে তন্ময় চলে যায় ।
স্নেহা বিস্ময় হয়ে ভাবতে লাগলো ,সব টা যেনো মাথার উপর দিয়ে গেলো । .. আরিয়ার ব্যাপার টা তো সে আগেই জেনেছে তার জন্যই তো আজ ডিল টা তে সাইন করাতে পারলাম ,নয়তো এতো সহজ ছিলো নাকি এসব কিছু।কিন্তু এই রিং… রিং এর কথা টা কি বলে গেলো ও?
আফরান উপরে গিয়ে শার্ট টা খুলে সোজা শাওয়ার ছেড়ে একহাত দেয়ালে রেখে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে আছে ,নিজেকে যথেষ্ট শান্ত করার চেষ্টা করছে ,,এই মেয়ে কোনোভাবেই তাকে কখনো বুঝেওনি বুঝবেওনা, এইটুকু বুঝা হয়ে গেছে আফরানের। ওটাকে মেরে দেওয়াই ভালো হবে অন্তত অন্য কারো ছোঁয়া লাগাবেনা ঐ শরীরে ,,নাহ কিছুতেই মাথা ঠান্ডা হচ্ছে না , যতক্ষণ না এটার প্রতিশোধ নিতে পারবে ততক্ষন শান্তি নেই ,আফরান ভেজা শার্টেই শাওয়ার থেকে বের হয়ে তানভীর কে ফোন দিয়ে বলে ৫ মিনিটের মধ্যে বাড়ি খালি হওয়া চাই ,
ঘরির কাটা দেখে ঠিক ৫ মিনিট পর রুম থেকে বের হলো আফরান ,বাড়ি পুরো ফাঁকা, আফরান সোজা আরিয়ার রুমে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে । আরিয়া রুমে নেই ,ওয়াশ রুমে হয়তো,আফরান ভেজা শার্টেই আছে এখনো হাতে বন্দুক ধরা উদ্দেশ্য আরিয়া কে মেরে ফেলা । এতো অশান্তি তার আর সহ্য হচ্ছে না ,,এতো কিছু কার জন্য করেছে? তার মূল্য কি দিতে পেরেছে এই মেয়ে? এই সব টা কার জন্য ছিলো? এই মেয়ের জন্য কিছু করাই বৃথা , তাছাড়া আফরানের কি হতো? কিছুই না ,মরলে ওর মা বাবা মরবে তাতে আফরানের কি আসে যায় ? বউয়ের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই তো বাধ্য হয়েছে নয়তো মি, আফরান চৌধুরীর সাথে কেউ খেলবে এতো বড় কলিজা কারো আছে নাকি।
ওয়াশ রুমের দরজা খুলে আরিয়া বের হয়ে আসে শুধু একটা টাওয়েল পরে,প্রায় নেশা টা ধরে গিয়েছিলো আরিয়ার সামিরা এসেই তো জোড় করে গোসলে পাঠালো ।
আফরান কে দেখেই সব টা রাগ যেনো আবার শরীরে ধরে গেলো আরিয়ার,
সাথে সাথে চেঁচিয়ে বলে উঠলো ,এই ছেলে সাহস কি করে হয় এখানে আসার ? লজ্জা করেনা আপনার , দুদিন পর বিয়ে এখন অন্য মেয়ের রুমে উকি মারছেন ,ওহ সরি ডিরেক্ট ভেতরে ঢুকে গেছেন তাও এমন অবস্থায়, অন্য মেয়ের রুমের চাবি নিয়ে ঘুরেন নিজের সাথে ,কমন সেন্স আছে নাকি গেছে? আপনাকে পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। সত্যি করে বলুন কেনো এসেছেন? রোমান্স করতে ইচ্ছে হচ্ছিল? এতো তারা কিসের? বউকে তো দুদিন পরেই পেয়ে যাবেন তাইনা ,সেদিন নাহয় নিজের শরীরের সব…..আরিয়ার কথা শেষ করতে না দিয়ে আফরান এসে প্রথমে ঠাস করে চর বসায় ,তারপর বন্দুক টা ঠিক মাথায় ঠেকিয়ে বললো ,একদম মেরে দেবো ,তোর উরার জন্য যেই পাখা গজিয়েছে না আজ ওটা একদম নিশ্বেস করে দেবো ।
আরিয়ার ধবধবে সাদা গালটা লাল হয়ে গেছে হাতের আঙ্গুলের ছাপ বসে গেছে একদম ,
আরিয়া :মাফিয়া মানুষ আর কি করতে পারে বলুন তো , মেরে দিলে অন্তত আপনার মতো মানুষের থেকে দুরের তো থাকতে পারবো ,এতেই আমার চলবে,বলে বিদ্রুপ হাসার চেষ্টা করে আরিয়া।
আফরান দাত খিচে বললো,একদম তো মারবোনা তোকে ,তিলে তিলে মারবো,যতোটা আমায় কষ্টে রেখেছিলি এতোটা বছর,আবার এখন কাছে থেকেও দিচ্ছিস ঠিক ততটাই তোকেও ভোগ করতে হবে । এমনি এমনি তোকে ছেড়ে দেবো না বুঝলি ,সব চেয়ে ঘৃন্য তম কাজ গুলো করবো তোর সাথে ,,
আরিয়া:আপনি বের হবেন কিনা রুম থেকে সেটা বলুন,যদি বের না হন আমি বের হয়ে যাবো এমন ভাবেই ।
আফরান আরিয়া কে একহাতে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে দুগালে ধরে বললো ,কি বললি আবার বল ,বল বল ,বলছিস না কেনো? জিহ্বা টেনে ছিরে ফেলবো একদম। আমারি ভূল হয়েছে তোকে রায় দিয়ে মাথায় তুলে, নাহলে অন্তত মুখের উপর কথা বলতে পারতিস না ,কলিজাটাও এতো বড় হতো না ,তোকে তো আমি …
আরিয়া:মেরে দিবেন তাইতো? দিন মেরে , শুনুন আমার সাথে মাফিয়া গিরি দেখানু বন্ধ করুন , নিজের কেরেক্টার ঠিক করুন পরে আমাকে বলুন ।
আফরান চোখ বন্ধ করে আরিয়ার কথা টা হজম করে একটু থেমে বললো ,কেরেক্টার লেস আমি ,ঠিক আছে তুই চলে যা এই বাড়ি থেকে ,তোকে আমি যাস্ট নিতে পারছি না আর ,
আরিয়া::অন্য মেয়েকে দেখেছেন আমাকে কেনো সহ্য করবেন এখন তো অন্য কেউ আছে তাইনা।
আরিয়ার কথা টা বলতে দেরী হলেও আফরানের শক্ত হাত টা আরিয়ার গালে উঠতে দেরী হলোনা ,পরপর ৩ টা চর বসায় দু গালে ,
আর একটা কথা বললে এখানেই পুঁতে দেবো বলে আরিয়ার ডান হাত টা সব টা শক্তি দিয়ে চেপে ধরে বললো ,আমার কাছে আর কখনো আসবিনা,যেটা ভাবছিস সেটাই করে দেখাবো এবার ।
আরিয়া:আহ,,,হাত ছাড়ুন ব্যাথা লাগছে তো। বলে আরিয়া ছুটার বৃথা চেষ্টা চালায় ,
মি মাফিয়া পর্ব ৩০
আফরান:আমি ধরলে তোর ব্যাথা লাগে অন্য কেউ ধরলে তোর শান্তি লাগে,এমন শান্তি কেড়ে নিতেও দুমিনিট ভাববো না ,ঐ ছেলেকে মেরে দেই বল? এটাই চাচ্ছিস? ঠিক আছে wait for tomorrow baby,বলে বাঁকা হেসে আরিয়ার হাত ছেরে চলে যেতে নেয় আরিয়া দ্রুত পায়ে সামনে গিয়ে বললো ,কি করবেন আপনি? সত্যি করে বলুন,সাদেক ভাইয়ার যদি কিছু হয় আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবেনা #কেরেক্টারলেস_মি_মাফিয়া ।
