আপনাতেই আমি শেষ পর্ব
ইশিকা ইসলাম ইশা
রাত তখন বাজে ১২টার কাছাকাছি।আজ সবাই রং খেলবে তাই সবাই ছোটাছুটি করছে।
আয়ান দু বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে।ছেলে মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছে আর মায়ের এদিকে খোঁজ নেই।
কাদিস না বাবা!!তোর মা তোকে মাঝে মাঝে ভুলে যায়।এই রুপ ভাবি!! মেঘ কোথায়??
রুপ আয়ানের ডাকে এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল,
মেঘ হয়তো ওদিকে।ওখানে রং খেলা হবে।
আয়ান বিরক্ত হয়ে ছেলেকে নিয়ে যেতেই দেখে মেঘ,রিদি রং নিয়ে ছোটাছুটি করছে।যদিও রং না সেটা আবির।আয়ান আবাক হয়ে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল এরা কি বাচ্চা নাকি!!!
এই এই থাম থাম!!কি শুরু করেছিস এসব?ভুলে গেছিস নাকি তোরা এখন বাচ্চার মা!!
মেঘ চট করেই বলে উঠে,
তো????
আয়ান আয়ুশ কে মেঘের কোলে দিয়ে বলল,
তো ছেলে নিয়ে খেল!!
তোর কি আমাদের খুশি সহ্য হচ্ছে না!!
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
রিদির কথায় আয়ান চোখে চশমা পড়ে ছেলেকেও চশমা পড়িয়ে দিয়ে বলল,
নারে!! বলেই মুঠোই আবির নিয়ে মাখিয়ে দিল মেঘের গালে।
আয়ান!!!আজ তুই থাম!!বলেই মেঘ ছেলেকে নিয়ে কিছুদূরে গিয়ে হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠল।কারন আয়ান দৌড়াতে গিয়ে তীব্রর সাথে ধাক্কা লেগে ধপাস!!আয়ুশ মায়ের হাসি দেখে সেও হেসে উঠলো!!
স্যার!!!
আর ইউ ওকে আয়ান!!!
জি স্যার!! আয়ান বসে থেকে কথা বলার মাঝেই রুপ আর রিদি একগাদা আবির নিয়ে আয়ানের মুখে মাখিয়ে দৌড়। আয়ান হতভম্ব হয়ে তখনো বসে আছে।ব্যাপারটা বুঝতেই নিজেও উঠে দৌড় দিল।
তীব্র মুচকি হাসল।রোজ এসব দুষ্টুমি করা মায়ের কাছে থেকে পেয়েছে।মাঝে মাঝে রিদি কে নতুন রুপে দেখে মুগ্ধ হয় তীব্র।রিদির মাঝেও বাচ্চামি রয়েছে।সেই শান্ত, শক্ত রিদি এখন কতটা চঞ্চল।ভেবেই বিস্তর হাসল তীব্র।
সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত সুদর্শন তীব্র কে দেখে আবারো একদফা ক্রাশ খেল লামিয়া।চোখে তার কালো চশমা।কানে ফোন!!উফফ ফোন ধরার স্টাইল দেখেই আরো কয়েকদফা ক্রাশ খেল লামিয়া।
হাতে আবির নিয়ে তীব্রর দিকে এগিয়ে গেল।তীব্রর সামনে দাঁড়িয়ে আছে লাবিব।বসস রং খেলবে না।তাই তারও আর খেলা হচ্ছে না।
লাবিব লামিয়া কে তীব্রর দিকে যেতে দেখে বলল,
এদিকে পার্সোনাল এরিয়া মিস!! ওখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ!!
হোয়াট???
জি ম্যাম!!
কিন্তু আমি ওনাকে আবির মাখাতে চাই!!
ওনাকে মানে!!!ইউ মিন তীব্র চৌধুরী!!
অফ কোর্স!!!
আপনি কেন?কেউ যদি ভুলেও এই কাজ করে তো সোজা উপরে উঠে যাবে মিস।
শুধু বৌ ছাড়া কারো ছোঁয়া তার সহ্য হয় না!!কথাটা বিরবির করে বলে তাকালো লামিয়ার দিকে।
আপনি তীব্র চৌধুরী কে হয়তো জানেন না।জানলে নিজেকে বাঘের দাওয়াত দিতেন না।এখন কেটে পড়ুন।স্যার রেগে যাবে।কথাটা বলেই হাঁটতে শুরু করল লাবিব।সে বুঝে পায় না বিয়ে করে বাচ্চার বাপ হওয়ার পরেও এতো মেয়ে কিভাবে বসকে পছন্দ করে।কোই আজ পর্যন্ত একটা বৌ ছাড়া কেউই ওর তাকালো না। যদিও তীব্র পছন্দ করার মতোই।হাহ কি জীবন মাইরি!!আগের বসের জন্য রাতে একটা একটা মেয়ে কাছে পাঠাতে হতো!!এখন!!এখন কাছে পাঠানো তো দূর তিন ফুট দূরে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে।বলা তো যায় না।রাগ উঠলে বিয়ে বাড়ি তখন ধ্বংস পরিতে রুপান্তরিত হবে।
আবির খেলায় মত্ত পুরো বাড়ি।বাদ যাইনি কেউ ই।
আমির লাল রং মেখে ভুত হয়ে খুজে বেরাচ্ছে বেয়াই মশাই কে। আরফিন তাকে লাল রং এ গোসল করিয়েছে ইতিমধ্যে। আরফিন কে খোজার মাঝেই নজরে এলো তীব্র কে। তীব্র কে সাফ দেখে হিংসা হলো আমিরের।তবে যাই হোক ছেলে বিয়ে বাড়ি এসেছে সেটাই অনেক।কথাটা ভেবেই এদিক ওদিক তাকিয়ে আরফিন কে খুজতে লাগল।আজ আরফিন কে রং এ চুবাবে বলেই ঠিক করেছে আমির।
তবে আশেপাশে খুজে আরফিন কে দেখতে পায় নাতনি কোলে নিয়ে ঘুরছে আরফিন।রোজ কে কোলে দেখে আমির এর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।তবে আমির ও কম না।সোজা গিয়ে হাজির ছেলের সামনে।তীব্র ল্যাপটপ থেকে মুখ তুলে বাবার দিকে তাকিয়ে ভূ কুঁচকালো,
এমন রং ভূত হয়ে ঘুরছো কেন?বুড়ো বয়সে হাড্ডি জোড়া লাগানো কঠিন!!জানো তো নিশ্চয়ই!!!
ছেলের কথায় আমির ব্যাঙ্গ করে বলল,
তোর শশুর কে কথাটা গিয়ে বল!!তোর শশুর ই এই অবস্থা করেছে।
তীব্র ল্যাপটপ অফ করে বলল,
পরিকল্পনা কি???
আমির ছেলের কথায় অবাক হল না।সে জানে তার ছেলে চতুরতার মূর্তি,
পরিকল্পনা যাই হোক!রোজ কে কোলে নিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে তোর শশুর।
তীব্র মেয়ের কথায় এতোক্ষণের ভাব ছেড়ে বলল,
রোজ কিন্তু এইটুকু!!তোমরা আমার মেয়েকেই কেন হাতিয়ার বানাচ্ছো!!কথাটা বলেই ছুটল মেয়ের কাছে,
সাদা একটা ড্রেস পরে দুধারে দুটো ঝুটি বেঁধে আরফিন এর কোলে চড়ে ঘুরছে রোজ। তীব্র ঢটপট পায়ে এসে আরফিন এর কোল থেকে রোজ কে নিয়ে মেয়ের চোখে সানগ্লাস পড়িয়ে ভূ কুঁচকে তাকাল আরফিন এর দিকে,
বেয়াই বেয়াই লড়াই করুন, আমার মেয়েকে মাফ করুন!!
আরফিন ক্যাবলা হেসে বলল,
কি যে বলো না এই বয়সে!!ব্যাস!!কথা থেমে হা হয়ে গেল আরফিন।কারন আমির এক বালতি ভর্তি রং এনে আরফিন এর শুভ্র পাঞ্জাবি কালারিং করে দিয়েছে ইতিমধ্যে।
থমথমে হয়ে থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসির রোল পড়ে গেল।তীর হো হো করে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে!!
আমির বেশ ভাব নিয়ে বলল,
শুরু কিন্তু আপনি করেছেন বেয়াই মশাই!!
আরফিন ফিক করে হেসে উঠলো।সাথে আমির ও। হুট করেই তীব্রর গালে পেছন থেকে একটি হাত আবির লাগিয়ে পালাতে চাইলেও পালাতে পারল না। তীব্র ধরে ফেলল।
সরি!!সরি!!!
রোজ মাকে দেখে খিলখিল করে হাসতে লাগলো।
রং খেলবো পাপা!!!
তীব্র চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
এসব ভালো না আম্মু!!
কিন্তু রোজ বাবার কথা মানতে নারাজ। তীব্র কটমট করে চাইল রিদির দিকে। কিন্তু তাতে বিশেষ কোন লাভ হল না। আবার হুট করেই বেজে উঠল গান তাতে বাবার কোল থেকেই নেচে উঠল রোজ।রিদি মেয়ে কে বাবার কোলে থেকে নাচিয়ে বলল,
আমার জান!!নাচো নাচো!!!
গানের সাথে মা মেয়ের তাল মেলানো দেখে হাসল তীব্র। এইটাই তার দুনিয়া।
চারদিকে তখন বিয়ের আনন্দে মুখরিত চারপাশ। দুটি জীবন বেঁধে গেল একটা সাক্ষর আর তিনবার কবুল বলায়। শুধু কি জীবন বেঁধে গেল! বেঁধে গেল দুটো মানুষের মন,মনের ভেতর তৈরি হওয়া স্বপ্ন,আশা।
বিয়েটা মিজা বাড়িতে হলেও রিসেপশন ঢাকায় হবে।সেই সুবাদে রাতেই মিজা বাড়ি থেকে নিজের ফ্ল্যাটে এসেছে রায়ান। ফ্ল্যাটের চারপাশে সবুজ বাতিতে সাজানো হয়েছে।এখান থেকেই শুরু হোক রায়ান নীরের ভালবাসা ময় নতুন জীবন।সব পিছুটান ছেড়ে শুরু হোক নতুন প্রভাত।
রায়ানের বাসা থেকে ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত হয়েছে রিদিদের। চৌধুরী বাড়ি থেকে রায়ানের বাসা বেশি দুরে না হওয়াই চৌধুরী বাড়িতেই ফিরে এসেছে রিদি। দুটো দিন ভীষণ ব্যস্ত ছিল।রায়ানের বিয়ের সব দায়িত্ব রূপ আর রিদি ই পালন করেছে।বাবা মা আর বোনের দায়িত্ব সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।যদিও সবাই ছিল। তবুও রায়ানের নতুন জীবনে রিদি কোন কমতি রাখতে চায় না।এখন হয়তো সে পরিপূর্ণ একজন নারী যার মা, স্বামী সন্তান পরিবার সব আছে।তবে এক সময় রায়ান ই ছিল যে তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।তাই ভাইয়ের বিয়েতে কোন কমতি রাখতে রাজি হয়নি,
ঘুমন্ত মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে দিল তীব্র। কয়েকদিন থেকে বৌ তার যেন নেই নেই ভাব। রায়ানের বিয়ের কথা ভেবে তেমন কিছু বলে নি।রিদি তীব্র কে দেখে একছুটে এসে জরিয়ে ধরতেই তীব্র বলে,
কি ব্যাপার আজ বরের কাছে!!মনে পড়ল আপনার বর আছে!!
রিদি কিছু না বলে আরো একটু গভীর ভাবে তীব্র কে জরিয়ে ধরলো। শান্তি!!
জান!!ঠিক আছেন?
হু!!!
টায়ার্ড??
হু!!!
তীব্র আর কিছু না বলে রিদিকে কোলে তুলে বিছনায় শুইয়ে দিল।লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে জরিয়ে ধরলো আষ্টেপৃষ্ঠে।রিদি মুচকি হেসে তীব্রর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই তীব্র চোখ বুজল।এর চেয়ে শান্তি কিছু নেই।
কেটে গেছে কয়েকটা দিন,
চৌধুরী বাড়িতে আজ মেহমানে ভর্তি। রায়ানের বিয়ে উপলক্ষে সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।মিজা বাড়ির সবাই এসেছে।রিদি সবার জন্য চা করে নেই,
বড়মা আপনার জন্য চা নিয়ে এসেছি!!
রাদিফের মা একবার তাকাল রিদির দিকে।হাতের চা টা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
একটু বসবি আমার কাছে!
কি হয়েছে বড়মা?কোন সমস্যা হচ্ছে?
আমাকে একবার বলবি রাদিফ কোথায়?জানিস রাদিফ তোকে অনেক ভালোবাসত। কিন্তু আমি কখনো তোকে আমার ছেলের বৌ মানতে পারতাম না।তাই রাদিফকে আমার কসম দিয়েছিলাম যাতে…..
এসব থাক বড়মা।আমি জানি না রাদিফ ভাইয়া কোথায় আছে?তবে যদি জানতে পারি অবশ্যই আপনাকে জানাব!
আমাকে মাফ করে দিবি রিদু!!!
এসব কি বলছেন বড়মা!আপনি প্লিজ আর এসব কথা বলবেন না।আমি খুব ভালো আছি।আর আমি চাইবো ভাইয়া যেখানে থাকুক সুখে থাকুক।বড়মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রিদির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।তখন যদি সে মেনে নিত রিদিকে তাহলে আজ রাদিফের এমন সুখী একটা সংসার হতো! কিন্তু আফসোস!! দাঁত থাকতে আমরা দাঁতের মূল্য বুঝি না।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে বড়রা সবাই রেস্ট করছে। মেয়েদের দল গুলো বসেছে আড্ডায়।বাগানের দিকে বসেছে সবাই।হালকা শীত শীত আমেজে বেশ লাগছে সময়টা।
এই রিদু!!ঐ মেয়েটা কে রে!!
মেঘের কথায় রিদি তাকাল দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরী লামিয়ার দিকে।ও লামিয়া।মোনার খালাতো বোন!
সেই অনুষ্ঠান থেকে দেখছি ভাইয়ার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে।রিদি মুচকি হেসে বলল,
তোদের ভাইয়া দেখার মতো!দেখবে না!!
তোর হিংসা হচ্ছে না!!
উহু!!যে মানুষ মেয়েদের থেকে দূরে থাকতে আশেপাশে গাড লাগিয়ে রাখে।তাকে নিয়ে কি আর হিংসা হয়!!হয় না!! বরং গর্ব হয়।
কি এক পিচ বানিয়েছিস মাইরি!!!
রিদি মেঘের কথায় খিলখিল করে হেসে বলল,
উহু আমাকে কিছুই করতে হয়নি।সে নিজেই এমন!!
এই শুনুন!!
রিদির ডাকে তীব্র পিছনে ফিরতেই হা হয়ে তাকালো রিদির দিকে।কালো পাতলা শাড়িতে আবেদনময়ী লাগছে।মুখে তেমন সাজ নেই কিন্তু ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক! তীব্র শুকনো ঢোক গিলে হা হয়ে তাকিয়ে রইল।রিদি তীব্র কে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে দুহাতে গলা জড়িয়ে ধরলো। তীব্র তখনো থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিদি তীব্র কে হা হয়ে তাকাতে দেখে তীব্রর হাত নিজের কোমরে রাখল।
এসব কি!!!!
কি মানে!কি!
না মানে মেরে ফেলার পরিকল্পনা আছে নাকি!!
রিদি কিছুটা ভাব নিয়ে বলে,
যে মরেছে তাকে আর কি মারব!!
তীব্র কোমরের বাধন শক্ত করে ধরে বলে,
তাই না!!!
হু!!!
রিদিকে লজ্জায় তীব্রর বুকে মুখ লুকাতে দেখে মুচকি হাসল তীব্র।
কোথায় থেকে কোথায় চলে এসেছে সে।তার জীবনে কখনো এমন কোন দিন আসবে ভাবে নি।যাকে শুধু শারীরিক চাহিদা মনে করেছিল সে এখন তার সবটা জুড়ে বিস্তর করেছে। শ্যামকন্যা তাকে স্থির করেছে।তার উদ্দেশ্যেহীন জীবনে এসেছে আলো হয়ে।পথ ভোলা পথিকের জীবন সাজিয়ে দিয়েছে।তাকে পাক্কা সংসারি করেছে। ছোট্ট একটা পরি দিয়েছে।যার হাসিতে তীব্রর দুনিয়া আরো সুন্দর করেছে।
জান!!!
হু!!
আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ!! আমার জীবনে আসার জন্য। আমাকে ছোট্ট আরো একটা জীবন উপহার দেওয়ার জন্য।জানেন রোজ কে আমি!!
যখন আমি প্রথম রোজকে দেখেছিলাম। স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় একটা দোলনায় ঘুমন্ত এক রাজকন্যা।উল্টানো গোলাপি ঠোঁট,টমেটোর মতো লাল লাল গাল।একদম ঘুমপরি। আমি যখন ওকে কোলে নিলাম তুলতুলে একটা শরীর আমার বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরতেই মনে হল মনে হলো আমি যেন সব পেয়েছি।এই অনূভুতির জন্য তো সাত খুন ও মাফ করা যায়।
রিদি অনূভব করল তীব্রর হৃদস্পন্দন।যা শুধু তাদের জন্যই ধকধক করে।
ভালবাসি তীব্র!!ভীষন ভীষণ ভালোবাসি!!রিদি মনে মনে আওরালো!
“পুরো দুনিয়া বদলে যাক তুই শুধু আমার থাক”
তীব্র ঝট করে রিদিকে কোলে তুলে নিল।বিছনায় শুইয়ে আলতো করে ঠোঁট ছোয়াল কপালে।রিদি আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল। তীব্র ওর মুখটা ধীরে ধীরে রিদির কানের কাছে নিয়ে স্লো ভয়েস এ বলল,
আমার তীব্রতায় ঘেরা শুভ্র সকাল আপনি,
আমার বিষাক্ত জীবনের পবিত্র ফুল আপনি,
আমার বেঁচে থাকার কারন আপনি,
আপনাতেই আমি পর্ব ৮৩
আপনাতেই শুরু আপনাতেই শেষ !!কারন #আপনাতেই_আমি জান!!
শেষ সমাপ্তি পযন্ত আপনাতেই থাকতে চাই!আমি মরে গিয়েও আপনাতেই বাঁচাতে চায়।আর বেঁচে থাকলে#আপনাতেই_আমি হয়ে বাঁচতে চায়।রিদির চোখ ভিজে গেল।এতো ভালবাসা পেয়ে সে তো ধন্য!শ্যামকন্যার ভয়ংকর পুরুষ!!আপনাকে ধন্যবাদ আমার জীবনে আসার জন্য!!
