Home মি মাফিয়া মি মাফিয়া পর্ব ৩৩

মি মাফিয়া পর্ব ৩৩

মি মাফিয়া পর্ব ৩৩
সুমাইয়া সাবিহা

গেইট খোলাই আছে , কিন্তু বাইরে ছায়া বা মা বাবা কাউকেই চোখে পড়ছে না ,হয়তো ভেতরেই সবাই । ভেবে মুখে একটু হাসি ফুটিয়ে , দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকে ,সামনের রুমে গিয়েই এক প্রকার ভয়ে চোখ দুটো ভয়ে কাঁপতে থাকে ,শরীরের কম্পন বেগতীক হয়ে উঠে ।
বিছানায় পায়ের উপর পা তুলে চোখ বন্ধ করে মুখে জলন্ত সিগারেট টেনে ধোঁয়া উরিয়ে যাচ্ছে আফরান।কপালে হাতে হালকা রক্তের আভা লেগে আছে।চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে ,পরনে শুধু একটা ব্লাক শার্ট পরা ।হাতা ফোল্ড করে উপরে উঠানো , ততটুকু পর্যন্ত কালো লোমশ গুলো দৃশ্যমান।
আরিয়া কাপা গলায় বললো : আ…আপনি এখানে? কখন আসলেন?
আফরান যেনো কিছু শুনছেই না।

আরিয়া দুকদম সামনে গিয়ে বললো , আপনি এখানে কেনো এসেছেন?
আফরান এর কোনো হেলদুল দেখা গেলো না।
আরিয়া এবার এই রুম ছেড়ে অন্য রুমে গিয়ে মা বলে ডাকতে লাগলো কিন্তু কারো কোনো আওয়াজ নেই। আরিয়ার আশঙ্কা হয় , কিছু করে দেয়নি তো ঐ লোকটা আবার ? হন্তদন্ত হয়ে সারা বাড়ি খোঁজে ও মা বাবা বোন কারো হদিস মিললো না আরিয়ার।
প্রচন্ড জেদ মনে একে দ্রুত পায়ে আফরানের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো ,কি করেছেন আমার মা বাবার সাথে? সত্যি করে বলুনতো।
আফরান এখনো আগের মতো ।
আরিয়া এবার আফরানের কাছে গিয়ে কলার চেপে ধরে বললো,আমাকে ও আপনার ঐ কালো জগতে আনতে বাধ্য করবেন না মি,আফরান চৌধুরী। ভালোয় ভালোয় বলছি আমার মা বাবা কোথায় বলে দিন ।
আফরান চোখ বন্ধ রেখেই হাতের সিগারেট টা আরিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বাঁকা হাসে।
আরিয়া:সীমায় থাকুন ,নয়তো কি করতে পারি আমি আজ…..

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আফরান এবার চোখ খুলে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে কলার থেকে আরিয়ার একটা হাত ধরে জলন্ত সিগারেট টা ঠিক শিরা বরাবর ধরে ।
আরিয়ার অন্য হাত সাথে সাথে আফরানের কলার থেকে সরে যায় :আহ! কি করছেন ভাইয়া ,সরান এটা হাত পুরে যাচ্ছে তো। আরিয়ার কাতর কন্ঠে আফরানের বুক বিন্দু পরিমাণ বললো না।
আরিয়া চোখ বন্ধ করে আছে ,চোখের জল ফেলে বলতে লাগলো :ভাইয়া প্লীজ ছেড়ে দাও । আমার খুব কষ্ট হচ্ছে তো ।
আফরান এবার সিগারেট টা ছুরে ফেলে নিচে আরিয়ার হাত টা এক প্রকার ধাক্কা মেরে ছেড়ে দেয়।
আরিয়া টাল সামলাতে না পেরে ফ্লোরে ছিটকে পরে।
আফরানের চেহারায় কোনো আফসোসের ছাপ দেখা গেলো না।
আরিয়ার কপালে হালকা কেটে লাল রক্ত দেখা গেলো। মৃদু শব্দে কান্না করতে করতে হাতের দিকে তাকালো ,ছিলে গেছে ,জায়গা টা সত্যিই পুরে নিলচে হয়ে গেছে তবে বেশী ক্ষত হয়নি ।

-আপনি বড্ড পাষান ভাইয়া , একসময় তো এমন এতো কেয়ার করতেন আজ কোথায় গেলো সেই মন মানসিকতা? আপনার চোখে এতো ঘৃনা কেনো আমায় নিয়ে ভাইয়া? বলুন না ,আমারো তো জানতে ইচ্ছে হয় আমাকে আঘাত করার কারন গুলো।ঐ মেয়েটা আপনার চোখে এতোটাই ভালো লেগে গিয়েছে যে ,এখন এমন করছেন আমার সাথে এমনকি আমার মা বাবার সাথেও কি করে ফেলেছেন,এতোটা নির্দয় কেনো হলেন ।
আফরানের রাগ নিয়ন্ত্রণ হবার বদলে মনে হচ্ছে আরো দীর্ঘ হচ্ছে। শুয়া থেকে উঠে নিচে নেমে পেন্টের বেল্ট খুলতে খুলতে বললো, উত্তর চাই তোর না ,আরো বল কি কি জানতে চাস ফার্স্ট।
আরিয়ার চোখে অসহায়ত্বের ছাপ ,চোখ ভর্তি পানি নিয়ে আফরানের চোখের দিকে তাকিয়ে মিনতি সুরে বললো, প্লীজ আর মারবেন না ,আপনার কাছে আর কিছু জানতে চাইবো না , প্লীজ ভাইয়া ।
আফরানের ভেতর টা যেনো আতকে উঠলো ,এই চাহনি ,এই মিনতি ,বাঁচার জন্য একটু নিবেদন ,চোখ ভর্তি বিশাল অভিযোগের ছাপ ছোপ ছোপ করছে ,এই বিশালতা কাটিয়ে কিভাবে হাত তুলবে তার সকল ব্যস্ততা ও ক্লানতার মাঝে শান্তি প্রেয়াতার গায়ে?

আরিয়া আফরানের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছে।
আফরান হাতের বেল্ট টা ছুড়ে ফেলে সামনের দিকে । বেল্ট টা দেয়ালের উপর পরে আওয়াজ হয় ,আরিয়া ভয়ে চোখ বন্ধ করে বলতে লাগলো , প্লীজ এমন করবেন না আমার সাথে ।যেমন চাইবেন সব শুনবো ভাইয়া ।
আকস্মিক আরিয়া কারো স্পর্শ অনুভব করে চোখ মেলে তাকায় ,আরিয়া আফরানের কোলে এই মুহূর্তে,আরিয়ার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেলো ,হেঁচকি তুলে বললো , আমাকে এমন করে তুলে ফেলে দিবেন তাইনা ,বললাম তো শুনবো সব কথা , বিশ্বাস করুন আমায় …
আফরান :একদম চুপ ,আর একটা কথাও বললে এমনভাবে পিষিয়ে ফেলবো যে, চিহ্ন টুকুও থাকবেনা।কার অনুমতি নিয়ে একা একা বের হয়েছিস? কালকেও চলে গেলি , কিছু বললাম না বিধায় আজকে একদম চরে বসেছিস,তোকে কিভাবে সোজা করতে হবে জানা হয়ে গেছে ,

আরিয়া আফরানের এমন কড়া গলার কথার উপরে কথা বাড়াতে পারলো না , কিছু বললেই তো ……
আফরান আরিয়া কে নিয়ে খাটের উপর বসিয়ে চারদিকে একবার তাকায় ,তারপর বিরক্ততা নিয়ে জায়গা ছেড়ে অন্য রুমে যায় , মিনিটের মাথায় আবার ফিরে আসে সেই বিরক্তিকর ফেইস নিয়ে । এসেই আরেক ঝটকা খায়,এই মেয়ে তাকে কোনোদিন ও শান্তি দিবে না,রাগ টা মাথায় ভর করে , উচিত ছিলো ওটাকে তখন মারতে মারতে অজ্ঞেন করিয়ে গতকালকের মতো পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ফেলে রাখা ,তারপর আর পালানোর সুযোগ পেতো না । দুহাতের মুঠি বদ্ধ করে রুম ছেড়ে বাইরে তাকায় ,আরিয়া মাত্রই আফরানের হাত থেকে পালানোর জন্য বের হয়েছিলো কিন্তু আফরান কে আবার চোখে পড়তেই ভয়ে জড়সড় হয়ে আসে ,বাহির থেকে বলতে লাগলো,আমাকে যেতে দিন নয়তো ভালো হবেনা মি আফরান।

আফরান বাঁকা হেসে বললো ,আবারো ভূল ! ভেরি গুড লাইসেন্স পেলাম তখনের মার টা উশুল করার ।
আরিয়া:কি করবেন আপনি? মারতে মারতে আর কতো মারবেন? কতোবার তো মারতে চেয়েছেন কেনো মারেননি? সুযোগ তো ছিলো তাইনা।
আফরান:এই মেয়ে কখনো বুঝবেনা , এটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বোকামি মিশে আছে , ভেতরে আসবি নাকি ঝামেলা চাস?
আরিয়া: কোনোটাই চাইনা ,আমাকে যেতে দিন নয়তো আপনি চলে যান । দেখুন এটা কিন্তু আপনার শহর এলাকা নয় ,বাড়াবাড়ি বন্ধ করুন আর চলে যান ।
আফরান:দেখ আরু রাত হয়ে গিয়েছে ভেতরে আয় ,যদি কিছু হয়ে যায় তখন কিন্তু কি হতে পারে তোর নিশ্চয়ই ধারনা আছে।
আরিয়া ভয়ে চারদিক টা একবার তাকায় ,খেয়াল এই ছিলোনা এতোক্ষণ অন্ধকার কখন হয়ে গেলো শুধু এই সাইকো লোকটার থেকে পালানোর আপ্রান চেষ্টা ছিলো।
আপনি চলে যান আমাদের বাড়ি থেকে ,আমার মা বাবাকে আমি নিজেই খোঁজে নেবো।
আফরান : দ্বিতীয় বারের মতো রাগানোর মতো উদ্ভট কাজ করিস না ,ভালো করে বলছি চলে আয় নয়তো কি করে বসবো আরু তোর ধারনা নেই । চুপচাপ আস।
আরিয়া :আপনি চলে গেলে তবেই ফিরবো ।
আফরান: ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু একা যেনো এখান থেকে বের হতে না দেখি ।
আরিয়া মনে মনে, হঠাৎ উনার কি হলো? এমন ভাবে মেনে নিলেন কিভাবে এতো সহজে? অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই তো?

-সত্যি করে বলুন কি মতলব এঁকেছেন ভেতরে? উদ্দেশ্য কি আপনার?
আফরান হালকা পায়ে ধীরপায়ে আসতে আসতে বললো,তোর কেনো মনে হচ্ছে আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?
আরিয়া:আপনি তো এতো সহজে মানার লোক না ,আজ কেনো …
আফরান:এতোই বুঝিস আমায়?
আরিয়া: অবশ্যই বুঝি ,আপনি কি প্রকৃতির মানুষ সেটা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানেনা।
আফরান :তাই? তা ভুল বুঝিস কেনো তাহলে? উল্টা পাল্টা কেনো করিস?
আরিয়া কি যেনো ভেবে বললো , আমি কাউকে ভূল বুঝিনা যা বুঝি সেটাই ঠিক ।আর আপনার কোনটা ভূল বুঝেছি হ্যাঁ? বলুন? ঐ মেয়েটার সাথে এঙ্গেজড হয়েছেন এটা ভূল? নাকি ঐ মেয়েটাকে নিয়ে রুমে ঢুকে গিয়েছিলেন সেটা ভূল?

আফরান : আমকে জিজ্ঞেস করেছিস এসব কিছু বুঝার আগে??নিজে নিজে ভেবে নিয়ে…
আরিয়া:আরে আপনি কাছে আসছেন কেনো? ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকুন ,বলে আরিয়া দু কদম পিছিয়ে যায় ,আফরান চট করে এসে আরিয়া কে কোলে তুলে নেয় ।
আরিয়া:আ.. ছাড়ুন বলছি ,আপনি চিট করেছেন । কথা বলতে বলতে এখানে এসেছেন ,এই ছিলো আপনার মনে ।
আফরান কিছু না বলে আরিয়া কে নিয়ে ভেতরে গিয়ে খাটে বসিয়ে দরজা আটকে দেয় ।
আরিয়া :দরজা আটকালেন কেনো? কি করবেন আপনি? দেখুন আমাকে আপনি মারতে পারবেন না জানি আমি , শুধু শুধু ভয় দেখিয়ে লাভ নেই বলে আরিয়া খাট থেকে নেমে যায় ।
আফরান:এতোটা বুঝে গেছিস মারতে পারবোনা কিন্তু কেনো মারতে পারিনা সেটা ভেবে দেখেছিস কখনো?
আরিয়া কি যেনো ভাবতে লাগলো ।

আফরান আরিয়ার কাছে এসে পুরে যাওয়া হাত টা ধরতেই আরিয়া ওহ শব্দ উচ্চারণ করে হাত সরিয়ে নিয়ে বললো ,আবার ব্যাথা দেবেন? দেখুন দুরে থাকুন,আজকে আর একটু মারলে কিন্তু চিৎকার করবো ,এটা গ্রাম এলাকা , আওয়াজ পেলেই সবাই ছুটে আসবে বুঝলেন।
আফরান কপাল কুঁচকে আরিয়া দিকে তাকিয়ে আকস্মিক গলায় ঝুলানো উড়না টা হাতে নিয়ে নেয়।
আড়িয়ার হঠাৎ বিষয় টা বোধগম্য হতেই বুকের উপর দুহাত ক্রস করে নিয়ে বলে, ভাইয়া কি করছেন হ্যাঁ? ? আ…আপনি … দেখুন উল্টা পাল্টা কিছু করবেন না বলে দিলাম , আমার সতিত্ব নিয়ে আপনি…
আফরান:তোর সতিত্বও আছে? ভূলে যাসনা আফরান চৌধুরীর কাছে আগেই নিজেকে বিলিয়ে দিতে চেয়েছিস ইচ্ছে করে ।
আরিয়া কি বলবে বুঝতে পারেনা ,সেদিন তো আরিয়া ভেবেছিলো ভাইয়া নিশ্চয়ই ভালোবাসে কিন্তু এটা যে ভূল ধারনা ছিলো তার।

কিন্তু এখন তো প্রমান অন্য জনের হবু হাসবেন্ড এটা জেনেও কিভাবে ….
আফরান : বল আরো কিছু বলার আছে?
আরিয়া : দেখুন মি,সেদিনের বিষয় টা আলাদা আজকের টা আলাদা , আপনার এখন বিয়ে হতে ….
এটুকু বলতেই উড়না টা আরিয়ার মুখের উপর ধরে পেছনে নিয়ে বেঁধে দেয় ।
আরিয়া : আআআ,,উমমমম ,,, এধরনের শব্দ করে ।
আফরান আরিয়ার দুহাত বুকের উপর থেকে কিছু টা জোড় করেই সরিয়ে টেনে নিয়ে খাটের উপর বসায়।
পাশেই আফরান বসে আলিয়ার পুড়া হাত টা নিজের তালুতে নিয়ে বললো , খুব লেগেছে তাইনা? তোমাদের বাসায় ওষুধ কোথায় রাখা বলতে পারবে ? আমি পাইনি।
আরিয়া বারবার বাঁধন খুলে দেওয়ার জন্য বারবার ইশারা করছে ।
আফরান এবার উড়না টা মুখের উপর থেকে সরিয়ে বললো,বেশি কথা বলবেনা বলে দিচ্ছি,নয়তো হাত পা বেঁধে দিবো নেক্সট
আরিয়া স্বস্থির নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো ,আপনি কি সত্যিই পাগল ভাইয়া ? এমন করছেন কেনো? একটু আগেই তো মারতে চেয়েছেন।

আফরান: চুপ থাকো আর বলো ওষুধ কোথায় ?
আরিয়া :কেনো চুপ থাকবো? আপনি এমন করছেন কেনো? কি করেছি আমি?
আফরান রাগ কন্ট্রোল করার চেষ্টা চালিয়ে বললো ,দেখো আরু,আবারো বলছি প্রশ্ন করোনা ,তোমার উত্তর নিজে থেকেই পাবে পরে ।
আরিয়া:আমি এখন জানতে চাই। মা বাবাকে কোথায় রেখেছেন? আর এখানে কেনো এসেছেন? আপনি তো বলেছিলেন যেনো আপনার সামনে না আসি ,তাহলে?
আফরানের ধৈর্য ভাঙে ,এই মেয়ের সাথে ভালো ব্যাবহার করা মানে এটা কথার বাইরে যাবেই ,ঠাস করে গালে একটা চর বসিয়ে বললো,তারপর বল আর কি কি জানতে চাস ? বল
আরিয়া গালে হাত রেখে ঠোঁট উল্টে আফরানের দিকে তাকিয়ে রইলো।
আফরান:দেখ এমন ভাবে আবার তাকাচ্ছি কেনো? কথা বললে শুনতে পারিসনা? মারতে হবে কেনো তোকে? বুঝিস না কি বলি?

আরিয়া এবার ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদেই দিলো ।
আফরান: এই চুপ করবি? নাকি আবারো ….
আরিয়া আফরান কে অবাক করে দিয়ে আফরানের বুকে মাথা ফেলে কাঁদতে লাগলো।
আফরান একটু হতভম্ব হয়,,, কিছু মূহূর্ত এভাবেই অতিবাহিত হয় ,,আফরানের ভাবনার থেকে স্তম্ভিত ফিরলে এক হাতে আরিয়া কে জড়িয়ে অন্য হাতে আরিয়ার মাথায় রাখে।
খুব বেশি বকেছি?
আরিয়ার মুখে কোনো কথা নেই।একপানে কেঁদেই চলেছে আফরান কে খিচে ধরে ,
আফরান: খুব ব্যাথা দিয়েছি? হাতে অনেক ব্যাথা হচ্ছে?
ডঃ.এর কাছে যাবো চলো । বলে আরিয়াকে উঠাতে নিলে আরিয়া না উঠে আরো শক্ত করে ধরে আফরানের বুকে মুখ গুজে,বললো,আপনি অনেক খারাপ ভাইয়া । খুব কষ্ট দেন আমাকে । এতো কেয়ার করে লাভ কি যদি ক্ষতটা নিজেই করেন?

আফরান:তোমাকে অন্য কেউ ছুবে কেনো? বলো। আমার উপর রাগ করেছো বুঝলাম তাই বলে অন্য পুরুষের ছোঁয়া কেনো লাগবে তোমার শরীরে ?
আরিয়া : এই জন্য এমন করবেন? আপনাকেও তো ঐ মেয়েটা ছুঁয়ে ছিলো রিং পরানোর সময় ,আমি এমন করেছি আপনার সাথে?
আফরান: জেলাস?
আরিয়ার কান্না ড়ালকা হয় । বললো, উঁহুম।
আফরান:এইতো বললে স্নেহা ছুঁয়েছে তাই তোমাকেও অন্য জন ছুবে ,এটাই তো তাইনা ।
আরিয়া বুক থেকে মাথা উঠিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো , জানিনা কিন্তু আপনাকে ঐ মেয়েটা কেনো ছুবে?
আফরান স্মীত হেসে আরিয়া কে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাড়িয়ে বালিশের পাশে থেকে একটা সিগারেট হাতে নিয়ে আগুন ধরিয়ে ধরালো।
আরিয়া : এটা ফেলে দিন বলছি ,আমার এসব পছন্দ না । আর আপনি এগুলো কেনো খান হ্যাঁ? কতোবার বলেছি এসব ভালো লাগেনা আমার ।

মি মাফিয়া পর্ব ৩২

আফরান আবারো মৃদু হেসে আরিয়ার সামনে এসে সিগারেট টা আরিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো ,যেখানে যেখানে দেখেছো আমায় ছুঁয়েছে সে স্থান গুলো তে এটা দিয়ে পুড়িয়ে দাও।
আরিয়ার ভেতর টা ধুকপুক আওয়াজ হতে থাকে ,আসলেই কি সাইকো #মি_মাফিয়া ? নাহলে এমন উদ্ভট কাজ কেউ করবে বলে মনে হয়না ।
আফরান:কি হলো ? নাও ।
আরিয়া :এটা ফেলে দিন লাগবেনা আমার ,আপনার মতো এতো পাষান হতে পারবোনা আমি ।
আফরান আবারো হেসে সিগারেট টা নিজেই আঙুলের যে জায়গাটায় রিং পড়িয়ে ছিলো সেই জায়গাটায় জলন্ত সিগারেট টা ধরে । তারপর……..

মি মাফিয়া পর্ব ৩৪