প্রেমঘোর পর্ব ৩৩+৩৪+৩৫
নার্গিস সুলতানা রিপা
“কি হলো?এভাবে মাথায় হাত দিয়ে শুয়ে আছো…..”
“হু……”
নৌশিন সাদাদের মাথার কাছে বসে-চুল টানতে লাগলো………
“জোরে দাও…….”
“কেন??মাথা ব্যাথা করছে?”
“মন……”
“মানে?”
সাদাদ নৌশিনকে টেনে নিজের বুকে আনে……
নৌশিন সাদাদের চোখের দিকে তাঁকিয়ে জানতে চায়,”কি হয়েছে তোমার?”
“কেন?আমার জান কে আমি কাছে আনতে পারি না…..”
“আরে আমি সেটা বলি নি….”
“তো?…”
“তোমাকে কেমন জানি অন্য রকম দেখাচ্ছে……তাই বললাম….”
“অন্য রকম বলতে?”
“মনে হচ্ছে কোনো প্রেসারে আছো…..”
সাদাদ মুঁচকি হাঁসে…….
“এই তার মানে তুমি সত্যিই কোনো টেনশনে আছো…..তা না হলে এভাবে হাঁসতে না….কি হয়েছে??”
“ধুর পাগলী কিচ্ছু না,অনেকক্ষণ লেপটপে ছিলাম আজ তাই ঘুম পাচ্ছে……”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“ঠিক তো??”
“হ্যাঁ রে জান…..”
“তাহলে উঠো….রাতে আর কাজ করতে হবে না…..এখন ডিনার করে ঘুমাবে…..উঠো…..”
“অনেক কাজ পেন্ডিং রে…..”
“কি কাজ??”
“অফিসের কাজ আবার বলে কি কাজ……”
“আমি জানি অফিসের কাজ……তাই জানতে চেয়েছি কি কাজ?
“ডিল করলাম আজকে…..প্রজেক্ট রেডি করা অবশ্য কয়েকটা মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানিতে এডের জন্য মেইল সেন্ড করতে হবে………..”
“হয়ে যাবে…..তুমি এখন ডিনার করবে চলো……ঘুম নেই ঠিক মতো…..উঠো….”
“আরে ভাই….কত বাজে??”
“সাড়ে আট টা…..”
“এখন ডিনার করবো না পরে আগে মেইল সেন্ড করি…….তারপর আবার আগের কিছু ফাইলও ঠিক করতে হবে…….স্টাফ বদল করেছি কিছু-ওদের কাজগুলো চেক করবো…..”
কথা বলতে বলতে সাদাদ শুয়া থেকে উঠে বসে….আবার লেপটপে হাত লাগায় আর তখনি নৌশিন লেপটপ টা বন্ধ করে দেয়………..
“আরে কি করলে এটা?”
“বন্ধ করলাম……”
“কাজ করছিলাম তো…..”
“তো আমার কি?আমি বলছি ডিনার করে নিতে সো চলো…….”
“হেয়য়য়য়…….”
আবারও লেপটপে হাত দিতে গেলে নৌশিন লেপটপ টা সামনে থেকে সরিয়ে নিলো………
“কোনো কাজ না…..সোজা নিচে চলো…..”
“বাহ্…..শাসন করা শুরু…… ”
“হুম….শুরু চলো তো…..আমি মেইল সেন্ড করে দিবো নি আর পুরোনো ফাইলগুলোও চেক করে নিচ্ছি,তুমি বাকী কাজ করে নিও……”
“পুরোনো ফাইল কি করে চেক করবে জানো কিছু সে সব ফাইল সর্ম্পকে??”
“ফুল ইনডেক্স আছে না তোমাদের অফিস ফাইলের……একটু সামনে থেকে চক করলেই সব টা বুজে যাবো….ভাইয়াকে কতো করে দিয়েছি……”
“আচ্ছা!!”
“হুম…..এই জানো-কাজ করার জন্য ভাইয়া বলতো না কোনো দিন….তবুও ভাইয়া যখন বাসায় কাজ করতে বসতো মাঝে মাঝে আমি নিজেই হেল্প করে টাকা চাইতাম……দেন ভাইয়া না দিতে চাইতো না…..বাবা কে ডাকাডাকির জন্য রেডি হতাম আর ভাইয়া টাকা বের করে দিতো……ইভেন বাবাকে হেল্প করেও টাকা নিতাম…..”
“ওরে আমার ব্যবসায়ী রে…..”
“তা নয় তো কি???ব্যবসা বিষয়ক পড়াশোনা….তারপর বাবা থেকে শুরু করে শশুড়,কাকা শশুড়,বড় ভাই এমন কি বর টা পর্যন্তও ব্যবসায়ী তো আমি আর কি হবো……”
“হা হা হা……”
“হেঁসো না তো…..
“কেন?”
“এমনি…..”
“কি হলো হঠাৎ মুখ টা গোমড়া করলে কেন???”
“কিছু না….”
সাদাদ নৌশিনের শরীর ঘেসে বসে নৌশিনের হাত ধরে বলছে,”মায়ের জন্য মন খারাপ?”
নৌশিন মাথা নাড়িয়ে না জানায়……..
“ফোন করেছিলে বাসায়?”
“হুম….”
“তাহলে???”
নৌশিন সাদাদের দিকে তাঁকিয়ে বলতে শুরু করে,
“অরূপ কত সুন্দর ভাবে গালে হাত বুলিয়ে দেয়।।।।ওর হাত দুটো কি তুলতুলে….কিস করে মনে হয় গোলাপের পাপড়ি পড়লো….জড়িয়ে ধরলে বেশ লাগে…..আর যখন ঠোঁট উল্টিয়ে কান্না করে তখন তো মনে হয় বাচ্চাকে খেয়ে ফেলি এতো কিউট……….”
সাদাদ নৌশিনের মুখের দিকে হা করিয়ে তাঁকিয়ে,
নৌশিন সাদাদের হাতে ধাক্কা দিলো…….
“এই…আমি কি বলছি তুমি শুনছো?”
“হুম…..এখন কি হয়েছে তাতে….বাচ্চা মানুষ এমন ই হয়…..”
“হ্যাঁ জানি আমি……”
“তাহলে??”
“তাহলে আর কি???আমার একটা বেবি চাই…..”
“না……”
“না কেন…..প্লিজ প্লিজ…..একটা বেবি……..”সাদাদ নিশ্চুপ বসে কোনো কথা বলছে না………..
“সাদাদ প্লিজ….একটা বাচ্চা…….রাজি হয়ে যাও না…..”
“চুপপপপপ……….”
সাদাদ ধমক শোনে নৌশিন পাশ ফিরে শুয়ে পড়লো….
সাদাদ কাঁধে হাত দিতেই সরিয়ে দিয়ে বললো,
“লাগবে না……যাও…….”
“হেয়…কান্না করছো কেন???”
নৌশিনকে চুপচাপ থাকতে দেখে সাদাদ নৌশওনকে জোর করে উঠিয়ে নিজের কোলে বসিয়ে নেয়……………
“কাঁদলে থাপ্পর খাবে…….আমি কি বলছি বেবী নিবো না……..”
“তো কি???”
“একটা চড় দিয়া না……..আমি বলছি আগে স্টাডি টা শেষ করো……”
“এখনও তিন বছর লাগবে তো…..”
“লাগুক আর তোমার শরীরের কন্ডিশন ভালো না সোনা…….একটু বুঝো……”
“আমার চেয়ে চিকন মেয়েদের আরও কম বয়সে বিয়ে হয়…..বাচ্চাও হয়ে গেছে কত জনের……”
“আমার কি বেবির শখ নেই?আমিও আমার এই বেবির মতো আরোও একটা পুচকে চাই…….বাট তোমার কান্ডিশনের জন্য ভয় হয় আমার……….”
“কিচ্ছু হবে না…….প্লিজ প্লিজ……”
“আচ্ছা ঠিক আছে,সেমিস্টার টা শেষ করো তারপর দেখছি……”
নৌশিন খুশিতে গতগত পুরো……
“সত্যি!!!!”
“ওরেব্বাস…….এখনি??”
“তুমি কি বুজবে আমার কত দিনের শখ, মা হবো……”
“হা হা হা হা……..”
“হাঁসো কেন??”
“সরি আর হাঁসবো না বল তুই……”
“জানো তোমার সাথে যখন হাত ধরে হাটতাম তখন না মাঝে মাঝে এটা মনে হতো,ইশ এই ছেলেটার বাচ্চা আমার পেটে থাকবে…..ভেবেই কেমন একটা ফিলিংস আসতো……”
“আচ্ছা!!এতো আগে থেকে?”
নৌশিন সাদাদকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“হুম…..অনেক আগে থেকে…..”
আর কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বলে,
“আমার না তোমার মতো ডেসিং একটা ছেলে চাই……”
সাদাদ আচমকায় নৌশিনকে সরিয়ে দিয়ে বলে, “নো,মেয়ে…..”
“না ছেলে…..”
“আমি বলেছি না মেয়ে…..”
“আমি বলেছি না ছেলে….”
“মেয়ে……মেয়ে….মেয়ে…..”
নৌশিন সাদাদের বুকে ঘুসি মারছে, “ছেলে,ছেলে,ছেলে…………”
“আমার কিন্তু নাতী বা নাতনী একটা হলেই হলো…..”
দুজনেই দরজার দিকে তাকিয়ে শকড…………
নৌশিন তো রীতিমতো লজ্জায় মাটির নিচে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা……
শেষ-মেশ শশুড়!!
!
“বাবা……তু……”(সাদাদ)
“হ্যাঁ,হ্যাঁ আমি……এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম,তো আমার বউ মায়ের ছেলে,ছেলে শব্দটা শুনলাম আর কি…….”
নৌশিন তো মাথা নিচু করে বসে আছে,শশুড় রোমে এসে দাঁড়িয়ে আছে অথচ বসতে বলার হুশ নেই……..
!
“আরে বসতে দিবি না নাকি নৌশিন??”
“হ্যাঁ…..ব। ব বসুন বাবা…….”
“শোন আমি কিন্তু সব ছেলে মেয়েদের তুই করেই সমোব্ধন করি……আর আমাকে শশুড় ভেবে আপনি/আঙ্গে করার দরকার নেই…..নিজের বাবার মতো মনে করেই ‘তুমি’ চলবে……..ওকে?”
“জ্বি বাবা…..”
“ও….তা শুনছিলাম নাতী-নাতনীর কথা……এখন আমি বলি?”
নৌশিন এই ফাঁকে ঢুক গিলে নিলো…….সাদাদও অন্য দিকে তাঁকিয়ে……..
“ওকে….আমিই বলছি…..আমি চাই নৌশিনকে আগে ডাক্তার দেখাও তারপর ওনি কি বলেন তারপর ডিসিশন নিবি……..আর পারলে একটু সময় নেওয়া বেটার হবে বলে মনে হচ্ছে আমার………….”
“ওকে আসছি আমি,আর নৌশিন আমি সরাসরি কথা বলতে পচ্ছন্দ করি তাই এসব ইজিলি বললাম….কিছু মনে করিস না…………”
“ন না ব ব বাবা…..কিছ কিছু মনে ক করবো কেন…….ঠিক আছে……..”
নৌশিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে গেলো রোম থেকে………….
সাদাদ নৌশিন একে অপরের মুখের দিকে অবাক হয়ে তাঁকিয়ে রয়েছে…………
সাদাদ হঠাৎ ই উচ্চস্বরে হাঁসা শুরু করলো………
নৌশিন ভ্রু কুঁচকে তাঁকিয়ে আছে…..সাদাদের হাঁসি যেন থামছে না-হাঁসতে হাঁসতে শুয়ে পড়েছে…….
নৌশিন আর নিতে পারছে না সাদাদের এমন রাঘব মার্কা হাঁসি তাই বাশিল হাতে নিয়ে মারতে শুরু করে…………….সাদাদ তবু থামছে না…………”থামো….”
“থামতে বলছি না……..”
সাদাদ হেঁসে যাচ্ছে নৌশিনের বালিশ দিয়ে মরার কারণে হাঁসির মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে,নৌশিন বালিশটা সাদাদের গায়ে ছুড়ে মেরে বিছানা থেকে উঠে আসতে নিলে সাদাদ টান দিয়ে নিজের বুকে নিয়ে আসে………………
হাঁসি থামিয়ে সাদাদ বলে,
“কোথায় যাচ্ছো???”প্রশ্ন করেই আবারও হাঁসি শুরু
“কিহ্ তুমি……থামো তো…”
“আচ্ছা বাবা….ওকে থামলাম….”
“বাবা কেমনে বললো…..আল্লহ্!আমি শেষ…..”
“আরে পাগলী শেষ হওয়ার কিছু নেই,বাবা এমনি……”
“যাও তো…….”
“লজ্জা পেয়ে লাব নেই-বাবা সরাসরি করেই বলে…..”
“আমার যা লজ্জা লাগছিলো…….”
“আমার তো হাঁসি পাচ্ছিলো খুব…….”
“তুমি না আসলেই নির্লজ্জ……..”
নৌশিনকে সাদাদ নিজের আরও কাছে চেপে ধরে,
“আমি তো সবসময় নির্লজ্জ,দেখাবো কতটা??”
চাহনি টা নৌশিনের চেনা, তাই সময় নষ্ট না করে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্ঠা চালানো শুরু করে………..
“পারবে না ছাড়াতে,কেন বৃথা চেষ্ঠা করো??”
“তোমার না মাথা ব্যাথা করছিলো???শেষ হয়ে গেলো?”
“অনেক আগেই……”
“মানে??”
“মানে,তুমি যখন রোমে আসলে তখন সব ব্যাথা শেষ…………”
“ধুর যা তা একদম……”
“হুম….খুব যা তা……”
“ছাড়ো তো…..”
“ছাড়বো,তবে শোনো না……”
“কি?”
“বাবা কি বললো শোনলে তো??”
“হুম…..”(মনটা খারাপ করে)
“দু ইয়ার যাক…….”
নৌশিন সাদাদের চোখে চোখ রেখে বলে,”বাট বাবা তো বললো…..ডাক্তার বললে….”
“তোমার কি মনে হয়?ডাক্তার এলাও করবে?”
নৌশিনের চোখ ছলছল করছে………সাদাদের চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নেয় সে…………
“জানি না…….”
“বাট আমি জানি,বিয়ের দু দিন আগেও তুমি লো প্রেসারের জন্য সেন্স লেন্স হয়ে গিয়েছিলে……….”
“গরম ছিলো খুব সে দিন…..”
“তুমি ঐ দিন সারাক্ষণ বাসার ভেতরে ছিলে আর বাসায় অল টাইম এসি ছিলো……..বাট তুমি সকালে শুধু চা,দুপুরে মায়ের হাতে জাস্ট দু নোলা ভাত আর বিকেলে অঙ্গান হয়ে………”
“ঐ দিন ই তো…….”
“চুপ…….মিথ্যা বললে না…..”
“আমার খেতে ভালো লাগে না তো আমি কি করবো?”
“খাবে…..আমি খাওয়াবো…….”
“তাহলে বেবিও নিবো…..”
“আচ্ছা!……ডাক্তার এটাই বলবে যদি খেতে পারো তবে পরে বেবি নিতে পারো….আই মিন তোমার বডি মোটামুটি চিকন তবে বেবি নিতে পারবে বাট তোমার খাওয়ার জন্যই ডাক্টর দু-তিন বছর ওয়েট করতে বলবে…..কজ সে সময়ে মেয়েরা এমনিতেই কম খেতে পারে-আর তুমি নরমালিই কম খাও………..”
“আমি বেশি বেশি খাবো……”
মুচকি হাঁসে সাদাদ,
“আগে খেয়ে একটু অভ্যাস করো……….”
“ক…..”
“চুপ কোনো কথা না……ডিনারের টাইম হয়ে গেছে………সো চলো…..”
সাদাদ নৌশিনকে নিয়ে একসাথে লাফ দিয়ে উঠে বসে………নৌশিন ব্যালেন্স রাখতে না পেরে সাদাদের উপর থেকে প্রায় বিছানা থেকে পড়ে যাচ্ছিলো-আর সাদাদ শক্ত করে জড়িয়ে নিলো………..নৌশিনও ঠিক থাকতে খামচে ধরে সাদাদকে……………
এই কান্ডিশনে সাদাদের মুখ নৌশিনের গলার খুব কাছে…….পড়ে যাওয়ার ভয়ে নৌশিন আগেই চোখ বন্ধ করে ফেলেছে…………
সাদাদের ঘোর লেগে গেছে নৌশিনের এমন লোক দেখে………..আস্তে আস্তে নিজের মুখটা নৌশিনের গলায় গুজে দিলো সাদাদ.
নৌশিনের সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে…..
সাদাদ গভীর ভাবে চুমু দিয়ে যাচ্ছে……….নৌশিন না পারছে ছাড়াতে,না পারছে নিজেকে ঠিক রাখতে………………….
সাদাদ নৌশিনের কমড়ে আরও শক্ত করে চেপে ধরে…………এবার নৌশিন সাদাদকে আগলে নিলো….
সাদাদ নৌশিনের গলায় জিহ্বা দিয়ে লিক করছে,নৌশিন সাদাদের চুল টেনে ধরেছে,সাদাদের হাত নৌশিনের জামার ভেতরের দিকে যাচ্ছে…..
“নতুন বউ…..নতুন বউ…….”
হুশ ফিরে নৌশিনের…..সাদাদকে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিলো………”
ওড়না জামা ঠিক করে দাঁড়িয়ে যেগেই অরূপ রোমে ডুকে……………
“দাদুন ডাকছে……চলো….”
“হ্যাঁ বাবু যাচ্ছি……”
“দু জনকেই ডাকছে…….ডিনাল কলতে…….”
“হ্যাঁ সোনা আসছি……..”
বলে সাদাদের দিকে তাঁকিয়ে দেখে-সে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে…..
“অরূপ বাবু,তুমি যাও….আমি আর তোমার কাকাই এক্ষণি আসছি……”
“ওকে…..তালাতালি এসো।”
“নিচে চলো…….”
চোখ বন্ধ করেই সাদাদ বলছে,
“খিদে নেই আমার…..”
“কি তুমি???রাগ করলে কেন??”
“রাগ করি নি….”
“প্লিজ সাদাদ,,,আমি এতো জোরে ধাক্কা দিতে চাই নি।।।।।”
“তুমি গিয়ে খেয়ে আসো…..”
নৌশিন সাদাদের পাশে গিয়ে ওর হাত টা ধরে,
“প্লিজ,সাদাদ এমন করো না…….দরজা খুলা ছিলো তাই এতটা…….”
“বললাম না খেয়ে নাও……..”
“তুমি না খেলে আমি খাবো না…….এমন কেন করছো তুমি???অরূপ বাচ্চা একটা ছেলে,সেভাবে যদি দেখে ফেলতো তাই……”
সাদাদ নিশ্চুপ…………
“সাদাদ,এই সাদাদ….প্লিজ……..চলো…….”
সাদাদ উঠলো না,নৌশিনের কান্না কি আর থাকে নাকি!
কান্না ই করে দিলো,
“আই প্রমিস আর কোনো দিন এভাবে ধাক্কা দিবো না………”
সাদাদ কণ্ঠ শুনেই বুজে গেলো নৌশিন কাঁদছে,
তাই চোখ খুলে নৌশিনকে জড়িয়ে ধরে,
“হায় রে,পাগলী আমি তো রাগ ই করি নি……তুমি ধাক্কা না দিয়ে কি করতে??ভাতিজার সামনে রোমান্স!আমি তো তোমার রাগী লোক টা দেখার জন্য একটু অভিয়ন করছিলাম…….”
নৌশিন সাদাদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আরও জোরে কান্না শুরু করে…..
“কাঁদছো কেন এভাবে??আমি সত্যিই মজা করছিলাম তোমার সাথে যেন তুমি আমার এমন বিনা কারণে রাগ দেখে রেগে যাও…….বাট কান্না?এটা না……”
নৌশিন সাদাদের বুক থেকে মাথা তুলে-সাদাদের দিকে তাঁকিয়ে আছে………
সাদাদ নৌশিনকের চাহনীতে হাঁসতে শুরু করে…………
“তুমি!!!!!!”বলেই নৌশিন ইচ্ছা মতো সাদাদকে খামচি দিতে থাকে….
“উহু….আস্তে…..রাক্ষসীদের মতো খালি খামচি…….আর কিছু দিতে পারে না…….”
“আমি রাক্ষসী তাই না?তাহলে তুমি রাক্ষস…..আরও দিবো খামচি,যত ইচ্ছা দিবো…..”
সাদাদ নৌশিন হাতদুটো আটকে নিয়ে-চোখ টিপ মেরে বলছে,
“ঐ সময়ে যে খামচি দেন আপনি,পুরো জ্বলে…..আর আমি যদি রাক্ষস হয় নি কামড়ে শেষ করে দিবো কিন্তু………”
নৌশিন সাদাদের হাতে আবারও খামচি দিচ্ছে,
“কি খারাপ তুমি!…….”
“প্লিজ এভাবে লজ্জা পেও না-তাহলে না আমার সত্যি সত্যিই কামড়ে ইচ্ছে করবে……”
“যাহ্………”
“এবার কিন্তু সত্যি ই কামড়ে দিবো……….”
“ইশশশ……..শখ কত,”
“খুব……”
“ধ্যাত,ক্ষুদা লাগছে………”
“আমারও বাট তোমার জন্য……..”
নৌশিন সাদাদের হাতে জোরে চিমটি দিয়ে বললো,
“আমার খাবারের……”
“ওফফফ,চিমটি কি রে বাবা,আমিও এর শোধ নিবো…….”
নৌশিন চেঁচিয়ে উঠলো,”চলো…..”
সাদাদ মুঁচকি হাঁসে….”হুম,চলো…..”
এই ছেলেটার মুচকি হাঁসিটাই নৌশিনকে ঘায়েল করার জন্য যথেষ্ঠ…………
খাবার টেবিলে,
“নতুন বউ………আমার পাশে বসো তুমি………”
“হুম বাবু,বসছি……”
নৌশিন অরূপের পাশে বসেছে আর নৌশিনের আরেক পাশে সাদাদ…..
সাদাদের পাশের চেয়ার টায় প্রাপ্তি…….এদের বাড়ির লোক বেশি হওয়ায় ডাইয়িং টেবিল টা বেশ বড়,
সবাই এক সাথে ডিনার করছে,শুধু প্রাপ্তির মা আর অরূপের আম্মু বাকী ওরা সার্ভ করে দিচ্ছে………….
অরূপ আর নৌশিন খাওয়ার চেয়ে হাঁসা-হাঁসি ই বেশি করছে………..
“এই তোরা খাবি?নাকি দুষ্টমি করবি?”(অরূপের আম্মু)
“আমি তো খেলাম একটু আগে…..”(অরূপ)
“হাফ এগ খেয়েছো,এখন পুরো খাবার টা শেষ করো…”
“পেট ভলে গেছে তো….”
“উম না…..দেখি হা করো,খাইয়ে দিচ্ছি…..এই তুই খাচ্ছিস না কেন??”
“আসলে না ভাবী,আমারও পেট ভরে গেছে…..”(নৌশিন)
“একটা থাপ্পর দিলে না আবার পেট খালি হয়ে যাবে……চুপচাপ খাও……”
“খাও নতুন বউ,আমিও তো খাচ্ছি…….”
অরূপ মায়ের হাতে খাচ্ছে,
আর নৌশিন এক লোকমা খাচ্ছে তো বাকী খাবার হাত দিয়ে চটকাচ্ছে বাচ্চাদের মতো…….
“আম্মু আল খাবো না….”
“আচ্ছা বাবু,পানি টা খাও….”
“এখন যাও……শুয়ে পড়বে কেমন?”
“আমি আজকে নতুন বউয়েল কাছে ঘুমাবো…..”
“না সোনা,তোমাকে ছাড়া ঘুম হবে না আমার……….”
“না না না,আব্বু আছে না?আব্বু তো থাকবে…..আমি আজকে নতুন বউয়েল পাশে শুবো…….”
“না বাবু……।”
“থাক না ভাবী,আজকে অরূপ আমার সাথেই থাকবে…….”
সাদাদ নৌশিনকে ইশারা করতে চেয়েও করে নি,সবার সামনে ইশারা করা টা একটু বেমানান,
“আচ্ছা যাও……উপরে যাও……”(সাদাদ)
“আর এই যে,আপনি এভাবে ভাত কি করছেন??”(সাদাদ)
“কি রে,বাচ্চাদের মতো কি করছিস তুই?”(অরূপের আম্মু)
“আর খেতে পারছি না……”
সাদাদ ধমক দিয়ে বললো,
“রাখো প্লেট…….ফল খাবে এখন”
“রাতে ফল???”
“হুম,খাবে…….”
“এই নে,……”
ভাবী নৌশিনের দিকে ফলের প্লেট এগিয় দিলে নৌশিন জোর করে এক পিস আপেল খেয়ে নিলো………..
“আমি আর খাবো না…..”
সাদাদ চোখ গরম করে তাঁকিয়ে আছে,
নৌশিন মাথা নিঁচু করে বসে…….
“থাক,বাদ দাও সাদাদ……”(প্রাপ্তির বাবা)
“বউ মা,যাও….বাট খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে,এভাবে খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে………”
“আচ্ছা কাকাই…………”
বলেই নৌশিন এক রকম দৌঁড়েই রোমে চলে গেলো……….
কিছুক্ষণ পর খাওয়া শেষ করে যে যার রোমে চলে যায়।
সাদাদ রোমে গিয়ে দেখে-অরূপ আর নৌশিন একটা পিকচার বুক নিয়ে খেলছে,
“কি হচ্ছে??”
“কাকাই বসো….আসো খেলি….”
“কি খেলা এটা?”
“এই যে দেখো একটা কলে পেজ উল্টাবো তুমি গেস কলে বলবে কয়টা পাখি…..”
“আচ্ছা!”
“হুম,খুব মজার খেলা…..”(নৌশিন)
সাদাদ নৌশিনের দিকে তাঁকিয়ে বললো,
“অরূপের জন্য……..”
“তাতে কি,খেলা যেমন ই হোক,খেলতে তো সবাই পারে……..”
“হেয়য়য়য়…….”
“কাকাই তুমি নতুন বউকে বকো কেন?”
“তোর কাকাই খুব পঁচা রে অরূপ……..”
“দুজন কেই না……”
“কি কাকাই??”
“ঘুমা বেটা…….”
“অরূপ বাবু,চলো ঘুমাই আমরা…..”
“ওকে………”
সাদাদ অরূপকে ঠিক করে শুয়িলে দিলে,অরূপ আবার উঠে বসে,
“কি হলো বাবু?”(নৌশিন)
“আমি মাঝখানে শুবো না?”
“কেন??”(সাদাদ)
“আমাল গলম কলে…..”
“আচ্ছা!তোর আব্বু আম্মুর মাঝে ঘুমাস না?”
“না তো….আম্মু বলে….পলে যাবো কিন্তু আমি তো আম্মুকে জলিয়ে ধলে ঘুমাই তাই পলি না……”
“বাবু,এই বেড টা ছোট….তুমি মাঝখানে ঘুমাও……”
“না….আমার ভাল লাগে না…..”
“অরূপ পড়ে যাবি তো তুই…..”
“পলবো না,আমি চুপটি করে নতুন বউকে ধলে ঘুমাবো…….”
…..নৌশিন সাদাদের দিকে জিঙ্গাসু দৃষ্টিতে তাঁকায়…….
প্রতিত্তুরে সাদাদ বললো,
“আচ্ছা,ঠিক আছে ওকেই সাইডে রাখো……..”
“আর মাঝখানে???”
“আমিই শুই….কি আর করার…….”
“না না না….নতুন বউ শুবে….”
“এই তোর গরম করে আমার বুঝি করে না?”
“কাকাই এসি চালাও….তাহলে আল গরম কলবে না নতুন বউয়েল…….”
“আল্লাহ্…..তোরা দুটো…..”
অরূপ আর নৌশিন খিলখিলিয়ে হেঁসে ওঠে,
“এই ঘুমাও দুজন……”
“কাকাই লাইট নিভাও……”
“না…..”
“কেন নতুন বউ??”
“অরূপ তোমার কাকি মণি লাইট অফ করলে ভয় পাবে……”
“নতুন বউ বল মানুষ হলেও ভয় পায়?হি হি হি হি……….”
“এই ছেলে হাসবি না একদম,একদম হয়েছিস তোর কাকাইয়ের মতো……..”
“হি হি হি হি নতুন বউ ভীতু……..নতুন বউ ভীতু………”
“মার খাবি কিন্তু এবার…..”(নৌশিন)
“তুমিও মালবে..?আমি থাকবো না তুমাল সাথে…..”
বলেই অরূপ খাট থেকে উঠে যেতে চায়………
“এই না না,বাবু আমি তো মজা করছিলাম,আমি তোমায় কখনও মেরেছি নাকি??আই লাভ ইউ না সোনা??উমমমম্মা।।।।”
নৌশিনের আদর পেয়ে অরূপ গেলে গেলো………
“আমাকে আদল করো আলও….”
“ওকে সোনা…..”
নৌশিন অরূপকে নিজের কোলে আগে উঠিয়ে রেখেছিলো…..অরূপ আরও আদর চাওয়ায় নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো-চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে সারা মুখে চুমু দিচ্ছে,পেটে সুরসুরি দিচ্ছে আর অরূপ খিলখিলিয়ে হেঁসে বারবার নৌশিনের গলা জড়িয়ে ধরছে………….
সাদাদ দুজনের কান্ড দেখে মুচকি হেঁসে চলেছে……………
“বাবু,এবার তো ঘুমাতে হবে……না হলে তোমার আম্মু এসে পিটাবে আমাদের….বুজলে?”
“আচ্ছা এখন ঘুমাবো…..”
“ওকে………”
“আরও খেলো…..শেষ দুজনের খেলা??”
নৌশিন মুচকি হেঁসে সাদাদের দিকে তাঁকায়-সাদাদও আর কিছু না বলে মুচকি হেঁসে নিজের জায়গায় শুয়ে পড়লো।
নৌশিন উঠে দরজা লক করতে যাবে তখনি অরূপের মা আসে রোমে,
“ভাবী??”
“হ্যাঁ…..অরূপ ঘুমিয়েছে??”
“না,এখন ঘুমাবে আর কি…..”
তিনি অরূপের কাছে গিয়ে অরূপকে অনেক জোড়াজোড়ি করলেও কোনো লাভ হয় নি….অরূপ নিজে তো যেতে রাজি ই না তার উপর নৌশিনও ছাড়তে চাইছে না……….তাই ব্যর্থ হয়ে অরূপের মা নিজের রোমে ফিরে যায়……………
নৌশিন দরজা লাগিয়ে ড্রিম লাইট অন করে তারপর লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ে,নৌশিন আসার পর থেকে বারান্দায় আলো টা রাতে সবসময় জ্বালনো থাকে-আজও তাই হলো……………………
নৌশিন মাঝখানে শুতেই সাদাদ নৌশিনের পেটের উপর হাত রাখে আর অরূপ গলা জড়িয়ে ধরে,
“নতুন বউ একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দাও……আম্মু দেয়…… ”
“আচ্ছা সোনা দিচ্ছি……..”
নৌশিন অরূপের চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে আর অরূপ ওর গায়ের সাথে একদম লেগে থেকে শক্ত করে গলায় জড়িয়ে ধরে রেখেছে……….আর অপরদিকে সাদাদ নিজের পা দিয়ে নৌশিনের পা ঘর্ষণ করে চেলেছে-যদিও নৌশিন বারবার পা সরিয়ে দিচ্ছে তবুও সাদাদ বারবার একই কাজ করে চলেছে………সাদাদ একটু মাথা তুলে দেখলো,অরূপের চোখ লেগে এসেছে তাই এবার শুধু পায়ে ঘর্ষণ ই না-পা দিয়ে নৌশিনের সালোয়ারের হুক টাও খুলে দিলো….আস্তে আস্তে পায়ের উপরের দিকে সুরসুরি দিয়ে সালোয়ার টা উপরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে……
নৌশিন সাদাদের দিকে মুখ টা একটু ঘুরিয়ে নিয়ে চাপা সরে বললো,
“কি হয়েছে.??এমন করছো কেন??”
সাদাদ নৌশিনের পা দুটো নিজের পায়ের সাথে পেঁচিয়ে নিয়ে বলে,
“এখনও হয় নি তবে দু-তিন বছর হবে……তার ই চেষ্ঠা চলছে…….”
নৌশিন কিছুটা লজ্জা পেয়ে যায়…..”তুমি না……” বলেই আবার অরূপের দিকে মুখ করে শুয়ে পড়লো…………..
“ঘুমায় নি এখনও???”
“হুম ঘুমাচ্ছে……”
“ওকে ই ঘুম পাড়াবে-আমাকে পড়াবে না??”
নৌশিন আড় চোখে সাদাদের দিকে তাঁকায়,
“কিহ?তুমি কি বাচ্চা নাকি???”
“হুম বাচ্চা…….”
“আহারে……..”
“আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও না…… প্লিজ….”
সাদাদ কথাটা শেষ করে নৌশিনের পেটে রাখা হাত টা আরও একটু চেপে ধরতেই অরূপ ঘুমের ঘোরে সাদাদের হাত টা সরিয়ে দেয়………….
নৌশিন অরূপের কান্ড হেঁসে উঠে…..সাদাদ মাথা তুলে দেখে,অরূপ নৌশিনের গালের সাথে নিজের গাল ঘেসে নিয়ে নৌশিনকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পড়েছে………………….
“হুস শালার পো…….”
নৌশিন সাদাদকে আস্তে করে কুনোয় মেরে বলে,
“এই কি বললে তুমি??”
“কিছু না……..”
“কিছু না তাই না???সবসময় বেশি বেশি…….কি বললে একটা বাচ্চাকে?এটা ঠিক না…..”
“আচ্ছা….আচ্ছা সরি…..ও তো নিজে কিভাবে জড়িয়ে ধরে আছে দেখো….আর আমি হাত টা একটু দিলাম কেমন করে সরিয়ে নিলো………..”
হাঁসির সরে নৌশিন বলে উঠলো,
“জেলাস হইয়ো না জান-তবে একটা জিনিস কি জানো ও না অনেক টাই তোমার মতো….আমি তো ভাইয়া বা ভাবীর চেয়ে তেমার সাথে ওর বেশি মিল খুঁজে পাই…….”
“হয়েছে…..এখন আমার দিকে একটু ফেরা যাবে??”
“কি রে ফিরবো?কেমন করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে দেখছো??”
“ধ্যাত…….আজাইরা…..ওকে রাখার কি দরকার ছিলো-ওর আম্মুর কাছে ঘুমালে কি হতো?”
“সাদাদ একটা বাচ্চা ছেলে ও…..রোজ তো থাকতে চাইবে না……”
“হুমমমম……নিজে তো বলবাই বুক টা খালি তো আমার…….”
নৌশিন মুচকি হেঁসে বলে,
“আচ্ছা,বেশ তুমি এদিকে এসো….আরও কাছে এসে ঘুমাও,আর আমি তোমার বুকে মাথা টা ছুঁইয়ে রাখছি,তাহলে আগের চেয়ে বেটার ফিল হবে”………………………………….
“আওওওওওও,উঠো উঠো…..”
সাদাদ লাফিয়ে উঠে,”কি হলো??”
“ও মা,চুলে শুয়ে পরেছিলে…..”
“ও মাই লাক রে……”
সাদাদ নৌশিনের বেণুনী টা বালিশের উপর পাশে রেখে নৌশিনের ঘাড়ে মুখ গুজে শুয়ে পড়লো,সাদাদ ঘাড়ে কিস করা মাত্রই নৌশিনের সারা শরীর শিহরিত হয়ে উঠে…….
“এই কি করছো……”
“উমমমমমম……”
“প্লিজ…..এমন করো না…..”
“উহুম……”বলেই সাদাদ ঘাড়ে অসংখ্য চুমু খেতে শুরু করে….
নৌশিনের সারা শরীর কেমন একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠে………..
“কি শুরু করেছো তুমি?”
সাদাদ নৌশিনের উপর হাত তুলে দিয়ে বলে,”আদর করবো না একটু?”
“নিজে তো বললে নিজের বুক নাকি খালি……তাহলে এগুলো কি?”
“হুম খালিই তো……তবু একটু আদর না করলে আরও ফাঁকা লাগবে যে……..আজ তো তুমি আর আদর করবে না আমাকে,শেষ-মেশ ভাই পো টা আমার রোমান্স নষ্ট করলো….”
“ধুর তুমি না……..”
“কি আমি?”
“কিছু না……ঘুমাও তো…..আমারও ঘুম পাচ্ছে…..”
“আরে ঘুমাবো তো……একটা কিছু তো দাও…..”
“পারবো না…..ঘুমাও”
“আরে দে না একটা…….”
“ঘুমাও তো…….”
“ওকে দিবে না তো??ঠিক আছে…….” সাদাদ নৌশিনের ঘারে নিজের মুখ ঘসতে শুরু করে…….ওর খোঁচা খোঁচা দাঁড়িগুলো খুব জোরে আছড় কাটছে নৌশিনের কমল ঘাড়ে,
“উহুহু…….”বলেই নৌশিন এক রকম লাফিয়ে উঠে……..
অরূপ খুব শক্ত করে জড়িয়ে রাখায়-সে ও নড়ে উঠে………
তাই নৌশিন আর নাড়াচাড়া না করে আস্তে করে অরূপকে সরিয়ে ঠিক করে শুইয়ে দিলো……সাদাদের দিকে ফিরে -ভ্রু কুঁচকে জানতে চায় ‘কি হেয়েছে তোমার?”
“না দিলে এমন টাই হবে…..”
“আর একটু হলেই অরূপ উঠে যেতো……”
“যাক ভালো ই হয়েছে……ছাড়াতে তো পেরেছো…..এখন আমাকে একটু দেখো……….
নৌশিনের মাথায় দুষ্টুমী ঘুরপাক খায়……
“কি দেখবো তোমায়??অনেক বছর ধরেই তো দেখছি….”
সাদাদ রেগে গিয়ে বলে,
“কি??আমি তোমাকে সে দেখার কথা বলেছি???”
“তো???”
“তো মানে??বুজতে পারছো না তুমি??”
“কি বুজবো?দেখা তো দেখাই হয়…..আর কি?”
“আচ্ছা!!”
সাদাদ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে নৌশিনকে জড়িয়ে ধরে,ঠোঁটে ঠোঁ ডুবিয়ে দেয়….
আচমকা হওয়ায় নৌশিন প্রথমে ছাড়ানোর চেষ্ঠা করলেও পরে নিজেও তাল মিলিয়ে নেয়………………
প্রায় চার-পাঁচ মিনিট পর দুজনেই স্বাভাবিক হয়….
দুজনেই হাঁপিয়ে উঠেছে…
সাদাদ ভ্রু কুঁচকে বলছে,
“কি খুব তো না করলে?তাহলে কি হলো?”
নৌশিন কিছুটা লজ্জা পেয়ে গেলো….সাদাদের বুকে ঘুসি দিয়ে”ধ্যাত….”তারপর সাদাদের বুকেই মুখ গুজে নিলো…….
“হা হা হা……”
নৌশিন সাদাদের পেছনে খামচি দিতে শুরু করে…..
“এই খামচি দিলে কিন্তু আমিও কামড়াতে শুরু করবো…….”
নৌশিন আর খামচি দিলো না-সাদাদের বুকে আলতো করে একটা কিস করে……..
সাদাদও নৌশিনকে আরও একটু আগলে নিলো……..
মিনিট দশেক পরে সাদাদের চোখ টা জাস্ট লেগে এসেছে,
অরূপ ঘুমের ঘোরেই আম্মু আম্মু বলে ডাকছে……নৌশিন সাদাদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অরূপকে দিকে ফিরে-অরূপ নৌশিনকে নিজের মা ভেবে জড়িয়ে ধরে,
নৌশিন অরূপের কপালে চুমু দিয়ো আরও শক্ত করে আলগে নিলো…………
সাদাদ মাথা টা হালকা উচুঁ করে অরূপ আর নৌশিনকে দেখে মুঁচকি হেঁসে-নৌশিনকে হালকা করে জড়িয়ে নিয়ে মুর্হুতেই ঘুমের দেশে চলে যায়………!!!
প্রেমঘোর পর্ব ৩১+৩২
স্বভাববসত প্রতিদিনের মতো মাজরাতে নৌশিনের ঘুম টা ভেঙে যায়………….আর নৌশিন চোখ টা খুলেই আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করে!!!!!!!!!!!!
