Home অনুভবে তুমি অনুভবে তুমি পর্ব ৫২

অনুভবে তুমি পর্ব ৫২

অনুভবে তুমি পর্ব ৫২
লিজা মনি

রুয়ানা বাড়িতে এসে বিছানার উপর বসে থম থমে মুখ নিয়ে বসে আছে। ইউভি শাওয়ার নিয়ে কিছুক্ষন পর দরজা খুলে বের হয়। রুয়ানার দিকে এক পলক তাকিয়ে কপাল কুচকে বলে,,,,
“” কি হয়েছে এইভাবে জামাই হারা মানুষের মত বসে আছো কেনো?
রুয়ানা — আপনি আমাকে ওইখান থেকে ধমকিয়ে নিয়ে আসলেন কেনো?
ইউভি — হ্যা তোমাকে ওইখানে রাখি আর তোমার ভাঙ্গা টেপ রেকর্ড দিয়ে আমার ইজ্জত শেষ করো।
রুয়ানা অবাক হয়ে বলে,,,,

“” আমি আপনাকে কি বলেছি? আপনি বলেছেন আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন। এখন প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর একটা একটা করে দিন””
ইউভি টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বলে,,,,
“” সেই কথা ভুলে যাও নি এখন ও। ”
রুয়ানা — ভুলে যাব কেনো? উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত।
ইউভি — উত্তর জানার প্রয়োজন ও নেই। যাও ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রেস্ট নাও।
রুয়ানা জেদ ধরে বলে,,,, ,
“” মিথ্যুক বেডা মানুষ, শয়তান লোক আমাকে বলেছেন বলবেন এখন আর বলবেন না কেনো?
ইউভি রুয়ানার শব্দচায়ন শুনে হা করে তাকায়। বাচ্চা বউ রাগ ও করা যাবে না। রাগ দেখালে আবার কান্না করে দেয়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইউভি — তাই বলে এতগুলো গালি দিবে আমাকে? কষ্ট হচ্ছে না তোমার আমাকে যে এতগুলো কথা শুনালে হুম? কি জানতে চাও তুমি বাসর রাতে কি হয়? আর বাচ্চা হয় না কেনো তাইতো?
রুয়ানা — হুম।
ইউভি কিছু একটা ভেবে এরপর বলে,,,,
“”বাসর রাতে পরিচিত হয় কিন্তু তুমি তো আমার আগে থেকেই পরিচিত। তোমার সম্পর্কে সব কিছু জানা আমার আর কি জানব। বিড়াল মারার কথা সবাই মজা করে বলেঁছিলো। তোমাকে ছোট পেয়ে একটু মজা করেছে। তুমি বলো বিড়াল একটা প্রানী ওকে কেউ মারার কথা বলবে।
রুয়ানা — নাহ।

ইউভি — হুম। আর বাচ্চা সবার হয় না। প্রাপ্ত বয়স হতে হয়। সুমু, ইয়ানা অবনি তারা তো তোমার অনেক বড় তাই আল্লাহ ওদের দিয়েছে। কিন্তু তোমার যেদিন ওদের মত বয়স হবে সেদিন তোমার ও বেবি হবে। তখন চিন্তা করো না যদি চাও তাহলে আল্লাহ বছরে বছরে ও বেবি দিতে পারে।
ইউভি রুয়ানার দিকে ঠোঁট চেপে তাকিয়ে আছে।
রুয়ানা — তাহলে এই কথাগুলো আগে বললেই পারতেন। আমি জিজ্ঞাসা করলে ধমক দিতেন কেনো? এই যে কত সুন্দর সহজে বুঝিয়ে দিয়েছেন আগে বুঝালে কি হতো?
ইউভি — ওকে আমার ভুল হয়ে গিয়েছে তোমাকে না বলার জন্য। এখন বুঝিয়েছিতো।
ইউভি অনেক কষ্টে নিজের হাসি আটকিয়ে রেখেছে। বউ বাচ্চা হলে সব থেকে বড় উপকার হয় হাজবেন্ড যা বুঝাবে তাই মেনে নিবে।

ইউভি কখনো রুয়ানাকে কষ্ট দিতে চাই না। যেদিন রুয়ানা সব কিছু বুঝে তার কাছে সব কিছু সমর্পন করবে ওইদিন ইউভি নিজের বউকে আপন করে নিবে। এখন এমন কিছু হলে ভালোবাসা কম ভয় ডুকে যাবে তার বউটার মনে। আর মাত্র কয়েকটা বছর না হয় অপেক্ষা করা যাক। রুয়ানাকে নিজের করে পেয়েছি এই অনেক আর কি চাই। তবুও নিজের বিয়ে করা বউকে আপন করে পাওয়ার যে অধম্য ইচ্ছে জাগে সেটাকে ইউভি ভালোবাসা নামক শব্দ দিয়ে নিরাময় করে দেয়।

ইউভি — আজ আর অফিসে যাব না বই বের করো পড়া দেখিয়ে দিচ্ছি। রেস্ট পরে নিও।
রুয়ানা — এখন?
ইউভি — সমস্যা আছে? তোমার না ফিজিক্সে কি সমস্যা হয়েছে ওইটা বের করো বুঝিয়ে দিচ্ছি।
রুয়ানার কান্না করতে ইচ্ছে করছে। এক পুচকেটাকে রেখে এসেছে আর এখন নাকি ও পড়তে বসবে।অনিচ্ছা সত্তে ও রুয়ানা বই বের করে ইউভির সামনে বসে।
ইউভি —- দেখাও কোন জায়গায় সমস্যা?
রুয়ানা — পড়ে দেখালে হবে না? এখন ইচ্ছে করছে না।
ইউভি গম্ভির গলায় বলে,,,,
“” একদম ফাকিবাজি করবে না। কয়েকদিন পর পরিক্ষা শুরু এই খবর আছে তোমার?
রুয়ানা — হয়েছে আর ধমক দিতে হবে না দেখাচ্ছি।
এরপর বই বের করে ইউভির দিকে তাকিয়ে বলে,,,

“” এই যে ত্রুটিপূর্ন থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে যেই সূত্র ব্যবহৃত হয়েছে এইটা ভেঙ্গে বুঝিয়ে দিন।
ইউভি রুয়ানার দেখানো সূত্র অনুযায়ী ভেঙ্গে বুঝাতে থাকে। কিন্তু রুয়ানার কি আর এইদিকে মন আছে সে তো বার বার ইয়ানা বাবুর কথা ভাবছে।
ইউভি — এখন বুঝেছো?
ইউভির কথা শুনে রুয়ানা ঘাবরে যায়। ওতো কিছু শুনেইনি বুঝবে কিভাবে।
ইউভি রুয়ানার দিকে তাকিয়ে কপাল কুচকে বলে,,,
“” কি হলো বুঝতে পেরেছো এতক্ষন যে বুঝালাম?”
রুয়ানা ইউভির রাগ সম্পর্কে অবগত। পড়াশুনা নিয়ে সে খুব সিরিয়াস। আজ যদি এদিক সেদিক হয় তাহলে অর্ধেক রাত পর্যন্ত পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখবে নিজে ও বসে থাকবে।
রুয়ানা শুষ্ক ঢুক গিলে মেকি হাসি দিয়ে বলে,,,,

“” আই লাভ ইউ ”
ইউভির কিঞ্চিত কুচকে থাকা ভ্রুগুলা আর ও কুচকে যায়। এই মেয়ে তো এইসব বলার না। রুয়ানার চতুরতা ধরতে পেরে বলে,,,,
“” আমকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দুর্বল পয়েন্ট খুজে বের করছো। এত বুদ্ধি কোথায় থেকে আসলো শুনি?
রুয়ানা — আপনি তো আমার স্বামী তাহলে আই লাভ ইউ বলতে সমস্যা কোথায়?
ইউভি — এই যে স্বমী স্বামী করছো যেদিন সত্যি স্বামী হয়ে তোমার কাছে আসব তখন পালিয়ে যাবে নাতো?
রুয়ানা — তাহলে এখন কি মিথ্যে স্বামী আছেন নাকি?
রুয়ানার কথা শুনে ইউভি একটা বাকা হাসি দেয়। সময় হলে সব বুঝিয়ে দিবে।

পনেরো দিন চলে যায়।
ইয়ানাকে চার দিনের দিন হসপিটাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। মিসেস সেলিনা হোসেন ইয়ানাকে নিজের সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু ওনি ভালো করে জানেন আহান কোনোদিন যেতে দিবে না। তাই নিজের মনের কথা আর প্রকাশ করে নি। নাতির উছিলায় এই প্রথম উনি চৌধুরি ভিলাই অনেকদিন থেকেছেন। মেয়েদের বাচ্চা হওয়ার পর যত বড়বড় ডাক্তার বা আপনজন কাছে থাকুক না কেনো সবচেয়ে বেশি সস্তি পায় নিজের মায়ের কাছে। সেই হিসাবে সেলিনা হোসেন ইয়ানার অনুরুধে কয়েকদিন থেকেছেন। ইয়ানা এখন পুরোপুরু সুস্থ হাটাচলা করতে পারে ঠিক আগের মত। ইয়ানা বাবুকে খাওয়ানের জন্য নিজের কোলে নেয় । কিন্তু খাবার কিছুতেই মুখে তুলছে না। হঠাৎ করে কান্না শুরু করে। ছেলেটা একদম চুপচাপ কিন্তু যখন কান্না শুরু করে তখন ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত কান্না করতে থাকে। মাঝে মাঝে তো ইয়ানা ও ছেলের সাথে কান্না করে দেয়। আর আহান অসহায় হয়ে মা ছেলের কান্না থামায়। আর এখন তো আহান ও বাড়িতে নেই আর ও পরে আসবে। এই রাতে ছেলেটা এইভাবে কান্না শুরু করে দেয়। ইয়ানা বিছানা থেকে নেমে পুরো রুম পাইচারি করছে। ছেলের কান্না কিছুতেই বন্ধ করতে পারছে না। অনেক্ষন হতে চলল কিন্তু এই যে কান্না করে যাচ্ছে থামার নাম নেই। ছেলের কান্না দেখে ইয়ানা ও কান্না শুরু করে দেয়। একটু পর আহান রুমে প্রবেশ করে মা ছেলের এই বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে ছেলেকে কোলে নেয়। এরপর বাচ্চার কপালে চুমু খেয়ে বলে,,,,,

“” কি হয়েছে আমার ইয়াজ বাবার। কান্না করছো কেনো তুমি? সাথে মাম্মামকে ও নাচাচ্ছো।
( ইয়ানা আর আহানের ছেলের নাম তাদের প্রথম নামের প্রথম শব্দ মিল রেখে আইমিন ইয়াজ চৌধুরি রাখা হয়েছে।)
আহান ছেলেকে থামাতে থামাতে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বলে,,,,
“” তুমি এইভাবে কান্না করছো কেনো? এখন ওই থেমে যাবে।”
ইয়ানা আহানের দিকে কটমট চোখে তাকায়। আহান ইয়ানার তাকানো দেখে বলে,,,,
“” কি হলো এইভাবে তাকাচ্ছো কেনো? “”

ইয়ানা — সব আপনার দেষ। আপনার কারনে আমার ছেলেটা এমন হয়েছে। সমস্ত রাগ আপনার পেয়ে বসে আছে। আপনি রেগে গেলে যেমন এত সহজে শান্ত করতে পারি না আর ও কান্না শুরু করে দিলে থামাতে পারি না। আপনি রেগে গেলে যা খুশি বলা শুরু করেন আর আপনার ছেলে কান্না করে রাগের বশে। কথা তো আর বলতে পারে না। যদি কথা বলতে পারত তাহলে বলত আমার খাবার দেওয়া এত দেরী করছো কেনো, সব কিছু ভাঙ্গা শুরু করত। সব আপনার দোষ আপনার জন্য এমন হয়েছে। “”
আহান ইয়ানার কথা শুনে তব্দা লেগে আছে,,,
“” আরে বাবা আমি এখানে কি করলাম? ”
ইয়ানা — কেনো ওকি আমার মত হতে পারে নি। নয় মাস গর্ভে আমি ধারন করলাম, মরন ঝুঁকি নিয়ে দুনিয়ায় আনলাম আমি, বুকের দুধ খাইয়ে বড় করছি আর সে আপনার ফটোকপি হয়ে গেলো। দেখতে ও ঠিক আপনার মতো।

আহান — কেনো তুমি খুশি হও নি? তুমি নিজেই তো চাইতে দেখতে যাতে আমার মত হোক তাহলে?
ইয়ানা — হ্যা চাইতাম তো। কিন্তু যখন কান্না শুরু করে দেয় তখন মাথা ঠিক থাকে না।
আহান ইয়ানার সাথে কথা বলছে আর ইজইয়ানকে নিয়ে পাইচারি করছে। এক সময় ছেলেটা কান্না থামিয়ে বাবার দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে আছে।
আহান ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলে,,,,

” এই নাও তোমার ছেলের রাগ শেষ তাই কান্না থামিয়ে দিয়েছে। দেখো কিভাবে মায়ের ঝগরা দেখছে। এখন ওকে খাইয়ে দাও। কান্না করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।””
ইয়ানা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। একবার আহানের দিকে তাকায় আরেকবার ছেলের দিকে তাকায়।
ইয়ানা — আমি এই ছেলেকে একদম কোলে নিব না। আমাকে কান্না করিয়ে এখন বাবার কোলে গিয়ে সব কান্না শেষ। বাবা যেহেতু এত আপন নিজের বাবাকে বলো খাইয়ে দিতে। মাম্মাম তো কিছু না বজ্জাত ছেলে।
আহান ইয়ানার কথা শুনে কি বলবে বুঝতে পারছে না। কিন্তু প্রচন্ড হাসি পাচ্ছে। কিন্তু হাসলে আবার মেডাম সারারাত মুখ ফুলিয়ে বসে থাকবে।কিন্তু ইয়ানার বজ্জাত শব্দটা কানে যেতেই চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ইয়ানাকে হালকা ধমক দিয়ে বলে,,,,

“”এই শব্দচায়ন ঠিক করো । যদি আমার ছেলে এইসব অখাদ্য ভাষা শিখে তাহলে থাপরিয়ে অজ্ঞান করব বিয়াদপ।”
ইয়ানা আহানের ধমক খেয়ে চুপসে যায়। থম থমে মুখ নিয়ে ইজইয়ানকে আহানের কোল থেকে নিয়ে বিছানায় বসে পড়ে। এরপর ছেলের খাবার মুখে দিয়ে সূরা ওয়াকিয়াহ পাঠ করতে থাকে। কিন্তু মুখের থম থমে ভাব এখন ও রয়েছে।
আহান ইয়ানার দিকে কপাল কুচকে এক পলক তাকায়।
এরপর প্রতিদিনকার মতো ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে চলে যায়।
প্রায় অনেক্ষন পর ইয়ানা বাবুকে নিজের কোল থেকে রেখে বিছানায় মাঝখানে শুইয়ে দেয়। এরপর ছেলের পাশে নিজে ও শুইয়ে পড়ে।

আহান বিছানার কাছে এসে মাঝখানে ছেলেকে দেখে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বলে,,,,,,,
“” আজ ইয়াজকে এক পাশে রাখো তুমি মাঝখানে আসো”
ইয়ানা কোনো রেসপন্স না করে ইয়াজকে আর ও নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।
আহান ইয়ানার শব্দ না পেয়ে ধমক দিয়ে বলে,,,,
“” কথা কানে যাচ্ছে না। বাবু হওয়ার পর থেকে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারি না। দুই মিনিটির মধ্যে জায়গা বদল করো কুইক। “”
ইয়ানা এইবার আহানের দিকে তাকিয়ে দাতে দাত চেপে বলে,,,,
“” কে আমি? আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে হবে কেনো? ধমক দেওয়ার সময় তো এত কিছু মনে থাকে না। ”
আহান ইয়ানার কথা শুনে বাকা হাসি দেয়। এরপর ইয়নার সামনে এসে কোলে তোলে নেয়। ইয়ানা রক্তিম চোখে আহানের দিকে তাকিয়ে কিড়মিড়িয়ে বলে,,,,

” ছাড়ুন ”
আহান ঠোঁট চেপে হাসি দিয়ে বলে,,,,
“” ওহুম আজ তো আর ছারছিনা। সাড়ে নয় মাস আপনাকে কাছে পায় নি মেডাম আমার ছেলের জন্য। এখন আমার ছেলে দুনিয়াতে চলে এসেছে তার বাবা ও তার বউকে ভালোবাসার অধিকার ফিরে পেয়েছে। আপনি যদি আজ ছটফট করেন তাহলে হাত বেধে রাখব। আমার ছেলে ও ঘুমাচ্ছে ডিস্ট্রাব করবে না।
এরপর আহান ইয়াজের দিকে তাকিয়ে বলে,,,,
“” কিরে বাবা মায়ের ভালোবাসায় ব্যাঘত দিবি।””
আহান — এই দেখো আমার ছেলে ও না বোধক শব্দ পোষন করছে। ও একদম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।
আহানের কথা শুনে ইয়ানা ভড়কে যায়। ইয়ানা জানে আহান যা চাই তাই করে। ইয়ানার শত বাধা ও সে শুনে না। কিন্তু ইয়ানা তো ঠিক নেই।
ইয়ানা আহানের হাস্যজ্জল মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ইশারা করে। ইয়ানার ইশারা বুঝতে পেরে আহান জজ্ঞাসা করে,,,,

” কতদিন? ”
ইয়ানা ছোট করে উত্তর দেয়,,,,
“” চার দিন। ”
আহান ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বলে,,,,
“” তাহলে ঘুমিয়ে পড়। আজ আর জালাবো না। অন্য দিন নাহয় বাবা ছেলে এক সাথে জালিয়ে তোমার মাথা খাব।’
ইয়ানা আহানের কথা শুনে একটা লাজুক হাসি দেয়। আহান ও ইয়ানাকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে শুইয়ে পড়ে। ইয়ানা ও প্রশান্তি নিয়ে আহানের
বক্ষে মুখ লুকায়। এই বক্ষ ইয়ানার জন্য সবচেয়ে প্রশান্তির স্থান। এই মানুষটা ইয়ানার জীবনের এক অমুল্য রত্ন। যার প্রতি ভয়, রাগ, অভিমান, সব কাজ করে। নির্দিধায় এই বুকে মুখ লুকাতে পারে।

আহিয়া গভীর ঘুমে বুদ হয়ে আছে। হঠাৎ ফোনের শব্দ
কানে যেতেই বিরক্তি নিয়ে ফোন রিসিভ করে বলে,,,,
“” হ্যালো কে বলছেন? ”
ওইপাশ থেকে — তর যম বলছি ফাজিল।
ধমক খেয়ে আহিয়ার ঘুম পুরোপুরিভাবে ছুটে যায়। কারন সে এই ধমক দেওয়া ব্যক্তিটিকে চিনে। তাকে সে তার ছোট্ট হৃদয়ে জায়গা দিয়েছিলো কিন্তু ব্যক্তিটি তার অনুভুতিকে মোহের সাথে শামিল করেছে।
আহিয়া—- ফোন করেছেন কেনো একটা মেয়েকে এত রাতে মি, রুহান? আপনি তো আদর্শের গোডাউন এখন আপনার আদর্শ কোথায় গেলো?

রুহান — আচ্ছা আর যখন আমাকে এর চেয়ে গভীর রাতে ফোন করতে তখন। আগে এইটা বলো ছেলেটা কে?
আহিয়া — কোন ছেলে?
রুহান — কোন ছেলে এখন মনে পড়ছে না। ফেইসবুক স্টরি দিয়েছো যার সাথে ছবি তুলে সেই ছেলে।
রুহানের কথা শুনে আহিয়া একটা হাসি দিয়ে বলে,,,
“” আরে ওহহহ ওতো আমার বয়ফ্রেন্ড। ও আমাকে খুব ভালোবাসে আর আমি ও তাকে খুব ভালোবাসি।
আহিয়ার কথা কর্নপাত হতেই রুহান কেঁপে উঠে। হৃদয়টা হাহাকার করে উঠে।
রুহান —– তুমি না আমকে ভালোবাসতে?
আহিয়া — মেবি বেসেছিলাম। কিন্তু আপনি তো বললেন এইটা ভালোবাসা না মোহ। আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন তাহলে আমি কি বার বার আপনার কাছে যাব। আর ওর নাম ফারহান আমাকে খুব ভালোবাসে। যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে যাওয়া উত্তম ওইখানে নয় যেখান থেকে ভিক্ষুকের মত হাত পাতার পর ও খালি হাতে ফিরতে হয়।

রুহান তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে বলে,,,,,
যারা ভালোবাসে তারা ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে অন্য কারোর কাছে চলে যায় না। আমার কথায় তাহলে সত্যি ছিলো মোহে পড়েছিলে ভালোবাসা নামক অনুভুতিতে নয়।
আহিয়া নিশ্চুপ।
রুহান —- সুখে থাকো তোমার ভালোবাসার মানুষের সাথে। আল্লাহ হাফেজ।

অনুভবে তুমি পর্ব ৫১

রুহান ফোন কেটে দিয়ে সজোরে মোবাইলটাকে আছাড় মারে। এরপর নিজেকে শান্ত করার জন্য ছাদে চলে যায়।
রুহান ফোন কেটে দিলে আহিয়ার বুকটা ধুক করে উঠে।রুহান কে জেলাসি ফিল করানোর জন্য তার এক কলেজ ফ্রেন্ডের সাথে ছবিটি তুলেছিলো। রুহান জিজ্ঞাসা করাতে বলেছিলো ওর বয়ফ্রেন্ড। ওতো ভেবেছিলো রুহান নিজের অনুভতির কথা প্রকাশ করে বলবে,,,
“” না আহিয়া তুমি অন্য ছেলেকে ভালোবাসতে পারো না। তুমি আমাকে ভালোবাসো আর আমি তোমাকে।
কিন্তু এই ছেলেতো ভালোবাসার মানুষের সাথে সুখে থাকার দোয়া করে দিয়ে গেলো।

অনুভবে তুমি পর্ব ৫৩