Home তুই শুধু আমার উন্মাদনা তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৯

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৯

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৯
তাবাস্সুম খাতুন

ধরণীতে সূর্যের আগমন ঘটেছে। অনেক আগে। চারিদিকে আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বাইরে পাখি গুলো কিচির মিচির করে ডাকছে। হাল্কা ঠান্ডা হাল্কা গরম আবহাওয়া। সময়টা সকাল ছয়টা বেজে পাঁচ মিনিট। সিমির ঘুম ভেঙে গেলো হুট্ করে। সে চোখ খুলেই বড়ো বড়ো নিশ্বাস নিতে লাগলো। আজও সেই খারাপ স্বপ্ন দেখেছে সে? সিমি চোখ বুজে নিজেকে শান্ত করতে লাগলো। কিছু ক্ষণ ঐভাবে থেকে স্বাভাবিক হলো। উঠতে চাইলো কিন্তূ কারোর শক্ত পক্ত হাত যেন তাকে আঁকড়ে ধরে আছে। সিমি ভালো ভাবে দেখলো না এইটা সামিয়া না তাহলে কে?

জানলার ফাঁক গলে হাল্কা আলো রুমে আসছিলো। সিমি সেই আলোয় পাশ ফিরে তাকাতেই নিশান কে দেখে অবাক হয়ে গেলো। সাথে ভড়কে গেলো। এই ন্যাসপাতি ভাই তার রুমে তাকে এইভাবে জড়িয়ে ধরে আছে কেন? সিমি চোখ বন্ধ করলো। মাথায় একটু চাপ প্রয়োগ করলো কি হয়েছে কিছু মনে করার জন্য। একটু চাপ দিতেই সবকিছু মনে পড়লো। মনে পড়তেই তার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে উঠলো। সে দেয়াল এ থাকা ঘড়িতে সময় দেখে আঁতকে উঠলে। ও নিশান ভাই এর রুমে এখন কিভাবে যাবে? কেউ যদি দেখে ফেলে? তখন কি জবাব দিবে সে? সিমির ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

এইদিকে নিশান সিমি কে ছেড়ে আরেক পাশে ঘুরে শুতে সিমি বেড থেকে নেমে পড়লো বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো। বেডের একপাশে থাকা তার উড়না টা নিয়ে মাথায় কাপড় দিলো। ধীরে ধীরে রুম থেকে বাহির হলো। দরজার কাছে আসতে একটু খুলে এইদিকে ঐদিকে তাকালো। না কেউ নেই। এই সুযোগে সিমি রুমের বাইরে চলে দরজা লাগিয়ে দিলো। তারপর ধীরে ধীরে এক দুই পা হাঁটতেই হুট্ করে কারোর কথা শুনে তার জান যেন বেড়িয়ে আসলো,,

“সিমি, তুই নিশানের রুম থেকে এইভাবে চুপিচুপি বেড়িয়ে আসলি কেন?”
সিমি চোখ তুলে সামনে তাকাতেই দেখে তার মা দাঁড়িয়ে আছে ভ্রু কুঁচকে। সিমি কি উত্তর দিবে বুজতে পারছেনা তাই চুপ আছে। সিমি কে চুপ থাকতে দেখে রোজিনা আবারো বললো,,
“সিমি আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করছি? তুমি নিশানের রুমে কি করছিলে?”
সিমি এখনো মাথা নত করে চুপ করে আছে। রোজিনা এইবার ধমক দিয়ে বললো,,
“অসভ্য মেয়ে কথা কানে যাই না? তুমি সারা রাত নিশানের সাথে ছিলে তাইতো রাতে এসে খুঁজে পাই নি আমি। বেয়াদব ভাই এর সাথে এক রুমে ছিলিস লজ্জা করে না। অসভ্য ম…!”
বাকি কথা শেষ করার আগেই শোনা গেলো এক পুরুষ নালীর ভারী কণ্ঠ সর,,
“উম মেজো আম্মু মুখের কথা মুখে ফিরিয়ে নেন। আর দ্বিতীয় বারের জন্য ইশু কে অসভ্য, বেয়াদব বলবেন না। কারন সেই রাইট আমি কাউকে দেই নি?”

এইদিকে রোজিনার এমন ধমকানি শুনে সিমি কেঁপে উঠলো। অপরদিকে নিশানের কথা সিমি চুপ ছাড়া আর কিছু করতে পারলো না। রোজিনা নিশানের কথা শুনে বললো,,
“আমাকে রাইট শেখাস তুই? ও তোর সাথে কি করছিলো রুমে?”
নিশান এর সরল সোজা জবাব,,
“কি করছিলো মানে? আমার বিয়ে করা বউ তো তার স্বামীর রুমে স্বামীর আদর নিতে তো থাকবেই। এইটা জিজ্ঞাসা করার কি আছে মেজো আম্মু?”
নিশানের কথা সিমি লজ্জা যেন আরো বেশি আঁকড়ে ধরছে তাকে একটু ভালো ভাবে বললে কি হয় না। এইদিকে নিশানের কথা যেন রোজিনার মাথায় বাজ পড়লো সে অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলো,,
“বিয়ে করা বউ মানে? তুমি সিমি কে বিয়ে করেছো?”
নিশান — “এইতো শাশুড়ি আম্মার মাথায় বুদ্ধি আছে চট করে বিষয়টা ধরে ফেলছে।”

রোজিনার মাথা যেন ঘুরে উঠলো। সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। সোফায় বসে চিৎকার করে বাড়ির মানুষ সবাইকে এক করলো। নিশান উপরে দাঁড়িয়ে দেখছে সবকিছু। সিমি নিশানের পাশে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে। রোজিনার চিৎকার শুনে সবাই আসতে রোজিনা বললো নিশান নাকি সিমি কে বিয়ে করেছে ওরা এখন স্বামী স্ত্রী। এইটা শুনে পুরো চৌধুরী বাড়ি যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। অবাক হয়েছে তারা খুব। কিছু ক্ষণ চুপ থেকে তাজউদ্দিন উপরে দাঁড়িয়ে থাকা সিমি আর নিশান কে ডাকলো। নিশান সিমির হাত শক্ত করে চেপে ধরে নিচে নেমে আসলো। তারা ড্রইং রুমে আসতেই সিমির বাবা সালাউদ্দিন এসে সিমিকে থাপ্পড় মারতে যেতেই। সেই হাত ধরে ফেললো নিশান বাড়ির প্রতি টা সদস্য অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে নিশান এক ঝটকা মেরে হাত চেলে ফেলে দিয়ে বললো,,
“উহুম উহুম এই ভুল দ্বিতীয়বার করতে আসলে। আমি ভুলে যাবো আপনি ইশুর বাবা আর আমার মেজো চাচ্চু। So আমার ইশুর গায়ে একটা আঁচড় ও লাগলে কাউকে ছেড়ে দিবো না।”
নিশানের কথা শুনে সবাই অবাক। সিমি তো ভয়ে নিশানের পিছনে লুকিয়ে আছে নিশানের জামা খামচে ধরে আছে। তাজউদ্দিন বললো,,

“নিশান এইটা কেমন ব্যাবহার তোমার? সে সিমির বাবা তাকে মারতেই পারে?”
নিশান — “ছিলো কাল পযন্ত তার অধীনে আজ থেকে আমার অধীনে ও। তাই বাপ কেউ ছাড় দেবো না।”
তাজউদ্দিন এইবার ধমক দিয়ে বললো,,
“পাগলামি জুত দাও তুমি? কোন সাহসে কার অনুমতি নিয়ে সিমি কে বিয়ে করেছো?”
নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
“তানভীর চৌধুরী নিশান পাগলামো যদি করে তো সেইটা শুধু তার ইশুর জন্য। আর রইলো সাহস অনুমতি। আমার যা সাহস আছে তার এক কোনা ও আপনার মধ্যে নেই। সাথে অনুমতি যেইখানে পুরো মানুষটাই আমার সেখানে কারোর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না আমি।”
তাজউদ্দিন — “আমাকে শাসচ্ছ? হ্যা গুনাডমি করবে? কর সিমি কে ডিভোর্স দাও। এই বিয়ে আমরা মানি না ডিভোর্স..!”

বাকি কথা শেষ করার আগেই নিশান চিৎকার দিয়ে বললো,,
“ডিভোর্স এর কথা আর একবার উচ্চারণ করলে খোদার কসম। এইখানে কেয়ামত বয়ে যাবে। ইশু কে ডিভোর্স দিতে আমি বিয়ে করি নি।”
তাজউদ্দিন — “তাহলে কেন করেছো?”
নিশান হিংস্র ভাবে বললো,,
“কেন করছি জানেন না? নাটক মারান আপনারা আমার সাথে? ইশু কে বিয়ে করতে চেয়েছি আমি আপনারা জানতেন না? জানার সত্ত্বেও কেন তাকে অন্য জনের সাথে বিয়ে দিতে চান? নাটক আমি কি ফিডার খাই যে নাটক বুজবো না?”
নিশানের কথা শুনে সবাই অবাক হলো। নিশান কোথাকার কথা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? এইদিকে সিমির মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। তাজউদ্দিন শান্ত কণ্ঠে বললো,,
“তুমি ঠিক কি বলছো নিশান ভেবে বলছো তো নাকি যেমন তেমন?”
নিশান — “কেন আমি কি আপনাদের মতো নাটক করছি? নাকি যে আমার সবকিছু ভেবে বলতে হবে? ঠিকই তো বলেছি ভুল কি? আমার ইশু কে য্খন আমার সাথে বিয়ে দেওয়ার কথা সেখানে কেন ও অন্যের নামে কবুল বলবে আনসার মি?”

নিশানের এমন জোরে কথা বলাই সবাই যেন কেঁপে উঠলো। তাজউদ্দিন বললো,,
“নিশান এইটা তো অনেক বছর আগের কথা। তুমি য্খন সিমি মামুনি কে বিয়ে করতে চেয়েছিলে তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ছয় বছর আর তোমার বয়স ১৬ বছর ভালোই বুদ্ধিমান ছিলে তুমি? আর তোমার মতো ওই দামড়া ছেলের সাথে ছোট্ট সিমির বিয়ে কিভাবে দিতাম?”
তাজউদ্দিন এর কথা শুনে সিমি অবাক হলো মানে কি হচ্ছে এইগুলো নিশান ভাই তাকে কবে কোন ছোট বেলায় বিয়ে করতে চেয়েছিলাম? তাজউদ্দিন এর কথার জবাব দিলো নিশান,,
“হ্যা আমাকে কি বলা হয়েছিল? যে ইশু এখনো ছোট ও বড়ো হোক আমি নিজে কিছু করি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন আপনারা সবাই থেকে ইশুর সাথে আমার বিয়ে দেবেন না। কিন্তূ না আপনারা তো বাংলা সিনেমার রিনা খান তো কেউ ডিপজল। তাইতো ইশু কে অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন?”
নিশানের কথা সবার কাছে যুক্তি লাগলেও আবার লাগছে না। কোথাকার কথা কোথায় তুলছে? এই কথাই কোন যুক্তি নেই। সেলিনা বললো,,

“নিশান বাবা এইসব অনেক বছর আগের কথা আমাদের মনে নেই। আর তুমিও ভুলে গিয়েছো। তখন আবেগ কাজ করেছিল তাই আমরা তেমন গুরুত্ব দেই নি তা..!”
নিশান রাগে গজগজ করতে করতে বললো,,
“আমার আবেগ কখনো কাজ করে নি। প্রশ্ন য্খন আমার ইশু কে নিয়ে তখন কখনো আমার আবেগ কাজ করেনি ডাইরেক্ট বিবেক কাজ করেছে। So আমি ভুলি নি আমি আর দ্বিতীয় কোন কথা বলতে চাই না।”
বলে নিশান সিমির হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে গেলে তাজউদ্দিন বললো,,
“নিশান ওকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?”

নিশান — “তুমি য্খন মাকে নিয়ে রুমে যাও আমি জিজ্ঞাসা করেছি একবার ও মাকে নিয়ে কেন যাও রুমে? তেমনি আমি আমার বউ কে নিয়ে রুমে যাচ্ছি সদ্য বিয়ে করা বউ আমার আপনাদের সিনেমার জন্য বউটা কান্না করছে। এখন প্রাইভেসি লাগবে বউ কে আদর করে চুপ করানোর জন্য।”

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৮

বলে নিশান আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে সিমির হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে নিলে সিমি দাঁড়ালো যেতে চাচ্ছে না। নিশান কোন কথা না বলে আচমকা সিমি কে কোলে তুলে নিলো। তারপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমে গেলো। এইদিকে সবাই হতাশ কি বলবে তারা এই বেপারোয়া ছেলেকে এইটুকু বোঝা হয়ে গেছে যে সিমি নিজ ইচ্চায় বিয়ে করেনি। এখন সবার মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৯ (২)