অন্তঃদহন পর্ব ৩৩
DRM Shohag
নিয়াজ হেসে বলে,
– ভাগ্যিস বিয়ে করিনি। নয়তো তোমার মতো শাড়ি পরা লাগতো।
আকাশ চোখমুখ কোঁচকালো। কড়া ধমকে ডেকে ওঠে,
– নিয়াজ?
সন্ধ্যা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। আকাশ বুঝতে পেরে কল কেটে ফোন পকেটে রাখে। দু’হাতে পিছন থেকে সন্ধ্যার গলা আড়াআড়িভাবে জড়িয়ে নেয়। একটু ঝুঁকে সন্ধ্যার গালের সাথে গাল লাগিয়ে মৃদুস্বরে বলে,
– সৌম্য ছাড়া আর কাউকে ভাই ভাববে না। তোমার ভাই একটা। হাসবেন্ড-ও একটাই। তুমি ওই ছেলেকে নিয়ে ভাবলে আমি কিন্তু ওকে মে’রে ফেলব সন্ধ্যামালতী।
লাস্ট লাইনটা বলার সময় আকাশের কণ্ঠ দৃঢ় হয়ে আসে। সন্ধ্যা ঢোক গিলল। চোখ বুজে রেখেছে। আকাশ সন্ধ্যাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে দাঁড় করায়। দু’হাতে সন্ধ্যার মুখ আগলে নিয়ে নরম স্বরে বলে,
– অন্যকাউকে নিয়ে ভাববে না। অন্যকারো সাথে কোথাও যাবে না। মনে থাকবে সন্ধ্যামালতী? ছেলে রিলেটেড কিছুতে আমার মারাত্মক রা’গ হয় বউ। একটু বোঝো। দেখা হওয়ার পর থেকে দেখছি শুধু ছেলে নিয়ে ঘুরছ। এসব হ্যাবিট চেঞ্জ কর।
সন্ধ্যা ঝাপসা চোখে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। আকাশের দৃষ্টিতে অসহায়ত্ব। দু’হাতের বুড়ো আঙুলের সাহায্যে সন্ধ্যার দু’গালে আলতো হাতে স্লাইড করে। তার হাত তো অনেক শ’ক্ত। তার সন্ধ্যামালতী কত নরম! আর সে এই শ’ক্ত হাতে তার বউয়ের নরম গাল চেপে ধরেছিল ভাবতেই অসহায়ত্বের মাত্রা বাড়লো। সন্ধ্যার চোখে চোখ রেখে অনুতপ্ত স্বরে বলে,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
– স্যরি! রে’গে গিয়েছিলাম।
এটুকু বলে সন্ধ্যার ডান গালে দু’টো চুমু খায়। সন্ধ্যা ঢোক গিলল। তার দৃষ্টি পড়েছে তাদের চেয়ে কয়েক হাত দূরত্বে দাঁড়ানো রিহানের দিকে। রাস্তাজুড়ে আলোর ছড়াছড়ি। ফলস্বরূপ একটু-ও অসুবিধা হলো না। আকাশ সন্ধ্যার ডান গালে চুমু খেয়ে বাম গালে একটি চুমু খায়, আরেকটি চুমু খেতে নিলে সন্ধ্যা আকাশকে ঠেলে সরিয়ে দেয়, সাথে সে নিজেও এক পা পিছিয়ে যায়।
আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। সন্ধ্যার অস্বস্তি লাগছে। রিহানের সামনে আকাশের রা’গ টা হ’জম করতে পারলেও আকাশের এখনকার ব্যবহারটি তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। আকাশ সন্ধ্যার দিকে এগোতে নিলে পিছন থেকে নিয়াজ ডাক দেয়,
– আকাশ তোমার রোগী কই?
আকাশ পিছু ফিরলে নিয়াজকে দেখে চোখের ইশারায় বলে,
– ওই যে দাঁড়িয়ে আছে।
নিয়াজ একটু হেসে বলে,
– আর তোমার বউ? হসপিটাল থেকে দেখা না করেই চলে আসলে! দেখি দেখি তোমার বউকে!
আকাশ রে’গে তাকায়। ডান হাতের পাঞ্জাবির গোটানো হাতা আরেকটু উপরদিকে উঠিয়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,
– আমি বুঝেছি তোমার চু’ল’কা’নি হয়েছে। আর ঔষধ টা আমার হাতের শ’ক্ত মা’র।
নিয়াজ মেকি হাসলো। সে আকাশের পিছনে সন্ধ্যাকে দেখে আকাশকে জ্বালাতেই কথাটা বলেছিল। দু’হাতে শার্টের কলার একটু টেনে আকাশের একদম সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
– তুমি কি জানো, আমি তোমাকে এখন তোমার বউয়ের ব্যাপারে ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট একটি ইনফরমেশন দিব, যেটা তোমার জন্য খুবই ইম্পর্ট্যান্ট।
নিয়াজের কথাটা সিরিয়াস মনে হলো। আকাশ জানে নিয়াজ সন্ধ্যাকে বাঁচিয়েছিল। তাই নিয়াজের কথাটা ফেলল না। ভ্রু কুঁচকে বলে,
– কি ইনফরমেশন?
নিয়াজ মনে মনে হেসে বলে,
– জানো? তোমার বউ আমার পরনের শার্ট পরেছিল। শার্টটা আমি পরেছিলাম। তারপর তোমার বউ পরেছিল, ভাবো একবার!
কথাটা শুনতেই আকাশ রে’গে দু’হাতে নিয়াজের কলার ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে,
– তোমার-ও ওই বে’য়া’দ’ব টার মতো ম’রা’র শখ জেগেছে তাই না? মশকরা কর আমার সাথে?
নিয়াজ অসহায় কণ্ঠে বলে,
– সত্যি বলছি। বিশ্বাস না হলে, আমাকে ছাড়ো। আমি সন্ধ্যাকে জিজ্ঞেস করলেই ও সত্যি বলে দিবে। দেখাচ্ছি এসো।
কথাটা বলে নিয়াজ এগোতে নিলে আকাশ নিয়াজকে ধাক্কা মা’রে। রে’গে বলে,
– একদম আমার বউয়ের দিকে এগিয়েছ তো…..
– আমি তোমার উপকার করছি। সন্ধ্যাকে জিজ্ঞেস করি একটু।
আকাশ কটমট চোখে চেয়ে বলে,
– কোনো দরকার নেই। আমার মুখ আছে, আমার বউকে আমি জিজ্ঞেস করব। তুমি বিয়ে কর, নয়তো নজর ঠিক কর। আর নয়তো কা’ফ’নের কাপড় কিনে রাখো।
কথাগুলো বলে একবার রিহানের দিকে তাকায়। রিহানের দৃষ্টি সন্ধ্যার দিকে বুঝতেই তেড়ে যেতে গিয়েও থামলো। তার দয়ার সাগর সন্ধ্যামালতী, ভাই ভেবে এই ছেলর জন্য কাঁদে। তখন তার গায়ে আরও জ্বলুনি ধরে। অতঃপর দাঁত খিচিয়ে বিড়বিড় করে,
-সব ছেলে বে’য়া’দ’ব। সবগুলো আমার বউয়ের কাছে এসে ম’রে।
কথাটা বলে উল্টো ঘুরে সন্ধ্যার হাত ধরে সামনে বাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সন্ধ্যার কথাতেই বুঝেছে এই বাড়িতে সন্ধ্যারা ভাড়া থাকতো। ড্রেস নিতে এনেছে যে।
নিয়াজ হাসলো। আকাশকে জ্বা’লা’তে খারাপ লাগেনা। যদিও তাদের সম্পর্কটা ভালো নয়। সবাই তো বলে তারা শ’ত্রু।
সে নিজেও আকাশকে প্রচুর হিংসা করে। কিন্তু কোথায় যেন তাদের মাঝে বন্ধুত্ব লুকিয়ে আছে। বিপদে সে যেমন না চাইতেই আকাশের পাশে চলে আসে। আকাশ-ও সেইম। সে মনে মনে স্বীকার করলেও উপর থেকে করেনা। কিন্তু আকাশ হয়ত মনে মনেও স্বীকার করেনা।
নিয়াজ এগিয়ে এসে রিহানের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। ভ্রু কুঁচকে বলে,
– আরে তুমি? সৌম্য’র ভাই ওরফে বন্ধু না তুমি? কি যেন নাম?
রিহানের মাথা নিচু। চোখের কোণে নোনাপানি। ছোট করে বলে,
– রিহান।
নিয়াজ মনে পড়ার ভঙ্গিতে বলে,
– ওহ হ্যাঁ, মনে পড়েছে। আকাশের সাথে তোমার কি হলো? শ’ত্রু হয়ে গেলে যে? আর তোমার ডান চোখ এতো লাল কেন? তুমি না-কি পেসেন্ট? বুঝতে পারছি না ঠিক।
রিহান মৃদুস্বরে বলে,
– সিগারেট এর ছাই চোখের ভেতর গিয়েছিল তাই। তেমন কিছু না।
নিয়াজ রিহানের হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে তার গাড়ির কাছে দাঁড়ায়। গাড়ির ভেতর থেকে পানির বোতল নিয়ে রিহানের দিকে বাড়িয়ে দিলে রিহান ছোট করে ধন্যবাদ দিয়ে চোখে পানি দেয়। এরপর নিয়াজের হাতে পানির বোতল ধরিয়ে দেয়। নিয়াজ ভ্রু কুঁচকে বলে,
– আকাশ তোমার ট্রিটমেন্ট করাতে বলল কেন? তোমাকে তো সুস্থ লাগছে।
রিহান মলিন গলায় বলে,
– বউয়ের আবদার ফেলেনা তাই হয়ত।
নিয়াজ মাথা নাড়লো। অতঃপর বলে,
– আমার মনে হচ্ছে, তুমি সন্ধ্যার আশেপাশে ছিলে, তাই আকাশ রে’গে কিছু করেছে তাইনা? সন্ধ্যার ব্যাপারে ও একটু সিরিয়াস। কিছু মনে কর না।
রিহান কিছু বললো না। একটু ভেবে জিজ্ঞেস করে,
– আকাশ ভাইয়ার কবে বিয়ে হয়েছে? আপনি কি কিছু জানেন?
নিয়াজ অবাক হলো। রিহান সৌম্য’র এতো ভালো বন্ধু, অথচ আকাশের বউ সন্ধ্যা, এটা রিহান জানেনা। নিজেকে সামলে বলে,
– ওদের বিয়ের প্রায় একবছর হতে চলল। মাঝখানে সন্ধ্যা হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর এতোমাস পর আবার সন্ধ্যাকে খুঁজে পেয়েছে।
কথাটা শুনে রিহান বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। ঢোক গিলে আওড়ায়,
– এক বছর?
এখানে আর দাঁড়ালো না। সাথে সাথে উল্টো ঘুরল। নিয়াজ ডাকলে রিহান কোনোরকমে বলে,
– ভাইয়া আমার কাজ আছে।
সামনে যত এগোয় দৃষ্টি তত ঝাপসা হয়। পকেট থেকে ফোন বের করে সৌম্য’র নাম্বারে মেসেজ করে,
– সন্ধ্যা বিবাহিত। কথাটা আমাকে তোর জানানো উচিৎ ছিল সৌম্য।
এরপর আরেকটি মেসেজ পাঠায়,
– আমি যে তোর আর সন্ধ্যার শুধুমাত্র নামে আপন। আজ বুঝলাম।
সৌম্য বিছানার কোণায় বসে আছে। ইরা ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের বিয়েটা হয়েছে বিকালে। এখন সময়টা সন্ধ্যার পর পর। যার দরুন সবাই সবার মতোই আছে। ইরা গিয়েছে তার মায়ের কাছে শাড়ি পরতে। এই মেয়ের পোষাকের যা ছিড়ি,, এর জন্য সৌম্য হতাশ! নিষেধ করল শাড়ি পরতে। কিন্তু সে জেদ করেই মায়ের কাছে গেল। শাড়ি পরবেই সে।
সৌম্য বিছানা থেকে উঠে টেবিলের উপর থেকে ফোন নেয়। রিহানের কাছে ফোন দিত। তার বোনু কোথায়, এজন্য। নোটিফিকেশনে রিহানের মেসেজ দু’টো পড়ে অবাক হয়। রিহান সন্ধ্যার বিয়ের কথা কিভাবে জানলো? সে তো বলেনি। জানলে প্রবলেম নেই। কিন্তু কিভাবে জানলো, এতেই একটু অবাক হয়েছে। সৌম্য রিহানের নাম্বারে কল করলে কিছুক্ষণ পর কল রিসিভ হয়। সৌম্য বলে,
– বোনু কোথায় রিহান? কখন রেখে যাবি এই বাড়ি?
রিহান রাস্তার ধারে বসে আছে। এতোটা খারাপ কখনো লাগেনি। সৌম্য’র কথার উত্তর দিতে পারছেনা। গলা বেঁধে আসছে। সময় নিয়ে নিজেকে সামলে বলে,
– তোর বোনু তার স্বামীর কাছে আছে। ওর স্বামী থাকতে আমাকে কেন সন্ধ্যাকে আনতে বললি?
সৌম্য বুঝল আকাশের সাথে তার বোনু আছে। কিন্তু রিহানের কথা শুনে অবাক হয়ে বলে,
– এভাবে বলছিস কেন রিহান? তুই তো সন্ধ্যার আরেকটা ভাই।
রিহান হঠাৎ চেঁচিয়ে বলে,
– ভাই নই আমি সন্ধ্যার। আমি কবে বলেছি, আমার বোন লাগবে? সন্ধ্যাকে বোন রূপে কেন চাপাচ্ছিস আমার উপর?
সৌম্য হতবাক হয়ে যায়। রিহানের এমন ব্যবহার আশা করেনি। সে এই শহরে চাকরি পাওয়ার পর এসেছে। তখন থেকে তারা তিনজন এক ফ্যামিলির মতো থেকেছে। সন্ধ্যার প্রায় কাজেই সে নিশ্চিন্তে রিহানকে পাঠিয়েছে। কি বলবে বুঝতে পারছেনা।
আকাশের মুখে থু’তু দেয়ার কথাটা মনে পড়ল সৌম্যর। তার বোন রে’গে গেলে একটু-আধটু পা’গ’লা’মি করে। ভাবলো সন্ধ্যা কি রিহানের সাথেও তেমন কোনো বে’য়া’দ’বি করেছে? মৃদুস্বরে বলে,
– বোনু কি তোর সাথে বে’য়া’দ’বি করেছে রিহান? কিছু মনে করিস না। ও আসলে আমি ওকে শা’স’ন করব।
রিহান বিরক্তি কণ্ঠে বলে,
– বে’য়া’দ’বি করেনি।
সৌম্য ভ্রু কুঁচকে বলে,
– তাহলে এমন করছিস কেন?
রিহান ধরা গলায় বলে,
– কিছু না। তোর ইরাবতীকে পেয়েছিস। এবার সুখে সংসার কর। ভালো থাক। মানুষের কথা ভাববি কেন? স্বা’র্থ’প’র একটা। শুধু নিজের কথা ভাবলি।
বলেই কল কেটে দেয়। সৌম্য অবাক হয়। কি হয়েছে রিহানের? সন্ধ্যাকে নিয়ে তো কখনো এভাবে কথা বলেনা। সৌম্য রিহানের নাম্বারে কল ব্যাক করলে নাম্বার বন্ধ দেখায়। সৌম্য’র দৃষ্টিতে অসহায়ত্ব। রিহান কখনো তার সাথে এভাবে কথা বলেনা। আবার তাকে স্বা’র্থ’পর-ও বলল। সে কি করেছে, বুঝতেই তো পারছেনা। খারাপ লাগছে।
দরজা ঠেলে ইরাকে দেখে সৌম্য বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। মন ঘুরে ইরার দিকে আসে। ইরা দ্রুতপায়ে এগিয়ে এসে সৌম্য’র সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
– শোন। আমি ভালো করে বলে দিই। এসব শাড়ি-টাড়ি আমার দ্বারা পরা সম্ভব না। আমার পোষাক আমি পরেছি। এখন আমার শান্তি লাগছে।
সৌম্য ইরার পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ ঘোরায়। ইরার পরনে ল্যাডিস জিন্স প্যান্ট। উপরে একটা টি-শার্ট। গলায় সাথে একটি স্কার্ফ। ভ্রু কুঁচকে বলে,
– এসব কোথায় পেয়েছিস?
ইরা মৃদু হেসে বলে,
– মায়ের কাছে আমার অনেক কাপড় আছে।
সৌম্য রে’গে বলে,
– থা’প্প’ড় খাবি। খোল এগুলো। এসব কি ধরনের পোষাক?
ইরা সৌম্য’র ধমক খেয়ে ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। বা হাত কোমরে রেখে ডান বুকে রেখে বলে,
– আমি তো আগে এসব-ই পরতাম।
সৌম্য কটমট চোখে চেয়ে বলে,
– আগে পরতি। এখন পরা যাবে না। হাফ ছেলে হাফ মেয়ে হয়ে আমার সামনে এসেছিস তো, কানের পর্দা ফাটাবো বলে দিলাম।
ইরা ঢোক গিলল। সে রিহানের কাছে একবার শুনেছিল সৌম্য এসব অতটা পছন্দ করেনা। সে তো থ্রি-পিস পরেছিল দু’দিন। আজকেও পরেছিল। কিন্তু ওগুলো পরে থাকতে পারছেনা। কেমন দম আটকে আসে। এখন কি করবে? মিনমিন করে বলে,
– আমি ওসব পরে থাকতে পারিনা।
সৌম্য বিরক্ত হয়। এর বাবা, মা একে কি যে বানিয়েছ। শুধু কথা, আর হাঁটা টুকুই মেয়েদের মতো। বাকিসব ছেলে। তার আর এর মধ্যে তফাৎ আছে? স্বামী বউ দু’টোই শার্ট, প্যান্ট পরে আছে। চরম বিরক্ত লাগে সৌম্য’র এসব। অতঃপর বলে,
– মেয়ে মানুষের কাপড় পরতে পারলে পরবি। নয়তো কাপড় পরার দরকার নেই।
কথাটা বলে ইরার গলা থেকে স্কার্ফ নিয়ে টান মে’রে সরিয়ে দিতে নেয়, কিন্তু ইরার গেঞ্জির গলা বড় থাকায় সৌম্য’র হাত ইরার গেঞ্জির ভিতর চলে যায়। দু’জনেই হতভম্ব হয়ে যায়। দু’জনেই দু’জনের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকায়। সৌম্য দ্রুত হাত সরিয়ে নেয়। আমতা আমতা করে বলে,
– আমি বুঝতে পারিনি।
ইরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছে। মাত্র কারেন্ট শক খেয়ে জমে গিয়েছে মনে হচ্ছে। সৌম্য ছোট করে বলে,
– জামা পরে আয়। এসব দেখলে আমার রা’গ উঠে যায়।
এরপর উল্টো ঘুরে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। ইরা আড়চোখে চেয়ে দেখল। হঠাৎ এরকম একটা সিচুয়েশনে দু’জনেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে।
সন্ধ্যা আকাশকে নিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে এসেছে। আকাশ নিজেই ভেতরে এসে ভেতরের লাইট জ্বালিয়ে দিয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ভেতরে এসে আকাশকে ইশারায় সোফায় বসতে বলে। আকাশ বাড়িটি দেখল। একেবারে খারাপ না। কিন্তু তার কাছে ছোটোখাটো এক সাধারণ বাড়ি মনে হলো।
সন্ধ্যা ভাবলো, আকাশকে অন্তত এক কাপ চা করে দিক। এজন্য সে রান্নাঘরের দিকে যায়। আকাশ সোফায় বসল না। সন্ধ্যার পিছু পিছু গিয়ে দেখল রান্নাঘর। সন্ধ্যা তাক থেকে কিছু জিনিসপত্র নামিয়ে চুলায় পাতিল বসায় একটা। পাতিলে পানি ভরে চুলা জ্বালিয়ে দেয়।
আকাশ সব দেখে এগিয়ে এসে বলে,
– তুমি কি চা খেতে চাও? আমি চা ভালো বানাতে পারি। আমাকে দাও।
সন্ধ্যা অবাক হয়ে তাকায় আকাশের দিকে। আকাশ ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে। কিছু একটা মনে পড়তেই সন্ধ্যার হাত ধরে তার সামনে টেনে দাঁড় করিয়ে বলে,
– তুমি কি নিয়াজের শার্ট পরেছিল সন্ধ্যামালতী?
সন্ধ্যা আগের চেয়েও বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। আকাশ ডান হাতের এক আঙুল উঁচিয়ে বলে,
– সত্যি বলবে কিন্তু।
কণ্ঠাটা শ’ক্ত হয়েছে বুঝতে পেরে আকাশ চোখ বুজে শ্বাস ফেলল। এরপর সন্ধ্যার গালে হাত রেখে বলে,
– সত্য বললেও কিছু বলব না। বলো সন্ধ্যামালতী।
সন্ধ্যা তো ওই লোকটির শার্ট একটু সময়ের জন্য পরেছিল। তার মনে আছে। কিন্তু আকাশকে বললে রে’গে যাবে না? আবার ভাবলো, মিথ্যা বলবে কিভাবে। ওই নিয়াজ তো আকাশের সাথে সবসময় কথা বলে সে দেখেছে।
আকাশ আবার-ও নরম সুরে বলে,
– বলো সন্ধ্যামালতী।
সন্ধ্যা আকাশের দিকে তাকায়। ঢোক গিলে মাথা উপর-নীচ করে সম্মতি দেয়।
সাথে সাথে আকাশ দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। সন্ধ্যা ঢোক গিলল। আকাশ দু’পা পেছায়। ছোট্ট রান্নাঘরটিতে পায়চারি করে এদিক-ওদিক। রা’গ গিলতে চাইছে। ব্য’র্থ হয়ে এগিয়ে এসে মুষ্টিবদ্ধ ডান হাত চুলার মাঝ বরাবর থাবার মতো করে বসায়। গ্যাস জোরে জ্বলছিল বিধায় এটুকু সময়েই চুলায় বসানো পানি ফুটতে শুরু করেছিল। আকাশের থাবায় চুলায় বসানো গরম পানির পাতিল উল্টে পড়ে যায়। আকাশ সেই সোজা দাঁড়িয়ে থাকায় পুরো পাতিন উল্টে এসে তার পায়ের উপর পড়ে। আকাশ দাঁতে দাঁত চাপলো। নড়লো না। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল। কথায় আছে, নিজের শারিরীক ব্য’থা, ক’ষ্ট আর রা’গ প্রশমিত করতে বেশ কাজে দেয়। আকাশের ক্ষেত্রে বোধয় সেটাই হলো। রা’গ নিভে গেল। কিন্তু শ’ক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
সন্ধ্যা অনেকটা পিছিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আকাশের অবস্থা দেখে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে নিচু হতে নিলে আকাশ সন্ধ্যাকে টেনে দাঁড় করায়। ধমকে বলে,
– পা’গ’লি তুমি? হাত পো’ড়া’তে চাও?
সন্ধ্যা অবাক হয়। ইশারায় আকাশের পা দেখায়। আকাশ সন্ধ্যার এসব কথা সাইডে রেখে মৃদুস্বরে বলে,
– রে’গে গিয়েছিলাম। তুমি আর কারো শার্ট পরবে না, বুঝেছ সন্ধ্যামালতী?
সন্ধ্যা কি বলবে বুঝে পায় না। পা’গ’ল না-কি এই লোক? সেই শার্ট নিয়ে পড়ে আছে। সন্ধ্যা মাথা নিচু। পাতিলটি আকাশের পায়ের উপর এখন-ও উপুড় হয়ে পড়ে আছে। সন্ধ্যা দু’হাতে আকাশকে ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইলে পারলো না। সন্ধ্যা অবাক হয়। তার মনে হচ্ছে, আকাশ ইচ্ছে করে এভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সন্ধ্যা কি করবে বুঝতে পারেনা। ইশারা বোঝায়, – এখান থেকে সরে দাঁড়ান।
আকাশ ভ্রু কুঁচকে বলে,
– আগে আমার কথার উত্তর দাও।
সন্ধ্যা অবাক হয়। তার মনে হলো, আকাশ কোনো বাচ্চা। দ্রুত মাথা নেড়ে বোঝায়,
– সে আর কারো শার্ট পরবে না।
আকাশ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মৃদু হেসে সন্ধ্যার হাত ধরে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসে। সন্ধ্যা আকাশের হাত থেকে নিজের হাত ছুটিয়ে নিয়ে দৌড়ে ফ্রিজের কাছে যায়। আকাশ দ্রুত পিছু ফিরে তাকায়।
সন্ধ্যা ফ্রিজ থেকে অনেকগুলো বরফের টুকরো এনে আকাশের পায়ের কাছে বসে দু’হাতে আকাশের পায়ের উপর বরফ চেপে ধরে। আকাশের চোখেমুখে বিস্ময়।
সন্ধ্যার কেন যেন কান্না পেল। আকাশ অতিরক্তি ফর্সা হওয়ায় পা ভীষণ লাল হয়ে আছে। একদম পু’ড়ে গিয়েছে মনে হচ্ছে। আকাশ দ্রুত নিচু হয়ে সন্ধ্যাকে টেনে দাঁড় করায়। অবাক হয়ে বলে,
– কি করছ এসব?
সন্ধ্যা ইশারায় বোঝায়,
– আপনার পা ঠিক হয়ে যাবে।
আকাশ এসব রেখে বলে,
– আমার পা ঠিক-ই আছে। তুমি গোসল করে এসো সন্ধ্যামালতী।
সন্ধ্যা আকাশের কথা শুনে অদ্ভুভাবে তাকায়। সে এই রাতে গোসল কেন করবে? আকাশ বোঝানোর স্বরে বলে,
– দ্রুত গোসল করে এসো। নয়তো শান্তি পাচ্ছিনা আমি। প্লিজ শোনো আমার কথা। নয়তো আমি রে’গে যাই।
সন্ধ্যা বোকাচোখে তাকায়। সে গোসল না করলে আকাশ কেন রা’গ’বে? এতো অদ্ভুদ কথা, লজিকলেস কথা বোধয় তার এ জনমে শোনা হয়নি। সন্ধ্যা ইশারায় দেখায়, – আপনার পা।
আকাশ দাঁতে দাঁত চেপে পায়ের জ্বলন সহ্য করে। ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলে,
– গোসল করে এসে একটু সেবা করে দিও। গোসল না করলে আমাকে ছোঁয়া যাবেনা।
সন্ধ্যা চোখ বড় বড় করে তাকায়। সে তো নোংরা নয়। তাছাড়া আকাশ তো নিজেই তাকে ধরে আছে।
সন্ধ্যা একে তো নিয়াজের শার্ট পরেছিল। যদিও অনেকমাস পেরিয়েছে, তবুও সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে সন্ধ্যাকে গোসল করাতে হবে তার। তাছাড়া তার সন্ধ্যামালতী ওই রিহানের সাথে এসেছে তো! গোসল তো ফরজ হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যাকে তার দিকে চেয়ে থাকতে দেখে আকাশ ভ্রু কুঁচকে বলে,
– বেশি রাত হয়নি এখনো। তোমার সর্দিকাশি হবে না সন্ধ্যামালতী। আমি এক্ষুনি ঔষধ আনিয়ে রাখছি। প্লিজ যাও গোসল করে এসো।
এরপর আশেপাশে তাকিয়ে ওয়াশরুম খুঁজল। ডানদিকে একটি ওয়াশরুম চোখে পড়লে সন্ধ্যার হাত ধরে ওয়াশরুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। এরপর বা হাতে সন্ধ্যার কোমর জড়িয়ে একটু উঁচু করে ওয়াশরুমের উঁচু মেঝেতে সন্ধ্যাকে দাঁড় করিয়ে দেয়। সন্ধ্যা চোখ বড় বড় করে তাকায়। আকাশ সন্ধ্যাকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে,
– তুমি কি নিজে গোসল করবে? না-কি আমি করিয়ে দিব সন্ধ্যামালতী?
কথাটা শুনতেই সন্ধ্যা ঠাস করে ওয়াশরুমের দরজা আটকায়। আকাশ একটু হাসলো। এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসে। ডান পায়ের দিকে তাকালে দেখল, পা বেশ লাল হয়ে আছে। জ্বলছেও। একবার ভাবলো, সে নিজেই বরফ দিবে। কিন্তু দিল না। সে দিলে তো আর সন্ধ্যা তার সেবা করবেনা। তাই অপেক্ষা করতে লাগলো সন্ধ্যার বেরোনোর।
কিছু একটা মনে পড়ল। অতঃপর পকেট থেকে ফোন বের করে মায়ের নাম্বারে কল করে।
আসমানী নওয়ান সাথে সাথে কল রিসিভ করে। ছেলেকে ওভাবে রে’গে বেরিয়ে যেতে দেখে চিন্তিত ছিল। আকাশকে অনেকবার কল-ও করেছিল। কিন্তু রিসিভ হয়নি। আসমানী নওয়ান বলেন,
– আব্বা তুমি কোথায়? রা’ই’গা আছো ক্যান?
আকাশ মৃদু হেসে হেসে বলে,
– রে’গে নেই মা। একটা কথা শোনো।
– কও।
আকাশ গলা ঝেড়ে বলে,
– মা আমি সৌম্যদের বাড়ি এসেছি। সন্ধ্যামালতী-ও আমার সাথে আছে। আমরা আজকে রাতে এখানে থাকি মা?
আসমানী নওয়ান চেঁচিয়ে ওঠে,
– কি বললে?
আকাশ ফোন কান থেকে একটু দূরে সরায়। কি কপাল তার! বউকে একটু কাছে রাখবে বলে কতজনের অনুমতি লাগে! কত কাঠখড় পোড়ানো লাগে! আকাশ মিনমিন করে বলে,
– আমার-ই তো বউ। কালকে সকালেই চলে আসবো।
আকাশের মা বলে,
– কোনো দরকার নাই। তুমি ওরে এই বাড়ি তাড়াতাড়ি আনো।
আকাশ বোঝানোর স্বরে বলে,
– আমি কিছু করব না মা।
– কিছু করবা না তো। থাকতে চাও ক্যান?
কথাটা বলে আসমানী নওয়ান নিজেই কেমন অস্বস্তিতে পড়ে গেল। আকাশ মিটিমিটি হাসছে।
আসমানী নওয়ান এবার বলেন,
– জান্নাতের সাথে আমারে কথা কইয়া দাও। ওয় যা চাইব, তাই হইব।
আকাশ মনমরা হয়ে বলে,
– আচ্ছা। ইরাকে দাও তো একটু।
আসমানী নওয়ান দোতলায় উঠে সৌম্য’র ঘরের সামনে এসে ডাক দেয়,
– ইরা মা আছোস?
দরজা খোলাই ছিল। ইরা-ও দাঁড়িয়ে ছিল। ফুপির ডাক শুনে ইরা দরজা খুলে দাঁড়ায়। আসমানী নওয়ান ইরার দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
– আকাশ কথা কইব তোর সাথে। দেখ তো কি কয়।
আকাশ কথা বলবে শুনতেই সৌম্য’র কান সজাগ হয়। আসমানী নওয়ান ফোন দিয়ে চলে যায়। ইরা ফোন নিয়ে ঘরে আসলে ফোন কানের নেয়ার আগেই সৌম্য বিছানা থেকে উঠে এসে ইরার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ফোন লাউডে দেয়। এরপর ইরার হাতে ফোন দিয়ে ইশারায় বোঝায়,
– এখন কথা বল।
ইরা ভ্রু কুঁচকে তাকায় সৌম্য’র দিকে। অতঃপর মৃদুস্বরে বলে,
– ভাইয়া বলুন।
আকাশ উঠে দাঁড়ায়। হাঁটতে হাঁটতে বলে,
– ইরা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কথা বলব বুঝেছ। তুমি চাও তোমার বিয়ের অনেক বড় অনুষ্ঠান হোক, তাই তো?
ইরা উত্তর দেয়,
– জ্বি ভাইয়া।
আকায় আবার-ও বলতে শুরু করে,
– আমিও চাই। আমার বোনের বিয়ে অনেক বড় করে অনুষ্ঠান হোক।
তোমাদের আজকে শুধু ধর্মীয়ভাবে বিয়ে হয়েছে। তুমি, সৌম্য চাইলে তোমরা একসাথে থাকতেই পারো। কিন্তু তুমি তোমার বিয়ের অনুষ্ঠান পুরোপুরি ফিল করতে করতে চাইলে, আমার মনে হয়, তোমার এইকয়েকদিন সৌম্য’র থেকে দূরে থাকা উচিৎ। নয়তো অনুষ্ঠানটা একদম পুরাতন পুরাতন লাগবে।
কথাটা শুনে সৌম্য বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। ইরার হাত থেকে খপ করে ফোন কেড়ে নিয়ে বলে,
– আপনাকে আমি ছাড়ব না আকাশ ভাইয়া। আপনি আমার বউয়ের কানে কু’ম’ন্ত্র’ণা দিচ্ছেন?
আকাশ ভাবলেশহীনভাবে বলে,
– এটা সুমন্ত্রণা। নট কু’ম’ন্ত্র’ণা। বিশ্বাস না হলে ইরাকে জিজ্ঞেস করে দেখ।
সৌম্য ইরার দিকে তাকালে ইরা হেসে বলে,
– আকাশ ভাইয়া ঠিকই বলেছে সৌম্য। এটা তো আমার মাথাতেই আসেনি।
সৌম্য কটমট দৃষ্টিতে তাকায়। আকাশ ওপাশে মনে মনে হাসে। একে তো তার বউ নিয়ে মাসের পর মাস কোথায় লুকিয়ে ছিল। আজ আবার বন্ধুর সাথে যেখানে সেখানে পাঠিয়েছে। সে তো এই সৌম্য নামের সম্মন্ধিকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে। তাছাড়া তার বউ থেকেও সে এতিম। আর ওই সৌম্য তার পরে বিয়ে করে বউ নিয়ে থাকবে? এসব হতেই পারেনা। লোভনীয় খাবার সামনে ঘুরঘুর করবে, অথচ সে খেতে চেয়েও খেতে পারবেনা। এই অনুভূতি এবার সৌম্যকে সে বোঝাবে।
কথাগুলো ভেবে আকাশ আরেকটু হাসলো। অতঃপর গম্ভীর গলায় বলে,
– বেস্ট অফ লাক সৌম্য!
বলেই কল কেটে দেয় আকাশ।
সৌম্য বিড়বিড় করে,
– আমাকে আপনি চেনেন না আকাশ ভাইয়া। আপনাকে আমি চড়কিতে করে ঘোরাবো। একটু অপেক্ষা করুন।
এরপর সৌম্য ইরার দিকে চেয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
– কোথায় থাকবি তুই?
ইরা জবাব দেয়,
– এই বাড়িতে অনেক ঘর আছে। একটাতে ম্যানেজ করে নিব।
সৌম্য ধমকে বলে,
– আবার বল?
ইরা ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। মিনমিন করে বলে,
– তুই রে’গে যাচ্ছিস কেন? আমার একটা ইচ্ছে পূরণ কর।
সৌম্য হঠাৎ-ই ইরার হাত ধরে টেনে ইরাকে ঘরের বাইরে বের করে দেয়। আঙুল উঁচিয়ে রে’গে বলে,
– যা তোর ইচ্ছা পূরণ কর। আমার আশেপাশে আসলে তোর খবর আছে।
কথাটা বলে দরজা আটকাতে নিলে ইরা দ্রুত দরজার ফাঁকে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে। সৌম্য দরজা টেনে খুলে ইরাকে টেনে ভেতরে নেয়। চিন্তিত কণ্ঠে বলে,
– ব্য’থা পেয়েছিস?
ইরা মিনমিন করে বলে,
– না।
সৌম্য ভ্রু কুঁচকে বলে,
– তাহলে চেঁচালি কেন?
ইরা মাথা উঁচু করে বলে,
– তুই দরজা লাগাচ্ছিলি তাই।
– থাকবি না বললি। তো কি করব?
– থাকব।
– একটু আগেই তো বললি থাকবিনা।
ইরা সৌম্য’কে জড়িয়ে ধরে বলে,
– আর বলব না।
সৌম্য হাসলো। ডান হাতে দরজা আটকে দেয়। ইরা মাথা উঁচু করে। সৌম্য দৃষ্টি নিচু করে ইরার দিকে চেয়ে আছে। সৌম্য ডান হাত ইরার টি-শার্টের ভেতরে নিয়ে ইরার পেটে রাখে। ইরা কেঁপে ওঠে। দু’হাতে সৌম্য’র হাত ধরে ঢোক গিলে বলে,
অন্তঃদহন পর্ব ৩২
– কি করছিস?
সৌম্য প্রতিত্তোরে বলে,
– বউয়ের সাথে সবাই যা করে।
ইরা মাথা নিচু করে নেয়। থেমে থেমে বলে,
– তুই যে বললি, আমি অসুস্থ?
সৌম্য মিটিমিটি হেসে বলে,
– এটাও তো বলেছিলাম, আজ ওয়েদার ভালো।
